হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala
এলার্জির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
এলার্জি বলতে কী বুঝি?
এলার্জি হলো কোনো নির্দিষ্ট বহিরাগত পদার্থ বা অ্যালার্জেনের প্রতি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ধুলাবালি, পরাগরেণু, পশুর লোম বা খুশকি, নির্দিষ্ট খাবার, কিছু ওষুধ, পোকামাকড়ের দংশন, ল্যাটেক্স, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন উপাদান অ্যালার্জির উদ্দীপক হতে পারে।
অ্যালার্জির প্রকাশ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হতে পারে। নাক ও চোখে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ত্বকে চাকা ও চুলকানি বা আর্টিকারিয়া, শ্বাসনালিতে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যনালির উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এলার্জির সাধারণ লক্ষণ
বারবার হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়া
নাক বন্ধ হওয়া ও নাকে চুলকানি
চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো বা লাল হওয়া
গলা খুশখুশ করা বা চুলকানো
ত্বকে চাকা, দানা, লালচে র্যাশ ও চুলকানি
ঠোঁট, চোখের পাতা বা শরীরের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া
কাশি বা শ্বাসকষ্ট
নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণের পর পেটব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া
কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ, খাবার, প্রসাধনী বা পরিবেশের সংস্পর্শে বারবার একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হওয়া
এলার্জির প্রধান ধরন
ধুলাবালির এলার্জি
বাড়ির ধুলা, ধুলিকণা ও ডাস্ট মাইটের কারণে হাঁচি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ইত্যাদি হতে পারে। ডাস্ট মাইট-সংক্রান্ত অ্যালার্জি ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ঘরের অ্যালার্জেন কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য এলার্জি
ডিম, দুধ, বাদাম, মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক খাবার, গমসহ বিভিন্ন খাবারের নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি হতে পারে। একই খাবার খাওয়ার পর বারবার একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রসাধনীজনিত এলার্জি
সাবান, শ্যাম্পু, প্রসাধনী, সুগন্ধি, ময়েশ্চারাইজার বা অন্যান্য উপাদানের কারণে ত্বকে চুলকানি, লালভাব, র্যাশ বা প্রদাহ হতে পারে।
সূর্যালোকজনিত প্রতিক্রিয়া
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সূর্যের আলোতে থাকার পর ত্বকে চুলকানি, লালভাব বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। এর কারণ সবসময় একই ধরনের অ্যালার্জি নয়, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী রোগ নির্ণয় জরুরি।
ল্যাটেক্স এলার্জি
প্রাকৃতিক রাবার বা ল্যাটেক্সের সংস্পর্শে কিছু মানুষের ত্বকে প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
ওষুধজনিত এলার্জি
কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণের পর র্যাশ, চাকা, চুলকানি, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ওষুধজনিত অ্যালার্জির কথা বিবেচনা করতে হয়।
এলার্জি ও বদহজমের পার্থক্য
কোনো খাবার খাওয়ার পর পেটের সমস্যা হলেই সেটিকে খাদ্য অ্যালার্জি বলা যায় না। খাদ্য অসহিষ্ণুতা, বদহজম, সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে।
খাদ্য অ্যালার্জি সন্দেহ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণের সঙ্গে উপসর্গের ধারাবাহিক সম্পর্ক। একই খাবার গ্রহণের পর বারবার চাকা, চুলকানি, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বা অন্যান্য অ্যালার্জিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শুধু রোগীর ধারণার ওপর ভিত্তি করে কোনো খাবারকে স্থায়ীভাবে অ্যালার্জেন হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। খাদ্য অ্যালার্জি নির্ণয়ে বিস্তারিত রোগ-ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার সমন্বয় করা হয়।
এলার্জি নির্ণয়ের পরীক্ষা
রোগীর লক্ষণ ও রোগ-ইতিহাসের ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
ত্বকের পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের প্রতি প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা যায়।
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডি মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
তবে কোনো একটি পরীক্ষার ফলাফলকে এককভাবে খাদ্য অ্যালার্জির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; রোগ-ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
এলার্জির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে অ্যালার্জিক রোগীর ক্ষেত্রে শুধু রোগের নামের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ, অ্যালার্জির উদ্দীপক, প্রকাশের ধরন, সময়, বৃদ্ধি-উপশম, মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং সহগামী লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
