জনপ্রিয় পোস্ট

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

হোমিওপ্য্যাথিক ঔষধের মাত্রা বা শক্তি



Homeopathic Medicine Power and Dose.

হোমিওপ্যাথি ঔষধের মাত্রা বা শক্তি ঃ
হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান।মনে রাখতে হবে যে,রোগের লক্ষণ গুলোই হলো রোগের প্রকৃত পরিচয় পাওয়ার একমাত্র রাস্তা।তাই রোগের শারিরীক লক্ষণ সমূহ,মানসিক লক্ষণ সমূহ এবং রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ সমূহ বুঝতে না পারলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলি সংগ্রহ করতে না পারলে,সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব হয় না।সে ক্ষেত্রে হাজার বার ঔষধ পাল্টিয়ে এবং হাজার ডোজ ঔষধ খেয়েও সামান্য ছোটখাট রোগও সারানো যায় না।আবার মারাত্মক অসুখ-বিসুখ কিংবা অনেক বছরেরও পুরনো রোগ-ব্যাধিও মাত্র এক ডোজ ঔষধে নির্মূল হয়ে যায় যদি লক্ষণের সাথে পুরোপুরি মিলিয়ে ঔষধ দেওয়া যায়।রোগের নাম নয়,বরং রোগ এবং রোগীর সমস্ত লক্ষণ সমূহের উপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।কারণ হোমিওপ্যাথিতে রোগের নামে কোন ঔষধ নাই।একই রোগের জন্য সব রোগীকে একই ঔষধ দিলে কোন কাজ হবে না।যেমন ধরুন ডায়েরিয়ার কথা,ডায়েরিয়ার সাথে যদি পেটে ব্যথা থাকে তবে এক ঔষধ আর যদি পেটে ব্যথা না থাকে তবে অন্য ঔষধ।ডায়েরিয়ার ফলে যদি রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে তবে এক ঔষধ আর যদি দুর্বল না হয় তবে অন্য ঔষধ।ডায়েরিয়া শুরু হওয়ার কারণের ওপর ভিত্তি করেও ঔষধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং ব্যথা বা পায়খানার রঙ,গন্ধ, ধরণ বা পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেও ঔষধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আপনার রোগের লক্ষণ সমূহ যে-ঔষধের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পাওয়া যাবে, সেটি হবে আপনার উপযুক্ত ঔষধ।মনে করুন আপনার জ্বর হয়েছে,যদি দেখেন যে আপনার জ্বরের দুইটি লক্ষণ ব্রায়োনিয়া ঔষধটির সাথে মিলে যায় অন্য দিকে তিনটি লক্ষণ বেলেডোনা ঔষটির সাথে মিলে যায়,তাহলে বেলেডোনাই হবে আপনার উপযুক্ত ঔষধ।আবার শারীরিক লক্ষণের চাইতে মানসিক লক্ষণের গুরুত্ব বেশী।কাজেই যদি দেখেন যে,আপনার শারীরিক লক্ষণসমূহ রাস টক্স ঔষধটির সাথে মিলে যায় কিন্তু মানসিক লক্ষণ একোনাইট ঔষধটির সাথে মিলে যায়,তাহলে একোনাইট ঔষধটি-ই আপনার খাওয়া উচিত।হোমিওপ্যাথিতে একবারে একটির বেশী ঔষধ খাওয়া নিষিদ্ধ।মনে করুন,আপনার আমাশয় হয়েছে।তো আমাশয় হলে সাথে পেট ব্যথাও থাকে এবং কয়েকবার পায়খানা করলে শরীরে দুর্বলতাও এসে যায়।এক্ষেত্রে এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে তিনটি ঔষধ দিবে;একটি আমাশয়ের জন্য,একটি পেটব্যথার জন্য এবং স্যালাইন দিবে দুর্বলতার জন্য।কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে যদি ঠিকমতো লক্ষণ মিলিয়ে দিতে পারেন তবে একটি ঔষধেই আপনার আমাশয়,পেট ব্যথা এবং দুর্বলতা সেরে যাবে।এজন্য তিনটি ঔষধ লাগবে না।ভাষাজ্ঞানের অভাবে অবুঝ শিশুরা এবং পশুপাখিরা তাদের অনেক কষ্টদায়ক রোগ লক্ষণের কথা বলতে পারে না।রোগের যন্ত্রণায় বেঁহুশ ব্যক্তিও তাদের কষ্টের কথা বলতে পারে না।এইসব ক্ষেত্রে আমাদেরকে বুদ্ধি খাটিয়ে রোগীর লক্ষণসমূহ আন্দাজ করে নিতে হবে।প্রতিটি রোগের সাথে যতগুলো ঔষধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে,তার সবগুলো প্রথমে পড়ে নিন এবং তারপর যে ঔষধটি আপনার রোগ লক্ষণের সাথে সবচেয়ে বেশী মিলে যায়,সেটি খাওয়া শুরু করুন।
ঔষধ কেনার নিয়ম-কানুন ? 
জার্মানী,ফ্রান্স,যুক্তরাষ্ট্র,সুইজারল্যাণ্ড,পাকিস্তান,ভারত প্রভৃতি দেশে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ তৈরী হয়ে থাকে।বাংলাদেশেও প্রায় আটাত্তরটির মতো হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানী আছে।হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কেনার সময় দোকানদারকে বলবেন জার্মানীর অথবা আমেরিকান ঔষধ দেওয়ার জন্য। কেননা জার্মানীর এবং আমেরিকান ঔষধের কোয়ালিটির ওপর সবারই আস্থা আছে।হোমিওপ্যাথিক মূল ঔষধটি তৈরী করা হয় তরল আকারে।কিন্তু সেগুলো রোগীদের দেওয়া হয়ে থাকে পানিতে মিশিয়ে,(চিনির) বড়িতে মিশিয়ে,দুধের পাউডারে মিশিয়ে কিংবা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি মূল ঔষধটিও দেওয়া হয়।তবে সরাসরি মূল ঔষধটি কেনা বা খাওয়া উচিত নয়।কেননা এতে ঔষধ বেশী খাওয়া হয়ে যায়;ফলে তার সাইড-ইফেক্টও বেশী হতে পারে।তাছাড়া শিশির কর্ক টাইট করে লাগাতে ভুলে গেলে ঔষধ উড়ে যায় এবং মুখ খুলে বা শিশি ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে গেলে সেগুলো আর উঠানো যায় না।কাজেই ঔষধ চিনির বড়িতে কেনা এবং খাওয়াই বুদ্ধিমানের পরিচায়ক।এক ড্রাম, দুই ড্রাম, হাফ আউন্স,এক আউন্স ইত্যাদি পরিমাণে ঔষধ ক্রয় করবেন।ঔষধ কেনার সময় এই ভাবে বলতে হবে যে,ডাক্তার সাহেব!আমাকে অমুক ঔষধটি অমুক শক্তিতে (যেমন Nux vomica 30) বড়িতে এক ড্রাম দেন।(কারণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধের যারা ব্যবসা করেন তারা সবাই গভার্নমেন্ট রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা) 
হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মেয়াদ থাকে কত দিন? 
