জনপ্রিয় পোস্ট

মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

অনিয়মিত মাসিকের/ Irregular periods এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

🩺 অনিয়মিত মাসিকের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


🔍 অনেক নারীরই মাসিক নিয়মিত হয় না। কখনো নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মাসিক হয়, আবার কখনো অনেক দেরিতে হয়। কারও মাসিক এক-দুই মাস বন্ধও থাকতে পারে। এই সমস্যাকে বলা হয় অনিয়মিত মাসিক (Irregular Menstruation)।

📌 অনিয়মিত মাসিককে শুধু একটি রোগ হিসেবে না দেখে এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।


🔍 অনিয়মিত মাসিকের সাধারণ কারণ

অনিয়মিত মাসিক বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন—

- বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তন
- মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
- অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ব্যায়াম
- দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
- PCOS
- থাইরয়েডের সমস্যা
- গর্ভধারণ
- শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো
- হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- মেনোপজের আগের সময়ে হরমোনের পরিবর্তন
- অন্যান্য হরমোন বা জরায়ু-সংক্রান্ত সমস্যা

তাই শুধু মাসিক অনিয়মিত হয়েছে বলেই একটি নির্দিষ্ট ওষুধ নির্বাচন করা ঠিক নয়।

রোগীর কাছ থেকে কী কী তথ্য নিতে হবে?

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জানতে হবে—

👉 মাসিক সম্পর্কে

- কত দিন পরপর মাসিক হয়?
- কত দিন থাকে?
- রক্তের পরিমাণ কম, বেশি নাকি মাঝারি?
- মাসিক দেরিতে হয় নাকি আগে হয়?
- কত মাস ধরে সমস্যা?
- আগে মাসিক নিয়মিত ছিল কি না?
- মাসিকের সময় ব্যথা হয় কি না?
- রক্তের সঙ্গে clot বা জমাট রক্ত থাকে কি না?

👉 অন্যান্য লক্ষণ

- ওজন বেড়েছে বা কমেছে কি না
- মুখে অতিরিক্ত লোম হয়েছে কি না
- ব্রণ হয়েছে কি না
- চুল পড়ে কি না
- দুর্বলতা আছে কি না
- তলপেটে ব্যথা আছে কি না
- স্তন থেকে অস্বাভাবিক কিছু বের হয় কি না

🩺 মানসিক ও সাধারণ লক্ষণ

- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
- রাগ বা অস্থিরতা
- ঘুমের সমস্যা
- খাদ্যাভ্যাস
- দৈনন্দিন জীবনযাপন
- পূর্বের রোগের ইতিহাস
- পরিবারের রোগের ইতিহাস

📚 Repertory-তে কীভাবে কেস দেখা যায়?

হোমিওপ্যাথিতে শুধু “মাসিক অনিয়মিত” এই একটি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বা Totality of Symptoms বিবেচনা করা হয়।

Repertory-তে প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের Rubricগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে—

- Female – Menses – Irregular
- Female – Menses – Delayed
- Female – Menses – Too early
- Female – Menses – Scanty
- Female – Menses – Profuse
- Female – Menses – Absent

এর সঙ্গে রোগীর মানসিক লক্ষণ, সাধারণ শারীরিক লক্ষণ, বিশেষ লক্ষণ এবং অন্যান্য সহগামী লক্ষণ যুক্ত করে Repertorization করা হয়।

🩺 অনিয়মিত মাসিকে যেসব হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিবেচনায় আসতে পারে

রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী বিভিন্ন ঔষধ বিবেচনা করা যেমন—

Pulsatilla

মাসিক দেরিতে হওয়া বা অনিয়মিত হওয়ার সঙ্গে আবেগপ্রবণতা, সহজে কাঁদা এবং পরিবর্তনশীল লক্ষণ থাকলে Pulsatilla-এর কথা বিবেচনা করা হয়।

Sepia

মাসিকের অনিয়মের সঙ্গে তলপেটে ভারী বা নিচের দিকে টানার অনুভূতি এবং বিশেষ ধরনের মানসিক ও হরমোনজনিত লক্ষণ থাকলে Sepia-এর ছবি পাওয়া যেতে পারে।

Calcarea Carbonica

মাসিকের অনিয়মের সঙ্গে ঠান্ডা সহ্য না হওয়া, সহজে ক্লান্ত হওয়া, ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে Calcarea Carbonica বিবেচনা করা যেতে পারে।

Natrum Muriaticum

মাসিকের সমস্যার সঙ্গে নির্দিষ্ট মানসিক লক্ষণ, আবেগ নিজের মধ্যে রেখে দেওয়া এবং অন্যান্য characteristic symptoms থাকলে Natrum Muriaticum বিবেচনায় আসতে পারে।

Lachesis

বিশেষ করে মাসিক বন্ধ হওয়ার আগে বা হরমোনের পরিবর্তনের সময় characteristic Lachesis symptoms থাকলে এই ওষুধ বিবেচনা করা হয়।

Graphites

মাসিকের অনিয়মের সঙ্গে বিশেষ ধরনের ত্বকের সমস্যা ও অন্যান্য constitutional symptoms থাকলে Graphites-এর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

Nux Vomica

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, হজমের সমস্যা এবং নির্দিষ্ট Nux Vomica লক্ষণের সঙ্গে মাসিকের সমস্যা থাকলে এই ওষুধ বিবেচনায় আসতে পারে।

Arsenicum Album

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, দুর্বলতা এবং Arsenicum Album-এর characteristic symptoms-এর সঙ্গে মাসিকের সমস্যা থাকলে এই ওষুধ বিবেচনা করা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে: এগুলো কোনো নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধের তালিকা নয়। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ মিলিয়ে উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন করতে হবে।

কখন পরীক্ষা করা জরুরি?

অনিয়মিত মাসিকের পেছনে PCOS, থাইরয়েডের সমস্যা, গর্ভধারণ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী—

- Pregnancy test
- Thyroid test
- অন্যান্য Hormone test
- Pelvic ultrasonography

ইত্যাদি পরীক্ষা করা হতে পারে।

বিশেষ করে নিচের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

- টানা কয়েক মাস মাসিক না হওয়া
- অতিরিক্ত রক্তপাত
- ৭ দিনের বেশি রক্তপাত
- মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত
- সহবাসের পর রক্তপাত
- তীব্র তলপেট ব্যথা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
- অনিয়মিত মাসিকের সঙ্গে অতিরিক্ত লোম বা গুরুতর ব্রণ
- গর্ভধারণে সমস্যা

গুরুত্বপূর্ণ কথা

অনিয়মিত মাসিক একটি লক্ষণ; এটি নিজে সবসময় একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়।

তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে কারণ খুঁজে বের করা, তারপর রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস ও লক্ষণ সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যক্তিগত লক্ষণসমষ্টি (Totality of Symptoms) অনুযায়ী Repertory ও Materia Medica ব্যবহার করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়।

নিজে নিজে কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শুরু না করে নিবন্ধিত ও যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সতর্কতা: হোমিওপ্যাথি নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

🎗️ উপসংহার

অনিয়মিত মাসিকের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—

কারণ খুঁজুন → সম্পূর্ণ কেস নিন → প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করুন → লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্বাচন করুন।

এই পদ্ধতিই একজন রোগীর জন্য নিরাপদ ও দায়িত্বশীল চিকিৎসার ভিত্তি।

লেখক -
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম, 
ইভা হোমিও হল 
 বাইপাইল, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ 
মোবাইল 01716651488

সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬

বয়ঃব্রন এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

বয়ঃসন্ধিকালীন ব্রণ (Acne Vulgaris)

কারণ, লক্ষণ, Repertory Study ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঔষধ নির্বাচন

বয়ঃসন্ধিকালে মুখে ব্রণ হওয়া একটি অত্যন্ত পরিচিত ত্বকের সমস্যা।

সাধারণত কপাল, নাক, গাল, থুতনি, বুক ও পিঠে ছোট দানা, লাল ব্রণ, পুঁজযুক্ত ব্রণ, কালো দানা (blackhead) বা সাদা দানা (whitehead) দেখা যায়। কারও ক্ষেত্রে ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়ে কালো দাগ বা গর্তও তৈরি করতে পারে।

ছবিতে প্রদর্শিত ত্বকের পরিবর্তন শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ছবি দেখে একা রোগ নির্ণয় করা যায় না।


বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ কেন হয়?

