টপিকস

জুলাই ৩০, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি ও মাত্রা তত্ত্ব

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাত্রা ও শক্তি নির্বাচন।



মহাত্মা হ্যানিম্যান বলিয়াছেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সাফল্যের জন্য নির্ভুল ঔষধ নির্বাচনই যথেষ্ট নহে,পরন্তু কিরুপ ক্ষেত্রে কত শক্তির কি পরিমান বা মাত্রা প্রয়োগ করা উচিত সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা উচিত।
 আমরা সকোলেই জানি হোমিওপ্যাথিতে রোগ বলিতে কোন স্হুল বস্তু বুঝায় না এবং তাহা আমাদের  সুস্হ্য দেহকেও আক্রমণ করে না।সোরা যাহাকে আমি যৌন চেতনার বিকৃত পরিণতি বলিয়া মনে করি,তাহারই অধিকারে আমাদের জৈব প্রকৃতির স্বাভাবিক গতি বা রীতিনীতি বিশৃঙ্খলা হইয়া পড়িলে দেহ ও মনে যে অস্বাভাবিক অনুভুতি ও অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়,ব্যাধি তাহার নামান্তর মাএ।ইহা কোন স্হূল ব্যাপারে নহে,কাজেই প্রতিকার কল্পে আমরা যে উপায় অবলম্বন করিব তাহা স্হূল হইলে চলিবে না।এইজন্য রোগশক্তির সমকক্ষ করিয়া তুলিবার জন্য ঔষধকেও সুক্ষ্ম অথচ শক্তিশালী অবস্হায় লইয়া যাওয়া উচিত।
উহাকে dynamization বা তীক্ষ্ণ করা বুঝায়।
dilution ভুল এইজন্য যে তাহার অর্থ তরল করা।
 অনেকের ধারণা এই যে,ঔষধ সুনির্বাচিত হইলে শক্তি নির্ণয়ের জন্য মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন নাই,যে কোন শক্তিতেই তাহা কাজ করিবে।এ ধারণা যথার্থ নয়।কারণ,ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায়,মানসিক পীড়াপ্রধান রোগীকে
 কোন সুনির্বাচিত ঔষধের নিম্ন শক্তি দিয়ে কোন ফল পাওয়া যায় নাই।সেখানে হয়তো সেই ঔষধের উচ্চতর শক্তি প্রয়োগ করিয়াই বিশেষ ফল পাওয়া গিয়াছে।তা ছাড়া রাসায়নিক ও খনিজ পদার্থ হইতে প্রস্তুত অনেক ঔষধ যেমন-- সালফার,ক্যালকেরিয়া কার্ব্ব, নেট্রাম-মি, সাইলিসিয়া,ফেরাম, জিংঙ্কাম প্রভৃতি খুব নিম্ন শক্তিতে বিশেষ কার্যকরী হয় না।উচ্চ শক্তিতে তাহাদের কার্যকারীতাই অধিকতর পরিস্ফুট। আবার আরেক দিকে এমন কতকগুলি অবস্হা আছে যেখানে উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ,ছুঁরিকা বিদ্ধ করিয়া হত্যা করিবার নামান্তর বলে বর্ণিত হইয়াছে।
যেমন-- যক্ষ্ণা রোগে উচ্চশক্তির সালফার,সাইলেসিয়া প্রভৃতি।সেখানে এই সকল ঔষধ উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করিলে রোগীকে মৃত্যুর পথে আরও অগ্রসর করিয়া দেওয়া হয় মাএ। তাহা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও শক্তির তারতম্য যে রোগের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এ বিষয়ে প্রত্যেক চিকিৎসক মাত্রই প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতা আছে।যেমন-- সালফার,ক্যালকেরিয়া কার্ব্ব, নেট্রাম-মি, সাইলিসিয়া, ফেরাম, জিঙ্কাম প্রভৃতি খুব নিম্ন শক্তিতেবিশেষ কার্যকরী হয় না।উচ্চ শক্তিতে তাহাদের কার্যকারীতাই অধিকতর পরিস্ফুট। আবার আরেক দিকে এমন কতকগুলি অবস্হা আছে যেখানে উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ ছুঁরিকা বিদ্ধ করিয়া হত্যা করিবার নামান্তর বলে বর্ণিত হইয়াছে।যেমন-- যক্ষ্ণা রোগে উচ্চশক্তির সালফার,সাইলেসিয়া প্রভৃতি।সেখানে এই সকলঔষধ উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করিলে রোগীকে মৃত্যুর পথে আরও অগ্রসর করিয়া দেওয়া হয় মাএ। তাহা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও শক্তির তারতম্য যে রোগের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এ বিষয়ে প্রত্যেক চিকিৎসক মাত্রই প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতা আছে।শক্তির ঔষধের উপর তেমন নির্ভরতা দেখা যায় না।আবার যাঁহারা উচ্চ শক্তিতে আহরণ করিয়া আছেন, তাঁহারা উহার কার্য্যকারিতায় এরুপ আকৃষ্ট যে,নিম্ন শক্তিতে নামিতেই চান না।এই উভয় তন্ত্রের চিকিৎসক তাঁহাদের গোঁড়ামি পরিত্যাগ করিয়া বৈজ্ঞানিক মন লইয়া ঔষধের শক্তি সন্মন্ধে যদি গবেষণা করেন তাহা হইলে তাঁহাদের পুর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার ফল সকল হোমিওপাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীগণের সহায়ক হইতে।তদপেক্ষা কম মাএায় মুখ হইতে লালা স্রাব, ঘর্ম্ম,বৃক্কের (Kidney) প্রদাহ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকটিত করে,আবার তদপেক্ষা আরও স্বল্প মাএায় ( অর্থাৎ হোমিওপাথিক উচ্চতর শক্তিতে) সুক্ষ্ম লক্ষণ সমুহ ( মানসিক লক্ষণ)প্রকাশ করায়।
