জনপ্রিয় পোস্ট

বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

ঘামের হোমিওপ্যথিক চিকিৎসা

ঘর্ম চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি 

 ঘামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন ও রেপার্টরি নির্দেশনা

ঘাম বা Perspiration শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার একটি অংশ। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত, অস্বাভাবিকভাবে কম, নির্দিষ্ট সময়ে বা শরীরের বিশেষ কোনো অংশে ঘাম হওয়া কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

তাই ঘাম নিজে সবসময় একটি স্বতন্ত্র রোগ নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার একটি উপসর্গ। অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, বয়স, পরিবেশ, ওজন, ওষুধ সেবন, হরমোনজনিত সমস্যা এবং অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কেবল “বেশি ঘাম” দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, ঘামের স্থান, সময়, গন্ধ, প্রকৃতি, কারণ, সহগামী উপসর্গ এবং সামগ্রিক রোগচিত্র বিবেচনা করা হয়।

জ্বরের সঙ্গে ঘাম:
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

জ্বরের সময় অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘাম শুরু হয়ে রোগীর অস্বস্তি ও জ্বর কমতে থাকলে সেটি সাধারণত রোগের স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।

অন্যদিকে জ্বর বা গুরুতর অসুস্থতার সময়ে হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা, তীব্র দুর্বলতা বা অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বিশেষ সতর্কতা: 

হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম ও বুকব্যথা/শ্বাসকষ্ট/অজ্ঞানভাব থাকলে এটিকে শুধু “ঘামের উপসর্গ” হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ঘামের গুরুত্বপূর্ণ ধরন ও হোমিওপ্যাথিক ঔষধের লক্ষণ

নিচের ঔষধগুলো কোনো নির্দিষ্ট রোগের “নিশ্চিত চিকিৎসা” হিসেবে নয়; বরং প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও repertory-তে বর্ণিত লক্ষণচিত্রের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।

১. Silicea

শীতকাতর রোগীর হাত ও পায়ের তালুতে অতিরিক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম Silicea-এর একটি পরিচিত লক্ষণচিত্র।

বিশেষ করে পায়ের ঘামের সঙ্গে দুর্গন্ধ এবং সামগ্রিকভাবে শীতকাতরতা থাকলে রোগীর অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে Silicea বিবেচনা করা হয়।

২. Caladium

ঘামের বিশেষত্ব হিসেবে মিষ্টি বা sweetish ধরনের গন্ধ এবং ঘামে মাছি আকৃষ্ট হওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়।

শুধু ঘামের গন্ধ নয়—রোগীর অন্যান্য সাধারণ ও বিশেষ লক্ষণ মিলিয়ে Caladium নির্বাচন করা উচিত।

৩. Nitric Acid

শীতকাতর, খিটখিটে বা ক্রুদ্ধ স্বভাবের রোগীর ক্ষেত্রে—

- হাত-পায়ে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম
- বগলে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম
- প্রস্রাবে তীব্র গন্ধ
- পায়ের ঘামের সঙ্গে আঙুলের ফাঁকে ক্ষত বা চর্মসমস্যা

ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য থাকলে Nitric Acid-এর লক্ষণচিত্র বিবেচনা করা হয়।

৪. Calcarea Carbonica

বিশেষ করে—

- স্থূল বা মেদবহুল গঠন
- শরীরের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত ঘাম
- মাথায় বেশি ঘাম
- টক গন্ধযুক্ত মাথার ঘাম
- ঘামে বালিশ ভিজে যাওয়া

ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য থাকলে Calcarea Carbonica-এর সঙ্গে লক্ষণগত মিল পাওয়া যেতে পারে।

৫. Acidum Lacticum

হাতের তালু বা পায়ের তালুতে প্রচুর ঘাম, কিন্তু ঘামে উল্লেখযোগ্য দুর্গন্ধ নেই—এমন ক্ষেত্রে Acidum Lacticum-এর লক্ষণচিত্র বিবেচনা করা হয়।

৬. Veratrum Album

কপালে ঠান্ডা ঘাম Veratrum Album-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচিত লক্ষণ।

বিশেষ করে গুরুতর দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া, শক-সদৃশ অবস্থা বা অন্যান্য তীব্র উপসর্গের সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।

৭. Bovista

শীতকাতর রোগীর বগলের ঘামে রসুনের মতো গন্ধ থাকলে Bovista-এর লক্ষণচিত্রের সঙ্গে মিল পাওয়া যেতে পারে।

৮. Psorinum

Materia Medica-তে Psorinum-এর ক্ষেত্রে—

- অতিরিক্ত শীতকাতরতা
- অপরিচ্ছন্নতার প্রবণতা
- গোসলের প্রতি অনীহা
- শরীরের দুর্গন্ধ
- দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম

ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে।

তবে কোনো ব্যক্তির পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসকে রোগ নির্ণয়ের একমাত্র ভিত্তি করা উচিত নয়; সম্পূর্ণ রোগচিত্র বিবেচনা করা জরুরি।

৯. Conium

চোখ বন্ধ করে ঘুমের তন্দ্রা আসার সময় সারা শরীরে ঘাম শুরু হওয়া Conium-এর একটি বিশেষ লক্ষণ হিসেবে repertory-তে পাওয়া যায়।

১০. Thuja

ঘুমের সময় শরীরে ঘাম হওয়া এবং ঘুম ভেঙে গেলে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া—এই বিশেষ modality Thuja-এর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

রোগীর অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।

১১. Sambucus Nigra

Sambucus-এর একটি বিশেষ লক্ষণচিত্র হলো—

ঘুমের সময় শরীর শুষ্ক থাকে, কিন্তু ঘুম থেকে জাগার পর ঘাম শুরু হয়।

রেপার্টরিতে “perspiration on waking” এবং ঘুমের সঙ্গে ঘামের বিভিন্ন modality-তে Sambucus-এর উল্লেখ রয়েছে।

ঘামের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য করতে হবে

একজন রোগীর ঘাম বিশ্লেষণের সময় শুধু “কত বেশি ঘাম হয়” তা জানা যথেষ্ট নয়। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো কেসটেকিংয়ের অংশ হওয়া উচিত।

১. ঘামের স্থান

- মাথা
- মুখ
- কপাল
- বগল
- হাতের তালু
- পায়ের তালু
- বুক
- পিঠ
- সারা শরীর
- শরীরের এক পাশ

২. ঘামের সময়

- সকালে
- দুপুরে
- বিকেলে
- সন্ধ্যায়
- রাতে
- মধ্যরাতে
- ঘুমের সময়
- ঘুম থেকে জাগার পর
- চোখ বন্ধ করলে
- খাবারের পর
- হাঁটার সময়
- সামান্য পরিশ্রমে
- মানসিক উত্তেজনায়

৩. ঘামের প্রকৃতি

- ঠান্ডা
- গরম
- আঠালো বা clammy
- অতিরিক্ত
- অল্প
- হঠাৎ
- দীর্ঘস্থায়ী
- দুর্বলতাকারী

৪. ঘামের গন্ধ

- দুর্গন্ধযুক্ত
- টক
- মিষ্টি
- পচা
- রসুনের মতো
- সালফারের মতো
- প্রস্রাবের মতো
- মাছের মতো
- গন্ধহীন

৫. ঘামের সঙ্গে কী ঘটে?

- ঘামের পর দুর্বলতা
- ঘামের সঙ্গে শীত শীত ভাব
- ঘামের পর জ্বর কমে
- ঘামে উপসর্গ কমে
- ঘামের সময় উপসর্গ বেড়ে যায়
- ঘুমের সঙ্গে সম্পর্ক
- পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পর্ক

Kent Repertory অনুযায়ী ঘামের গুরুত্বপূর্ণ Rubric

Kent Repertory-তে PERSPIRATION অধ্যায়ের অধীনে ঘামের স্থান, সময়, প্রকৃতি, গন্ধ, কারণ ও modality অনুযায়ী বহু rubric রয়েছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ rubric হলো:

Perspiration in general
Perspiration, daytime
Perspiration, during sleep
Perspiration, on closing the eyes
Perspiration, on waking
Perspiration, cold
Perspiration, clammy
Perspiration, profuse
Perspiration, offensive
Perspiration, sour
Perspiration, sweetish
Perspiration, oily
Perspiration, after exertion
Perspiration, during fever
Perspiration, during sleep
Perspiration, while walking
Perspiration, single parts
Perspiration, covered parts
Perspiration, one-sided

এই rubric-গুলো ব্যবহার করে রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঔষধসমূহকে repertorize করা যায়।

সামান্য পরিশ্রমে অতিরিক্ত ঘাম

সামান্য হাঁটা, কাজ, কথা বলা বা মানসিক পরিশ্রমেই যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘাম হয়, তাহলে এটিকে শুধুমাত্র একটি হোমিওপ্যাথিক লক্ষণ হিসেবে না দেখে দুর্বলতা, স্থূলতা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত গরম পরিবেশ, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত পরিবর্তন বা অন্যান্য শারীরিক কারণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রেপার্টরি অনুযায়ী exertion-এর সঙ্গে ঘামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঔষধের উল্লেখ রয়েছে; তবে রোগীর সম্পূর্ণ কেসের সঙ্গে মিল ছাড়া শুধু একটি rubric-এর ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত নয়।

ঘামের গন্ধ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হোমিওপ্যাথিক কেসটেকিংয়ে ঘামের odor একটি গুরুত্বপূর্ণ characteristic symptom হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ:

Offensive perspiration: Silicea, Nitric Acid, Sulphur, Thuja, Mercurius, Psorinum প্রভৃতি ঔষধের লক্ষণচিত্রে পাওয়া যায়।