বয়ঃসন্ধির সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে ত্বকের তেলগ্রন্থি (sebaceous gland) থেকে তেল বা sebum বেশি তৈরি হতে পারে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ জমে রোমকূপ বন্ধ হওয়া এবং স্থানীয় প্রদাহের কারণে ব্রণ তৈরি হতে পারে।

ব্রণ বাড়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে—

  • বয়ঃসন্ধিকালের হরমোনের পরিবর্তন
  • তৈলাক্ত ত্বক
  • অতিরিক্ত ঘাম
  • অনুপযুক্ত প্রসাধনী বা ত্বকের পণ্য
  • বংশগত প্রবণতা
  • ঘুম ও জীবনযাপনের অনিয়ম
  • কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
  • মানসিক চাপ
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক ও হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে ব্রণের ওঠানামা

ব্রণ অপরিষ্কার থাকার কারণে হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার মুখ পরিষ্কার করাও ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ বাড়াতে পারে।


হোমিওপ্যাথিক Repertory Study

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “ব্রণ আছে”—এই একটি সাধারণ লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর ব্যক্তিগত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।

Rubric

FACE – ERUPTIONS – ACNE
অর্থাৎ: মুখমণ্ডলে ব্রণ / ব্রণরোগ

প্রদত্ত Repertory অনুযায়ী এই Rubric-এ মোট ১৩৭টি ঔষধ পাওয়া গেছে।

Repertory Grade ঔষধের সংখ্যা
Super Grade
First Grade ২৩
Second Grade ২৭
Third Grade ৮৪
মোট ১৩৭

নোট: এখানে Grade বলতে সংশ্লিষ্ট Repertory-র নির্দিষ্ট Rubric-এর grading বোঝানো হয়েছে। এটি রোগের তীব্রতা বা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের clinical grading নয়।


Super Grade — ৩টি ঔষধ

১. Hepar Sulphur

বিশেষভাবে বিবেচনা করা যায় যখন—

  • ব্রণ অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত
  • সামান্য স্পর্শেও ব্যথা
  • পুঁজ হওয়ার প্রবণতা বেশি
  • ব্রণ পাকার প্রবণতা থাকে

তবে Hepar sulph নির্বাচন করতে রোগীর অন্যান্য characteristic লক্ষণও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

২. Kali Bromatum

বিবেচনা করা যায় যখন—

  • গভীর ও প্রদাহযুক্ত ব্রণ
  • বারবার ব্রণ হয়
  • পুঁজযুক্ত বা শক্ত ব্রণ
  • মুখে ব্রণের সঙ্গে Kali bromatum-এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ থাকে

৩. Sepia

বিশেষ করে নারী রোগীর ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে যখন—

  • ব্রণের সঙ্গে মাসিকের সম্পর্ক রয়েছে
  • হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে ব্রণ বাড়ে বা কমে
  • মুখে pigmentation বা কালচে দাগের প্রবণতা রয়েছে
  • Sepia-এর অন্যান্য characteristic লক্ষণ উপস্থিত

শুধু Super Grade হওয়ার কারণে এই তিনটি ঔষধের যেকোনো একটি সরাসরি নির্বাচন করা উচিত নয়।


First Grade — ২৩টি ঔষধ

প্রদত্ত Repertory অনুযায়ী First Grade-এর ঔষধগুলো হলো—

Aurum Metallicum, Calcarea Silicata, Carbo Animalis, Carbo Vegetabilis, Carboneum Sulphuratum, Causticum, Fluoricum Acidum, Graphites, Kali Arsenicosum, Kali Bichromicum, Lycopodium, Natrum Muriaticum, Nux Vomica, Phosphorus, Pulsatilla, Rhododendron, Rhus Toxicodendron, Sarsaparilla, Silicea, Sulphur, Syphilinum, Teucrium Marum Verum, Zincum Metallicum.

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধের সহজ নির্বাচন-ইঙ্গিত

Graphites: ব্রণের সঙ্গে ত্বক শুষ্ক, মোটা বা রুক্ষ; ফাটার প্রবণতা বা আঠালো স্রাব থাকলে।

Lycopodium: ব্রণের সঙ্গে গ্যাস, পেট ফাঁপা, হজমের সমস্যা এবং Lycopodium-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Natrum Muriaticum: বারবার মুখে ব্রণ, তৈলাক্ত ত্বক এবং Natrum mur-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ থাকলে।

Nux Vomica: ব্রণের সঙ্গে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত জীবনযাপন, খিটখিটে মেজাজ এবং Nux vomica-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Pulsatilla: বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের সঙ্গে ব্রণের পরিবর্তন এবং Pulsatilla-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Silicea: দীর্ঘদিনের জেদি ব্রণ, পুঁজ হওয়ার প্রবণতা এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার সঙ্গে Silicea-এর constitutional লক্ষণ থাকলে।

Sulphur: বারবার ব্রণ, ত্বকে গরমভাব বা চুলকানি এবং Sulphur-এর characteristic সাধারণ লক্ষণ থাকলে।

Phosphorus: ব্রণের সঙ্গে Phosphorus-এর বিশেষ শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ থাকলে।

Aurum Metallicum: ব্রণের সঙ্গে Aurum-এর characteristic মানসিক ও সাধারণ লক্ষণ থাকলে।

Causticum: দীর্ঘদিনের ত্বকের সমস্যা, শুষ্কতা এবং Causticum-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Carbo Vegetabilis / Carbo Animalis: দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা ও সংশ্লিষ্ট constitutional লক্ষণ থাকলে।

Fluoricum Acidum: দীর্ঘদিনের জেদি বা chronic skin tendency-এর সঙ্গে Fluoric acid-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Kali Arsenicosum: ত্বকের সমস্যার সঙ্গে অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং Kali ars-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ থাকলে।

Kali Bichromicum: বিশেষ ধরনের সীমারেখাযুক্ত lesion এবং Kali bichromicum-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Sarsaparilla: ত্বকের সমস্যার সঙ্গে বিশেষ urinary ও constitutional লক্ষণ থাকলে।

Rhus Toxicodendron: প্রদাহযুক্ত ত্বকের সমস্যার সঙ্গে Rhus tox-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Zincum Metallicum: ব্রণের সঙ্গে স্নায়বিক অস্থিরতা এবং Zincum-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।

Syphilinum: দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা ত্বকের সমস্যার সঙ্গে Syphilinum-এর বিশেষ লক্ষণ থাকলে।

Teucrium Marum Verum: মুখে দীর্ঘস্থায়ী ব্রণের সঙ্গে Teucrium-এর characteristic লক্ষণ থাকলে।


Second Grade — ২৭টি ঔষধ

প্রদত্ত Repertory অনুযায়ী Second Grade-এর ঔষধগুলো হলো—

Antimonium Crudum, Antimonium Tartaricum, Arsenicum Album, Arsenicum Bromatum, Arsenicum Iodatum, Asterias Rubens, Calcarea Carbonica, Calcarea Picrica, Calcarea Sulphurica, Conium Maculatum, Copaiba Officinalis, Crotalus Horridus, Eugenia Jambos, Glycogenum, Hydrocotyle Asiatica, Juglans Cathartica/Cinerea, Juglans Regia/Nux Juglans, Kali Iodatum/Kali Hydriodicum, Kreosotum, Lachesis, Mercurius Solubilis, Nitricum Acidum, Phosphoricum Acidum, Psorinum, Rosa Damascena, Thuja Occidentalis, Tuberculinum.

রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিল থাকলে এগুলোও differential remedy হিসেবে বিবেচনা করা যায়।


Super Grade + First Grade: মোট ২৬টি

এই Rubric-এ—

Super Grade ৩ + First Grade ২৩ = মোট ২৬টি ঔষধ।

Repertory Study-এর প্রথম পর্যায়ে এগুলো বিশেষভাবে নজরে রাখা যেতে পারে। তবে শুধু “Acne” Rubric-এর ওপর ভিত্তি করে prescription করা যথেষ্ট নয়।


কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ Clinical-Homeopathic মিল

ব্রণ + প্রচণ্ড ব্যথা + স্পর্শে অসহ্য + পুঁজ → Hepar Sulphur-এর দিকে নজর।

ব্রণ + গভীর/পুঁজযুক্ত ব্রণ + Kali bromatum-এর characteristic লক্ষণ → Kali Bromatum বিবেচনা।

ব্রণ + মাসিকের সঙ্গে সম্পর্ক + pigmentation + Sepia-এর characteristic লক্ষণ → Sepia বিবেচনা।

ব্রণ + দীর্ঘদিনের জেদি সমস্যা + পুঁজ হওয়ার প্রবণতা + Silicea-এর constitutional লক্ষণ → Silicea বিবেচনা।

ব্রণ + তৈলাক্ত ত্বক + Natrum muriaticum-এর characteristic লক্ষণ → Natrum Muriaticum বিবেচনা।

ব্রণ + বদহজম/কোষ্ঠকাঠিন্য + খিটখিটে মেজাজ + Nux vomica-এর লক্ষণ → Nux Vomica বিবেচনা।

ব্রণ + মাসিকের পরিবর্তন + Pulsatilla-এর characteristic লক্ষণ → Pulsatilla বিবেচনা।

ব্রণ + চুলকানি/গরমভাব + Sulphur-এর characteristic সাধারণ লক্ষণ → Sulphur বিবেচনা।

এগুলো নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন নয়; repertory-based differential selection-এর উদাহরণ।


Repertory থেকে Remedy Selection: সহজ পদ্ধতি

একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—

Acne শুধু একটি রোগের নাম নয়; রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণই Remedy Selection-এর মূল ভিত্তি।

Case Taking-এর সময় লক্ষ্য করুন

ব্রণের স্থান
কপাল, গাল, নাক, থুতনি, বুক, পিঠ ইত্যাদি।

ব্রণের ধরন
ছোট দানা, blackhead, whitehead, পুঁজযুক্ত, গভীর বা শক্ত ব্রণ।

অনুভূতি
ব্যথা, চুলকানি, জ্বালা, স্পর্শে ব্যথা।

স্রাব
পুঁজ আছে কি না এবং পুঁজের প্রকৃতি।

সময় ও Modalities
কখন বাড়ে, কখন কমে, ঋতু বা অন্য কোনো বিশেষ কারণে পরিবর্তন হয় কি না।

মাসিকের সম্পর্ক
মাসিকের আগে, সময় বা পরে ব্রণের পরিবর্তন হয় কি না।

খাদ্য ও জীবনযাপন
খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, হজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি।

মানসিক লক্ষণ
রাগ, উদ্বেগ, অস্থিরতা, লজ্জা, আত্মবিশ্বাসের সমস্যা ইত্যাদি।

এরপর—

Characteristic Symptoms → Repertorization → Remedy Ranking → Materia Medica Confirmation

এই ধারায় Remedy Selection করা যেতে পারে।


স্বাস্থ্য পরামর্শ

বয়ঃসন্ধিকালীন ব্রণ নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের অনেক সময় অস্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের সমস্যা তৈরি হয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত রোগীকে নিয়ে উপহাস না করা এবং ব্রণকে জোর করে চেপে না ধরতে উৎসাহিত করা।

ত্বকের যত্নে

  • দিনে ১–২ বার মৃদু cleanser দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
  • ব্রণ চেপে বা খুঁটে ফাটাবেন না।
  • অতিরিক্ত scrub বা শক্তিশালী প্রসাধনী ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
  • অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও pore-blocking প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন।
  • নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন antibiotic বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত জীবনযাপন বজায় রাখুন।
  • খাদ্যাভ্যাস ও কোন খাবারের সঙ্গে ব্রণ বাড়ে কি না, তা ব্যক্তিভেদে লক্ষ্য করুন।

কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি?