নিচের ঔষধগুলো হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও repertory-তে অ্যালার্জিক প্রকাশ, আর্টিকারিয়া, ক্যাটারাল অবস্থা, ত্বকের চুলকানি এবং বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো থেকে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী একক ঔষধ নির্বাচন করতে হয়।
১. Urtica Urens
চাকা ও তীব্র চুলকানি প্রধান লক্ষণ।
ত্বকে জ্বালা ও দংশনের মতো অনুভূতি।
স্পর্শ বা ঘষায় উপসর্গের পরিবর্তন।
চিংড়ি, কাঁকড়া বা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের পর আর্টিকারিয়া জাতীয় প্রকাশের ক্ষেত্রে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিললে বিবেচ্য।
আর্টিকারিয়া বারবার ফিরে আসার প্রবণতাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
২. Apis Mellifica
চাকা, লালভাব ও দ্রুত ফুলে যাওয়ার প্রবণতা।
জ্বালা ও দংশনের মতো ব্যথা।
স্পর্শে কষ্টকর ও সংবেদনশীল।
গরমে বৃদ্ধি, ঠান্ডায় উপশমের বৈশিষ্ট্য থাকলে বিশেষভাবে বিবেচ্য।
ঠোঁট, চোখের পাতা বা অন্যান্য অংশে অ্যালার্জিক ফোলা থাকলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
৩. Arsenicum Album
অস্থিরতা ও উদ্বেগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ।
ঠান্ডায় বৃদ্ধি এবং উষ্ণতায় উপশম।
অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করার প্রবণতা।
খাদ্যজনিত সমস্যা ও হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকতে পারে।
দুর্বলতার সঙ্গে অ্যালার্জিক উপসর্গ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. Pulsatilla
পরিবর্তনশীল ও অস্থির প্রকৃতির উপসর্গ।
চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশের ক্ষেত্রে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচ্য।
তৃষ্ণা কম থাকা এবং খোলা বাতাসে উপশমের বৈশিষ্ট্য থাকলে Pulsatilla-এর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
আর্টিকারিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ।
৫. Dulcamara
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সংস্পর্শের পর উপসর্গ শুরু বা বৃদ্ধি।
দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা হওয়ার আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর অ্যালার্জিক প্রকাশ।
ঠান্ডা লাগার পর নাক, ত্বক বা অন্যান্য অ্যালার্জিক সমস্যা দেখা দিলে বিবেচ্য।
আর্টিকারিয়ার ক্ষেত্রে exposure to cold-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ remedy।
৬. Rhus Toxicodendron
ত্বকে চুলকানি, লালভাব ও র্যাশ।
স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডার পর উপসর্গ দেখা দেওয়া।
চুলকানি ও অস্থিরতার সঙ্গে ত্বকের প্রকাশ।
উপসর্গের প্রকৃতি ও modality-এর সঙ্গে মিললে আর্টিকারিয়ায় বিবেচ্য।
৭. Allium Cepa
নাক দিয়ে প্রচুর পানি পড়া।
হাঁচি ও নাকের জ্বালা।
চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে।
বিশেষ করে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে নাকের লক্ষণের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
৮. Arsenicum Iodatum
নাকের অ্যালার্জি, সর্দি ও ক্যাটারাল অবস্থার সঙ্গে জ্বালাভাব।
অস্থিরতা ও দুর্বলতার সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকলে লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।
৯. Natrum Muriaticum
বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দিষ্ট খাদ্য বা পরিবেশগত উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন।
লবণের প্রতি বিশেষ আকর্ষণসহ সামগ্রিক Natrum muriaticum picture থাকলে গুরুত্ব পায়।
১০. Nux Vomica
খাদ্য, পানীয় বা বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা।
কফি বা উত্তেজক পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে বিবেচ্য।
হজমের গোলযোগ, অম্লতা ও অ্যালার্জিক প্রকাশ একসঙ্গে থাকলে লক্ষণসমষ্টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
১১. Sulphur
চুলকানি ও ত্বকের অ্যালার্জিক প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
উষ্ণতায় চুলকানি বা জ্বালা বৃদ্ধি পেতে পারে।
পুরোনো বা পুনঃপুন অ্যালার্জিক ত্বকের সমস্যায় সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
১২. Hepar Sulphuris
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।
ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা।
ত্বকের প্রদাহ, জ্বালা ও স্পর্শকাতরতার সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকলে বিবেচ্য।
১৩. Carbo Vegetabilis
খাদ্যজনিত হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ।
বাসি বা দূষিত খাবারের পর সমস্যা দেখা দিলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
পেট ফাঁপা ও দুর্বলতার সঙ্গে উপসর্গ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ।
১৪. Bryonia Alba
শুষ্কতা, তৃষ্ণা ও নড়াচড়ায় উপসর্গ বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য।
হজমের গোলযোগের সঙ্গে ত্বক বা অন্যান্য অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকলে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
