এই ব্লগটি সন্ধান করুন

২৬.১২.১৭

শিশুর মুখে জাড়ী ঘায়ের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


জাড়ী ঘা ঃ
শিশুর সাধারণত: ২/৩ মাস বয়সে মুখ ও গালের ভেতরে জিহ্বায় ও ওষ্ঠে স্হানে স্হানে লাল হইয়া তথায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাদা ক্ষত হয়,স্তন পানে রোগ আরো জটিল হয়।সাধারনতঃ দরিদ্র শ্রেনীর শিশুদের ক্ষেত্রে বেশী হয়।পাকাশয়ের খাদ্য বস্তু অম্ল ও মায়ের দুধ খাওয়ার পরে মুখ অপরিস্কার থাকলে এই জাড়ী ঘায়ের সৃষ্টি হয়।মায়ের স্তন বৃন্ত ও ফিডার নিপল পরিস্কার রাখলে এই জাড়ী ঘা হতে মুক্ত থাকা সম্ভব।অনেক সময় পেটের পীড়ায় ভোগার কারণে জাড়ী ঘা হয়ে থাকে।
শিশুদের প্রত্যেকবার দুধ দেয়া পর মুখ পরিস্কার করিয়া দিলে এইরুপ ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

শিশুদের মুখে জাড়ী ঘায়ের হোমিওপ্যাথিক ঔষধের লক্ষণসহ আলোচনা ঃ

ইথুজা ঃমুখে জাড়ী ঘায়ের জন্য অত্যন্ত কষ্ট পায়।মুখের মধ্যে শুষ্ক অথবা প্রচুর লালাস্রাব।শিশু স্তণ পান করা মাত্র চাপচাপ বমি।মাঝে মাঝে শিশুর কোষ্ঠবদ্ধ বা উদরাময়,পেটের বেদনায় ক্রন্দন করে।

আর্সেনিক এলবম ঃশিশুর মুখ বেগুনি ও নীলঅভ,মুখ হইতে প্রচুর লালাস্রাব হয়,শিশু অত্যন্ত অবসন্নতা,অস্হিরতা ও ইদ্যেগ দেখা যায়।

বোরাক্স ঃমুখের জাড়ী ঘায়ের শ্রেষ্ঠ ঔষধ।অত্যন্ত বেদনার জন্য শিশু কিছুই পান করতে পারে না।শিশু স্তন্য পান করতে বারবার ছাড়িয়া দেয়।কাদিতে থাকে।মুখের মধ্যে উত্তপ্ত, মুখে শুষ্ক,কুঞ্চিত দেখায়।শিশু নিম্ন গতিতে ভয়,দোল খাইতে ভয় পায়।ভয়ে মাকে জড়াইয়া ধরে এই শিশুদের জন্য উপযোগী।

ব্রাইয়োনিয়া এলবম ঃশিশুর মুখ শুষ্ক পানি পিপাসা,ঠোট শুষ্ক ফাটা ফাটা।শিশু স্তনে মুখে দিতে চায়না কিন্তু মুখ এবার ভিজে গেলে ভালভাবে দুধপান করে।

ক্যালকেরিয়া কার্ব ঃ মোটা থলথলে শিশু স্কুফুলা ধাতুগ্রস্হ শিশুর মুখের ঘায়ে উপযোগী।শিশুর মাথা ঘামে ও ঘামে টকগন্ধ থাকে,উদরাময় অম্লগন্ধ শিশুর মুখে গা হলে উপযোগী।

কার্বোভেজ ঃমুখের মধ্যে উত্তপ্ত,শিশুর জিহ্বা নড়াচড়া করতে কষ্ট।মুখ হতে রক্ত মিশ্রিত লালাস্রাব থাকলে উপযোগী।

ক্যামোমিলা ঃঅত্যন্ত খিটখিটে শিশু,কেবল কান্না করেকোলে চড়িয়া বেড়াতে চায়।সবসময় বিভিন্ন কিছু বায়না ধরে পাওয়ামাত্র ছুড়িয়া ফেলে এই শিশুর মুখের ঘায়ে উপযোগী।

মার্কসল ঃশিশুর মুখ ও জিহ্বা স্ফীত ও প্রদাহিত,রক্ত মিশ্রিত লালাস্রাব,মাঢ়ীতে ঘাচোয়ালের নিচে ফোলা,কুন্থন সহ মলত্যাগের শিশুর জন্য উপযোগী।

এসিড নাইট্রিক ঃমুখে দুর্গন্ধ যুক্ত হলুদাভ ক্ষত,ঠোটের উপর ফুস্কুড়ি,চিবুক গলা হাজিয়া গেলে উপযোগী।

ফাইটোলক্কা ঃমুখের মধ্যে ডান পাশে ক্ষত,প্রচুর লালাস্রাবসহ জ্বালা ভাব থাকলে উপযোগী।

সিকেলি কর ঃক্ষত কাল বর্ণ,পচিতে শুরু করিলে মুখের মধ্যে জ্বালাপ্রবল পিপাসা,মাঢ়ী হতে রক্ত ঝড়ে,তাপ সহ্য না হলে সিকেলি কর উপযোগী।

ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া ঃমাঢ়ী স্পন্জের মত ক্ষত রক্ত ঝড়ে,মুখে ও জিহ্বায় ফুস্কুড়ি,গ্রীবাগ্রন্হি ফোলা,মুখে দর্গ্ধযুক্ত হলে উপযোগী।

এসিড সালফিউরিক ঃশিশু কলেরা,ম্যারাসমাস অত্যন্ত দুর্বল,গালের মধ্যে মাঢ়ীতে হলুদাভ ক্ষত,অত্যন্ত বেদনা যুক্তঅম্লগন্ধ যুক্ত বমি,ধোয়ার পরেও শিশওর গা অম্লগন্ধ যুক্ত থাকে।

সালফার ঃশিশুর গাগে অম্লগন্ধ,পরিস্কার করার পরেও দুর্গন্ধ থাকে।শিশুর গাঢ় নিদ্রা হয় না,বার বার জেগে উঠে।মাঢ়ী হতে রক্ত পড়ে।রক্ত মিশ্রিত মল,মলদ্বার হাজিয়া যায়।চর্মরোগ গ্রস্হ শিশুর মুখে ঘা সুনির্বাচিত ঔষধ ব্যার্থ হলে সালঢার উপযোগী।

 শিশুর মুখে জাড়ী ঘা চিকিৎসায় ব্যবহৃত উল্লেখিত ঔষধ সমমুহ বাছাই করা একটি সহজ কাজ নয়।আমার লেখা নবিন ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে লেখা।কেহ একাকি ডাক্তারি না করে দক্ষ ডাক্তারের সাহায্য নিন।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন। লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃইয়াকুব সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গো: রেজি নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

২৪.১২.১৭

ইগ্নেসিয়া এমারার প্রয়োগক্ষেত্র ও বিশিষ্ট রক্ষণ

Homeopathic medicine Ignatia amara


ইগ্নেসিয়া এমারা 
সেন্ট ইগনেসিয়াস বিন হতে হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া অনুসারে প্রস্তুত।
উপযোগীতা  
এই ঔষধটি মানসিক ও স্নায়বিক রোগীদের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।সহজেই উত্তেজিত, অত্যনুভুতিযুক্ত উপযোগী।অত্যন্ত পরিবর্তনশীল মন। এইমাত্র আহলাদিতপরক্ষণেই মন খারাপ,কখনও কখনও ছেলেমানুষিক কাজ করে।মনের কষ্ট মনে চাপা রাখে, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে।একা নির্জনে থাকতা চায়, তামাকের গন্ধ সহ্য করেতে পারে না।ঠিক এক সময় জ্বরের আত্রমন, মাথা বেদনায় মনে হয় যেন মাথায় পেরেক ডুনানো হচ্ছে। প্রেমের নিরাশের কারণে রোগ,শিশুদের শাসন করিবার পর তড়কা। মানসিক অবস্হা পালসেটিলার বিপরিত আর ন্ট্রোম মিউর ক্রনিক অবস্হায় প্রয়োজন হয়।
ইগ্নেসিয়ার অদ্ভুত লক্ষণ 
ü  ১)ভরপুর আহারের পরেও পেট যেন খালি।
ü  ২)সঙ্গীতের শব্দে কাণের সোঁ সোঁ শব্দের অবসান হয়।
ü  ৩)কোন কিছু চিবালে দাতের ব্যাথা কমে।
ü  ৪)ভ্রমনে অর্শের বেদনার অবসান।
ü  ৫)ধ্বজ ভঙ্গ রোগীর সঙ্গমের ইচ্ছা প্রবল।
ü  ৬)জ্বরে শীতকর অবস্হায় জলপান করে কিন্তু উত্তাপে পীপাসাহীণ।
ü  ৭)কাশিলে কাশির আরও বৃদ্ধি।
ü  ৮)গঠনে পুরুম কিন্তু স্বভাবে স্ত্রী।

হিস্টিরিয়া
  বা মুর্ছা
যদি কোন ব্যার্থপ্রেম, অপমান ইত্যাদির কারণে হয় তবে ইগ্নেসিয়া উপযোগী।ফিটের সময় একবার হাসে একবার কাদে।পেশী স্পন্দন তাকে।বুক ধরফর করে।হঠাৎ চিৎকার করে পরেই শান্ত।শোক নিরবে সহ্য করে রোগ হয়।গ্লোবাল হিস্টিরিয়ায় যুবতি বাধক বেদনায় হিস্টিরিয়া ও অনিদ্রায় রোগী ফিট হওয়ার পুর্বে পেট হতে গোলার মত কি যেন গলা পর্যন্ত ঠেলে উঠে।পানিপানে নিচে নেমে আসে।

গলনালীর পীড়া
 
গলার মাঝে কি যেন আটকানো আছে,রোগী মনে করে গলায় মাছের কাটা আছে।ঢোক গেলায় কষ্ট হয়।তরল পানি পানে কষ্ট হয় কিন্তু শক্ত কিছু গিলিতে কষ্ট হয় না।

শোক জনিত রোগে
  
ইগ্নেসিয়া উপযোগী। একটু পরিশ্রমে ক্লান্ত, মাথা ভারি বোধ, দিন দিন ক্ষুধা কমিয়া যায়।

মলদ্বারের পীড়া ও প্রলাপস
 
বারবার মলত্যাগের ইচ্ছা, মলদ্বারা দিয়ে রেক্টাম বেরিয়ে আসে।কোথ দিয়ে মলত্যাগে ভয়। রেক্টাম বের হলে হাত দিয়ে উঠাইয়া দিতে হয়। মলত্যাগের পরেও অনেক সময় যন্ত্রনা বিদ্যমান থাকে।

মাথা ঘোরান
রোগী মনে করে তার মাথা ঝোলানো আছে।রাতে মাথা ঘোরানোর বৃদ্ধি এবং প্রস্রাবের বেগ।

মাথা যন্ত্রনা
 
মাথার পেছনে আঘাত পেয়ে মাথার যন্ত্রনা।রোগী মনে করে তাকে শুন্যে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।ভীষণ উদ্বিগ্ন,ভীত উচ্চ স্হান হতে পরে যাচ্ছে বলে চিৎকার করলে ইগ্নেশিয়া উপযোগী।

বৃদ্ধি
 
তামাক, কফি, তীব্র গন্ধ, মানসিক উদ্ধেগে, শোক,শীতে,নিদ্রা ভঙ্গে বৃদ্ধি।

উপসম
 
উত্তাপে, প্রবল চাপে, কঠিন দ্রব্য আহারে, চলিয়া বেড়ালে।

ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
(ডি.এইচ.এম.এস-বি.এইচ.বি-ঢাকা)/এম.এস.এস(এন.ইউ)।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল, আশুলিয়া থানার পাশে, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮/ ০১৬৮৬৯৮১৪৪৫
ইমেইলঃ- yeakubtangail@gmail.com
আমার ফ্রি মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন লিঙ্ক