( ক) লক্ষণ সমুহ মুখ্যতঃ স্হুুল দেহেই নিবন্ধ থাকিলে( Gross pathological states)( নিম্ন শক্তি ৩x হতে ৩০ শক্তি।)
( খ) যান্ত্রিক ক্রিয়ার গোলযোগ মুখ্য হইলে (Functional disorders) মধ্যম শক্তি (৩০ হইতে ২০০) এবং
(গ) সূক্ষ্ম মানসিক লক্ষণের প্রাধান্যে উচ্চতর শক্তি(২০০ হইতে উর্দ্ধ) প্রযোগ করা যাইতে পারে।
(ঘ) ব্যবহারিক ক্ষেএে আরও একটি নিয়ম প্রণিধান যোগ্য যথা-- প্রাণ সংরক্ষণে " যে যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা যত কম ( Less vital) ঔষধের শক্তি তাহাতে তত উচ্চ প্রয়োগ করা যাইতে পারে।অপর পক্ষে যে শারীর যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা যত বেশী তাহার জন্য তত নিম্ন শক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হয়।দৃষ্টান্ত স্বরুপ বলা যাইতে পারে যে, -- কোনো রোগীর বৃক্ক যন্ত্রের গুরুতর পীড়ার লক্ষণ প্রকাশ পাইলে সেখানে নিম্ন শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করাই সমীচিন। সেই রুপ কোন যক্ষ্ণা রোগীর ফুসফুস ভীষণ ভাবে আক্রান্ত হইলে সেখানেও উচ্চ শক্তি ব্যবহার করা বিধি সঙ্গত নহে।হৃদরোগ সন্মন্ধেও মনে হয় এ কথা খাটে ।এ সন্মন্ধে ডাঃ কেন্ট বিশেষ ভাবে সতর্ক করিয়া গিয়াছেন।অপর পক্ষে, চর্ম্ম রোগে উচ্চতর শক্তির ঔষধ দিতে কোন বাধা নাই,বরং সুচিন্তিত ও বিচারসহ বলিয়াই মনে হয়।তিনি বলেন,-- কোনও রোগীর পীড়া- প্রবণতার ক্রম বা পরিমান ( Degree of susceptibility) ব্যক্ত হয় তাহার লক্ষণ সমষ্টির ভিতর দিয়া।রোগের লক্ষণ সমষ্টি প্রকাশ পায় যত বেশী,নির্বাচিত ঔষধের সহিত তাহার সাদৃশ্যও মিলে তত বেশী।আবার ঔষধের সহিত লক্ষণ সমষ্টির সাদৃশ্য যত বেশী অনুভুত হয়, সেই ঔষধ যে তত বেশী গভীর প্রতিক্রিয়া আনয়ন করিতে সমর্থ হইবে তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।সেই জন্য লক্ষণ সমষ্টির ব্যঞ্জনা যত অধিক স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ পাইবে সুনির্বাচিত ঔষধের তত অল্প পরিমান ( অর্থাৎ উচ্চ শক্তি) ব্যবহার করাই সঙ্গত। অবশ্য গুরুতর যান্ত্রিক পীড়ায় যেখানে রোগীর জীবনী শক্তি অতি ক্ষীণ এবং ঔষধের প্রতিক্রিয়া সহ্য করিতে অসমর্থ সেখানে এ নিয়ম খাটে না -- এই স্হলে ঔষধের নিম্ন শক্তি ব্যবহার করাই নিরাপদ ।
মুতরাং ঔষধ সুনির্বাচিত হওয়া সত্বেও তাহার শক্তি নির্বাচন যে রোগ উপসমের পক্ষে একটি অপরিহার্য্ বিষয় তাহা স্বীকার করিতেই হইবে।সাধারনতঃ যাঁহারা নিম্ন শক্তির ঔষধই বেশী ব্যবহার করেন তাঁহাদের উচ্চ ও নিম্ন শক্তির স্ব স্ব ক্ষেএ আছে।সেই ক্ষেত্রে একটি বিশিষ্ট শক্তিই অন্যটি অপেক্ষা সমধিক উপযোগী।কোন বিশেষ ক্ষেত্রে কোন শক্তি প্রয়োগ করা বিধেয়,সে সন্মন্ধে ধরাবাঁধা একটা নিয়ম বাঁধিয়া দেওয়া চলে না।একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপরই তাহা প্রধানতঃ নির্ভর করে।
সুস্থ দেহে ঔষধের প্রুভিং বা পরীক্ষা নিরীক্ষার দ্বারা হোমিওপাথিক ঔষধের লক্ষণ -সমষ্টি নির্ণীত হয়।ঔষধের লক্ষণ সমষ্টির সহিত শক্তি নির্বাচন সন্মন্ধেও একটা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া য়ায়।
ডাঃ মহাত্মা হ্যানিম্যানের ষষ্ঠ সংস্করণ অনুযায়ী পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধ সেবন রোগীর আদর্শ আরোগ্যের চাবিকাঠি। দ্রুত ও বিনা কষ্টে আরোগ্য লাভের জন্য পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধ নির্বাচন জরুরি।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ডি এইচ এম এস ঢাকা
এম এস এস রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
ইভা হোমিও হল
গঃরেজি নং ২৩৮৭৬

মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

জুলাই ১২, ২০১৮

কার্বাঙ্কলের(Carbuncle) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

Homeopathic medicine for carbuncle

কার্বাঙ্কল বা বিষ ফোড়া কি ?
তীব্র বেদনাসহ ফোলা বা ত্বকে একাধিক ফোঁড়া,যাহা সাধারণত স্টাফালোকোক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত একটি সাংঘাতিক ধরনের ফোড়া।ফোড়ার অনেকগুলি ছোট ছোট মুখ থাকে।কার্বাঙ্কলে পুজ জন্মিবার পূর্বে অত্যন্ত বেদনা ও জ্বালা থাকে।সেই জ্বালা রাতেই বেশী হয়।কার্বাঙ্কল সাধারনতঃ কোমর,ঘাড়ে,পিঠে ও কনুইতে বেশী দেখা দেয়।কার্বাঙ্কলে পুজ না হইলে বিপদের আশঙ্কা বেশি।বৃদ্ধ মানুষের ও ডায়াবেটিস রোগী কার্বাঙ্কল মারাত্মক হয়।
এনথ্র্যাসিনাম(Anthracinum)কার্বাঙ্কল অর্থাৎ বিষ ফোড়ায় ছোট ছোট ছিদ্র হইতে রস ঝরে।ভয়ানক স্পর্শ কাতরতা বেদনা ও জ্বালা।সেই বেদনা ও জ্বালায় রোগী ছট ফট করে।জ্বালা যন্ত্রণা ঠান্ডা জলে উপশম।আক্রান্ত স্হান স্পন্জের মত ছোট ছোট ছিদ্রপুর্ণ; রং  কালচে তার সাথে জলের মত পাতলা পুজ বা রস নির্গত হয়,পূজে ভয়ানক দুর্গন্ধ, স্পর্শকাতর বেদনা,জ্বর থাকে।
আর্সেনিক এলবাম(Arsenic album)রোগী অত্যন্ত অবসাদ, অর্ন্তদাহ, অস্হিরতা,মৃত্যৃ ভয়,পুনঃ পুনঃ অল্প পরিমাণে জল পান করে।কার্বাঙ্কলের জ্বালা যন্ত্রণা ঠান্ডায় বৃদ্ধি।রাত ১২টা থেকে ২টায় বৃদ্ধি।উত্তাপে উপশম হলে উপযোগী।
কার্বভেজ(Carbo veg)দুষ্ট ব্রন,কালো রংয়ের ক্ষত হইতে দুর্গন্ধ পুজ বা রস ঝরে।অত্যন্ত জ্বালা,সেই জ্বালা যন্ত্রণা রাতে বৃদ্ধি,ঠান্ডায় উপশম,রোগী নিয়মিত পাখার বাতাস চায়।ইহাই কার্বোভেজের প্রধান পরিচয়।
ল্যাকেসিস(Lachesis) কার্বাঙ্কলের স্হানটি বেগুনী রংয়ের,তাহাতে সহজে পুজ হতে চায় না যদিও অল্প হয় তাহা রক্ত যুক্ত।অত্যন্ত জ্বালা,সে জ্বালা যন্ত্রণা নিদ্রার উপক্রম কিংবা নিদ্রা ভঙ্গ হইলেই বৃদ্ধি পায়।
নাইট্রিক এসিড(Nitric Acid)রোগীর তিব্র বেদনা,বেদনার সাথে রাত্রিতে প্রচুর ঘর্ম, ও  বেদনায় বৃদ্ধি  পেয়ে থাকে।কার্বাঙ্কলের বেদনা রাত্রিতে বৃদ্ধিসহ ক্ষতের প্রকৃতি এসিড নাইট্রিকের নির্বাচন লক্ষণের সাথে সদৃশ হলে উপযোগী।
মাইরিস্টিকা(Myristica)
মাইরিস্টিকা কার্বাঙ্কালের অপারেশনের কাজ করে।রোগের প্রথম অবস্হায ঘনঘন কয়েকমাত্রা প্রয়োগেই বেদনা উপশম হয়।পুজ থাকলে ফেটে যায় আর পুজ না থাকলে সমূলেই আরোগ্য হয়।
পাইরোজিনাম(Pyrogenium) কার্বাঙ্কলে যখন সেপটিক আকার ধারন করে তখন পাইরোজিনাম শ্রেষ্ঠ ঔষধ।রোগী সেপটিক জ্বর,বমি ডাইরিয়াসহ অত্যন্ত বেদনা জ্বালা ও হিংস্রতা প্রকাশ পায়।প্রচন্ড মাথা বেদনার সাথে রোগীর শরীরে বিষক্রিয়ায় ছটফট করিতে থাকলে উপযোগী।
রাসটক্স(Rhus Tox)কার্বাঙ্কলের প্রথম অবস্হায় যখন চারপাশে তিব্র বেদনাও চুলকানি, মুখমন্ডল ফ্যাকাশে,বেদনায় অস্হিরতা,ছটফটানি দেখা দেয়,এর রং কালচে ও লালচে ভাব থাকে বেদনা নড়াচড়ায় আরাম পায় তখন রাসটক্স প্রয়োজন হয়।
সিকেরি কর(Secale cor) কার্বাঙ্কলে যখন গরম তাপ সহ্য হয় না অন্তরে জ্বালায় ছটফট করে,ভেতরে গরম দেহের বাইরে ঠান্ডা থাকে তখন সিকেলি কর উপযোগী।
সাইলেসিয়া(Silicea)কার্বঙ্কল যখন আলসারেটিভ রুপ নেয়,আস্তে আস্তে ক্ষত জটির আকার ধারন করে,ক্ষতে গরম স্যাকের অভিলাস করে।ঘাড়ে,বাহুতে কার্বঙ্কলে সাইলেসিয়ার নির্বাচক লক্ষণ নিয়ে উপস্হিত হয় তখন সাইলেসিয়া প্রয়োজন।
মার্ক আইয়োড(Merc iod)মার্ক আইওড ফোড়া এবং carbuncles inflammatory পর্যায়ে জন্য একটি চমৎকার ঔষধ; কোন পুজ হয় না যখন ব্যাথার তীব্রতা এবং ব্যথার সঙ্গে তীব্র লাল জ্বলজ্বলে রং হয়; গঠিত পুজ যখন সবুজ,পাতলা এবং পানির মত হয় তখন উপযোগী।
স্ট্যাফাইলোকক্সিনাম(Staphylococcinum)এই ঔষধটি carbuncle এবং furuncles জন্য একটি চমৎকার ঔষধ।
ট্যারেন্টুলা(Tarantula) প্রচন্ড জ্বর,আক্রান্ত স্হানের রং নীলাভ, হুল ফুটানো বেদনা, জ্বালা যন্ত্রণা,গাত্রদাহ,ছটফটানি,জল পিপাসা কার্বাঙ্কলে অনেকগুলি মুখ হইয়া তাহা হইতে রসের মত নির্গত হইতে থাকে।ভয়ানক বেদনা ও জ্বালা, কাপ দিয়ে জ্বর আসে,পরে উচ্চ রঙের মত দেখায়।পুয হইলেও অতি অর্প তৎসহ রক্ত,ক্ষতে স্পর্শকাতরতা,জ্বালা।
এব্রোমা আগষ্টাAmbra Griseaবহুমুত্র রোগীদের কার্বঙ্কলে সহজে পুজ না হইলেও অত্যন্ত বেদনা থাকিলে ইহাতে উপকার হয়।বহুমুত্র,শর্করাযুক্ত প্রস্রাব, প্রস্রাবের পরিমান খুব বেশী।মুত্র বেগ ধারণে অক্ষমতা,দুর্বলতা, মাথাঘোরা, অনিদ্রা, শীর্ণতা, কোষ্ঠবদ্ধ, বহুমুত্রজনিত ফোড়া ইত্যাদিতে ইহা ব্যবহার করিবেন।
উপরোক্ত সদৃশ ঔষধ ছাড়াও কার্বাঙ্কলের সদৃশ চিকিৎসায় বেলেডোনা (Belladonna),বিউফো রানা(Bufo)চায়না(China),কার্বলিকএসিড (Carbolic acid),হিপার সাল্ফ(Hepar Sulph),হায়োসিয়ামাস (Hyoscyamus), ক্রিয়োজোট(Kreosote),এসিড মিউর (Muriatic acid) ইত্যাদির প্রয়োজন হতে পারে।
কার্বাঙ্কলের সদৃশ ঔষধ নির্বাচন-কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যেঃ
carbuncle : Agar., ant-t., anthr.apis.arn.Ars.Bell.bufo-r.,caps., carb-an., coloc., crot-c.crot-h.echi.hep.hyos.lach.mur-ac., nit-ac., phyt.pic-ac., rhus-t.sec.Sil.sulph.tarent-c.





