জনপ্রিয় পোস্ট

রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

মাদকের আসক্তি নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

HOMEOPATHIC MEDICINE for Addiction to Drugs, Alcohol, and more
আসক্তি কি?
মাদকদ্রব্য বলতে বোঝানো হয় যে,এমন দ্রব্য,যা খেলে নেশা হয়।এগুলো হোল গাঁজা,ফেন্সিডিল,চরস,ভাঙ,গুল, জর্দা,হেরোইন,পেথিদিন,মদ,ইয়াবা ইত্যাদি। যখন কেও এসব দ্রব্যাদির উপর নেশাগ্রস্থ হয়,তখনই তাকে মাদকাসক্ত বলা হয়।
কিভাবে মাদকাসক্ত হয়ঃ
  • কিশোর-কিশোরীরা কিভাবে নেশাগ্রস্থ হয়
  • বান্ধু বান্ধবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • ভুল তথ্য, হতাশা, কৌতূহলবশতঃ।
  • আদর্শ মনে করে এমন কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • স্মার্ট দেখানোর জন্য।

মাদকাসক্তির কুফল বা ক্ষতিকর দিকগুলোঃমাদকদ্রব্য শারীরিক,মানসিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক ক্ষতি করে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিঃ
  • শেখার ক্ষমতা এবং কাজের দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
  • বিচার-বিবেচনা, ভুল ঠিক বোঝার করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা।
  • আবেগ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকেনা।
  • উগ্র আচরণের জন্ম দেয়।
  • মানসিক পীড়ন বাড়িয়ে দেয়, আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়।

শারীরিক ক্ষতিঃ
  • মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষমতা ও শরীরের সূক্ষ্ম অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং স্মৃতি শক্তি কমিয়ে দেয়।
  • স্বাভাবিক খাদ্য অভ্যাস নষ্ট করে।
  • যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • হৃদরোগ সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ
  • পরিবারে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
  • স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খারচ বেড়ে যায়।
  • কর্মক্ষম জনশক্তি কমে যায়।

মাদকাসক্তির প্রতিরোধ ও এর প্রতিকার কিভাবে করা যায়ঃ

মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা,শিক্ষা, পরিমিত জীবন যাপন, বন্ধু নির্বাচন, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পথ।
মাদকাসক্ত নিরাময়কারী টিমের সদস্যরা হলেন (Team members):
১.মাদক আসক্ত ব্যাক্তি।
২. ব্যক্তিটির পরিবার।
৩. মাদকাসক্ত নিরাময়কারী প্রতিষ্ঠান।




৪. একজন কাউন্সেলর।
৫. ঘনিষ্ঠজন বা বন্ধুবান্ধব।

প্রাথমিক অবস্থায় (মাদকাসক্ত শুরুর প্রথম ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে যদি মাদকাসক্ত নিরাময়ের পরিকল্পনা নেয় যায় তবে খুব ভাল ফলাফল হয়।তবে কয়েক বছর যাবত মাদকাসক্তিও নিরাময় সম্ভব।
মাদকাসক্ত নিরাময়ের তিন রকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে (Medical Procedures):
ক. শুধুমাত্র ঔষধ সেবনের মাধ্যমে (Anti drug medicine)
খ. ঔষধ ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে ( Medicine and Counseling service)
গ. নিরাময় কেন্দ্রে থেকে ঔষধ ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে ( In house Medicine and counseling service)
একজন মাদকাসক্ত রোগী চিকিৎসা নেয়ার সময়ে পরিবার যেহেতু নিরাময়কারী টিমের সদস্য তাই পরিবারেরও বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছেঃ
প্রথমতঃ পরিবারের লোকজন একত্রে মাদকাসক্তি নিরাময় নিয়ে পড়াশুনা করবেন বা তথ্য সংগ্রহ করবেন। কারণ তথ্য না জানা থাকার কারণে ঘাবড়ে গিয়ে পরিবারের পরিবেশ ও শান্তি বিনষ্ট হয়।পরিবারটি সমাজের চোখে নিজেকে ছোট মনে করে হীনমন্যতায় ভুগে।
দ্বিতীয়তঃ মাদকাসক্ত ব্যক্তিটিকে ‘Addict’ বা ’নেশাখোর’ বলে গালমন্দ না করা।প্রত্যেকের ভুল আছে। আপনার পরিবারের এই সদস্যটিও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।তাই দোষারোপ না করে তার ভুলগুলো শুধরে নিতে তাকে সহযোগিতা করুন।
তৃতীয়তঃ মাদকাসক্ত নিরাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়ম মানা এবং খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাপনের পরিবর্তনের ব্যাপারে ব্যক্তিটিকে সহযোগিতা করুন এবং উৎসাহ দিন।
চতুর্থতঃ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী  একজন দক্ষ ডাক্তারের কাছে নিয়মিত কাউন্সেলিং নেয়া।

মাদকের আসক্তি নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা(Homeopathic treatment for cure of drug addiction)

মদ,গাঁজা,হিরোইন,ফেনসিডিল ইত্যাদি নেশাকর ড্রাগ যারা দীর্ঘদিন থেকে খেয়ে আসছেন,তাদের পক্ষে এগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।কারণ এতে শরীরে কিছু মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।এই জন্য এসব ড্রাগ সেবনের পরিমাণ প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে কমিয়ে দিতে হবে।এভাবে আস্তে আস্তে তাদের পরিমাণ কমাতে কমাতে একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে।পাশাপাশি ড্রাগের পরিমাণ কমানোর ফলে শরীরে যে-সব অসুবিধার সৃষ্টি হয়,সেগুলো দূর করার জন্য ঔষধ খেতে হবে।দীর্ঘদিন নেশা করার পর চেষ্টা-তদ্বির করে পরবর্তীতে সেটি বন্ধ করতে সক্ষম হলেও সেই নেশার প্রতি অনেক বছর পরও একটা মারাত্মক আকর্ষণ থেকেই যায়।ফলে সুযোগ পেলে সেই নেশা আবারও শুরু করে দিতে পারেন।এজন্য নতুন কোন ভালো বিষয়ে নেশা সৃষ্টি করা দরকার।
যেমন স্বামী স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসা,জ্ঞান অর্জনের নেশা,ইবাদতবন্দেগী,ভিডিও গেম,মানবসেবা,ছবিআঁকা, কমপিউটার,ফটোগ্রাফি,তাবলীগ,ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি ইত্যাদির নেশা সৃষ্টির মাধ্যমে অতীতকে
ভুলে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

মাদক সেবিদের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

Avena Sativa : হিরোইন,প্যাথেডিনের নেশা দূর করতে এভেনা সেটাইভা একটি শ্রেষ্ট ঔষধ।যারা হিরোইন বেশী পরিমাণে খান,তারা ধীরে ধীরে ইহার মাত্রা কমিয়ে আনুন এবং পাশাপাশি এভেনা স্যাটাইভা পনের ফোটা করে রোজ তিনবেলা করে খেতে থাকুন।পক্ষান্তরে যারা অল্প পরিমাণে হিরোইনপ্যাথেডিন নেন,তারা এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিন এবং তার বদলে এভেনা স্যাটাইভা পঞ্চাশ ফোটা করে রোজ তিনবেলা খান।এতে কোন শারীরিক সমস্যা হবে না।সাধারণত এসব মাদকদ্রব্য হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে শরীরে যেসব মারাত্মক সমস্যা(withdrawal symptoms) দেখা দেয়,এভেনা সেটাইভা সেগুলোকে সফলতার সাথে সামাল দিতে পারে। এটি মাদার টিংচার (Q) শক্তিতে এবং আধা গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খাবেন।

Asarum europaeum :এসারাম ইউরোপেরাম শরীরের ওপর মদ ফেনসিডিলের প্রভাব কমিয়ে মদ্যপানের নেশা ছাড়তে সাহায্য করতে পারে।নিম্নশক্তিতে (Q,৩,৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১৫ ফোটা করে রোজ তিনবার খেতে পারেন।হ্যাঁ,প্যাথেডিন,হিরোইনের নেশা ছাড়াতেও এটি একই মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।


Nux vomica :মদ ফেনসিডিল দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের যে ক্ষতি হয়,নাক্স ভমিকা তাকে পুষিয়ে দিতে পারে।
পাশাপাশি এটি মদফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে ব্যবহার করতে পারেন।মাত্রা হবে নিম্নশক্তিতে(Q,৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার।