মূল হোমিও ঔষধ যা তরল আকারে তৈরী করা হয়ে থাকে,তার কোন এক্সপাইরি ডেট নাই অর্থাৎ এগুলো কখনও নষ্ট হয় না।কেননা মূল হোমিও ঔষধটি ইথাইল এলকোহল বা রেকটিফাইড স্পিরিটে তৈরী করা হয়ে থাকে।আর এলকোহল বা স্পিরিট যেহেতু কখনও নষ্ট হয় না,সেহেতু মূল হোমিও ঔষধও কখনো নষ্ট হয় না। এগুলো আপনি কেয়ামত পযর্ন্ত নিশ্চিনে- ব্যবহার করতে পারবেন।কিন্তু মূল ঔষধটি যখন আপনি চিনির বড়িতে,পাউডারে বা পানিতে মিশিয়ে কিনে আনবেন, সেটি আপনি অনন্তকাল ব্যবহার করতে পারবেন না।কেননা সেগুলো কয়েক বছর পরেই নষ্ট হয়ে যায়।যেমন আপনি একটি ঔষধ চিনির বড়িতে কিনে আনলেন এবং পাঁচ বছর পরে দেখলেন সাদা চিনির বড়িগুলি হলুদ বা লাল বা কালো হয়ে গেছে।সেক্ষেত্রে ঔষধগুলি ফেলে দেওয়া উচিত;কেননা এগুলো যে নষ্ট হয়ে গেছে,তাতে কোন সন্দেহ নেই।
কত শক্তির ঔষধ খাওয়া উচিত ?
 হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তিগুলো হলো ৩,৬,১২,৩০, ২০০,১০০০ (বা 1M),১০০০০ (বা 10M),৫০০০০ (বা 50M),১০০,০০০ (বা CM) ইত্যাদি। সবচেয়ে নিম্নশক্তি হলো মাদার টিংচার বা কিউ (Q) এবং ইহার শক্তিকে ধরা হয় শূণ্য (zero)।তাদের মধ্যে ৩,৬,১২,৩০ কে বলা হয় নিম্নশক্তি আর ২০০ শক্তিকে বলা হয় মধ্য শক্তি।পক্ষান্তরে ১০০০,১০০০০,৫০০০০ এবং ১০০০০০ কে ধরা হয় উচ্চ শক্তি হিসাবে।নতুন রোগ বা ইমারজেন্সী রোগের ক্ষেত্রে নিম্নশক্তি এবং মধ্যশক্তির ঔষধ সবচেয়ে ভালো কাজ করে।পক্ষান্তরে উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করতে হয় অনেক দিনের পুরনো রোগে অর্থাৎ ক্রনিক ডিজিজে।হোমিওপ্যাথির আবিষ্কারক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মতে,৩০ শক্তি হলো স্ট্যান্ডার্ড শক্তি।হ্যাঁ, ঔষধের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহের অনেকগুলো যদি রোগীর মধ্যে নিশ্চিত পাওয়া যায়, তবে এক হাজার (1M) বা দশ হাজার (10M) শক্তির ঔষধও খেতে পারেন।কিন্তু উচ্চ শক্তির ঔষধ অপ্রয়োজনে ঘনঘন খেলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ শক্তির ঔষধ খাওয়া উচিত নয়। কেননা সেক্ষেত্রে ঔষধের নির্বাচন ভুল হলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।একই শক্তির ঔষধ সাধারণ একবারের বেশী খাওয়া উচিত নয়।অনেক সময় দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বার খেলেও উপকার হয়।কিন্তু ইহার পর আর ঐ শক্তির ঔষধে তেমন কোন উপকার হয় না।হ্যানিম্যানের নির্দেশ হলো,প্রতিবার ঔষধের শক্তি বৃদ্ধি করে খেতে হবে।আপনার কাছে যদি একাধিক শক্তির ঔষধ না থাকে, তবে একমাত্রা (এক ফোটা বা ৪/৫ টি বড়ি) ঔষধকে আধা বোতল পানিতে মিশিয়ে প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে জোরে দশবার ঝাঁকি দিয়ে ঔষধের শক্তি বাড়িয়ে খান।(সাধারণত হাফ লিটার বা তার চাইতেও ছোট বোতল ব্যবহার করা উচিত।সাধারণত একই বোতলে একবারের বেশী ব্যবহার করা উচিত নয়।তবে অন্য কোন বোতল না থাকলে সেটিকে অবশ্যই সাবান দিয়ে এবং গরম পানি দিয়ে ভালো করে অনেকবার ধুয়ে নেওয়া উচিত। 
ঔষধ কি পরিমাণ খেতে হবে ? 
পূর্ণ বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে ঔষধ বড়িতে খেলে সর্বোচ্চ ৪/৫ (চার/পাঁচ) টি বড়ি করে খাবেন এবং তরল আকারে মূল ঔষধটি খেলে এক ফোটা করে খাওয়াই যথেষ্ট। তের বছর বয়স পযর্ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ঔষধ বড়িতে খেলে ২/৩ (দুই/তিন) টি বড়ি করে খাবেন এবং তরল আকারে মূল ঔষধটি খেলে আধা ফোটা করে খাবেন। পক্ষান্তরে দুয়েক দিন বা দুয়েক মাসের একেবারে ছোট নবজাতক শিশুকে ঔষধ বড়িতে খাওয়ালে ১/২ (এক/দুইটি) টি বড়ি করে খাওয়াবেন এবং তরল আকারে মূল ঔষধটি খাওয়ালে এক ফোটার চার ভাগের এক ভাগ খাওয়ানোই যথেষ্ট।(এক ফোটা ঔষধকে এক চামচ পানির সাথে ভালো করে মিশিয়ে তার অর্ধেকটি ফেলে দিয়ে বাকী অর্ধেকটি খেলেই আধা ফোটা ঔষধ খাওয়া হবে।তেমনিভাবে এক ফোটা ঔষধকে এক চামচ পানির সাথে ভালো করে মিশিয়ে তার চার ভাগের তিন ভাগ ফেলে দিয়ে বাকীটুকু খেলেই এক ফোটার চার ভাগের এক ভাগ ঔষধ খাওয়া হবে।)কখনও ভাববেন না যে, এতো কম করে ঔষধ খাওয়ালে রোগ সারবে কিনা ? মনে রাখবেন ঔষধ বেশী খাওয়ালে বরং রোগ বেড়ে যেতে পারে।এজন্য বিশেষত শিশুরা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হলে তাদেরকে নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশী ঔষধ খাওয়াবেন না,তাহলে তাদের রোগ বেড়ে গিয়ে জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হতে পারে।ঔষধ কিভাবে খেতে হবে ? ঔষধ খেতে হবে প্রধানত মুখ দিয়ে। যত ইমারজেন্সী সমস্যাই হোক না কেন,মুখে খেলেই চলবে।ঔষধের নির্বাচন যদি সঠিক হয়, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে সেটি মুখে খেলেও একেবারে হাই পাওয়ারের ইনজেকশানের চাইতেও অন্তত একশগুণ দ্রুত কাজ করবে।ইনজেকশান দেওয়া,পায়খানার রাস্তা দিয়ে ঔষধ ঢুকানো বা এই জাতীয় কোন শয়তানী সিষ্টেমের হোমিওপ্যাথিতে স্থান নেই।যদি রোগীর দাঁত কপাটি লেগে থাকে বা বমির জন্য ঔষধ গিলতে না পারে,তবে ঔষধ মুখে বা ঠোটের ফাঁকে রেখে দিলেই চলবে। আবার ঔষধকে একটি বোতলে নিয়ে একটু পানির সাথে মিশিয়ে জোরে কয়েকটা ঝাঁকি দিয়ে তার বাষ্প নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নিলেও কাজ হবে।আরেকটি পন্তুা আছে,তাহলো ঔষধকে একটু পানিতে মিশিয়ে পরিষ্কার চামড়ার ওপর মালিশ করা (যেখানে কোন চর্মরোগ নেই)।যে-সব শিশু বুকের দুধ খায়,তাদের যে-কোন রোগ-ব্যাধিতে তাদেরকে ঔষধ না খাইয়ে বরং তাদের মা-কে খাওয়ালেও কাজ হবে।শিশুরা বা মানসিক রোগীরা যদি ঔষধ খেতে অস্বীকার করে,তবে তাদেরকে না জানিয়ে দুধ,পানি,ভাত,চিড়া,মুড়ি,বিস্কিট,ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে ঔষধ খাওয়াতে পারেন।তাতেও কাজ হবে।
ঔষধ কতক্ষণ পরপর খেতে হবে ?
অধিকাংশ নতুন রোগ (acute disease) একমাত্রা হোমিও ঔষধেই সেরে যায়;যদি ঔষধের লক্ষণ আর রোগের লক্ষণ একশ ভাগ মিলিয়ে সঠিক শক্তিতে ঔষধ দেওয়া যায়।

