হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala 

একজিমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

একজিমা কি?

একজিমা (Eczema) হলো ত্বকের একটি প্রদাহজনিত সমস্যা। এতে আক্রান্ত ত্বক লালচে বা বিবর্ণ, শুষ্ক, খসখসে, ফাটলযুক্ত ও চুলকানিযুক্ত হতে পারে। কোথাও ছোট ছোট ফুসকুড়ি, ফোসকা, রসক্ষরণ, পুঁজ বা মামড়ি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের একজিমায় ত্বক পুরু ও শক্ত হয়ে যেতে পারে।

এটপিক ডার্মাটাইটিস (Atopic Dermatitis) একজিমার একটি প্রধান ধরন। একজিমা সংক্রামক রোগ নয়।

শরীরের যেকোনো স্থানে একজিমা হতে পারে। তবে মাথার ত্বক, মুখ, কানের পেছন, হাত, কবজি, পা, কনুই ও হাঁটুর ভাঁজ, ঘাড় এবং জননেন্দ্রিয়ের আশপাশে এটি বেশি দেখা যায়।

একজিমার সম্ভাব্য কারণ ও উদ্দীপক

একজিমার একটি মাত্র কারণ নেই। বংশগত প্রবণতা, ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধী আবরণের দুর্বলতা এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন উদ্দীপক একজিমা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন

অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া

অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা

ঘাম

ধুলোবালি

কঠোর সাবান ও ডিটারজেন্ট

সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী

খসখসে বা উলের কাপড়

বারবার পানি বা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ

মানসিক চাপ

নির্দিষ্ট অ্যালার্জেন

তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই উদ্দীপক কাজ করে না।

একজিমার প্রধান লক্ষণ

চুলকানি

ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া

লালচে বা বিবর্ণ দাগ

ছোট ছোট গুটি বা ফুসকুড়ি

জ্বালা

রসক্ষরণ

মামড়ি পড়া

ত্বক ফেটে যাওয়া

ত্বক মোটা হয়ে যাওয়া

চুলকাতে চুলকাতে ক্ষত বা রক্তপাত

সংক্রমণ যুক্ত হলে পুঁজ, ব্যথা, হলুদাভ মামড়ি বা জ্বর দেখা দিতে পারে।

একজিমায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন

একজিমার চিকিৎসায় শুধু রোগের নামের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বিচার করা হয়। আক্রান্ত স্থান, চুলকানির প্রকৃতি, রসের ধরন, গন্ধ, শুষ্কতা, ফাটল, উষ্ণতা ও ঠান্ডার প্রভাব, গোসলের প্রভাব, ঋতুভেদে পরিবর্তন এবং রোগীর সাধারণ শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ।

Graphites

মোটা ও স্থূল গঠনের রোগীর একজিমায় Graphites-এর লক্ষণ বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

কানের পেছন থেকে গলার দিকে একজিমা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত স্থান থেকে ঘন, চটচটে বা মধুর মতো রস বের হয়। অত্যধিক চুলকানি ও জ্বালা থাকে। ত্বক ফেটে যেতে পারে।

মূল ভাব: কানের পেছনের একজিমা, ঘন চটচটে রস ও ত্বকের ফাটল।

Hepar sulphuris

অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং স্পর্শ সহ্য হয় না এমন একজিমা।

জননেন্দ্রিয়, উরু ও অণ্ডকোষে একজিমা হতে পারে। প্রচণ্ড চুলকানি, দুর্গন্ধযুক্ত রস এবং নতুন নতুন ফুসকুড়ি বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকতে পারে।

অত্যন্ত শীতকাতর রোগীর ক্ষেত্রে এর সামগ্রিক লক্ষণ বিশেষভাবে বিবেচ্য।

Bromium

মাথার একজিমা টুপির মতো বিস্তৃত হয়ে পড়ে। মাথার ত্বক স্পর্শে সংবেদনশীল হলে এবং এই ধরনের বিশেষ লক্ষণ থাকলে Bromium বিবেচনা করা হয়।

Kali arsenicosum

পুরনো, শুষ্ক ও অত্যন্ত চুলকানিযুক্ত একজিমা।

ত্বক মোটা হয়ে যায়, সন্ধিস্থানে ফাটল তৈরি হতে পারে। রসপূর্ণ একজিমা বারবার প্রকাশ পেতে পারে।

