জনপ্রিয় পোস্ট

রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬

শিরা স্ফিতি বা ভেরিকোসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


ভেরিকোস ভেইন / Varicose veins 


ভেরিকোস ভেইন এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 


ভেরিকোস ভেইন কি?
সাধারণত রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত জনিত কারণে শিরাগুলো স্ফীত হয়ে উঠে।হাত,পা মলদ্বার,অণ্ডকোষ প্রভৃতি স্থানের শিরা রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত হেতু ফুলে উঠে এবং মোটা হয়।আঙ্গুল দিয়ে টিপলে শিরাগুলো ক্রিমি বা সাপের ন্যায় অনুভূত হয়। শিরা প্রদাহ ও শিরা স্ফীতি বেদনাদায়ক রোগ।

কারণ -
ভেরিকোস ভেইন রোগটি হবার নানা কারণ রয়েছে
যেমন-
১। সাধারণত ভেইন বা শিরার ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাবার কারণে এই রোগটি হয়।
২। শিরায় ইনফেকশন হলে।
৩। গর্ভাবস্থায়, পেটে টিউমার হলে বা পানি জমলে
৪। পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও এ রোগটি হতে দেখা যায়।
পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুর মাঝখানের অংশে (সেফানাস ভেইন) ভেরিকোস ভেইন বেশি হতে দেখা যায়, এ রোগ হলে শিরা বরাবর রোগী ব্যাথা অনুভব করেন।চামড়ার ঠিক নিচে মোটা মোটা ভেইনগুলো দেখতেও বেশ কদাকার মনে হয়।দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে পায়ে আলসার বা ঘা হয়ে যেতে পারে, পায়ের স্নায়ু নষ্ট হয়ে গ্যাংরিন হতে পারে।

শিরা স্ফীতির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের পার্থক্য বিচার-


আর্সেনিক ( Arsenic Album ) প্রদাহিত স্থান ফুলে উঠে, জ্বালাযন্ত্রণা করে,গরমে উপশম। অস্থিরতার ভাব,রক্ত দুষিত এবং গ্যাংরিন হবার উপক্রম।জীবনীশক্তির দ্রুত ক্ষয়, মৃত্যুভয়, সমস্ত দেহে জ্বালাপোড়া। (6/30 একমাত্রা করে দিনে ৩/৪ বার সেব্য)।

আর্ণিকা (Arnica Montana)
আঘত লাগা হেতু, সর্বাঙ্গে ক্ষতবৎ থেঁৎলানো ব্যথা। যেন তাকে প্রহার করা হয়েছে এমন বেদনা। যার উপর শয়ন করে তা যেন শক্ত মনে হয়। দেহের উপরাংশে উত্তাপ এবং নিন্মাংশে শীতলতা। একটি একটি করে ছোট ব্যথা যুক্ত ফোঁড়া উঠে। (৬, ৩০ একমাত্রা করে দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

হ্যামামেলিস (Hamamelis Virginica) 
-শিরায় অত্যন্ত বেদনা এবং স্ফীত ভাব।ব্যথায় অস্থির। যে কোন দ্বার হতে অপ্রবল শৈরিক রক্ত স্রাব। মাথার এক পার্শ্ব হতে অপর পার্শ্ব যেন গোঁজ বিদ্ধ যন্ত্রণাবোধ।(Q,3x Distilled water –এ মিস্রিত করে শক্তি পরিবর্তিত নিয়মে দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

এসিড ফ্লোর ( Acid Flouricum) পুরাতন পীড়া। সিফিলিস ও পারদ দোষের ইতিহাস। ঔষধটি নিন্মাংগের টিসুগুলোর উপর ভাল কাজ করে, রক্তবহা নাড়ী স্ফীত এবং বেদনা যুক্ত, মাথার ভিতর হতে উভয় পার্শ্বে চাপবোধ। দাঁতগুলো ক্ষয়ে যায়, দন্তরোগ। (6 , একমাত্রা করে দিনে ৩/৪ বার সেব্য)।

বেলেডোনা (Belladona)
ঔষধটি স্নায়ু বিধানের উপর ক্রিয়া করে।ইহার প্রধান ক্রিয়া রক্তবহা নাড়ী, চর্ম এবং গ্রন্থি সমূহের উপর। সর্ব ক্ষেত্রেই বেলেডোনার লক্ষণ উত্তপ্ত লালাত্বক, রক্তিম মুখমণ্ডল, চকচকে চোখ, দপদপকর কর্ণমূল গ্রন্থি। (30/2c একমাত্রা করে দিনে ৪/৫ বার সেব্য)।
ক্লিমেটিস ইরেকটা (Clematis Erecta)
 মুত্রযন্ত্র এবং অণ্ডকোষ প্রভৃতির উপর ক্রিয়া। দেহের বিভিন্ন অংশে স্নায়ুশূল, অত্যন্ত ঘুম ঘুম ভাব। শিরাস্ফীতি।অমাবস্যায় রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি। ( 6/30, একমাত্রা করে দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

ভেরিকোস ভেইন চিকিৎসায় আরও প্রয়োজনীয় ঔষধ

ফর্মিকা, রুটা 6/30, ল্যাকেসিস 2c, প্লাম্বাম মেট 30, পালসেটিলা 30 এসিড ফ্লোর ও অন্যান্য ঔষধ সমূহ।

ভেরিকোস চিকিৎসায় সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ(কেন্ট রেপার্টরি)

 VARICOSE veins : Alumn.ambr.ant-t.arg-n.Arn.ars.asaf., bell.calc-f., calc-p., Calc.carb-an.,Carb-v.caust.clem., coloc., crot-h.ferr-ar., ferr.Fl-ac.graph.Ham.hep.kreos.lach., lyc.Lycps., mag-c., mill., nat-m.nux-v.pćon.plb.Puls., sabin., sep.sil., spig.sul-ac., sulph.thu., vip.zinc.


++ blue : Carb-v.lycps.
++ burning : Apis.Ars.calc.
++ night : Ars.
++ inflamed : Arn., ars.calc.ham.kreos., lyc., lycps.puls.sil., spig., sulph., zinc.
++ itching : Graph.
++ network in skin : Berb., calc.carb-v.caust.clem., crot-h.lach.lyc., nat-m., ox-ac., plat., sabad., thu.
++ painful : Brom.caust.ham.lyc.mill.Puls., sang.
++ pimples, covered with : Graph.
++ pregnancy, during : Ferr.lyc.lycps.mill.Puls.zinc.
++ soreness : Graph., ham.puls.
VARICOSE veins, stinging++ stinging : Apis.graph., ham.Puls.

++ stitching : Kali-c., lyc.
++ ulceration : Ars., Lach., lyc., puls., sil.
++ swollen : Apis.berb., puls.

বায়োকেমিক ঔষধ (Biochemical Medicines):

ক্যাল্কেরিয়া ফস
মধ্যে মধ্যে আবশ্যকীয় ঔষধের সঙ্গে প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। রমণীদের অধিক মাত্রায় ধাতু স্রাব, বুক ধড়ফড়ানি, উদ্বেগ, হাত পায়ের কম্পন বিশেষ করে পায়ের ডিমে। অতিশয় দুর্বলতা। ২/৩ গ্রেন মাত্রায় দিনে ৪/৫ বার সেব্য।

ফেরাম ফস 
 রক্ত বহা নাড়ী, শিরা স্ফীতি ও শিরা প্রদাহের বিশেষ উপযোগী। নাড়ী পূর্ণ, গোল দড়ির মত। নাড়ী দ্রুত এবং পূর্ণহৃদযন্ত্রের বেদনা। একমাত্রা করে দিনে ৪ বার সেব্য।

ক্যাল্কেরিয়া ফ্লোর (Calcaria Flour)

শিরা স্ফীতির প্রধান ঔষধ। শিরাস্ফীতি কিন্তু কোন বেদনা থাকে না। পাথরের মত শক্ত গ্রন্থি, প্রসারিত এবং স্ফীত শিরা। মাথার মধ্যে কড় কড় শব্দ, উত্তাপে উপশম। (3x চূর্ণ ২/৩ গ্রেন মাত্রায় দিনে ৩/৪ বার সেব্য)।


লেখক 
ডা: ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
গভ: রেজি নং 23876.
মোবাইল নং 01716651488.

Calcarea Carb

 

Calcarea Carb (ক্যাল্কেরিয়া কার্ব)


সমনাম-

ক্যাল্কেরিয়া অস্টিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, কার্বোনেট অফ লাইম।

মায়াজম-

সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।

পার্শ

ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, বামপাশ হতে ডানপাশ।

কাতরতা

শীতকাতর।

উপযোগিতা

শেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু। এর রোগীর গঠন সাধারণতঃ মোটাসোটা অথবা অতিশয় মেদ প্রবণ, থলথলে, নাদুসনুদুস। হাত-পা সরু, শরীরের আয়তন অপেক্ষা মাথাটা বড়, পেটটা আরো মোটা, প্রচুর ঘাম, ঘুমালে মাথার ঘামে বালিশ ভিজে।

ক্রিয়াস্থল

পরিপোষণ ক্রিয়া, শোয়ণ ক্রিয়া, ক্ষরণ ক্রিয়া, গ্ল্যান্ডসমূহ, সার্জিক্যাল মেসেন্টেরিক, অস্হিসমূহ, রক্ত, ডান ফুসফুস, হৃদপিন্ড, চর্ম, জিহ্বা, দাঁত, মস্তিষ্ক, বক্ষদেশ, হার্ট, শিশুরা।

চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য

ক্যাল্কেরিয়া রোগীর পদযুগল শীতল, আঠালো ঘামে আবৃত “যেন আর্দ্র মোজা পরিহিত”; সালফারের রোগী চরিত্রগতভাবে পদযুগল গরম ও ঘামাক্ত।

ফিজিওলজিক্যাল কাজ- ক্যাল্কেরিয়া কার্ব শরীরে পোষণ এবং বর্ধন সম্বন্ধীয় যন্ত্রের ওপরেই প্রধান কাজ করে এবং এর প্রয়োগে নিঃসরণ এবং শোষণ ক্রিয়া উত্তমরূপে এবং শীঘ্র শীঘ্র সম্পাদন হয়, সে কারণে শরীরের প্রকৃতি অর্থাৎ ধাতু পরিবর্তনে এর যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে বলেই একে এ বিষয়ের একটি প্রধান ওষুধ বলা হয়ে থাকে।

সারসংক্ষেপ

শ্লেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু। দেহের স্থূলতা ও শিথিলতা। পা দুটি ঠান্ডা ও চটচটে এবং নিমগ্ন অনুভূতি। পরিপাক নালির অম্লত্ব। মাথার ঘামে

বালিশ ভিজে যায় ও অল্পেই ঠান্ডা লাগে। প্রাতে, সন্ধ্যায়, রাতে, ঠান্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায়, মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে বাড়ে। পোশাক ছাড়লে, ঘর্ষণে, কোষ্ঠবদ্ধ থাকলে ও সকালের নাস্তার পর উপশম। একগুঁয়ে, অস্থিরতা, উত্তেজনাপ্রবণতা, ক্রোধ, মনস্তাপ, ভীরুতা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস, কাঁদে, বিস্তৃতিপরায়ণ, ভয় ও অলসভাব। ডিম খাওয়া প্রবল ইচ্ছে কিন্তু দুধ অসহ্য। রাগে/ক্রোধে থুথু ফেলতে থাকে। মাথায় রক্তসঞ্চয় ও বরফশীতল অনুভূতি পর্যায়ক্রমে আসে।