১৫. Lycopodium Clavatum
খাদ্যজনিত হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ।
পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা।
গরম খাবার বা পানীয়ের প্রতি বিশেষ পছন্দের সঙ্গে সামগ্রিক Lycopodium picture থাকলে বিবেচ্য।
১৬. Sepia
ত্বকের অ্যালার্জিক প্রকাশের সঙ্গে হরমোনাল বা নারীর বিশেষ শারীরিক লক্ষণ থাকলে রোগীর সামগ্রিক picture অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
চুলকানি, র্যাশ ও নির্দিষ্ট modality থাকলে নির্বাচন করা যায়।
১৭. Petroleum
ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, ফেটে যাওয়া ও চুলকানির প্রবণতা।
শীতকালে ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি।
ত্বকের অ্যালার্জিক সমস্যায় Petroleum-এর বিশেষ ত্বক-চিত্র থাকলে বিবেচ্য।
১৮. Psorinum
অতিরিক্ত শীতকাতরতা।
চুলকানি ও দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা।
উষ্ণতায় আরাম পাওয়ার প্রবণতা।
বারবার ফিরে আসা দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জিক ত্বকের সমস্যায় সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
১৯. Histaminum
অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি nosode হিসেবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ধুলা, পরাগরেণু বা অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে বারবার অ্যালার্জিক প্রকাশ হলে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ বিবেচনা করে ব্যবহার করা হয়।
২০. Ailanthus Glandulosa
নাকের অ্যালার্জিক সমস্যা ও তীব্র ক্যাটারাল প্রকাশের ক্ষেত্রে Materia Medica-তে বিবেচিত।
ফুল বা পরিবেশগত উদ্দীপকের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে সামগ্রিক লক্ষণ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
২১. Justicia Adhatoda
হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার সঙ্গে অ্যালার্জিক ক্যাটারাল প্রকাশ।
বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়, যেমন সন্ধ্যার দিকে উপসর্গ বাড়ার বৈশিষ্ট্য থাকলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচ্য।
২২. Kali Iodatum
নাকের অ্যালার্জিক ক্যাটারাল অবস্থা।
নাকের স্রাবের সঙ্গে জ্বালা ও নাক বন্ধ থাকার প্রবণতা।
রোগীর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
২৩. Sanguinaria
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও মাথাব্যথার নির্দিষ্ট pattern থাকলে বিবেচ্য।
নাকের লক্ষণের সঙ্গে মুখমণ্ডল বা মাথার উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে Materia Medica অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
২৪. Belladonna
হঠাৎ তীব্রভাবে শুরু হওয়া লালভাব, উত্তাপ ও প্রদাহজনিত প্রকাশ।
ত্বক বা মিউকাস মেমব্রেনে আকস্মিক অ্যালার্জিক ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
২৫. Dolichos Pruriens
তীব্র চুলকানি প্রধান লক্ষণ।
বিশেষ করে দৃশ্যমান র্যাশ কম থাকলেও অসহ্য চুলকানি থাকলে Materia Medica অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের বিশেষ শারীরিক অবস্থার সঙ্গে চুলকানি সম্পর্কিত হলে লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২৬. Natrum Sulphuricum
আর্দ্রতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে বিবেচ্য।
অ্যালার্জিক প্রকাশের সঙ্গে পিত্তজনিত বা হজমের উপসর্গ থাকলে সামগ্রিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়।
২৭. Antimonium Crudum
হজমের গোলযোগের সঙ্গে ত্বকের সমস্যা বা আর্টিকারিয়া থাকলে বিবেচ্য।
খাদ্যজনিত অস্বস্তি ও জিহ্বায় আবরণসহ নির্দিষ্ট Materia Medica picture থাকলে নির্বাচন করা যায়।
২৮. Bovista
আর্টিকারিয়া, চুলকানি ও নির্দিষ্ট হজমের বা হরমোনাল উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে বিবেচ্য।
মানসিক উত্তেজনা বা বিশেষ শারীরিক অবস্থার পর উপসর্গ দেখা দিলে repertory ও Materia Medica মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
২৯. Antipyrinum
হঠাৎ শুরু হওয়া আর্টিকারিয়া।
চাকা দ্রুত ওঠা ও দ্রুত মিলিয়ে যাওয়ার প্রবণতা।
আকস্মিক ও তীব্র allergic skin reaction-এর ক্ষেত্রে repertory indication-এর সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
৩০. Camphora
হঠাৎ তীব্রভাবে শুরু হওয়া অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার বিশেষ repertory indication আছে।
ঠান্ডা অনুভূতি, আকস্মিক দুর্বলতা বা গুরুতর systemic লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বোরিক রেপার্টরি অনুযায়ী অ্যালার্জি ও আর্টিকারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
Borick repertory-তে URTICARIA-এর অধীনে Apis, Arsenicum, Dulcamara, Pulsatilla, Rhus toxicodendron, Sulphur, Urtica urensসহ বহু ঔষধ উল্লেখ রয়েছে।
কারণ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ rubric-এর মধ্যে রয়েছে
Gastric derangement থেকে Urticaria
Antimonium crudum, Arsenicum album, Carbo vegetabilis, Dulcamara, Nux vomica, Pulsatilla প্রভৃতি।