Anacardium orientale

হাতের আঙুল, চোখের পাতা, মুখমণ্ডল, বুক, গলা ও অণ্ডকোষে অসহ্য চুলকানিযুক্ত একজিমায় লক্ষণগতভাবে বিবেচ্য।

Antimonium crudum

জিহ্বায় সাদা আবরণসহ মোটা ও শক্ত মামড়িযুক্ত একজিমা।

চুলকানি ও জ্বালা থাকে। রাতে বৃদ্ধি এবং পানি লাগলে বৃদ্ধি হওয়ার প্রবণতা থাকলে এর লক্ষণ বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।

Arsenicum album

মাথা, মুখমণ্ডল ও পায়ে শুষ্ক, আঁশযুক্ত একজিমা।

অসহ্য চুলকানি ও জ্বালা, দুর্গন্ধযুক্ত রস এবং রাতে ও ঠান্ডায় বৃদ্ধি থাকতে পারে। উষ্ণতায় আরাম পাওয়ার প্রবণতা থাকলে Arsenicum album-এর সামগ্রিক লক্ষণ মিলিয়ে দেখা হয়।

Mercurius solubilis

মুখে লালাস্রাবের প্রবণতার সঙ্গে একজিমা এবং ঘন আঠালো হলুদাভ রসক্ষরণ।

গরমে ও রাতে বৃদ্ধি এবং ক্ষত থেকে রক্তমিশ্রিত রস বের হলে Mercurius solubilis-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Petroleum

শীতকালে একজিমা বৃদ্ধি এবং গ্রীষ্মকালে কমে যাওয়া Petroleum-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

মুখ, মাথা ও অণ্ডকোষসহ বিভিন্ন স্থানে একজিমা হতে পারে। হলুদ বা সবুজাভ মামড়ি, গভীর ফাটল, চুলকানি ও ব্যথা থাকতে পারে।

মূল ভাব: শীতকালে বৃদ্ধি, গভীর ফাটল এবং গ্রীষ্মকালে উপশম।

Baryta carbonica

সর্দি-প্রবণ, টনসিলের সমস্যা ও স্ক্রোফুলাস বৈশিষ্ট্যযুক্ত শিশুদের মাথার সিক্ত একজিমায় লক্ষণগতভাবে বিবেচ্য।

অতিরিক্ত চুলকানি ও জ্বালা থাকতে পারে।

Bovista

পানি বা ভেজা কাজের কারণে হাতে একজিমা হলে Bovista-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

চুলকালেও উপশম না হওয়া এবং মুখের চারপাশ ও নাকের কাছে একজিমা থাকলেও এটি বিবেচ্য।

Calcarea carbonica

বিশেষ করে মোটা শিশুদের দাঁত ওঠার সময় মাথায় একজিমা দেখা দিতে পারে এবং তা মুখে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঘুমের মধ্যে মাথায় অতিরিক্ত ঘাম এবং চুলকাতে চুলকাতে রক্তপাতের প্রবণতা থাকতে পারে।

পা, নাভি, হাঁটু ও কনুইয়ের রক্তস্রাবী একজিমাতেও লক্ষণ মিলিয়ে দেখা হয়।

শীর্ণ ও দুর্বল শিশুর ক্ষেত্রে Calcarea phosphorica-এর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Cantharis

প্রদাহযুক্ত স্থানে প্রচণ্ড জ্বালা ও চুলকানি।

একজিমা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকলে Cantharis-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Chelidonium majus

লিভারের সমস্যার সঙ্গে পায়ে একজিমা থাকলে Chelidonium-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Cicuta virosa

মাথার একজিমা সমগ্র মাথায় ছড়িয়ে পড়ে টুপির মতো দেখাতে পারে।

বিশেষ ধরনের মোটা মামড়ি এবং মাথার ত্বকের পরিবর্তনের সঙ্গে অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থাকলে Cicuta virosa-এর সামগ্রিক লক্ষণ বিচার করা হয়।

Conium maculatum

মাথা ঘোরার প্রবণতার সঙ্গে মুখমণ্ডল, বাহু বা জননেন্দ্রিয়ের একজিমা।

চটচটে রসক্ষরণ এবং শয়নকালে বৃদ্ধি থাকলে Conium maculatum-এর লক্ষণ বিবেচ্য।

Croton tiglium

মাথা, মুখমণ্ডল, চোখের পাতা, অণ্ডকোষ ও জননেন্দ্রিয়ের উপর ছোট ছোট ফুসকুড়িযুক্ত একজিমা।

ভয়ানক চুলকানি ও জ্বালা থাকতে পারে। ধীরে ধীরে চুলকালে উপশম পাওয়া Croton tiglium-এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