অনুভূতি

১) বাহুর ওপরে যেনো ইঁদুর হাঁটছে।

২) ব্যথা যেনো বাইরের অঙ্গ মচকে গেছে।

সহচর লক্ষণঃ

১) মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়েমি।

২) রাগে/ক্রোধে থুথু ফেলতে থাকে।

৩) মাথায় রক্তসঞ্চয় ও বরফশীতল অনুভূতি পর্যায়ক্রমে আসে।

৪) ঘুমের সময় মাথায় ঘাম হয় ও অস্হির লাগে।

বৃদ্ধিঃ

প্রাতে, বেলা ২টায়, সন্ধ্যায়, রাতে, ঠান্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায়, ঠান্ডা লাগলে, গরম বাতাসে, গোসলে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, ওপরে ওঠতে গেলে, চোখের পরিশ্রমে, পিউবার্টি, কাপড়ের চাপে, দুধে, মদ জাতীয় উত্তেজক পদার্থে, জাগলে, পূর্ণিমাতে, দাঁড়ালে, দন্তোদ্গমনকালে, আহারের পর, মানসিক পরিশ্রমে, শারীরিক পরিশ্রমে, হস্তমৈথুনে, সায়াহ্ন, মধ্যারাতের পর, গোলমালে অত্যানুভূতি, একাদশীতে, আঁট করে কাপড় পড়লে, ভারী জিনিস তুললে, পা ঝুলিয়ে রাখলে, আলোতে, ওপর দিকে তাকালে বা ওঠলে, মাথা ঘোরালে, উপবাসে, দেহের ডান দিকে অধিক রোগাক্রমণ, শয়নে, মুক্ত বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে, পূর্ণিমায়, সঙ্গমের পর, ঘাম চাপা পড়লে, ঋতুস্রাবের আগে, ঘুমের আগে ও পরে, হাঁটলে।

হ্রাস

হাত পা জড়ো করলে, কাপড় জামা আলগা করে দিলে, চিৎ হয়ে শুলে, চুলকালে, চুল কাটলে, ঘর্ষণে, কোষ্ঠবদ্ধ থাকলে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, সকালের নাস্তার পর, অন্ধকারে, ব্যথাযুক্ত পাশে শয়নে, উত্তাপে, মানসিক পরিশ্রমে।

রোগের কারণ

মদ, ঠান্ডা, আর্দ্র, পাক খাওয়া, অতিরিক্ত রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ভারোত্তোলন, মেরুদণ্ডের নিম্নাংশে আঘাত, মচকানো, মানসিক পরিশ্রান্ত হওয়ার পর, ঘাম অবরুদ্ধে, মাসিকের অবরুদ্ধে, ইরেপশন অবরুদ্ধে, ক্লান্তি, দন্তোদ্গমনকালে, ঠান্ডা পানিতে গোসলে। মস্তিষ্কে পানি সঞ্চয়, হজমের ক্ষেতে অম্লপিত্ত। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠায় শ্বাসকষ্ট, ভয়, উদ্ভেদ বসে যাওয়া, শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয়।

ইচ্ছা

মদ, ডিম, মিষ্টি, লবণাক্ত খাদ্যে প্রবল ইচ্ছা, অপাচ্য যেমন- কয়লা, মাটি, চক, পেন্সিলের শীষ প্রভৃতি অখাদ্য খেতে চায়, চুম্বক শক্তি দ্বারা আকর্ষিত হওয়া।

অনিচ্ছা

মাংস, দুধ, গরম খাদ্য, চর্বিযুক্ত খাদ্য।

অসহ্য

দুধ, পোশাক পরিধান।

শত্রুভাবাপন্ন

অ্যাসিড-নাই, ব্যারা-কা, সালফ, কেলি-বাই।

ক্রিয়ানাশক

অ্যাসি-নাই, ব্রায়ো, ক্যাম্ফ, চায়না, ইপি, নাইট্রি-স্পিরি-ডাল, নাক্স-ভ, ফস, সিপি, সালফ।

সতর্কীকরণ

বয়স্কদের ক্ষেতে ক্যাল্কেরিয়া কখনো ঘন ঘন মাত্রায় ব্যবহার করবেন না।

-ডা. বোরিক।

প্রয়োগ

√ সালফ ও অ্যাসি নাই- এর আগে ক্যাল্ক দেয়া যাবে না।

- ডা. হ্যানিম্যান।

√ প্রথমে সালফার, তারপরে ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব এবং সর্বশেষে লাইকোপোডিয়াম ব্যবহার করতে হয়।

√ যখন দুধের নিঃসরণ বেশি হয় এবং শিশু তা পছন্দ করে না বা সহ্য করতে পারে না, তখন ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব দুধের মান ও পরিমাণ সশোধন করে দেয়।

- ডা. জি.আর।

সংকলিত

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 

 সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম

 ইভা হোমিও হল 

আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড 

বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে

 এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯ 

মোবাইল নাম্বার 01716651488

শনিবার, আগস্ট ০১, ২০২৬

মৃগীরোগ ( Epilepsy )এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

 মৃগীরোগীর (Epilepsy) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

মৃগীরোগ বা অপম্মার বা এপিলেপ্সী একটি দীর্ঘকাল স্থায়ী স্নায়বিক ব্যাধি । ইহাতে মধ্যে মধ্যে আক্ষেপসহ অথবা বিনা আক্ষেপেই রোগী সহসা অজ্ঞান হইয়া পড়ে । মস্তিস্কের ঊর্ধ্বতন কেন্দ্রসমূহের ক্রিয়া সহসা বিপর্যস্ত হইয়া পড়িলে স্নায়ুতন্ত্রের ( nervous system ) অন্যান্য অংশের ক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিত হইয়া লক্ষণাদি প্রকাশ করে । ইহার প্রতি আক্রমণ স্বল্পক্ষণস্থায়ী এবং মধ্যবর্তী কালে রোগী একরূপ সুস্থই থাকে – অন্ততপক্ষে এই রোগের বিশিষ্ট কোন লক্ষণাদি বর্তমান থাকে না।

কারণ-তত্ত্ব > পিতৃমাতৃকুলে এই পীড়ার ইতিহাস অথবা উম্মাদরোগ, মদ্যপান, অতিশয় ভাবপ্রবণতা, প্রভৃতির পরিচয় পাওয়া যাইতে পারে । মস্তকে আঘাত, মস্তিস্ক মধ্যে রক্তস্রাব, থ্রাম্বোসিস, এম্বোলিজম, গুল্ম, প্রভৃতির চাপ, মদ্যাদি মাদক দ্রব্য সেবন, অথবা কোকেন, ষ্ট্রীকনিয়া, আর্সেনিক, সীসক, প্রভৃতির বিষক্রিয়া, সংক্রামক পীড়াদি অথবা রিকেটস, ইউরিমিয়া, উপদংশ, হস্তমৈথুন ক্রিয়ার কুফল, প্রভৃতিতে এই রোগের কারণ রূপে নির্দেশ করা যাইতে পারে । ভয় শারীরিক ও মানসিক অবসাদ বা শৈশবে মেনিঞ্জাইটিস, প্রভৃতি মস্তিস্কের রোগ হইতে মৃগীরোগের সূচনা হইতে পারে।

ইহাতে সকল বয়সেই স্ত্রীপুরুষ সকলেই সমভাবে আক্রান্ত হইতে পারে, কিন্তু দশম হইতে বিংশতি বৎসর বয়সমধ্যে বিশেষতঃ যৌবনসমাগমে ইহার প্রবণতা সর্বাধিক । নুন্যাধ্যিক সময়ান্তর দিবাভাগে, রাত্রিকালে অথবা প্রতি মাসে স্ত্রীলোকদিগের ঋতুসহ ইহার আক্রমণ হইতে পারে।

প্রকার ভেদ


ইহা প্রধানতঃ দুই জাতীয় । লঘু মৃগী বা পেটিট মাল ( Petit mal ) ও গুরু মৃগী বা গ্র্যান্ড মাল ( grand mal )।

পেটিট মাল

ইহাতে ক্ষণস্থায়ী অজ্ঞানতা বা অজ্ঞান ভাব উপস্থিত হয় । মূর্ছা কখন হয়, কখন হয় না । রোগী কথা বলিতে বলিতে বা কোন কাজ করিতে করিতে স্থির হইয়া এক দৃষ্টে তাকাইয়া থাকে, তাহার মুখমণ্ডল বিবর্ণ ও রক্তশূন্য হয়, হাতে কোন দ্রব্য থাকিলে তাহা পড়িয়া যায় এবং এইরূপ অবস্থায় স্বল্পক্ষণ থাকিয়া পুনরায় সুস্থভাবে পূর্ব কার্য আরম্ভ করে । কেহ কেহ মস্তক অবনত করিয়া হঠাৎ মেঝের উপর পড়িয়া যায় অথবা কেবল হেঁটমুণ্ডে বসিয়া থাকে । কেহ কেহ হঠাৎ অসংলগ্ন বাক্য বা তোতলামি করিয়াই অথবা জামাকাপড় খুলিয়া বা নিকটস্থ দ্রব্যাদি ছিঁড়িয়া বা ভাঙ্গিয়া সুস্থ হয় । কাহারও বা দমবন্ধ ভাব প্রকাশ পায় । ক্ষণস্থায়ী ও মৃদু হইলেও শিরোঘূর্ণন ও মূর্ছা প্রায়ই হয় এবং বহুক্ষেত্রে ইহা হইতেই পরিণামে গ্র্যান্ড মাল বা গুরু মৃগী হয় ।

গ্র্যান্ড মাল

ফিট হইবার কিছুকাল পূর্ব হইতে অস্থিরতা, অক্ষুধা, মাথাব্যথা, উদ্যমহীনতা, নিদ্রালুতা, প্রভৃতি কতকগুলি লক্ষণ উপস্থিত হয় । ইহাদিগকে পূর্বাভাস প্রদায়ক লক্ষণ ( Premonitory signs ) বলে । আক্রমণের অব্যবহিত পূর্বে শরীরের কোন স্থানে বিশেষ অনুভুতি দ্বারা রোগী আক্রমণের বা ফিটের সূচনা বুঝিতে পারে । ইহাকে অরা ( aura ) বলে । অঙ্গুলি বা অঙ্গ বিশেষের কম্পন ঝিন ঝিন করা, সূচীবিদ্ধবৎ অনুভুতি, নানাপ্রকার শব্দ শ্রবণ বা কম শোনা, বিকট গন্ধ, বিকৃত স্বাদ, ঝাপসা দৃষ্টি বা নানারূপ আলোক দর্শন, উদরে বা হৃৎপিণ্ডে অব্যক্ত যন্ত্রণা, বুক ধড়ফড়ানি, এক অঙ্গ নর্তন, মস্তক সঞ্চালন, বমন, শ্বাসকষ্ট, প্রভৃতি অরা রূপে প্রকাশ পায় । অরা প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগী প্রায়ই উচ্চ চিৎকার করিয়া ফিট হইয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ে ।

মৃগীজনিত ফিটের তিন অবস্থা দেখা যায় । যথা

( ক ) – টনিক স্প্যাজম বা টনিক ফেজ ( Tonic spasm or tonic phase ) মুখ, স্কন্ধদেশ ও চক্ষু হইতে আরম্ভ হইয়া সর্বশরীরের কাঠিন্য ও আড়ষ্ট ভাব উপস্থিত হয়, হস্তদ্বয় মুষ্টিবদ্ধ ও দ্বিভাঁজ ও পদদ্বয় প্রসারিত থাকে এবং মাথা পশ্চাদদিকে বাঁকিয়া সর্বশরীর ধনুকের ন্যায় আকার ধারণ করে ( opisthotonos ) ; শ্বাসযন্ত্রের পেশী সমূহের আক্ষেপ বশতঃ শ্বাস-প্রশ্বাস স্তদ্ধ হইয়া দেহ নীল বর্ণ ধারণ করে এবং চক্ষু উপর দিকে অথবা এক কোণে উঠিয়া যায় । এই অবস্থা এত সত্বর সংঘটিত হয় যে রোগী, কোন নিরাপদ স্থানে উপস্থিত হইয়া আত্মরক্ষা করিবার অবসর পায় না । ইহার কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই দ্বিতীয় অবস্থা উপস্থিত হয় ।