২১.১২.১৭

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত নোসোড ঔষধ কার্সিনোসিন।


কার্সিনোসিনঃ
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীর মনোলক্ষণ। কার্সিনোসিনের মানসিক লক্ষণগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল-ভয়, খিটখিটে-বদরাগী, খুঁতখুঁতে স্বভাব।
ভয়-ভীতি : সবকিছুতে ভয়। অকারনে ভয়, শৈশব থেকে ভীতিগ্রস্থ, রোগের ভয়, মৃত্যুভয়, পরীক্ষার ভয়। প্রকাশিত বা সুপ্ত যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন-কার্সিনোসিনের প্রধান নির্দেশাত্মক লক্ষণ হলো ভয়। ভয়জনিত অসুস্থতা বা ভয় পাওয়ার পর অসুস্থতার ইতিহাস থাকলে কার্সিনোসিনকে সবার আগে ভাবতে হবে। ক্যান্সার বা ঐ রকম নানা অসুস্থতার ভয়। অসুস্থ হলেই ভাবে সে কোনও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। ভয় থেকে নানা রকম অসুস্থতার সৃষ্টি। ভয় থেকে কখনও কখনও মনে এমন বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয় যে তাকে কেউ খাদ্যে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলবে, কেউ তাকে হত্যা করার চক্রান্ত করছে ইত্যাদি। আত্মহত্যার প্রবণতা, হতাশা, চিন্তা বা কাজকর্ম করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি স্নøায়ুবিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। রোগীর মনের অবস্থা ক্রমশ এমন স্তরে পৌছায় যে তারা বর্হিজগৎ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নেয়। পরিশেষে সম্পূর্ণ উন্মাদ পর্যন্ত হয়ে যায়।
আশঙ্কা : সবকিছুতে বিপদের আশঙ্কা (জেলসেমিয়াম)। আপাতত কোনও কারণ ছাড়াই আশঙ্কা। ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা। স্বামী, ছেলে, মেয়ে, পরিবারের লোকজন যথাসময়ে বাড়ি ফিরছে না। কোন ও বিপদ ঘটেনি তো? ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে পাশ করবে তো? এরকম নানা অমূলক আশঙ্কা (আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, আর্সেনিক, কার্বো-ভেজ, জেলসেমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, ফসফরিক-অ্যাসিড, প্লাম¡াম-মেটালিকাম, সাইলিশিয়া, থুজা)।
খিটখিটে বদরাগী : খিটখিটে স্বভাব কার্সিনোসিনের অন্যতম নির্দেশাত্মক লক্ষণ। উত্তেজনা প্রবণ। আমাদের ভেষজ ভান্ডারে যত রকম খিটখিটে স্বভাবের ওষুধ আছে সবার উপরে কার্সিনোসিন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণ অন্যভাবে প্রকাশ পেতে পারে-অভদ্র, রূঢ়, মা বাবার অবাধ্য। মূল্যবান জিনিসপত্র ছুড়ে দেয়, ভেঙে ফেলে, তুচ্ছ বিষয়ে কান্না জুড়ে দেয়, চিৎকার-চেচামেচি করতে থাকে, প্রচন্ড রকমের জেদ।প্রাপ্ত বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে এরা ভদ্র,মাজির্ত স্বভাবের হলেও কোনও কিছু মনমতো না হলে বিপরীত মূর্তি ধারণ করে। অযৌক্তিক ভাবে হঠাৎ রেগে ওঠে। শান্ত স্বভাবের রোগীদের ক্ষেত্রে কার্সিনোসিন দেওয়া যায় না, তবে বদরাগী, উত্তেজিত রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক ভাল কাজ করে।
খুঁতখুঁতে স্বভাব : সব কাজে খুঁতখুঁতে, পিটপিটে স্বভাব (আর্সেনিক, অ্যানাকার্ডিয়াম, গ্রাফাইটিস, নাক্সভম)। বাড়ির কাজ, অফিসের কাজ সব কাজ নিখুঁত হওয়া চাই। সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে নেয়, বুঝে নেয় যাতে নির্ভূল হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ফিটফাট, রুচিশীল। ঘরদোর, পোশাক আশাক সবকিছু ফিটফাট। আবার সোরিক রোগীদের মতো অগোছালো,স্নান করতে চায় না এমন বিপরীত লক্ষণও আছে। বৈপরীত্য যেহেতু কার্সিনোসিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য- মানসিক লক্ষণেও বিপরীত লক্ষণ পাওয়া যায়।
বাতিক :সবধরনের বাতিক-সন্দেহবাতিক, বদ্ধমূল ধারণা, অশ্লীল জাতীয় স্নায়ুবিকতা, আতঙ্কগ্রস্ত ইত্যাদি কার্সিনোসিনে পাওয়া যায়।
হতাশা : মানসিক হতাশাগ্রস্ত। জীবনে হতাশা, আরোগ্য সম¡ন্ধে হতাশা, সব বিষয়ে একটা হতাশা। একসময় এ লক্ষণ এমন স্তরে পৌছায় যে রোগীরা জীবন শেষ করে দিতে চায়। আত্মহত্যা করতে চায় (অরাম-মেটালিকাম)। ডাঃ ক্লার্ক নির্দেশ দিয়েছেন- মানসিক রোগীদের আত্মহত্যার ঝোঁক থাকলে এবং ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা পেলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে হবে।