Sour perspiration: Calcarea Carbonica, Silicea, Lycopodium, Nitric Acid, Sulphur, Veratrum Album প্রভৃতি ঔষধের সঙ্গে repertory-তে সম্পর্ক পাওয়া যায়।

Sweetish perspiration: Caladiumসহ কয়েকটি ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।

তবে একই rubric-এ অনেক ঔষধ থাকায় একটি মাত্র লক্ষণ দিয়ে চূড়ান্ত ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।

ঘামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূলনীতি

হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে রোগীর ক্ষেত্রে শুধু “অতিরিক্ত ঘাম” নয়, বরং—

রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য + ঘামের স্থান + সময় + কারণ + গন্ধ + প্রকৃতি + modality + সহগামী উপসর্গ + সাধারণ লক্ষণ

একত্রে বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

অর্থাৎ,

“ঘাম বেশি = একটি নির্দিষ্ট ঔষধ”

এমন সরল সূত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।

বায়োকেমিক দৃষ্টিতে Natrum Muriaticum

অল্প পরিশ্রমেই প্রচুর ঘাম এবং ঘামের পর দুর্বলতা অনুভূত হওয়া—এমন রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে লবণের প্রতি আকর্ষণসহ অন্যান্য সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষণ থাকলে Natrum Muriaticum-এর বায়োকেমিক/হোমিওপ্যাথিক লক্ষণচিত্র বিবেচনা করা হয়।

এখানেও শুধু ঘাম ও লবণপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্ধারণ না করে সম্পূর্ণ রোগচিত্র মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সতর্কতা

অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক ঘামের পেছনে কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে নিচের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

- হঠাৎ অস্বাভাবিক ঠান্ডা ঘাম
- বুকব্যথা বা বুক চাপ লাগা
- শ্বাসকষ্ট
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
- দীর্ঘদিন ধরে রাতে অতিরিক্ত ঘাম
- অকারণে ওজন কমে যাওয়া
- দীর্ঘস্থায়ী জ্বর
- অতিরিক্ত হৃদস্পন্দন
- হাত কাঁপা
- অস্বাভাবিক তৃষ্ণা বা প্রস্রাব
- নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর অতিরিক্ত ঘাম

এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা, হৃদ্‌যন্ত্র বা অন্যান্য চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

উপসংহার

ঘাম একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও এর পরিমাণ, স্থান, সময়, গন্ধ, প্রকৃতি এবং সহগামী উপসর্গ রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঘামের একটি মাত্র লক্ষণকে কেন্দ্র করে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ symptom picture তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী repertory ও Materia Medica-এর সাহায্যে ঔষধ নির্বাচন করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক কেসটেকিং → সঠিক লক্ষণ নির্বাচন → সঠিক repertorization → Materia Medica দ্বারা যাচাই → তারপর ঔষধ নির্বাচন।

লেখক 

ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার

ইভা হোমিও হল

এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার- ৯

আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,

বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে

বাইপাইল, সাভার, ঢাকা

Govt. Reg. No. 23876


মোবাইল - 01716651488

হস্ত-মৈথুনের কুফলের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Homeopathic treatment for ill effects of over masturbation

হস্তমৈথুন একটি কু-অভ্যাস এর কারনে ছেলেমেয়েরা জীবনের শুরুতেই যে ক্ষতি করে তাহা বলে শেষ করা যাবে না।এই সর্বনাশা অভ্যাসের ফলে শরীরের যে ক্ষতি হয় তার ফলে শারীরিক ও মানসিক উভয় শক্তিই হারায়।দেহ জীর্ণশীর্ণ হয়। যৌবনের লাবন্য হারানোর ফলে ক্ষুধামন্দা,বিষন্নতা,উদাসীনতা প্রভৃতি উপসর্গ দেথা দেয়।যদি কোন কিশোর কিশোরীকে এই কুফলের কথা আমরা বুঝাতে পরি তবে অনেক সহজেই হস্তমৈথুনের মত কু-অভ্যাস হতে রক্ষা করতে পারব।
কারণ সমুহ
উপযুক্ত শিক্ষার অভাব,অসৎসঙ্গ, বা বন্ধুদের কুপ্ররোচনা, লিঙ্গের চর্মে চুলকানী ইত্যাদি কারনে হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত হয়।শিশুকালে প্রথমে নিজের অজান্তেই যৌনাঙ্গে হাত দিতে দিতে মনের মাঝে আনন্দ উপলদ্ধি করে।এক ধরনের সুখানুভুতি থেকে শুরু করে।একদিন কিশোর-কিশোরীগন ক্ষণিক সুখ লাভের প্রত্যাশায় ইহাতে অভ্যস্হ হয় এবং ক্রমে ক্রমে ইহা কু-অভ্যাসে পরিণত হইয়া তাহাদের স্বাস্থ্য ক্ষয় করিয়া থাকে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধসমুহের লক্ষণভিত্তিক আলোচনা 

অরাম মেট
অতিরিক্ত হস্ত-মৈথুনের কুফলে স্বপ্নদোষ, অনৈচ্ছিক রেতঃপাত, ধাতুদৌর্বল্য ও ধ্বজভঙ্গ এইরুপ নানা দুর্বলতা,জীবনের প্রতি ঘৃণা অত্ম হত্যার ইচ্ছা অর্থাৎ আরাম মেটের সকল লক্ষণ যখন এসে যায় তখন অরাম মেট প্রয়োগ জরুরী।


ক্যালকেরিয়া কার্ব
হস্তমৈথুনের কুফল দুরকরে ক্যালকেরিয়া কার্ব যৌনশক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ।বিশেষত মোটা,থলথলে স্বাস্থ্যের অধিকারী লোকদের বেলায় এটি ভালো কাজ করে।সাধারণতঃ নাক্স ভমিকা ও সালফারের পরে ব্যবহৃত হয়।অত্যধিক সঙ্গম অহেতুক ইচ্ছা, সঙ্গমকালে লিঙ্গ সম্পূর্ণ দৃঢ় হয় না,উপযুক্ত সময়ের পূর্বে অথবা অসম্পূর্ণ রেতঃস্খলন হয়।সঙ্গমের পর ঘর্মস্রাব,সঙ্গমের পর দৈহিক ও মানসিক দুর্বলতা দেখা দিলে ক্যালকেরিয়া কার্ব প্রয়োজন হয়।

সিঙ্কোনা বা চায়না
অত্যধিক রেতঃক্ষয়বশতঃ দুর্বলতা হজম শক্তির অভাব,অত্যন্ত দুর্বল এই সকল লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে দেখা দেয় তার পরম বন্ধু চায়না।

ডায়োস্কোরিয়া
লিঙ্গ এরূপ শিথিল হইয়া পড়ে যে, এক রাত্রেই ২/৩ বার স্বপ্নদোষ হয় এবং তৎপর দিন রোগী দুর্বলতা অনুভব করে, বিশেষতঃ জানুদ্বয় বিশেষ দুর্বল হইয়া পড়ে সেই রোগীর জন্য এই ঔষধটি অতিজরুরী।

লাইকোপোডিয়াম
হস্ত-মৈথুনের ফলে সম্পূর্ণ ধ্বজভঙ্গ।লিঙ্গ উত্থান আদৌ হয় না বা আংশিক হয়।লিঙ্গ শীতল ও ছোট।স্ত্রী সহবাসে অক্ষম।সেই রোগীর পেটফাপাসহ লাইকোপোডিয়ামের লক্ষণ সমষ্টি দেখা দিলে অত্যন্ত কার্য়করী।

নাক্স ভুমিকা
ইহা হস্ত-মৈথুনের কুফলের প্রথম অবস্থায় শ্রেষ্ঠ ঔষধ।রোগীর শিরঃপীড়া, রাত্রিকালে বিশেষতঃ সকালের দিকে প্রায়ই অনৈচ্ছিক রেতঃক্ষয়।ইহাতে উন্নতি ক্ষান্ত হইলে প্রায়শঃ সালফার নির্দিষ্ট হইবে এবং তৎপরে ক্যাল্কেরিয়া কার্ব ও লাইকোপোডিয়াম।

এসিড ফস
অত্যধিক ইন্দ্রিয়পরায়ণতার দূরবর্তী কুফলে ইহা (তরুণ অবস্থায় – সিঙ্কোনা )বিশেষ উপযোগী।সম্পূর্ণ দেহ দুর্বল বোধ হয় ;রোগী শিরোঘূর্ণন বশতঃ মনে করে সে পড়িয়া যাইবে,শয়ন করিয়া থাকিলে সে মনে করে যে তাহার পদদ্বয় ঊর্ধ্বে উঠিতেছে।তাহার জননেন্দ্রিয় সমূহ শিথিল হইয়া ঝুলিয়া পড়ে।সঙ্গম কালে অতিসত্বর বীর্যপাত।প্রস্রাব অথবা মলত্যাগ প্রচেষ্টায় রেতঃস্খলন হয়।লিঙ্গ আদৌ উত্থিত হয় না বা অসম্পূর্ণ ভাবে উত্থিত হয়।রোগী তাহার অণ্ডকোষের উপর পিপীলিকা সঞ্চালনানুভুতি অনুভব করে ।পদদ্বয় ও পৃষ্ঠদেশ অতিশয় দুর্বল, চলিতে গেলে থর থর করিয়া কম্পিত হয়।

ষ্টেনাম মেট
হস্ত-মৈথুনের কুফলে পক্ষাঘাত হলে সেই পক্ষাঘাতের রোগীর চিকিৎসায় ষ্টানাম মেট জরুরী।