( খ ) ক্লোনিক স্প্যাজম বা ক্লোনিক ফেজ ( Clonic spasm or clonic phase ) টনিক ফেজের কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই পেশীসমূহের প্লথন ( Relaxation ) উপস্থিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র পেশীচক্রে খিঁচুনি ( cramps ) আরম্ভ হয় । মুখের পেশীর আক্ষেপ হইতে থাকে, চক্ষুগোলক ঘুরিতে থাকে, চোখের পাতা ঘন ঘন মুদ্রিত ও উম্মিলিত হইতে থাকে, চোয়ালের খিঁচুনি হইয়া মুখ বীভৎস দেখায় ও দাঁত ঠকঠক করে । ( এই সময় জিহ্বা কাটিয়া যাইতে পারে ) । হাতপা জোরে ছুঁড়িতে থাকে এবং সমগ্র শরীর ভীষণভাবে মোচড় খাইতে থাকে । মুখ দিয়া ফেনা নির্গত হয় এবং কখনো তাহা রক্তমিশ্রিত হয় । অসাড়ে মলমুত্র নিঃসরণ হয় । এইরূপ কয়েক মিনিট চলিবার পর ধীরে ধীরে আক্ষেপ হ্রাস প্রাপ্ত হয় এবং দীর্ঘ ঘড়ঘড়ানি শ্বাস লইয়া রোগী স্থির হইয়া পড়ে ও তৃতীয় অবস্থা উপস্থিত হয়।

( গ ) – কোমা বা অজ্ঞান অবস্থা ( Comatic phase ) ক্লোনিক ফেজের পর হাত পা শিথিল হয়, মুখের বর্ণ স্বাভাবিক হয় এবং রোগী অবসন্ন হইয়া গভীর নিদ্রাভিভুত হয় । ডাকিলেই তাহার সাড়া পাওয়া যায়, কিন্তু না ডাকিলে, কিছুক্ষণ শান্তভাবে নিদ্রা যায় । গুরুতর আক্রমণের ফলে নানাস্থানে রক্ত জমিতে (ecchymoses ) দেখা যায়, অস্থিভঙ্গ (fracture) বা সন্ধির স্থানচ্যুতি (dislocation) হইতে পারে

ষ্টেটাস এপিলেপ্টিকাস ( status epilepticus ) – কখনো কখনো স্বল্প বিরাম সহ ক্রমাগত ফিট হইতে থাকে – রোগী জ্ঞান লাভ করিবার সুযোগ পায় না । নাড়ী ও শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়, গাত্রতাপ প্রায়ই অস্বাভাবিক রূপে এমন কি ১০৮ ডিগ্রি কিংবা ততোধিক বৃদ্ধি পায় এবং রোগী নিতান্ত অবসন্ন হইয়া পড়ে । এই অবস্থায় মৃত্যু হইতে পারে ।

পোস্ট- এপিলেপ্টিক ফেজ ( post-epileptic phase্ ফিট ও কোমার পরে নিদ্রাভঙ্গে মাথাব্যথা, বমন, অবসন্নতা ও নিস্তেজতা এবং কখনও কখনও আক্রান্ত পেশীসমূহের আড়ষ্টতা বোধ হয় । কেহ কেহ অসংলগ্ন ভাবে উম্মাদের ন্যায় আচরণ করিতে থাকে । সুস্থ হইলে এ সকল বিষয়ের কথা রোগীর স্মরণ থাকে না ।

জ্যাকসোনিয়ান এপিলেপ্সী ( Jacksonian epilepsy ) শরীরের যে কোন স্থানের পেশী হইতে আক্ষেপ আরম্ভ

হইয়া তৎস্থানে সীমাবদ্ধ ( Localised ) থাকে, অথবা সর্বশরীর বিস্তৃত হয়, ইহাতে সাধারণতঃ জ্ঞানহারা হয় না।

রোগের কুফল – দীর্ঘকাল ধরিয়া মধ্যে মধ্যে আক্রমণ হইতে থাকিলে অবশেষে মানসিক বিপর্যয় ( Dementia ) দেখা দিতে পারে।

রোগের পার্থক্য নির্ণয় ( Differential diagnosis ) – টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার রোগে রোগী আদৌ জ্ঞানহারা হয় না এবং আক্ষেপের বিভিন্ন অবস্থা ( phase ) থাকে না, টনিক স্প্যাজমই ইহার বিশেষত্ব।

হিষ্টিরিয়া

ইহার প্রতি আক্রমণ প্রায়ই দীর্ঘকালস্থায়ী হয় এবং মৃগীর ন্যায় ঘুমের মধ্যে কোন আক্রমণ হয় না, অথবা রোগী আত্মরক্ষা করিবার কোন চেষ্টা না করিয়া হঠাৎ অসহায় ভাবে যেখানে সেখানে জ্ঞানহারা হইয়া পড়িয়া গিয়া আহত হয় না । ক্লোনিক স্প্যাজম, নানা ভঙ্গীতে হাত পা ছোঁড়া ও ফিট হইবার পরে চিৎকার, হিষ্টিরিয়ার বৈশিষ্ট্য। রোগী বাধা পাইলে বলপ্রকাশ করে এবং আপন জিহ্বা দংশন করে না, বরং অপরকে কামড় দিতে পারে ; অসাড়ে মলমুত্র ত্যাগ করে না, ফিটের পর কোমা উপস্থিত হয় না এবং গাত্রতাপ প্রায়ই স্বাভাবিক বা নর্মাল থাকে।

ভাবী ফল – পেটিট মাল বয়োবৃদ্ধি হইলে প্রায়ই আরোগ্য হয় । গ্র্যান্ডমালে সুচিকিৎসায় রোগাক্রমণের ব্যবধান দীর্ঘতর এবং আক্রমণ স্বল্পতর ক্ষণস্থায়ী হইলেও সম্পূর্ণ আরোগ্য সন্দেহস্থল । জলে, অগ্নিতে বা উচ্চস্থান হইতে পড়িয়া না গেলে ইহাতে মৃত্যু হয় না । কিন্তু অধিককাল স্থায়ী হইলে মানসিক অবসাদ ঘটিতে পারে ।

চিকিৎসা

সাধারণ স্বাস্থ্যোন্নতির জন্য পুষ্টিকর আহার ও বায়ু পরিবর্তন বিধেয় । রোগী নিয়মিত কার্যাদি করিতে পারে, তবে সাতার কাটা, গাড়ী চালানো, সাইকেল চড়া, উচ্চস্থানে কাজ করা বা শিশুদের অধিক পড়াশুনা করা আদৌ উচিৎ নহে । মদ্যাদি সর্বদা বর্জনীয় । কেহ কেহ বিবাহ নিষেধ করেন, কিন্তু তাহার বিশেষ প্রয়োজন মনে হয় না । ফিট হইলে রোগীকে উপযুক্ত স্থানে আনয়ন করিয়া তাহার পরিধেয় বস্ত্রাদি ঢিলা করিয়া দাঁতের মধ্যে একটি প্যাড প্রবেশ করাইয়া দিতে হয় । চোখে মুখে শীতল জলের ঝাপটা ও মাথায় জল ঢালা বিধেয় । রোগীকে চাপিয়া ধরা উচিৎ নয় । স্মেলিং সল্ট অথবা কয়েক বিন্দু ক্লোরোফরম অথবা এমিল নাইট্রেট – মুল অরিষ্ট ঘ্রান করাইলে শীঘ্র জ্ঞান ফিরিয়া আসে

মৃগী রোগীর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব‍্যবহৃত সদৃশ ঔষধ নির্বাচন গাইড

অ্যাবসিন্থিয়াম

ইহাতে মৃগীজনিত ফিট-এর পূর্ণ ছবি পাওয়া যায় । আক্রমণের পূর্বে সর্বশরীর কাঁপিতে থাকে ও নানাপ্রকার কাল্পনিক মূর্তি দেখিতে পায় । ফিট হইলে মুখাবয়ব লাল হয়, মুখের পেশীর আক্ষেপ হয়, জিহ্বা দংশন করে, এবং চক্ষুতারকা অসমানভাবে বিস্ফারিত হয় । ফিটের পর রোগী বিহ্বল হইয়া থাকে । ইহা মৃগীজনিত মাথা ঘোরা বা ক্ষণস্থায়ী অজ্ঞানতায় উপযোগী । আক্ষেপকালে অতিশয় অস্থিরতা ।

আর্টিমিসিয়া ভাগ্লারিস

ইহা ভয় বা মানসিক উত্তেজনা অথবা হস্তমৈথুন জনিত রোগের আক্রমণে উপযোগী । ইহা অরা বিহীন পেটিট মালের বিশিষ্ট ঔষধ । রোগী মাত্র কয়েক সেকেন্ড অজ্ঞান হইয়া থাকিবার পর সুস্থ হয়, যেন কিছুই ঘটে নাই । কখনও বা ঘন ঘন ফিট হইতে থাকে ( সিকেলি ) ।

আর্জেন্টাম মেট

আক্রমণের পর রোগী বিকারসহ অত্যধিক ক্রোধ প্রকাশ করিলে ইহা ফলপ্রদ, রোগী চতুর্দিকে লাফাইতে থাকে ও নিকটে কেহ থাকিলে তাহাকে প্রহার করে ।

আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম

ভয় পাইয়া অথবা মাসিক ঋতুসহ মৃগীর আক্রমণ ইহার বিশেষত্ব । আক্রমণের পূর্ব হইতেই চক্ষুতারকা বিস্তৃত হয় । ফিটের পর অত্যধিক অস্থিরতা প্রকাশ পায় ও হস্তদ্বয় কাঁপিতে থাকে । রোগীর মন অত্যন্ত দুর্বল, সহজেই ভয় পায় ও হতাশ হয় ।

আর্সেনিক এল্বাম আক্রমণের পূর্বে মাথা ঘোরে ও মাথার পিছনে তীব্র যন্ত্রণা হয়, কখনও বা উত্তপ্ত বায়ু মেরুদণ্ড বাহিয়া মাথায় উঠিতেছে বলিয়া মনে হয় । রোগী অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া যায় ও প্রবল আক্ষেপ হইয়া তাহার সর্বশরীর মোচড়াইতে থাকে । আক্ষেপের পর তন্দ্রাভিভুত হয়, কিন্তু তন্মধ্যেও অত্যধিক অস্থিরতা প্রকাশ পায় । ফিটের পরে বিহ্বল হইয়া থাকে ।

বেলেডোনা

মৃগী রোগের তরুণ আক্রমণ ইহা দ্বারা সহজেই প্রশমিত হয় এবং কখনও বা রোগারোগ্যও হইয়া থাকে । ইহা বিশেষতঃ তরুণদিগের পক্ষেই উপযোগী । আক্রমণের পূর্বে ও সময়ে মুখমণ্ডলের আরক্তিমতা, কেরটিড ধমনীর উপ্লস্ফন, প্রভৃতি মস্তিস্কে রক্তাধিক্যের লক্ষণাদি প্রকাশ পায় । আক্রমণের পূর্বে মনে হয় যেন প্রত্যঙ্গাদি বাহিয়া মূষিক দৌড়াইতেছে বা পাকস্থলী হইতে উত্তাপ উঠিতেছে । অলীক শ্রবণ ও দর্শন হয় । ফিট হইলে বাহু হইতে আক্ষেপ আরম্ভ হইয়া চোখ মুখে বিস্তৃত হইয়া পড়ে । সুস্থকালে স্নায়বিক উত্তেজনাবশতঃ সহজেই নিদ্রায় ব্যাঘাত, নিদ্রা-মধ্যে চমকিয়া ওঠা, পেশীগুলির নর্তন ও কম্পন, প্রভৃতি বর্তমান থাকিলে ইহা অধিকতর উপযোগী । কখনও বা রোগী অত্যধিক ক্রোধ প্রকাশ ও রাগারাগি করে । কেহ কেহ ইহার পরিবর্তে এট্রোপিন ব্যবহার করেন ।