যদি—

  • ব্রণ খুব বেশি প্রদাহযুক্ত হয়
  • বড় ও গভীর গুটি তৈরি হয়
  • দ্রুত দাগ বা গর্ত তৈরি হতে থাকে
  • ব্রণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে
  • দীর্ঘদিনেও উন্নতি না হয়
  • ব্রণের কারণে অতিরিক্ত মানসিক কষ্ট বা আত্মবিশ্বাসের সমস্যা হয়

তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ: Acne-এর চিকিৎসায় প্রচলিত dermatology treatment-এর কার্যকারিতার পক্ষে homeopathy-এর তুলনায় অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। তাই রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বিলম্বিত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

একটি Rubric-এ কোনো ঔষধের Grade যতই বেশি হোক, রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ না মিললে সেই ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।

Repertory সম্ভাব্য ঔষধের পথ দেখায়; Materia Medica নির্বাচিত ঔষধটি রোগীর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা যাচাই করতে সাহায্য করে।

Repertory Study-এর মূল শিক্ষা

“Rubric দেখুন, Totality নিন, Repertorize করুন, তারপর Materia Medica দিয়ে Remedy নিশ্চিত করুন।”

 লেখক

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম (BOHF)
ইভা হোমিও হল

চেম্বার:
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

মোবাইল: 01716-651488

এই লেখাটি স্বাস্থ্যশিক্ষা ও হোমিওপ্যাথিক Repertory Study-এর উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো। শুধুমাত্র এই লেখার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট ঔষধ, potency বা dosage নির্ধারণ করা উচিত নয়। রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।


রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬

মহিলাদের হস্তমৈথুনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

মহিলাদের হস্তমৈথুনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ এর তালিকা ও নির্বাচন লক্ষণ।


Repertory Rubric ও সংশ্লিষ্ট ঔষধ

১.  SEXUAL DESIRE – FEMALE GENITALIA – violent – masturbation, driving her to
রুব্রিক: তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষা, যা হস্তমৈথুন করতে বাধ্য করে।

ঔষধসমূহ:
1. Bambusa arundinacea
2. Gelsemium sempervirens
3. Gratiola officinalis
4. Nux vomica
5. Origanum majorana
6. Phosphorus
7. Platinum metallicum
8. Raphanus sativus
9. Zincum metallicum

২. MASTURBATION – FEMALE GENITALIA – disposition to – itching, from vagina
রুব্রিক: যোনি বা যৌনাঙ্গে চুলকানির কারণে হস্তমৈথুন করার প্রবণতা।

ঔষধসমূহ-

1. Caladium seguinum
2. Origanum majorana
3. Zincum metallicum

৩. SEXUAL DESIRE – FEMALE GENITALIA – increased – masturbation; with
রুব্রিক: যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি, যার সঙ্গে হস্তমৈথুনের প্রবণতা রয়েছে।
ঔষধ:
1. Zincum metallicum

 উপরোক্ত তিনটি লক্ষণ Repertory অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও মেটেরিয়া মেডিকার আলোকে এদের নির্বাচন লক্ষণ 

১) Zincum metallicum

তিনটি Rubric-এর মধ্যেই রয়েছে। অতিরিক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষা, হস্তমৈথুনের প্রবল প্রবণতা এবং যৌনাঙ্গে চুলকানির সঙ্গে হস্তমৈথুনের প্রবণতা থাকলে বিশেষভাবে বিবেচ্য।

) Origanum majorana

যৌন আকাঙ্ক্ষা ও হস্তমৈথুনের প্রবণতার সঙ্গে যৌনাঙ্গে চুলকানি থাকলে গুরুত্বপূর্ণ।

৩) Caladium seguinum

যৌনাঙ্গে চুলকানি ও হস্তমৈথুনের প্রবণতা—এই নির্দিষ্ট Rubric-এ গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।

৪) Platinum metallicum

তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে রোগীর স্বতন্ত্র মানসিক ও শারীরিক লক্ষণ মিললে বিবেচনা করা যায়।

৫) Phosphorus

যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধির সঙ্গে Phosphorus-এর সামগ্রিক constitutional picture থাকলে বিবেচ্য।

৬) Nux vomica

যৌন উত্তেজনার সঙ্গে খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত স্নায়বিক উত্তেজনা ও hypersensitivity-এর characteristic picture থাকলে বিবেচ্য।

৭) Gelsemium sempervirens

যৌন লক্ষণের সঙ্গে Gelsemium-এর স্বতন্ত্র nervous ও emotional symptoms থাকলে বিবেচনা করা যায়।

📢 Gratiola officinalis, Bambusa arundinacea ও Raphanus sativus

তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষা ও masturbation-এর প্রবণতার Rubric-এ উল্লেখযোগ্য ঔষধ।

মূলনীতি:
একটি Rubric দেখে নয়—রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, Repertory ও Materia Medica মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।

লেখক ভাইদের প্রতি অনুরোধ বাংলা ভাষায় হোমিওপ্যাথিক প্রাকটিস অফ মেডিসিন বইগুলোর মধ্যে এভাবে সাজিয়ে তুলুন তাহলে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য অনেক ভালো হয়।

শুভেচ্ছায়-

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
 ইভা হোমিও হল 
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
 এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
 আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, 
সাভার, ঢাকা। 01716-651488


রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬

শিরা স্ফিতি বা ভেরিকোসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


ভেরিকোস ভেইন / Varicose veins 


ভেরিকোস ভেইন এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 


ভেরিকোস ভেইন কি?
সাধারণত রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত জনিত কারণে শিরাগুলো স্ফীত হয়ে উঠে।হাত,পা মলদ্বার,অণ্ডকোষ প্রভৃতি স্থানের শিরা রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত হেতু ফুলে উঠে এবং মোটা হয়।আঙ্গুল দিয়ে টিপলে শিরাগুলো ক্রিমি বা সাপের ন্যায় অনুভূত হয়। শিরা প্রদাহ ও শিরা স্ফীতি বেদনাদায়ক রোগ।

কারণ -
ভেরিকোস ভেইন রোগটি হবার নানা কারণ রয়েছে
যেমন-
১। সাধারণত ভেইন বা শিরার ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাবার কারণে এই রোগটি হয়।
২। শিরায় ইনফেকশন হলে।
৩। গর্ভাবস্থায়, পেটে টিউমার হলে বা পানি জমলে
৪। পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও এ রোগটি হতে দেখা যায়।
পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুর মাঝখানের অংশে (সেফানাস ভেইন) ভেরিকোস ভেইন বেশি হতে দেখা যায়, এ রোগ হলে শিরা বরাবর রোগী ব্যাথা অনুভব করেন।চামড়ার ঠিক নিচে মোটা মোটা ভেইনগুলো দেখতেও বেশ কদাকার মনে হয়।দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যেতে পারে, পায়ের স্নায়ু নষ্ট হয়ে গ্যাংরিন হতে পারে।

শিরা স্ফীতির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের পার্থক্য বিচার-


আর্সেনিক ( Arsenic Album ) প্রদাহিত স্থান ফুলে উঠে, জ্বালাযন্ত্রণা করে,গরমে উপশম। অস্থিরতার ভাব,রক্ত দুষিত এবং গ্যাংরিন হবার উপক্রম।জীবনীশক্তির দ্রুত ক্ষয়, মৃত্যুভয়, সমস্ত দেহে জ্বালাপোড়া। (6/30 একমাত্রা করে দিনে ৩/৪ বার সেব্য)।

আর্ণিকা (Arnica Montana)
আঘত লাগা হেতু, সর্বাঙ্গে ক্ষতবৎ থেঁৎলানো ব্যথা। যেন তাকে প্রহার করা হয়েছে এমন বেদনা। যার উপর শয়ন করে তা যেন শক্ত মনে হয়। দেহের উপরাংশে উত্তাপ এবং নিন্মাংশে শীতলতা। একটি একটি করে ছোট ব্যথা যুক্ত ফোঁড়া উঠে। (৬, ৩০ একমাত্রা করে দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

হ্যামামেলিস (Hamamelis Virginica) 
-শিরায় অত্যন্ত বেদনা এবং স্ফীত ভাব।ব্যথায় অস্থির। যে কোন দ্বার হতে অপ্রবল শৈরিক রক্ত স্রাব। মাথার এক পার্শ্ব হতে অপর পার্শ্ব যেন গোঁজ বিদ্ধ যন্ত্রণাবোধ।(Q,3x Distilled water –এ মিস্রিত করে শক্তি পরিবর্তিত নিয়মে দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