অন্যান্য বিশেষ মনোলক্ষণ
শিশুরা মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান। খুব মানসিক পরিশ্রম করতে পারে। নিরেট নির্বোধ শিশুও কার্সিনোসিনে পাওয়া যায়। এদের পড়াশোনা শেখানো, কোনও কিছু বোঝানো খুব সমস্যা। কোনও কিছু চিন্তা করা তাদের পক্ষে কষ্টকর। মানসিক বিকাশ পুরোপুরি ঘটে না। এখানেও সেই বৈপরীত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। মেধাবী বা জড় বুদ্ধি সম্পন্ন যাই হোক না কেন কার্সিনোসিনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ভয়, আশঙ্কা।
১. একগুয়ে, জেদি, অনমনীয় স্বভাব (টিউবারকুলিনাম)।
২. আত্মহত্যার প্রবণতা (অরাম মেট)।
৩. অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল (কস্টিকাম, ইগ্নেশিয়া, নেট্রাম -মিউর, নাক্র- ভমিকা, ফসফরাস)
৪. সান্ত্বনায় বিমুখ।
৫. তিরষ্কার বা ভৎর্সনায় অনুভূতিশীল (কলোফাইলাম, ইগ্নেশিয়া, ওপিয়াম, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া)।
৬. ঝড়বৃষ্টি-বজ্রপাতে আনন্দ পায় (সিপিয়া)। আবার বিপরীত লক্ষণও আছে, ঝড়ের হাওয়ায়, ঠান্ডায় শিশুরা ভয় পায়।
৭. ভ্রমণ প্রিয়তা।
৮. সঙ্গীতপ্রিয়।
সঙ্গীত, নৃত্যে অনুভূতিশীল। ছন্দ, তাল, লয় সম¡ন্ধে সচেতন (ইগ্নেশিয়া, সিপিয়া, সাইলিশিয়া)। সঙ্গীতে কখনও কখনও কান্না পেয়ে যায় (ডিজিটেলিস, গ্রাফাইটিস, ক্রিয়োজোট, ক্যালি-নাইট্রিক, ন্যাট্রাম-কার্ব, নেট্রাম-সালফ, নাক্স-ভমিকা, থুজা)। ডাঃ হুই বনহুয়া বলেছেন, খুঁতখুঁতে স্বভাব ও সঙ্গীতে অনুভূতি প্রবণতা- দু’টি ওষুধে আছে। একটি কার্সিনোসিন ও অন্যটি নাক্র ভমিকা।
৯. শিশুরা নখের চারধারের চামড়াগুলি দাঁত দিয়ে কেটে বা চিমটি কেটে ছিড়ে ফেলে।
কার্সিনোসিনের সার্বদৈহিক লক্ষণ (Physical Symptoms)
মস্তক : মস্তিকের আড়ষ্টভাব (Sense of Symptoms) মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয়তা, জড়তা, গতিশক্তিহীনতা। মনে হয় মাথা কোনও কাজ করছে না। চিন্তা করা কষ্টদায়ক, দপদপানি ব্যথা, মাইগ্রেন-ডানদিকে। বেদনা অতি গভীরে বলে মনে হয় (টিউবারকুলিনাম)। মাথা ক্রমশ বড় হয়ে যাচ্ছে বলে অনুুভূতি, বিশেষত ডানদিকে। সেজন্য মাথা বেঁধে রাখতে চায়। ঝড় বাদলের আগে মাথা ধরা।
চর্ম : চর্ম ধূসর, মেটে বর্ণ। দুধের সাথে কফি মেশালে যেরকম হয় অনেকটা সেরকম। প্রচুর সংখ্যক জরুল, আচিঁল, শ্লেষ্মাগুটি, জন্মকলঙ্ক। চর্মে বিশেষত বুকের মাঝখানে, দুই স্কন্ধস্থি (Scapula)-র মাঝখানে কাউর ঘা (Eczema) যা অনেকদিন ধরে সারছে না।
চোখ : চোখ নীলবর্ণ। বিড়াল চক্ষু, চোখের সাদা অংশ নীলাভ, অনবরত চক্ষু পল্লবের মিটমিটানি, পিটপিটানি।
নাক : নাকের ভিতর মারাত্মক প্রকৃতির ক্ষত, সর্দি প্রবণতা।
মুখমন্ডল : বর্ণ ধূসর, মেটে বর্ণ, দুধে-কফির বর্র্ণ, মুখমন্ডলের শিরাগুলি প্রকট, নীলাভা, মুখের পেশীগুলিতে অদ্ভুদ ধরনের খিঁচুনি, মুখে ব্রণ।
পর্যায়শীলতা : শরীরের একদিক থেকে অন্যদিকে রোগ লক্ষণের পর্যায়শীলতা (ল্যাক-ক্যানিনাম, সিপিয়া)।
মুখ : মুখে মারাত্মাক ধরণের ক্ষত, মাঢ়িতে অত্যানুভূতি, তালুতে যন্ত্রণা, গরম পানীতে উপশম দাঁতের যন্ত্রনা।
গলা : গিলতে কষ্ট, গলায় সঙ্কোচন বোধ (Sense of constriction) স্বরভঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে, ফ্যাসফ্যাসে গলা।
বুক : বুকে চাপ বোধ (Sense of constriction) এর থেকে উপশম পেতে ঘন ঘন শ্বাস নেয়, দীর্ঘশ্বাস নেয় (ইগ্নেশিয়া)।
হৃদপিন্ডের কম্প-ধড়ফড়ানি, এত প্রচন্ড হৃদকম্প যে তা রোগী শুনতে পায়, অনুভব করে (স্পাইজেলিয়া)।বুকে বা স্তনে দলা, গুটলি।তাতে টাটানি ব্যথা।দীর্ঘস্থায়ী কষ্টকর কাশি।পাকস্থলী থেকে উদগত কাশি (ব্রায়োনিয়া)-স্টার্নাম অস্থির নিচের দিকে সুরসুর অনুভূতি। গরমে, গরম ঘরে বা ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি (রিউমেক্স), হাসলে বা কথা বললে বাড়ে (ফসফরাস, রিউমেক্স) পোশাক পরিবর্তনে বৃদ্ধি (রিউমেক্স) হাই তুললে বাড়ে (নেট্রাম সালফ)।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ : হাত পায়ের অসাড়তা। পেশীগুলিতে অনৈচ্ছিক খিঁচুনি। পায়ের পেশীগুলিতে দুর্বলতা। সায়েটিকা, ব্যথা-গরম প্রয়োগে,স্বাভাবিক চলাফেরায় (পালস্) অল্পক্ষণ ঘুমালেই উপশম (বিশেষ লক্ষণ)। জোরে হাটলে বাড়ে। বৃদ্ধাঙ্গুলের মাথা ফাটা ফাটা, সাথে যন্ত্রণা, চুলকানি।
অন্ত্র ও আন্ত্রিক প্রদেশ : পূরাতন যকৃত প্রদাহ। পেটে সবসময় এক অস্বস্তিভাব, ব্যথা অনুভব হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা সাথে উদরে ব্যথা। মলত্যাগের কোনও ইচ্ছা ও বেগ থাকে না। (অ্যালুমিনা, ব্রায়োনিয়া, গ্রাফাইটিস, হাইড্রাসটিস, ওপিয়াম) বদহজম-অবিরত বদহজম, বিশেষত শিশুদের। কিছু খেয়ে হজম করতে পারে না। মলদ্বারে সঙ্কীর্ণ অনুভূতি (Sense of constriction)| উদরশূন্য বিকেল ৪টা থেকে ৬টায় বৃদ্ধি। চাপ প্রয়োগে, সামনের দিকে ঝুকে থাকলে, গরম কিছু পান করলে উপশম পাওয়া যায় (ম্যাগ ফস)। বমি বমি ভাব সহ পেটে এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতি (Fear in pit of stomach with desire of vomit). উল্লেখ্য এ লক্ষণটি ভয়ের বা আতঙ্কের কারনেই সৃষ্টি।
কার্সিনোসিনের শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ (Physical Function)
ক্ষুধা : ক্ষুধা মন্দা। খেতে অনীহা, দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে অরুচি, বিতৃষ্ণা। আবার বিপরীত লক্ষনেও ভরপুর।
পিপাসা : অত্যধিক পিপাসা ও পিপাসাহীনতা দু’টি লক্ষণই কার্সিনোসিনে দেখা যায়।
পায়খানা : কোষ্ঠবদ্ধতা এবং উদরাময় দুটি লক্ষণের রোগী পাওয়া যায়। মলত্যাগের বেগহীন কোষ্ঠবদ্ধতা (ওপিয়াম)। মল শক্ত এবং শুকনো।
স্রাব : মাসিক স্রাবের গন্ডগোল। যে কোন স্রাব ঘন ও ক্ষতকর (Thick and Acrid) যৌনক্ষেত্রে মহিলাদের জরায়ুর ক্ষত। ভীষণ যন্ত্রণাপূর্ণ ক্ষত। ক্ষত থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পূজ, ঝাঁঝালো প্রকৃতির রক্তস্রাব হয়। হস্তমৈথুনের ফলে স্বাস্থ্যহানি। পুরুষদের যৌন উত্তেজনা কম। পুরুষত্বহীনতা।
নিদ্রা : কার্সিনোসিনের অন্যতম নির্দেশক লক্ষণ-অনিদ্রা। ভয়, আশঙ্কা ইত্যাদির কারনে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা। অস্থির নিদ্রা। বিঘিœত নিদ্রা, শরীরে এক ধরনের ঝাঁকি দিয়ে উঠে ঘুম আসতে চায় না। ভোর ৪টায় ঘুম ভেঙে যায়। অনিদ্রার কারণে মানসিক দুর্বলতা। এ অবস্থায় অল্প ঘুমালেই শান্তি ফিরে আসে।
স্বপ্ন : স্বপ্নবহুল নিদ্রা, উত্তেজনাপূর্ণ স্বপ্ন, ব্যস্ত তৎপর বিষয়গুলি নিয়ে স্বপ্ন (কফিয়া)।
কার্সিনোসিনের নিদ্রাকালীন অবস্থা (Position of sleep)
কার্সিনোসিনের নিদ্রাকালীন অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য ঔষধের সাথে তুলনা করে, সদৃশ্য অন্যান্য লক্ষণ পাওয়া গেলে কার্সিনোসিন অসাধারণ ফল প্রদান করে। হাঁটু দু’টো গুটিয়ে শোয়া। (ক্যাল্কেরিয়া-ফস, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, ফসফরাস, সিপিয়া, টিউবার-কুলিনাম)। হাঁটু ও কনুই একত্রে বুকের কাছে জড়ো করে উপুর হয়ে ঘুমায় (Genu pactoral position during sleep).
ইচ্ছা-অনিচ্ছা (Desire and Aversion)- এ লক্ষণটি নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বয়স্করা মাথার উপর হাত দিয়ে চিত হয়ে ঘুমোয় (পালস)। শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ওপরের উল্লেখিত নিদ্রা যাওয়ার লক্ষণটি পরিবর্তন হলেও শৈশবে ঐরকম নিদ্রা যাওয়ার অভ্যাস, জীবনের কোনও এক সময়ে দীর্ঘকাল ধরে অনিদ্রায় ভোগার ইতিহাস থাকলে, অন্য ঔষধে আশান্বিত ফল না পেলে বা সদৃশ্যতা না পাওয়া গেলে কার্সিনোসিনাম প্রযোজ্য।
নোনতা খাদ্য, দুধ, মিষ্টি,মাখন,চর্বিযুক্ত মাংস-এসব খাদ্যে আগ্রহ। ডিম, ফল, চর্বি জাতীয় খাদ্য, দুধ, চিনি-এসব খাদ্যে অনিচ্ছা। বিভিন্ন খাদ্যে আসক্তি যেমন আছে অভক্তি ও দেখা যায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে। আবার এমনও দেখা যায় সেসব খাবার হয়তো সহ্য করতে পারছেনা। খেলেই বদহজম হচ্ছে। এখানেও সেই বৈপরীত্য। সুতরাং কোন বিশেষ খাদ্য-দ্রব্যের প্রতি আগ্রহ, অপছন্দ তা সঠিকভাবে বলা খুবই কঠিন।
কার্সিনোসিন বৃদ্ধি-উপশম (Modalities)
পোশাক পরিবর্তনের পর কাশি, চুলকানি বৃদ্ধি, বেলা ১টা থেকে ৬টা কিংবা রাতে বৃদ্ধি, রোগের চিন্তায় একা থাকলে বৃদ্ধি, অমাবস্যা-পূর্ণিমায় বৃদ্ধি (থুজা, সাইলেশিয়া), হাসলে বা কথা বললে বৃদ্ধি (ফসফরাস)। বিশ্রামে, ঘুমালে, কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে উপশম। হাঁপানি তথা শ্বাসকষ্ট, সমুদ্র এলাকায় বেড়াতে গেলে ভাল থাকে। কখনও ঠান্ডায় উপশম, কখনও গরমে উপশম। সমুদ্রের বায়ুতে কখনও ভাল থাকে, কখনও শরীর খারাপ করে (নেট্রাম-মিউর, মেডোরিনাম)। সমুদ্রের এই পাড়ে হয়তো ভাল, অন্য পাড়ে অসুস্থতা। বৈপরীত্য যেহেতু কার্সিনোসিনের অন্যতম প্রধান পরিচয়-এখানেও সে লক্ষণের অভাব হয় না।
তুলনীয় ঔষধ (Other Related Remedis) :
অ্যালুমিনা,আর্সেনিক-অ্যাল্ব, ক্যাল্কেরিয়া-ফস, ডিসেন্টেরি কম্পাউন্ড,ডায়াস্কোরিয়া, গার্টনা,লাইকোপোডিয়াম,মেডোরিনাম,নেট্রামমিউর,নেট্রামসালফ,ওপিয়াম,ফসফরাস, পাল্সেটিলা, সোরিনাম, সিপিয়া, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফার, সিফিলিনাম, থুজা, টিউবারকুলিনাম সহ অন্যান্য নসোড ঔষধগুলি।
কার্সিনোসিনের ক্রিয়াস্থল (Sphare of Action) :
হৃদযন্ত্রের,পরিপাক যন্ত্র,স্নায়ুকেন্দ্র,শ্বসন যন্ত্র, চর্ম-কার্সিনোসিনের মূল ক্রিয়াস্থল।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (Positive Diagnosis) :
আমরা জানি,হোমিওপ্যাথি রোগের চিকিৎসা করে না,করে রোগীর চিকিৎসা। সদৃশ লক্ষণ পাওয়া গেলে সমস্ত অসুস্থতায় কার্সিনোসিন কার্যকর হতে দেখা যায়।তবে বংশে ক্যান্সার সহ নানা রকমের অপকর্ষ রোগের ইতিহাস থাকলে,শিশু বয়স থেকে প্রদাহিক অসুস্থতায় ভোগার ইতিহাস থাকলে, অনিদ্রার ইতিহাস,ভীতু প্রকৃতির মানসিকতা ইত্যাদির চিত্র পাওয়া গেলে নিম্নলিখিত রোগলক্ষণে কার্সিনোসিন প্রযোজ্য। ক্যান্সারের পূর্বাবস্থায়, অপুষ্টি, দূরারোগ্য যেকোন ও অসুস্থাবস্থা, থ্যালসেমিয়া, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডলাইসিস, অ্যালবুমিনযুক্ত রক্তপ্রস্রাব, কোষ্ঠবদ্ধতা, উদরাময়, অনিদ্রা, মারাত্মক প্রকৃতির রক্তহীনতা, একপার্শ্বিক রোগ, বংশগতভাবে অর্জিত যে কোন রোগ, টিউবারকুলোসিস। দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা,মানসিক আঘাত ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট শরীর-মনের বিভিন্ন অসুস্থতায় কার্সিনোসিন চিন্তেয়।
বিশেষ প্রয়োগ ক্ষেত্র (Special Diagnosis) :
বিভিন্ন অসুস্থতায়, সদৃশ, ঔষধ প্রয়োগ করার পর যদি আশান্বিত ফল প্রদান না করে-সেখানে কার্সিনোসিনের কথা সবার আগে ভাবতে হবে।
ঔষধের শক্তি ও মাত্রা (Potency and Dose) :
৫০ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষুধের প্রয়োগ বিজ্ঞান’ বইয়ে ডাঃ হরিমোহন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন ঐ পদ্ধতির ঔষুধ যেন নসোড ঔষধগুলি ক্ষেত্রে ০/৬ বা এম/৬ বা এল এম/৬ এর নিচে প্রয়োগ করা হয়না, না হলে রোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য চিকিৎসকেরাও উচ্চক্রমের ঔষুধ প্রয়োগের কথা বলেছেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নিন্মক্রমের ঔষধ (০/১ বা ০/২ বা ০/৩) ব্যবহার করা অনেক যুক্তিসঙ্গত। মাত্রা সম¡ন্ধে ডাঃ হ্যানিম্যান অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করনের ২৪৮সূত্রে বলেছেন প্রথম শ্রেনীর অর্থাৎ সাংঘাতিক রোগগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় বা আরও ঘন ঘন ঔষধ প্রয়োগ করতে।
দ্বিতীয় শ্রেনীর অর্থাৎ নতুন, তরুন বা অচির রোগের ক্ষেত্রে-দুই থেকে ছয় ঘন্টান্তর প্রয়োগ করতে।
তৃতীয় শ্রেণীর অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী, পুরাতন বা চিররোগে প্রতিদিন বা একদিন পর পর ঔষধ প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।
অচির রোগীর ক্ষেত্রে রোগের গভীরতা, রোগীর রোগ প্রবণতা, সন্তাপ প্রবণতা ও ভীষনতা অনুসারে প্রতি ১০ মিনিট বা ১৫ মিনিট বা ২০ মিনিট বা ৩০ মিনিট বা ১ঘন্টা বা ২ ঘন্টা বা ৪ ঘন্টা বা ৬ ঘন্টা বা ৮ ঘন্টা বা ১২ ঘন্টান্তর প্রয়োগ করতে হবে।
চিররোগীকে প্রতিদিন ১ দাগ, ১ দিন পর পর ১ দাগ। সহ্য না হলে ২/৩/৪/৭/১০/ বা ১৫ দিন পর পর মাত্রাকে যথা প্রয়োজন ক্ষুদ্র করে বা ঘ্রানে প্রয়োগ করতে হবে। চিররোগের চিকিৎসার শেষ দিকে, যখন রোগী প্রায় আরোগ্য লাভ করতে চলেছেন, তখন তথাকথিত হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। তখন ঔষধের মাত্রাকে আরও ক্ষুদ্র করে দীর্ঘদিন পর পর প্রয়োগ করতে অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করণের ২৪৮ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি ৪ আউন্স বোতলে ৩ আউন্স পরিশ্র“ত জল নিতে হবে। তার মধ্যে একটি মাত্র ১০ নং ঔষধ সিক্ত অনুবটিকা এবং ১৫/২০ ফোঁটা সুরাসার দিতে হবে। এবার যে মিশ্রনটি হলো তাকে ৮ দাগ করতে হবে। রোগীর স্পর্শসহিঞ্চুতা অনুসারে ৮/১০/১২ বার সজোরে ঝাঁকি দিয়ে ১দাগ সেবন করতে হবে। এই মাত্রা সেবনের পর যদি সহ্য না হয়। কোন রকম বৃদ্ধি হয় তবে পরবর্তী সেবনের আগে নির্দিষ্ট ঝাঁকির পর ১ দাগ ঔষধ একটি গ্লাসে নিয়ে তাতে ৪ আউন্স পরিমান বিশুদ্ধ জল মেশান। এবার ভাল করে নেড়ে ১ বা ২ চা-চামচ সেবন করতে হবে এবং বাকিটা ফেলে দিতে হবে। তাতে ও বৃদ্ধি দেখা দিলে ২য় গ্লাস বা ৩য় গ্লাস, ৪র্থ গ্লাস পরিবর্তন করে সেবন করতে হবে। এভাবেও যদি না হয় তবে অনেকদিন পর ঘ্রানে প্রয়োগ করতে দিন। ঘ্রানে প্রয়োগ করার জন্য মিশ্রণ বানাতে হবে- ১টি ১ আউন্স শিশিতে ১ ফোটা পরিশ্র“ত জল নিয়ে তাতে ১টি ঔষধসিক্ত অণুবাটিকা দিতে হবে। ১ মিনিটে তা গলে গেলে তাতে পৌনে এক আউন্স সুরাসুর দিন। প্রতিবার ঘ্রান নেওয়ার আগে রোগীর স্পর্শ সহিঞ্চুতানুসারে ৮/১০/১২ বার ঝাঁকি দিয়ে এক নাক বন্ধ করে অন্য নাক দিয়ে এক সেকেন্ড জোরে ঘ্রান নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে,যথার্থ ক্ষুদ্র মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে,চিকিৎসাকালে কোনও ওষুধজ বৃদ্ধি আসে না। চিকিৎসা সমাপ্ত হওয়ার আগে যখন আর ঔষধের প্রয়োজন নেই তখন বৃদ্ধি দেখা যায়। প্রথম দিকে বৃদ্ধি হলে বুঝতে হবে ঔষধের মাত্রা বড় হয়েছে। আরোগ্যোন্মুখ অবস্থায় আর ঔষধের প্রয়োজন আছে কিনা তা দেখার জন্য কয়েকদিন ঔষধ বন্ধ রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত বক্তব্যটি ৫০ সহস্রতমিক পদ্ধতির নিরিখে আলোচনা করা হলো। হ্যানিম্যানের শেষ অবদান, অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করণ বর্ণিত ৫০ সহস্রতমিক ঔষধেই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভাবে, নির্বিঘেœ চিকিৎসা করা সম্ভব এটা বর্তমানকালের সমস্ত প্রতিষ্ঠিত হ্যানিম্যানীয় চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা।
সর্তকতা (Precaution) :
ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করা উচিত নয়। তাতে রোগ অন্যত্র ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় অথবা রোগ আরও বৃদ্ধি হয়ে রোগীর জীবন সংশয় হতে পারে বলে ডাঃ ফবিস্টার জানিয়েছেন। ক্যান্সার তৃতীয় অবস্থায় যখন বিধ্বংসী কাজ শুরু হয়ে যায় তখন রোগীকে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করা হলে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় যন্ত্রনাহীন মৃত্যু সম্পন্ন হয়।
লেখক : ডা: সৈকত।
মেটেরিয়া মেডিকা।।সঙ্কলিত।।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া থানার পাশে।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