বিউফো রানা

ভয়, অত্যধিক ইন্দ্রিয় সেবা এবং বিশেষতঃ হস্ত-মৈথুন জনিত এপিলেন্সী । রোগী হস্তমৈথুন করিবার জন্য গুপ্তস্থান অনুসন্ধান করে । ইহার অরা জননেন্দ্রিয় অথবা সোলার প্লেক্সাস হইতে আরম্ভ হয় এবং কখনও কখনও হস্তমৈথুন বা স্ত্রী সহবাস করিতে করিতেই আক্ষেপ আরম্ভ হয় । আক্ষেপের পূর্বে রোগী অসংলগ্ন কথা বলিতে থাকে এবং তাহা বুঝিতে না পারিলে বিরক্ত হয় । আক্ষেপ হইলে ঊর্ধ্বাঙ্গ হইতে নিম্নাঙ্গ অধিক বিক্ষিপ্ত হয় এবং মুখমণ্ডলে প্রভূত ঘর্ম হয় । ফিটের পর রোগী গভীর নিদ্রাভিভুত হইয়া পড়ে ।

ক্যাল্কেরিয়া কার্ব

ভয়, অত্যধিক স্ত্রীসঙ্গম অথবা পুরাতন চর্মরোগ লুপ্ত হইয়া মৃগী রোগে, বিশেষতঃ পূর্ণিমা তিথিতে, বিরক্তি, অথবা শীতল জল পান বা বসিয়া পা দোলাইয়া আক্রমণের সূচনা হইলে ইহা উপযোগী । ইহার অরা উদরমধ্যস্থ স্নায়ুমণ্ডলী বা সোলার প্লেক্সস হইতে আরম্ভ হইয়া আক্ষেপের সূচনা হয় ( নাক্স, বিউফো, সাইলি ); কখনও মনে হয় যেন হাত বাহিয়া মূষিক উঠিতেছে ( বেলেডোনা, সালফার ); অরা উদরমধ্য হইতে জরায়ু বা হস্ত পদাদিতে উপস্থিত হয় । ক্যাল্কেরিয়া ধাতুগত মৃগীরোগপ্রবন, এজন্য মৃগীরোগের মূলোৎপাটন করিবার জন্য ইহা বিশেষ উপযোগী । ইহা সালফারের আরম্ভ কার্য সম্পূর্ণ করিয়া

থাকে।

কষ্টিকাম

পেটিট মালে ইহা বিশেষ উপযোগী । রোগী চলিতে চলিতে হঠাৎ অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া যায় । যুবক বয়সে রোগের উৎপত্তি ও পূর্ণিমা তিথিতে আক্রমণ এবং অধিকাংশ সময়ে ঋতুর গোলমাল ইহার বৈশিষ্ট্য । এ ক্ষেত্রে ইহা ক্যাল্কেরিয়ার সমধর্মী ; কিন্তু ক্যাল্কেরিয়ায় শীতল জল পানে রোগের আক্রমণ হয় – কষ্টিকামে শীতল জল পানে আক্রমণ প্রতিরুদ্ধ হয় । রোগী অজ্ঞান অবস্থায় প্রস্রাব করে । আক্ষেপ কালে, পূর্বে বা পরে হাস্য করে । ( মাসিক ঋতুর নিকটবর্তী সময়ে বা তৎসহ মৃগীর ফিট – সিমিসি ; ঋতুরোধবশতঃ বা অত্যধিক বেদনাযুক্ত ঋতুসহ – ককিউলাস, জেলস )।

সাইকিউটা ভিরোসা

ইহাতে অজ্ঞান হইয়া রোগীর সর্বশরীর হঠাৎ কঠিন হয়, চক্ষু স্থির, মুখাবয়ব নিলাভ এবং মুখে ফেনা কাটে । তৎপর মস্তক হইতে সর্বশরীর প্রবলভাবে পুনঃপুনঃ ঝাঁকি দিতে থাকে, চোয়াল আটকাইয়া যায়, জিহ্বা কাটিয়া যায়, অপিস্থোটোনস হয়, হস্তপদাদি ভীষণভাবে মোচড়াইতে থাকে এবং রোগী অত্যন্ত অবসন্ন হইয়া পড়ে । ফিটের পর অত্যধিক অবসন্নতায় চিনি আর্স ইহার সমতুল্য । সামান্য স্পর্শেই টনিক স্প্যাজম বৃদ্ধি ( ষ্ট্রিকনিয়া, কিন্তু ইহাতে অজ্ঞানতা থাকে না )।

কুপ্রাম মেট

হাম, বিসর্প, প্রভৃতির উদ্ভেদ বসিয়া গিয়া বা দন্তোদ্গমকালে মৃগীর ফিট আরম্ভ হইলে ইহা উপযোগী । প্রচণ্ডভাবে আক্ষেপ হইতে থাকে, মুখমণ্ডল ও ওষ্ঠ নিলাভ হয়, চক্ষুদ্বয় ঘূর্ণায়মান ও মুখ হইতে ফেনা বাহির হয় । বিকারের প্রচণ্ডতায় ইহা বেলেডোনার সমতুল্য । উদর হইতে অরা আরম্ভ হয় এবং অজ্ঞান হইবার পূর্বে রোগী হস্ত ও পদাঙ্গুলির আক্ষেপ লক্ষ্য করিতে থাকে ; তৎপর সহসা তীব্র চীৎকার করিয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ে এবং তাহার ফ্লেক্সার পেশীর প্রচণ্ড আক্ষেপ হইতে থাকে । তৎকালে তাহার বৃদ্ধাঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ থাকে ও দাঁত কড়মড় করে । ইহাতে ফিট দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ফিটের পর রোগী গভীর নিদ্রাভিভূত হইয়া পড়ে । রাত্রে নিদ্রাকালে ও বিশেষতঃ নির্দিষ্ট সময়ান্তর বা প্রতি ঋতুকালে ফিট হয় । কেহ কেহ ইহাতে মৃগীরোগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔষধ বলিয়া মনে করেন ।

হাইড্রোসায়েনিক অ্যাসিড

ডাঃ হিউজেস ইহাকে মৃগীরোগের অমোঘ বা স্পেসিফিক ঔষধ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন এবং ডাঃ ডিউই ইহার যথেষ্ট প্রশংসা করিয়াছেন। ইহাতে মৃগী রোগের অধিকাংশ লক্ষণাবলীই পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। ফিটের পর রোগী অত্যধিক অবসন্ন ও নিদ্রালু হইয়া পড়ে। ডাঃ ফ্যারিংটনের মতে ইহা আক্রমণকালের একটি বিশিষ্ট ঔষধ।

হায়োসিয়ামাস

হিংসা, নিরাশ প্রেম, দুঃখ বা অত্যধিক ভয়জনিত মৃগীরোগ । বস্তুত ইহা মৃগীরোগের একটি বিশেষ নির্ভরযোগ্য ঔষধ । পূর্ব হইতে শরীরের পেশীর নর্তন ( Jerking and twitching ) ও অত্যধিক ক্ষুধা বোধ হয় । তড়কা উপস্থিত হইলেও পেশীর নর্তন সমভাবে চলিতে থাকে । রোগী চীৎকার করে, তাহার মুখমণ্ডল নীলাভ হয় ও দাঁত কড়মড় করে । তাহার মুখ হইতে ফেনা বাহির ও অসাড়ে মুত্রত্যাগ হয় । ফিট শেষ হইলে নাসিকাধ্বনিসহ গভীর নিদ্রাভুত হয় । জল পান করিবার চেষ্টা করিলেই পুনরাক্রমন ঘটে।

ইগ্নেসিয়া

ভয় বা রুদ্ধ শোকবশতঃ মৃগীবৎ আক্ষেপ । তিরস্কৃত হইবার পর শিশুর আক্ষেপ।

ইণ্ডিগো


অন্ত্রমধ্যে কৃমির উত্তেজনাবশতঃ মৃগীর ন্যায় আক্ষেপ । গুহ্যদ্বার ভীষণভাবে চুলকায় বলিয়া রাত্রে শিশুর নিদ্রা ভঙ্গ হয় অত্যধিক বিমর্ষ ও বিষণ্ণ ( বিউফো ও নাক্স – উগ্র ও খিটখিটে ) । এই অধিকারে ষ্ট্যানামও উল্লেখযোগ্য।

নাক্স ভমিকা

পরিপাকক্রিয়ার ব্যাঘাতজনিত রোগ, বিশেষতঃ যদি সোলার প্লেক্সাস হইতে আবির্ভাব হয় । উক্তস্থানে বেদনা বোধ হয় এবং তথায় চাপ দিলে পুনরাক্রমন ঘটে। কখনও বা মুখের উপর দিয়া পিপীলিকা চলিয়া বেড়াইতেছে এরূপ অনুভুতি । খিটখিটে ও উগ্র মেজাজ ; কোষ্ঠবদ্ধতা; প্রাতঃকালে শিরঃপীড়া ; অক্ষুধা ।

ইনাস্থি ক্রোকেটা

রোগী হঠাৎ গভীর অজ্ঞান হইয়া পড়ে ও তাহার চোয়াল আটকাইয়া যায় এবং হস্তপদাদি শীতল হয় ; মুখমণ্ডল স্ফীত ও নীলাভ এবং চক্ষুতারকা বিস্ফারিত ও অসমান হয় । মৃগীরোগে ডাঃ ডিউই, টেলকট, ডেভিডসন, প্রভৃতি শতমুখে ইহার প্রশংসা করিয়াছেন।

প্লাম্বাম মেট

আক্রমণের পূর্ব হইতেই পদদ্বয় পক্ষাঘাতবৎ ভারী বোধ হয় । ফিটের পর পক্ষাঘাত বর্তমান থাকে ও নাসিকাধ্বনিসহ গভীর নিদ্রা হয় । সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ হইতে বিলম্ব হয় । সেরিব্রাল স্ক্রেরোসিস বা টিউমারজনিত মৃগীরোগে ইহা বিশেষ কার্যকরী এবং মধ্যে মধ্যে উদর বেদনা ও দুর্দম্য কোষ্ঠকাঠিন্য ইহার বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

সাইলিসিয়া


ইহা মৃগীরোগের একটি বিশিষ্ট ঔষধ এবং স্ক্রুফুলা ও রিকেট ধাতুগ্রস্তদিগের পক্ষে বিশেষ উপযোগী । একাদশী, অমাবস্যা, প্রভৃতি তিথিতে এবং প্রায়ই রাত্রিকালে আক্রমণ হয় । মানসিক পরিশ্রম বা আবেগ ফিটের প্রবণতা বৃদ্ধি করে । সোলার প্লেক্সাস হইতে অরার আবির্ভাব হয় এবং বাম শরীরার্ধ অত্যধিক শীতল বোধ হয় । রোগী উৎকট চীৎকার করে গোঁ গোঁ শব্দ করে । তাহার চক্ষু হইতে জল পড়ে, মুখ হইতে ফেনা নির্গত হয় । ফিটের পর শরীর উষ্ণ ঘর্মাপ্লুত হয় এবং রোগী ঘুমাইয়া পড়ে । ইহা প্রায়ই ক্যাল্কেরিয়ার পর নির্দিষ্ট হয় । আক্রমণের পূর্বে বাম অঙ্গের শীতলতা ইহার বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