Sulphuricum acidum : সালফিউরিক এসিড ঔষধটি মদ-ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে একটি অসাধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ।সাধারণত দু’চার দিন খাওয়ার পর থেকেই মাদকাসক্ত ব্যক্তি মদ-ফেনসিডিলের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।নিম্নশক্তিতে (Q, ৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার দুই থেকে কয়েক সপ্তাহ খেতে পারেন।এমনকি নেশায় আসক্ত ব্যক্তি যদি ঔষধ খেতে না চায়,তবে তার মদ বা ফেনসিডিলের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালেও কাজ করবে।তাছাড়া পানি,চা,দুধ ইত্যাদির সাথেও মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

Natrum Phosphoricum : নেট্রাম ফস ঔষধটি মরফিন, প্যাথেডিন এবং হিরোইনের নেশা বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে।নেট্রাম ফস নিম্মশক্তিতে (Q, ৩, ৬) দশ ফোটা করে রোজ তিনবার করে খেতে থাকুন এবং উল্লেখিত নেশাসমূহ প্রতি সপ্তাহে ধীরে ধীরে কমাতে থাকুন।তারপর এক সময় একেবারে বন্ধ করে দিন। দীর্ঘদিন সেবনের পর এসব নেশাদ্রব্য বন্ধ করলে শরীরের যে-সব সমস্যা হতে পারে,নেট্রাম ফস সেগুলোকে দূর করে দিবে।


Staphisagriaঃবিড়ি-সিগারেট অর্থাৎ ধূমপানের নেশা ছাড়াতে স্টেফিসেগ্রিয়া একটি শ্রেষ্ট ঔষধ।এটি ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিয়ে সেটি বন্ধ করতে সাহায্য করে।
নেট্রাম মিউর (Natrum Mur)ঃঅত্যন্ত লবনপ্রীয় রোগীর এলকোহল পানের মাধ্যমে অসুস্থ হলে,শরীর স্বাস্হ্যহীন হলে সেই ভগ্ন স্বাস্হ্য ফিরাতে অলৌকিক কাজ করে।রক্তের কোষ উৎপাদন,অ্যালবুমিন এবং কোষের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য নেট্রাম মিউরের ক্ষমতা রয়েছে।দীর্ঘকাল ধরে অ্যালকোহল আসক্ত হয়েছে বা বিষণ্নতার শিকার হয়ে পড়েছে এমন লোকেরা সাধারণত নেট্রাম মিউর মাধ্যমে আরোগ্য পেতে সহায়তা পাবেন।
টেবেকাম(tabacum)ঃ নামক ঔষধটিও ধূমপানের নেশা দূর করতে সাহায্য করে।এটিও একই নিয়মে খেতে পারেন।ধূমপানের নেশা ছাড়াতে আরেকটি উৎকৃষ্ট ঔষধ।
 আর্সেনিক এলবম Arsenicum Arsenicum ঃ দীর্ঘ সময়ের জন্য অ্যালকোহলের উপর নির্ভরশীল যে কেউ আর্সেনিকাম ব্যবহার করে আরোগ্য লাভ করতে পারেন,বিশেষ করে যদি তারা উদ্বেগ পূর্ণমন,অস্হিরতা, মৃত্যুভয় বিদ্যমান থাকে তাদের জন্য আর্সেনিক এলবম উপযোগী।
ক্রোটালাস হরিডাসঃএলকোহলের নেশা থেকে মুক্তির জন্য ক্রোটেলাস একটি প্রয়োজনীয় ঔষধ।ক্রোটেলাসের নির্বাচক লক্ষণ যে এলকোহল সেবি রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে প্রয়োগ করলে সে সুস্হ্য হবেন।
অতিরিক্ত চা পানের নেশা দুর করেঃ1.Thuja 2. China 3. Selenium।ইয়াবার জন্য Avena sativa Q আর গাজার জন্য Cannabis indica Q ঔষধটি খেতে পারেন।নিম্নশক্তিতে রোজ ২ বার করে খেতে পারেন।আলফালফা (Alfalfa Q) ঔষধটি সাতদিন খাবেন তারপর এভেনা সেটাইভা (Avena sativa Q) ঔষধটি সাতদিন খাবেন।এই হোমিও ঔষধ দুইটি এভাবে একটার পর আরেকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ৩ মাস খাবেন । ২০ ফোটা করে প্রতিদিন দুইবেলা আধা গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবেন।
কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে মাধক বিরোধী সদৃশ ঔষধঃ
ALCOHOLIC stimulants : Acon., agar.alum., alumn., am-m., anac., ant-c.arg-n.arn., Ars.Asar.Bar-c.bell.bor., bov., cadm., calc-ars.calc.carb-an., carb-s.carb-v.caust., chel.chin.chlol., cocc., coff.con.,crot-h.dig.gels., hep., hyos., ign.kali-bi., Lach., laur., led.lyc.naja., nat-c.nat-m.nux-m.Nux-v.Op.petr.puls.Ran-b.rhod.rhus-t.ruta.sabad., sang.Sel., sep., sil.spig.stram.stront., stroph.Sul-ac.Sulph., tab., thu., verat., zinc.
 NARCOTICS agg. : Acon., agar., ars., aur., Bell., bry., calc., canth., carb-v., caust., Cham., chin., Coff., colch., croc., cupr., dig.dulc., eupho., ferr.graph.hep., hyos.ign., ip.Lach., lyc., merc., mosch., nat-c., nat-m., nit-ac., nux-m., Nux-v.op.ph-ac., phos., plat., plb., puls.rhus-t., seneg., sep.staph., sulph., valer.verat., zinc.

++ TOBACCO agg. : Acon., agar., alum.ambr., ant-c.arg-m., arg-n., Ars., bell., bry.calad.calc., camph., carb-an., carb-s., chel., chin., cic., clem.coc-c., coca., cocc.coloc., con., cycl.dig., euphr.ferr., gels.hell.hep., hydr., Ign., iod., ip.lach.lact-ac., lyc.mag-c.meny.nat-m.Nux-v., osm., par.petr., phos.Plan.Puls., ran-b., rhus-t., ruta.sabad., sabin., sars., sel.sep., sil., Spig.Spong.Staph., sul-ac., sulph., tarax.thu.verat.++ amel. : Aran., bor., carb-ac., coloc., hep.merc., nat-c., sep.spig.++ chewing agg. : Ars., carb-v., lyc., nux-v.plan.verat.++ smoking, when breaking off : Calad.

মাদক আসক্তির হাত হতে পরিত্রাণ পেতে চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্হ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।মাদকাসক্ত রোগীর সাথে ভালো আচরণ করা উচিত।কেবলমাত্র চিকিৎসার উপর নির্ভর না করে রোগীর মানসিক দিকে সহায়তা,সেবা,আদর-সোহাগ ও পূর্বাসন করা প্রয়োজন।রোগীর মনে সাহস যোগানো,আনন্দঘন পরিবেশে বসবাস, ভালো কোন কাজের সাথে সমপৃক্ত করা জরুরী।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাদক সেবন প্রতিরোধ করা।আমাদের সমজে হতে মাদকতে নির্মুল করা।মাদকাসক্ত রোগীর চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ অত্যন্ত কার্যকর।অতএব বিলম্ব না করে মাদক সেবিকে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা করান।এতে রোগী দ্রুত ও অল্প খরচে আরোগ্য লাভ করবে সহজেই কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়া।

ডা: ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

দাঁতের ব্যথায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

দাঁতের ব্যথা, দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন


দাঁতের ব্যথা, দাঁতের ক্ষয়, মাড়ি থেকে রক্তপাত বা পুঁজ—এসব সমস্যা দৈনন্দিন জীবনে বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু রোগের নামের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ, ব্যথার ধরন, বাড়া-কমার কারণ, মুখ ও মাড়ির অবস্থা এবং সামগ্রিক রোগচিত্র বিবেচনা করা হয়।

তবে দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির সংক্রমণ থাকলে কেবল ব্যথা কমানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজনে দন্ত চিকিৎসকের পরীক্ষা ও স্থানীয় চিকিৎসাও জরুরি।