ডাঃ ইয়াকুব সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গো: রেজি নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

বুধবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের ডাইরি (প্রথম পর্ব)



একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার এর ডায়েরি প্রথম পর্ব 
একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার আজীবন ছাত্র। লেখাপড়া ছাড়া একদিনও চলে না। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একটি মহাসমুদ্র। এই সমুদ্র পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট আর সাধনার প্রয়োজন। প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস জানতে জানতে আগের পড়া স্মৃতির আড়ালে চলে যায়। এই  হাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ লেখাপড়া প্রয়োজনের সময় পেতে বেগ পেতে হয়। আর এই কারণেই একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের হাতের কাছে নোট খাতা বা ডাইরি রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি লেখাপড়া করার সময় যখনই সময় পাই তখনই লেখার সারমর্ম ফেসবুকে শেয়ার করে থাকি। আমার ডাইরিতে লিখে রাখার চেষ্টা করি। আমাদের কাছে যে হোমিওপ্যাথিক বিষয়ক বইগুরো পাই তা থেকে নিজে যা জানতে পাই তা সবাইকে জানাতে চেষ্টা করি। মানব কল্যানে আমার সামান্য শ্রম কাজে লাগবে এই প্রত্যাশায় আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

১) পা ফস্কাইয়া পড়িয়া, হোচট খাইয়া, ভাড়ী দ্রব্য উঠাইতে গিয়া, কোন আঘাত প্রাপ্ত হয়ে গর্ভস্রাবের আশঙ্কায় সদৃশ ঔষধ- আর্ণিকা।
২) গোছলে সালফারের সার্বদৈহিক, রাসটক্সে চর্মরোগ ও বাত, নেট্রাম সাল্ফে হাঁপানি, ক্যালকেরিয়া কার্বে আমবাত ও বাতের বৃদ্ধি।
৩) অগ্নিদগ্ধ স্হানে ক্যান্থারিস মাদার এক আউন্স উষ্ণ গরম পানিতে ৪/৫ফোঁটা মিলিয়ে পরিস্কার কাপড়ের টুকরা ভিজিয়ে পট্টি দিলে দগ্ধ স্হানে জ্বালাপোড়া কমে যায় এবং ফোস্কা পড়ে না। দগ্ধ স্থানে ফোস্কা পড়ার পরে আসলে রোগীর জন্য ৬, ৩০, ২০০ শক্তি সেবন করতে দিলে ক্ষত হয় না। দগ্ধ স্হানে ক্ষত সারতে বিলম্ব হলে কষ্টিকাম সেবনে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।
৪) গাড়িতে চড়লে রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ কোকুলাস ইন্ডিকা, গাড়িতে উঠলে উপশম হলে সদৃশ ঔষধ এসিড নাইট্রিক।
৫) পানি দেখে বা পানির শব্দে রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ: লাইসিন, উজ্জ্বল আলোয় রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ ষ্ট্রামোনিয়াম।
৬) শিশুর গায়ে অম্লগন্ধ, বারবার ধৌত করা সত্ত্বেও দুর না হলে সদৃশ ঔষধ- এসিড সাল্ফ, হিপার সাল্ফ, ম্যাগ কার্ব, রিউম ইত্যাদি।
৭) যে সকল রোগীর সকল রোগ বজ্রপাতের সময় ও পুর্বে বৃদ্ধি পায় তাদের সদৃশ ঔষধ: ফসফরাস, সোরিনাম ,মেডোরিনাম, সিপিয়া, রডোডেন্ড্রন। ৮)  মাথা ব্যাথার সময় জোরে চেপে ধরলে আরামদায়ক সদৃশ ঔষধ পালসেটিলা, গরম কাপড়ে চেপে বাধিয়া রাখিলে আরামে সাইলেসিয়া।
৯) থুজা অক্সিডেন্টালের রোগী চিত্র- মনের মাঝে বদ্ধমূল ধারণা, অনিদ্রা, নিদ্রাকালে ঘর্ম, লবন প্রিয়, মৃত ব্যাক্তির স্বপ্ন, আঁচিল ইত্যাদি।
১০) রমনীর ঋতুস্রাব সময়ের পূর্বে ও অতিরিক্ত, গর্ভপাতের পর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, অমাবস্যায় একমাত্রা সালফার জরুরি। - ডাঃ লিলি।
১১) মৎস্য খাইতে বেশি প্রীয় রোগীর সদৃশ ঔষধ, ফসফরাস, নেট্রাম মিউর, নেট্রাম সাল্ফ, রিউম ইত্যাদি।
১২)  নেট্রাম মিউরের রোগী সান্ত্বনায় রোগযন্তনা বৃদ্ধি পায়, পালসেটিলার রোগী সান্ত্বনা চায়, আর্জেন্টাম নাই রোগী উৎকন্ঠায় ব্যাকুল।