Kali muriaticum

সাদা বর্ণের ফুসকুড়িযুক্ত একজিমা।

মাসিকের গোলযোগ বা টিকা-পরবর্তী সমস্যার সঙ্গে একজিমার সম্পর্ক থাকলে রোগীর অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে Kali muriaticum বিবেচনা করা হয়।

Mezereum

মাথা থেকে শরীরের অন্যান্য স্থানে একজিমা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ক্ষতের উপর মোটা ও শুষ্ক মামড়ি এবং তার নিচে পুঁজ থাকতে পারে। মাথায় প্রচণ্ড চুলকানি হয়। চুলকালে চুলকানি আরও বেড়ে যেতে পারে এবং শিশুরা চুলকাতে চুলকাতে মাথার ত্বক রক্তাক্ত করে ফেলতে পারে।

তাপে চুলকানি বৃদ্ধি হলে লক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ।

Natrum muriaticum

মাথার উপর এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত বিস্তৃত সাদা মামড়িযুক্ত একজিমা।

মামড়ির নিচে পুঁজ হতে পারে এবং পুঁজের কারণে চুল জড়িয়ে যেতে পারে।

মুখের চারপাশে, হাঁটুর ভাঁজে এবং শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে একজিমা দেখা দিতে পারে।

চটচটে ও দুর্গন্ধযুক্ত রসক্ষরণ থাকলে সামগ্রিক লক্ষণ মিলিয়ে Natrum muriaticum বিবেচনা করা হয়।

Natrum sulphuricum

পাতলা তরল রসক্ষরণকারী একজিমা।

শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জলপূর্ণ ফুসকুড়ি এবং সিক্ত একজিমায় লক্ষণগতভাবে বিবেচ্য।

Psorinum

দীর্ঘস্থায়ী ও অত্যন্ত চুলকানিযুক্ত একজিমা।

চুলকাতে চুলকাতে রক্তাক্ত করে ফেলার প্রবণতা, দুর্বলতা, শীতকাতরতা এবং শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ থাকতে পারে।

দীর্ঘদিনের একজিমায় পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস ও রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Rhus toxicodendron

মাথার একজিমা কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অত্যন্ত চুলকানি, রাতে বৃদ্ধি এবং অণ্ডকোষে প্রচুর রসক্ষরণ থাকতে পারে।

বর্ষাকাল ও শীতকালে বৃদ্ধি হলে Rhus toxicodendron-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Sarsaparilla

কপাল ও মুখমণ্ডলের একজিমা।

ক্ষতের চারপাশে প্রদাহ, গভীর ফাটল ও শুষ্ক মামড়ি থাকতে পারে। বাতাসে জ্বালা বা ব্যথা বৃদ্ধি হলে লক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ।

Sepia

গর্ভাবস্থায় একজিমা দেখা দিলে Sepia-এর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

লালচে ত্বকের উপর ফুসকুড়ি, অত্যধিক চুলকানি ও চুলকালে জ্বালা থাকতে পারে।

প্রথমে শুষ্ক, পরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধযুক্ত রসক্ষরণ, মামড়ি ও ফাটল দেখা দিতে পারে।

Silicea

অধিক পুঁজস্রাবযুক্ত একজিমা।

অত্যধিক চুলকানি ও জ্বালা থাকে এবং চুলকালে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ক্ষত আবৃত রাখলে উপশম হলে Silicea-এর লক্ষণগত মিল বিবেচনা করা হয়।

Staphysagria

বিশেষ করে শিশুদের মাথা, মুখমণ্ডল ও কানের আশপাশের একজিমায় বিবেচ্য।

হলুদাভ মামড়ির নিচে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ এবং প্রচণ্ড চুলকানি থাকতে পারে। একজিমা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আক্রান্ত স্থানে চুল পড়তে পারে।

Sulphur

তীব্র চুলকানি ও জ্বালার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধচিত্র।

রাতে চুলকানি বৃদ্ধি, চুলকালে জ্বালা, গোসলের প্রতি অনীহা এবং শরীর থেকে দুর্গন্ধের প্রবণতা থাকলে Sulphur-এর সামগ্রিক লক্ষণ বিচার করা হয়।

Thuja occidentalis

টিকা দেওয়ার পর একজিমা শুরু হওয়া বা পূর্বের একজিমা বৃদ্ধি পাওয়ার ইতিহাস থাকলে Thuja-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