ষ্ট্যানাম মেট

অন্ত্রমধ্যে ক্রিমিজনিত বা জননেন্দ্রিয়সংশ্লিষ্ট মৃগীরোগে ব্যবহার্য। রোগীর মুখমণ্ডল মলিন; মধ্যে মধ্যে শূলবেদনা হয় এবং চলিয়া বেড়াইলে বা জোরে চাপ দিলে উপশম হয়। জিহ্বা হলুদবর্ণের লেপাবৃত; অত্যধিক দুর্বলতা।

ষ্ট্রামোনিয়াম

ভয়জনিত মৃগীরোগ ; রোগী সহসা অজ্ঞান হইয়া পড়ে ও ক্রমাগত মাথা ঝাঁকি দিয়া দক্ষিণ এবং বাম হস্ত চক্রাকারে ঘুরাইতে থাকে । রোগী আলোকে থাকিতে চায়, তাহার অন্ধকারে ভয় করে। বেলেডোনা ইহার বিপরীত

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে মৃগী রোগীর সদৃশ ঔষধ নির্বাচন:

epileptiform : Acon., aeth., Agar., alum., am-c., anac., ant-c., ant-t., arg-m., Arg-n., arn., ars., asaf., aur., Bell., bry., bufo., calc-s., Calc., camph., canth., carb-s., Caust., cedr., cham., chin., Cic., Cina., cocc., coloc., con., Cupr., cur., dig., dros., dulc., ferr-ar., ferr., gels., Glon., hell., Hyos., hyper., ign., iod., ip., kali-br., kali-c., kali-s., lach., laur., led., lyc., mag-c., med., merc., mosch., mur-ac., nat-m., nit-ac., nux-m., nux-v., oena., op., petr., ph-ac., phos., plat., Plb., psor., puls., ran-b., ran-s., rhus-t., ruta., sec., sep., sil., stann., staph., Stram., stry., Sulph., tarax., tarent., teucr., thuj., valer., verat-v., verat., Visc., zinc.

errors in diet : Cic.

eructations amel. : Kali-c.

eruptions fail to break out, when : Ant-t., Cupr., Zinc.



exanthemata repelled or do not appear, when : Ant-t., bry., camph., cupr., gels., ip., stram., sulph., Z

উপসংহার

মৃগী রোগী যখন-তখন জ্ঞান হারাতে পারে। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য তার মানসিক বিভ্রম হতে পারে। তাই এ সময়টুকু রোগীর পাশে থেকে তাকে আশ্বস্ত করা উচিৎ। পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সক্ষম অবস্থায় আসার আগ পর্যন্ত রোগীকে ছেড়ে যাওয়া ঠিক নয়। রোগীর আশে-পাশের লোকদের জন্য এটা নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য।

মৃগী রোগী দূরে কোথাও গেলে তার উচিৎ সাথে পরিচয়পত্র ও পরিচিতদের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করা। কারণ রাস্তা-ঘাটে যে কোন সময় বিপদে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনকে যেন জানানো যায়।

মৃগী রোগীদেরকে অনেক সাবধানে চলতে হয়। মৃগী রোগীদের কিছু কাজ কোন অবস্থাতেই করা ঠিক নয়, যেমন-গোসল করতে পুকুরে বা নদীতে নামা, আগুনের পাশে যাওয়া, গাছে বা ছাদে উঠা ইত্যাদি। একজন উপযুক্ত সাহায্যকারী সাথে থাকলেও তার সদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

খিঁচুনি আক্রান্ত অবস্থায় রোগীকে সরানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। স্বাভাবিকভাবেই খিঁচুনি শেষ হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। খিচুনী বন্ধ করার জন্য রোগীকে চেপে ধরা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। রোগীর মুখে জোর করে আঙ্গুল বা অন্য কিছু ঢুকানোর চেষ্টা করা যাবে না। রোগীর জিহবায় দাত দিয়ে কামড় লাগলেও খিঁচুনিরত অবস্থায় তা ছাড়ানোর জন্য কোন রকমের জোরাজুরি করা উচিৎ নয়।

মৃগী রোগীদেরকে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। খিঁচুনি উঠলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে।


লেখক 
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার,
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম।
ইভা হোমিও হল, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,
 এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
মোবাইল নাম্বার 01716651488

শুক্রবার, জুলাই ৩১, ২০২৬

নাকের হাড় বাঁকা এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

 Deviated Nasal Septum (DNS) – নাকের হাড় বাঁকা ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

নাকের মাঝের দেয়াল (Septum) একদিকে বেঁকে গেলে তাকে DNS বলা হয়। এটি দীর্ঘদিনের নাক বন্ধ, সাইনাস ও শ্বাসকষ্টের অন্যতম কারণ।


🔍 প্রধান লক্ষণসমূহ-
▪️ এক পাশের নাক বেশি বন্ধ
▪️ শ্বাস নিতে কষ্ট
▪️ ঘন ঘন সর্দি/সাইনাস
▪️ নাক ডাকা (Snoring)
▪️ মাথাব্যথা

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও নির্বাচন লক্ষণ-

🔹 Lemna minor
▪️ DNS + Nasal polyp
▪️ দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
▪️ সাইনাসে ব্লকেজ

🔹 Teucrium marum verum
▪️ নাকে পলিপ + itching
▪️ ঘ্রাণ শক্তি কমে যায়
▪️ মনে হয় নাকে কিছু আটকে আছে

🔹 Kali bichromicum
▪️ ঘন, আঠালো (stringy) স্রাব
▪️ কপালে সাইনাস ব্যথা
▪️ নাক বন্ধ ও ভারী ভাব

🔹 Nux vomica
▪️ রাতে নাক বেশি বন্ধ
▪️ ঠান্ডায় সমস্যা বাড়ে
▪️ Irritable temperament + constipation

🔹 Silicea
▪️ Chronic sinus সমস্যা
▪️ ঠান্ডা সহ্য হয় না
▪️ দুর্বলতা + পা ঘাম

🔹 Arnica montana
▪️ আঘাতের পর DNS
▪️ নাকে ব্যথা, স্পর্শে ভয়
▪️ গরম ভাপে আরাম

👉 Deep Acting & Constitutional Remedies

🔹 Alumina
▪️ নাক শুষ্ক, crust formation
▪️ স্রাব কম, blockage বেশি
▪️ কোষ্ঠকাঠিন্য (soft stool হলেও কষ্ট)

🔹 Lycopodium
▪️ ডান পাশের নাক বেশি বন্ধ
▪️ বিকেল ৪–৮টার মধ্যে aggravation
▪️ গ্যাস, পেট ফাঁপা

🔹 Causticum
▪️ ঠান্ডা বাতাসে নাক বন্ধ
▪️ chronic catarrh + কণ্ঠ ভাঙ্গা
▪️ emotional, ন্যায়বোধ প্রবল

🔹 Mercurius solubilis
▪️ দুর্গন্ধযুক্ত ঘন স্রাব
▪️ রাতে বাড়ে
▪️ লালা বেশি, মুখে দুর্গন্ধ

🔹 Ruta graveolens
▪️ আঘাত/strain-এর পর DNS
▪️ নাকের হাড়ে ব্যথা
▪️ periosteal involvement

🔹 Staphysagria
▪️ অপারেশন/ইনজুরির পর সমস্যা
▪️ suppressed anger
▪️ সংবেদনশীল, অপমান সহ্য করতে পারে না

🔹 Sulphur
▪️ chronic nasal সমস্যা
▪️ জ্বালাপোড়া, গরমে কষ্ট
▪️ সকালে aggravation

🔹 Phosphorus
▪️ নাক দিয়ে রক্ত পড়া
▪️ ঠান্ডা পানীয় পছন্দ
▪️ দুর্বলতা, companionship desire

🔹 Conium maculatum
▪️ ধীরে ধীরে obstruction বাড়ে
▪️ glandular enlargement
▪️ বয়স্কদের chronic blockage

🔹 Acid Fluoricum
▪️ tissue degeneration
▪️ দীর্ঘদিনের destructive change
▪️ গরমে ভালো

🔹 Calcarea carbonica
▪️ স্থূল, মাথায় ঘাম
▪️ ঠান্ডা সহ্য হয় না
▪️ সহজে সর্দি লাগে

🔹 Calcarea fluorica
▪️ bone deformity
▪️ hard /induration
▪️ দীর্ঘদিনের structural defect


✔️ শুধুমাত্র লোকাল লক্ষণ নয়—Totality of Symptoms অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন জরুরি
✔️ Polyp, Sinusitis, Catarrh থাকলে remedy পরিবর্তন হতে পারে
✔️ Severe ক্ষেত্রে Septoplasty প্রয়োজন হতে পারে

লেখক -
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম 


সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

Nails / নখের রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala


নখের বিভিন্ন রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 


 হাতে-পায়ের নখের সমস্ত রকমের সমস্যায় লক্ষণভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ

নখ ভেঙে যাওয়া, খসে যাওয়া, পাতলা হয়ে যাওয়া, মোটা হয়ে যাওয়া, নখে খাঁজ পড়া, নখের চারপাশে প্রদাহ, ইনগ্রোন নখ বা নখের বিকৃতি—এসব সমস্যায় হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ বিচার করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।

সাইলেসিয়া/ Silicea

- নখ ভঙ্গুর ও সহজে ভেঙে যায়।
- নখের বৃদ্ধি ধীর।
- দীর্ঘদিনের দুর্বল ও বিকৃত নখে বিবেচিত।

গ্রাফাইটিস/ Graphites

- নখ মোটা, রুক্ষ ও ফেটে যায়।
- নখের চারপাশে ফাটল ও শুষ্কতা।
- একজিমা-প্রবণ রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচিত।

ক্যালকেরিয়া ফ্লোর/ Calcarea fluorica

- শক্ত কিন্তু সহজে ফেটে যাওয়া নখ।
- নখের স্থিতিস্থাপকতা কমে গেলে বিবেচিত।

ক্যালকেরিয়া ফস/ Calcarea phosphorica

- পাতলা, দুর্বল ও সহজে ভেঙে যাওয়া নখ।
- বৃদ্ধি-সংক্রান্ত দুর্বলতার ক্ষেত্রে লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচিত।

এন্টিম ক্রুড/ Antimonium crudum

- মোটা, শক্ত ও বিকৃত নখ।
- নখের নিচে শক্ত চামড়া জমলে বিবেচিত।

থুজা অক্সিডেন্টালিস/ Thuja occidentalis

- খাঁজযুক্ত, বিকৃত বা অস্বাভাবিক আকৃতির নখ।
- আঁচিলের প্রবণতা থাকলে লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচিত।

এসিড নাইট্রিক/ Nitric acid

- নখের কোণে তীব্র ব্যথা।
- ইনগ্রোন নখে লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচিত।

আর্সেনিক এল্বাম/ Arsenicum album

- নখের সঙ্গে জ্বালা, ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের উপসর্গ থাকলে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচিত।

সোরিনাম/ Psorinum

- দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর ও বিকৃত নখে রোগীর সামগ্রিক উপসর্গ মিললে বিবেচিত।

🎗️এই লেখাটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও নবীন হোমিওপ্যাথদের জন্য উপস্থাপিত। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং প্রয়োজনে পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে অভিজ্ঞ নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন করা উচিত। নখে ছত্রাক, তীব্র ব্যথা, পুঁজ, বা কালো দাগ থাকলে যথাযথ চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি। লেখাটি পড়ে নিজের চিকিৎসা নিজে করবেন না।