১৩) ভিরেট্রাম এলবমের রোগী চিত্র- মল দুর্গন্ধ, ঘর্ম, বমন অতিরিক্ত, অদম্য পিপাসা, অম্ল খাদ্যের ইচ্ছা, উন্মাদন, অশ্লীল বাচালতা ইত্যাদি। 
১৪) মাথায় অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত হলে সদৃশ ঔষধ- ক্যালকেরিয়া কার্ব, স্যানিকুলা, সাইলেসিয়া, ম্যাগনেসিয়া মিউর ইত্যাদি।
 ১৫) মাথা ব্যাথার সময় জোরে চেপে ধরলে আরাম দায়ক সদৃশ ঔষধ পালসেটিলা, গরম কাপড়ে চেপে বাধিয়া রাখিলে আরামে সাইলেসিয়া উপযোগী।১৬) শরীরের বিশেষ স্থানের মাংসপেশী নেচে নেচে উঠলে সদৃশ ঔষধ- এগারিকাস, ইগ্নেসিয়া, জিঙ্কাম, ক্রোকাস স্যাট ইত্যাদি।

১৭) ওপিয়ামের রোগীচিত্র- অর্ধনির্মীলিত চক্ষু, নিদ্রালুতা, নাকডাকা, পক্ষাঘাতের মত দুর্বলতা ও অনুভুতিহীন, কোষ্ঠবদ্ধতা, গরমকাতর ইত্যাদি।
১৮) শিশুর গায়ে অম্লগন্ধ, বারবার ধৌত করা সত্ত্বেও দুর না হলে সদৃশ ঔষধ- এসিড সাল্ফ, হিপার সাল্ফ, ম্যাগ কার্ব, রিউম ইত্যাদি।
১৯) ঋতুস্রাবের আগে সময় ও পরে স্নায়বিক মাথাব্যথার সদৃশ ঔষধ- ল্যাকেসিস, লিলিয়ান, সিকেলি, ক্রোকাস স্যাট ইত্যাদি।
২০) এসিড ফ্লোর ও এসিড পিকরিক ছাড়া আর সকল এসিডের রোগীর স্বাধারন লক্ষণ হলো দুর্বলতা ও শীতকাতরতা।
২১) বাত রোগীর কেলি কার্ব প্রথম বৃদ্ধি ছাড়া ক্রিয়া শুরু করে না। রোগ বৃদ্ধি দেখে ঘাবড়ে ঔষধ পাল্টিয়ে ভুল করবেন না।
২২) শিশুর দাঁত উঠার সময়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে সদৃশ ঔষধ- ক্রিয়োজোট, ষ্ট্যাফিসাগ্রিয়া, ক্যালকেরিয়া ফ্লোর, ক্যালকেরিয়া ফস ইত্যাদি
২৩) রোগীর ঢেকুরে পঁচা ডিমের গন্ধ বের হলে সদৃশ ঔষধ- আর্ণিকা মন্টেনা, গ্রাফাইটিস, এন্টিম টার্ট, সোরিনাম ইত্যাদি।
২৪) প্রস্রাবে ঘোড়ার চোনার মতো ঝাঁঝালো গন্ধ থাকা রোগীর সদৃশ ঔষধ- এসিড নাইট্রিক, এসিড বেঞ্জোয়িক, মেডোরিনাম ইত্যাদি।
২৫) বোরাক্সের রমনীর গাঢ় স্বেতপ্রদর, মাসিক কম, বাধক, সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা কম, ১/২টি সন্তান হয়, কোঁকড়ানো চুল ইত্যাদি।
২৬) চুল গুচ্ছ বদ্ধ কোঁকড়ানো রোগীর সদৃশ ঔষধ- বোরাক্স, লাইকোপোডিয়াম, এসিড ফ্লোর, সোরিনাম, টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
২৭) নানা প্রকার টিকার কুফল যুক্ত রোগীর চিকিৎসা করার প্রারম্ভে এক মাত্রা উচ্চ শক্তির থুজা প্রয়োগে রোগীর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পরে সুনির্দিষ্ট ঔষধ সেবনে রোগ সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে। থুজা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে ব্যর্থ হলে সালফার অথবা সোরিনামের প্রয়োজন হয়। এই সকল ঔষধ বিফলে পাইরোজিনাম ২/১মাত্রা প্রয়োগের ফলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, রোগীর সদৃশ ঔষধটি দ্রুত কার্যকর হবে, রোগীর আদর্শ আরোগ্য লাভ করবে।
২৮) ভীষণ স্বার্থপর রোগীর সদৃশ ঔষধ- সালফার, আর্সেনিক, লাইসিন, ল্যাকেসিস, পালসেটিলা, সিপিয়া, টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
২৯) রোগী সামান্য প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না রেগে যায়,সদৃশ ঔষধ- ইগ্নেসিয়া, ফেরামমেট, এনাকার্ডিয়াম, কোকুলাস ইন্ডিকা ইত্যাদি
৩০) ক্রুদ্ধ স্বভাবের রোগীর সদৃশ ঔষধ- নাক্স ভুমিকা, হিপার সাল্ফ, আর্সেনিক, সোরিনাম, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, এসিড নাইট্রিক ইত্যাদি।
৩১) বংশগত মানসিক রোগীর সদৃশ ঔষধ: ল্যাকেসিস, ফসফরাস, সিফিলিনাম, ভিরেট্রাম এলবাম, আর্জেন্ট নাই, অরাম মেট এনাকার্ডিয়াম ইত্যাদি।
৩২) ঠান্ডা লাগার প্রবনতা আরোগ্যে সদৃশ ঔষধ- ক্যাল-কার্ব, ক্যাল-ফস, কেলি-কার্ব, কেলিফস, লাইকো, মার্ক সল, হিপার সাল্ফ, ব্যারাইটা কার্ব ইত্যাদি।
৩৩) কেলি কার্বের রোগী চিত্র- মোটাদেহ, ক্রোধী, ঝগড়াটে, ভীত, শীতকাতর, খাদ্য গ্রহণের পর ও রাত ৩টা-৫টায় রোগ বৃদ্ধি।