Cold exposure-এর পর
Arsenicum album, Dulcamara, Rhus toxicodendron প্রভৃতি।
Sweat-এর পর
Apis mellifica।
Diarrhoea-এর সঙ্গে
Apis, Bovista, Pulsatilla।
Edema-এর সঙ্গে
Apis, Vespa।
Menstrual period-এর সময়
Cimicifuga, Dulcamara, Kali carbonicum, Magnesia carbonica, Pulsatilla, Ustilago প্রভৃতি।
Night aggravation
Antimonium crudum, Arsenicum album।
Warmth থেকে aggravation
Apis, Dulcamara, Kali carbonicum, Lycopodium, Sulphur।
Warmth থেকে amelioration
Arsenicum album, Chloralum, Sepia।
Cold water থেকে amelioration
Apis ও Dulcamara।
এই rubric-গুলো রোগীর পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে একক ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। শুধু একটি rubric দেখে ওষুধ নির্বাচন না করে characteristic symptoms, modalities, concomitants এবং রোগীর constitutional picture একত্রে বিচার করা প্রয়োজন।
এলার্জির রোগীর রোগ-ইতিহাস গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
কোন জিনিসের সংস্পর্শে এলে সমস্যা হয়
কোন খাবার গ্রহণের পর সমস্যা হয়
উপসর্গ শুরু হওয়ার সময়
একই উদ্দীপকের সংস্পর্শে প্রতিবার একই প্রতিক্রিয়া হয় কি না
চুলকানি, জ্বালা, চাকা বা ফোলা আছে কি না
নাক, চোখ, ত্বক, শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রের কোন কোন অঙ্গ আক্রান্ত
ঠান্ডা বা গরমে বৃদ্ধি-উপশম
দিনের কোন সময়ে সমস্যা বেশি
ঘুম, ঋতু, আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক
আগে কোনো ওষুধ গ্রহণের পর অ্যালার্জি হয়েছিল কি না
পরিবারে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা একজিমার ইতিহাস আছে কি না
পূর্ববর্তী চিকিৎসা ও পরীক্ষার রিপোর্ট
এলার্জি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইটের সংস্পর্শ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
বিছানার চাদর, বালিশের কাভার ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।
ঘর পরিষ্কারের সময় সম্ভব হলে ভেজা কাপড় ব্যবহার করে ধুলা পরিষ্কার করা ভালো।
ধুলার সমস্যা থাকলে কার্পেট ও অতিরিক্ত ধুলা জমে এমন সামগ্রী কম রাখা যেতে পারে।
পোষা প্রাণীর প্রতি অ্যালার্জি থাকলে তাদের শোবার ঘর থেকে দূরে রাখা উপকারী হতে পারে।
মোল্ড বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
যে খাবার খেলে বারবার অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয় বলে সন্দেহ করা হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেটি পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য খাওয়া উচিত নয়।
খাদ্য অ্যালার্জির ক্ষেত্রে খাবারের উপাদান ও লেবেল সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করা গেলে সেই উদ্দীপকের সংস্পর্শ যথাসম্ভব কমানো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন
অ্যালার্জির কিছু প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গুরুতর হয়ে যেতে পারে। খাবার বা অন্য কোনো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শের পর যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, গলা বা জিহ্বা ফুলে যায়, সারা শরীরে চাকা ওঠার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হয়, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, দুর্বলতা বা চেতনা কমে আসে, তাহলে এটি অ্যানাফাইল্যাক্সিসের মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং তা জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
এ ধরনের অবস্থায় শুধু হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা
এলার্জি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। একই রকম দেখতে উপসর্গের পেছনে অ্যালার্জি ছাড়াও অন্যান্য রোগ বা খাদ্য অসহিষ্ণুতা থাকতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।
এই লেখাটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি। এখানে উল্লেখিত ঔষধগুলোর নাম কোনো ব্যক্তির জন্য স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা-নির্দেশ নয়। রোগীর সম্পূর্ণ কেস গ্রহণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, রোগের তীব্রতা ও অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয় বিবেচনা করে একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, মুখ-জিহ্বা-গলা ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
উপসংহার
এলার্জির সফল ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য উদ্দীপক শনাক্ত করা, অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো, রোগের ধরন সঠিকভাবে নির্ণয় করা এবং রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের নামের পরিবর্তে রোগীর স্বতন্ত্র লক্ষণ, কারণ, Modalities, Concomitants এবং সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। তাই এলার্জির ক্ষেত্রে সঠিক Case Taking ও Individualization অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ, মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
এলার্জি বলতে কী বুঝি?