৮.১২.১৭

গলক্ষতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


ডিপথেরিয়া সাংঘাতিক মারাত্বক পীড়া।শিশু,বালক-বালিকাদের এই পীড়া অধিক হয়।এই সংক্রামিত পীড়া,ভীষন ছোয়াচে।শরৎ ও শীত কালে এই রোগ অধিক হইতে দেখা যায়।গলার ভিতর আলজিহ্বা ও টনসিলের উপর সাদা দুধের মত পদার্থ জমিয়া থাকে।গলায় শ্লেষ্মা,গিলিতে কষ্ট।ঘাড় শক্ত ও শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়।এই রোগ মারাত্বক হয়।

ডিপথেরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষণভিত্তিক আলোচনাঃ

ফাইটোলক্কাঃ-শীত শীত ভাব,অত্যন্ত দুর্বল গলার ভিতর লাল বর্ণ ও জ্বালা।সমস্ত শরীর ব্যথা,ঢোক গিলতে কষ্ট।গরম খাবার খাইতে পারে না এই লক্ষণ সমষ্টিসহ ফাইটলক্কার বিশিষ্টি লক্ষণ বিদ্যমান থাকলে উপযোগী।

এপিস মেলঃ-গলার ভিতর থলির মত ফুলিয়া উঠে।পানাহার করিতে পারে না।গলায় হুল বিদ্ধ বৎ যন্ত্রনা।চোখের নিচের পাতা ফোলা।নাড়ির গতি দ্রুত।ঢোক গিলতে কষ্ট।

মার্কুরিয়াস সিয়াঃ-ডিপথেরিয়া হঠাৎ আক্রমন,অল্প সময়ে ভীষণ ভাব ধারন করে।রোগী দুর্বল ও হিমাঙ্গ হইয়া পড়ে।নাড়ির গতি দ্রুত,শ্বাস-প্রশ্বাসে পচা দুর্গন্ধ,গলার মধ্যে পর্দা জন্মে,মাঝে মাঝে নাক দিয়া রক্তপাত হয়।গলায় ক্ষত।

কার্বোভেজঃ-ডিপথেরিয়ার চরম অবস্হায় সর্বাঙ্গ শীতল।মাঝে মাঝে নাক দিয়া রক্ত পড়ে।গলার স্বর বসিয়া যায়।রোগী অনবরত পাখার বাতাস চায়।

ডিপথেরিণামঃ-ডিপথেরিয়ার প্রথম হইতে সাংঘাতিক হইয়া উঠে।রোগী অতি অল্প সময়ে দুর্বল হইয়া যায়।জিহ্বা লাল হইয়া গলার ভিতর ফোলিয়া নাক দিয়া রক্ত পড়ে।কোন খাদ্য দ্রব্য গিলিতে গেলে নাক দিয়া বাহির হইয়া আসে।

ল্যাক ক্যানাইনামঃ-ক্ষত ১২ ঘন্টা বা ২৪ ঘন্টা অন্তর একবার ডানদিকেেএকবার বামদিকে প্রকাশ পাইতে থাকে।

কেলি বাইক্রমঃ-আলজিভ অত্যন্ত ফুলিয়া ওঠে কিন্তু রক্তবর্ণ নহে।

এলেন্হাসঃ-নিদারুণ দুর্বলতা,শুন্যতা,প্রলাপ,গলা ভীষণভাবে ফুলিয়া ওঠে,ঘারে ব্যথা,বিদ্যুৎ-প্রবাহের অনুভুতি।প্রস্রাব বন্ধ হইয়া যায় বা অসারে প্রস্রাব।মল আমরক্তমিশ্রিত।রোগের প্রথম হইতে নিদারুন দুর্বলতা ইহার বৈশিষ্ট।

ব্রোমিয়ামঃ-কাশির সহিত ঘড় ঘড় শব্দ,দক্ষিণ বক্ষে প্রদাহ,নিউমোনিয়া।নাকের পাতা দুইটি নাড়িতে থাকে,সর্দি উঠেনা,শ্বাষকষ্ট,স্বরভঙ্গ,অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা সহ্য হয় না।ব্রোমিয়াম শরীরের বাম পার্শই আক্রমণ করে,রোগী বামপার্শ চাপিয়া শুইতে পারে না।শরীরের নানাস্হানের গ্ল্যাগুগুলি ফুলিয়া শক্ত হইয়া থাকে।

বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে গলক্ষতের সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ
INFLAMMATION, LARYNGITIS



Acute, catarrhal -- Acon., Æsc., Ant. t., Apis, Arg. m., Ars. iod., ArumBell., Brom., Bry., Canth., Carbo v., Caust.Cepa, Cub., Dros., Dulc., Eup. perf., Ferr. p., Guaiac., Hep., Iod., Ipec., Kali bich., Kali iod., Merc., Menthol, Osm., Phos.Rhus t.RumexSamb., Sang., Spong., Sticta, Sul.
Atrophic -- Am. m., Kali bich., Kali iod., Lach., Mang. ac., Phos., Sang.
Chronic, catarrhal -- Am. br., Am. iod., Ant. s. a., Ant. t., Arg. m.Arg. n., Bar. c., Bar. m., Calc. c., Calc. iod., Carbo v.Caust., Coccus, Cotyled., Dros.Hep., Iod., Irid., Kali bich., Kali c., Kali iod.Lach.Mang. ac., Merc. c., Merc., Nat. m., Nat. selen., Nit. ac., Nux v.ParisPhos.Puls., Rhus t., Sang. n., Selen.SenegaStann., Still., Sul., Thuya.
Follicular -- Arg. n., Hep., Iod., Kali iod., Selen., Sul.Membranous exudate, MEMBRANOUS CROUP (See Diphtheria - Throat.) -- Acet. ac., Acon., Ammon., Am. caust., Ant. t., Ars., Ars. iod., Bell., Brom., Calc. iod., Con., Dros., Ferr. p., Hep., Iod.Kali bich., Kali chlor., Kali m., Kali n., Kaolin., Lach., Merc. cy., Merc., Phos., Samb., Sang.Spong.SPASMODIC CROUP -- Acon., Ant. t., Ars., Bell., Benzoin., Brom., Bry., Calc. fl.Calc. iod.Chlorum, Cupr., Euphorb., Ferr. p., Hep., Ign., Iod., Ipec., Kali bich., Kali br., Kali n., Kaolin, Lach., Meph., Merc. i. fl., Mosch., Naja, Petrol., Phos., Poth., Samb., Sang., Spong.Ver. v.

DIPHTHERIA -- Ail., ApisArs., Ars. iod., Arum, Bapt.Bell.Brom., Calc. chlor., Canth., Carb. ac., Crot.Diph., Echin., Guaiac., Kali bich., Kali chlor., Kali m.Kali per., Lac c., Lach., Lachnanth., Led., Lob. infl., Lyc.Merc. c.Merc. cy., Merc. i. fl., Merc. i. r., Mur. ac., Naja, Nit. ac.Phyt., Rhus t., Sang., Sul., Tar. c., Vinca., Zinc. m.


TYPE
Ataxic -- Ars., Bell., Lach., Mosch., Phos.
Laryngeal -- Apis., Brom., Canth., Chlorum., Diph., Hep., Iod., Kali bich., Lac c., Merc. cy., Petrol., Phos., Samb., Spong.
Malignant -- Ail., Apis, Ars., Carb. ac., Chin. ars., Crot., Diph., Echin., Kali p., Lac c., Lach.Merc. cy., Mur. ac., Pyr.
Nasal -- Am. c., Am. caust., Kali bich., Lyc., Merc. cy., Nit. ac.
CONDITIONS and Concomitants
Extension
Downwards -- Iod., Kali bich., Lac c., Merc. cy.
Left to right -- Lac c., Lach., Sabad.
Right to left -- Lyc.
Upward -- Brom.
Croup -- Acet. ac., Brom., Hep., Iod.Kali bich., Kali m., Lach., Merc. cy., Phos., Samb., Spong.
Drooling -- Lac c., Merc. cy.
Objective symptoms only: painless type; deficient reaction; sopor, stupor, epistaxis -- Diph.
Post-diphtheritic paralysis -- Arg. n.Caust., Cocc., Con., Curare, Diph., Gels., Kali p., Lach., Oleand., Phos.Plumb., Rhus t., Sec.
Prostration from beginning -- Ail., ApisArs., Bapt., Canth., Carb. ac., Crot., Diph., Kali per., Lach.Merc. cy., Mur. ac., Phyt.
Spasm of glottis -- Mosch., Samb.
Urine scanty -- Apis, Ars., Canth., Lac c., Merc. cy., Naja.
   
বাইওকেমিক চিকিৎসাঃ

ক্যালি মিউরঃ-ক্যালি মিউর ডিপথেরিয়ার প্রধান ঔষধ।গায়ে জ্বর থাকিলে ফেরাম ফস সহ পর্যায়ক্রমে ব্যবহার্য।গলার ভিতর শ্বেত বর্ণের ক্ষত,মুখের ভিতর,জিহ্বায় টনসিলের উপর সাদা বর্ণের লেপ,প্রভৃতি লক্ষণে ইহা উপযোগী।

ক্যালি ফসঃ-এই পীড়ার যে কোন অবস্হায় ইহা প্রযোজ্য।অতিরিক্ত দুর্বল,সর্বাঙ্গ শীতল,নাড়ী লুপ্ত।মুখে অতিশয় পচা দুর্গন্ধ।গুরুতর অবস্হায় দেখা দিলে বা অন্য কোন ঔষধের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ইহা ব্যবহারযোগ্য।

গলক্ষত রোগীর করনীয় ঃ
* আক্রান্ত রোগীকে যথাসম্ভব পৃথক রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।
* আক্রান্ত রোগীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত রুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির পয়োনিষ্কাশনের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পন্থা অনুসরণ করা যেতে পারে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর সংস্পর্শে আসার সময় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গাউন, মাস্ক,গুগলস প্রভৃতি ব্যবহার করতে হবে।
* প্রতিবার আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার আগে ও পরে হাত যথাযথভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নীতিতে চিকিৎসা করা কঠিন কাজ।কেহ নিজে ঔষধ কিনে একা একা চিকিৎসা করবেন না।একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক মোবাইল এপসের লিঙ্ক দেয়া হল।ডাইনলোড করুন।


ডাঃ ইয়াকুব সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গো: রেজি নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

৬.১২.১৭

জন্ডিসের বাইয়োকেমিক চিকিৎসা

 ..