দাঁতের তীব্র ব্যথায় গুরুত্বপূর্ণ ঔষধচিত্র

Chamomilla — ক্যামোমিলা

- অত্যন্ত অসহ্য ও তীব্র দাঁতের ব্যথা
- ব্যথার সঙ্গে অস্থিরতা ও খিটখিটে মেজাজ
- গরমে বা উষ্ণতায় ব্যথা বাড়তে পারে
- রোগী ব্যথা সহ্য করতে না পেরে অতিরিক্ত বিরক্ত হয়ে পড়ে

Belladonna — বেলেডোনা

- হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র, ধুকধুক করা ব্যথা
- মাড়ি লাল, গরম ও স্পর্শকাতর
- স্পর্শ বা সামান্য নাড়াচাড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি
- মুখের আক্রান্ত অংশে উত্তাপ ও প্রদাহের চিত্র থাকতে পারে

Coffea cruda — কফিয়া ক্রুডা

- অত্যন্ত তীব্র ব্যথার কারণে ঘুমাতে না পারা
- ব্যথার সঙ্গে মানসিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
- ঠান্ডা পানি দিয়ে সাময়িক আরাম পাওয়ার বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে

দাঁতের ক্ষয় বা Dental Caries-এ

Kreosotum — ক্রিয়োজোটাম

- দাঁত দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রবণতা
- দাঁত কালচে বা ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার চিত্র
- মুখে দুর্গন্ধ থাকতে পারে
- ঠান্ডায় দাঁতের ব্যথা বাড়তে পারে

Staphysagria — স্ট্যাফিসেগ্রিয়া

- দাঁতের ক্ষয় বা ক্যাভিটির সঙ্গে সংবেদনশীলতা
- দাঁত ভেঙে যাওয়া বা ভঙ্গুরতার প্রবণতা
- ঠান্ডা বাতাসে ব্যথা বাড়তে পারে
- দাঁতের সমস্যার সঙ্গে রোগীর সামগ্রিক ব্যক্তিগত লক্ষণও বিবেচ্য

Baryta carbonica — ব্যারাইটা কার্বোনিকা

- শিশুদের দাঁত ওঠায় বিলম্বের সঙ্গে দুর্বল দাঁতের চিত্র
- দাঁতের গঠন দুর্বল হওয়া ও দ্রুত ক্ষয়ের প্রবণতা
- শিশুর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যও ওষুধ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ

মাড়ির রোগ, রক্তপাত ও পুঁজে

Mercurius solubilis — মার্কিউরিয়াস সলিউবিলিস

- মাড়ি ফোলা ও রক্তপাত
- মুখে তীব্র দুর্গন্ধ
- অতিরিক্ত লালা
- মাড়ি ও দাঁতের আশপাশে প্রদাহ বা পুঁজের প্রবণতা

Hepar sulphuris — হিপার সালফিউরিস

- মাড়িতে ফোঁড়া বা পুঁজ জমার প্রবণতা
- অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর অবস্থা
- ঠান্ডায় ব্যথা বা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে
- সামান্য স্পর্শেও আক্রান্ত স্থান অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত হতে পারে

Silicea — সাইলেসিয়া

- দীর্ঘদিনের মাড়ির সমস্যা ও পুঁজের প্রবণতা
- দাঁত ধীরে ধীরে নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
- পুঁজ বের হওয়ার প্রবণতা
- দীর্ঘস্থায়ী ও পুনরাবৃত্ত সমস্যায় রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণচিত্র বিবেচনা করা হয়

মায়াজম্যাটিক দৃষ্টিভঙ্গি

ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রে মায়াজম্যাটিক ধারণাকেও বিবেচনা করা হয়। দাঁত ও মাড়ির সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীর সম্পূর্ণ রোগচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন মায়াজম্যাটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

Psora: সংবেদনশীলতা, কার্যগত দুর্বলতা ও পুনরাবৃত্ত সমস্যার প্রবণতা।

Sycosis: অতিরিক্ত স্রাব, পুঁজ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের প্রবণতা।

Syphilis: গভীর ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন, টিস্যু ক্ষয় ও দাঁত নষ্ট হওয়ার প্রবণতা।

এগুলো কোনো নির্দিষ্ট রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে গণ্য না করে হোমিওপ্যাথিক কেস বিশ্লেষণের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে দেখা উচিত।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

- দাঁতের ক্ষয় হলে নিয়মিত ডেন্টাল পরীক্ষা করান।
- দাঁতের পুঁজ, মুখ ফুলে যাওয়া, জ্বর বা তীব্র সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- দাঁতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত ব্রাশিং বজায় রাখুন।
- হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণচিত্র অনুযায়ী অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে করা উচিত।
- প্রয়োজনে ডেন্টাল চিকিৎসার পাশাপাশি সমন্বিতভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে।

উপসংহার:
দাঁতের ব্যথায় শুধু একটি ওষুধের নাম মুখস্থ করে ব্যবহার নয়—ব্যথার প্রকৃতি, Modalities, স্থানীয় লক্ষণ এবং রোগীর সম্পূর্ণ ব্যক্তিচিত্র মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচনই ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতির মূলনীতি।

লেখক
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি — বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
ইভা হোমিও হল
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, সাভার, ঢাকা

যৌন দূর্বলতার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala


যৌন দুর্বলতায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন


যৌন দুর্বলতা বা যৌন কর্মক্ষমতার পরিবর্তন একটি একক রোগের নাম নয়। এর সঙ্গে যৌন ইচ্ছার পরিবর্তন, উত্থানজনিত সমস্যা, দ্রুত বীর্যপাত, অতিরিক্ত যৌন চিন্তা, যৌনক্রিয়ার পর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, স্নায়বিক দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা কিংবা প্রস্রাব ও প্রস্টেটের সমস্যা যুক্ত থাকতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “যৌন দুর্বলতা” দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি, মানসিক অবস্থা, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং যৌন সমস্যার বিশেষ ধরন বিবেচনা করা হয়।

নিচে যৌন দুর্বলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঔষধের স্বতন্ত্র নির্বাচন-লক্ষণ দেওয়া হলো।

Nux Vomica

অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, ব্যবসায়িক বা পেশাগত চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং উদ্দীপক দ্রব্যের অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে যৌন দুর্বলতা।

রোগী সাধারণত খিটখিটে, অস্থির ও তাড়াহুড়োপ্রবণ। যৌন ইচ্ছা থাকতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রম ও স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে কর্মক্ষমতা কমে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্লতা, গ্যাস ও বদহজমের মতো উপসর্গও সহগামী হতে পারে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: অতিরিক্ত কাজ ও উত্তেজনাপূর্ণ জীবনযাপন + খিটখিটে মেজাজ + হজমের সমস্যা + যৌন দুর্বলতা।

Acidum Phosphoricum

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, শোক, অতিরিক্ত পড়াশোনা বা দীর্ঘস্থায়ী পরিশ্রমের পর গভীর শারীরিক ও মানসিক অবসাদ।

রোগী উদাসীন হয়ে পড়ে, কথা বলতে বা কোনো কাজে আগ্রহ কমে যায়। স্মৃতিশক্তি দুর্বল মনে হয়। যৌন দুর্বলতার সঙ্গে প্রবল ক্লান্তি ও মানসিক নিস্তেজতা থাকে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক বা শারীরিক অবসাদ + উদাসীনতা + স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা + যৌন দুর্বলতা।

Lycopodium

যৌন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষমতার ঘাটতি এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব Lycopodium-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

রোগী বাইরে আত্মবিশ্বাসী বা কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ করলেও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ভয় থাকতে পারে। গ্যাস, পেট ফাঁপা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া এবং হজমের সমস্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মূল নির্বাচন-চিত্র: যৌন ইচ্ছা আছে + আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বা ব্যর্থতার ভয় + গ্যাস ও পেট ফাঁপা + যৌন কর্মক্ষমতার সমস্যা।

Caladium Seguinum

যৌন আকাঙ্ক্ষা ও শারীরিক সক্ষমতার মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য Caladium-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন-লক্ষণ।

যৌন ইচ্ছা প্রবল থাকতে পারে, কিন্তু যৌন উত্তেজনা বা উত্থান যথাযথভাবে হয় না। ফলে রোগীর মানসিক হতাশা তৈরি হতে পারে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: যৌন ইচ্ছা আছে, কিন্তু যথাযথ উত্তেজনা বা উত্থান নেই।