++ burning : Anthr.apis.ars.coloc., crot-c.crot-h., hep., Tarent-c.
++ purple, with small vesicles around : Crot-c.Lach.
++ stinging : Apis., carb-an., nit-ac.
কার্বাঙ্কলের বাইওকেমিক চিকিৎসা:-
ফেরম ফস:-আক্রান্ত স্হান লাল,চিরিক মারা,দপ দপানি ব্যথায় ইহা উপকারী।
ক্যালি মিউর:-কোষ্ঠ বদ্ধ জিহ্বায় শ্বেত বর্ণের প্রলেপযুক্ত রোগীদের পীড়ার দ্বিতীয়াবস্হায় ফেরাম ফসের সহিত পর্যায়ক্রমে সেবন করিতে
 হয়।
ম্যাগনেশিয়া ফস:-আক্রান্ত স্হানে বেদনা,গরম তাপে বা সেকে উপশম হইলে ইহা অব্যর্থ।
সাইলেসিয়া:-কার্বাঙ্কলে পুজ সঞ্চয় হইতে থাকিলে ইহা উপকারী।
উপসংহারঃ
বৃদ্ধ বয়সে  অথবা ডায়াবেটিস রোগীর কার্বাঙ্কল হলে জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া উচিত।জ্বালা যন্ত্রনা নিবারনের জন্য পুইশাকের পাতা,টমেটো,আতা গাছের পাতার প্রলেপ উপকারি।তাই বলে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে এই সকল ব্যবহার করে বসে থাকলে ভুল করবেন।কারাবঙ্কল দেখা দেয়া মাত্র একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নিবেন। সামান্য অবহেলা আপনার জন্য অনেক অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে।সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বিনা কষ্টে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন।অনেকেই ফোড়া হওয়া মাত্র এ্যালোপ্যাথিক ঔষধ খেয়ে দাবিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেণ এর দ্বারা ঔ রোগীর অপুরনিয় ক্ষতি হয়।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অস্ত্রপচার ছাড়া দ্রুত আরোগ্য লাভের একটি সহজ সরল উপায়।তাই বিষফোড়া হলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ছাড়া বিকল্প কোন চিন্তা করা ঠিক হবে না।
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ
Download Our App from Play Store

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গভঃ: রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

জুলাই ১০, ২০১৮

মস্তিস্কের অবসাদ বা ব্রেনফ্যাগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Do you suffer from brain fag? Solution by Homeopathy.

মস্তিস্কের অবসাদ বা ব্রেণফ্যাগ কি ?
উকিল,জজ,ব্যারিস্টার,রাজনীতিবিদ ইত্যাদি বিষয়ি লোকের অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে মস্তিস্কের শুন্যতাবোধ,স্মৃতি ভ্রম ইত্যাদি স্নায়িবিক লক্ষণ সমষ্টিকে ব্রেণফ্যাগ বলে।
ব্রেইন ফাগ সিন্ড্রোম (বিএফএস)Brain fag syndrome (BFS) ১৯৬০ সালে আর এইচ প্রিন্স(RH Prince)দ্বারা প্রথম বর্ণনা করা হয়েছিল।এটি নাইজেরিয়াতে প্রথম আবিষ্কৃত হয়ে ছিল,হাইস্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অনিদ্রা সম্পর্কিত এবং মস্তিস্কের দুর্বলতা,মাথা এবং ঘাড়ের ব্যাথা,মনোযোগের অভাব এবং স্মরণ শক্তির অভাব এবং চোখের ব্যথার লক্ষণ সহ বর্ণনা করা হয়,যার কারণ মানসিক চাপ দ্বারা এই রোগ সৃষ্ট হয়।
অত্যধিক মানসিক শ্রম ও দুশ্চিন্তার কারণে মস্তিস্কের অবসাদ বা ব্রেণফ্যাগ হয়ে থাকে।অতিরিক্ত মাত্রায় সুরাপান,যৌণ অত্যাচার,কোন মর্ফিয়া জাতীয় ভেষজের অপব্যবহার ইহার উত্তেজক কারণ।
ব্রেণফ্যাগের লক্ষণসমুহঃ
ব্রেন ফ্যাগের রোগীর মানসিক অস্হিরতা,অনিদ্রা,কোন চিন্তা বা পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতার অক্ষমতা ইত্যাদি ব্রেণফ্যাগের রোগীর প্রধান লক্ষণ।
ব্রেণফ্যাগ হতে মুক্তির উপায়ঃ
বিশ্রাম,পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন,মুক্ত বাতাসে পরিমিত ব্যায়াম ও প্রচুর নিদ্রা যাপওয়া এই অবস্হায় চিকিৎসার একটি অংশ।সুনির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার দ্বারা মস্কিস্ক সবল ও সুস্হ্য হয়ে যায়।