এসিড ফ্লোর ( Acid Flouricum) পুরাতন পীড়া। সিফিলিস ও পারদ দোষের ইতিহাস। ঔষধটি নিন্মাংগের টিসুগুলোর উপর ভাল কাজ করে, রক্তবহা নাড়ী স্ফীত এবং বেদনা যুক্ত, মাথার ভিতর হতে উভয় পার্শ্বে চাপবোধ। দাঁতগুলো ক্ষয়ে যায়, দন্তরোগ। (6 , একমাত্রা করে দিনে ৩/৪ বার সেব্য)।

বেলেডোনা (Belladona)
ঔষধটি স্নায়ু বিধানের উপর ক্রিয়া করে।ইহার প্রধান ক্রিয়া রক্তবহা নাড়ী, চর্ম এবং গ্রন্থি সমূহের উপর। সর্ব ক্ষেত্রেই বেলেডোনার লক্ষণ উত্তপ্ত লালাত্বক, রক্তিম মুখমণ্ডল, চকচকে চোখ, দপদপকর কর্ণমূল গ্রন্থি। (30/2c একমাত্রা করে দিনে ৪/৫ বার সেব্য)।
ক্লিমেটিস ইরেকটা (Clematis Erecta)
 মুত্রযন্ত্র এবং অণ্ডকোষ প্রভৃতির উপর ক্রিয়া। দেহের বিভিন্ন অংশে স্নায়ুশূল, অত্যন্ত ঘুম ঘুম ভাব। শিরাস্ফীতি।অমাবস্যায় রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি। ( 6/30, একমাত্রা করে দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

ভেরিকোস ভেইন চিকিৎসায় আরও প্রয়োজনীয় ঔষধ

ফর্মিকা, রুটা 6/30, ল্যাকেসিস 2c, প্লাম্বাম মেট 30, পালসেটিলা 30 এসিড ফ্লোর ও অন্যান্য ঔষধ সমূহ।

ভেরিকোস চিকিৎসায় সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ(কেন্ট রেপার্টরি)

 VARICOSE veins : Alumn.ambr.ant-t.arg-n.Arn.ars.asaf., bell.calc-f., calc-p., Calc.carb-an.,Carb-v.caust.clem., coloc., crot-h.ferr-ar., ferr.Fl-ac.graph.Ham.hep.kreos.lach., lyc.Lycps., mag-c., mill., nat-m.nux-v.pćon.plb.Puls., sabin., sep.sil., spig.sul-ac., sulph.thu., vip.zinc.


++ blue : Carb-v.lycps.
++ burning : Apis.Ars.calc.
++ night : Ars.
++ inflamed : Arn., ars.calc.ham.kreos., lyc., lycps.puls.sil., spig., sulph., zinc.
++ itching : Graph.
++ network in skin : Berb., calc.carb-v.caust.clem., crot-h.lach.lyc., nat-m., ox-ac., plat., sabad., thu.
++ painful : Brom.caust.ham.lyc.mill.Puls., sang.
++ pimples, covered with : Graph.
++ pregnancy, during : Ferr.lyc.lycps.mill.Puls.zinc.
++ soreness : Graph., ham.puls.
VARICOSE veins, stinging++ stinging : Apis.graph., ham.Puls.

++ stitching : Kali-c., lyc.
++ ulceration : Ars., Lach., lyc., puls., sil.
++ swollen : Apis.berb., puls.

বায়োকেমিক ঔষধ (Biochemical Medicines):

ক্যাল্কেরিয়া ফস
মধ্যে মধ্যে আবশ্যকীয় ঔষধের সঙ্গে প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। রমণীদের অধিক মাত্রায় ধাতু স্রাব, বুক ধড়ফড়ানি, উদ্বেগ, হাত পায়ের কম্পন বিশেষ করে পায়ের ডিমে। অতিশয় দুর্বলতা। ২/৩ গ্রেন মাত্রায় দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

ফেরাম ফস 
 রক্ত বহা নাড়ী, শিরা স্ফীতি ও শিরা প্রদাহের বিশেষ উপযোগী। নাড়ী পূর্ণ, গোল দড়ির মত। নাড়ী দ্রুত এবং পূর্ণহৃদযন্ত্রের বেদনা। একমাত্রা করে দিনে ৪ বার সেব্য।

ক্যাল্কেরিয়া ফ্লোর (Calcaria Flour)

শিরা স্ফীতির প্রধান ঔষধ। শিরাস্ফীতি কিন্তু কোন বেদনা থাকে না। পাথরের মত শক্ত গ্রন্থি, প্রসারিত এবং স্ফীত শিরা। মাথার মধ্যে কড় কড় শব্দ, উত্তাপে উপশম। (3x চূর্ণ ২/৩ গ্রেন মাত্রায় দিনে ৩/৪ বার সেব্য)।


লেখক 
ডা: ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
গভ: রেজি নং 23876.
মোবাইল নং 01716651488.

Calcarea Carb

 

Calcarea Carb (ক্যাল্কেরিয়া কার্ব)


সমনাম-

ক্যাল্কেরিয়া অস্টিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, কার্বোনেট অফ লাইম।

মায়াজম-

সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।

পার্শ

ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, বামপাশ হতে ডানপাশ।

কাতরতা

শীতকাতর।

উপযোগিতা

শেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু। এর রোগীর গঠন সাধারণতঃ মোটাসোটা অথবা অতিশয় মেদ প্রবণ, থলথলে, নাদুসনুদুস। হাত-পা সরু, শরীরের আয়তন অপেক্ষা মাথাটা বড়, পেটটা আরো মোটা, প্রচুর ঘাম, ঘুমালে মাথার ঘামে বালিশ ভিজে।

ক্রিয়াস্থল

পরিপোষণ ক্রিয়া, শোয়ণ ক্রিয়া, ক্ষরণ ক্রিয়া, গ্ল্যান্ডসমূহ, সার্জিক্যাল মেসেন্টেরিক, অস্হিসমূহ, রক্ত, ডান ফুসফুস, হৃদপিন্ড, চর্ম, জিহ্বা, দাঁত, মস্তিষ্ক, বক্ষদেশ, হার্ট, শিশুরা।

চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য

ক্যাল্কেরিয়া রোগীর পদযুগল শীতল, আঠালো ঘামে আবৃত “যেন আর্দ্র মোজা পরিহিত”; সালফারের রোগী চরিত্রগতভাবে পদযুগল গরম ও ঘামাক্ত।

ফিজিওলজিক্যাল কাজ- ক্যাল্কেরিয়া কার্ব শরীরে পোষণ এবং বর্ধন সম্বন্ধীয় যন্ত্রের ওপরেই প্রধান কাজ করে এবং এর প্রয়োগে নিঃসরণ এবং শোষণ ক্রিয়া উত্তমরূপে এবং শীঘ্র শীঘ্র সম্পাদন হয়, সে কারণে শরীরের প্রকৃতি অর্থাৎ ধাতু পরিবর্তনে এর যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে বলেই একে এ বিষয়ের একটি প্রধান ওষুধ বলা হয়ে থাকে।

সারসংক্ষেপ

শ্লেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু। দেহের স্থূলতা ও শিথিলতা। পা দুটি ঠান্ডা ও চটচটে এবং নিমগ্ন অনুভূতি। পরিপাক নালির অম্লত্ব। মাথার ঘামে

বালিশ ভিজে যায় ও অল্পেই ঠান্ডা লাগে। প্রাতে, সন্ধ্যায়, রাতে, ঠান্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায়, মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে বাড়ে। পোশাক ছাড়লে, ঘর্ষণে, কোষ্ঠবদ্ধ থাকলে ও সকালের নাস্তার পর উপশম। একগুঁয়ে, অস্থিরতা, উত্তেজনাপ্রবণতা, ক্রোধ, মনস্তাপ, ভীরুতা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস, কাঁদে, বিস্তৃতিপরায়ণ, ভয় ও অলসভাব। ডিম খাওয়া প্রবল ইচ্ছে কিন্তু দুধ অসহ্য। রাগে/ক্রোধে থুথু ফেলতে থাকে। মাথায় রক্তসঞ্চয় ও বরফশীতল অনুভূতি পর্যায়ক্রমে আসে।

অনুভূতি

১) বাহুর ওপরে যেনো ইঁদুর হাঁটছে।

২) ব্যথা যেনো বাইরের অঙ্গ মচকে গেছে।

সহচর লক্ষণঃ

১) মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়েমি।

২) রাগে/ক্রোধে থুথু ফেলতে থাকে।

৩) মাথায় রক্তসঞ্চয় ও বরফশীতল অনুভূতি পর্যায়ক্রমে আসে।

৪) ঘুমের সময় মাথায় ঘাম হয় ও অস্হির লাগে।

বৃদ্ধিঃ

প্রাতে, বেলা ২টায়, সন্ধ্যায়, রাতে, ঠান্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায়, ঠান্ডা লাগলে, গরম বাতাসে, গোসলে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, ওপরে ওঠতে গেলে, চোখের পরিশ্রমে, পিউবার্টি, কাপড়ের চাপে, দুধে, মদ জাতীয় উত্তেজক পদার্থে, জাগলে, পূর্ণিমাতে, দাঁড়ালে, দন্তোদ্গমনকালে, আহারের পর, মানসিক পরিশ্রমে, শারীরিক পরিশ্রমে, হস্তমৈথুনে, সায়াহ্ন, মধ্যারাতের পর, গোলমালে অত্যানুভূতি, একাদশীতে, আঁট করে কাপড় পড়লে, ভারী জিনিস তুললে, পা ঝুলিয়ে রাখলে, আলোতে, ওপর দিকে তাকালে বা ওঠলে, মাথা ঘোরালে, উপবাসে, দেহের ডান দিকে অধিক রোগাক্রমণ, শয়নে, মুক্ত বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে, পূর্ণিমায়, সঙ্গমের পর, ঘাম চাপা পড়লে, ঋতুস্রাবের আগে, ঘুমের আগে ও পরে, হাঁটলে।