এলার্জি হলো কোনো নির্দিষ্ট বহিরাগত পদার্থ বা অ্যালার্জেনের প্রতি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ধুলাবালি, পরাগরেণু, পশুর লোম বা খুশকি, নির্দিষ্ট খাবার, কিছু ওষুধ, পোকামাকড়ের দংশন, ল্যাটেক্স, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন উপাদান অ্যালার্জির উদ্দীপক হতে পারে।
অ্যালার্জির প্রকাশ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হতে পারে। নাক ও চোখে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ত্বকে চাকা ও চুলকানি বা আর্টিকারিয়া, শ্বাসনালিতে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যনালির উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এলার্জির সাধারণ লক্ষণ
বারবার হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়া
নাক বন্ধ হওয়া ও নাকে চুলকানি
চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো বা লাল হওয়া
গলা খুশখুশ করা বা চুলকানো
ত্বকে চাকা, দানা, লালচে র্যাশ ও চুলকানি
ঠোঁট, চোখের পাতা বা শরীরের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া
কাশি বা শ্বাসকষ্ট
নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণের পর পেটব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া
কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ, খাবার, প্রসাধনী বা পরিবেশের সংস্পর্শে বারবার একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হওয়া
এলার্জির প্রধান ধরন
ধুলাবালির এলার্জি
বাড়ির ধুলা, ধুলিকণা ও ডাস্ট মাইটের কারণে হাঁচি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ইত্যাদি হতে পারে। ডাস্ট মাইট-সংক্রান্ত অ্যালার্জি ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ঘরের অ্যালার্জেন কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য এলার্জি
ডিম, দুধ, বাদাম, মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক খাবার, গমসহ বিভিন্ন খাবারের নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি হতে পারে। একই খাবার খাওয়ার পর বারবার একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রসাধনীজনিত এলার্জি
সাবান, শ্যাম্পু, প্রসাধনী, সুগন্ধি, ময়েশ্চারাইজার বা অন্যান্য উপাদানের কারণে ত্বকে চুলকানি, লালভাব, র্যাশ বা প্রদাহ হতে পারে।
সূর্যালোকজনিত প্রতিক্রিয়া
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সূর্যের আলোতে থাকার পর ত্বকে চুলকানি, লালভাব বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। এর কারণ সবসময় একই ধরনের অ্যালার্জি নয়, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী রোগ নির্ণয় জরুরি।
ল্যাটেক্স এলার্জি
প্রাকৃতিক রাবার বা ল্যাটেক্সের সংস্পর্শে কিছু মানুষের ত্বকে প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
ওষুধজনিত এলার্জি
কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণের পর র্যাশ, চাকা, চুলকানি, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ওষুধজনিত অ্যালার্জির কথা বিবেচনা করতে হয়।
এলার্জি ও বদহজমের পার্থক্য
কোনো খাবার খাওয়ার পর পেটের সমস্যা হলেই সেটিকে খাদ্য অ্যালার্জি বলা যায় না। খাদ্য অসহিষ্ণুতা, বদহজম, সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে।
খাদ্য অ্যালার্জি সন্দেহ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণের সঙ্গে উপসর্গের ধারাবাহিক সম্পর্ক। একই খাবার গ্রহণের পর বারবার চাকা, চুলকানি, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বা অন্যান্য অ্যালার্জিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শুধু রোগীর ধারণার ওপর ভিত্তি করে কোনো খাবারকে স্থায়ীভাবে অ্যালার্জেন হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। খাদ্য অ্যালার্জি নির্ণয়ে বিস্তারিত রোগ-ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার সমন্বয় করা হয়।
এলার্জি নির্ণয়ের পরীক্ষা
রোগীর লক্ষণ ও রোগ-ইতিহাসের ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
ত্বকের পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের প্রতি প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা যায়।
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডি মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
তবে কোনো একটি পরীক্ষার ফলাফলকে এককভাবে খাদ্য অ্যালার্জির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; রোগ-ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফল ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
এলার্জির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে অ্যালার্জিক রোগীর ক্ষেত্রে শুধু রোগের নামের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ, অ্যালার্জির উদ্দীপক, প্রকাশের ধরন, সময়, বৃদ্ধি-উপশম, মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং সহগামী লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