Phosphorus

সংবেদনশীল, আবেগপ্রবণ ও সহজে উত্তেজিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যৌন দুর্বলতার সঙ্গে Phosphorus-এর চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত যৌন চিন্তা বা উত্তেজনা, যৌনক্রিয়ার পর দুর্বলতা, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং মানসিক অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

মূল নির্বাচন-চিত্র: অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা + যৌন উত্তেজনা বা চিন্তা + যৌনক্রিয়ার পর দুর্বলতা + সহজে ক্লান্ত হওয়া।

Kali Phosphoricum

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক পরিশ্রম ও স্নায়বিক অবসাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ-চিত্র।

অতিরিক্ত পড়াশোনা, অফিসের কাজ, দুশ্চিন্তা বা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের পর রোগী নিজেকে অত্যন্ত দুর্বল মনে করে। ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি এবং স্নায়বিক ক্লান্তির সঙ্গে যৌন কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: স্নায়বিক অবসাদ + অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম + ঘুমের সমস্যা + যৌন দুর্বলতা।

Avena Sativa

অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের পর স্নায়বিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তির চিত্রে Avena Sativa বিবেচিত হয়।

রোগী নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃশেষিত মনে করে। ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার সঙ্গে যৌন কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি + স্নায়বিক দুর্বলতা + ঘুমের সমস্যা + যৌন কর্মক্ষমতার হ্রাস।

Onosmodium

যৌন দুর্বলতার সঙ্গে গভীর স্নায়বিক অবসাদ এবং শারীরিক ক্লান্তি থাকলে Onosmodium-এর বিশেষ চিত্র দেখা যায়।

রোগী মানসিক ও শারীরিকভাবে অবসন্ন থাকে এবং যৌন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মাথা ভারী লাগা বা মানসিক ক্লান্তিও সহগামী হতে পারে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: গভীর স্নায়বিক অবসাদ + শারীরিক ক্লান্তি + যৌন কর্মক্ষমতার উল্লেখযোগ্য হ্রাস।

Sabal Serrulata

যৌন দুর্বলতার সঙ্গে প্রস্টেট ও মূত্রনালীর উপসর্গ যুক্ত থাকলে Sabal Serrulata গুরুত্বপূর্ণ।

ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের প্রবাহের পরিবর্তন, প্রস্টেটের অস্বস্তি বা ভারীভাবের সঙ্গে যৌন কর্মক্ষমতার সমস্যা থাকতে পারে।

মূল নির্বাচন-চিত্র: প্রস্টেটের উপসর্গ + প্রস্রাবের সমস্যা + যৌন দুর্বলতা।

Turnera Aphrodisiaca

হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে যৌন দুর্বলতা, যৌন ইচ্ছার হ্রাস এবং স্নায়বিক অবসাদের সঙ্গে Turnera-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

বিশেষ করে সামগ্রিক দুর্বলতা ও যৌন কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এর ঔষধ-চিত্র বিবেচনা করা হয়।

মূল নির্বাচন-চিত্র: সাধারণ দুর্বলতা + স্নায়বিক অবসাদ + যৌন ইচ্ছা ও কর্মক্ষমতার হ্রাস।

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

একই “যৌন দুর্বলতা” হলেও ঔষধের নির্বাচন-চিত্র ভিন্ন হতে পারে।

Lycopodium: যৌন ইচ্ছা আছে, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও হজমের সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ।

Caladium: যৌন ইচ্ছা আছে, কিন্তু যৌন উত্তেজনা বা উত্থান যথেষ্ট হয় না।

Nux Vomica: অতিরিক্ত কাজ, মানসিক চাপ, উত্তেজনাপূর্ণ জীবনযাপন ও হজমের সমস্যার সঙ্গে যৌন দুর্বলতা।

Acidum Phosphoricum: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক বা শারীরিক অবসাদের পর উদাসীনতা ও যৌন দুর্বলতা।

Kali Phosphoricum: প্রধানত স্নায়বিক অবসাদ ও মানসিক পরিশ্রমের পর দুর্বলতা।

Sabal Serrulata: যৌন দুর্বলতার সঙ্গে প্রস্টেট ও প্রস্রাবের উপসর্গ।

Phosphorus: সংবেদনশীলতা, যৌন উত্তেজনা এবং যৌনক্রিয়ার পর দুর্বলতার চিত্র।

উপসংহার

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করার সময় “যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য কোন ঔষধ ভালো” এই প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগীর বিশেষ লক্ষণসমষ্টি কোন ঔষধের চিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিলে যায় তা নির্ণয় করা।

তাই যৌন দুর্বলতার ক্ষেত্রে যৌন লক্ষণের পাশাপাশি মানসিক অবস্থা, ঘুম, হজম, প্রস্রাব, প্রস্টেট, স্নায়বিক অবস্থা, রোগের কারণ এবং রোগীর সামগ্রিক ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।

দীর্ঘস্থায়ী বা নতুন করে শুরু হওয়া যৌন সমস্যার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, হরমোনের সমস্যা, রক্তনালীর রোগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, প্রস্টেটের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক কারণও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

লেখক 
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম 
ইভা হোমিও হল 
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে 
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড 
এ আর টাওয়ার 
রুম নাম্বার 01716651488

একক লক্ষণে একক ঔষধ নির্বাচন প্রথম পর্ব

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা


একক লক্ষণে মনে রাখার মতো ১০০টি প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ- প্রথম পর্ব


হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে প্রতিটি ঔষধের কিছু বিশেষ বা Keynote Symptom থাকে, যা ঔষধটির চিত্র দ্রুত মনে করতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের Repertory এবং Materia Medica অধ্যয়নে এই ধরনের সংক্ষিপ্ত লক্ষণ বিশেষ সহায়ক।

এই ধারাবাহিক সিরিজে মোট ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচিত করা হবে। আজ থাকছে প্রথম পর্বে ৫০টি ঔষধ।

১–৫০: একক লক্ষণে ঔষধ চেনার সহজ সূত্র

১. Aconitum Napellus (Aconite)
হঠাৎ ভয় ও মৃত্যুভয়।

২. Arnica Montana (Arnica)
আঘাতের পর থেতলানো ও মার খাওয়ার মতো ব্যথা।

৩. Arsenicum Album
রাতে উপসর্গ বাড়ে এবং রোগী অস্থির থাকে।

৪. Belladonna
হঠাৎ লাল, গরম ও দপদপে অনুভূতি।

৫. Bryonia Alba
নড়াচড়ায় উপসর্গ বাড়ে, স্থির থাকলে আরাম; প্রচণ্ড পিপাসা।

৬. Rhus Toxicodendron (Rhus Tox)
নড়াচড়া শুরু করলে আরাম; ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাড়ে।

৭. Nux Vomica
খিটখিটে মেজাজ; অতিরিক্ত খাবার, মদ, কফি বা অনিয়মের পর অসুস্থতা।

৮. Pulsatilla
কোমল ও কান্নাপ্রবণ স্বভাব; সান্ত্বনায় আরাম।

৯. Chamomilla
অসহনীয় খিটখিটে মেজাজ; শিশু কোলে থাকতে চায় কিন্তু তবুও শান্ত হয় না।

১০. Sulphur
গোসল অপছন্দ; হাত-পা ও শরীরে জ্বালাপোড়া।

১১. Calcarea Carbonica
মাথায় প্রচুর ঘাম, বিশেষ করে ঘুমের সময়।

১২. Lycopodium Clavatum
বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে উপসর্গ বাড়ে; পেট ফাঁপা ও গ্যাস।

১৩. Natrum Muriaticum
পুরোনো মানসিক কষ্ট মনে জমিয়ে রাখে; লবণের প্রতি আকর্ষণ।

১৪. Ignatia Amara
বারবার দীর্ঘশ্বাস; গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি।

১৫. Gelsemium Sempervirens
ভয় বা মানসিক চাপের সময় কাঁপুনি, দুর্বলতা ও অবসাদ।

১৬. Silicea
ঠান্ডা অসহ্য; পায়ে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম।

১৭. Hepar Sulphuris
সামান্য ঠান্ডাতেই অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা; পুঁজের প্রবণতা।

১৮. Mercurius Solubilis
রাতে উপসর্গ বাড়ে; অতিরিক্ত লালা ও দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম।

১৯. Phosphorus
সহজে রক্তপাত; ঠান্ডা পানি পান করতে চায়।

২০. Ipecacuanha
বারবার বমি হলেও বমিভাব কমে না।

২১. Antimonium Crudum
জিহ্বায় মোটা সাদা প্রলেপ।

২২. Carbo Vegetabilis
অত্যন্ত দুর্বল বা মুমূর্ষু ভাব; ঠান্ডা বাতাসের জন্য জানালা খুলে দিতে চায়।

২৩. China Officinalis
রক্ত বা শরীরের তরল ক্ষয়ের পর দুর্বলতা।

২৪. Colocynthis
পেটের ব্যথা শক্ত করে চেপে ধরলে আরাম।

২৫. Dioscorea Villosa
পেটের ব্যথা পিছনে বাঁকলে বা শরীর প্রসারিত করলে আরাম।

২৬. Cantharis
প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা; অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব।