হ্রাস

হাত পা জড়ো করলে, কাপড় জামা আলগা করে দিলে, চিৎ হয়ে শুলে, চুলকালে, চুল কাটলে, ঘর্ষণে, কোষ্ঠবদ্ধ থাকলে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, সকালের নাস্তার পর, অন্ধকারে, ব্যথাযুক্ত পাশে শয়নে, উত্তাপে, মানসিক পরিশ্রমে।

রোগের কারণ

মদ, ঠান্ডা, আর্দ্র, পাক খাওয়া, অতিরিক্ত রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ভারোত্তোলন, মেরুদণ্ডের নিম্নাংশে আঘাত, মচকানো, মানসিক পরিশ্রান্ত হওয়ার পর, ঘাম অবরুদ্ধে, মাসিকের অবরুদ্ধে, ইরেপশন অবরুদ্ধে, ক্লান্তি, দন্তোদ্গমনকালে, ঠান্ডা পানিতে গোসলে। মস্তিষ্কে পানি সঞ্চয়, হজমের ক্ষেতে অম্লপিত্ত। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠায় শ্বাসকষ্ট, ভয়, উদ্ভেদ বসে যাওয়া, শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয়।

ইচ্ছা

মদ, ডিম, মিষ্টি, লবণাক্ত খাদ্যে প্রবল ইচ্ছা, অপাচ্য যেমন- কয়লা, মাটি, চক, পেন্সিলের শীষ প্রভৃতি অখাদ্য খেতে চায়, চুম্বক শক্তি দ্বারা আকর্ষিত হওয়া।

অনিচ্ছা

মাংস, দুধ, গরম খাদ্য, চর্বিযুক্ত খাদ্য।

অসহ্য

দুধ, পোশাক পরিধান।

শত্রুভাবাপন্ন

অ্যাসিড-নাই, ব্যারা-কা, সালফ, কেলি-বাই।

ক্রিয়ানাশক

অ্যাসি-নাই, ব্রায়ো, ক্যাম্ফ, চায়না, ইপি, নাইট্রি-স্পিরি-ডাল, নাক্স-ভ, ফস, সিপি, সালফ।

সতর্কীকরণ

বয়স্কদের ক্ষেতে ক্যাল্কেরিয়া কখনো ঘন ঘন মাত্রায় ব্যবহার করবেন না।

-ডা. বোরিক।

প্রয়োগ

√ সালফ ও অ্যাসি নাই- এর আগে ক্যাল্ক দেয়া যাবে না।

- ডা. হ্যানিম্যান।

√ প্রথমে সালফার, তারপরে ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব এবং সর্বশেষে লাইকোপোডিয়াম ব্যবহার করতে হয়।

√ যখন দুধের নিঃসরণ বেশি হয় এবং শিশু তা পছন্দ করে না বা সহ্য করতে পারে না, তখন ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব দুধের মান ও পরিমাণ সশোধন করে দেয়।

- ডা. জি.আর।

সংকলিত

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 

 সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম

 ইভা হোমিও হল 

আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড 

বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে

 এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯ 

মোবাইল নাম্বার 01716651488

শনিবার, আগস্ট ০১, ২০২৬

মৃগীরোগ ( Epilepsy )এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

 মৃগীরোগীর (Epilepsy) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

মৃগীরোগ বা অপম্মার বা এপিলেপ্সী একটি দীর্ঘকাল স্থায়ী স্নায়বিক ব্যাধি । ইহাতে মধ্যে মধ্যে আক্ষেপসহ অথবা বিনা আক্ষেপেই রোগী সহসা অজ্ঞান হইয়া পড়ে । মস্তিস্কের ঊর্ধ্বতন কেন্দ্রসমূহের ক্রিয়া সহসা বিপর্যস্ত হইয়া পড়িলে স্নায়ুতন্ত্রের ( nervous system ) অন্যান্য অংশের ক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিত হইয়া লক্ষণাদি প্রকাশ করে । ইহার প্রতি আক্রমণ স্বল্পক্ষণস্থায়ী এবং মধ্যবর্তী কালে রোগী একরূপ সুস্থই থাকে – অন্ততপক্ষে এই রোগের বিশিষ্ট কোন লক্ষণাদি বর্তমান থাকে না।

কারণ-তত্ত্ব > পিতৃমাতৃকুলে এই পীড়ার ইতিহাস অথবা উম্মাদরোগ, মদ্যপান, অতিশয় ভাবপ্রবণতা, প্রভৃতির পরিচয় পাওয়া যাইতে পারে । মস্তকে আঘাত, মস্তিস্ক মধ্যে রক্তস্রাব, থ্রাম্বোসিস, এম্বোলিজম, গুল্ম, প্রভৃতির চাপ, মদ্যাদি মাদক দ্রব্য সেবন, অথবা কোকেন, ষ্ট্রীকনিয়া, আর্সেনিক, সীসক, প্রভৃতির বিষক্রিয়া, সংক্রামক পীড়াদি অথবা রিকেটস, ইউরিমিয়া, উপদংশ, হস্তমৈথুন ক্রিয়ার কুফল, প্রভৃতিতে এই রোগের কারণ রূপে নির্দেশ করা যাইতে পারে । ভয় শারীরিক ও মানসিক অবসাদ বা শৈশবে মেনিঞ্জাইটিস, প্রভৃতি মস্তিস্কের রোগ হইতে মৃগীরোগের সূচনা হইতে পারে।

ইহাতে সকল বয়সেই স্ত্রীপুরুষ সকলেই সমভাবে আক্রান্ত হইতে পারে, কিন্তু দশম হইতে বিংশতি বৎসর বয়সমধ্যে বিশেষতঃ যৌবনসমাগমে ইহার প্রবণতা সর্বাধিক । নুন্যাধ্যিক সময়ান্তর দিবাভাগে, রাত্রিকালে অথবা প্রতি মাসে স্ত্রীলোকদিগের ঋতুসহ ইহার আক্রমণ হইতে পারে।

প্রকার ভেদ


ইহা প্রধানতঃ দুই জাতীয় । লঘু মৃগী বা পেটিট মাল ( Petit mal ) ও গুরু মৃগী বা গ্র্যান্ড মাল ( grand mal )।

পেটিট মাল

ইহাতে ক্ষণস্থায়ী অজ্ঞানতা বা অজ্ঞান ভাব উপস্থিত হয় । মূর্ছা কখন হয়, কখন হয় না । রোগী কথা বলিতে বলিতে বা কোন কাজ করিতে করিতে স্থির হইয়া এক দৃষ্টে তাকাইয়া থাকে, তাহার মুখমণ্ডল বিবর্ণ ও রক্তশূন্য হয়, হাতে কোন দ্রব্য থাকিলে তাহা পড়িয়া যায় এবং এইরূপ অবস্থায় স্বল্পক্ষণ থাকিয়া পুনরায় সুস্থভাবে পূর্ব কার্য আরম্ভ করে । কেহ কেহ মস্তক অবনত করিয়া হঠাৎ মেঝের উপর পড়িয়া যায় অথবা কেবল হেঁটমুণ্ডে বসিয়া থাকে । কেহ কেহ হঠাৎ অসংলগ্ন বাক্য বা তোতলামি করিয়াই অথবা জামাকাপড় খুলিয়া বা নিকটস্থ দ্রব্যাদি ছিঁড়িয়া বা ভাঙ্গিয়া সুস্থ হয় । কাহারও বা দমবন্ধ ভাব প্রকাশ পায় । ক্ষণস্থায়ী ও মৃদু হইলেও শিরোঘূর্ণন ও মূর্ছা প্রায়ই হয় এবং বহুক্ষেত্রে ইহা হইতেই পরিণামে গ্র্যান্ড মাল বা গুরু মৃগী হয় ।

গ্র্যান্ড মাল

ফিট হইবার কিছুকাল পূর্ব হইতে অস্থিরতা, অক্ষুধা, মাথাব্যথা, উদ্যমহীনতা, নিদ্রালুতা, প্রভৃতি কতকগুলি লক্ষণ উপস্থিত হয় । ইহাদিগকে পূর্বাভাস প্রদায়ক লক্ষণ ( Premonitory signs ) বলে । আক্রমণের অব্যবহিত পূর্বে শরীরের কোন স্থানে বিশেষ অনুভুতি দ্বারা রোগী আক্রমণের বা ফিটের সূচনা বুঝিতে পারে । ইহাকে অরা ( aura ) বলে । অঙ্গুলি বা অঙ্গ বিশেষের কম্পন ঝিন ঝিন করা, সূচীবিদ্ধবৎ অনুভুতি, নানাপ্রকার শব্দ শ্রবণ বা কম শোনা, বিকট গন্ধ, বিকৃত স্বাদ, ঝাপসা দৃষ্টি বা নানারূপ আলোক দর্শন, উদরে বা হৃৎপিণ্ডে অব্যক্ত যন্ত্রণা, বুক ধড়ফড়ানি, এক অঙ্গ নর্তন, মস্তক সঞ্চালন, বমন, শ্বাসকষ্ট, প্রভৃতি অরা রূপে প্রকাশ পায় । অরা প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগী প্রায়ই উচ্চ চিৎকার করিয়া ফিট হইয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ে ।