৩৪) ধাতুগত গভীর কার্যকররী- সাইলেসিয়া, ফসফরাস, হিপার সাল্ফ, সালফার, কেলি কার্বের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুর আশংকা থাকে।
৩৫) ডাঃ বার্নেটের মতে টিকার কুফলে মৃগী, দৃষ্টিলোপ, নখবিকৃতি, হাঁপানি, ঋতুর গোলযোগ, টিউমার, ফোঁড়া, চর্মরোগ, মস্তিষ্কের বিকৃতি ইত্যাদি হয়।
৩৬) ঋতুস্রাব কালে রমনীর চোখমুখে আগুনের হলকা প্রবাহিত হলে সদৃশ ঔষধ- ফেরম মেট, স্যাংগুনেরিয়া নাইট, গ্লোনইন ইত্যাদি।
৩৭) স্পাইজেলিয়ার রোগী- সামান্য কারণে ক্রোধ, অসন্তুষ্টি, শব্দ, নড়াচড়া অসহ্য, সূচালো বস্তুতে ভয়, ক্রিমি গ্রস্থ,স্পর্শে শিউরে উঠে ইত্যাদি।
৩৮) অস্ত্রপাচার স্থানে সূচফোটানো বেদনা আরোগ্যে ষ্ট্যাফিসাগ্রিয়া একমাত্র ঔষধ। মর্ফিয়ার চেয়েও বেশি কার্যকর।
৩৯) সিপিয়ার রমনীকে কখনোই স্নেহময়ী জননী বা প্রেমময়ী স্ত্রী বলা যায় না। উভয়ের প্রতি উদাসীন। এই ঔষধটিকে রজকিনীর ঔষধ বলা হয়। কাপড় ধোয়ার সময় অসুস্থ হয়, সামান্য ঠান্ডা সহ্য হয় না। ভীষণ কোষ্ঠকাঠিন্য মলত্যাগ করতে কষ্ট মনে করে মলদ্বারে একটি বল দ্বারা অবরুদ্ধ রয়েছে। মূত্রে ঝাঁঝালো গন্ধ। জরায়ুর দূর্বলতা যোনিদ্বার দিয়ে নেমে আসে। পিঁড়িতে বসতে ভীত যেন সবকিছু যোনিদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসবে।
৪০) সিকেলি করের স্থূল মাত্রা প্রয়োগে গর্ভধারণে বাধা দেয়, গর্ভস্রাব করায়, গর্ভফুল নিস্ক্রান্ত করতে এ্যালোপ‍্যাথিতে ব‍্যবহৃত হয়। সিকেলির এই অপপ্রয়োগে রমনীদের স্বাস্থ্যহানীতার কারণ হয়।
৪১) সিকেলির করের রোগিনী ক্রোধী, দুর্বল, ক্ষীনদেহ, রক্তস্রাব প্রবণতা, স্রাবের ক্ষতকারিত্ব ও দূর্গন্ধ, সর্বাঙ্গে সুড়সুড়ি বোধ ইত্যাদি।
৪২) জিঙ্কাম মেট রোগীর বৈশিষ্ট্য- হাত পায়ের কম্প, উত্তেজনার পরে অবসাদ, উদ্ভেদ, স্রাব, দাত উঠতে বাধাগ্রস্ত হয়ে তড়কা, মেনিঞ্জাইটিস ইত্যাদি।
৪৩) ইগ্নেসিয়ার রোগীর সব কিছুতেই অসঙ্গতি যেমন অর্শরোগীর চলাফেরায় আরাম, পাকস্থলী খালি, খাইলে আরাম নাই, ধামলে কাশি বৃদ্ধি ইত্যাদি।
৪৪) পালসেটিলার রোগীই শুধু খোলা আবহাওয়ায় রোগ হ্রাসের লক্ষণ আছে। এরুপ লক্ষণ সিপিয়া, ফেরম মেট ও কেলি আইয়োডেও আছে।
৪৫) গাড়িতে চড়লে কানের শ্রবণ রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ কোকুলাস ইন্ডিকা, গাড়িতে উঠলে উপশম হলে সদৃশ ঔষধ এসিড নাইট্রিক।
৪৬) উদারাময়ের ঔষধ নির্বাচণ- দুষিত জল পানে উদরাময় হলে ক্যাম্ফর, জিন্জিবার উপযোগী সদৃশ ঔষধ।
৪৭) আইসক্রিম খেয়ে উদরাময় হলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আর্সেনিক, ব্রাইয়োনিয়।
৪৮) রসালো ফল খেয়ে উদরাময় হলে সদৃম ঔষধ- ভেরেট্রাম এলবম, চায়না।
৪৯) পেঁয়াজ খেয়ে উদরাময় হলে সদৃশ ঔষধ- থুজা।
৫০) শামুক খেয়ে উদরাময় হলে ব্রোমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম।
৫১) দুধ পানে উদরাময় হলে ক্যালকেরিয়া কার্ব, নেট্রাম কার্ব, নিকোলাস, সালফার।
৫২) এলুমিনা- মেরুদন্ড মধ্যে তপ্ত লৌহশলকা প্রবিষ্ট হইবার ন্যায় বেদনা, পক্ষাগাত, অন্ধকারে বা চক্ষুমুদ্রিত করিয়া চলিতে পারেনা।
৫৩) ক্রোধের কারণে জন্ডিসে ক‍্যামোমিলা, বালকদের পেটের বেদনায় ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া, আন্ত্রিক লক্ষণে ব্রাইয়োনিয়া উপযোগী সদৃশ ঔষধ।
৫৪) চায়না বা সিঙ্কোনার রোগীচিত্র- বল, বীর্য, রক্তক্ষরণে ভঙ্গস্বাস্থ্য, কুইনের কুফল, শীতার্ত, রক্তস্রাব প্রবণ, অজীর্ণ, পেটফাপা, ডিসপেপসিয়া।
৫৫) আর্জেন্ট নাইট্রিকামের রোগী চিত্র- চিকন দুর্বল, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগপূর্ণ ভবিষ্যতে অমঙ্গলের ভয়, গরমকাতর, গলা শ্লেষ্মাময়, গলা খেকড়ানী স্বভাব ইত্যাদি।
৫৬) নিম্ন শক্তিতে ব্যবহার এর পর  হাড় নরম, ভঙ্গুর হতে পারে- ক্যালকেরিয়া ফস, ক্যাল্ক ফ্লুওর, ক্যালরিয়া কার্ব, ক্যালকেরিয়া হাইপো ফস ইত্যাদি 