লেখক -
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম 
ইভা হোমিও হল, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার 01716651488

বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬

হামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

Measles (হাম) এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


আজ সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী ৩০০ এর বেশি মৃত্যু! অথচ ৩০ জন মৃত্যুর পর সবাইকে সচেতন করতে চেষ্টা করেছি কেউ গুরুত্ব দেয়নি! হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে সম্পৃক্ত করে জরুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা জরুরি মনে করছি।

⚕️ হাম একটি ভাইরাল রোগ। সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষণ দেখে ঔষধ নির্বাচন করলে জটিলতা অনেকটাই কমানো যায়। নিচে সহজভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধগুলো তুলে ধরা হলে-

 ১. রোগের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ 

Aconitum Napellus
হঠাৎ জ্বর, ভয়, অস্থিরতা

Gelsemium Sempervirens
ঝিমুনি, শরীর দুর্বল, চোখ ভারী

Ferrum Phosphoricum
হালকা জ্বর, রোগের একেবারে শুরু

 ২. জ্বর বেশি হলে

Belladonna
উচ্চ জ্বর, চোখ লাল, মাথা গরম

 ৩. র‍্যাশ ঠিকমতো না এলে

Pulsatilla Nigricans
র‍্যাশ দেরিতে আসে, রোগী কান্নাকাটি করে

Sulphur
র‍্যাশ বের হতে চায় না, শরীরে জ্বালাপোড়া

Apis Mellifica
ত্বক ফুলে যায়, জ্বালা করে

 ৪. চোখের সমস্যা হলে

Euphrasia Officinalis
চোখ দিয়ে পানি পড়ে, আলো সহ্য হয় না

৫. কাশি বা বুকের সমস্যা হলে

Bryonia Alba
শুকনো কাশি, নড়াচড়ায় কষ্ট

Antimonium Tartaricum
বুকে কফ জমে, বের হতে কষ্ট

Ipecacuanha
কাশির সাথে বমি ভাব

 ৬. রোগ বেশি খারাপ হলে

Arsenicum Album
অস্থিরতা, দুর্বলতা, জ্বালাপোড়া

Rhus Toxicodendron
চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি

 ৭. বিশেষ লক্ষণ থাকলে

Zincum Metallicum
র‍্যাশ চাপা পড়ে, শরীর দুর্বল, পা নড়াতে থাকে

Cuprum Metallicum
র‍্যাশ না এলে খিঁচুনি হতে পারে

Morbillinum
বারবার হাম হওয়ার প্রবণতা

🩺 সহজে মনে রাখার টিপস 

শুরুর জ্বর: Aconite, Gelsemium
জ্বর বেশি: Belladonna
র‍্যাশ না এলে: Pulsatilla, Sulphur
চোখে সমস্যা: Euphrasia
বুকে কফ/কাশি: Bryonia, Antim tart, Ipecac
খুব দুর্বল হলে: Arsenicum

 হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ।
সময়মতো চিকিৎসা না করলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের জটিলতা হতে পারে।

শুধু ঔষধ নয়—
বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং রোগীর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ খুবই জরুরি।

 সব রোগীর জন্য একই ঔষধ নয়।
রোগীর লক্ষণ দেখে সঠিক ঔষধ নির্বাচনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম।
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার #৯ আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার 01716651488

শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬

হরমোন সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা


🩺 থাইরয়েডের সমস্যা ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের মেটাবলিজম, শক্তি উৎপাদন ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটলে তা ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষত হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই লক্ষণ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


থাইরয়েডের প্রধান লক্ষণসমূহ


⚕️Hypothyroidism (হরমোনের স্বল্পতা)
• অতিরিক্ত ক্লান্তি
• ওজন বৃদ্ধি
• ঠান্ডা বেশি লাগা
• কোষ্ঠকাঠিন্য
• চুল পড়া

⚕️Hyperthyroidism (হরমোনের আধিক্য)
• ওজন হ্রাস
• বুক ধড়ফড়
• হাত কাঁপা
• অতিরিক্ত ঘাম
• মানসিক অস্থিরতা

সাধারণ লক্ষণ
• গলায় ফুলে যাওয়া (Goiter)


হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও নির্বাচন লক্ষণ


(রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করা হয়)

Calcarea Carbonica
স্থূল গঠন, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মাথায় অতিরিক্ত ঘাম, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া

Sepia
হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা, মানসিক উদাসীনতা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, ঠান্ডা-গরমে সংবেদনশীলতা

Lycopodium Clavatum
পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডান পাশের সমস্যা, বিকালের দিকে উপসর্গ বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাসের অভাব

Natrum Muriaticum
মানসিক কষ্ট চেপে রাখা, মাথাব্যথা, চুল পড়া, লবণ গ্রহণের প্রবণতা

Iodium
অতিরিক্ত ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও ওজন হ্রাস, অস্থিরতা, উত্তেজনা; Hyperthyroidism-এ প্রযোজ্য

Thyroidinum
থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতার অসামঞ্জস্যতায় ব্যবহৃত; ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস উভয় ক্ষেত্রে বিবেচ্য

চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ
• নিয়মিত থাইরয়েড ফাংশন পরীক্ষা (TSH, T3, T4) করা প্রয়োজন
• স্ব-চিকিৎসা পরিহার করুন
• অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন
• সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

হোমিওপ্যাথির দৃষ্টিভঙ্গি
হোমিওপ্যাথি রোগ নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় চিকিৎসা প্রদান করে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী উপকার প্রদান করতে সক্ষম।

সতর্কতা
প্রতিটি রোগীর লক্ষণ ভিন্ন। তাই একক ঔষধ সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসাই সফলতার মূল ভিত্তি।

লেখক -
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 

 সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম।
ইভা হোমিও হল, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, বাইপাইল সাভার ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার 01716651488
ইমেইল ঠিকানা yeakubtangail@gmail.com 

বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬

আঁচিল/Warts এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা


🩺 Warts বা আঁচিল/ ভাইরাল আঁচিল (Viral Warts) এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (পূর্ণ Repertory Analysis সহ)


ত্বকের উপর ছোট, শক্ত, খসখসে বা ফুলকপির মতো যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায় তাকে আঁচিল (Warts) বলা হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে এটি Human Papilloma Virus (HPV) সংক্রমণের ফল। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার, পোড়ানো বা কেমিক্যাল ব্যবহারের পরও আঁচিল পুনরায় ফিরে আসে।

হোমিওপ্যাথিতে আমরা শুধুমাত্র আঁচিলের বাহ্যিক রূপ নয়, বরং রোগীর সম্পূর্ণ উপসর্গ, শারীরিক গঠন, মানসিক অবস্থা এবং মায়াজম বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করি। সঠিক ঔষধ প্রয়োগে অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই আঁচিল স্থায়ীভাবে নিরাময় সম্ভব।

Repertory Rubrics (Skin – Warts)
• Jagged / indented wart
• Pedunculated wart
• Cauliflower wart
• Flat wart
• Painful wart
• Genital wart

ভাইরাল আঁচিলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নিম্নরূপঃ

1. Thuja Occidentalis
   ফুলকপির মতো আঁচিল, গুচ্ছ আকারে, বিশেষ করে যৌনাঙ্গ বা মুখে।

2. Nitric Acid
   খাঁজকাটা, ব্যথাযুক্ত আঁচিল; স্পর্শ করলে সূচ ফোটার মতো ব্যথা; সহজে রক্তপাত।

3. Causticum
   মুখ, চোখের পাতা বা আঙুলে শক্ত, পুরনো আঁচিল।

4. Dulcamara
   আর্দ্র আবহাওয়ায় বৃদ্ধি পাওয়া বড় আঁচিল।

5. Antimonium Crudum
   মোটা, শক্ত এবং খসখসে আঁচিল।

6. Calcarea Carbonica
   স্থূল ও ঘামপ্রবণ ব্যক্তির ত্বকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা আঁচিল।

7. Lycopodium Clavatum
   ডান পাশের সমস্যা; গ্যাস ও হজমের সমস্যার সাথে আঁচিল।

8. Sepia Officinalis
   মহিলাদের হরমোনাল সমস্যার সাথে ত্বকে আঁচিল।

9. Sulphur
   দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যায় প্রবণ ব্যক্তির আঁচিল।

10. Graphites
    মোটা, শুষ্ক ও ফাটলযুক্ত ত্বকের সাথে আঁচিল।

11. Staphysagria
    কাটা বা অস্ত্রোপচারের পর পুনরায় আঁচিল হওয়া।

12. Sabina
    যৌনাঙ্গের আঁচিল।

13. Rhus Toxicodendron
    চুলকানিযুক্ত ও লালচে আঁচিল।

14. Natrum Muriaticum
    মুখমণ্ডলে ছোট আঁচিল।

15. Natrum Sulphuricum
    আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি।

16. Kali Bromatum
    মুখ ও শরীরে ছোট ছোট আঁচিল।

17. Kali Muriaticum
    ঘন ও শক্ত আঁচিল।

18. Medorrhinum
    Sycosis মায়াজমে প্রবণ রোগীর আঁচিল।

19. Ruta Graveolens
    হাতের তালু বা পায়ের তলায় আঁচিল।

20. Phosphoric Acid
    দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির পর ত্বকের সমস্যা।

21. Arsenicum Album
    জ্বালাপোড়া ও অস্থিরতার সাথে ত্বকের রোগ।

22. Silicea
    ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা শক্ত আঁচিল।

23. Baryta Carbonica
    বয়স্ক বা দুর্বল ব্যক্তির আঁচিল।

24. Tuberculinum
    বারবার ফিরে আসা ত্বকের সমস্যা।

25. Bacillinum
    ক্রনিক স্কিন প্রবণতায় ব্যবহৃত।

26. Sarsaparilla
    ত্বকের রুক্ষ ও শুষ্ক সমস্যায়।

27. Ammonium Muriaticum
    মোটা ত্বকের আঁচিল।

28. Petroleum
    শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের সাথে আঁচিল।

29. Hepar Sulphuris
    সংবেদনশীল ত্বকে বেদনাযুক্ত আঁচিল।

30. Acid Fluoricum
    বড় ও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া আঁচিল।

Repertory Analysis অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধসমূহ হলো—
Thuja Occidentalis
Nitric Acid
Causticum
Dulcamara
Antimonium Crudum

তবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধুমাত্র আঁচিলের রূপ দেখে ঔষধ নির্বাচন করা হয় না। রোগীর সম্পূর্ণ উপসর্গ, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক গঠন ও মায়াজমিক প্রবণতা বিচার করে সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা হয়।

সঠিক চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রে আঁচিল ধীরে ধীরে শুকিয়ে পড়ে যায় এবং পুনরায় ফিরে আসে না।

হোমিওপ্যাথি মূল কারণভিত্তিক, নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা পদ্ধতি।

✍️ ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার, সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
ইভা হোমিও হল, বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
01716651488

মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

ফাইলেরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা


📚 ফাইলেরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা -


✍️ ফাইলেরিয়া (Filariasis) একধরনের পরজীবীঘটিত রোগ যা সাধারণত মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি Wuchereria bancrofti, Brugia malayi, বা Brugia timori নামক ফাইলেরিয়াল ওয়র্ম দ্বারা হয়। এটি প্রধানত লসিকা (lymphatic) সিস্টেমকে আক্রান্ত করে এবং ধীরে ধীরে হাত, পা, যৌনাঙ্গ প্রভৃতিতে ফোলা (elephantiasis) সৃষ্টি করতে পারে।