নিচের ঔষধগুলো হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও repertory-তে অ্যালার্জিক প্রকাশ, আর্টিকারিয়া, ক্যাটারাল অবস্থা, ত্বকের চুলকানি এবং বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো থেকে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী একক ঔষধ নির্বাচন করতে হয়।
১. Urtica Urens
চাকা ও তীব্র চুলকানি প্রধান লক্ষণ।
ত্বকে জ্বালা ও দংশনের মতো অনুভূতি।
স্পর্শ বা ঘষায় উপসর্গের পরিবর্তন।
চিংড়ি, কাঁকড়া বা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের পর আর্টিকারিয়া জাতীয় প্রকাশের ক্ষেত্রে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিললে বিবেচ্য।
আর্টিকারিয়া বারবার ফিরে আসার প্রবণতাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
২. Apis Mellifica
চাকা, লালভাব ও দ্রুত ফুলে যাওয়ার প্রবণতা।
জ্বালা ও দংশনের মতো ব্যথা।
স্পর্শে কষ্টকর ও সংবেদনশীল।
গরমে বৃদ্ধি, ঠান্ডায় উপশমের বৈশিষ্ট্য থাকলে বিশেষভাবে বিবেচ্য।
ঠোঁট, চোখের পাতা বা অন্যান্য অংশে অ্যালার্জিক ফোলা থাকলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
৩. Arsenicum Album
অস্থিরতা ও উদ্বেগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ।
ঠান্ডায় বৃদ্ধি এবং উষ্ণতায় উপশম।
অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করার প্রবণতা।
খাদ্যজনিত সমস্যা ও হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকতে পারে।
দুর্বলতার সঙ্গে অ্যালার্জিক উপসর্গ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. Pulsatilla
পরিবর্তনশীল ও অস্থির প্রকৃতির উপসর্গ।
চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশের ক্ষেত্রে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচ্য।
তৃষ্ণা কম থাকা এবং খোলা বাতাসে উপশমের বৈশিষ্ট্য থাকলে Pulsatilla-এর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
আর্টিকারিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ।
৫. Dulcamara
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সংস্পর্শের পর উপসর্গ শুরু বা বৃদ্ধি।
দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা হওয়ার আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর অ্যালার্জিক প্রকাশ।
ঠান্ডা লাগার পর নাক, ত্বক বা অন্যান্য অ্যালার্জিক সমস্যা দেখা দিলে বিবেচ্য।
আর্টিকারিয়ার ক্ষেত্রে exposure to cold-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ remedy।
৬. Rhus Toxicodendron
ত্বকে চুলকানি, লালভাব ও র্যাশ।
স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডার পর উপসর্গ দেখা দেওয়া।
চুলকানি ও অস্থিরতার সঙ্গে ত্বকের প্রকাশ।
উপসর্গের প্রকৃতি ও modality-এর সঙ্গে মিললে আর্টিকারিয়ায় বিবেচ্য।
৭. Allium Cepa
নাক দিয়ে প্রচুর পানি পড়া।
হাঁচি ও নাকের জ্বালা।
চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে।
বিশেষ করে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে নাকের লক্ষণের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
৮. Arsenicum Iodatum
নাকের অ্যালার্জি, সর্দি ও ক্যাটারাল অবস্থার সঙ্গে জ্বালাভাব।
অস্থিরতা ও দুর্বলতার সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকলে লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।
৯. Natrum Muriaticum
বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দিষ্ট খাদ্য বা পরিবেশগত উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন।
লবণের প্রতি বিশেষ আকর্ষণসহ সামগ্রিক Natrum muriaticum picture থাকলে গুরুত্ব পায়।
১০. Nux Vomica
খাদ্য, পানীয় বা বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা।
কফি বা উত্তেজক পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে বিবেচ্য।
হজমের গোলযোগ, অম্লতা ও অ্যালার্জিক প্রকাশ একসঙ্গে থাকলে লক্ষণসমষ্টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
১১. Sulphur
চুলকানি ও ত্বকের অ্যালার্জিক প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
উষ্ণতায় চুলকানি বা জ্বালা বৃদ্ধি পেতে পারে।
পুরোনো বা পুনঃপুন অ্যালার্জিক ত্বকের সমস্যায় সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
১২. Hepar Sulphuris
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।
ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা।
ত্বকের প্রদাহ, জ্বালা ও স্পর্শকাতরতার সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকলে বিবেচ্য।
১৩. Carbo Vegetabilis
খাদ্যজনিত হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ।
বাসি বা দূষিত খাবারের পর সমস্যা দেখা দিলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
পেট ফাঁপা ও দুর্বলতার সঙ্গে উপসর্গ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ।
১৪. Bryonia Alba
শুষ্কতা, তৃষ্ণা ও নড়াচড়ায় উপসর্গ বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য।
হজমের গোলযোগের সঙ্গে ত্বক বা অন্যান্য অ্যালার্জিক প্রকাশ থাকলে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
১৫. Lycopodium Clavatum