স্পর্শে অসহ্যতা, তীব্র চুলকানি ও চুলকালে জ্বালা থাকতে পারে।

অনাবৃত স্থানে ঘাম এবং আবৃত স্থানে একজিমার বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকলেও লক্ষণ মিলিয়ে দেখা হয়।

Vinca minor

মাথা, মুখ ও কানের পাশে সিক্ত একজিমা।

অত্যন্ত চুলকানি, দুর্গন্ধযুক্ত রস এবং রসে চুল জড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।

Arctium lappa

মাথার সিক্ত একজিমা, দুর্গন্ধযুক্ত মামড়ি এবং মাথা থেকে মুখের দিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা।

অত্যন্ত চুলকানির কারণে চুলকাতে চুলকাতে ত্বক ক্ষত করে ফেললে Arctium lappa-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

বোরিক রেপার্টরি স্টাডি

Boericke Repertory-তে Eczema-এর অধীনে বিভিন্ন স্থান, অবস্থা, স্রাবের প্রকৃতি এবং বিশেষ কারণ অনুযায়ী বিভিন্ন ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।

Eczema

Aethusa, Alnus, Alumina, Anacardium, Antimonium crudum, Arsenicum album, Bovista, Calcarea carbonica, Cantharis, Cicuta, Clematis, Conium, Croton tiglium, Dulcamara, Graphites, Hepar sulphuris, Kali arsenicosum, Kali muriaticum, Mercurius, Mezereum, Natrum muriaticum, Petroleum, Psorinum, Rhus toxicodendron, Sarsaparilla, Sepia, Sulphur, Thuja, Vinca minor প্রভৃতি।

Acute Eczema

Aconitum, Anacardium, Belladonna, Cantharis, China sulphuricum, Croton tiglium, Mezereum, Rhus toxicodendron, Sepia।

কানের পেছনে

Arsenicum album, Bovista, Graphites, Hepar sulphuris, Kali muriaticum, Mezereum, Petroleum, Psorinum, Rhus toxicodendron, Sepia, Staphysagria।

মুখে

Anacardium, Antimonium crudum, Calcarea carbonica, Carbo animalis, Cicuta, Croton tiglium, Kali arsenicosum, Mercurius, Psorinum, Rhus toxicodendron, Sepia, Staphysagria, Sulphur, Vinca minor।

সন্ধির ভাঁজে

Aethusa, Causticum, Graphites, Hepar sulphuris, Kali arsenicosum, Lycopodium, Natrum muriaticum, Psorinum, Sepia, Sulphur।

হাতে

Baryta carbonica, Bovista, Calcarea carbonica, Graphites, Hepar sulphuris, Petroleum, Rhus toxicodendron, Sepia।

জননেন্দ্রিয়ের আশপাশে

Antimonium crudum, Arsenicum album, Cantharis, Croton tiglium, Hepar sulphuris, Rhus toxicodendron, Sepia।

মাথার ত্বকে

Calcarea carbonica, Cicuta, Hepar sulphuris, Kali muriaticum, Lycopodium, Mezereum, Natrum muriaticum, Petroleum, Psorinum, Sepia, Staphysagria, Sulphur, Vinca minor।

সিক্ত বা রসক্ষরণকারী একজিমা

Cicuta, Conium, Dulcamara, Graphites, Hepar sulphuris, Kali muriaticum, Mercurius, Mezereum, Sepia, Staphysagria।

টিকা-পরবর্তী

Boericke Repertory-তে Vaccination-এর পরে Eczema-এর ক্ষেত্রে Mezereum-এর উল্লেখ রয়েছে। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ মিলিয়ে Thuja-ও বিবেচনা করা হয়।

মাসিকের সময় বা মেনোপজে

Mangifera indica-এর উল্লেখ রয়েছে। তবে শুধু মাসিকের গোলযোগ থাকলেই ঔষধ নির্বাচন না করে সামগ্রিক লক্ষণ বিচার করা উচিত।

অন্যান্য বিশেষ রুব্রিক

Rheumatic-gouty persons: Rhus toxicodendronসহ কয়েকটি ঔষধ

Strumous persons: Calcarea carbonica, Hepar sulphurisসহ বিভিন্ন ঔষধ

Whole body: Croton tiglium, Rhus toxicodendron

Urinary, gastric and hepatic disorders: Lycopodium

Seashore, ocean voyage বা অতিরিক্ত লবণের সঙ্গে বৃদ্ধি: Natrum muriaticum

একজিমায় ঔষধ নির্বাচনের মূলনীতি

একজিমার ক্ষেত্রে শুধু রোগের নাম দেখে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।