২৭. Apis Mellifica
মৌমাছির হুলের মতো জ্বালা, ফোলা ও স্পর্শে সংবেদনশীলতা।

২৮. Ledum Palustre
আঘাত বা ক্ষতস্থানে ঠান্ডায় আরাম; বিশেষত puncture wound-এর keynote।

২৯. Hypericum Perforatum
স্নায়ুসমৃদ্ধ স্থানে আঘাতের পর তীব্র ব্যথা।

৩০. Ruta Graveolens
হাড়ের আবরণ, টেন্ডন ও লিগামেন্টে আঘাতের পর ব্যথা।

৩১. Symphytum Officinale
হাড়ের আঘাত ও fracture-এর পর হাড়ের পুনর্গঠনকে সমর্থন করার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে স্মরণীয়।

৩২. Drosera Rotundifolia
রাতে বাড়ে এমন খসখসে, দমবন্ধ করা কাশি।

৩৩. Spongia Tosta
শুকনো, কর্কশ ও করাতের মতো শব্দযুক্ত কাশি।

৩৪. Justicia Adhatoda
কাশি ও শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে সাঁই সাঁই শব্দ।

৩৫. Allium Cepa
নাকের স্রাব ঝাঁঝালো ও জ্বালাযুক্ত; চোখের পানি তুলনামূলক কম জ্বালাযুক্ত।

৩৬. Euphrasia Officinalis
চোখের পানি ঝাঁঝালো ও জ্বালাযুক্ত; নাকের স্রাব তুলনামূলক কম জ্বালাযুক্ত।

৩৭. Kali Bichromicum
দড়ির মতো টানটান, আঠালো কফ।

৩৮. Antimonium Tartaricum
বুকে প্রচুর কফ জমে থাকে, কিন্তু সহজে তুলতে পারে না।

৩৯. Veratrum Album
বমি ও পাতলা পায়খানার সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম ও প্রচণ্ড দুর্বলতা।

৪০. Podophyllum Peltatum
ভোরে প্রচুর ও জোরে বের হওয়া পানির মতো পায়খানা।

৪১. Aloe Socotrina
পায়খানার বেগ ধরে রাখতে পারে না; হঠাৎ টয়লেটে যেতে হয়।

৪২. Cina Maritima
নাক খোঁটা, দাঁত ঘষা ও কৃমির প্রবণতা।

৪৩. Kreosotum
দ্রুত দাঁত ক্ষয় ও দুর্গন্ধযুক্ত মুখের সমস্যা।

৪৪. Borax
উঁচু থেকে নিচে নামার সময় বা নিচের দিকে চলার সময় ভয়।

৪৫. Sanicula Aqua
ঘাড় ও পেশিতে শক্তভাব; মাথা ধরে রাখতেও অস্বস্তি।

৪৬. Thuja Occidentalis
আঁচিল ও অতিবৃদ্ধির প্রবণতা।

৪৭. Staphysagria
অপমান, অপদস্থতা বা দমিয়ে রাখা রাগের পর অসুস্থতা।

৪৮. Causticum
কাশি বা হাঁচির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যায়।

৪৯. Opium
অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব; মল-মূত্রের বেগ বা নিঃসরণ কমে যাওয়ার প্রবণতা।

৫০. Coffea Cruda
অতিরিক্ত মানসিক উত্তেজনা বা আনন্দের পর ঘুম আসে না।

মনে রাখার সহজ পদ্ধতি

একটি keynote-কে সরাসরি প্রেসক্রিপশনের নিয়ম হিসেবে না দেখে ঔষধের পূর্ণ চিত্রের প্রবেশদ্বার হিসেবে মনে রাখা ভালো।

Keynote → Modalities → Concomitants → Mental Generals → Physical Generals → Repertory → Materia Medica

পরবর্তী পর্বে থাকবে ৫১–১০০ নম্বর পর্যন্ত আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধের একক লক্ষণ।

নোট: এই তালিকা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। শুধু একটি লক্ষণের ভিত্তিতে রোগীর চিকিৎসা বা ঔষধ নির্বাচন না করে সম্পূর্ণ রোগী-চিত্র, রোগের প্রকৃতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মূল্যায়ন বিবেচনা করা উচিত।

লেখক -
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম 
ইভা হোমিও হল 
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
 আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড 
আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার 01716651488

শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬

নিউমোনিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।


Homeopathic treatment of pneumonia or lung inflammation

নিউমোনিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


নিউমোনিয়া কী, কেন হয়, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ


নিউমোনিয়া কী?


নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের একটি সংক্রমণ। এই রোগে ফুসফুসে প্রদাহ হয় এবং অনেক সময় ফুসফুসের ভেতরের ছোট ছোট বায়ুথলিতে তরল বা পুঁজ জমে যায়। ফলে রোগীর কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

নিউমোনিয়া মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে হতে পারে।

শুধু ঠান্ডা লাগা বা বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সরাসরি নিউমোনিয়া হয় না। তবে ঠান্ডা আবহাওয়া, ভিড়, ধূমপান, বায়ুদূষণ, অপুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণ

নিউমোনিয়ায় সাধারণত দেখা যায়—

- জ্বর

- কাঁপুনি বা শীত শীত ভাব

- কাশি

- কফ

- শ্বাসকষ্ট

- দ্রুত শ্বাস নেওয়া

- বুকের ব্যথা

- গভীর শ্বাস নিলে বা কাশি দিলে বুকের ব্যথা বাড়া

- শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া

- ক্ষুধা কমে যাওয়া

- অতিরিক্ত ক্লান্তি

কখনো কফের সঙ্গে হলুদ, সবুজ বা রক্তের দাগ থাকতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

শিশুর নিউমোনিয়া হলে অনেক সময় সে নিজের সমস্যা বলতে পারে না। তাই লক্ষ্য করুন—

- খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে কি না

- শ্বাস নেওয়ার সময় বুক ভেতরের দিকে ঢুকে যাচ্ছে কি না

- নাকের পাতা ফুলে উঠছে কি না

- দুধ বা খাবার খেতে পারছে কি না

- অস্বাভাবিক দুর্বল বা ঘুমঘুম হয়ে যাচ্ছে কি না

- কাশি ও জ্বর বাড়ছে কি না


এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


কারা নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হতে পারেন?


যে কোনো বয়সের মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে ঝুঁকি বেশি—


- ছোট শিশুদের

- বয়স্ক ব্যক্তিদের

- ধূমপায়ীদের

- দীর্ঘদিনের ফুসফুসের রোগীদের

- হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের

- অপুষ্টিতে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের

- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের


সাধারণ সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার পার্থক্য


সাধারণ সর্দি-কাশি অনেক সময় কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু নিউমোনিয়ায় জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।


বিশেষ করে—


জ্বর কমছে না + কাশি বাড়ছে + শ্বাসকষ্ট হচ্ছে + বুক ব্যথা করছে


—এমন হলে নিউমোনিয়ার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।


শুধু লক্ষণ দেখে সব সময় নিশ্চিত হওয়া যায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসক বুক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা বা Chest X-ray করতে দিতে পারেন।


নিউমোনিয়ার চিকিৎসা


নিউমোনিয়ার চিকিৎসা রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।


ব্যাকটেরিয়ার কারণে নিউমোনিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। গুরুতর রোগীর হাসপাতালে ভর্তি, অক্সিজেন বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।


তাই নিউমোনিয়া হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।


নিউমোনিয়ায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “নিউমোনিয়া” রোগের নাম দেখে ওষুধ নির্বাচন করা হয় না। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ, রোগের শুরু, কাশির ধরন, কফের ধরন, বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কোন অবস্থায় রোগী ভালো বা খারাপ বোধ করেন—এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়।