Biochemical treatment of jaundice


জন্ডিস কি ?কারণ ও বাইয়োকেমিক চিকিৎসা ঃ
রক্তস্রোতে অস্বাভাবিক উপায়ে বাইল পিগমেন্ট (Bile Pigment) , বিলিরুবিন (Bilirubin) ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরের ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ (Sclera) হলদে বর্ণ ধারণ করলে তাকে জন্ডিস বলে।
জন্ডিস কিভাবে হয়ঃ
রক্তের প্রধান উপাধান হল স্বেত কণিকা, লোহিত কণিকা, অনুচক্রিকা এবং প্লাজমা রস।লোহিত কণিকা প্রাথমিকভাবে লিভার ও স্প্লীন (Spleen) থেকে এবং পরবর্তীতে হাড়ের মজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়ে বেঁচে থাকে প্রায় ৩ মাস বা ১২০ দিন।সুস্থ পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি কিউবিক মিলিলিটার রক্তে গড়ে ৫৫০০০০০ টি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৫০০০০০ টি লোহিত কণিকা থাকে এবং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৪০০০০০ টি লোহিত কণিকা উৎপন্ন হয় । রক্ত স্রোতের মধ্যে বয়স্ক, ভেঙে যাওয়া, অস্বাভাবিক বা মরে যাওয়া লোহিত কণিকা অপসারিত হয়ে স্প্লীন,লিভার ও হাড়ের মজ্জার ভিতর জমা হয়।বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই লোহিত কণিকার মূল উপাদান হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) ভেঙে আয়রন বহনকারী প্রোটিন হেমাটিন(Haematin) অস্বাভাবিক বা গঠনগত ত্রুটির কারণে বাইল নিঃসরণের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায় তখন ইউরোবিলিনোজেন রক্তস্রোতের সাথে মিশে প্রস্রাবের সাথে নির্গত হয় । তখন প্রস্রাব হলদে দেখায়।রক্তে স্বাভাবিক অল্প পরিমাণ বিলিরুবিন থাকে যার মাত্রা ০.২-০.৮ মিলিগ্রাম।কিন্তু যখন রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন জমা হয় তখন আমরা তাকে জন্ডিস বলে থাকি।
লিভার সেলের প্রদাহের কারণে বা লিভারের অন্য অস্বাভাবিকতার কারণে পিত্ত নির্গমনে বাধা প্রাপ্ত হয়ে রক্তে চলে আসে।অপরপক্ষে লিভারের বাইরে গলস্টোন বা টিউমারের কারণে হেপাটিক ডাক্ট বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বিলিরুবিন রক্তে চলে
আসে।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে (Neonatal Jaundice) যেটা হয়, ব্যাপক পরিমাণ লোহিত কণিকা ভেঙে গিয়ে প্রচুর বিলিরুবিন তৈরী হয় এবং রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায় এটা অন্যান্যদের ক্ষেত্রে তেমন দেখা যায় না।
গিলবার্ট সিন্ড্রোমের (Gilbert's Syndrome) ক্ষেত্রে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা সামান্য বেড়ে যায় কিন্তু তা জন্ডিস হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়।আবার লিভার ফাংশন টেস্টে বিলিরুবিন বেশি দেখায় কিন্তু এক্ষেত্রে কোন লক্ষণও থাকে না সমস্যাও থাকে না।
কিভাবে বুঝবে জন্ডিস হয়েছ ঃ
১. চামড়া এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।
২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বর্ণের হয়।
৩. লিভার প্রদাহের কারণে ক্ষুদামন্দা,অরুচি, গা বমি বমি ভাব, বমি এবং জ্বর থাকতে পারে।
৪. দুর্বলতা ও বিরক্তি ভাব দেখা দিতে পারে।
৫. জন্ডিসের কারণের উপর ভিত্তি করে অন্যান্য লক্ষণসমূহ দেখা যায়।
রোগ নির্ণয়ঃ
সাধারণ পরিক্ষাঃ
১. স্ক্লেরার উপরের অংশ
২. জিহ্বার নিচের অংশ
৩. নখের গোড়ায়
৪. আভ্যন্তরীণ মিউকাস মেমব্রেন এবং
৫. গুরুতর অবস্থায় - মুখমন্ডল, চর্ম, বাম হাতের তালু প্রভৃতি জায়গায় হলদে ভাব আছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে ।
পরীক্ষাগারে রোগ নির্ণয়ঃ
১.সেরাম বিলিরুবিন- রক্তে সেরাম বিলিরুবিনের সাধারণ মাত্রা ০.২-০.৮ মিলিগ্রাম। ১০০ মিলিগ্রাম এ বিলিরুবিনের মাত্রা ৩ এর বেশি হলে ক্লিনিকাল জন্ডিস বলে এর কম হলে সুপ্ত জন্ডিস(Latent Jaundice) বলে।
২. আল্ট্রাসনোগ্রাম-এর মাধ্যমে লিভার, গলব্লাডার এবং বিলিয়ারী ট্রাক্টের মধ্যে গঠনগত কোন অস্বাভাবিকতা যেমন- টিউমার, ফোড়া, টিস্য বিকৃতি, যেমন- সিরোসিস, গলব্লাডার, পাথরের উপস্থিতি বা বাইল ডাক্ট অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া।
৩. সিটি স্ক্যানিং (CT Scanning)- এর মাধ্যমে চমৎকার প্রতিবিম্ব পাওয়া যায় এবং লিভারে টিউমার,ফেটি লিভার, লিভারে অন্যান্য পদার্থের উপস্থিতি ইত্যাদি সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পাওয়া যায়।
৪. এম. আর. আই (MRI)- এর মাধ্যমেও লিভারের পরিস্কার ছবি পাওয়া যায় এবং রোগ নির্ণয় সহজতর হয়ে যায়।
৫. এক্সরে- সাধারণ এক্সরে দিয়ে গলব্লাডারে পাথর আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।জন্ডিসের বাইয়োকেমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষনসহ আলোচনা ঃ
ফেরাম ফসঃ-লিভার রোগে উপকারী।প্রথমাবস্হায় যখন জ্বর বেদনা এবং অস্থিরতার ভাব থাকে তখন প্রযোজ্য।জ্বর সহ আমাশয়,জ্বর সহ উদরাময়,জ্বর সহপাকস্হলিতে বেদনা বোধ।পাকস্হলিতে ভার বোধ,ভুক্ত দ্রব্য বমন ও টক টক গন্ধ।আহারের ইচ্ছা থাকে না।
কেলিমিউরঃ-লিভারের কাজ যথাযথ ভাবে হচ্ছে না।জিহ্বা সাদা এবং খুব ময়লাযুক্ত,মলের রঙ সাদা।লিবার এবং ডান কান্ধে বেদনা।পিত্তের দোষ বর্তমান এবং কোষ্টকাঠিন্য।ডিও ডেনামের সর্দি হেতু জ্বর ও শীত ভাব তৎসহ জন্ডিস।ঠান্ডা লাগা হেতু অথবা যকৃতের ক্রিয়া ঠিক লতার জন্য জন্ডিস।মল কঠিন,সাদা বা ফ্যকাসে।
কেলিফসঃ-স্নায়বিক দুর্বলতা হেতু লিভারের কোন রোগ হলে ইহা খুব উপকারী।স্নায়বিক দুর্বলতার জন্য হজম শক্তির অভাব।ভয়ানক পিপাসা।অবসাদ ভাব,টক টক বমি।খাদ্য তিক্ত মনে হয়।পেট কামড়ানো,পেট ব্যথা,সর্বদাই পাকস্হলীতে বেদনা।
নেট্রাম সালফঃ-ক্রোধ হতে জন্ডিস।মল সবুজাভ এবংপিতযুক্ত।চর্ম ও চোখের সাদা অংশ হলুদ বর্ণ।যদি রোগীর মানসিক ক্লান্তি থাকে তবে এই ওঔষধের সংগে  কেলিফস পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করলে উপকার।লিভারের আরষ্ট ভাব,বেদনা বোধ।গল ব্লাডার অঞ্চলে এত বেদনা যে রোগী অস্হির হয়ে পড়ে।
নেট্রাম মিউরঃ-জন্ডিস সহ তন্দ্রালু ভাব।অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে লিভার অঞ্চলে বেদনার ভাবই বেশি।জন্ডিসের সব লক্ষণই বর্তমান।অতিরিক্ত কুইনাইন সেবনের পর জন্ডিস।কোষ্ট কাঠিন্য,পুরাতন কোষ্টকাঠিন্য।উদরাময় ও কোষ্টকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে।মুখদিয়ে লালা স্রাব,মুখে জল উঠে।জলের মত পাতলা মলে থুথুর মত শ্লেষ্মা।
ক্যালকেরিয়া সালফঃ-লিভার অঞ্চলে ব্যথা,পেলভিসের ডান দিকে খুব বেদনার ভাব তৎসহ দুর্বলতা,বমি বমি ভাব,পেটে বেদনা ইত্যাদি লক্ষণ।সন্ধার সময় প্রচন্ড শীত শীত করে জ্বর আসে।যকৃতের ব্যথা বা ফোড়া হয়ে মলদ্বার দিয়ে রক্ত মিশ্রিত পুজ পড়ে।
কেলিসালফঃ-গ্যাসট্রিক দোষ হেতু জন্ডিস।পেট থেকে যে বায়ু নিঃসরন হয় তা থেকে গন্ধকের গন্ধ আসে।প্রয়ই কোষ্টকাঠিন্য।টাইফয়েড জ্বর সহ উদরাময়।পেটে ভার বোধ।হজম শক্তির অভাব।পেটে অসারতা বোধ।
সাইলেসিয়াঃ-লিভারের ফোরা,ক্ষত জনিত বেদনায় উপযোগী।খাবারের পরেই বমি করে।বমি টক যুক্ত নয়,পুরাতন অজীর্ণ রোগ,বুক জ্বালা করে।সর্বদাই শীত শীত ভাব।গরম খাদ্য পছন্দ করে না।দুধ সহ্য করতে পারে না।কষ্টকাঠিন্যের জন্য পেটে বেদনা।
জন্ডিসের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিক খাদ্য তালিকা অনুসরণ করা।জন্ডিস রোগীদের ফ্যাটযুক্ত খাবার বর্জনই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি দরকার সঠিক খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা। চলুন জেনে নেই, জন্ডিস রোগীদের কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিৎ-
১. টমেটো ভিটামিন `সি`র অন্যতম উৎস। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন, যা এন্টি অক্সিডেন্ট।তাই টমেটোর জুস লিভারের কোষকে তেজোদীপ্ত করে।
২. আমলকী ভিটামিন সির গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। আমলকী কাঁচা, শুকিয়ে অথবা জুস করে খেলে তা লিভারের কোষের জন্য খুবই উপকারী। এটি লিভারকে পরিশোধন করতে সহায়ক।
৩.পুদিনা পাতা লিভার ফাংশনের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন সকালে চার-পাঁচটি পুদিনা পাতা খেলে জন্ডিসের জন্য ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
৪. লেবুর রস পাকস্থলীর জন্য সহায়ক।প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি মিশিয়ে লেবুর রস খেলে আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালো কাজ করবে।
৫. লিভার পরিশোধনে আনারস খুবই উপকারী। জন্ডিস থেকে আরোগ্য লাভের জন্য আনারস খুবই কার্যকর একটি ফল।
৬. আখের শরবতও জন্ডিসের জন্য উপকারী।
৭. পেঁপে, কলা,আপেল,মাল্টা,জন্ডিসের পথ্য হিসেবে কাজ করে।

ডাঃ ইয়াকুব সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গো: রেজি নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

১.১২.১৭

রমনীদের ঋতু চক্রের আদ্যোপান্ত।

ঋতুচক্রের ক্যালেন্ডার।

নারীদের ঋতুচক্র--
----------------------- 
গ্রিক শব্দ "মেন" অর্থ মাস। এই মেন শব্দ থেকেই মেনস্ট্রুয়েশন কথাটি এসেছে। মেনস্ট্রুয়েশন কেই ঋতু বলা হয়। এই ঋতু দর্শনেই একটি নারীর সন্তান ধারণের ক্ষমতার প্রকাশ পায়।ঋতুস্রাব হলো প্রতিমাসে যোনি দ্বারা নির্গত রক্তস্রাব যা চার থেকে পাঁচ দিন ধরে নির্গত হয় এবং প্রতি ২৮ দিন(২৮ দিনের আগে বা পরে ৪ দিনের মধ্যে হতে পারে) অন্তর প্রতিটি প্রজননক্ষম নারীর মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায়। মাসিক এই ঋতুস্রাব এর মধ্যে দিয়েই ঋতুচক্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া টি বজায় থাকে।

হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি এবং ওভারির মিলিত কার্যের ফলে এন্ডোমেট্রিয়ামের যে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়, সেই পরিবর্তনের ফলেই মাসানুমাসিক ঋতুস্রাব এবং মাসিক ঋতুচক্রের স্বাভাবিক চক্রটি বজায় থাকে।

এন্ডোমেট্রিয়ামের স্তর ক্ষয় থেকেই এই ঋতুস্রাব হয়। যদিও এই রক্তস্রাব সম্পুর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। আর এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হরমোনের কার্যের উপর নির্ভরশীল।

মোটামুটি ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই প্রথম ঋতুস্রাব দেখা যায়। মোটামুটি ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়। মাঝের এই সময় কালে ২৮ দিন(আগে-পরে চারদিনের মধ্যে) অন্তর ৪ থেকে ৫ দিন ধরে ২০ থেকে ৮০ মিলিলিটার রক্তস্রাব মহিলাদের যোনিপথ থেকে নির্গত হয়। এই রক্তস্রাব ঈষৎ পরিবর্তিত রক্ত, মিউকাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের অংশ, যোনীদেশের আবরণী কলার অংশ, বিভিন্ন উৎসেচক, ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গঠিত হয়। ঋতুস্রাবের বর্ণ ঈষৎ কালচে লাল হয়, এবং ঋতুস্রাবে একটি বিশেষ আঁশটে গন্ধ থাকে।




এবার বলি এন্ডোমেট্রিয়াম কি এবং তার বিভিন্ন পরিবর্তন---

----------------------------------------------------------
জরায়ুর অভ্যন্তর মুখ (internal OS) এর উপরের যে বিশেষ আবরণী কলার স্তর থাকে তাকে বলে এন্ডোমেট্রিয়াম। জরায়ুর অভ্যন্তর মুখের উপরের অংশ পুরো জরায়ুর অভ্যন্তর ভাগে এই বিশেষ কলা স্তর আবৃত করে রাখে।

এন্ডোমেট্রিয়াম কে মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায় একটি অংশ হলো ব্যাসাল জোন এবং আরেকটি অংশ হলো সুপারফিসিয়াল বা ফাংশানাল জোন। ব্যাসাল জোন অংশটি মায়মেট্রিয়াম সংলগ্ন থাকে। এন্ডোমেট্রিয়াম এর এক তৃতীয়াংশ অঞ্চলজুড়ে ব্যাসাল জোন গঠিত হয়। ব্যসাল জোনে অনেক রক্তবাহী নালী থাকে। বিভিন্ন হরমোনের নিঃসরণ এর জন্য এই স্তরের পরিবর্তন হয় না। ব্যাসল স্তরে কোন পরিবর্তন না হলেও এর উপরের স্তর অর্থাৎ সুপারফিসিয়াল বা ফাংশনাল জোনে ঋতুচক্রের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়। বিশেষত ঋতুস্রাবের সময় ওই সুপারফিসিয়াল স্তরটি ক্রমশ ঝরে যেতে থাকে। কিন্তু ঋতুস্রাবের পর এই অংশটি আবার মেরামত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। একে বলে রিজেনারেশন।
ঋতুচক্রের বিভিন্ন সময়ে এই স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন হয়। ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে এই স্তরে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়। এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়--
১. রিজেনারেটিভ ফেজ--
------------------------------
ঋতুস্রাব বন্ধ হবার কিছু আগে থেকেই এই ফেজ শুরু হয়। একে এন্ডমেট্রিয়াম এর মেরামতের সময় বলা যেতে পারে। ঋতুস্রাব বন্ধ হবার ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত এই রিজেনারেশন প্রক্রিয়া চলতে থাকে।আগেই বলেছি এই এন্ডোমেট্রিয়ামের ভিত্তি স্তর বা ব্যাসল স্তর থেকেই এই রিজেনারেশন শুরু হয় বা কাজ হয়। সুপারফিসিয়াল স্তরের আবরনী স্তরটি ব্যাসাল স্তরের স্ট্রোমা কোষ এবং লুমিনা কোষ স্তর থেকে গঠিত হয়। ঋতুস্রাবের সময় বের হয়ে যাওয়া বা ঝরে যাওয়া রক্তনালীগুলির স্থানে নতুন করে রক্তনালীকার উৎপত্তি হয়। এন্ডোমেট্রিয়াম এর উপরের স্তর পুনরায় ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। এই সময় এই অংশের বিস্তৃতি ২ মিলিমিটার হয়।

২. প্রলিফারেটিভ ফেজ--
-----------------------------
ঋতুচক্রের পঞ্চম বা ষষ্ঠ দিন থেকে ওভিউলেশন হওয়ার আগের সময় কালকে প্রলিফারেটিভ ফেজ ধরা হয়। ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এই সময় এন্ডোমেট্রিয়াম এ কিছু পরিবর্তন ঘটে। এই সময় এন্ডোমেট্রিয়ামের সুপারফিসিয়াল স্তরের সার্বিক বৃদ্ধি ঘটে। এই বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি প্রথমদিকে খুব ধীরে ধীরে ঘটলেও পড়ে খুব দ্রুত ঘটে।এই সময়ে এই অংশের কোষগুলি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ক্রমশ সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এন্ডোমেট্রিয়ামের আবরণী স্তরটি বেশ ঘন হয়। এবং সেই আবরণী গুলি ক্রমশ পরস্পর সংলগ্ন হয়ে পড়ে।এন্ডোমেট্রিয়াম এর এই সুপারফিসিয়াল অংশে যে গহ্বর থাকে তাকে এন্ডোমেট্রিয়াম ক্যাভিটি বলে।আবরণী কোষ গুলি পরস্পর সংলগ্ন হয়ে এই সময়ে এই এন্ডোমেট্রিয়াম কাভিটির দিকে মুখ করে থাকে। এই অংশে স্ট্রোমা কোষ স্তর থাকে ,তা এই সময়ে মাকুর মত আকৃতিবিশিষ্ট হয়। এই সময়ে এন্ডোমেট্রিয়ামের ফাংশনাল স্তরে বিস্তৃতি ৩ থেকে ৪ মিলিমিটার হয়। এই সময়ে এন্ডোমেট্রিয়াম স্তরে প্রচুর পরিমাণ রক্তনালীকার উৎপত্তি হয়। রক্ত নালিকাগুলো ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার জন্য রক্ত নালিকাগুলো ক্রমশ পরস্পর সংলগ্ন হয়,তার জন্য রক্ত নালিকাগুলো থেকে রক্ত বের হয়ে জরায়ুর অভ্যন্তরে চলে আসে। এইভাবে প্রলিফারেটিভ ফেজ শেষ হয়।
৩. সিক্রেটারি ফেজ--
-------------------------
ঋতুচক্রের ১৫ তম দিন থেকে শুরু করে ঋতুস্রাব এর আগে পর্যন্ত সময়কে সিক্রেটারি ফেজ বলে। ওভিউলেশন এরপর কর্পাস লুটিয়াম থেকে যে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয় তার প্রভাবের ফলে এই সময় এন্ডোমেট্রিয়ামের সুপারফিসিয়াল স্তরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা যায়।এন্ডোমেট্রিয়ামের উপরিভাগের সুপারফিসিয়াল স্তরের প্রতিটি অংশেই এই সময় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।ঋতুস্রাবের ৫-৬ দিন আগে পর্যন্ত এই বৃদ্ধি চলে কিন্তু তারপর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।এই অংশে যে সমস্ত গ্রন্থি থাকে সেগুলি থেকে গ্লাইকোজেন যুক্ত এক ধরনের তরল নিঃসরণ হয়ে থাকে। ওভুলেশনের লক্ষণ হিসাবে এই তরল কে চিহ্নিত করা হয়। ঋতুচক্রের ২১ তম দিন পর্যন্ত এই তরলকে দেখতে পাওয়া যায়।এন্ডোমেট্রিয়ামের স্ট্রোমা কোষগুলিও এই সময় বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ক্রমশ স্ফীত হয়ে ওঠে।
ঋতুস্রাবের ৫ থেকে ৬ দিন আগে এন্ডোমেট্রিয়ামের গ্রন্থির কোষগুলি ক্রমশ শুকিয়ে যেতে থাকে। তখন এই গ্রন্থির অভ্যন্তরের তরল ক্রমশ বের হয়ে যেতে থাকে। ঋতুস্রাবের ১ থেকে ২ দিন আগে এন্ডোমেট্রিয়ামের ব্যসাল স্তরের সংকোচন আরম্ভ হয়। এন্ডোমেট্রিয়াম এই স্তরে যে অসংখ্য রক্তনালিকে থাকে সেগুলো এই সংকোচনের ফলে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সংকোচনের জন্য রক্ত নালিকাগুলো থেকে রক্তস্রাব শুরু হয়।
৪. মেনস্ট্রুয়াল ফেজ--
---------------------------
গর্ভ অবস্থার জন্য প্রস্তুত হওয়া এন্ডোমেট্রিয়াম গর্ভধারণের অভাবে ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায়। এই সময়কালে এন্ডোমেট্রিয়ামের প্রত্যেকটি অংশ তার পূর্বেকার অবস্থায় ফিরে আসে। এই সময় পরই নতুন ঋতুচক্র শুরু হয়।এন্ডোমেট্রিয়াম এর প্রত্যেকটি অংশই পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবার ফলে ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরন হরমোন নিঃসরণের মাত্রাও কমে যায়।সেই জন্য হরমোনের প্রভাবে এন্ডোমেট্রিয়ামের যে সমস্ত পরিবর্তন হয় তা বন্ধ হয়ে যায়।আগেই বলেছি এন্ডোমেট্রিয়ামের সুপারফিসিয়াল স্তরের রক্তবাহিকা নালিকাগুলো সংকোচনের ফলে সেখান থেকে রক্ত স্রাব হতে শুরু করে। এই রক্তস্রাব ঋতুস্রাবে পরিণত হয়।এন্ডোমেট্রিয়ামের স্তর গুলি ক্রমশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ঋতুস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে থাকে।রক্তবাহী নালীকার সংকোচনের ফলে শিরা-ধমনীর ভিতরে দেওয়ালগুলো ভেঙে যেতে থাকে ফলে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্ত বের হয়ে আসতে থাকে। জরায়ুর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাধলেও প্লাসমিন দ্বারা তা আবার তরলে পরিণত হয়।যেহেতু এন্ডোমেট্রিয়ামের শিরা ধমনী গুলি বিদীর্ণ হবার জন্য ঋতুস্রাব হয়, তাই শিরা-ধমনীর সংকোচন বন্ধ হলেই ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।এজন্য ঋতুস্রাবের দ্বিতীয় দিনেই এন্ডোমেট্রিয়ামের সুপারফিসিয়াল অংশের প্রায় অর্ধেক অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় জরায়ুর অভ্যন্তরে পতিত হয় এবং তা ঋতুস্রাব এর মাধ্যমে বের হয়ে যায়।ঋতুস্রাবের তৃতীয় দিনে এন্ডোমেট্রিয়ামের যে বিভিন্ন গ্রন্থি থাকে সেগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ঋতুস্রাব এর মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।অবশ্য ঋতুস্রাবের দ্বিতীয় দিনের পর থেকেই এন্ডোমেট্রিয়ামের ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার প্রক্রিয়া টি আর দ্রুত গতিতে সংঘটিত হয় না।
যদি পুরুষের দেহ হতে আসা শুক্রাণু দ্বারা ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়, তাহলে তা জরায়ুতে নেমে আসে। জরায়ুর গাত্রে প্রথমে নিষিক্ত ডিম্বানুটি প্রোথিত হয়।জরায়ুর গাত্রে এন্ডোমেট্রিয়াম স্তরে ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে রক্ত সঞ্চয়ের কারণ হলো যদি নিষিক্ত ডিম্বানুটি জরায়ুর গাত্রে নেমে আসে, তাহলে সেই ডিম্বাণুটি এন্ডোমেট্রিয়ামের গাত্রে সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শিরা ধমনী দ্বারা সেখানে যাতে ভালোভাবে প্রোথিত হতে পারে। পরে এই শিরা ধমনী থেকেই অমরা বা প্লাসেন্টা তৈরি হয়।