লেখক 
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার #৯
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে,
 আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, 
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজি নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং 01716651488

আকস্মিক দুর্ঘটনার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Homeopathic treatment for different types of injuries

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎিসা।কি কারনে কোথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে এবং কি কি লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে সেই বিবেচনায় ঔষধ নির্বাচন করে ঔষধ প্রয়োগ করিলে রোগী সহজেই আরোগ্য হয়।হোমিওপ্যাথিক ঔষধ লক্ষণ বিবেচনায় সঠিক ব্যবহার কঠিণ কাজ,নিজে নিজে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।

আঘাতের বা দুর্ঘটনার কারননির্বাচিত ঔষধ 

**স্বাধারন যে কোন আঘাতের পর ঃআর্ণিকা,হাইপেরিকাম,একোনাইট ক্রম ৩০ হইতে ২০০।
**বজ্রাঘাতের জন্য বা বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঃমরফিনাম,একোনাইট ক্রম ৩০ হইতে ২০০।
**অস্ত্রপচার দেখে ঃএকোনাইট, হাইপেরিকাম – ক্রম ৩০ হইতে ২০০।
**রক্তস্রাবের পর ঃচায়না , ইপিকাক – ক্রম ৩০।
**অতিরিক্ত রক্তস্রাব বা ভেদবমির পর ঃচায়না ,কার্বোভেজ – ক্রম ৩০।
**আঘাতের ফলে কোলাস্প অবস্থা ঃক্যাম্ফার – ক্রম ৬, ৩০।
**মুত্র রোধ হয়ে – ধীর নাড়ী ঃডিজিটেলিস – ৬, ৩০।
**মাড়ি নীলবর্ণঃ প্লাম্বাম – ৩০।
**নাসিকাধ্বনি করে নিদ্রা ঃওপিয়াম ( কুপ্রাম ) – ৩০।
**মুখের মাংসপেশীর নর্তন ঃইনাস্থি ,ক্রোকাস ৩০
**সন্ন্যাস রোগে ঃআর্ণিকা ৩০, ২০০, ১০০০, ওপিয়াম – ৩০, গ্লোনোইন – ৩০।
**থ্রাম্বোসিস জনিত ঃআর্ণিকা ৩০, ২০০, ল্যাকেসিস – ৩০, ২০০, ন্যাজা – ৩০ ২০০।
**মৃগীজনিত ঃএমিল নাইট – ৬ বা Q- এর আঘ্রাণ,নিকোটিনাম৩০,কুপ্রাম৩০,সাইকিউটা৩০ হায়োসিয়ামাস ৩০,সালফার২০০,সাইলি ২০০,বিউফোরানা ৩০।
** পরীক্ষা দিতে বসে,বক্তৃতা দিতে উঠে, অভিনয় করতে উঠে ঃঅ্যানাকাডিয়াম,জেলস ক্রম ৩০ হইতে ২০০।
**পরীক্ষা জনিত, বক্তৃতা জনিত, অভিনয়জনিত ভয় ঃআর্জেন্ট নাইট্রিকাম,ল্যাক-ক্যান -ক্রম ৩০ হইতে ২০০।
** অস্ত্রপচারের পর হিমাঙ্গ অবস্থা ঃষ্ট্রনসিয়াম-কার্ব - ক্রম ৩০ হইতে ২০০।
**সামান্য নড়াচড়া সহ্য হয় না অজ্ঞান হয়ে যায় ঃডিজিটেলিস – ক্রম ৬,৩০।
**হঠাৎ হিমাঙ্গ হয়ে হার্টফেলিওর ঃক্র্যাটিগাস – ক্রম Q ও ৬।
**সর্দিগর্মি ঃএমিল নাইট – ৬ বা Q,গ্লোনোইন – ৩০,কার্বোভেজ – ৩০।
**রক্ত দেখে ঃনাক্স মস্কেটা – ক্রম ৩০।
**সহবাসের পর ঃঅ্যাগারিকাস – ক্রম ৩০।
**মানসিক উত্তেজনাবশত ঃকফিয়া , ইগ্নেসিয়া – ক্রম ৩০,২০০।
**ঋতুকালে ঃইগ্নেসিয়া , ল্যাকেসিস – ক্রম ২০০।
**ঋতুরোধ হয়ে ঃনাক্স মস্কেটা – ক্রম ৩০।
**প্রসবকালে ঃনাক্স ভুমিকা,পালসেটিলা ,ক্রম ২০০।
**উদ্ভেদ চাপা পড়ে ঃজিঙ্ক মেট – ক্রম ৩০ , ২০০।
**কাঠকয়লার ধুঁয়া বা দুষিত গ্যাস লেগে ঃআর্ণিকা, বোভিষ্টা,ওপিয়াম – ক্রম ২০০। 
**ক্রুদ্ধ হবার পর ঃজেলসেমিয়াম – ক্রম ৩০। 
** ভয় পেয়ে ঃএকোনাইট, ওপিয়াম, আর্জেন্ট নাইট – ক্রম ৩০,২০০। 
** পেট ব্যথার সহিত ঃনাক্স ভুমিকা  ক্রম ২০০।
কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে দূর্ঘটনায় সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ
INJURIES, extravasations, with
----------




++ extravasations, with : Arn.bad.bry., cham., chin., cic., con.dulc., euphr., ferr., hep.iod., lach.laur., nux-v., par., plb., puls.rhus-t., ruta.sec., Sul-ac.sulph.
++ Bone : Calc-p., calc., Ruta.sul-ac.symph.
++ Glands, of : Arn.cic., Con.dulc.hep., iod.merc., phos.puls., rhus-t., sil.sul-ac.
++ Nerves with great pain : Hyper.phos.
++ Periosteum : Ruta.
++ Soft parts, of : Arn., cham., Con., dulc., euphr., lach., puls.samb., sul-ac.sulph.
++ Tendons : Anac.

--- INOCULATION with animal poison (See Wounds)
++ INTOXICATION, after : Acon., agar., am-m.arg-m., bell., bry.carb-v.chin., cocc.coff.ip., kali-c., kali-n., kreos., laur.,nat-m., nux-m., Nux-v.Op., ph-ac., puls.rheum., samb., Scil., spong.stram.teucr., valer.
++ IRON, after abuse of : Ars., puls.sulph.zinc.
++ IRRITABILITY, excessive physical : Absin., acon., agar., ambr.anac., ant-c., ant-t.Apis.Arn.ars.asaf.Asar.Aur., bar-c., Bell., bor., bov., bry., camph., cann-i., Canth., carb-s., caust., cham.chin-s.Chin.cocc.Coff., croc., cupr., ferr.gels.graph., hell., hep., hyos., ign.kreos., lach.laur., lil-t.mag-c., mag-m., mang., Med.Merc., mez., mosch.nat-a., nat-c., nat-m.nat-p., Nit-ac.Nux-v., par., petr., ph-ac.phos.plat., puls.rhus-t., sabin., Scil., sec., sel., sep., Sil., spig., Staph., stram., sulph., Tarent.Teucr.valer.verat.



++ when too much medicine has produced an over-sensitive state and remedies fail to act : Ph-ac.Teucr.
++ lack of : Agn., alum.am-c.ambr.anac.ant-c., ant-t., arn., ars.asaf., bar-c., bism-ox., brom., bry., Calc-i.Calc.,camph.cann-s., Caps.carb-an.Carb-v., caust., cic., cocc.colch., coloc., Con., croc., cupr., dulc.eupho., ferr., Gels., graph., guai.Hell., hyos., iod.ip.kali-bi.kali-c., lach., Laur., led., lyc.mag-c., mag-m., mez., mosch.mur-ac., nux-m., Olnd.Op., petr., Ph-ac., phos., plb., Psor.rhod.rhus-t., sec., seneg., sep.spong., stann., stram.stront., sulph.thu., valer.verb., zinc.

++ ITCHING, glands : Am-c., anac.ant-c., canth., carb-an., carb-v., caust.cocc., Con.kali-c.mag-c., merc., phos.ran-s., rheum., rhus-t., sabin., sep., sil.spong.
++ JAR, stepping, agg. : Acon.alum., am-c., ambr., anac.ant-c.arg-m., arg-n.Arn., ars., asar.bar-c., Bell., bor., Bry.cact.calad., calc.camph., canth., carb-s., caust.cham., chel., chin.Cic.cocc.coff., Con., dros., dulc., euphr., ferr-ar., ferr.glon., graph.ham.hell.hep.ign., kali-c., kali-i.kali-n., Lach.led.lil-t.lyc.mag-c., mag-m.meny., merc., nat-a., nat-c.nat-m.nat-p., Nit-ac., nux-m., nux-v.onos.par., petr., ph-ac.phos.plat., plb., puls.rhod., Rhus-t., ruta., sabad.sabin., sanic.seneg., sep.Sil.spig.spong., stann., staph., sulph.Ther.thu.verb., viol-t.