ষ্টেফিসেগ্রিয়া
ইহা স্ত্রীলোক ও পুরুষদিগের হস্ত-মৈথুনের কুফলে অপর একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ ।পুরুষদিগের অতিশয় শীর্ণতা, চক্ষুর চতুর্দিকে কালিমা চক্র, বিবর্ণ ও পিঙ্গলাভ মুখ, বিশেষ লাজুক ও খিটখিটে প্রকৃতির এবং বিষণ্ণ ।নিঃসঙ্গতা ভালবাসে এবং স্ত্রীলোক সম্বন্ধে লাজুক।স্ত্রীলোকদিগের গর্ভাশয় বা ডিম্বকোষ সংক্রান্ত লক্ষণাদি।

সালফার

ইহা প্রায়শই নাক্স ভমিকার অনুপূরক।ইহার রোগী দুর্বল ও ক্ষীণ এবং তৎসহ পাকাশয়িক লক্ষণাদি দেখা দেয়।রোগীর মূর্ছার ভাব,উত্তাপের ঝলক,হাত পা ঠান্ডা এবং মাথায় উত্তাপ বোধ।বীর্য ক্ষীণ ও জলবৎ এবং গন্ধশূন্য প্রায়ই রাত্রিকালে অনৈচ্ছিক রেতঃস্খলন এবং তাহার ফলে রোগী প্রাতঃকালে অবসন্ন হইয়া পড়ে।লিঙ্গাদি শিথিল, কচিৎ উত্থিত হয় ।লিঙ্গ-মুণ্ড শীতল।সঙ্গমের চেষ্টা করিলে অতি শীঘ্র,পায়ই স্পর্শ মাত্র,রেতঃস্খলিত হয়।

জিঙ্কাম মেট
জননেন্দ্রিয় মধ্যে স্থানীয় উত্তেজনা ,বীর্যস্খলনে নিবৃতি ইত্যাদি লক্ষন বিবেচনায় জিঙ্কাম মেট উপযোগী।

কোবাল্টাম
খনিজ ধাতব উপাদান হতে তৈরী একটি সদৃশ ঔষধ। যাহা কোমর বেদনার সদৃশ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।তবে বিশেষ করে স্ত্রীসহবাসের পরে বা স্বপ্নদোষের পরে কোমর বেদনা হলে ব্যবহৃত হয়।রোগীর যদি বসিয়া থাকলে বেদনা বৃদ্ধি পায় এবং দাড়াইলে,চলাফেরা করিলে ও শুইয়া থাকলে আরাম বোধ করে তবে কোবাল্টাম উপযুক্ত ঔষধ।

জেলসিমিয়াম
রোগীর সঙ্গম-শক্তি বিশেষ ভাবে (প্রায় ধবভঙ্গের মত) হ্রাস হইয়া পড়ে।রাত্রিকালে লিঙ্গাদির শিথিলতাসহ, কামোত্তেজনা ব্যতীত প্রায়ই অনৈচ্ছিক রেতঃপাত এবং প্রায়ই অণ্ডকোষে শীতল ঘর্মের উদ্ভব হয়।

প্ল্যাটিনা
বিষণ্ণ ও মন মরা প্রকৃতির,শীর্ণতা,মৃগীরোগের ন্যায় আক্ষেপ বা খেঁচুনি। প্রায়ই সজ্ঞান থাকে ; চক্ষু কোটরাগত এবং হরিদ্রাভ চর্ম, মুখ বিবর্ণ ও চুপসান। কিশোরদিগের হস্ত-মৈথুনের কুফলে ইহা একটি বিশিষ্ট ঔষধ।

ক্যালাডিয়াম সেগা
অতিরিক্ত হস্ত-মৈথুনের ফলে লিঙ্গ শিথিল হইয়া পড়ে।লিঙ্গ-মুণ্ডের চর্মের ঈষৎ উম্মুক্ত করিলেও তাহা তৎস্থানেই অবস্থান করে,স্বয়ং সঙ্কুচিত হয় না।রাত্রিকালে স্বপ্নে অথবা বিনা স্বপ্নে কামোত্তেজনা ব্যাতিরেকে রেতঃস্খলন।বালিকাদিগের যোনিমধ্যে ক্রিমি প্রবিষ্ট হইয়া তাহাদের উত্তেজনায় হস্ত-মৈথুনের চিকিৎসায় ইহা শ্রেষ্ঠ ঔষধ।হস্ত-মৈথুনের পর মানসিক অবসাদ এবং পদদ্বয়ের দুর্বলতা।হস্ত-মৈথুনের ফলে মুখে-ব্রুণ।

বোরিকের রেপার্টরির সাহায্যে সদৃশ ঔষধ নির্বাচন

MASTURBATION
ILL effects
Agn., Anac., Apis, Arg. m., Bellis, Calad., Calc. c., Calc. p., Cinch., Con., Diosc., Gels., Graph., Grat., Kali br., Lyc., Nat. m., Nux v., Phos. ac., Picr. ac., Plat., Salix n., Staph., Still., Sul., Tab., Thuya, Tribul., Ustil., Zinc. m., Zinc. oxyd.

মহিলাদের

MASTURBATION
In children,due to pruritus vulvć
- Calad., Orig., Zinc. m.
ONANISM, from : Agar.,alum.,ambr.,anac., ant-c.,arg-m.,ars.,bov.,bufo-r.,calad.,calc-s.,Calc.,carb-v.,Chin., Cocc., Con., dig., ferr., Gels., hyos., iod., kali-c., kali-p., lyc., mag-p., merc-c., merc., mosch., nat-c., nat-m., Nat-p., nux-m., nux-v., Orig., petr., Ph-ac., phos., plb., puls., Scil., Sel., Sep., sil., spig., Staph., Sulph.

উপসংহা

হস্তমৈথুন পুরুষের একটি কু-অভ্যাস।এটি একটি জঘন্য অভ্যাস। এ অভ্যাসটি ত্যাগ করা জরুরী। এর কুফলে নপুংশক হয়ে যাবেন। পুষ্টিকর আহার ও সুচিকিৎসা নিলে এ রোগ মুক্তিতে হতাশার কোন করন নেই।সহজেই আরোগ্য হয়। মনে রাখতে হবে যেখানে সেখানে অপচিকিৎসা দ্বারা যাতে ক্ষতিগ্রস্হ না হন।রাস্তার পাশে চটকদার কোন পোষ্টার দেখে ভন্ড প্রতারকদের হাতে পরে হাজার হাজার রোগী ক্ষতিগ্রস্হ হয়। ভুলেও এ দের হাতে রোগ চিকিৎসার জন্য যাবেন না। যারা ভুলে হস্তমৈথুনের অভ্যাস করেছেন আজই ইহা ত্যাগ করুন। আর যারা ক্ষতিগ্রসণ হয়েছেন শীঘ্র হস্তমৈথুন ত্যাগ করার পাশাপাশি একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিন।



ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

হাত কাঁপা ও রাইটার্স ক্র্যাম্পের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হাত কাঁপা ও রাইটার ক্র্যাম্পের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

হাত কাঁপা ও রাইটার্স ক্র্যাম্পের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


হাত কাঁপা কী?

হাত কাঁপা বা Trembling একটি সাধারণ সমস্যা। হাত স্থির রাখতে গেলে, কোনো জিনিস ধরতে গেলে, লিখতে গেলে বা টাইপ করতে গেলে হাত কাঁপতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে মাথা, পা বা শরীরের অন্য অংশও কাঁপতে দেখা যায়।

বিশেষ করে লেখার সময় হাত বা আঙুল কাঁপা, শক্ত হয়ে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া বা কলম ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাকে Writer’s Cramp বা লেখকের হাতের খিঁচুনি বলা হয়।

এ সমস্যা লেখক, শিক্ষক, হিসাবরক্ষক, টাইপিস্ট, কম্পিউটার ব্যবহারকারীসহ যাদের দীর্ঘ সময় সূক্ষ্ম হাতে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য খুব কষ্টকর হতে পারে।

হাত কাঁপার কারণ এক নয়। তাই শুধু “হাত কাঁপে” এই একটি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর অন্যান্য লক্ষণও জানা দরকার।

রোগীর কাছ থেকে কী কী জানতে হবে?

হাত কাঁপার রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে জানতে হবে—

কাঁপুনি কখন হয়?

- বিশ্রামে কি হাত কাঁপে?
- কোনো জিনিস ধরলে কি কাঁপে?
- লিখতে গেলে কি বেশি কাঁপে?
- টাইপ করার সময় কি কাঁপে?
- হাঁটার সময় পা কাঁপে কি?
- মাথাও কাঁপে কি?
- এক হাত নাকি দুই হাত কাঁপে?

কাঁপুনি কীভাবে বাড়ে?

- মানসিক দুশ্চিন্তায়?
- ভয় পেলে?
- মানুষের সামনে লিখলে?
- বেশি কাজ করলে?
- দীর্ঘ সময় লিখলে?
- ক্ষুধার সময়?
- সকালে?
- ঘুম থেকে ওঠার পর?

কী করলে কমে?

- হাত বিশ্রামে রাখলে?
- ঘুমালে?
- খাওয়ার পর?
- হাতের অবস্থান পরিবর্তন করলে?
- অন্য হাতে কাজ করলে?

Writer’s Cramp-এর ক্ষেত্রে

বিশেষভাবে জানতে হবে—

- শুধু লেখার সময় সমস্যা হয় কি?
- কলম ধরলে আঙুল শক্ত হয়ে যায় কি?
- কবজি বেঁকে যায় কি?
- আঙুল হঠাৎ ধাক্কা দেয় কি?
- লেখার গতি কমে যায় কি?
- কলম হাত থেকে পড়ে যায় কি?
- টাইপ করার সময়ও একই সমস্যা হয় কি?