খাদ্যজনিত হজমের গোলযোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক প্রকাশ।
পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা।
গরম খাবার বা পানীয়ের প্রতি বিশেষ পছন্দের সঙ্গে সামগ্রিক Lycopodium picture থাকলে বিবেচ্য।
১৬. Sepia
ত্বকের অ্যালার্জিক প্রকাশের সঙ্গে হরমোনাল বা নারীর বিশেষ শারীরিক লক্ষণ থাকলে রোগীর সামগ্রিক picture অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
চুলকানি, র্যাশ ও নির্দিষ্ট modality থাকলে নির্বাচন করা যায়।
১৭. Petroleum
ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, ফেটে যাওয়া ও চুলকানির প্রবণতা।
শীতকালে ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি।
ত্বকের অ্যালার্জিক সমস্যায় Petroleum-এর বিশেষ ত্বক-চিত্র থাকলে বিবেচ্য।
১৮. Psorinum
অতিরিক্ত শীতকাতরতা।
চুলকানি ও দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা।
উষ্ণতায় আরাম পাওয়ার প্রবণতা।
বারবার ফিরে আসা দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জিক ত্বকের সমস্যায় সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
১৯. Histaminum
অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি nosode হিসেবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ধুলা, পরাগরেণু বা অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে বারবার অ্যালার্জিক প্রকাশ হলে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ বিবেচনা করে ব্যবহার করা হয়।
২০. Ailanthus Glandulosa
নাকের অ্যালার্জিক সমস্যা ও তীব্র ক্যাটারাল প্রকাশের ক্ষেত্রে Materia Medica-তে বিবেচিত।
ফুল বা পরিবেশগত উদ্দীপকের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে সামগ্রিক লক্ষণ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
২১. Justicia Adhatoda
হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার সঙ্গে অ্যালার্জিক ক্যাটারাল প্রকাশ।
বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়, যেমন সন্ধ্যার দিকে উপসর্গ বাড়ার বৈশিষ্ট্য থাকলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচ্য।
২২. Kali Iodatum
নাকের অ্যালার্জিক ক্যাটারাল অবস্থা।
নাকের স্রাবের সঙ্গে জ্বালা ও নাক বন্ধ থাকার প্রবণতা।
রোগীর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
২৩. Sanguinaria
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও মাথাব্যথার নির্দিষ্ট pattern থাকলে বিবেচ্য।
নাকের লক্ষণের সঙ্গে মুখমণ্ডল বা মাথার উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে Materia Medica অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
২৪. Belladonna
হঠাৎ তীব্রভাবে শুরু হওয়া লালভাব, উত্তাপ ও প্রদাহজনিত প্রকাশ।
ত্বক বা মিউকাস মেমব্রেনে আকস্মিক অ্যালার্জিক ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
২৫. Dolichos Pruriens
তীব্র চুলকানি প্রধান লক্ষণ।
বিশেষ করে দৃশ্যমান র্যাশ কম থাকলেও অসহ্য চুলকানি থাকলে Materia Medica অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের বিশেষ শারীরিক অবস্থার সঙ্গে চুলকানি সম্পর্কিত হলে লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২৬. Natrum Sulphuricum
আর্দ্রতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে বিবেচ্য।
অ্যালার্জিক প্রকাশের সঙ্গে পিত্তজনিত বা হজমের উপসর্গ থাকলে সামগ্রিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়।
২৭. Antimonium Crudum
হজমের গোলযোগের সঙ্গে ত্বকের সমস্যা বা আর্টিকারিয়া থাকলে বিবেচ্য।
খাদ্যজনিত অস্বস্তি ও জিহ্বায় আবরণসহ নির্দিষ্ট Materia Medica picture থাকলে নির্বাচন করা যায়।
২৮. Bovista
আর্টিকারিয়া, চুলকানি ও নির্দিষ্ট হজমের বা হরমোনাল উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে বিবেচ্য।
মানসিক উত্তেজনা বা বিশেষ শারীরিক অবস্থার পর উপসর্গ দেখা দিলে repertory ও Materia Medica মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
২৯. Antipyrinum
হঠাৎ শুরু হওয়া আর্টিকারিয়া।
চাকা দ্রুত ওঠা ও দ্রুত মিলিয়ে যাওয়ার প্রবণতা।
আকস্মিক ও তীব্র allergic skin reaction-এর ক্ষেত্রে repertory indication-এর সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
৩০. Camphora
হঠাৎ তীব্রভাবে শুরু হওয়া অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার বিশেষ repertory indication আছে।
ঠান্ডা অনুভূতি, আকস্মিক দুর্বলতা বা গুরুতর systemic লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বোরিক রেপার্টরি অনুযায়ী অ্যালার্জি ও আর্টিকারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
Borick repertory-তে URTICARIA-এর অধীনে Apis, Arsenicum, Dulcamara, Pulsatilla, Rhus toxicodendron, Sulphur, Urtica urensসহ বহু ঔষধ উল্লেখ রয়েছে।
কারণ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ rubric-এর মধ্যে রয়েছে
Gastric derangement থেকে Urticaria
Antimonium crudum, Arsenicum album, Carbo vegetabilis, Dulcamara, Nux vomica, Pulsatilla প্রভৃতি।