আর যদি ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন না হয় অর্থাৎ যদি নিষেক না হয় তবে ২৪ ঘন্টা পর ডিম্বাণুর মৃত্যু ঘটে। ডিম্বাণু মৃত্যু হওয়ার পরেই জরায়ুতে নেমে আসে।জরায়ু গাত্রে যে সমস্ত মিউকাস স্তর থাকে এবং জরায়ু গাত্রে যে সমস্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কলা স্তর থাকে তা মৃত ডিম্বাণুটি সহ জরায়ু থেকে বের হয়ে আসে। একটা কথা বলা যেতেই পারে যে, জরায়ু গর্ভধারণ না করতে পারলেই ঋতুস্রাব হয়। তাই বলা যেতে পারে যে জরায়ুর গর্ভধারণের ব্যর্থতার প্রমাণ হলো ঋতুস্রাব। গর্ভধারণ না করতে পেরে ব্যর্থ জরায়ুর কান্নাই হলো ঋতুস্রাব। ইংরেজিতে বলা হয়ে থাকে weeping of the uterus. অর্থাৎ জরায়ুর কান্নাই হলো ঋতুস্রাব। শুধুমাত্র গর্ভাবস্থায় ও শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে সুস্থ স্বাভাবিক ও শারীরবৃত্তিয় ভাবে।
লেখকঃ
ডাঃ কুশাল কুন্ডু। (Drkushal kundu.)
(সংকলিত)
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

২৯.১১.১৭

পিপাসার ভিত্তিতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন নির্দেশিকা।

Homeopathic drug selection guidelines based on thirst



হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন একটি জটির বিষয়।রোগীর বৈশিষ্ট লক্ষন,চরিত্রগত লক্ষন,মানসিক লক্ষণ,রোগের কারণ,পরিপোশক কারণ,উত্তেজক কার,রোগের লক্ষনসমষ্টি ,পিপাসা,রোগের পার্শ্ব্ এমনকি রোগীর রোগ হ্রাস বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করতে হয়।
রোগীর পিপাসার ধরন বুঝে ঔষধ নির্বাচন গাইড 

শীত দিয়া জ্বর আসিবার পুর্বে অর্থাৎ শীতের পুর্বে পিপাসাঃ-আর্সেনিক এলবাম,ক্যাপসিকাম,চায়না,হিপার,নাক্স-ভূমি,পালসেটিলা ইত্যাদি।
শীতের সহিত পিপাসাঃ-একোনাইট,এপিস,আর্নিকা,ব্রাইওনিয়া,ক্যালকেরিয়া কার্ব,ক্যাপসিকাম,কার্ব ভেজ,সিনা,কেলিকার্ব,ল্যাকেসিস,লিডাম,নেট্রামমিউর,ওপিয়াম,পাইরোজেন,রাসটক্স,সিকেল,সিপিয়া,সাইলিসিয়া,সালফার,টিউবারকুলিনাম,ভিরেট্রাম ইত্যাদি।
উত্তাপ অবস্হায় পিপাসাঃ-একোনাইট,এলোমিনা,এনাকার্ডিয়াম,আর্সেনিক,ব্রাইওনিয়া,বেলেডোনা,ক্যালকেরিয়া কার্ব,ক্যান্থারিস,ক্যাপসিকাম,সিড্রন,ক্যামোমিলা,চায়না,সিনা,ককুলাস,কফিয়া,কলোসিন্হ,কোনিয়াম,জেলসিমিয়াম,হিপারসালফ,ইপিকাক,ল্যাকেসিস,নেট্রামমিউর,নাক্সভুমি,ফসফরাস,পডোফাইলাম,সোরিনাম,পালসেটিলা,পাইরোজেন,রাস টক্স,সিকেল,সালফার,থুজা,টিউবারকুলিয়াম,ইত্যাদি।
গরোম অবস্হায় পিপাসাঃ-একোনাইট,আর্সেনিকএলবাম,ব্রাইওনিয়া,চায়না,চিনিসালফ,কফিয়া,আইওডিনাম,ইপিকাক,নেট্রামমিউর,রাসটক্স,সিপিয়া,থুজা,ভিরেট্রাম,ইত্যাদি।
সাধারণত তৃষ্ণাহীনঃইস্কুলাস,এনাকার্ডিয়াম,এমোনমিউর,এন্টিমক্রুড,এন্টিমটার্ট,এপিস,আর্জেন্টনাইট,
আর্সেনিকএলবম,অ্যাসাফিটিডা,বেলেডোনা,ফেরামফস,জেলসিমিয়াম,হেলেবোরাস,ইপিকাক,কেলিকার্ব,ওপিয়াম,পালসেটিলা,রাসটক্স,স্যাবাডিলা,সিপিয়া,স্ট্যাফিসেগ্রিয়া,ইত্যাদি।

কেহ আমার লেখা পড়ে একা একা ডাক্তারি করবেন না।এতে হিতে বিপরিত হতে পারে।একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক রেজিষ্টার ডাক্তারের সাহায্য নিন।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার

ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া থানার পাশে,ঢাকা
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।




২১.১১.১৭

গর্ভাবস্হায় অসাড়ে প্রস্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

গর্ভাবস্হায় অসাড়ে মুত্রপাতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

কোন কোন সময় গর্ভিনীর ভ্রুনের বৃদ্ধির সাথে মুত্রশয়ের উপর ভ্রুনের ও গর্ভাশয়ের চাপ পড়ে,যার ফরে মুত্রবেগ ধারন ক্ষমতা কমিয়া যায় এবং নিজের অজান্তেই প্রস্রাব হয়ে যায়।ইহাকে অসাড়ে প্রস্রাব বলে।
গর্ভাবস্হায় অসাড়ে প্রস্রাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষণসহ আলোচনা ঃ
***একোনাইট নেপিলাস ঃগর্ভাবস্হায় অসাড়ে প্রস্রাব হওয়া তৎসহ মানসিক উদ্বেগ,ভয়,অস্হিরতা,জ্বালা,পিপাসা,কোমরে বেদনা ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে এবং বার বার মূত্রত্যাগের ইচ্ছা হইলে,অতিকষ্টে অল্প মূত্রত্যাগ হলে একোনাইট নেপিলাস উপযোগী।
***বেলেডোনা ঃসঙ্কোচক পেশির দুর্বলতার জন্য ক্ষীণ ধারায় ফোটা ফোটা প্রস্রাব হলে এবং বেলেডোনার নির্দেশক লক্ষণ  বিদ্যমান থাকলে বেলেডোনা উপযোগী।
***কষ্টিকাম ঃনিদ্রার প্রথম অবস্হায় অসাড়ে প্রস্রাব হয়।বার বার প্রস্রাব করিবার ইচ্ছা কিন্তু অল্প পরিমান প্রস্রাব হয়।কাশির সাতে প্রস্রাব হলে কষ্টিকাম উপযোগী।
***জেলসিমিয়াম ঃমুত্রাশয়ের মুখরোধক পেশিতে পক্ষাঘাতের কারণে অসাড়ে প্রস্রাব হয়,ফোটাফোটা প্রস্রাব হলে জেরসিমিয়াম উপযোগী।
***পাপলসেটিলা ঃরোগিনী ধীর,নম্র ও ক্রন্দনশীল প্রকৃতির।বার বার প্রস্রাবের ইচ্ছা ও অসাড়ে প্রস্রাব হয়।বিশেষ করে বসিয়া থাকিলে অথবা চলাফেরা করার সময় অসাড়ে প্রস্রাব হলে পালসেটিলা উপযোগী।
***সিপিয়া ঃরোগিনীর প্রথম ঘুমেই অসাড়ে প্রস্রাব হলে এবং প্রস্রাবে ভীষণ দুর্গন্ধ থাকরে সিপিয়া উপযোগী।
হোমিওপ্যাথিক নীতিতে রোগীর সার্বদৈহিক লক্ষন বিশ্লেষন করে উপযোগী ঔষধ নির্বাচন সহজ কাজ নয়।উপরোক্ত এই কয়টি ঔষধ ছাড়াও অনেক ঔষধ রয়েছে।এই লেখা পড়ে একা একা ঔষধ কিনে নিজে নিজে ডাক্তারী করবেন না।
আমার লেখা মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন।নিয়মিত আপডেট নিন।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গঃরেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।



১৩.১১.১৭

জিহ্বার অবস্হা দৃষ্টিতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন নির্দেশিকা।

জিহ্বার অবস্হা দেখে সদৃশ ঔষধ নির্বাচন।


জিহ্বার বর্ণ,স্বাদ,নড়াচড়া ইত্যাদি অবস্হা বিবেচনায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন নির্দেশিকা ঃ

জিহ্বাকালোবর্ণ: কার্বোভেজ,চায়না,মার্কুরিয়াস,ফসফরাস। 
জিহ্বা নীল বর্ণ ঃ- অ্যান্টিম–টার্ট,আর্সেনিক,ডিজিটেলিস। 
জিহ্বা সবুজ বর্ণ ঃ- নের্ট্রম সালফ।
জিহ্বা ধুসর বর্ণ ঃ- চেলিডোনিয়াম।
জিহ্বা রক্ত বর্ণ: এপিস,আর্সেনিক,বেলেডোনা,মার্কুরিয়াস,নাইট্রিক এসিড,ফসফরাস,রাস টক্স।
জিহ্বা বাদামি বর্ণ ঃ আর্সেনিক,ব্যাপ্টিসিয়া,ব্রাইওনিয়া,ল্যাকেসিস, প্লাম্বাম,
রাস টক্স,সিকেলি কর।
জিহ্বা পার্শ্বদেশে রক্তবর্ণ ঃ-আর্সেনিক,চেলিডোনিয়াম,মার্কুরিয়াস, সালফার।
জিহ্বার অগ্রভাগে রক্তবর্ণ ঃআর্সেনিক,আর্জেন্টাম নাইট,ফাইটোলাক্কা, রাস টক্স,সালফার।
জিহ্বার অগ্রভাগে ত্রিকোণ রক্তবর্ণ ঃ-রাস টক্স।
জিহ্বা শ্বেতবর্ণ ঃআর্সেনিক,বেলেডোনা,ব্রাইওনিয়া,ক্যালকেরিয়া, হাইওসিয়েমাস,কেলি বাইক্রম,মার্কুরিয়াস,পালসেটিলা,সালফার।
জিহ্বা হলুদবর্ণ ঃ-চেলিডোনিয়াম,মার্কুরিয়াস,রাস টক্স।
জিহ্ব্‌ ফ্যাকাসে ঃ-মার্কুরিয়াস।
জিহ্বাশুস্কঃ অ্যাকো,এপিস,আর্স,বেলেডোনা,ক্যামোমিলা,চায়না,কুপ্রাম,ল্যাকেসিস,রাস টক্স।
জিহ্বা পরিস্কারঃ- সিনা,ইপিকাক।
জিহ্বা দগ্ধ চর্মের মত ঃ- হাইাওসিয়েমাস।
জিহ্বা ফাটাঃ- আর্সেনিক,অ্যারাম-টি,হাইাওসিয়েমাস,নাইট্রিক-এসিড,ফসফরাস,রাস টক্স।
জিহ্বা কম্পমানঃ-এপিস,ক্যাস্ফর,ক্রোটেলাস,জেলসিমিয়াম,ইগ্নেসিয়া, লাইকোপডিয়াম,ল্যাকেসিস,বেলেডোনা।
জিহ্বা দাঁতের ছাপযুক্তঃ-আর্সেনিক,চেলিডোনিয়াম,মার্কুরিয়াস,রাস টক্স।
জিহ্বা মানচিত্র সদৃশঃ- কেলি বাই ক্রম,ল্যাকেসিস,নেট্রাম-মিউর,রাস টক্স,ট্যারাক্স,থুজা।
জিহ্বা পক্ষাঘাতগ্রস্তঃ-কষ্টিকাম,জেরসিমিয়াম,লাইকোপোডিয়াম, ওপিয়াম,প্লাম্বাম।
জিহ্বার মধ্যস্হল ছড়িকাটাঃ- কষ্টিকাম,ভিরেট্রাম –ভি।
জিহ্বা সর্পের মত একবার বাহির করিতে থাকে,একবার ভিতরে টানিয়া লয় ঃ কুপ্রাম,লাইকোপডিয়াম, ল্যাকেসিস, হেলেবোরাস।


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।
গঃ রেজি নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

১০.১১.১৭

রিকেটসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

Homeopathic Treatments for Marasmus or Rickets.