মানসিক লক্ষণ

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা, ভয় বা উত্তেজনার সঙ্গে হাত কাঁপা বেড়ে যায়। তাই জানতে হবে—

- গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে খুব দুশ্চিন্তা হয় কি?
- মানুষের সামনে লিখতে গেলে হাত বেশি কাঁপে কি?
- পরীক্ষার সময় হাত কাঁপে কি?
- সব সময় তাড়াহুড়ো করেন কি?
- সহজে রেগে যান বা বিরক্ত হন কি?
- অতিরিক্ত নার্ভাস অনুভব করেন কি?

এসব লক্ষণ ওষুধ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Kent Repertory-তে কম্পনের গুরুত্বপূর্ণ Rubric

হাত কাঁপার ক্ষেত্রে রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী বিভিন্ন Rubric ব্যবহার করা যায়।

EXTREMITIES – TREMBLING – hands
হাত কাঁপা

EXTREMITIES – TREMBLING – writing, while
লেখার সময় হাত কাঁপা

EXTREMITIES – TREMBLING – exertion, on
পরিশ্রম করলে কাঁপা

EXTREMITIES – TREMBLING – motion, on
নড়াচড়া করলে কাঁপা

EXTREMITIES – TREMBLING – walking, while
হাঁটার সময় কাঁপা

EXTREMITIES – TREMBLING – standing, while
দাঁড়িয়ে থাকলে কাঁপা

EXTREMITIES – CRAMP – hand
হাতে খিঁচুনি

EXTREMITIES – STIFFNESS – hand
হাত শক্ত হয়ে যাওয়া

EXTREMITIES – CONTRACTION – fingers
আঙুল শক্ত হয়ে সংকুচিত হওয়া

এর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক ও সাধারণ লক্ষণ যোগ করতে হবে।

হাত-পা কাঁপার গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ


এই ঔষধটি বিশেষভাবে মনে রাখা যায় যখন—

- দুশ্চিন্তায় হাত কাঁপে
- গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে কাঁপুনি হয়
- মানুষের সামনে লিখলে বেশি কাঁপে
- ভয় বা উত্তেজনায় কাঁপুনি বাড়ে
- রোগী তাড়াহুড়ো করে
- নার্ভাস অবস্থার সঙ্গে হাত কাঁপে

মূল কথা: দুশ্চিন্তা ও কাঁপুনি একসঙ্গে থাকলে Argentum nitricum-এর কথা মনে আসে।


Gelsemium-এর প্রধান ছবি হলো—

- হাত কাঁপে
- কোনো কিছু ধরতে গেলে হাত কাঁপে
- লিখতে গেলে আঙুল কাঁপে
- শরীর দুর্বল ও অবসন্ন লাগে
- সব সময় ঘুমঘুম ভাব
- হাঁটার সময় পা ঠিকমতো ফেলতে অসুবিধা
- কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে কাঁপুনি বাড়ে

মূল কথা: দুর্বলতা, নিস্তেজ ভাব ও কাঁপুনি একসঙ্গে থাকলে Gelsemium গুরুত্বপূর্ণ।

৩. Agaricus muscarius

Agaricus-এ দেখা যেতে পারে—

- হাত কাঁপা
- আঙুলে ঝাঁকুনি
- পেশি অনিয়মিতভাবে নড়া
- হাত-পা কাঁপা
- মাথা কাঁপা
- কখনও সারা শরীরেও কাঁপুনি

বিশেষ করে কাঁপুনির সঙ্গে twitching বা অনৈচ্ছিক নড়াচড়া থাকলে Agaricus বিবেচনা করা হয়।


Stannum-এর রোগীর মধ্যে থাকতে পারে—

- খুব দুর্বল ও ক্লান্ত
- অল্প কাজেই বেশি ক্লান্তি
- বিষণ্ণ বা সহজে কান্না
- বুকের ভিতর ফাঁকা বা দুর্বল লাগা
- কোনো কিছু ধরলে হাত কাঁপা
- লিখতে বা টাইপ করতে গেলে আঙুলে অস্বাভাবিক নড়াচড়া

মূল কথা: অতিরিক্ত দুর্বলতার সঙ্গে হাত কাঁপলে Stannum-এর কথা মনে রাখা যায়।

৫. Platina

- কোনো কিছু ধরলে হাত কাঁপে
- লিখতে গেলে আঙুল কাঁপে
- আঙুলের কম্পনের কারণে লেখা কঠিন হয়ে যায়
- সূক্ষ্ম কাজ করতে অসুবিধা হয়

তবে শুধু হাত কাঁপার জন্য Platina নয়; রোগীর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও মিলতে হবে।

৬. Sulphuric acid

এই ঔষধের ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে—

- অতিরিক্ত লেখালেখির পর হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া
- লিখতে গেলে হাত কাঁপা
- বেশি কাজের পর হাতের শক্তি কমে যাওয়া

মূল কথা: অতিরিক্ত কাজের সঙ্গে হাতের দুর্বলতা ও কাঁপুনির সম্পর্ক থাকলে এটি বিবেচনা করা যায়।

৭. Arnica montana

যদি কোনো আঘাতের পর হাত কাঁপা বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যা শুরু হয়, তখন Arnica-এর কথা মনে রাখা যায়।

তবে শুধু “আঘাতের পর কাঁপছে” বলেই Arnica নিশ্চিত করা উচিত নয়। অন্যান্য Arnica লক্ষণও মিলিয়ে দেখতে হবে।

৮. Zincum metallicum

Zincum-এর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দেখা যায়

- পায়ে কাঁপুনি
- পায়ে অস্থিরতা
- বসে বসে পা নাড়ানো
- পা স্থির রাখতে না পারা
- স্নায়বিক দুর্বলতা
- অনৈচ্ছিক নড়াচড়া

মূল কথা: পায়ের কাঁপুনির সঙ্গে অস্থিরভাবে পা নাড়ানোর প্রবণতা থাকলে Zincum গুরুত্বপূর্ণ।


Kent Repertory-তে “Trembling, writing, while” অর্থাৎ লেখার সময় কাঁপুনির Rubric-এ Phosphorus উল্লেখ আছে।

রোগীর মধ্যে থাকতে পারে—

- লেখার সময় হাত কাঁপা
- সহজে নার্ভাস হয়ে যাওয়া
- মানসিক পরিশ্রমে দুর্বলতা
- স্নায়বিক সংবেদনশীলতা
- দুর্বলতার সঙ্গে কাঁপুনি

তবে অন্যান্য Phosphorus লক্ষণও মিলিয়ে নিতে হবে।

১০. Silicea

Kent Repertory-র একই writing-এর সময় trembling Rubric-এ Silicea-ও উল্লেখ রয়েছে।

দেখা যেতে পারে—

- লেখার সময় হাত কাঁপা
- স্নায়বিক দুর্বলতা
- দীর্ঘদিনের সমস্যা
- মানসিক বা শারীরিক পরিশ্রমে দুর্বলতা
- সংবেদনশীল প্রকৃতি


Cuprum-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো খিঁচুনি ও পেশির সংকোচন।

- হাত শক্ত হয়ে যায়
- আঙুলে খিঁচুনি
- হাতের পেশিতে টান
- অনৈচ্ছিক সংকোচন
- স্প্যাজম

Writer’s Cramp-এ যদি শুধু কাঁপুনি নয়, বরং হাত ও আঙুল শক্ত হয়ে যাওয়া প্রধান সমস্যা হয়, তখন Cuprum-এর কথা বিবেচনা করা যায়।

১২. Causticum

- হাত শক্ত হয়ে যায়
- হাত দুর্বল
- পেশিতে টান
- দীর্ঘদিনের স্নায়বিক সমস্যা
- হাতের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা

মূল কথা: কাঁপুনির সঙ্গে শক্ত হয়ে যাওয়া ও দুর্বলতা থাকলে Causticum গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

১৩. Kali phosphoricum

এটি মূলত স্নায়বিক দুর্বলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বায়োকেমিক/হোমিওপ্যাথিক remedy হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- অতিরিক্ত মানসিক কাজের পর দুর্বলতা
- দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
- স্নায়বিক ক্লান্তি
- দুর্বলতার সঙ্গে হাত কাঁপা
- মনোযোগ কমে যাওয়া

১৪. Hyoscyamus

- হাত বা শরীরে ঝাঁকুনি
- অনৈচ্ছিক নড়াচড়া
- পেশির অস্বাভাবিক movement
- স্নায়বিক উত্তেজনা
- খিঁচুনির মতো নড়াচড়া

সাধারণ কাঁপুনির চেয়ে যদি ঝাঁকুনি ও অনৈচ্ছিক নড়াচড়া বেশি থাকে, Hyoscyamus বিবেচনা করা যায়।

১৫. Strychninum

- স্নায়বিক উত্তেজনা বেশি
- পেশিতে ঝাঁকুনি
- খিঁচুনির প্রবণতা
- সামান্য উদ্দীপনায় পেশির অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া

এটি সাধারণ হাত কাঁপার ওষুধ নয়; বিশেষ ধরনের spasmodic picture থাকলেই Materia Medica অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।


সহজভাবে ঔষধগুলোর পার্থক্য

প্রধান লক্ষণ| গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ
দুশ্চিন্তা + হাত কাঁপা| Argentum nitricum
দুর্বলতা + ঘুমঘুম ভাব + কাঁপা| Gelsemium
কাঁপা + ঝাঁকুনি| Agaricus
অতিরিক্ত দুর্বলতা + কাঁপা| Stannum
লেখার সময় হাত কাঁপা| Phosphorus, Silicea
অতিরিক্ত কাজের পর হাত কাঁপা| Sulphuric acid
আঘাতের পর কাঁপা| Arnica
পায়ে কাঁপুনি + অস্থিরতা| Zincum
হাতের খিঁচুনি + শক্ত হয়ে যাওয়া| Cuprum
হাত শক্ত + দুর্বল| Causticum
স্নায়বিক ক্লান্তি + কাঁপা| Kali phosphoricum
ঝাঁকুনি + অনৈচ্ছিক নড়াচড়া| Hyoscyamus

একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা: শুধু Rubric দেখে ওষুধ নয়

ধরা যাক রোগীর লেখার সময় হাত কাঁপে।

এই একটি লক্ষণ দিয়ে সরাসরি Phosphorus বা Silicea নির্বাচন করা ঠিক হবে না।

প্রথমে দেখতে হবে—

লেখার সময় কাঁপে → কী কারণে বাড়ে → মানসিক অবস্থা কী → দুর্বলতা আছে কি → হাত শক্ত হয় কি → আঙুলে ঝাঁকুনি আছে কি → অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ কী।

এরপর Repertory দিয়ে সম্ভাব্য ঔষধ বের করে Materia Medica দিয়ে মিলিয়ে চূড়ান্ত নির্বাচন করা উচিত।

এটাই একটি ভালো কেস বিশ্লেষণের সহজ পদ্ধতি।

বায়োকেমিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক চিকিৎসা সাহিত্যে Magnesia phosphorica-কে পেশির খিঁচুনি, টান ও স্নায়বিক ব্যথার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে আলোচনা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে কাঁপুনি বা পেশির অস্বাভাবিক সংকোচনের ক্ষেত্রেও এটি বিবেচনা করা হয়।

তবে হাত কাঁপার কারণ নির্ণয় না করে দীর্ঘদিন কোনো একটি ঔষধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্নায়বিক রোগ থাকলে তার যথাযথ চিকিৎসাও প্রয়োজন।

কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

হাত কাঁপা সবসময় Writer’s Cramp নয়। বিভিন্ন স্নায়বিক ও শারীরিক সমস্যায় হাত কাঁপতে পারে।

বিশেষ করে—

- হঠাৎ হাত কাঁপা শুরু হলে
- দ্রুত সমস্যা বাড়তে থাকলে
- হাত দুর্বল বা অবশ হলে
- কথা জড়িয়ে গেলে
- হাঁটতে সমস্যা হলে
- মুখ বা শরীরের অন্য অংশে অস্বাভাবিক নড়াচড়া হলে
- মাথা ঘোরা বা অন্য স্নায়বিক লক্ষণ থাকলে

দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Writer’s Cramp একটি স্নায়বিক movement disorder হতে পারে। তাই রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

হাত কাঁপা একটি লক্ষণ; এটি নিজে সব সময় একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়।

একজনের দুশ্চিন্তায় হাত কাঁপতে পারে, অন্যজনের দুর্বলতার কারণে, কারও আবার লেখার সময় আঙুল শক্ত হয়ে যেতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে কাঁপুনির সঙ্গে পেশির ঝাঁকুনি বা পায়ের অস্থিরতা থাকতে পারে।

তাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়—

রোগের নাম নয়, রোগীর বিশেষ লক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।

Argentum nitricum, Gelsemium, Agaricus, Stannum, Platina, Sulphuric acid, Arnica, Zincum, Phosphorus, Silicea, Cuprum, Causticum, Kali phosphoricum, Hyoscyamus ও Strychninum—প্রতিটি ঔষধের নিজস্ব লক্ষণচিত্র রয়েছে।

সঠিক কেস টেকিং, উপযুক্ত Repertory Rubric নির্বাচন এবং Materia Medica-র সঙ্গে লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করাই হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শিক্ষামূলক ঘোষণা: এই লেখাটি হোমিওপ্যাথিক Repertory ও Materia Medica অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে। কোনো নির্দিষ্ট রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশনের বিকল্প নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা নতুন করে শুরু হওয়া হাত কাঁপার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লেখক

ডা. মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি
বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার -৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
গভঃ রেজিঃ নং: ২৩৮৭৬
মোবাইল নাম্বার - 01716651488
01686981445


সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

নাক ডাকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

নাক ডাকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।
নাক ডাকার কি ? 
নাক ডাকার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা-

নাক ডাকা একটি শ্বাসযন্ত্রের একটি রোগ।নাক ডাকা এমন একটি রোগ যা অনেকেই জানেন না যে, শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।আপনার শরীরের শ্বাস প্রশ্বাসের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কিত নাকডাকা একটি শ্বাসযন্ত্রের রোগ। এটি দিনের বেলা নিদ্রাহীনতার কারণে হতে পারে আবার শারীরিকভাবে অক্ষমতার কারণেও হতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ইত্যাদির মতো অন্যান্য রোগের পথ সুগম করতে পারে ভারত উপমহাদেশে এবং বিদেশেও এমন অনেক রোগী রয়েছেন যারা পুরোপুরি এই রোগের কবলে পড়ে নিয়মিত সহায়তা নিচ্ছেন চিকিৎসকের কাছে।
নাক ডাকা দুটি ধরণের হয়:
১) সেন্ট্রাল বা কেন্দ্রীয় এবং 
২) অবস্ট্রাকটিভ বা বাধা জনিত নাক ডাকা।

১) কেন্দ্রীয় স্লিপ অ্যাপনিয়াতে, মস্তিষ্ক শ্বাস প্রশ্বাসের পেশীতে সংকেত প্রেরণ করতে ব্যর্থ হয়। এটি রোগীদের মধ্যে কমন দেখা যায়, যা সাধারণ হিসাবে পরিচিত। 

২) বাধা স্লিপ এপনিয়াতে, বায়ু নাকের ভেতর থেকে প্রবাহিত হতে বাধা দেয় এবং ফলস্বরূপ শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পায় ফলে রোগী রাতে নাক ডাকা শুরু করে। এটি সারা পৃথিবী জুড়ে রোগীদের মধ্যে প্রচলিত এবং মহিলাদের তুলনায় এই রোগের ঝুঁকিতে আক্রান্ত পুরুষদের সংখ্যা শতকরা অনেক বেশি তাই তাদের আরও যত্নবান হওয়া উচিত এবং অবিলম্বে কোনও হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয়। এটি নিশ্চিত হওয়া যায় না যে মহিলারা এই রোগ থেকে কতটা দূরে আছেন তাই তাদেরও সচেতন হওয়া উচিত।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা বা ফ্রেশ বা তাজা বায়ু শ্বাস নিতে অসুবিধায় যতটা সমস্যা দেখা দেয় ততক্ষণ নাক ডাকার লক্ষণ অব্যাহত থাকে।

নাক ডাকার লক্ষণ সমষ্টি (Symptoms)

· Problem in inhaling (শ্বাস নিতে সমস্যা)
· Feeling short of breath (শ্বাস কষ্ট)
· Feeling tired the whole day ( ক্লান্ত লাগা)
· Not sleeping at night। (নিদ্রায় ব্যাঘাত)
· Feeling irritated (অস্বস্তি বোধ করা)
· Forgetfulness (ভুলে যাওয়া।)
· Feeling tired just by doing a light work (সামান্য পরিশ্রমে ক্লান্ত বোধ।)
· Snoring (নাকে শব্দ)
· Memory loss (স্মৃতি লোপ)

নাক ডাকার প্রতিকার (Prevention)

· Stop smoking (ধুমপান বন্ধ করুন)
· Stop the consumption of liquor (মদ খাওয়া বন্ধ করুন)
· Do some respiratory exercises in morning hours before sunrise (সূর্য্ উদয়ের আগেই শ্বসপ্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করুণ)
· Eat healthy food especially fibrous eatable items in your diet ( স্বাস্থ্যকর আশযুক্ত খাবার গ্রহন করুণ)

নাক ডাকার হোমিওপ্যাথিক সদৃশ ঔষধ নির্বাচন গাইডঃ 
বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে নাক ডাকার সদৃশ ঔষধ নির্বাচণ-
Arrested (apnea) -- Ars., Bov., Camph., Hydroc. ac., Latrod., Lyssin, Upas.

Falling asleep [on] -- Am. c., Dig., Grind.Lach., Lac c., Merc. pr. rub., Op., Samb.
কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে নাক ডাকার হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন

SNORING, morning, while sleeping
----------

++ morning, while sleeping : Petr.
++ afternoon nap, during : Alum.
++ evening in bed : Sil.
++ midnight : Mur-ac., nux-v.
++ awake, while : Chel., samb.
++ chill, during : Chin.laur., Op.
++ delirium, after : Sec.
++ expiring, while : Arn., camph., chin., nux-v.op.
++ heat, during : Apis., con., ign., laur., Op.
++ insensible, while : Op.
++ lying on the back, while : Dros., dulc., kali-c., mag-c., sulph.
++ swoon, during : Stram.
Homeopathic Remedies

· Arsenicum album is prescribed for individuals who have breathing difficulties
· Sulphur is a commonly used homeopathic remedy especially given in breathing congestion
· lachesis is a remedy prescribed for uncontrollable conditions which sometimes persist at night
· Spongia is also a better option when there is a feeling of blocked chest area
· Opium is also prescribed for the patients who feel confused after sleep disorder.