ব্রেইন ফ্যাগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সর্বাধিক জনপ্রিয় হোলিস্টিক সিস্টেম গুলির মধ্যে একটি। হোলিস্টিক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বতন্ত্রীকরণ এবং সদৃশ উপসর্গ তত্বের উপর ভিত্তি করে।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর যন্ত্রণাদায়ক সমস্ত চিহ্ন এবং উপসর্গগুলি সরিয়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের অবস্থা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে।হোমিওপ্যাথির লক্ষ্য কেবলমাত্র মস্তিষ্কের ফ্যাগের চিকিৎসার জন্য নয় বরং এর অন্তর্নিহিত কারণ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা মোকাবেলার জন্য।যতক্ষণ থেরাপিউটিক ওষুধ নিয়ে উদ্বিগ্ন,তেমনি মস্তিষ্কের ফ্যাগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন প্রতিকার পাওয়া যায় যা অভিযোগের কারণ,সংবেদন এবং পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচন করা যেতে পারে।স্বতন্ত্র প্রতিকার নির্বাচন এবং চিকিৎসার জন্য,রোগীর একজন যোগ্যতা সম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্রেণফ্যাগের ঔষধসমুহঃ
ইথুজা,এনাকার্ডিয়াম,আর্জেন্ট নাইট্রিকাম,ক্যালকেরিয়া কার্ব, ক্যালকেরিয়া ফস,কোক্কুলাস ইন্ডিকা,জেলসিমিয়াম,কেলি ফস,নাক্স ভুমিকা,এসিড ফস,এসিড পিকরিম,সাইলেসিয়া,জিঙ্কাম,কেলি ব্রোম একোনাইট,এগারিকাস,এমন মিউর,আর্নিকা,চায়না,সিমিসিফুগা, হেলোনিয়াস,ইগ্নেসিয়া,লাইকোপোডিয়াম,নেট্রাম মিউর,ফসফরাস, সেলিনিয়াম, কোকা,সাইক্লামেন,গ্রাফাইটিস,ফাইজষ্টিগমা, প্লাম্বাম, পালসেটিলা,সিপিয়া,ষ্ট্যানাম,সালফার,জিঙ্কাম ফস,ভ্যালেরিয়ানা, প্রভৃতিসহ স্নায়বিক দুর্বলতার সদৃশ চিকিৎসার ঔষধসমুহ ব্রেণ ফ্যাগের চিকিৎসায় প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রেণফ্যাগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সদৃশ ঔষধসমুহের নির্বাচন লক্ষণঃ-
***নাক্স ভুমিকা
মস্তিষ্কের দুর্বলতার রোগীর শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, বেশি বেশি মানসিক পরিশ্রম,অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কুফল,বিলাসি জীবন যাপন এদের জন্য উপযুক্ত।স্মৃতিশক্তির অভাব,মানসিক পরিশ্রম করিলে মাথা ব্যথা,সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মাথা ঘুরিলে নাক্স ভুমিকা উপযোগী।নাক্স ভুমিকা প্রয়োগের পরে ফসফরাস ব্যবহার করতে হয়।
***হায়োসিয়মস:-
মস্তিস্ক ও স্নায়ুমন্ডলীর উপর ইহার ক্রিয়া মুখ্য এবং রক্ত সঞ্চালনকারী যন্ত্রের উপর ইহার ক্রিয়া গৌণ।কলহ প্রিয় এবং অধিক কথা 
 বলে, হিংসুক স্বভাব,রোগী সর্বদাই মনে একপ্রকার সন্দেহ-যেন কেহ বিষ প্রয়োগ করিবে,যে স্হানে থাকে মনে করে ইহা যেন তাহার গৃহ নহে, একেলা থাকিবার ভয়,বিষ খাওয়াইবার ভয়,বিক্রয়ে লোকসানের ভয়।পানাহার গ্রহন করিতে ভয়,কারণ কোনও বিষয়ের ষড়যন্ত্র হইতেছে সর্বদা এইরুপ সন্দেহ।হিংসা রাগ কিম্বা ভালবাসায় বঞ্চিত হইবার কুফলে কোনও পীড়ার উৎপত্তি,ব্যবসায়ের সম্বন্ধ লইয়া কিম্বা কোনও বিষয়ে উত্তেজিত হইয়া অনিদ্রা।নার্ভাস ব্যাক্তিগনের অনিদ্রা,সারা রাত্রি ছটফট করে,শ্বাসকষ্ট,ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ অবস্হা,হঠাৎ চমকে উঠে এই লক্ষণ বিশিষ্ট ব্রেণফ্যাগের রোগীর জন্য উপযোগী।
***এনাকার্ডিয়াম-
অতিরিক্ত অধ্যয়নজনিত স্নায়বিক-দৌর্বল;রোগী বিষাদপুর্ণ ও আত্মবিশ্বাস হীন, সহজেই রাগান্নিত হয় ও গালাগালি করে;সৃতিশক্তি হ্রাশ পায়,মস্তকে বেদনা বোধ হয়।যেন বাধিয়া রাখা হইছে অথবা কীলক প্রবিষ্ট হইয়াছে এরুপ মনেহয়।পাকাশয় সর্বদাই শুন্য মনে হয়;আহার করিবার সময় সর্বলক্ষণাধি দুর হয়,কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরে পুনরায় প্রকাশ পায়।মলভান্ডের দুর্বলবশতঃ কষ্ঠবদ্বতা,ভীতি ও সন্দেহ প্রবনতা- হাটিবার সময় মনেকরে যেনকেহ তাহাকে অনুসরন করিতেছে।
***আর্জেন্টাম নাইট্রিকামঃ
কটিবেদনা, উঠিয়া দারাইতে গেলে বৃদ্ধি,চলিয়া বেরাইলে উপশম,প্রায়ই মাথা ঘুড়ে ও চলিবার সময় দেহ টলিতে থাকে ও গৃহের নিকট দিয়া যাইবার সময় তাহার সহিত ধাক্কা লাগিবে বলিয়া ভয় করে;রোগী সর্ব কর্মেই তারাহুরা করে,অস্হির হৃৎস্পন্দন,মিষ্ট দ্রব্যে স্পৃহা,আহারের পর উচ্চ উদগার;মুক্তবায়ুর আকাঙ্খা,জরাজীর্ন আকৃতির ব্রেণফ্যাগের রোগীর জন্র উপযোগী।