++ amel. : Caps.
WOUNDS : Apis.arn.bor., carb-v., cic., con., croc., hep., iod., kreos., lach.Led., merc., mez., nat-c., nat-m., nit-ac., ph-ac., phos.plb., puls.rhus-t., ruta., seneg., sil., staph.sul-ac.sulph., zinc.



++ bites of poisonous animals : Apis.arn., ars.aur., bell., calad., cedr.echi.hyper., lach.Led., seneg., stram., sul-ac.
++ bleeding freely : Aran., arn.carb-v.cench., croc., crot-h., ferr., hep., kreos.Lach., merc., mill., nat-m., ph-ac., Phos., puls., rhus-t., sul-ac., sulph.zinc.
++ cold, become : Led.
++ constitutional effects of : Arn., carb-v., con., hep., iod.lach.Led., nat-m., nit-ac.phos.puls., rhus-t., staph.sul-ac.zinc.
++ crushed and lacerated finger ends : Hyper.led.
++ cuts : Arn.led., merc., nat-c., ph-ac., sil., Staph.sul-ac.sulph.
++ dissecting : Anthr.apis.ars.lach.led., pyrog.
++ heal, slow to : Alum., am-c., bar-c.bor.calc.carb-v.caust., cham.chel., con., crot-h., graph.Hep., kali-c., Lach., lyc., mag-c., mang., merc-c.merc.mur-ac., Nit-ac.Petr., ph-ac., phos., plb., puls., rhus-t.sep., Sil.staph.Sulph.
WOUNDS, painful
----------




++ painful : Apis.Hyper., led., nat-m., nit-ac.nux-v., Staph., sulph.
++ penetrating : Apis.carb-v.cic., hep., hyper.Led.Nit-ac., plb., sil., sulph.
++ of palms and soles : Hyper.Led.
++ splinters, from : Acon., apis.arn.carb-v.Cic., colch., hep.Hyper., lach., led.nit-ac.petr., plat., ran-b., sil.staph.,sulph.
++ stab wounds : Apis.arn., carb-v., cic., lach., nit-ac., sil., staph.
--- stings of insects (See Stings Under Skin)
++ stinging, in : Acon., apis.arn., bar-c., bry., caust., led.merc., nat-c., nit-ac.staph.sulph.
--- suppurating (See Skin, Unhealthy)
--- ulcerating (See Ulcers)
এই চার্ট নবীন ডাক্তারদের প্র্যাকটিস গাইড।কেহ একা একা ডাক্তারী করবেন না।একজন দক্ষ ডাক্তারের সাহায্য নিন।
  
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোঃ নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গঃ রেজি নং ২৩৮৭৬

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

ধাতু দূর্বলতা/ Spermatorrhoea এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


Homoeopathic treatment for Spermatorrhea 

ধাতু দুর্বলতা বা অনৈচ্ছিক বীর্যপাত

ধাতু দুর্বলতা কী?
ধাতু দুর্বলতা বা Spermatorrhea বলতে সাধারণভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বীর্য বের হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়।

ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত বা স্বপ্নদোষ অনেক পুরুষের স্বাভাবিক ঘটনা। তাই মাঝে মাঝে স্বপ্নদোষ হওয়া মানেই কোনো রোগ হয়েছে বা শরীর দুর্বল হয়ে গেছে—এমন নয়।

তবে ঘন ঘন অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাতের সঙ্গে যদি যৌন দুর্বলতা, প্রস্রাবে জ্বালা, যৌনাঙ্গে ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা অন্য কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা দরকার।

ধাতু দুর্বলতার সম্ভাব্য কারণ-

অনৈচ্ছিক বীর্যপাতের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—
  • ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিক বীর্যপাত বা স্বপ্নদোষ
  • অতিরিক্ত যৌন চিন্তা বা উত্তেজনা
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
  • প্রোস্টেট বা মূত্রনালির সমস্যা
  • যৌনবাহিত সংক্রমণ
  • প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা
  • হরমোনের সমস্যা
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • দীর্ঘদিনের শারীরিক বা মানসিক দুর্বলতা
হস্তমৈথুন বা যৌনমিলনের কারণে শরীরের সব শক্তি নষ্ট হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। একইভাবে বীর্য পাতলা দেখালেই পুরুষের যৌনশক্তি বা সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না।
প্রধান লক্ষণ

রোগীর সমস্যা অনুযায়ী বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • বারবার অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাত
  • ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত
  • সামান্য যৌন উত্তেজনায় বীর্যপাত
  • দ্রুত বীর্যপাত
  • যৌনশক্তি কমে যাওয়া
  • লিঙ্গ শক্ত হতে সমস্যা হওয়া
  • বীর্যপাতের পর দুর্বল মনে হওয়া
  • অতিরিক্ত যৌন চিন্তা
  • দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা
  • আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
  • ঘুমের সমস্যা
কিছু রোগীর প্রস্রাবের সময় জ্বালা, যৌনাঙ্গে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক স্রাবও থাকতে পারে।
বীর্য পাতলা হলেই কি ধাতু দুর্বলতা?
না।
বীর্যের ঘনত্ব বা পাতলাভাব দেখে একা শুক্রাণুর সংখ্যা বা পুরুষের সন্তান ধারণের ক্ষমতা বোঝা যায় না।
সন্তান ধারণে সমস্যা থাকলে প্রয়োজনে Semen Analysis করা হয়। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলন, গঠন এবং বীর্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

  • বীর্যে রক্ত দেখা গেলে
  • প্রস্রাবে রক্ত হলে
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা হলে
  • যৌনাঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক স্রাব হলে
  • অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফুলে গেলে
  • জ্বর থাকলে
  • দীর্ঘদিন লিঙ্গ শক্ত হতে সমস্যা হলে
  • যৌনমিলনে ব্যথা হলে
  • সন্তান ধারণে সমস্যা হলে
এসব ক্ষেত্রে শুধু “ধাতু দুর্বলতা” ধরে ওষুধ না খেয়ে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা দরকার।
ধাতু দুর্বলতার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে শুধু “বীর্যপাত হচ্ছে” এই একটি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয় না।
রোগীর মানসিক অবস্থা, শারীরিক লক্ষণ, যৌন লক্ষণ, ঘুম, স্বপ্ন, প্রস্রাব, মল, হজমশক্তি, দুর্বলতা, ঠান্ডা-গরমের অনুভূতি এবং অন্যান্য বিশেষ লক্ষণ মিলিয়ে Materia Medica ও Repertory অনুসারে ওষুধ নির্বাচন করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