আর্সেনিকাম অ্যালবাম-
আর্সেনিক অ্যালবাম এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজন, যাদের শ্বাসকষ্ট হয়।
স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য হোমিওপ্যাথিক প্রতিকারগুলি ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রের দিকে ও সমস্ত সমস্যাগুলির দিকে মনোযোগ দেয়। আর্সেনিক এলবাম এর রোগীর লক্ষণ সমষ্টি এবং অসুস্থতার জন্য ভয়ঙ্কর, উত্তেজনাপূর্ণ এবং উত্তেজিত প্রতিক্রিয়াযুক্ত লোকদের জন্য বিবেচিত হয়। আর্সেনিকাম অ্যালবাম আর্সেনিয়াস অক্সাইড থেকে উদ্ভূত এবং অতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে এটি একটি মারাত্মক বিষ। হোমিওপ্যাথিক ডোজগুলিতে, আর্সেনিকাম অ্যালবাম ক্ষতিকারক নয় কারণ এটি পরিমাপের অতি সূক্ষ্ম হয়।

Lachesis ল্যাকেসিস-
ল্যাকেসিস রাতে নিদ্রাহীন অবস্থায় নাক ডাকার নির্ধারিত একটি প্রতিকার, রাতের বেলায় নাক ডাকার জন্য ব্যবহার করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার জানিয়েছে যে এই যৌগটি এমন লোকদের জন্য উপযুক্ত যারা, সাধারণত ভয়ভীতিপূর্ণ এবং উদ্বিগ্ন, ঈর্ষান্বিত মন এবং অতিরিক্ত কথা বলার অভ্যাস রয়েছে। ল্যাকেসিস দক্ষিণ আমেরিকার একটি বিষাক্ত সাপের বিষ থেকে প্রস্তুত। ক্লিনিকাল হোমিওপ্যাথির শিক্ষা ও উন্নয়ন কেন্দ্রটি উল্লেখ করেছে যে কনস্ট্যান্টাইন হেরিং হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়ায় প্রস্তুত করেছিলেন, যিনি পরে আমেরিকান স্কুল অফ হোমিওপ্যাথিক কলেজে প্রকাশ করেছিলেন।

Sulphur সালফার-
সালফার একটি নাক ডাকার জন্য উপযুক্ত সদৃশ ঔষধ। সালফার হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার, বিশেষত রাতের বেলায় নাক ডাকে এবং ঘাম হয়। হোমিওপ্যাথির সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত লক্ষণ সমষ্টি অনুযায়ী নির্বাচন করতে হয়। সালফারের পরিচয়,ঘন ঘন কাশি এবং মাথার ব্যাথা করে মস্তিষ্ক সংক্রামিত হয়, রাতে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সাথে সালফার সম্পর্ক আছে, সোরিক ধাতুর, নোংরা অপরিস্কার, কুচিন্তা, কুকর্ম সাধন করতে পটু রোগীর সদৃশ ঔষধ।

Spongia tosta স্পঞ্জিয়া টোস্টা-
অবরুদ্ধ শ্বাসকষ্ট, বুকের মধ্যে চাপা অনুভূতি রোগীর জন্য স্পঞ্জিয়া একটি ভাল ঔষধ। ক্রাউপের জন্য এই প্রতিকারটি কনজেসটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া আক্রান্তদের সাহায্য করতে পারে কারণ শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলি বিবেচনা করে যা শুয়ে থাকলে আরও খারাপ হয়।

 ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারও পরামর্শ দেয় যে এটি বুকে শক্ত হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। স্পঞ্জিয়া টোস্টা সমুদ্রের স্পঞ্জ থেকে উদ্ভূত এবং ল্যাকেসিসের মতো, এটি এমন ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত। প্রাকৃতিকভাবে ভয় পান এবং উদ্বেগের শিকার হন এবং কিছু ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের ধড়ফড়ানি হয়।

Opium ওপিয়াম-
শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকের অঞ্চলে চাপবোধ। দমবন্ধের অনুভূতি, কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীর জন্য উপযুক্ত।

উপসংহার-
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত সদৃশ ঔষধ নির্বাচন কৌশল একটি জটিল প্রক্রিয়া। অল্প সময়ে ওপিয়াম, আর্সেনিক এলবাম, স্পনঞ্জিয়া, সালফারের সামান্য পরিচয় উপস্থাপন করেছি। উপরে নাক ডাকার সদৃশ ঔষধের তালিকা দুইটি রেপার্টরির সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে মেটেরিয়া মেডিকার সাহায্য নিয়ে সঠিক ঔষধটি নির্বাচন করতে হবে। আমার লেখা পড়ে একা একা ঔষধ নির্বাচন করে চিকিৎসা করতে চেষ্টা করবেন না এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন সহজে আরোগ্য লাভ করুন। নাক ডাকা সাধারণ রোগ মনে হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন। পরিমিত মাত্রায় সঠিক ঔষধটি প্রয়োগ করতে সক্ষম হলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।

লেখক 
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে 
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।

একক লক্ষণে মনে রাখার মতো ১০০টি প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (দ্বিতীয় পর্ব)

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala

একক লক্ষণে মনে রাখার মতো ১০০টি প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (দ্বিতীয় পর্ব)


হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে কিছু বিশেষ বা Keynote Symptom থাকে, যা একটি ঔষধের চিত্র দ্রুত মনে করতে সাহায্য করে। প্রথম পর্বে ১–৫০ নম্বর পর্যন্ত ঔষধের একক লক্ষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আজকের পর্বে থাকছে ৫১–১০০ নম্বর পর্যন্ত আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।

৫১–১০০: একক লক্ষণে ঔষধ চেনার সহজ সূত্র

বাড়ন্ত শিশু-কিশোরের হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ব্যথা; নড়াচড়ায় ও ঠান্ডায় সমস্যা বাড়ে।

৫২. Calcarea Fluorica
শক্ত, পাথরের মতো গুটি ও গ্রন্থির প্রবণতা; টিস্যুর দৃঢ়তা কমে যাওয়ার চিত্র।

৫৩. Calcarea Sulphurica
পুঁজযুক্ত ক্ষত; পুঁজ বের হওয়ার পরও ক্ষত শুকাতে দেরি হয়।

৫৪. Natrum Phosphoricum
অম্লতা, টক ঢেঁকুর ও টক বমির প্রবণতা।

৫৫. Natrum Sulphuricum
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় উপসর্গ বাড়ে; আর্দ্র আবহাওয়ার প্রতি সংবেদনশীলতা।