🩺 ফাইলেরিয়ার লক্ষণসমূহ:

* পা, হাত, অণ্ডকোষ, স্তন ইত্যাদি অঙ্গের অস্বাভাবিক ফোলা
* উচ্চ জ্বর (প্রায়শই সন্ধ্যাবেলা বাড়ে)
* কাঁপুনি ও ঘাম
* লসিকা গ্রন্থির ব্যথা (Lymphadenitis)
* ত্বকে ঘা বা সংক্রমণ
* দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে ত্বকে মোটা ও শক্ত পরিবর্তন

⚕️  ফাইলেরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা-


হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে করা হয়। নিচে ফাইলেরিয়ার জন্য ব্যবহৃত কিছু সাধারণ হোমিও ঔষধ দেওয়া হলো:

🌿 1. Hydrocotyle Asiatica

* অতিরিক্ত লসিকাজনিত ফোলাভাব
* চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া
* হস্ত ও পায়ে elephantiasis টাইপ ফোলা

🌿 2. Arsenicum Album

* ত্বকে ঘা, পুঁজ পড়া বা জ্বালাভাব
* রোগী দুর্বল, অস্থির ও উদ্বিগ্ন
* রাতের বেলায় জ্বর ও ফোলা বাড়ে

🌿 3. Silicea

* দীর্ঘস্থায়ী ফোলা ও পুঁজ পড়া
* শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে কার্যকর
* ফিস্টুলা বা ঘা হলে উপকারী

🌿 4. Graphites

* মোটা, শুষ্ক, চামড়া সহ elephantiasis
* নির্গত তরলে আঠালো ভাব
* ত্বকে ফাটল, ফোড়া বা ঘা

🌿 5. Calcarea Fluorica

* কঠিন টিউমার টাইপ ফোলা
* চামড়া মোটা ও শক্ত
* ধীরে ধীরে হওয়া ফোলাভাব

 6. Thuja Occidentalis

* দীর্ঘস্থায়ী পরজীবী সংক্রমণে উপকারী
* লসিকা গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে
* অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেমানান ফোলা হলে

 📝 পরামর্শ-


* ফাইলেরিয়া অনেক সময়ে দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাই চিকিৎসা দীর্ঘদিন চলতে পারে।
* চিকিৎসা শুরুর আগে হোমিওপ্যাথিক অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার কামড় থেকে বাঁচা অত্যাবশ্যক।


✍️ ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার, 

সভাপতি বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম, ইভা হোমিও হল, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,
এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯, বাইপাইল, সাভার, ঢাকা। মোবাইল নাম্বার 01716-651488

সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬

দাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


 🩺 দাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Ringworm / Tinea Infection)


👉 দাদ কী?
দাদ একটি ছত্রাকজনিত সংক্রামক চর্মরোগ। এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে—ত্বক, মাথার তালু, কুঁচকি, নখ বা পায়ে—হতে পারে। দাদ দেখতে সাধারণত গোলাকার, মাঝখান তুলনামূলক পরিষ্কার ও চারপাশে লালচে উঁচু কিনারা যুক্ত হয়।
👉 দাদের প্রধান লক্ষণ
১. গোলাকার বা ডিম্বাকার লাল দাগ
২. তীব্র বা সহনীয় চুলকানি
৩. খোসা ওঠা বা শুষ্কতা
৪. ঘামলে বা রাতে চুলকানি বৃদ্ধি
৫. দীর্ঘদিন স্থায়ী ও বারবার ফিরে আসার প্রবণতা
📚 দাদের কারণ
* ছত্রাক সংক্রমণ
* অতিরিক্ত ঘাম
* অপরিচ্ছন্নতা
* অন্য আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ
* দীর্ঘদিন স্টেরয়েড মলম ব্যবহার
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
💎 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার দৃষ্টিভঙ্গি-
হোমিওপ্যাথিতে দাদকে শুধু চর্মরোগ হিসেবে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও মায়াজমেটিক প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই চিকিৎসা হয।
* রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণভিত্তিক
* সংক্রমণের ধরন ও প্রবণতা অনুযায়ী
* পুনরাবৃত্তি রোধের লক্ষ্যে
✍️ দাদের গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (নির্বাচন লক্ষণসহ)
⚕️ ১. Tellurium/ টেলুরিয়াম
* বৃত্তাকার দাদ, তীব্র চুলকানি
* মাঝখান পরিষ্কার, কিনারা লাল
* ঘামলে চুলকানি বাড়ে
⚕️ ২. Sulphur/ সালফার
* দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার হওয়া দাদ
* রাতে চুলকানি বেশি
* ত্বক শুষ্ক, জ্বালাপোড়া
* অস্বাস্থ্যকর বা অবহেলাপূর্ণ রোগী
⚕️ ৩. Sepia/ সিপিয়া
* দাদ বিশেষ করে কুঁচকি ও ত্বকের ভাঁজে
* ঘামে বাড়ে
* হরমোনাল সমস্যা যুক্ত রোগী
⚕️৪. Graphites/ গ্রাফাইটিস
* স্যাঁতসেঁতে, আঠালো রস নিঃসরণ
* মোটা ও রুক্ষ ত্বক
* স্থূল বা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণ রোগী
⚕️৫. Psorinum/ সোরিনাম
* অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত দাদ
* তীব্র চুলকানি
* রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
⚕️ ৬. Mezereum/ মেজেরিয়াম
* মাথার তালু বা মুখমণ্ডলে দাদ
* পুরু খোসা ও তীব্র চুলকানি
👉 সহায়ক পরামর্শ
* আক্রান্ত স্থান শুকনো ও পরিষ্কার রাখা
* টাইট কাপড় পরিহার
* আলাদা তোয়ালে ও পোশাক ব্যবহার
* অপ্রয়োজনে স্টেরয়েড মলম ব্যবহার বন্ধ
* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ
উপসংহার-
দাদের স্থায়ী ও কার্যকর চিকিৎসার জন্য সঠিক ঔষধ নির্বাচন ও পর্যাপ্ত সময় ধরে চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। লক্ষণভিত্তিক ও মায়াজমেটিক বিশ্লেষণ ছাড়া দাদ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়।
✍️ লেখক -
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম, ইভা হোমিও হল, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার 01716-651488

মহিলাদের স্তনের আকার বড় করার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা





📚 মহিলাদের স্তনের আকার অস্বাভাবিক ছোট থাকলে বড় করার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


মহিলাদের স্তনের আকার ছোট থাকলে সেটা শারীরিক, হরমোনজনিত বা গঠনতাত্ত্বিক কারণে হতে পারে। হোমিওপ্যাথিতে এটি একটি “কন্সটিটিউশনাল” বা সামগ্রিক চিকিৎসার বিষয়, যেখানে রোগীর পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

স্তনের আকার বাড়াতে সরাসরি কোনও একক ওষুধ নেই, তবে কিছু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শরীরের হরমোন ব্যালান্স এবং টিস্যু বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে – যদি লক্ষণ মিলে যায়।

✍️ স্তনের আকার বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহের লক্ষণ ভিত্তিক আলোচনা-

🌿 1.Sabal Serrulata

* হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Sabal Serrulata (সেবাল সেরুলাটা) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রাকৃতিক ও ধীরে ধীরে কার্যকরভাবে স্তনের টিস্যু বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে যেসব মহিলার হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার কারণে স্তনের আকার ছোট থাকে বা স্তন সুগঠিত নয়।

🧪 Sabal Serrulata নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. অপর্যাপ্ত স্তন বিকাশ (Underdeveloped Breasts):

* কিশোরী বা যুবতীদের স্তন গঠনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হলে।
* স্তনের আকার ছোট ও সমানুপাতিক নয়।

2. হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা:

* এস্ট্রোজেন/প্রোজেস্টেরন হরমোনের ঘাটতির লক্ষণ দেখা দিলে।
* মাসিক অনিয়ম, PCOS ইত্যাদির সাথে স্তন গঠন ঠিকমতো না হওয়া।

3. স্তনের গঠন নরম ও ফ্ল্যাট (Flat or Flabby Breasts):

* স্তনের টিস্যু নরম ও ঢিলে হয়ে পড়া।
* পরিণত বয়সেও স্তন সুগঠিত না হওয়া।

4. গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানোর পর স্তনের আকার ছোট হয়ে যাওয়া:

* স্তনের পূর্বের আকৃতি হারিয়ে ফেলা।
* স্তনের টোন কমে যাওয়া।

5. শারীরিক গঠন খুব পাতলা ও দুর্বল:

* পুরো শরীর দুর্বল, স্তন বিকাশেও তার প্রভাব।

👉 মাত্রা (Dosage):

* Sabal Serrulata Q (মাদার টিংচার),
দিনে ২–৩ বার, প্রতি বারে ১০–১৫ ফোঁটা ১/২ কাপ পানিতে মিশিয়ে খাওয়ার পর সেবন করা যেতে পারে।
* এটি নিয়মিত ৩–৬ মাস ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন উত্তম।

🌿 2. Thyroidinum

* মহিলাদের স্তনের আকার বড় করার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Thyroidinum (থাইরোডিনাম) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যখন স্তন ছোট ও অপর্যাপ্তভাবে গঠিত হয় থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতির (Hypothyroidism) কারণে।

🌸 Thyroidinum নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি) সংক্রান্ত লক্ষণ:

* শরীরে বিপাকক্রিয়া ধীর।
* ওজন বৃদ্ধি বা সহজে মোটা হয়ে যাওয়া।
* সব সময় ক্লান্ত লাগা ও ঘুম ঘুম ভাব।
* ত্বক শুষ্ক, চুল পড়া, ও মুখ ফোলা ফোলা।
* হাত–পা ঠান্ডা ও মাথা ভার লাগা।

2. স্তনের অপর্যাপ্ত বিকাশ (Underdeveloped Breasts):

* বয়ঃসন্ধির পরও স্তন যথাযথভাবে বড় না হওয়া।
* স্তনের টিস্যু নরম, শিথিল ও টানটান নয়।

3. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance):

* মাসিক অনিয়ম বা অনুপস্থিতি (Amenorrhea, Oligomenorrhea)।
* পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর সাথে যুক্ত হাইপোথাইরয়েডিজম।

4. মানসিক লক্ষণ:

* আত্মবিশ্বাসের অভাব, দুঃখবোধ, বিষণ্ণতা।
* খুব বেশি ঘুম, মনোযোগের অভাব।

5. শারীরিক গঠন ও স্তনের বৃদ্ধি থেমে যাওয়া:

* শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া।
* স্তনের বৃদ্ধি আটকে যাওয়া বা ছোট হয়ে যাওয়া।

👉 মাত্রা (Dosage):

* Thyroidinum 3X / 6X / 30C / 200C
রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী দিনে ১–২ বার সেবন করা যেতে পারে।

🔸 যদি Hypothyroidism স্পষ্ট লক্ষণ থাকে তবে 3X বা 6X শক্তি ভালো কাজ করে।
🔸 যদি সাধারণ হরমোন ভারসাম্যজনিত স্তনের বৃদ্ধি সমস্যা হয়, তবে 30C বা 200C উপযুক্ত হতে পারে।

👉 অবশ্যই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা উচিত।

🌿 3. Calcarea Carbonica

* মহিলাদের স্তনের আকার বড় করার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Calcarea Carbonica (ক্যালকেরিয়া কার্ব) একটি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হোমিও ঔষধ, বিশেষ করে যখন স্তনের গঠন অপর্যাপ্ত হয় শারীরিক গঠন দুর্বলতা, হরমোন ভারসাম্যহীনতা বা অপুষ্টির কারণে।
* শরীর দুর্বল, মেদহীন ও সহজে ক্লান্ত হওয়া রোগী।
* ঠান্ডা সহ্য করতে না পারলে উপকারী।
* স্তনের নিচে ঘাম হলে ভালো ফল দেয়।