মৃগীজনিত ফিটের তিন অবস্থা দেখা যায় । যথা

( ক ) – টনিক স্প্যাজম বা টনিক ফেজ ( Tonic spasm or tonic phase ) মুখ, স্কন্ধদেশ ও চক্ষু হইতে আরম্ভ হইয়া সর্বশরীরের কাঠিন্য ও আড়ষ্ট ভাব উপস্থিত হয়, হস্তদ্বয় মুষ্টিবদ্ধ ও দ্বিভাঁজ ও পদদ্বয় প্রসারিত থাকে এবং মাথা পশ্চাদদিকে বাঁকিয়া সর্বশরীর ধনুকের ন্যায় আকার ধারণ করে ( opisthotonos ) ; শ্বাসযন্ত্রের পেশী সমূহের আক্ষেপ বশতঃ শ্বাস-প্রশ্বাস স্তদ্ধ হইয়া দেহ নীল বর্ণ ধারণ করে এবং চক্ষু উপর দিকে অথবা এক কোণে উঠিয়া যায় । এই অবস্থা এত সত্বর সংঘটিত হয় যে রোগী, কোন নিরাপদ স্থানে উপস্থিত হইয়া আত্মরক্ষা করিবার অবসর পায় না । ইহার কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই দ্বিতীয় অবস্থা উপস্থিত হয় ।

( খ ) ক্লোনিক স্প্যাজম বা ক্লোনিক ফেজ ( Clonic spasm or clonic phase ) টনিক ফেজের কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই পেশীসমূহের প্লথন ( Relaxation ) উপস্থিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র পেশীচক্রে খিঁচুনি ( cramps ) আরম্ভ হয় । মুখের পেশীর আক্ষেপ হইতে থাকে, চক্ষুগোলক ঘুরিতে থাকে, চোখের পাতা ঘন ঘন মুদ্রিত ও উম্মিলিত হইতে থাকে, চোয়ালের খিঁচুনি হইয়া মুখ বীভৎস দেখায় ও দাঁত ঠকঠক করে । ( এই সময় জিহ্বা কাটিয়া যাইতে পারে ) । হাতপা জোরে ছুঁড়িতে থাকে এবং সমগ্র শরীর ভীষণভাবে মোচড় খাইতে থাকে । মুখ দিয়া ফেনা নির্গত হয় এবং কখনো তাহা রক্তমিশ্রিত হয় । অসাড়ে মলমুত্র নিঃসরণ হয় । এইরূপ কয়েক মিনিট চলিবার পর ধীরে ধীরে আক্ষেপ হ্রাস প্রাপ্ত হয় এবং দীর্ঘ ঘড়ঘড়ানি শ্বাস লইয়া রোগী স্থির হইয়া পড়ে ও তৃতীয় অবস্থা উপস্থিত হয়।

( গ ) – কোমা বা অজ্ঞান অবস্থা ( Comatic phase ) ক্লোনিক ফেজের পর হাত পা শিথিল হয়, মুখের বর্ণ স্বাভাবিক হয় এবং রোগী অবসন্ন হইয়া গভীর নিদ্রাভিভুত হয় । ডাকিলেই তাহার সাড়া পাওয়া যায়, কিন্তু না ডাকিলে, কিছুক্ষণ শান্তভাবে নিদ্রা যায় । গুরুতর আক্রমণের ফলে নানাস্থানে রক্ত জমিতে (ecchymoses ) দেখা যায়, অস্থিভঙ্গ (fracture) বা সন্ধির স্থানচ্যুতি (dislocation) হইতে পারে

ষ্টেটাস এপিলেপ্টিকাস ( status epilepticus ) – কখনো কখনো স্বল্প বিরাম সহ ক্রমাগত ফিট হইতে থাকে – রোগী জ্ঞান লাভ করিবার সুযোগ পায় না । নাড়ী ও শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়, গাত্রতাপ প্রায়ই অস্বাভাবিক রূপে এমন কি ১০৮ ডিগ্রি কিংবা ততোধিক বৃদ্ধি পায় এবং রোগী নিতান্ত অবসন্ন হইয়া পড়ে । এই অবস্থায় মৃত্যু হইতে পারে ।

পোস্ট- এপিলেপ্টিক ফেজ ( post-epileptic phase্ ফিট ও কোমার পরে নিদ্রাভঙ্গে মাথাব্যথা, বমন, অবসন্নতা ও নিস্তেজতা এবং কখনও কখনও আক্রান্ত পেশীসমূহের আড়ষ্টতা বোধ হয় । কেহ কেহ অসংলগ্ন ভাবে উম্মাদের ন্যায় আচরণ করিতে থাকে । সুস্থ হইলে এ সকল বিষয়ের কথা রোগীর স্মরণ থাকে না ।

জ্যাকসোনিয়ান এপিলেপ্সী ( Jacksonian epilepsy ) শরীরের যে কোন স্থানের পেশী হইতে আক্ষেপ আরম্ভ

হইয়া তৎস্থানে সীমাবদ্ধ ( Localised ) থাকে, অথবা সর্বশরীর বিস্তৃত হয়, ইহাতে সাধারণতঃ জ্ঞানহারা হয় না।

রোগের কুফল – দীর্ঘকাল ধরিয়া মধ্যে মধ্যে আক্রমণ হইতে থাকিলে অবশেষে মানসিক বিপর্যয় ( Dementia ) দেখা দিতে পারে।

রোগের পার্থক্য নির্ণয় ( Differential diagnosis ) – টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার রোগে রোগী আদৌ জ্ঞানহারা হয় না এবং আক্ষেপের বিভিন্ন অবস্থা ( phase ) থাকে না, টনিক স্প্যাজমই ইহার বিশেষত্ব।

হিষ্টিরিয়া

ইহার প্রতি আক্রমণ প্রায়ই দীর্ঘকালস্থায়ী হয় এবং মৃগীর ন্যায় ঘুমের মধ্যে কোন আক্রমণ হয় না, অথবা রোগী আত্মরক্ষা করিবার কোন চেষ্টা না করিয়া হঠাৎ অসহায় ভাবে যেখানে সেখানে জ্ঞানহারা হইয়া পড়িয়া গিয়া আহত হয় না । ক্লোনিক স্প্যাজম, নানা ভঙ্গীতে হাত পা ছোঁড়া ও ফিট হইবার পরে চিৎকার, হিষ্টিরিয়ার বৈশিষ্ট্য। রোগী বাধা পাইলে বলপ্রকাশ করে এবং আপন জিহ্বা দংশন করে না, বরং অপরকে কামড় দিতে পারে ; অসাড়ে মলমুত্র ত্যাগ করে না, ফিটের পর কোমা উপস্থিত হয় না এবং গাত্রতাপ প্রায়ই স্বাভাবিক বা নর্মাল থাকে।

ভাবী ফল – পেটিট মাল বয়োবৃদ্ধি হইলে প্রায়ই আরোগ্য হয় । গ্র্যান্ডমালে সুচিকিৎসায় রোগাক্রমণের ব্যবধান দীর্ঘতর এবং আক্রমণ স্বল্পতর ক্ষণস্থায়ী হইলেও সম্পূর্ণ আরোগ্য সন্দেহস্থল । জলে, অগ্নিতে বা উচ্চস্থান হইতে পড়িয়া না গেলে ইহাতে মৃত্যু হয় না । কিন্তু অধিককাল স্থায়ী হইলে মানসিক অবসাদ ঘটিতে পারে ।

চিকিৎসা

সাধারণ স্বাস্থ্যোন্নতির জন্য পুষ্টিকর আহার ও বায়ু পরিবর্তন বিধেয় । রোগী নিয়মিত কার্যাদি করিতে পারে, তবে সাতার কাটা, গাড়ী চালানো, সাইকেল চড়া, উচ্চস্থানে কাজ করা বা শিশুদের অধিক পড়াশুনা করা আদৌ উচিৎ নহে । মদ্যাদি সর্বদা বর্জনীয় । কেহ কেহ বিবাহ নিষেধ করেন, কিন্তু তাহার বিশেষ প্রয়োজন মনে হয় না । ফিট হইলে রোগীকে উপযুক্ত স্থানে আনয়ন করিয়া তাহার পরিধেয় বস্ত্রাদি ঢিলা করিয়া দাঁতের মধ্যে একটি প্যাড প্রবেশ করাইয়া দিতে হয় । চোখে মুখে শীতল জলের ঝাপটা ও মাথায় জল ঢালা বিধেয় । রোগীকে চাপিয়া ধরা উচিৎ নয় । স্মেলিং সল্ট অথবা কয়েক বিন্দু ক্লোরোফরম অথবা এমিল নাইট্রেট – মুল অরিষ্ট ঘ্রান করাইলে শীঘ্র জ্ঞান ফিরিয়া আসে

মৃগী রোগীর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব‍্যবহৃত সদৃশ ঔষধ নির্বাচন গাইড

অ্যাবসিন্থিয়াম

ইহাতে মৃগীজনিত ফিট-এর পূর্ণ ছবি পাওয়া যায় । আক্রমণের পূর্বে সর্বশরীর কাঁপিতে থাকে ও নানাপ্রকার কাল্পনিক মূর্তি দেখিতে পায় । ফিট হইলে মুখাবয়ব লাল হয়, মুখের পেশীর আক্ষেপ হয়, জিহ্বা দংশন করে, এবং চক্ষুতারকা অসমানভাবে বিস্ফারিত হয় । ফিটের পর রোগী বিহ্বল হইয়া থাকে । ইহা মৃগীজনিত মাথা ঘোরা বা ক্ষণস্থায়ী অজ্ঞানতায় উপযোগী । আক্ষেপকালে অতিশয় অস্থিরতা ।