প্রয়োজনে Repertory ব্যবহার করে লক্ষণগুলো বিশ্লেষণ করা হয় এবং পরে Materia Medica-এর সঙ্গে মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।


নিউমোনিয়ায় বিবেচিত কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ


Aconitum napellus


রোগ হঠাৎ শুরু হওয়া, তীব্র জ্বর, অস্থিরতা, ভয় ও আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ থাকলে Aconitum-এর Materia Medica লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।


Bryonia alba


শুষ্ক কাশি, বুকের ব্যথা এবং নড়াচড়া করলে কষ্ট বেড়ে যাওয়া। রোগী চুপচাপ শুয়ে থাকতে চায় এবং কাশির সময় বুক চেপে ধরে—এমন লক্ষণ থাকলে Bryonia বিবেচনা করা হয়।


Rhus toxicodendron


ঠান্ডা বা ভেজার পর অসুস্থতা শুরু হওয়া, শরীরে ব্যথা, অস্থিরতা এবং বারবার নড়াচড়া করার প্রবণতা থাকলে Rhus toxicodendron-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।


Antimonium tartaricum


বুকে প্রচুর কফ জমে গড়গড় শব্দ হওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অনেক চেষ্টা করেও কফ বের না হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে Antimonium tartaricum গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


Lycopodium


বুকে গড়গড় বা সাঁই সাঁই শব্দ, শ্বাসকষ্ট এবং বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে লক্ষণ বাড়ার মতো বৈশিষ্ট্য থাকলে Lycopodium বিবেচনা করা হয়।


Phosphorus


কাশি, বুকের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট এবং কফের সঙ্গে রক্তের দাগের মতো বিশেষ লক্ষণ থাকলে Phosphorus-এর Materia Medica লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।


Belladonna


হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে প্রচণ্ড উত্তাপ, মুখ লাল হওয়া এবং তীব্র প্রদাহের লক্ষণ থাকলে Belladonna বিবেচনা করা হয়।


Calcarea carbonica


বিশেষ সাংবিধানিক লক্ষণ, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা এবং বারবার শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার প্রবণতা থাকলে Calcarea carbonica বিবেচনা করা হয়।


এছাড়াও লক্ষণ অনুযায়ী Ipecacuanha, Hepar sulphuris, Kali bichromicum, Kali iodatum, Kali sulphuricum, Kali carbonicum, Pulsatilla, Silicea, Sulphur, Chelidonium ইত্যাদি ঔষধ Materia Medica-তে বিবেচিত হতে পারে।


মনে রাখতে হবে, এই তালিকা কোনো রোগীর জন্য সরাসরি প্রেসক্রিপশন নয়। একই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দুই রোগীর জন্য একই ঔষধ প্রয়োজন নাও হতে পারে।


নিউমোনিয়ায় বায়োকেমিক ঔষধ


বায়োকেমিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিউমোনিয়ার বিভিন্ন লক্ষণ ও পর্যায়ে কিছু Tissue Salt ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।


Ferrum phosphoricum


জ্বর ও প্রদাহের প্রাথমিক অবস্থায় বিবেচনা করা হয়।


Kali muriaticum


সাদা কফ, জিহ্বায় সাদা আবরণ এবং catarrhal লক্ষণের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।


Kali sulphuricum


হলুদাভ কফ ও পরবর্তী পর্যায়ের catarrhal লক্ষণের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।


Natrum muriaticum


নির্দিষ্ট সাংবিধানিক লক্ষণের সঙ্গে নাক-চোখের সমস্যা, কাশি ও শ্লেষ্মার লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।


Calcarea sulphuricum


পুঁজযুক্ত স্রাব বা suppurative লক্ষণের সঙ্গে প্রচলিতভাবে বিবেচনা করা হয়।

Kali phosphoricum

অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অবসাদের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

তবে এসব চিকিৎসার কার্যকারিতা সম্পর্কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই গুরুতর নিউমোনিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?


নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে—


- প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট

- ঠোঁট বা মুখ নীল হয়ে যাওয়া

- রোগী অস্বাভাবিকভাবে ঝিমিয়ে পড়া

- বিভ্রান্তি দেখা দেওয়া

- পানি বা খাবার খেতে না পারা

- শিশুর বুক ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া

- শিশুর দুধ পান করতে না পারা

- শ্বাসকষ্ট দ্রুত বেড়ে যাওয়া

- কাশির সঙ্গে রক্ত আসা

- রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়া


বাড়িতে রোগীর যত্ন


চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি—


- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে

- পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত তরল পান করতে হবে, যদি চিকিৎসক তরল কমাতে না বলে থাকেন

- পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

- ধূমপান ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকতে হবে

- ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে

- নির্ধারিত ওষুধ নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করা যাবে না

- রোগীর জ্বর ও শ্বাসকষ্টের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে হবে


নিউমোনিয়া প্রতিরোধ


নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমাতে—


- হাত পরিষ্কার রাখতে হবে

- কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢাকতে হবে

- ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে

- ঘরের বায়ুদূষণ কমাতে হবে

- শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি দিতে হবে

- প্রয়োজনীয় টিকা নিতে হবে

- অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকলে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে


বয়স ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনুযায়ী Pneumococcal, Influenza এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া যেতে পারে।


একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ


নিউমোনিয়া অবহেলা করার মতো রোগ নয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণসমষ্টি অনুযায়ী Repertory ও Materia Medica ব্যবহার করে ঔষধ নির্বাচন করা যেতে পারে। তবে গুরুতর নিউমোনিয়ায় অক্সিজেন, অ্যান্টিবায়োটিক বা হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা বিলম্ব করা উচিত নয়।

রোগীর জীবন ও নিরাপত্তাই চিকিৎসার প্রথম অগ্রাধিকার।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য ও শিক্ষামূলক তথ্যের জন্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগীর প্রেসক্রিপশন নয়। নিউমোনিয়ার লক্ষণ থাকলে সরাসরি একজন যোগ্য ও রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক -

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার (DHMS, M.S.S.)

রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক

গভঃ রেজিঃ নং: ২৩৮৭৬

সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম 

চেম্বার -

ইভা হোমিও হল

এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯

আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

মোবাইল: 01716651488/ 01686981445

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬

একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের ডাইরি (তৃতীয় পর্ব)

Diary of a homeopathic doctor (3rd part)

একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার আজীবণ সাধনা করেন কিভাবে একজন রোগাক্রান্ত অসুস্হ মানুষটিকে দ্রুত, বিনা কষ্টে, সহজসরল উপায়ে আদর্শ আরোগ্য দেয়া যায়। এই কঠিন পথ পরিক্রমায় লেখাপড়া, অধ্যবসায় ও কঠিন পরিশ্রম প্রয়োজন হয়। একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের আজীবণের সাধনার ফসল হলো তার রেখে যাওয়া রোগীলিপি, অভিজ্ঞতা লব্ধ নোটসমুহ। নিজের জীবদ্দশায় স্বীকৃতি না পেলেও মৃত্যুর পরে একজন গুনী হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার যুগ যুগ বেচে থাকেন তার রেখে যাওয়া পান্ডুলিপির সাহায্যে। নশ্বর এই পৃথিবী থেকে কথন যে বিদায় নিতে হবে তা আমরা কেউ জানি না। মরিতে চাহি না আমি এই সুন্দর ভুবনে........। আমার প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা আপনাদের জন্য শেয়ার করলাম।
* প্রথম ও দ্বিতীয় দুই পর্বে ৫০+৫০=১০০টি অভিজ্ঞতা পেশ করা হয়েছে। আজ আমি হোমিওপ্যাথিক নবিন ডাক্তার ও হোমিওপ্যাথিক ছাত্র বন্ধুদের জন্য আমার ডাইরির কিছু অংশ পেশ করিলাম।

ü 101* ইথুজা নির্বাচক লক্ষণ- দুধ অসহ্য, বমি,হঠাৎ রোগ, আক্রমণ সাথে মৃতের মত অবস্থা, নিদ্রালুতা, শুষ্ক জিহ্বা পিপাসাহীন ইত্যাদি।