***ক্যালকেরিয়া ফসঃ-
সর্বলক্ষণে ক্যালকেরিয়া কার্বের অণুরুপ।প্রাতে নিদ্রাভঙ্গ হইতে অত্যাদিক বিলম্ব হয়।কটিদেশে ভাঙ্গিয়া যাইবার ন্যায় বেদনা,আহারের পর মাথা ব্যথা,নিদ্রালুতা,অবসন্নতা এবং গলা ও বুক জলা,প্রবল হৃৎস্পন্দন।
***জেলসিমিয়ম:-
ইহা স্নায়বিক দুর্বলের মহৌষধ।অবসন্নতা ও নিদ্রালুতা - রোগি কোন বিষয়েই মনোনিবেশ করিতে পারে না,মস্তিস্কের দুর্বলতা ও শারীরিক ক্লান্তি-উত্তেজক দ্রব্য গ্রহনে সাময়িকভাবে উপশম বোধ হয়।চক্ষু পল্লব যেন টানিয়া তুলিতে পারে না;আনন্দ,দঃখ,ভয় বা কোন প্রকার মানসিক উত্তেজনা হইলেই উদড়াময় প্রকাশ পায়।
***হেলোনিয়াস:-
যে মস্তিস্কের দুর্বল রোগীর কটিদেশে অত্যদিক দুর্বলতা বোধ; অতিরিক্ত পরিশ্রম বশতঃ শারীরিক অবসন্নতা,জরায়ুর স্হানচ্যূতি,নড়াচড়া করিলে ও বিষয়ান্তরে মনোনিবেশ করিলে উপশম বোধ।
***লাইকোপোডিয়াম:-
অতিরিক্ত শ্রমজনিত এবং যকৃতের বিকার সহ যুক্ত স্নায়বিক দুর্বলতা ও ব্রেনফ্যাগের রোগীর স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়,কথা বলিবার সময় প্রায় ভুল করে।মানসিক অবসন্নতা,একাকি থাকতে চায়, কোষ্টবদ্বতা,প্রস্রাব লাল ও স্বল্প,অস্হির নিদ্রা অজির্ন ও উদরাধ্নান,বিকাল ৪ ঘটিকা হইতে রাত্রি ৮ ঘটিকা পর্যন্ত উপসর্গাদির বৃদ্ধি পায়।
***এসিড ফ:-
শোণিত বা বীর্যাদীর অত্যাদিক ক্ষয় বা দীর্গস্হায়ী দুঃখ,অতিরিক্ত মানসিক শ্রম,প্রভৃতি বশতঃ মস্তিস্কের স্নায়বিক-দুর্বল্যের বিশিষ্ট ঔষধ।মেরুদন্ড মধ্যে জ্বালা বোধ,পড়াশুনা করিতে আরাম্ব করিলেই মাথায় যন্ত্রণা উপস্হিত হয়।ইন্দ্রীয়ের শিথিলতা সহ প্রায়ই স্বপ্নদোষ সহ ও শুক্রতারল্য প্রকাশ পায়,সর্ব বিষয়েই নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতা প্রকাশ করে ও চুপচাপ থাকে-কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চায় না।
***ক্যালি-ব্রোম:-
স্নায়ু প্রধান,অস্হির ব্যক্তি-স্হির হইয়া এক দন্ডও বসিয়া থাকিতে পারে না,হাত ও হাতের আঙুল ক্রমাগত নাড়িতে থাকে, হাত দুইটি অনবরত নাড়ে।স্মরণ শক্তি হ্রাস,কোন কথা বলিতে বলিতে কি বলিতেছিল তা ভুলে যায়।বিষয় সম্পত্তি,মান মর্যাদা ব্যবসা ইত্যাদি নষ্ট হইবার কিম্বা দুঃখ নিবন্ধন অস্হিরতা ও অনিদ্রা; ভয়,রাগ অথবা অত্যাদিক আনন্দ বশতঃ এবং প্রসবকালীন,দন্তোদগমকালীন ও হুপিং-কাশি ইত্যাদিতে আক্ষেপ।অত্যান্ত অস্হিরতা,কিছুতেই একস্হানে থাকিতে পারে না।
বাতুলতা-এই পীড়ার সহিত রোগীর আদৌ নিদ্রা হয় না,স্বরে ভূত প্রেত দেখে,দাতে দাতে ঘষে,গো গো করে,মনে করে যেন তাহাকে কেহ বিষ খাওয়াইবে।মস্তিস্কের দুর্বলতা-সর্বদাই বিষন্ন ও মনমরা,স্মৃতিশক্তির লোপ অপরিমিত ইনিদ্রয় চালনা ও শুক্রক্ষয়জনিত এই পীড়া হইলে ক্যালি ব্রোম উপকারী।অতিশয় পরিশ্রম করিয়া কিম্বা নানা প্রকার বিষয়ে বহুদিন ধরিয়া ভাবনা চিন্তা করিয়া মস্তিস্কের দুর্বলতা অর্থাৎ-মাথাঘোরা, হাত-পা কাপা ইত্যাদি কেলি ব্রোম উপযোগী।
**ফসফরাস:-
ইহা মস্তিস্কের অবসাদের একটি প্রধান ঔষধ।মস্তিস্কের দুর্বলতা-বশতঃ রোগী আদৌ মস্তিস্ক চালনা করিতে পারে না,হাত,পা,চক্ষু এবং মেরুদন্ড জ্বালাবোধ করে।ঘর্ষণে ও মর্দনে উপশম বোধ,অসারে মলমুত্র ত্যাগ, আনন্দ বিষাদ প্রভূ তি উপস্হিত হইলেই প্রবল হৃৎস্পন্দন;সামান্য পরিশ্রম হইলেই কটিদেশে বেদনা হয়।আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তিত হইয়া ঝড়বৃষ্টি উপস্হিত হইলে অথবা সন্ধাকালে ও অন্ধকার মধ্যে রোগী উদ্বিগ্ন ও আশাঙ্কাযুক্ত হয় ও তাহার উপসর্গাদি বৃদ্ধি পায়।
**সাইলিসিয়াঃ-
মানসিক সর্বপ্রকার কাজেই ভয় পায়।কিন্তু কাজ আরাম্ভ করিলে তাহা উপযুক্তভাবে সম্পাদন করিতে পারে,প্রাতঃ কালে শয্যত্যাগ করিবার পর অবসন্নতা দুর হয়,হাত পা ভাড়ি ও অবশ বোধ হয়;ঝড় বাদলের দিনে ও নৈসর্গিক পরিবর্তন উপসর্গাদির বৃদ্ধি হয়; রোগী বড়ই শীতকাতর ও তাহার সর্বাঙ্গে প্রচুর ঘাম হয় ও কোষ্ঠবদ্বতা বর্তমান থাকে।
**জিঙ্কাম:-
স্নায়বিক দুর্বলসহ মাথাঘোরা;অত্যাদিক কটিবেদনা-উপবেশনকালে বৃদ্ধি;পদদ্বয় সন্চালন করে,মেরুদন্ড মধে জ্বালা,হাত পা দুর্বলবোধ হয় ,মধ্যাহেৃ অত্যাদিক ক্ষুধার উদ্রেক এবং তৎকালে পদদ্বয়ে অত্যাদিক দুর্বলতা বোধ হয়,মদ্যদি পানে উপসর্গাদির বৃদ্ধি।জিঙ্কাম ও পিকরিড এসিডের সংমিশ্রণে প্রস্তুত জিঙ্কাম পিকরিকাম এই রোগের একটি অতি মুল্যবান ঔষধ।
***পিক্রিক এসিডঃ
তিব্র মানসিক পরিশ্রমের পর শিরপীড়া জন্মে, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে অত্যন্ত বেদনাদায়ক যন্ত্রণায় ছটফট করে,স্পাইনাল কর্ডে বেদনা,প্রবল যৌন উত্তেজনা জাগলে সেই রোগীর পিক্রিক এসিড উপযোগী।