🌸Calcarea Carbonica নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. স্তনের অপর্যাপ্ত বৃদ্ধি (Underdeveloped Breasts):

* স্তনের আকার বয়স অনুযায়ী ছোট।
* বয়ঃসন্ধির পরও স্তনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া।
* স্তন নরম ও স্পঞ্জের মতো অনুভূত হয়।

2. স্থূলকায় অথচ দুর্বল শারীরিক গঠন:

* শরীর মোটা হলেও পেশিশক্তি দুর্বল।
* পেট মোটা, স্তন ছোট — এই গঠন সবচেয়ে ক্লাসিক ক্যালকেরিয়া কার্ব টাইপ।

3. অপুষ্টি ও দুধ বা চর্বিজাত কোষের ঘাটতি:

* শরীরে চর্বি জমে ঠিকঠাকভাবে, কিন্তু স্তনের টিস্যু গঠন হয় না।
* ক্যালসিয়ামের শোষণজনিত সমস্যা।

4. স্নায়বিক দুর্বলতা ও শারীরিক পরিশ্রান্তি:

* হালকা পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া (বিশেষ করে মাথায় ঘাম)।
* ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় সংবেদনশীলতা।

5. মাসিক অনিয়ম / হরমোনাল ইমব্যালান্স:

* মাসিক দেরিতে বা অনিয়মিত আসে।
* মাসিকের আগে স্তনে ব্যথা বা টানটান অনুভব হতে পারে।

🌱 মাত্রা (Dosage):

* Calcarea Carb 30C বা 200C

👉 দিনে ১–২ বার (বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী)
👉 সাধারণত ২০০ শক্তি সপ্তাহে ১–২ বার পর্যাপ্ত হয় দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োগে।

🌿 4. Silicea

🌸 Silicea (সাইলেসিয়া) নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. শারীরিক গঠনের দুর্বলতা ও অপুষ্টি:

* রোগী খুব রোগা, হাড় জিরজিরে, মাংসপেশি কম।
* শরীরে টিস্যু বা চর্বি নেই বললেই চলে।
* স্তনের গঠন ছোট, নরম ও কম টানটান।

2. স্তনের অপর্যাপ্ত বৃদ্ধি (Underdeveloped Breasts):

* স্তনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যাওয়া বা খুব ধীরে হওয়া।
* স্তন সমতল বা অনুপযুক্ত আকারের।

3. টিস্যু বিল্ডিং ক্ষমতা দুর্বল:

* শরীরে নতুন কোষ বা টিস্যু তৈরি ধীরগতির।
* ত্বক শুষ্ক, চুল ভঙ্গুর, নখ ভেঙে যায়।

4. ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা:

* ঠান্ডা লাগা, ঘন ঘন সংক্রমণ বা পুঁজযুক্ত ফোঁড়া হওয়ার প্রবণতা।
* শরীরে সহজে ক্ষয় ও পুনর্গঠন দেরিতে হয়।

5. মানসিক বৈশিষ্ট্য:

* অতিরিক্ত লাজুকতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব।
* হালকা পরিশ্রমেও ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

🌱 মাত্রা (Dosage):

* Silicea 6X / 12X / 30C / 200C
👉 শারীরিক গঠনের জন্য 6X বা 12X দিনে ২–৩ বার।
👉 গভীর কার্যকারিতার জন্য 30C বা 200C সপ্তাহে ১–২ বার চিকিৎসকের নির্দেশে।

✅ বিশেষ পরামর্শ:

* Silicea ধীরে কিন্তু গভীরভাবে কাজ করে — তাই এটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে ভালো ফল দেয়।
* এটি শরীরের ভিতর থেকে কোষ ও স্তনের টিস্যু গঠন করতে সহায়তা করে।

🌿 5. Baryta Carbonica

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Baryta Carbonica (ব্যায়াটা কার্ব) একটি কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ, বিশেষ করে যখন স্তনের বৃদ্ধি রুগ্ন, ধীর বা বয়স অনুযায়ী বিকাশ হয়নি — এমন ক্ষেত্রে। এটি মূলত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিলম্ব থাকলে ব্যবহৃত হয়।

🌸 Baryta Carbonica (ব্যায়াটা কার্ব) নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. স্তনের অপ্রাপ্ত বা দেরিতে গঠিত বৃদ্ধি (Delayed Breast Development):

* বয়ঃসন্ধির পরও স্তনের বৃদ্ধি ধীরে হয় বা থেমে যায়।
* বয়স অনুযায়ী স্তনের আকার ছোট ও অপর্যাপ্ত।
* টিস্যু গঠন দুর্বল, স্তন নরম ও শিশুদের মতো চ্যাপ্টা।

2. শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বিলম্বিত (Underdeveloped Physical & Mental Growth):

* রোগী দেখতে নিজের বয়সের তুলনায় ছোট।
* শিশুতোষ আচরণ, সংকোচ, আত্মবিশ্বাসের অভাব।

3. গ্রন্থি (glands) দুর্বলতা:

* স্তন, টনসিল, লিম্ফ নোড, থাইরয়েডসহ সব গ্রন্থি দুর্বল বা বিকৃত।
* স্তনের গ্রন্থি গঠন ধীরে ধীরে হয় বা অসম্পূর্ণ থাকে।

4. হরমোনজনিত বৃদ্ধির সমস্যা:

* হরমোনের ঘাটতির কারণে প্রজনন অঙ্গ ও স্তনের বৃদ্ধি অসম্পূর্ণ।

5. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল:

* বারবার ঠান্ডা লাগা, ঘন জ্বর হওয়া, শরীরে শক্তি কম।
* অপুষ্টির কারণে স্তনের গঠন ভালোভাবে হয় না।

🌱 মাত্রা (Dosage):

* Baryta Carb 30C / 200C
👉 30C: দিনে ১–২ বার
👉 200C: সপ্তাহে ১–২ বার (চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী)

🌿 6. Lecithinum

মহিলাদের স্তনের আকার বড় করার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Lecithinum (লেসেথিন) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ঔষধ, বিশেষ করে যখন স্তনের গঠন দুর্বল, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি বা টিস্যু গঠনের সমস্যা থাকে।

🌸 Lecithinum নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. দুর্বলতা ও অপুষ্টিজনিত স্তন গঠন অপর্যাপ্ততা:

* শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, রক্তশূন্যতা (anemia) ও ক্লান্তি।
* অপুষ্টি বা দীর্ঘ রোগে ভোগার পর স্তনের আকৃতি ছোট ও নরম হয়ে যাওয়া।
* শরীরের টিস্যু দুর্বল ও শিথিল — বিশেষ করে স্তনের টিস্যু।

2. স্তনের টিস্যু বৃদ্ধির অভাব:

* স্তনের গঠন ছোট, নরম ও যথাযথ বিকাশ নেই।
* টানটান ভাবের অভাব।

3. রক্তস্বল্পতা (Anemia) এবং দুর্বলতা:

* চেহারায় ফ্যাকাশে ভাব।
* শরীরে সব সময় দুর্বলতা, হাঁটলে বা কাজ করলে দ্রুত ক্লান্ত হওয়া।

4. ওজন কম থাকা ও মেদহীনতা:

* শরীর অত্যন্ত রোগা ও শুকনো।
* শরীরে মাংসপেশির গঠন কম, যার প্রভাব স্তনের আকারেও পড়ে।

5. উচ্চ মানসিক চাপ বা রোগজর্জরতা পরবর্তী অবস্থায় স্তনের টিস্যু হ্রাস:

* দীর্ঘ রোগ বা মানসিক ক্লান্তির পর স্তনের আকৃতি কমে যাওয়া বা শিথিলতা আসা।

🌱 মাত্রা (Dosage):**

* Lecithinum 3X / 6X / 30C
👉 3X বা 6X শক্তি সাধারণত দিনে ২–৩ বার ২টি করে বড়ি বা নির্ধারিত ডোজ।

* দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ব্যবহারে শরীরের গঠন এবং স্তনের টিস্যু ধীরে ধীরে উন্নত হয়।

✅ বিশেষ পরামর্শ:

* Lecithin শুধু স্তনের টিস্যু নয়, পুরো শরীরের কোষ গঠন ও পুষ্টিতে সহায়তা করে।
* এটি একটি **নিরাপদ টিস্যু বিল্ডার** হিসেবেও পরিচিত।
* চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবন এবং সঠিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত।

🌿 7. Alfalfa

🌸 Alfalfa নির্বাচন করার প্রধান লক্ষণসমূহ:

1. শরীরের অপুষ্টি ও ওজন কম থাকা:

* রোগী খুব রোগা, দুর্বল এবং রক্তস্বল্পতা দেখা যায়।
* স্তনের গঠন কম, মাংসপেশি বা চর্বি টিস্যু অনুপস্থিত।

2. দীর্ঘদিন অসুস্থতা বা ক্লান্তিজনিত দুর্বলতা:

* শরীর ও স্তনের টিস্যু ভেঙে পড়েছে।
* রোগ থেকে উঠার পর শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়ে গেছে।

3. স্তনের টিস্যু গঠনের সহায়ক:

* নতুন কোষ ও টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে।
* স্তনের পূর্ণতা এবং টানটান ভাব ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে (অন্যান্য ঔষধের সাথে কম্বিনেশনে)।

4. মানসিক এবং শারীরিক দুর্বলতা:

* খাওয়ার রুচি কম, সব সময় ক্লান্ত লাগে।
* মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং মনমরা ভাব।

5. স্তনের বৃদ্ধি রোধ হওয়া অপুষ্টির কারণে:

* কিশোরী বা তরুণীদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ঠিক না থাকলে স্তনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না।

🌱 মাত্রা ও ব্যবহার (Dosage):

* Alfalfa Q (মাদার টিঞ্চার):
👉 দিনে ২–৩ বার, ১০–১৫ ফোঁটা অল্প পানিতে খাওয়ার পরে সেবন।
👉 Alfalfa Tonic(কম্পাউন্ড টনিক): দিনে ২–৩ বার ১ চা চামচ করে।

✅ বিশেষ পরামর্শ:

* Alfalfa একা পুরোপুরি স্তন বৃদ্ধি করে না, তবে এটি সাপোর্টিভ বা সহায়ক ঔষধ হিসেবে কাজ করে।
* এটি মেটাবলিজম বাড়িয়ে পুষ্টি শোষণ উন্নত করে, ফলে শরীর এবং স্তনের গঠন উভয়েই উন্নত হয়।

🍁 মহিলাদের স্তনের আকার বড় করার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বিশেষ নির্দেশনা-

1. রোগীর শারীরিক গঠন, হরমোন, মাসিক চক্র, মানসিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনা করে ওষুধ নির্বাচন করতে হবে।
2. সঠিক পোটেন্সি (যেমন 6X, 30C, 200C) ও মাত্রা নির্ধারণ করবেন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক।
3. দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় ধৈর্য জরুরি।

🌱 সতর্কতা:


* বাজারে “ব্রেস্ট এনলার্জমেন্ট” নামে হোমিওপ্যাথিক নাম ব্যবহার করে অনেক ভেজাল ঔষধ পাওয়া যায় — এগুলো এড়িয়ে চলুন।
* শুধুমাত্র অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করুন।

✍️ লেখক –
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার

সভাপতি – বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম।
ইভা হোমিও হল, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, সাভার, ঢাকা, মোবাইল নাম্বার 01716-651488



Comments System

[blogger][disqus][facebook]

Disqus Shortname

theme-daddy