ü 102* ক্রোধের কারণে জন্ডিসে- ক‍্যামোমিলা, বালকদের পেটের বেদনায় ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া, আন্ত্রিক লক্ষণে ব্রাইয়োনিয়া উপযোগী সদৃশ ঔষধ।

ü 103* সালফারে নিদ্রাশেষে,ল‍্যাকেসিসে যতটুকু নিদ্রা ততটাই অসুস্হ হয় আর সিফিলিনামের রোগী নিদ্রার কথা ভাবতেই রোগ বৃদ্ধি দৃশ্যমান।

ü 104* সালফারে রক্তপ্রবাহের বিশৃঙ্খলা, লাকেসিসে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতা, সিফিলিনামে রক্তোচ্ছাসে উষ্ণতা শ্বাসকষ্ট,নিদ্রাভঙ্গে বৃদ্ধি।

ü 105* চায়না বা সিঙ্কোনার রোগীচিত্র- বল, বীর্য, রক্তক্ষরণে ভঙ্গস্বাস্থ্য,কুইনের কুফল, শীতার্ত, প্রবণ, অজীর্ণ, পেটফাপা, ডিসপেপসিয়া ইত্যাদি।

ü 106* আর্জেন্ট নাইট্রিকামের রোগী চিত্র- চিকন দুর্বল, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগপূর্ণ ভবিষ্যতে অমঙ্গলের ভয়, গরমকাতর, গলা শ্লেষ্মাময়, গলা খেকড়ানী স্বভাব ইত্যাদি।

ü 107* লাল বর্ণের প্রস্রাবের রোগীর সদৃশ ঔষধ- বোভিষ্টা, বেলেডোনা, লাইকোপোডিয়াম, সার্সাপ‍্যারিলা ইত‍্যাদি।

ü 108* বংশে ক‍্যানসারের ইতিহাস, সংক্রামক রোগে বারবার আক্রান্ত, দেহে অসংখ্য জড়ুল বা তিলক এই লক্ষণ সমষ্টির সদৃশ ঔষধ কার্সিনোসিন।

ü 109* পিত্তপাথুরীর জ্বালা, বেদনা, বমন ও লিভার অসুস্থতায় নক্স, চায়না, কার্ডুয়াস  ইত্যাদি বিফলেও কোলিস্টেরিনাম বিফল হয় না।

ü 110* কার্পাস লুটিয়ামের রোগীচিত্র- উপযুক্ত বয়সেও নারীত্ব অবিকশিত, ঋতু কম/ হয় না, জরায়ুর স্বাভাবিক করে বন্ধ‍্যাত্ব অবসান করে।

ü 111* নানা প্রকার ঔষধের বিষক্রিয়ায় রুক্ষ মেজাজ,কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিদ্রা দূর করতে নাক্স ভুমিকার প্রয়োজন অনস্বীকার্য।

ü 112* গর্ভস্রাব প্রবনতা আরোগ্যে সদৃশ ঔষধ- সিপিয়া, এপিস, ক্যালকেরিয়াকার্ব, স্যাবাইনা, এসিড নাই, থুজা, ইগ্নেসিয়া ইত্যাদি।

ü 113* জরায়ুর বহিনির্গমনের সদৃশ ঔষধ- সিপিয়া, লিলিয়াম, মিউরেক্স, হেলোনিয়াস, নেট্রাম কার্ব ও মিউর, পালস ইত্যাদি।

ü 114* উচ্চ শ্রেণীর শীতকাতর রোগীর সদৃশ ঔষধ- হিপার সাল্ফ, সোরিনাম, লিডাম, কেলি কার্ব, ফেরাম ফস, ক্রিয়োজোট ইত্যাদি।

ü 115* তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, ভীরুতা, উদ্বিগ্নতা, হতবুদ্ধি কোন কাজ শুরু করিতে ভয় কিন্তু শুরু করলে অনায়াসে করে, সদৃশ ঔষধটি সাইলেসিয়া।

ü 116* ভিরেট্রাম এলবামের রোগী চিত্র- পিপাসা, কপালে ঘাম, বমি ও মল, অম্লখাদ্যের ইচ্ছা, অস্হিরতা সর্বক্ষেত্রেই রোগ প্রাবল্য ইত্যাদি।

ü 117* সুনির্বাচিত ঔষধে রোগীর কোন উন্নতি না হলে প্রতিক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে সহায়ক - সালফার, সোরি, সিফিলি, মেডো, টিউবারকুলিনাম।

ü 118* রোগীর রোগ সম্পর্কে ভাবলে রোগ বৃদ্ধি, কাজে ব্যাস্ত থাকলে উপশম, সদৃশ ঔষধ ক্যালকেরিয়া ফস, এসিড আক্সা, হেলোনিয়াস ইত্যাদি।

ü 119* হেলোনিয়াস ডায়োইকার রোগী চিত্র- অলস,দুর্বল, অস্হিরতা, অন্যের দোষ ধরে, জরায়ুর দুর্বলতা, গর্ভবতীদের ডায়াবেটিস ইত্যাদি।

ü 120* বৃদ্ধ না হয়েও বৃদ্ধের ন্যায় চেহারা প্রাপ্ত রোগী দেখলেই সর্বাগ্রে আর্জেন্ট নাই সদৃশ ঔষধটি প্রয়োগের চিন্তা করা যায়।

ü 121* এসিড মিউরের রোগী চিত্র- রাগী,ভীষণ দুর্বল, মলদ্বারে স্পর্শ কাতর, ঋতুকালীন মলদ্বারে ব্যথা, প্রস্রাবের সময় মলত্যাগ বাধ্য ইত্যাদি।

ü 122* নোংরা রোগীর সদৃশ ঔষধ- সালফার,সোরিনাম, গ্রাফাইটিস এদের পার্থক্য যথাক্রমে নোংরা থাকতে পছন্দ, অসমর্থ, বোধ শক্তির অভাব।

ü 123* রোগীর সামান্য নড়াচড়া, গোলমালে, গানবাজনাও অসহ্য, রোগ যন্ত্রনা বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ: এসিড ফস।

ü 124* হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ আসে, সদৃশ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ- পেট্রোসেলিনিয়াম, ক্যান্থারিস, ক্যানাবিস স্যাটাইভা, মার্কসল ইত্যাদি।

ü 125* রোগী সামান্য প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না রেগে যায়, সদৃশ ঔষধ- ইগ্নেসিয়া, ফেরামমেট, এনাকার্ডিয়াম, কোকুলাস ইন্ডিকা ইত্যাদি।

ü 126* দুধ পানে উদরাময় হলে সদৃশ ঔষধ- ক্যালকেরিয়া কার্ব, নেট্রাম কার্ব, নিকোলাস, সালফার ইত্যাদি।

ü 127* ক্যালাডিয়াম সেগুইনামের রোগীচিত্র- কামাতুর, ধ্বজভঙ্গ, মিষ্টিঘর্ম, ধুমপান ও অতিরিক্ত যৌনকর্মের কুফল, যোনিতে চুলকানি ইত্যাদি।

ü 128* ডিজিটেলিস হৃৎপিণ্ডের রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী কিন্তু ভুল নির্বাচন ও নিম্ন শক্তিতে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

ü 129* কোনিয়ামের বিশিষ্ট লক্ষণ- অলস, নির্বোধ, উদাসীন, ক্ষীণ বুদ্ধি, যৌন আকংক্ষা দমন, অতিরিক্ত সঙ্গমের কুফলে পক্ষাঘাত ইত্যাদি।

ü 130* স্ত্রীলোকের যোনিদ্বার দিয়ে সশব্দে বায়ু নির্গত হলে সদৃশ ঔষধ- লাইকোপোডিয়াম, ল্যাক ক্যান, ব্রোমিয়াম ইত্যাদি।

ü 131* সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়া ক্রনিক রোগীর চিকিৎসা এন্টিসোরিক সদৃশ ঔষধ দ্বারা শুরু করা উচিত। এ ক্ষেত্রে লাইকোপোডিয়াম দেয়া নিষেধ।

ü 133* কার্যের সাথে যেমন কারণের সম্পর্ক, হাইড্রোজেনয়েড ধাতুর রোগীর সাথে সাইকোসিস মায়াজমের সম্পর্ক তেমন।

ü 134* সামান্য ব্যাথা, আবেগ, পরিশ্রমের কারণে মুখমণ্ডল, গাল গলায় রক্তিম আভায় সদৃশ ঔষধ- জেলস, কোকা, এমিল নাইট্রেট ইত্যাদি।