***মস্তিস্কের অবসাদ গ্রস্হ রোগীর ভবিষ্যতের উৎকণ্ঠায় উদরাময় দেখা দিলে সদৃশ ঔষধ আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, জেলসিমিয়াম, এসিড ফস ইত্যাদি।
***মস্তিস্কের অবসাদগ্রস্হ রোগী লোক সমাজে উপস্থিত হইতে ভয় পাইলে সদৃশ ঔষধঃ- কার্বোভেজ,জেলসিমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম, প্লাম্বাম,সাইলেসিয়া ইত্যাদি।
***মস্তিস্কের অবসাদগ্রস্হ রোগী কাহারো সহিত সাক্ষাৎ করিবার পূর্বে আশঙ্কা প্রকাশ করিলে সদৃশ ঔষধ আর্জেন্ট নাইট্রিকাম,জেলসিমিয়াম, মেডোরিনাম ইত্যাদি।

উপসংহারঃ
স্নায়বিক দুর্বলতা আর ব্রেণফ্যাগ লক্ষনের রোগীর সদৃশ ঔষধ নির্বাচন করে সঠিক মাত্রা ও শক্তিতে নিয়মিত সেবনের পাশাপাশি মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে।সুন্দর স্বাস্হ্যকর স্হানে ভ্রমণ,প্রফুল্ল চিত্ত্বে হাসিখুশি পরিবেশে বসবাস ও হালকা ব্যায়াম করা চিকিৎসারই একটি অংশ।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্কঃ


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,সাভার,ঢাডা।
মোবাইল নংঃ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
রেজি নং ২৩৮৭৬

জুলাই ০৪, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ইনসুলিনের পরিচিতি ও প্রয়োগ ক্ষেত্র

ইনসুলিন (Insulinum) নির্বচনের লক্ষণ সমষ্টি

ইনসুলিন কি ?
ইনসুলিন প্যাংক্রিয়াসের আইলেট অব ল্যাঙ্গার হ্যান্স নামক সেল হতে যে হরমোন ক্ষরিত হয় সেই ক্ষরিত হরমোন শক্তিকৃত করে প্রস্তুত করা হয়।ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয় বা ডায়াবেটিস ইনসুলিনের অভাব জনিত রোগ।
Insulinum প্রয়োগ লক্ষণ সমষ্টি:
১) ক্রনিক অন্ত্রের বা হজমের গোলযোগ যথা উদারাময় ও লিভার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ থাকে বা হেপাটোমেগালি হওয়ার ইতিহাস আছে; যাদের বেশী উদারাময় হয় তাদের ইনসলিনের বেশী প্রয়োজন হয়।
২) যাদের এলার্জিক একজিমা সাথে লিভারের সমস্যা আছে তাদের জন্য ইনসুলিন প্রয়োজন।
৩) যে রোগীর গলা ও গ্র‌্যান্ড ফোলা থাকে।
৪) রোগীর খালিপেটে মাথা ঘুরে।
৫) মাথার চুল ইঠে যায়।
৬) কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মাথায় যন্ত্রনা করে।
৭) সন্ধ্যাবেলায় চোখে কম দেথে।
৮) গলার বেদনা তরল খাদ্য খেলে বাড়ে।
৯) সকালে স্ক্যাপুলা অস্হির মাঝে যন্ত্রনা বাড়ে।
১০) বসলে কোমরে বেদনা করে।
১১) হাটুর পিছন দিকে খিচে ধরে;বসা থেকে উঠতে বেদনা বাড়ে।
১২) পায়ের পাতায় জ্বালা করে।
১৩) সকাল ১১টায় শীতশীত করে।
১৪) মল ত্যাগের পরে দর্বল লাগে।
এই লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে উপস্হিত রয়েছে তার জন্য ইনসুলিন উপযোগী।এছাড়াও Blood sugar এর পরিমান স্বাভাবিক রাখতে ইনসুলিন প্রয়োজনীয় ঔষধ।প্রস্রাবের সুগার নিয়ন্ত্রনেও ইনসুলিন প্রয়োজন।
ডাঃ এলেন এর মতে ইনসুলিন ৩০ শক্তির ঔষধ দিনে তিন বার প্রয়োগে ডায়াবেটিস নিরাময়ে সহায়ক।
ক্লিনিক‍্যালি ইনসুলিন পরীক্ষায় ভারতের তিন সুনামধন্য হোমিওপ্যাথিক ডাঃ কে পি মজুমদার, ডাঃ মাটানি, ডাঃ সুকেন কর মহাশয়ের  মিলিত কালেকটেড সিমপটোমোটোলজী নীচে দেয়া হল।
* মাথা ঘোরা,  ক্ষুধার সময় বাড়ে।
* শরীরের এখানে ওখানে বাতের ব্যথা,  বিশেষ করে  জয়েন্ট গুলিতে এবং মাংসপেশীতে।
* পায়ের তলায় জ্বালা,
* অনেকদিন ধরে ক্রনিক ডা্ইরিয়ায় ভুগতে থাকে,
* আলসার, ঘা, বেডসোরস, যা মোটেই শুকাতে চায় না।বিশেষ করে কোন ইনফেকশনের  পর থেকে বা  ইনফেকসাস রোগের পর থেকে।
* লিভার বড়, বা  ডিসঅর্ডারড লিভার।( ক্রনিক হেপাটাইটিস বা এনলার্জমেন্ট অব দ্য লিভার)
* এ্যালার্জিক এ্যাজমা,
* প্রচুর চুল উঠতে থাকে।
*  সকাল ১১ টায় শীত করে,
* ঘুমঘুম ভাব,
* পায়খানার পরে  দূর্বলতা বোধ,
* সন্ধ্যার দিকে দৃষ্টিশক্তির ক্ষীনতা,
* মাথার যন্ত্রনা, বিশেষ করে  যখন কন্সটিপেশনে ভোগে,
* কোন ইনফেকসাস ডিজিজের পর থেকে রোগীর একটা না একটা প্রবলেম লেগেই থাকে।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮। 