৫৬. Kali Carbonicum
রাত ২–৪টার দিকে উপসর্গ বাড়ে; কোমর ও পিঠে দুর্বলতার প্রবণতা।

৫৭. Kali Phosphoricum
মানসিক পরিশ্রমের পর স্নায়বিক দুর্বলতা ও অবসাদ।

৫৮. Kali Sulphuricum
হলুদাভ স্রাব; উষ্ণ ঘরে অসুবিধা, ঠান্ডা বাতাসে আরাম।

৫৯. Kali Iodatum
তীব্র জ্বালাযুক্ত নাকের স্রাব ও নাকের প্রদাহ।

৬০. Kali Arsenicosum
তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে; উষ্ণতায় চুলকানি বাড়ে।

খিঁচুনির মতো ব্যথা; গরম ও শক্ত করে চাপ দিলে আরাম।

৬২. Magnesia Carbonica
দুধ সহ্য না হওয়া; দুধ খেলে পেটের সমস্যা ও অস্বস্তি।

৬৩. Magnesia Muriatica
লিভারের সমস্যা ও শক্ত কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে পেটের অস্বস্তি।

ঘুম থেকে ওঠার পর উপসর্গ বাড়ে; গলা ও পোশাকের চাপ সহ্য হয় না।

৬৫. Sepia
তলপেটে ভারী টান বা নিচের দিকে নামার অনুভূতি; একা থাকতে চায়।

৬৬. Cactus Grandiflorus
বুক লোহার বেড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা—এমন চাপ অনুভূতি।

৬৭. Glonoinum
মাথায় রক্তের ঢেউ বা তীব্র স্পন্দন; মাথাব্যথায় দপদপ অনুভূতি।

৬৮. Spigelia Anthelmia
চোখের চারপাশে ও মুখের এক পাশে তীব্র স্নায়বিক ব্যথা।

বিশেষ করে ডানদিকে মাথাব্যথা; মাথাব্যথার সঙ্গে মুখ লাল ও জ্বালাযুক্ত হতে পারে।

৭০. Natrum Muriaticum
সূর্যের আলোয় মাথাব্যথা; পুরোনো দুঃখ মনে ধরে রাখে।

৭১. Lac Caninum
গলা বা টনসিলের ব্যথা এক পাশ থেকে অন্য পাশে পরিবর্তিত হয়।

৭২. Phytolacca Decandra
গলা গাঢ় লাল; গিললে ব্যথা কানে ছড়িয়ে যায়।

৭৩. Mercurius Iodatus Ruber
গলার ডান পাশ বা ডান টনসিলের প্রদাহের চিত্র।

৭৪. Mercurius Iodatus Flavus
গলার বাম পাশ বা বাম টনসিলের প্রদাহের চিত্র।

৭৫. Baryta Carbonica
শিশুদের টনসিল ও গলার গ্রন্থি বড় হওয়ার প্রবণতা।

৭৬. Baryta Muriatica
ধমনী ও গ্রন্থির পরিবর্তনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা।

৭৭. Stannum Metallicum
কথা বললে বা সামান্য পরিশ্রমেই বুক ও শরীরে প্রচণ্ড দুর্বলতা।

৭৮. Spongia Tosta
শুকনো, কর্কশ, করাতের মতো বা ঘেউ ঘেউ শব্দের কাশি।

৭৯. Rumex Crispus
ঠান্ডা বাতাসে গলা লাগলেই কাশি শুরু বা বেড়ে যায়।

৮০. Coccus Cacti
সুতার মতো টানটান, আঠালো কফ; তুলতে কষ্ট হয়।

৮১. Senega
বুকে জমে থাকা ঘন কফ সহজে উঠতে চায় না।

৮২. Grindelia Robusta
শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট; উঠে বসলে বা মাথা উঁচু করলে আরাম।

৮৩. Sticta Pulmonaria
নাক প্রচণ্ড বন্ধ, কিন্তু সর্দি বের হয় না; নাকে শুকনোভাব।

৮৪. Sabadilla
বারবার হাঁচি; নাক ও তালুতে প্রচণ্ড চুলকানি।

৮৫. Arum Triphyllum
নাক ও ঠোঁট ঘষতে ঘষতে ত্বক কাঁচা করে ফেলে।

৮৬. Hydrastis Canadensis
ঘন, আঠালো, হলুদ স্রাব; নাক ও গলার স্রাবের প্রবণতা।

৮৭. Sanguinaria Canadensis
নাকের পলিপের সঙ্গে জ্বালাযুক্ত স্রাব ও নাকের প্রদাহের চিত্র।

৮৮. Graphites
ত্বকের ফাটল থেকে আঠালো, মধুর মতো স্রাব।

৮৯. Petroleum
শীতকালে ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়, এমনকি রক্তও বের হতে পারে।

৯০. Psorinum
অস্বাভাবিক ঠান্ডা অনুভূতি; প্রচণ্ড গরম কাপড় ও উষ্ণতা চায়।

৯১. Mezereum
ত্বকে মোটা খোসা; খোসার নিচে তীব্র চুলকানি ও জ্বালা।

৯২. Rhus Vernix
ফোসকার সঙ্গে তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া।

৯৩. Urtica Urens
পোড়ার মতো জ্বালা ও চুলকানি; চাকার মতো ফুসকুড়ির প্রবণতা।

৯৪. Berberis Vulgaris
কিডনি অঞ্চলের ব্যথা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায়; নড়াচড়ায় ব্যথার স্থান পরিবর্তিত হতে পারে।

৯৫. Sarsaparilla
প্রস্রাবের শেষে তীব্র জ্বালা; প্রস্রাব শেষ করা কষ্টকর।

৯৬. Equisetum Hyemale
মূত্রথলিতে পূর্ণতার অনুভূতি; বারবার প্রস্রাবের বেগ।

৯৭. Helleborus Niger
মানসিক ধীরতা, উদাসীনতা ও প্রশ্নের উত্তরে ধীর প্রতিক্রিয়া।

৯৮. Baptisia Tinctoria
অত্যন্ত ভেঙে পড়া ও অবসন্ন ভাব; নিঃসরণে দুর্গন্ধের প্রবণতা।

৯৯. Petroleum
শীতকালে ত্বকের গভীর ফাটল ও শুষ্কতার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।

১০০. Heringia
ঘাড় ও মাথার পেছনে স্নায়বিক ব্যথার বিশেষ চিত্র।

ধারাবাহিকতার সমাপ্তি

এই দুই পর্বে মোট ১০০টি প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধের Keynote Symptom সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো।

মনে রাখার সহজ সূত্র:

Keynote → Characteristic Symptom → Modalities → Concomitants → Generals → Repertory → Materia Medica

একটি মাত্র লক্ষণকে চূড়ান্ত প্রেসক্রিপশনের ভিত্তি না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।


পরবর্তী ধাপ: এই ১০০টি ঔষধকে পৃথকভাবে Keynote + Modalities + গুরুত্বপূর্ণ Rubric + Materia Medica reference দিয়ে আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

লেখক 
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম 
ইভা হোমিও হল 
এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার #৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড 
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে,
 বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার 01716651488/ 01686981445

রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

মাদকের আসক্তি নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

HOMEOPATHIC MEDICINE for Addiction to Drugs, Alcohol, and more
আসক্তি কি?
মাদকদ্রব্য বলতে বোঝানো হয় যে,এমন দ্রব্য,যা খেলে নেশা হয়।এগুলো হোল গাঁজা,ফেন্সিডিল,চরস,ভাঙ,গুল, জর্দা,হেরোইন,পেথিদিন,মদ,ইয়াবা ইত্যাদি। যখন কেও এসব দ্রব্যাদির উপর নেশাগ্রস্থ হয়,তখনই তাকে মাদকাসক্ত বলা হয়।
কিভাবে মাদকাসক্ত হয়ঃ
  • কিশোর-কিশোরীরা কিভাবে নেশাগ্রস্থ হয়
  • বান্ধু বান্ধবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • ভুল তথ্য, হতাশা, কৌতূহলবশতঃ।
  • আদর্শ মনে করে এমন কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • স্মার্ট দেখানোর জন্য।

মাদকাসক্তির কুফল বা ক্ষতিকর দিকগুলোঃমাদকদ্রব্য শারীরিক,মানসিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক ক্ষতি করে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিঃ
  • শেখার ক্ষমতা এবং কাজের দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
  • বিচার-বিবেচনা, ভুল ঠিক বোঝার করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা।
  • আবেগ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকেনা।
  • উগ্র আচরণের জন্ম দেয়।
  • মানসিক পীড়ন বাড়িয়ে দেয়, আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়।

শারীরিক ক্ষতিঃ
  • মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষমতা ও শরীরের সূক্ষ্ম অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং স্মৃতি শক্তি কমিয়ে দেয়।
  • স্বাভাবিক খাদ্য অভ্যাস নষ্ট করে।
  • যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • হৃদরোগ সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ
  • পরিবারে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
  • স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খারচ বেড়ে যায়।
  • কর্মক্ষম জনশক্তি কমে যায়।

মাদকাসক্তির প্রতিরোধ ও এর প্রতিকার কিভাবে করা যায়ঃ

মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা,শিক্ষা, পরিমিত জীবন যাপন, বন্ধু নির্বাচন, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পথ।
মাদকাসক্ত নিরাময়কারী টিমের সদস্যরা হলেন (Team members):
১.মাদক আসক্ত ব্যাক্তি।
২. ব্যক্তিটির পরিবার।
৩. মাদকাসক্ত নিরাময়কারী প্রতিষ্ঠান।




৪. একজন কাউন্সেলর।
৫. ঘনিষ্ঠজন বা বন্ধুবান্ধব।

প্রাথমিক অবস্থায় (মাদকাসক্ত শুরুর প্রথম ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে যদি মাদকাসক্ত নিরাময়ের পরিকল্পনা নেয় যায় তবে খুব ভাল ফলাফল হয়।তবে কয়েক বছর যাবত মাদকাসক্তিও নিরাময় সম্ভব।
মাদকাসক্ত নিরাময়ের তিন রকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে (Medical Procedures):
ক. শুধুমাত্র ঔষধ সেবনের মাধ্যমে (Anti drug medicine)
খ. ঔষধ ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে ( Medicine and Counseling service)
গ. নিরাময় কেন্দ্রে থেকে ঔষধ ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে ( In house Medicine and counseling service)
একজন মাদকাসক্ত রোগী চিকিৎসা নেয়ার সময়ে পরিবার যেহেতু নিরাময়কারী টিমের সদস্য তাই পরিবারেরও বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছেঃ
প্রথমতঃ পরিবারের লোকজন একত্রে মাদকাসক্তি নিরাময় নিয়ে পড়াশুনা করবেন বা তথ্য সংগ্রহ করবেন। কারণ তথ্য না জানা থাকার কারণে ঘাবড়ে গিয়ে পরিবারের পরিবেশ ও শান্তি বিনষ্ট হয়।পরিবারটি সমাজের চোখে নিজেকে ছোট মনে করে হীনমন্যতায় ভুগে।
দ্বিতীয়তঃ মাদকাসক্ত ব্যক্তিটিকে ‘Addict’ বা ’নেশাখোর’ বলে গালমন্দ না করা।প্রত্যেকের ভুল আছে। আপনার পরিবারের এই সদস্যটিও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।তাই দোষারোপ না করে তার ভুলগুলো শুধরে নিতে তাকে সহযোগিতা করুন।
তৃতীয়তঃ মাদকাসক্ত নিরাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়ম মানা এবং খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাপনের পরিবর্তনের ব্যাপারে ব্যক্তিটিকে সহযোগিতা করুন এবং উৎসাহ দিন।
চতুর্থতঃ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী  একজন দক্ষ ডাক্তারের কাছে নিয়মিত কাউন্সেলিং নেয়া।

মাদকের আসক্তি নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা(Homeopathic treatment for cure of drug addiction)

মদ,গাঁজা,হিরোইন,ফেনসিডিল ইত্যাদি নেশাকর ড্রাগ যারা দীর্ঘদিন থেকে খেয়ে আসছেন,তাদের পক্ষে এগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।কারণ এতে শরীরে কিছু মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।এই জন্য এসব ড্রাগ সেবনের পরিমাণ প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে কমিয়ে দিতে হবে।এভাবে আস্তে আস্তে তাদের পরিমাণ কমাতে কমাতে একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে।পাশাপাশি ড্রাগের পরিমাণ কমানোর ফলে শরীরে যে-সব অসুবিধার সৃষ্টি হয়,সেগুলো দূর করার জন্য ঔষধ খেতে হবে।দীর্ঘদিন নেশা করার পর চেষ্টা-তদ্বির করে পরবর্তীতে সেটি বন্ধ করতে সক্ষম হলেও সেই নেশার প্রতি অনেক বছর পরও একটা মারাত্মক আকর্ষণ থেকেই যায়।ফলে সুযোগ পেলে সেই নেশা আবারও শুরু করে দিতে পারেন।এজন্য নতুন কোন ভালো বিষয়ে নেশা সৃষ্টি করা দরকার।
যেমন স্বামী স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসা,জ্ঞান অর্জনের নেশা,ইবাদতবন্দেগী,ভিডিও গেম,মানবসেবা,ছবিআঁকা, কমপিউটার,ফটোগ্রাফি,তাবলীগ,ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি ইত্যাদির নেশা সৃষ্টির মাধ্যমে অতীতকে
ভুলে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