আর্টিমিসিয়া ভাগ্লারিস

ইহা ভয় বা মানসিক উত্তেজনা অথবা হস্তমৈথুন জনিত রোগের আক্রমণে উপযোগী । ইহা অরা বিহীন পেটিট মালের বিশিষ্ট ঔষধ । রোগী মাত্র কয়েক সেকেন্ড অজ্ঞান হইয়া থাকিবার পর সুস্থ হয়, যেন কিছুই ঘটে নাই । কখনও বা ঘন ঘন ফিট হইতে থাকে ( সিকেলি ) ।

আর্জেন্টাম মেট

আক্রমণের পর রোগী বিকারসহ অত্যধিক ক্রোধ প্রকাশ করিলে ইহা ফলপ্রদ, রোগী চতুর্দিকে লাফাইতে থাকে ও নিকটে কেহ থাকিলে তাহাকে প্রহার করে ।

আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম

ভয় পাইয়া অথবা মাসিক ঋতুসহ মৃগীর আক্রমণ ইহার বিশেষত্ব । আক্রমণের পূর্ব হইতেই চক্ষুতারকা বিস্তৃত হয় । ফিটের পর অত্যধিক অস্থিরতা প্রকাশ পায় ও হস্তদ্বয় কাঁপিতে থাকে । রোগীর মন অত্যন্ত দুর্বল, সহজেই ভয় পায় ও হতাশ হয় ।

আর্সেনিক এল্বাম আক্রমণের পূর্বে মাথা ঘোরে ও মাথার পিছনে তীব্র যন্ত্রণা হয়, কখনও বা উত্তপ্ত বায়ু মেরুদণ্ড বাহিয়া মাথায় উঠিতেছে বলিয়া মনে হয় । রোগী অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া যায় ও প্রবল আক্ষেপ হইয়া তাহার সর্বশরীর মোচড়াইতে থাকে । আক্ষেপের পর তন্দ্রাভিভুত হয়, কিন্তু তন্মধ্যেও অত্যধিক অস্থিরতা প্রকাশ পায় । ফিটের পরে বিহ্বল হইয়া থাকে ।

বেলেডোনা

মৃগী রোগের তরুণ আক্রমণ ইহা দ্বারা সহজেই প্রশমিত হয় এবং কখনও বা রোগারোগ্যও হইয়া থাকে । ইহা বিশেষতঃ তরুণদিগের পক্ষেই উপযোগী । আক্রমণের পূর্বে ও সময়ে মুখমণ্ডলের আরক্তিমতা, কেরটিড ধমনীর উপ্লস্ফন, প্রভৃতি মস্তিস্কে রক্তাধিক্যের লক্ষণাদি প্রকাশ পায় । আক্রমণের পূর্বে মনে হয় যেন প্রত্যঙ্গাদি বাহিয়া মূষিক দৌড়াইতেছে বা পাকস্থলী হইতে উত্তাপ উঠিতেছে । অলীক শ্রবণ ও দর্শন হয় । ফিট হইলে বাহু হইতে আক্ষেপ আরম্ভ হইয়া চোখ মুখে বিস্তৃত হইয়া পড়ে । সুস্থকালে স্নায়বিক উত্তেজনাবশতঃ সহজেই নিদ্রায় ব্যাঘাত, নিদ্রা-মধ্যে চমকিয়া ওঠা, পেশীগুলির নর্তন ও কম্পন, প্রভৃতি বর্তমান থাকিলে ইহা অধিকতর উপযোগী । কখনও বা রোগী অত্যধিক ক্রোধ প্রকাশ ও রাগারাগি করে । কেহ কেহ ইহার পরিবর্তে এট্রোপিন ব্যবহার করেন ।

বিউফো রানা

ভয়, অত্যধিক ইন্দ্রিয় সেবা এবং বিশেষতঃ হস্ত-মৈথুন জনিত এপিলেন্সী । রোগী হস্তমৈথুন করিবার জন্য গুপ্তস্থান অনুসন্ধান করে । ইহার অরা জননেন্দ্রিয় অথবা সোলার প্লেক্সাস হইতে আরম্ভ হয় এবং কখনও কখনও হস্তমৈথুন বা স্ত্রী সহবাস করিতে করিতেই আক্ষেপ আরম্ভ হয় । আক্ষেপের পূর্বে রোগী অসংলগ্ন কথা বলিতে থাকে এবং তাহা বুঝিতে না পারিলে বিরক্ত হয় । আক্ষেপ হইলে ঊর্ধ্বাঙ্গ হইতে নিম্নাঙ্গ অধিক বিক্ষিপ্ত হয় এবং মুখমণ্ডলে প্রভূত ঘর্ম হয় । ফিটের পর রোগী গভীর নিদ্রাভিভুত হইয়া পড়ে ।

ক্যাল্কেরিয়া কার্ব

ভয়, অত্যধিক স্ত্রীসঙ্গম অথবা পুরাতন চর্মরোগ লুপ্ত হইয়া মৃগী রোগে, বিশেষতঃ পূর্ণিমা তিথিতে, বিরক্তি, অথবা শীতল জল পান বা বসিয়া পা দোলাইয়া আক্রমণের সূচনা হইলে ইহা উপযোগী । ইহার অরা উদরমধ্যস্থ স্নায়ুমণ্ডলী বা সোলার প্লেক্সস হইতে আরম্ভ হইয়া আক্ষেপের সূচনা হয় ( নাক্স, বিউফো, সাইলি ); কখনও মনে হয় যেন হাত বাহিয়া মূষিক উঠিতেছে ( বেলেডোনা, সালফার ); অরা উদরমধ্য হইতে জরায়ু বা হস্ত পদাদিতে উপস্থিত হয় । ক্যাল্কেরিয়া ধাতুগত মৃগীরোগপ্রবন, এজন্য মৃগীরোগের মূলোৎপাটন করিবার জন্য ইহা বিশেষ উপযোগী । ইহা সালফারের আরম্ভ কার্য সম্পূর্ণ করিয়া

থাকে।

কষ্টিকাম

পেটিট মালে ইহা বিশেষ উপযোগী । রোগী চলিতে চলিতে হঠাৎ অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া যায় । যুবক বয়সে রোগের উৎপত্তি ও পূর্ণিমা তিথিতে আক্রমণ এবং অধিকাংশ সময়ে ঋতুর গোলমাল ইহার বৈশিষ্ট্য । এ ক্ষেত্রে ইহা ক্যাল্কেরিয়ার সমধর্মী ; কিন্তু ক্যাল্কেরিয়ায় শীতল জল পানে রোগের আক্রমণ হয় – কষ্টিকামে শীতল জল পানে আক্রমণ প্রতিরুদ্ধ হয় । রোগী অজ্ঞান অবস্থায় প্রস্রাব করে । আক্ষেপ কালে, পূর্বে বা পরে হাস্য করে । ( মাসিক ঋতুর নিকটবর্তী সময়ে বা তৎসহ মৃগীর ফিট – সিমিসি ; ঋতুরোধবশতঃ বা অত্যধিক বেদনাযুক্ত ঋতুসহ – ককিউলাস, জেলস )।

সাইকিউটা ভিরোসা

ইহাতে অজ্ঞান হইয়া রোগীর সর্বশরীর হঠাৎ কঠিন হয়, চক্ষু স্থির, মুখাবয়ব নিলাভ এবং মুখে ফেনা কাটে । তৎপর মস্তক হইতে সর্বশরীর প্রবলভাবে পুনঃপুনঃ ঝাঁকি দিতে থাকে, চোয়াল আটকাইয়া যায়, জিহ্বা কাটিয়া যায়, অপিস্থোটোনস হয়, হস্তপদাদি ভীষণভাবে মোচড়াইতে থাকে এবং রোগী অত্যন্ত অবসন্ন হইয়া পড়ে । ফিটের পর অত্যধিক অবসন্নতায় চিনি আর্স ইহার সমতুল্য । সামান্য স্পর্শেই টনিক স্প্যাজম বৃদ্ধি ( ষ্ট্রিকনিয়া, কিন্তু ইহাতে অজ্ঞানতা থাকে না )।

কুপ্রাম মেট

হাম, বিসর্প, প্রভৃতির উদ্ভেদ বসিয়া গিয়া বা দন্তোদ্গমকালে মৃগীর ফিট আরম্ভ হইলে ইহা উপযোগী । প্রচণ্ডভাবে আক্ষেপ হইতে থাকে, মুখমণ্ডল ও ওষ্ঠ নিলাভ হয়, চক্ষুদ্বয় ঘূর্ণায়মান ও মুখ হইতে ফেনা বাহির হয় । বিকারের প্রচণ্ডতায় ইহা বেলেডোনার সমতুল্য । উদর হইতে অরা আরম্ভ হয় এবং অজ্ঞান হইবার পূর্বে রোগী হস্ত ও পদাঙ্গুলির আক্ষেপ লক্ষ্য করিতে থাকে ; তৎপর সহসা তীব্র চীৎকার করিয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ে এবং তাহার ফ্লেক্সার পেশীর প্রচণ্ড আক্ষেপ হইতে থাকে । তৎকালে তাহার বৃদ্ধাঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ থাকে ও দাঁত কড়মড় করে । ইহাতে ফিট দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ফিটের পর রোগী গভীর নিদ্রাভিভূত হইয়া পড়ে । রাত্রে নিদ্রাকালে ও বিশেষতঃ নির্দিষ্ট সময়ান্তর বা প্রতি ঋতুকালে ফিট হয় । কেহ কেহ ইহাতে মৃগীরোগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔষধ বলিয়া মনে করেন ।