রোগটি কোথায় শুরু হয়েছে

শুষ্ক না সিক্ত

রসের রং, ঘনত্ব ও গন্ধ

চুলকানি কখন বেশি

রাতে না দিনে বৃদ্ধি

গরমে না ঠান্ডায় বৃদ্ধি

গোসলের পরে পরিবর্তন

পানি লাগলে বৃদ্ধি বা উপশম

চুলকালে আরাম নাকি আরও বৃদ্ধি

শীত ও গ্রীষ্মের প্রভাব

ত্বক ফাটে কি না

রক্ত বা পুঁজ বের হয় কি না

কোনো বিশেষ কারণের পরে রোগ শুরু হয়েছে কি না

সহযোগী রোগ

পারিবারিক ইতিহাস

রোগীর সাধারণ শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য

এসব লক্ষণ সংগ্রহ করে রেপার্টরিতে উপযুক্ত রুব্রিক নির্বাচন এবং Materia Medica-এর সঙ্গে তুলনা করে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।

রেপার্টরি রোগের নামের তালিকা দেওয়ার জন্য নয়; রোগীর বিশেষ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণকে সঠিক রুব্রিকে রূপান্তর করে সম্ভাব্য ঔষধসমূহকে তুলনা করার একটি সহায়ক পদ্ধতি।

একজিমা ও মায়াজম

ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় দীর্ঘস্থায়ী একজিমার ক্ষেত্রে মায়াজম্যাটিক মূল্যায়ন কেস বিশ্লেষণের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পুনঃপুনঃ চুলকানি, শুষ্কতা, রাতের বৃদ্ধি, ত্বকের পরিবর্তন, পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস এবং রোগের পুনরাবৃত্তির ধরন ইত্যাদি লক্ষণ মায়াজম্যাটিক বিশ্লেষণে বিবেচনা করা হয়।

তবে শুধু একজিমা আছে বলেই কোনো নির্দিষ্ট মায়াজম নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস ও লক্ষণসমষ্টি বিচার করা প্রয়োজন।

একজিমায় খাদ্য ও জীবনযাপন

একজিমায় ত্বকের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন না।

ত্বক পরিষ্কার রাখুন, তবে অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না।

কঠোর সাবান, ডিটারজেন্ট ও সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী পরিহার করুন।

গোসলের পর ত্বক শুকিয়ে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত ঘাম ও গরমে সমস্যা বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করুন।

খসখসে বা উলের কাপড়ে সমস্যা হলে নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।

যে খাদ্য বা পরিবেশগত কারণে নিশ্চিতভাবে সমস্যা বাড়ে, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরিহার করুন।

অকারণে অনেক ধরনের খাবার একসঙ্গে বাদ দেবেন না।

নখ ছোট রাখুন, যাতে চুলকানোর কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

কখন বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে

একজিমার সঙ্গে জ্বর হলে

ক্ষত থেকে পুঁজ বের হলে

হলুদাভ বা সোনালি মামড়ি হলে

দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে

তীব্র ব্যথা বা ফোলা হলে

চোখ বা মুখের আশপাশে গুরুতরভাবে ছড়ালে

শিশুর একজিমা হঠাৎ দ্রুত খারাপ হলে

দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে না এলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপসংহার

একজিমা একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পুনঃপুনঃ প্রকাশমান চর্মসমস্যা হতে পারে। এর চিকিৎসায় রোগের ধরন, আক্রান্ত স্থান, চুলকানির প্রকৃতি, রসের ধরন, ত্বকের পরিবর্তন, উদ্দীপক কারণ এবং রোগীর সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Graphites, Hepar sulphuris, Arsenicum album, Petroleum, Psorinum, Rhus toxicodendron, Sepia, Silicea, Staphysagria, Sulphur, Thuja, Vinca minorসহ বিভিন্ন ঔষধের লক্ষণভিত্তিক ব্যবহার বর্ণিত রয়েছে।

সঠিক ঔষধ নির্বাচনের জন্য কেসটেকিং, রেপার্টরি বিশ্লেষণ এবং Materia Medica-এর সঙ্গে লক্ষণসমষ্টির তুলনা অপরিহার্য।

নিজে নিজে দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করে দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। একজিমায় সংক্রমণ, দ্রুত অবনতি বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নও গ্রহণ করা উচিত।

লেখক 
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার

সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে 
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