মাদক সেবিদের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

Avena Sativa : হিরোইন,প্যাথেডিনের নেশা দূর করতে এভেনা সেটাইভা একটি শ্রেষ্ট ঔষধ।যারা হিরোইন বেশী পরিমাণে খান,তারা ধীরে ধীরে ইহার মাত্রা কমিয়ে আনুন এবং পাশাপাশি এভেনা স্যাটাইভা পনের ফোটা করে রোজ তিনবেলা করে খেতে থাকুন।পক্ষান্তরে যারা অল্প পরিমাণে হিরোইনপ্যাথেডিন নেন,তারা এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিন এবং তার বদলে এভেনা স্যাটাইভা পঞ্চাশ ফোটা করে রোজ তিনবেলা খান।এতে কোন শারীরিক সমস্যা হবে না।সাধারণত এসব মাদকদ্রব্য হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে শরীরে যেসব মারাত্মক সমস্যা(withdrawal symptoms) দেখা দেয়,এভেনা সেটাইভা সেগুলোকে সফলতার সাথে সামাল দিতে পারে। এটি মাদার টিংচার (Q) শক্তিতে এবং আধা গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খাবেন।

Asarum europaeum :এসারাম ইউরোপেরাম শরীরের ওপর মদ ফেনসিডিলের প্রভাব কমিয়ে মদ্যপানের নেশা ছাড়তে সাহায্য করতে পারে।নিম্নশক্তিতে (Q,৩,৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১৫ ফোটা করে রোজ তিনবার খেতে পারেন।হ্যাঁ,প্যাথেডিন,হিরোইনের নেশা ছাড়াতেও এটি একই মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।


Nux vomica :মদ ফেনসিডিল দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের যে ক্ষতি হয়,নাক্স ভমিকা তাকে পুষিয়ে দিতে পারে।
পাশাপাশি এটি মদফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে ব্যবহার করতে পারেন।মাত্রা হবে নিম্নশক্তিতে(Q,৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার।

Sulphuricum acidum : সালফিউরিক এসিড ঔষধটি মদ-ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে একটি অসাধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ।সাধারণত দু’চার দিন খাওয়ার পর থেকেই মাদকাসক্ত ব্যক্তি মদ-ফেনসিডিলের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।নিম্নশক্তিতে (Q, ৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার দুই থেকে কয়েক সপ্তাহ খেতে পারেন।এমনকি নেশায় আসক্ত ব্যক্তি যদি ঔষধ খেতে না চায়,তবে তার মদ বা ফেনসিডিলের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালেও কাজ করবে।তাছাড়া পানি,চা,দুধ ইত্যাদির সাথেও মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

Natrum Phosphoricum : নেট্রাম ফস ঔষধটি মরফিন, প্যাথেডিন এবং হিরোইনের নেশা বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে।নেট্রাম ফস নিম্মশক্তিতে (Q, ৩, ৬) দশ ফোটা করে রোজ তিনবার করে খেতে থাকুন এবং উল্লেখিত নেশাসমূহ প্রতি সপ্তাহে ধীরে ধীরে কমাতে থাকুন।তারপর এক সময় একেবারে বন্ধ করে দিন। দীর্ঘদিন সেবনের পর এসব নেশাদ্রব্য বন্ধ করলে শরীরের যে-সব সমস্যা হতে পারে,নেট্রাম ফস সেগুলোকে দূর করে দিবে।


Staphisagriaঃবিড়ি-সিগারেট অর্থাৎ ধূমপানের নেশা ছাড়াতে স্টেফিসেগ্রিয়া একটি শ্রেষ্ট ঔষধ।এটি ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিয়ে সেটি বন্ধ করতে সাহায্য করে।
নেট্রাম মিউর (Natrum Mur)ঃঅত্যন্ত লবনপ্রীয় রোগীর এলকোহল পানের মাধ্যমে অসুস্থ হলে,শরীর স্বাস্হ্যহীন হলে সেই ভগ্ন স্বাস্হ্য ফিরাতে অলৌকিক কাজ করে।রক্তের কোষ উৎপাদন,অ্যালবুমিন এবং কোষের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য নেট্রাম মিউরের ক্ষমতা রয়েছে।দীর্ঘকাল ধরে অ্যালকোহল আসক্ত হয়েছে বা বিষণ্নতার শিকার হয়ে পড়েছে এমন লোকেরা সাধারণত নেট্রাম মিউর মাধ্যমে আরোগ্য পেতে সহায়তা পাবেন।
টেবেকাম(tabacum)ঃ নামক ঔষধটিও ধূমপানের নেশা দূর করতে সাহায্য করে।এটিও একই নিয়মে খেতে পারেন।ধূমপানের নেশা ছাড়াতে আরেকটি উৎকৃষ্ট ঔষধ।
 আর্সেনিক এলবম Arsenicum Arsenicum ঃ দীর্ঘ সময়ের জন্য অ্যালকোহলের উপর নির্ভরশীল যে কেউ আর্সেনিকাম ব্যবহার করে আরোগ্য লাভ করতে পারেন,বিশেষ করে যদি তারা উদ্বেগ পূর্ণমন,অস্হিরতা, মৃত্যুভয় বিদ্যমান থাকে তাদের জন্য আর্সেনিক এলবম উপযোগী।
ক্রোটালাস হরিডাসঃএলকোহলের নেশা থেকে মুক্তির জন্য ক্রোটেলাস একটি প্রয়োজনীয় ঔষধ।ক্রোটেলাসের নির্বাচক লক্ষণ যে এলকোহল সেবি রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে প্রয়োগ করলে সে সুস্হ্য হবেন।
অতিরিক্ত চা পানের নেশা দুর করেঃ1.Thuja 2. China 3. Selenium।ইয়াবার জন্য Avena sativa Q আর গাজার জন্য Cannabis indica Q ঔষধটি খেতে পারেন।নিম্নশক্তিতে রোজ ২ বার করে খেতে পারেন।আলফালফা (Alfalfa Q) ঔষধটি সাতদিন খাবেন তারপর এভেনা সেটাইভা (Avena sativa Q) ঔষধটি সাতদিন খাবেন।এই হোমিও ঔষধ দুইটি এভাবে একটার পর আরেকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ৩ মাস খাবেন । ২০ ফোটা করে প্রতিদিন দুইবেলা আধা গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবেন।
কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে মাধক বিরোধী সদৃশ ঔষধঃ
ALCOHOLIC stimulants : Acon., agar.alum., alumn., am-m., anac., ant-c.arg-n.arn., Ars.Asar.Bar-c.bell.bor., bov., cadm., calc-ars.calc.carb-an., carb-s.carb-v.caust., chel.chin.chlol., cocc., coff.con.,crot-h.dig.gels., hep., hyos., ign.kali-bi., Lach., laur., led.lyc.naja., nat-c.nat-m.nux-m.Nux-v.Op.petr.puls.Ran-b.rhod.rhus-t.ruta.sabad., sang.Sel., sep., sil.spig.stram.stront., stroph.Sul-ac.Sulph., tab., thu., verat., zinc.
 NARCOTICS agg. : Acon., agar., ars., aur., Bell., bry., calc., canth., carb-v., caust., Cham., chin., Coff., colch., croc., cupr., dig.dulc., eupho., ferr.graph.hep., hyos.ign., ip.Lach., lyc., merc., mosch., nat-c., nat-m., nit-ac., nux-m., Nux-v.op.ph-ac., phos., plat., plb., puls.rhus-t., seneg., sep.staph., sulph., valer.verat., zinc.

++ TOBACCO agg. : Acon., agar., alum.ambr., ant-c.arg-m., arg-n., Ars., bell., bry.calad.calc., camph., carb-an., carb-s., chel., chin., cic., clem.coc-c., coca., cocc.coloc., con., cycl.dig., euphr.ferr., gels.hell.hep., hydr., Ign., iod., ip.lach.lact-ac., lyc.mag-c.meny.nat-m.Nux-v., osm., par.petr., phos.Plan.Puls., ran-b., rhus-t., ruta.sabad., sabin., sars., sel.sep., sil., Spig.Spong.Staph., sul-ac., sulph., tarax.thu.verat.++ amel. : Aran., bor., carb-ac., coloc., hep.merc., nat-c., sep.spig.++ chewing agg. : Ars., carb-v., lyc., nux-v.plan.verat.++ smoking, when breaking off : Calad.

মাদক আসক্তির হাত হতে পরিত্রাণ পেতে চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্হ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।মাদকাসক্ত রোগীর সাথে ভালো আচরণ করা উচিত।কেবলমাত্র চিকিৎসার উপর নির্ভর না করে রোগীর মানসিক দিকে সহায়তা,সেবা,আদর-সোহাগ ও পূর্বাসন করা প্রয়োজন।রোগীর মনে সাহস যোগানো,আনন্দঘন পরিবেশে বসবাস, ভালো কোন কাজের সাথে সমপৃক্ত করা জরুরী।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাদক সেবন প্রতিরোধ করা।আমাদের সমজে হতে মাদকতে নির্মুল করা।মাদকাসক্ত রোগীর চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ অত্যন্ত কার্যকর।অতএব বিলম্ব না করে মাদক সেবিকে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা করান।এতে রোগী দ্রুত ও অল্প খরচে আরোগ্য লাভ করবে সহজেই কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়া।

ডা: ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