হাইড্রোসায়েনিক অ্যাসিড

ডাঃ হিউজেস ইহাকে মৃগীরোগের অমোঘ বা স্পেসিফিক ঔষধ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন এবং ডাঃ ডিউই ইহার যথেষ্ট প্রশংসা করিয়াছেন। ইহাতে মৃগী রোগের অধিকাংশ লক্ষণাবলীই পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। ফিটের পর রোগী অত্যধিক অবসন্ন ও নিদ্রালু হইয়া পড়ে। ডাঃ ফ্যারিংটনের মতে ইহা আক্রমণকালের একটি বিশিষ্ট ঔষধ।

হায়োসিয়ামাস

হিংসা, নিরাশ প্রেম, দুঃখ বা অত্যধিক ভয়জনিত মৃগীরোগ । বস্তুত ইহা মৃগীরোগের একটি বিশেষ নির্ভরযোগ্য ঔষধ । পূর্ব হইতে শরীরের পেশীর নর্তন ( Jerking and twitching ) ও অত্যধিক ক্ষুধা বোধ হয় । তড়কা উপস্থিত হইলেও পেশীর নর্তন সমভাবে চলিতে থাকে । রোগী চীৎকার করে, তাহার মুখমণ্ডল নীলাভ হয় ও দাঁত কড়মড় করে । তাহার মুখ হইতে ফেনা বাহির ও অসাড়ে মুত্রত্যাগ হয় । ফিট শেষ হইলে নাসিকাধ্বনিসহ গভীর নিদ্রাভুত হয় । জল পান করিবার চেষ্টা করিলেই পুনরাক্রমন ঘটে।

ইগ্নেসিয়া

ভয় বা রুদ্ধ শোকবশতঃ মৃগীবৎ আক্ষেপ । তিরস্কৃত হইবার পর শিশুর আক্ষেপ।

ইণ্ডিগো


অন্ত্রমধ্যে কৃমির উত্তেজনাবশতঃ মৃগীর ন্যায় আক্ষেপ । গুহ্যদ্বার ভীষণভাবে চুলকায় বলিয়া রাত্রে শিশুর নিদ্রা ভঙ্গ হয় অত্যধিক বিমর্ষ ও বিষণ্ণ ( বিউফো ও নাক্স – উগ্র ও খিটখিটে ) । এই অধিকারে ষ্ট্যানামও উল্লেখযোগ্য।

নাক্স ভমিকা

পরিপাকক্রিয়ার ব্যাঘাতজনিত রোগ, বিশেষতঃ যদি সোলার প্লেক্সাস হইতে আবির্ভাব হয় । উক্তস্থানে বেদনা বোধ হয় এবং তথায় চাপ দিলে পুনরাক্রমন ঘটে। কখনও বা মুখের উপর দিয়া পিপীলিকা চলিয়া বেড়াইতেছে এরূপ অনুভুতি । খিটখিটে ও উগ্র মেজাজ ; কোষ্ঠবদ্ধতা; প্রাতঃকালে শিরঃপীড়া ; অক্ষুধা ।

ইনাস্থি ক্রোকেটা

রোগী হঠাৎ গভীর অজ্ঞান হইয়া পড়ে ও তাহার চোয়াল আটকাইয়া যায় এবং হস্তপদাদি শীতল হয় ; মুখমণ্ডল স্ফীত ও নীলাভ এবং চক্ষুতারকা বিস্ফারিত ও অসমান হয় । মৃগীরোগে ডাঃ ডিউই, টেলকট, ডেভিডসন, প্রভৃতি শতমুখে ইহার প্রশংসা করিয়াছেন।

প্লাম্বাম মেট

আক্রমণের পূর্ব হইতেই পদদ্বয় পক্ষাঘাতবৎ ভারী বোধ হয় । ফিটের পর পক্ষাঘাত বর্তমান থাকে ও নাসিকাধ্বনিসহ গভীর নিদ্রা হয় । সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ হইতে বিলম্ব হয় । সেরিব্রাল স্ক্রেরোসিস বা টিউমারজনিত মৃগীরোগে ইহা বিশেষ কার্যকরী এবং মধ্যে মধ্যে উদর বেদনা ও দুর্দম্য কোষ্ঠকাঠিন্য ইহার বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

সাইলিসিয়া


ইহা মৃগীরোগের একটি বিশিষ্ট ঔষধ এবং স্ক্রুফুলা ও রিকেট ধাতুগ্রস্তদিগের পক্ষে বিশেষ উপযোগী । একাদশী, অমাবস্যা, প্রভৃতি তিথিতে এবং প্রায়ই রাত্রিকালে আক্রমণ হয় । মানসিক পরিশ্রম বা আবেগ ফিটের প্রবণতা বৃদ্ধি করে । সোলার প্লেক্সাস হইতে অরার আবির্ভাব হয় এবং বাম শরীরার্ধ অত্যধিক শীতল বোধ হয় । রোগী উৎকট চীৎকার করে গোঁ গোঁ শব্দ করে । তাহার চক্ষু হইতে জল পড়ে, মুখ হইতে ফেনা নির্গত হয় । ফিটের পর শরীর উষ্ণ ঘর্মাপ্লুত হয় এবং রোগী ঘুমাইয়া পড়ে । ইহা প্রায়ই ক্যাল্কেরিয়ার পর নির্দিষ্ট হয় । আক্রমণের পূর্বে বাম অঙ্গের শীতলতা ইহার বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

ষ্ট্যানাম মেট

অন্ত্রমধ্যে ক্রিমিজনিত বা জননেন্দ্রিয়সংশ্লিষ্ট মৃগীরোগে ব্যবহার্য। রোগীর মুখমণ্ডল মলিন; মধ্যে মধ্যে শূলবেদনা হয় এবং চলিয়া বেড়াইলে বা জোরে চাপ দিলে উপশম হয়। জিহ্বা হলুদবর্ণের লেপাবৃত; অত্যধিক দুর্বলতা।

ষ্ট্রামোনিয়াম

ভয়জনিত মৃগীরোগ ; রোগী সহসা অজ্ঞান হইয়া পড়ে ও ক্রমাগত মাথা ঝাঁকি দিয়া দক্ষিণ এবং বাম হস্ত চক্রাকারে ঘুরাইতে থাকে । রোগী আলোকে থাকিতে চায়, তাহার অন্ধকারে ভয় করে। বেলেডোনা ইহার বিপরীত

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে মৃগী রোগীর সদৃশ ঔষধ নির্বাচন:

epileptiform : Acon., aeth., Agar., alum., am-c., anac., ant-c., ant-t., arg-m., Arg-n., arn., ars., asaf., aur., Bell., bry., bufo., calc-s., Calc., camph., canth., carb-s., Caust., cedr., cham., chin., Cic., Cina., cocc., coloc., con., Cupr., cur., dig., dros., dulc., ferr-ar., ferr., gels., Glon., hell., Hyos., hyper., ign., iod., ip., kali-br., kali-c., kali-s., lach., laur., led., lyc., mag-c., med., merc., mosch., mur-ac., nat-m., nit-ac., nux-m., nux-v., oena., op., petr., ph-ac., phos., plat., Plb., psor., puls., ran-b., ran-s., rhus-t., ruta., sec., sep., sil., stann., staph., Stram., stry., Sulph., tarax., tarent., teucr., thuj., valer., verat-v., verat., Visc., zinc.

errors in diet : Cic.

eructations amel. : Kali-c.

eruptions fail to break out, when : Ant-t., Cupr., Zinc.



exanthemata repelled or do not appear, when : Ant-t., bry., camph., cupr., gels., ip., stram., sulph., Z

উপসংহার

মৃগী রোগী যখন-তখন জ্ঞান হারাতে পারে। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য তার মানসিক বিভ্রম হতে পারে। তাই এ সময়টুকু রোগীর পাশে থেকে তাকে আশ্বস্ত করা উচিৎ। পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সক্ষম অবস্থায় আসার আগ পর্যন্ত রোগীকে ছেড়ে যাওয়া ঠিক নয়। রোগীর আশে-পাশের লোকদের জন্য এটা নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য।

মৃগী রোগী দূরে কোথাও গেলে তার উচিৎ সাথে পরিচয়পত্র ও পরিচিতদের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করা। কারণ রাস্তা-ঘাটে যে কোন সময় বিপদে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনকে যেন জানানো যায়।

মৃগী রোগীদেরকে অনেক সাবধানে চলতে হয়। মৃগী রোগীদের কিছু কাজ কোন অবস্থাতেই করা ঠিক নয়, যেমন-গোসল করতে পুকুরে বা নদীতে নামা, আগুনের পাশে যাওয়া, গাছে বা ছাদে উঠা ইত্যাদি। একজন উপযুক্ত সাহায্যকারী সাথে থাকলেও তার সদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

খিঁচুনি আক্রান্ত অবস্থায় রোগীকে সরানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। স্বাভাবিকভাবেই খিঁচুনি শেষ হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। খিচুনী বন্ধ করার জন্য রোগীকে চেপে ধরা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। রোগীর মুখে জোর করে আঙ্গুল বা অন্য কিছু ঢুকানোর চেষ্টা করা যাবে না। রোগীর জিহবায় দাত দিয়ে কামড় লাগলেও খিঁচুনিরত অবস্থায় তা ছাড়ানোর জন্য কোন রকমের জোরাজুরি করা উচিৎ নয়।

মৃগী রোগীদেরকে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। খিঁচুনি উঠলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে।


লেখক 
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার,
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম।
ইভা হোমিও হল, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,
 এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
মোবাইল নাম্বার 01716651488

Comments System

[blogger][disqus][facebook]

Disqus Shortname

theme-daddy