জুলাই ০২, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আদর্শ আরোগ্যের পথ

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আদর্শ আরোগ্য বিধান। 
প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকে।নিয়মের বাইরে গিয়ে সেই কাজ করলে বিফল হওয়ার সম্ভারনাই বেশী।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগ আরোগ্যে কিছু ধারাবাহিক নিয়ম কানুন মেনে চিকিৎসা করতে হয়।একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ হ্যানিম্যানের প্রদর্শিত পথের বাইরে যেতে পারেন না।মেটেরিয়া মেডিকায় স্হান পাওয়া প্রতিটি ঔষধ চিত্র যেমন স্মরণে রাখা প্রয়োজন তেমনই অর্গানন অব মেডিসিনের প্রতিটি সূত্র মেনে রোগীলিপি তৈরী করা জরুরি।মাত্রা ও শক্তি নির্বাচনেও মনগড়া নিয়ম চলবে না।রোগের জ্ঞান,রোগী চিত্র,ঔষধের চিত্র,মাত্রা ও শক্তি,রোগীর খাদ্য ও পথ্য,বিধি নিষেধ কোন কিছুই অবহেলা করা যাবে না।রোগলিপি প্রনয়নের সময় তরুন রোগ,চিররোগ উভয় রোগের পার্থক্য জানা থাকা ও রোগীর রোগ যন্ত্রনার বিষয় সংগ্রহ করতে কি কি জানতে হবে সবই রোগ আরোগ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়।রোগের আদর্শ আরোগ্যের জন্য তাই রোগলিপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রোগীলিপি প্রনয়নের জন্য অর্গাননের প্রদর্শিত পথ আমাদের জন্য আদর্শ রোগ আরোগ্যের সিড়ি।
তরুন রোগ বা (Acute disease treatment): আঙ্গিক লক্ষণের চিকিৎসা করা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার নীতি বিরুদ্ধ।কিন্তু ৫টি পয়েন্ট দ্বারা আঙ্গিক লক্ষণকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করলে তা আর আঙ্গিক লক্ষণ থাকে না। এই নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো আঙ্গিক লক্ষণকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে।
১) কারণ (Causation.)
২) স্হান (Location.)
৩) অনুভূতি (Sensation.)
৪)হ্রাস বৃদ্ধি (Modalities.)
৫) আনুষাঙ্গিক (Concomitance.)
উপরোক্ত পাঁচটি পয়েন্টের ভিত্তিতে তরুণ রোগীর সদৃশ ঔষধটি নির্বাচন করতে সক্ষম হলে তরুণ রোগ আদর্শ আরোগ্য লাভ করবে।
চিররোগ (chronic disease) চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে দশটি পয়েন্ট অবশ্যই পালনীয়:-
১)কত দিন যাবত ভুগছেন (Time & Suffering.)
২) রোগের কারণ ও অতীতে কোনো রোগ চাপা পড়ে ছিল কিনা? (Causation & Suppression.)
৩) আক্রান্ত স্থান (Location.)
৪) অনুভূতি (Sensation.)
৫) চারিত্রিক লক্ষণ (Characters.)
৬) হ্রাস বৃদ্ধি (Modalities.)
৭) আনুষাঙ্গিক (Concomitance.)
৮) সর্বশেষ গৃহীত চিকিৎসার বিবরণ (Last treatment.)
৯)সার্বদৈহিক ও খাদ্যের ইচ্ছা অনিচ্ছা/বৃদ্ধি (Generalities & Vegetables Mind.)
১০) মানসিক লক্ষণ (Mind)

চিররোগের আদর্শ আরোগ্য লাভের জন্য উপরোক্ত বিশিষ্ট পয়েন্ট অবশ্যই অনুরণ করতে হবে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় মনগড়া কোন কাজ চলে না। অর্গাননের নির্দেশিকা অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জন্য উল্লেখ্য পয়েন্টের আলোকে সদৃশ ঔষধ নির্বাচন রোগ আরোগ্যের আদর্শ পথ।এর সামান্য ব্যত্যয় ঘটলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আদর্শ আরোগ্য লাভ অসম্ভব।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
বাইপাইল(আশুলিয়া থানার পাশে।)
সাভার,ঢাকা।