শীর্ণতা বা রিকেট বা ম্যারামাস কি ?
শিশুদের আমিষ ও শর্করা জাতিয় খাদ্যের অভারজনিত অপুষ্টি রোগ।
ম্যারাসমাসের লক্ষণসমূহঃ
• অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া৷
• হাড্ডিচর্মসার চেহারা৷
• চামড়ার নিচে কোনও চর্বি থাকে না৷
 শিশুদের এই পীড়া অধিক হয়।কদাচিৎ পুর্ণ বয়স্ক রোগী ও দেখা যায়।ইহাতে শরীরে মাংস শুকাইয়া যায়।ক্ষুধা থাকে না।পেট খাল পড়ে,নিদ্রহীনতা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়।অপরিস্কার,অপরিচ্ছন্ন স্হানে বাস,দূষিত বায়ু সেবন,অযোগ্য আহার,উপযুক্ত খাদ্যের অভাব ইত্যাদি কারনেই এই পীড়া জন্মে।

ম্যারাসমাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমুহ ঃ
অ্যাব্রোটেনাম,আর্জেন্টামনাইট,আর্সেনিক,ক্যালকেরিয়াফস,কার্বভেজ,হাইড্রাসটিস,আইওডিন,ক্রিয়োজোট,লাইকোপোডিয়াম,ম্যাগনেসিয়াকার্ব,নাক্সভুমিকা,ওপিয়াম,ফসফরাস,প্লাম্বাম,সোরিনাম,পালসেটিলা,স্যানিকুলা,সিপিয়া,সাইলিসিয়া,সালফার,টিইবারকুলিনাম ইত্যাদি।

উপরদিক হইতে শুকাইতে আরাম্ভঃলাইকোপোডিয়াম,সর্সাপ্যারিলা,স্যানিকুলা ইত্যাদি।
নিম্নদিক হইতে শুকাইতে আরম্ভঃঅ্যাব্রোটেনাম,আর্জেন্টামনাইট,আইওডিন, টিউবারকুলিনাম,স্যানিকুলা ইত্যাদি।
প্রবল রাক্ষুসে ক্ষুধাঃঅ্যাব্রোটেনাম,এমনকার্ব,আর্জেন্টামমেট,আর্সেনিক, ক্যালকেরিয়াবার্ব,
ক্যানাবিসই,চায়না,সিনা,ফেরামমেট,গ্রাফাইটিস,লাইকোপোডিয়াম,মেডোরিনাম,নাক্সভূমিকা,ওলিয়েন্ডার,পেট্রোলিয়াম,ফসফরাস,সোরিানাম,পালসেটিলা,স্যাবাডিলা,সাইলিসিয়া,সালফার,ভিরেট্রাম এলবাম ইত্যাদি।

আইওডিনঃরোগী একটুও গরম সহ্য করিতে পারে না,সর্বদাই ঠান্ডা পছন্দ করে।ক্ষুধা অত্যন্ত প্রবল;দিবারাত্র খাইতে চায় এবং খাইলে ভাল থাকে।গ্ল্যান্ডের বিবৃদ্ধি,প্রাতঃকালীন উদরাময় ইত্যাদি লক্ষণসমষ্টিতে প্রয়োজন।

অ্যাব্রোটেনামঃসদ্যোজাত শিশুর নাভি দিয়া রক্তপাত,হাই ড্রোসিল,প্লুরিসি বা অন্য কোন রোগের পর শুকাইয়া যাইয়া,পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্টকাঠিন্য,অজীর্ণ ভেদ,শিশু ক্ষুধার্ত ও শীতকাতর রোগীর জন্য উপযোগী।

টিউবারকুলিনামঃযে সব পুত্র-কন্যার পিতামাতা অত্যান্ত কফ ধাতুগ্রস্হ বা যাহারা যক্ষা রোগে ভুগিতেছেন বা ভুগিয়াছেন।এই সব শিশুদের গায়ে দাদ দেখা দেয় বা তাহারা কৃমিতে কষ্ট পাইতে থাকে।মুখখানি বেশ স্বাভাবিক কিন্তু গায়ের দিক হইতে শুকাইয়া যায় এই রোগীর জন্য টিউবারকুলিনাম উপযোগী।

ক্যালকেরিয়া ফসঃযক্ষা ধাতুগ্রস্হ পিতামাতার পুত্র-কন্যা,শিশুর দেহ অত্যন্ত শীর্ণ,মাথার হাড়গুড়ি অত্যন্ত নরম,মেরুদন্ড অত্যন্ত দুর্বল,ঘারের চারদিকে এবং পেটের মধ্যে গ্ল্যান্ডগুলি বৃদ্ধি পাইয়া শক্ত হইয়া ওঠে।ইহারা দুধ সহ্য করিতে পারে না,দুধ খাইবারমাত্র পেটের মধ্যে অত্যন্ত যন্ত্রণা হইতে থাকে।দুধ বমি করিয়া ফেলে বা দারুন দুর্গন্ধযুক্ত সবুজ বর্ণের উদরাময়।টেবিস মেসেন্টরিকা।স্তন্যে অনিচ্ছা বা দিবারাত্রি স্তন্যপান।নাভি দিয়া রসনিঃসরণ এই রোগীর জন্য ক্যালকেরিয়া ফস উপযোগী।

আর্জেন্টাম নাইটঃযে সব শিশু অত্যন্ত মিষ্টি খাইতে ভালবাসে বা যাহাদিগকে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি খাওয়ান হইয়াছে তাহাদের উদরাময়ের সহিত শুকাইয়া যাওয়।উদরাময়ের মল কিছুক্ষণ বাতাসে পড়িয়া থাকিলে সবুজ হইয়া যায়।

লাইকোপোডিয়ামঃপ্রথমে দেহের উপরিভাগ শুকাইয়া যায়।যে-সব ছেলেমেয়েদের গর্ভবাসকালে তাহাদের পিতামাতা অল্ম অজীর্ণ দোষে কষ্ট পাইয়াছেন এবং যাহাদের চরিত্র লাইকোপোডিয়ামের মত।শিশু ঘুম ভাঙ্গিয়া উঠিলেই ক্রুদ্ধভাব প্রকাশ করিতে থাকে বা সারাদিন ঘ্যান-ঘ্যান করিয়া কাদিতে থাকে।মিষ্টি এবং গরম খাদ্য ভালবাসে এই রোগীর জন্য লাইকোপোডিয়াম প্রযোজ্য।

সার্সাপ্যারিলাঃপারদ বা উপদাংশের দোষযুক্ত পিতামাতার পুত্র কন্যা,বিশেষত যাহারা মুত্রপাথরিতে কষ্ট পাইয়াছেন,এইসব শিশুও ওনেক সময় প্রস্রাব করিবার সময় কষ্ট পাইতে থাকে তাদের জন্য সার্সাপেরিলা উপযোগী।

ওপিয়ামঃযে সকল সন্তানের জননীরা গর্ভবস্হায় ক্রমাগত কোন এক ভয়ে অভিভুত ছিলেন এবং উপযুক্ত ঔষধ ব্যর্থ হইতে থাকিলে ওপিয়াম প্রযোজ্য।

স্যানিকুলাঃদারুন কোষ্ঠকাঠিন্য বা উদরাময়,উদরাময়ের মল কিছুক্ষণ পরে সবুজ হইয়া যায়,মাথার ঘামে বালিশ ভিজিয়া যায়,নিম্নগতিতে আতঙ্ক এই শিশুর জন্য স্যানিকুলা উপযোগী।

মেডোরিনামঃযাহাদের পিতামাতা সাইকোসিসজনিত বাত বা হাপানিতে কষ্ট পাইতেছেন,অত্যন্ত গরমকাতর,মাথায় একজিমা।মেডোরিনামের শিশু গ্রীশ্মকালে উদরাময়ে ভুগিয়া শুকাইয়া আসে তাদের জন্য মেডোরিনাম প্রযোজ্য।

সিফিলিনামঃশিশু দিনের বেলা বিশেষ কোন কষ্টের পরিচয় দেন না কিন্তু রাত্রি হইরেই বিপদ।প্লীহা ও যকৃতের বিবৃদ্ধি;মুখে ঘা,পিতামাতার উপদাংশ সেই শিশুর জন্য সিফিলিনাম উপযোগী।

ম্যাগ্নেসিয়া কার্বঃমারবেলের মত শাদা গুটলে মল,কিম্বা ফেনাযুক্ত সবুজ জলে শাদা শাদা অজীর্ণ দুগ্ধের কণিকা,টক বা অম্লগন্ধ,মাংস খাইবার প্রবল ইচ্ছা তাদের জন্য ম্যাগকার্ব উপযোগী।

থুজাঃগর্ভাবস্হায় জননীর টিকা-গ্রহনজনিত শিশুর  পুয়ে পাওয়া বা রিকেট।

নেট্রাম মিউরঃঘাড় ও গলা শুকাইয়া জীর্ণ হইয়া যায়।সর্বদাই জল পান করিতে চায়।লবণ পরিমানে বেশী খায়,মেজাজ রাগী গরমে কাতর ইত্যাদি লক্ষণে নেট্রাম মিউর অব্যর্থ।

সালফারঃঅপরিস্কার,নোংরা,নানা প্রকার চর্ম পীড়াগ্রস্হ,নাকে সর্দি,পায়খানা প্রস্রাবে ভীষণ দুর্গন্ধ,গরমে কাতর কিন্তু স্নান করিতে চায় না।কোষ্ঠবদ্ধ না হয় উদরাময়।দিন দিন শরীরের মাংস ক্ষয় হইয়া জীর্ণ বৃদ্ধ মানুষের মত দেখা যায় সেই রোগীর জন্য সালফার উপযোগী।

ক্যালকেরিয়া সিলিকাঃজলো ধাতু রোগী একটুতে ঠান্ডা লাগে,শীত কাতর আবার একটু বেশি গরম পড়িলেও অসুস্হ হইয়া পড়ে।স্মরণ শক্তিহীন এই প্রকৃতির শিশু কিশোরদের শরীর দিন দিন বৃদ্ধি না পাইয়া বরং ক্ষুদ্র হইয়া আসে এই শিশুদের জন্য ক্যালকেরিয়া সিলিকা উপযোগী।

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে রিকেটসের সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ

RACHITIS (rickets) (See Scofulosis.) -- Ars., Ars. iod., Calc. ac., Calc. c., Calc. hypoph., Calc. p., Calc. sil., Ferr. p., Fluor. ac., Hekla, Hep., Iod., Kali iod., Mag. m., Med., Merc. s., Nit. ac., Phos. ac.Phos., Pinus sylv., Sanic., Sil., Sul., Supraren. ext., Ther., Thuya, Thyr., Tub.
   
SCROFULOSIS -- Ćthiops, Alnus, Alum., Ars., Ars. iod.Aurums., Bac., Bad., Barytas, Brom., Calcareas, Caps., Carbo an., Caust., Cinnab., Cistus, Clem., Con., Diph., Dulc.Ferrums, Fluor. ac., Graph., Helleb., Hep., Hydr., Iodides, Iodof., Kali bich., Kali iod., Kreos., Lapis alb., Lyc., Mag. m., Mercuries, Mez., Nit. ac., Ol. j. as., Petrol., Phos. ac., Phos., Pinus sylv., Plumb. iod., Psor., Ruta, Samb., Sedum, Sil., Sil. mar., Still., Sul., Ther., Tub., Viola tr.
   
SCURVY (scorbutus) -- Acet. ac., Agave, Alnus, Ars., Bov., Carbo v., Chin. s., Cinch., Ferr. p., Galium ap., Ham., Kali chlor., Kali p., Kreos., Lach., Merc. s.Mur. ac., Nat. m., Nit. ac., Nitro. mur. ac., Phos. ac., Phos., Rhus t., Staph., Sul. ac., Sul., Urium.

রিকেটসের বাইওকেমিক চিকিৎসাঃ

ক্যালকেরিয়া ফসঃজীর্ণ শীর্ণ রোগা শিশু খাল পড়া পেট,দেহ অপেক্ষা মাথা বড়,হাত,পা,সরু।ক্যালকেরিয়া তাহাদের পরম বন্ধু্।

সাইলেসিয়াঃপদতলে দুর্গন্ধ ঘর্ম,পেট বড় শরীর শীর্ণ লক্ষণে ক্যালকেরিয়া ফসের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সেবনে উপকার হয়।

উপদেশ ঃ
• বাচ্চাকে ২বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো৷
• ৬মাসের পর অন্যান্য খাবার শুরু করা৷
• বাচ্চাকে নিয়মিত টিকা দেওয়ানো৷
• বাচ্চার নিয়মিত ওজন নিতে হবে৷
• পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷

আমার ফ্রী মোবাইল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক এপসের লিঙ্ক।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গঃ রেজিঃ নং২৩৮৭৬