১. Agnus Castus
যৌনশক্তি খুব কমে যাওয়া, লিঙ্গের দৃঢ়তা কমে যাওয়া এবং যৌন দুর্বলতার সঙ্গে বিশেষ মানসিক লক্ষণ থাকলে Agnus Castus-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

২. Caladium
যৌন দুর্বলতার সঙ্গে যৌন আকাঙ্ক্ষা ও যৌনক্ষমতার মধ্যে অস্বাভাবিকতা থাকলে Caladium-এর লক্ষণ দেখা হয়।
বিশেষ করে অতীতের অতিরিক্ত যৌন অভ্যাসের পর যৌন দুর্বলতা দেখা দিলে রোগীর অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখা যেতে পারে।

৩. Lycopodium
যৌন দুর্বলতার সঙ্গে—
  • পেটে প্রচুর গ্যাস
  • হজমের সমস্যা
  • প্রস্রাবের সমস্যা
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব
  • সকালবেলা দুর্বলতা
ইত্যাদি থাকলে Lycopodium বিবেচনা করা হয়।

৪. Nux Vomica
যারা মানসিক পরিশ্রম বেশি করেন, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন এবং পেটের সমস্যা, অস্থিরতা ও খিটখিটে মেজাজের সঙ্গে যৌন সমস্যা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে Nux Vomica-এর লক্ষণ বিবেচনা করা যেতে পারে।

৫. Phosphoricum Acidum
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং যৌন দুর্বলতা দেখা দিলে Phosphoricum Acidum-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

৬. Selenium
যৌন দুর্বলতা, দ্রুত বীর্যপাত, স্বপ্নদোষ এবং যৌন সমস্যার সঙ্গে অন্যান্য বিশেষ লক্ষণ থাকলে Selenium গুরুত্বপূর্ণ একটি Materia Medica remedy।

৭. Staphysagria
অতীতের যৌন অভিজ্ঞতা বা অতিরিক্ত যৌন কর্মকাণ্ডের পর যৌন দুর্বলতা দেখা দিলে এবং সঙ্গে বিশেষ মানসিক লক্ষণ থাকলে Staphysagria বিবেচনা করা যেতে পারে।

৮. Calcarea Carbonica
দৈহিক দুর্বলতার সঙ্গে স্থূল বা নরম শরীর, অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা এবং যৌন দুর্বলতার বিশেষ লক্ষণ থাকলে Calcarea Carbonica বিবেচনা করা হয়।

৯. Salix Nigra
পুরনো Homeopathic Materia Medica-তে অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা, যৌন দুর্বলতা ও যৌন সমস্যার বিভিন্ন অবস্থায় Salix Nigra-এর উল্লেখ রয়েছে।

১০. Sabal Serrulata
বিশেষ করে প্রোস্টেটের সমস্যা, প্রস্রাবের সমস্যা এবং তার সঙ্গে যৌন দুর্বলতা থাকলে Sabal Serrulata-এর লক্ষণ বিবেচনা করা যেতে পারে।

১১. Kali Bromatum
যৌন দুর্বলতার সঙ্গে মানসিক অবসাদ, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা ও স্নায়বিক দুর্বলতার বিশেষ লক্ষণ থাকলে Kali Bromatum বিবেচনা করা হয়।

Boericke Repertory-তে Spermatorrhea
Boericke Repertory-তে Spermatorrhea-এর অধীনে বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক ঔষধের উল্লেখ আছে।
প্রধান কয়েকটি হলো—
Agnus castus, Argentum nitricum, Caladium, Calcarea carbonica, Cantharis, China, Conium, Gelsemium, Kali bromatum, Lycopodium, Medorrhinum, Nux vomica, Phosphoricum acidum, Phosphorus, Sabal, Salix nigra, Selenium, Sepia, Silicea, Staphysagria, Sulphur প্রভৃতি।
তবে Repertory-তে কোনো ঔষধের নাম থাকলেই সেটি রোগীর জন্য উপযুক্ত হবে—এমন নয়।
গুরুত্বপূর্ণ Rubric
Spermatorrhea — sexual debility, deficient physical power, nocturnal pollutions
এর সঙ্গে রোগীর অন্যান্য লক্ষণ অনুযায়ী নিচের Rubric-গুলোও বিবেচনা করা যায়—

  • Emission during sleep
  • Emission, premature
  • Emission, diurnal
  • Emission, straining at stool
  • Erections, deficient
  • Sexual weakness
  • Debility after emission
  • Irritability with sexual weakness
  • Despondency with sexual weakness

একটি ভালো প্রেসক্রিপশনের জন্য রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
রোগীর Case Taking
ধাতু দুর্বলতা বা যৌন দুর্বলতার রোগীর ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো জানা দরকার—

  • যৌন লক্ষণ
  • যৌন ইচ্ছা কেমন?
  • লিঙ্গ শক্ত হয় কি?
  • কত দ্রুত বীর্যপাত হয়?
  • ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হয় কি?
  • কতদিন ধরে সমস্যা?
  • বীর্যপাতের পর কেমন অনুভূতি হয়?
প্রস্রাবের লক্ষণ

  • প্রস্রাবে জ্বালা আছে কি?
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হয় কি?
  • প্রস্রাবের ধারা দুর্বল কি না?
  • প্রস্রাবের আগে বা পরে কোনো স্রাব হয় কি?
  • মানসিক লক্ষণ
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
  • ভয়
  • অপরাধবোধ
  • হতাশা
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব
  • অতিরিক্ত যৌন চিন্তা
  • ঘুমের সমস্যা
সাধারণ শারীরিক লক্ষণ

ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, স্বপ্ন, মল, প্রস্রাব, ঘাম, ঠান্ডা-গরমের অনুভূতি, ওজন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ জানতে হবে।

চিকিৎসার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার
যৌন সমস্যা নিয়ে অনেক তরুণ ভয় ও লজ্জার কারণে ভুল চিকিৎসার শিকার হন।

রাস্তার বিজ্ঞাপন দেখে “শুক্রবর্ধক”, “যৌনশক্তি বৃদ্ধির” বা অজানা হারবাল ওষুধ নিজে থেকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
একইভাবে একসঙ্গে অনেক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়াও উচিত নয়।
রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস ও লক্ষণ নিয়ে একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া ভালো।

শেষ কথা
স্বপ্নদোষ বা মাঝে মাঝে বীর্যপাত হওয়া সবসময় কোনো রোগ নয়। তাই অকারণে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
আবার বারবার অনৈচ্ছিক বীর্যপাতের সঙ্গে অন্য কোনো সমস্যা থাকলে সেটিকে অবহেলাও করা উচিত নয়।

সঠিক রোগ নির্ণয় → কারণ খুঁজে বের করা → প্রয়োজনীয় পরীক্ষা → লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা
এই পদ্ধতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা না করে একজন যোগ্য ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।
নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এই লেখাটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

লেখক
ডাঃ ইয়াকুব সরকার
সভাপতি — বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার, রুম নং ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
গভঃ রেজি. নং — ২৩৮৭৬
মোবাইল — 01716651488