ü 135* মানসিক আঘাত পেয়ে যক্ষ্মা- আর্নিকা, ইগ্নেশিয়া, নেট্রাম মিউর, ফসফরিক অ্যাসিড।

ü 136* ভারী বোঝা উত্তলন করিয়া পা ফসকাইয়া পড়িয়া,উচু থেকে নীচু নামিয়া অথবা কোমরে কোন প্রকার আঘাত লাগিয়া কোমর টনকিয়া গেলে, উঠিতে, বসিতে, দাড়াইতে, চলিতে ব্যথা হইলে আর্নিকা অব্যর্থ।

ü 137* সর্দির কারনে নাক বন্ধ থাকলে নাক্স ভুমিকা বিশেষ ফলদায়ক। নাক্স বিফল হলে সাম্বুকাস প্রায়ই বিফল হয় না।

ü 138* নাকে সর্দি বুকে ঘড়ঘড় করে নাকের দুইপাতা একবার উঠে একবার নামে এইরুপ উঠানামা লক্ষণসহ সর্দিতে নাক বন্ধ থাকার কারণে শিশু স্তন্য পান করিতে পারে না সেই শিশুর জন্য লাইকোপোডিয়াম উপযোগী।

ü 139* ইগ্নেসিয়ার অদ্ভুত লক্ষণ- ১)ভরপুর আহারের পরেও পেট যেন খালি। ২) সঙ্গীতের শব্দে কাণের সোঁ সোঁ শব্দের অবসান হয়। ৩)কোনকিছু চিবালে দাতের ব্যাথা কমে। ৪)ভ্রমনে অর্শের বেদনার অবসান। ৫)ধ্বজ ভঙ্গ রোগীর সঙ্গমের ইচ্ছা প্রবল। ৬)জ্বরে শীতকর অবস্হায়। জলপান করে কিন্তু উত্তাপে পীপাসাহীণ। ৭)কাশিলে কাশির আরও বৃদ্ধি। ৮)গঠনে পুরুম কিন্তু স্বভাবে স্ত্রী।

ü 140* মুখে জল উঠার সদৃশ ঔষধ সমুহ- এবিস নাইগ্রা, এসেটিক এসিড, এন্টিম ক্রুড, ব্রাইয়োনিয়া, ক্যালকেরিয়া কার্ব, কার্বোভেজ, লাইকোপোডিয়াম, নেট্রাম কার্ব, নাক্স ভুমিকা, রবিনিয়া উত্যাদি লক্ষণ ভেদে উপযোগী।

ü 141* গর্ভাবস্হায় লালা স্রাবের সদৃশ ঔষধ- পালসেটিলা, সাইক্লামেন, আইরিস ভার্স, কেলিবাই ক্রম, ইপিকাক, সালফার, মারআক সল, নেট্রাম মিউর ইত্যাদি।

ü 142* হলুদ বর্ণের গাঢ়, অল্প প্রস্রাব, চক্ষু হলুদ, মুখে তিক্ত স্বাদ, মাঝে মাঝে বমি, বমি ভাব। কোষ্ঠবদ্ধতা,মল গাটগাট হয়ে নির্গত হয়। লিভারের স্হানে বেদনা। ডানপাশে শুইতে অক্ষমতা ইত্যাদি লক্ষণে কার্ডুয়াস মেরি উপযোগী। 

ü 143* অতিরিক্ত কুইনাইন সেবন জনিত কারণে জন্ডিস হলে নাক্স ভুমিকা উপযোগী। 

ü 144* যে সকল রোগী লাজুক স্মরণশক্তি কম তাদের জন্য এম্ব্রাগ্রেসিয়া উপযোগী। যে সকল রোগী অফিসের বস কিংবা উন্টারভিউ বোর্ডের কাছে উপস্হিত হতে ভয় পায়, সংখ্যা মনের থাকে না বিশেষ করে বৃদ্ধদের স্মরণশক্তি বুদ্ধিতে এম্ব্রাগ্রেসিয়া উপযোগী।

ü 145* তৃষ্ণাহীন রোগীর সদৃশ ঔষধ- ইস্কুলাস, এনাকার্ডিয়াম, এমোন মিউর, এন্টিমক্রুড, এন্টিমটার্ট, এপিস, আর্জেন্ট নাই আর্সেনিক এলবম, অ্যাসাফিটিডা, বেলেডোনা, ফেরাম ফস,জেলসিমিয়াম, হেলেবোরাস, ইপিকাক, কেলি কার্ব,ওপিয়াম, পালসেটিলা, রাসটক্স, স্যাবাডিলা, সিপিয়া, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া ইত্যাদি।

ü 146* নাক,অর্শ, গলক্ষত ইত্যাদি ছিদ্রপথে প্রচুর রক্তক্ষরণের প্রবনতা, ঠান্ডা পানি দিলে রক্তক্ষরণ বৃদ্ধিতে সদৃশ ঔষধ এমোনিয়াম কার্ব।

ü 147* মুত্রযন্ত্রের পীড়ায় ক্যান্থারিস ও এপিস মেল ঔষধ দুইটি নির্বাচনে পার্থক্য হলো ক্যান্থারিসের জ্বালাপোড়া এপিসের হুলফোটানো বেদনা।

ü 148* হৃৎপিণ্ডের যাবতীয় রোগ ডানপাশে শয়নে বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ- ক্যালমিয়া, প্লাটিনাম, স্পঞ্জিয়া আর্জেন্ট নাইট্রিকাম ইত্যাদি।

ü 149* কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঋতুসল্প তায় গ্রাফাইটিস প্রয়োগের জন্য রোগীর চর্মরোগ বর্তমান অথবা চর্মরোগের ইতিহাস বিদ্যমান থাকা জরুরি।

ü 150* শরীরের ডানদিকে রোগাক্রমন এর সদৃশ ঔষধ- একোনাইট, ইস্কুলাস, অ্যাগ্নাস, অ্যালুমিনা, অ্যামোনকার্ব, এপিস, আর্জেন্টাম মেট, আর্সেনিক, অরামমেট, ব্যাপটিসিয়া, বেলেডোনা, বিসমাথ, বোরাক্স, ব্রাইওনিয়া, ক্যালকেরিয়া, ক্যালকেরিয়া ফস, ক্যান্থারিস, কষ্টিকাম, চেলিডোনিয়াম, ককুলাস, কলচিকাম, কলোসিন্হ, কোনিয়াম, ক্রোটেলাস, ড্রসেরা, হিপার সাল্ফ, ইগ্নেসিয়া, ইপিকাক, আইরিস, ম্যাগ্নেসিয়া মিউর ম্যাঙ্গানাম, মার্কুরিয়াস, নেট্রাম কার্ব, নাক্স মশ্চেটা, নাক্স ভুমিকা, পেট্রোলিয়াম, প্লাম্বাম, পডোফাইলাম, পালসেটিলা, র‌্যানানকুলাস, স্যাবাইনা, স্যাঙ্গুনেরিয়া, সার্সাপ্যারিলা, সিকেল, সাইলিসিয়া, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফএসিড, টিউক্রিয়াম, জিঙ্কাম ইত্যাদি।

*শরীরের বামদিকে রোগাক্রমণ এর সদৃশ ঔষধ- অ্যালিয়াম সেপা, অ্যানাকার্ডিয়াম, অ্যান্টিমক্রড, অ্যান্টিমটার্ট, আর্জেন্টামনাইট, আর্নিকা, অ্যাসাফোটিডা, অ্যাসারাম, বার্বারিস, ব্রোমিয়াম, ব্রায়োনিয়া, ক্যাপসিকাম, ক্যামোমিলা, চেলিডোনিয়াম, চায়না, সিমিসিফুগা, সিনা, ক্লিমেটিস, কলচিকাম, কলোসিন্হ, ক্রোটনটিগ, কুপ্রম, ডালকামারা, ইউফ্রেসিয়া, ফেরামফস, গ্রাফাইটিস, গুয়েকাম, ক্রিয়োজোট, ল্যাকেসিস, মার্কুরিয়াস, মিউরিয়েটিক এসিড, গুলিয়েন্ডার, ফসফরাস, রডোডেনড্রন, স্যাবাইনা, সেলিনিয়াম, সিপিয়া, সাইলিসিয়া, স্পাইজিলিয়া, স্ক্রুইলা, স্টানাম, সালফার, থুজা ইত্যাদি।

ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