Cold exposure-এর পর
Arsenicum album, Dulcamara, Rhus toxicodendron প্রভৃতি।
Sweat-এর পর
Apis mellifica।
Diarrhoea-এর সঙ্গে
Apis, Bovista, Pulsatilla।
Edema-এর সঙ্গে
Apis, Vespa।
Menstrual period-এর সময়
Cimicifuga, Dulcamara, Kali carbonicum, Magnesia carbonica, Pulsatilla, Ustilago প্রভৃতি।
Night aggravation
Antimonium crudum, Arsenicum album।
Warmth থেকে aggravation
Apis, Dulcamara, Kali carbonicum, Lycopodium, Sulphur।
Warmth থেকে amelioration
Arsenicum album, Chloralum, Sepia।
Cold water থেকে amelioration
Apis ও Dulcamara।
এই rubric-গুলো রোগীর পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে একক ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। শুধু একটি rubric দেখে ওষুধ নির্বাচন না করে characteristic symptoms, modalities, concomitants এবং রোগীর constitutional picture একত্রে বিচার করা প্রয়োজন।
এলার্জির রোগীর রোগ-ইতিহাস গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
কোন জিনিসের সংস্পর্শে এলে সমস্যা হয়
কোন খাবার গ্রহণের পর সমস্যা হয়
উপসর্গ শুরু হওয়ার সময়
একই উদ্দীপকের সংস্পর্শে প্রতিবার একই প্রতিক্রিয়া হয় কি না
চুলকানি, জ্বালা, চাকা বা ফোলা আছে কি না
নাক, চোখ, ত্বক, শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রের কোন কোন অঙ্গ আক্রান্ত
ঠান্ডা বা গরমে বৃদ্ধি-উপশম
দিনের কোন সময়ে সমস্যা বেশি
ঘুম, ঋতু, আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক
আগে কোনো ওষুধ গ্রহণের পর অ্যালার্জি হয়েছিল কি না
পরিবারে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা একজিমার ইতিহাস আছে কি না
পূর্ববর্তী চিকিৎসা ও পরীক্ষার রিপোর্ট
এলার্জি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইটের সংস্পর্শ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
বিছানার চাদর, বালিশের কাভার ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।
ঘর পরিষ্কারের সময় সম্ভব হলে ভেজা কাপড় ব্যবহার করে ধুলা পরিষ্কার করা ভালো।
ধুলার সমস্যা থাকলে কার্পেট ও অতিরিক্ত ধুলা জমে এমন সামগ্রী কম রাখা যেতে পারে।
পোষা প্রাণীর প্রতি অ্যালার্জি থাকলে তাদের শোবার ঘর থেকে দূরে রাখা উপকারী হতে পারে।
মোল্ড বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
যে খাবার খেলে বারবার অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয় বলে সন্দেহ করা হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেটি পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য খাওয়া উচিত নয়।
খাদ্য অ্যালার্জির ক্ষেত্রে খাবারের উপাদান ও লেবেল সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করা গেলে সেই উদ্দীপকের সংস্পর্শ যথাসম্ভব কমানো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন
অ্যালার্জির কিছু প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গুরুতর হয়ে যেতে পারে। খাবার বা অন্য কোনো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শের পর যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, গলা বা জিহ্বা ফুলে যায়, সারা শরীরে চাকা ওঠার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হয়, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, দুর্বলতা বা চেতনা কমে আসে, তাহলে এটি অ্যানাফাইল্যাক্সিসের মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং তা জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
এ ধরনের অবস্থায় শুধু হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা
এলার্জি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। একই রকম দেখতে উপসর্গের পেছনে অ্যালার্জি ছাড়াও অন্যান্য রোগ বা খাদ্য অসহিষ্ণুতা থাকতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।
এই লেখাটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি। এখানে উল্লেখিত ঔষধগুলোর নাম কোনো ব্যক্তির জন্য স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা-নির্দেশ নয়। রোগীর সম্পূর্ণ কেস গ্রহণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, রোগের তীব্রতা ও অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয় বিবেচনা করে একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, মুখ-জিহ্বা-গলা ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
উপসংহার
এলার্জির সফল ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য উদ্দীপক শনাক্ত করা, অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো, রোগের ধরন সঠিকভাবে নির্ণয় করা এবং রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের নামের পরিবর্তে রোগীর স্বতন্ত্র লক্ষণ, কারণ, Modalities, Concomitants এবং সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। তাই এলার্জির ক্ষেত্রে সঠিক Case Taking ও Individualization অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ, মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
