টপিকস

জানুয়ারি ২৬, ২০১৭

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা।

MEDICAL INVESTIGATION.

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট অপরিহার্য নয় কিন্তু প্রয়োজন আছে।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কখনও টেষ্টের উপর নির্ভরশীল নন।কিন্তু টেষ্ট সম্পর্কে জানা থাকলে ভাল।
রোগ নির্ণয়, রোগের প্রকৃতি অনুসন্ধান এবং চিকিৎসার ফলাফল জানার জন্য প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার বিকল্প নেই। বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন রোগ শনাক্তকরণে নতুন টেস্ট আবিষ্কৃত হচ্ছে।যাহা একক কোন চিকিৎসা পদ্ধতির একক সম্পত্তি নয়।আমরা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগন যুগউপযোগী হওয়ার জন্য এই বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে পিছপা হবোনা বরং এগিয়ে থাকব।

বর্তমান সময়ের সঙ্গে উপযোগী রেখে আধুনিক ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো সহজবোধ্য ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হলঃ-

চিকিৎসকগণ যেসকল পরীক্ষা দিয়ে থাকেন তার মাঝে যে কয়েকটি রয়েছেঃ
১. সিবিসি
২. রুটিন একজামিনেশান অব ইউরিন
৩. লিভার ফাঙ্কশান টেস্ট
৪. কিডনি ফাঙ্কশান টেস্ট ইত্যাদি।
মনে হতে পারে কেন এতো পরীক্ষা বা একটি দিলেও সেটি কেন? আসুন জেনে নিই চিকিৎসকরা কোন টেস্ট কী রোগের সন্দেহে দিয়ে থাকেন।
সিবিসি: একটি সিবিসি একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা যা বিভিন্ন কারণে করা হয়।
রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য পর্যালোচনা: রোগীর সাধারণ স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখতে এবং রক্তস্বল্পতা জাতীয় বিভিন্ন রোগের জন্য স্ক্রিন করার জন্য ডাক্তার একটি রুটিন মেডিকেল পরীক্ষার অংশ হিসাবে সিবিসি করার পরামর্শ দিতে পারে।
রোগের সামগ্রিক অবস্থা নির্ণয় করা: রোগীর দুর্বলতা, অবসন্নতা, জ্বর, প্রদাহ, ক্ষত বা রক্তপাতের অভিজ্ঞতা থাকলে ডাক্তার সম্পূর্ণ সিবিসি পরামর্শ দিতে পারে।সিবিসি পরীক্ষা এই লক্ষণগুলি ও লক্ষণগুলির কারণ নির্ণয় করতে সহায়তা করতে পারে।ডাক্তার যদি সন্দেহ করে যে রোগীর কোনও সংক্রমণ রয়েছে তবে পরীক্ষাটি এটি নির্ণয় নিশ্চিত করতেও সহায়তা করতে পারে।

চিকিৎসারত রোগীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ইনভেস্টিগেশনঃ
রোগীর রক্তের সেলকে প্রভাবিত করে এমন একটি রক্ত ব্যাধি দ্বারা চিহ্নিত হয়ে থাকেন তবে ডাক্তার রোগীর অবস্থার উপর নজর রাখতে সিবিসি ব্যবহার করতে পারেন।
রক্তের সেলের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কিছু গ্রহণ করা হলে রোগীর স্বাস্থ্যের নিরীক্ষণের জন্য সিবিসি ব্যবহার করা হয়।
সিবিসি সাধারণত একটি চূড়ান্ত নির্ণয়ের পরীক্ষা নয়। চিকিত্সক যে পরীক্ষার জন্য এই পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন তার উপর নির্ভর করে স্বাভাবিক পরিসরের বাইরে ফলাফলগুলি অনুসরণ করতে পারে বা নাও পারে।
উদাহরণস্বরূপ,যদি আপনি স্বাস্থ্যবান হন এবং অসুস্থতার লক্ষণ বা লক্ষণ না থাকে তবে সিবিসি স্বাভাবিক পরিসরের বাইরে সামান্য ফলাফল উদ্বেগের কারণ নাও হতে পারে, এবং এর জন্য ফলোআপের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
রোগীর জ্বর নানা কারনে হতে পারে, জ্বরকে সাধারন বলা যায় না।কারন পরিপূর্ণভাবে বের না করা ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। রক্তের রিপোর্ট সেই কারণ বের করার প্রাথমিক ধাপ।
ইউরিন বা প্রস্রাব পরীক্ষাঃ
রক্তের সিবিসির পরবর্তী একেবারে কমন পরীক্ষা হল রুটিন ইউরিন একজামিনেশন। এর মাধ্যমে রোগী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা, কিডনি থেকে প্রস্রাব করার রাস্তার একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত কোনও ইনফেকশান আছে কিনা, ফাঙ্গাস আক্রান্ত কিনা, কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা তার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। অনেক রোগ রয়েছে যা কিডনিকে ক্ষতি করে, ইউরিন বা প্রস্রাব পরীক্ষা করা ছাড়া তার সম্পরকে ধারণা পাওয়া দুষ্কর।
লিভার ফাঙ্কশান টেস্ট
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে প্রায়শই লিভার ফাংশন টেস্টের পরামর্শ দেওয়া হয়:
১. হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি এর মতো লিভারের সংক্রমণের ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করতে,
২. লিভার বা যকৃত প্রভাবিত করার জন্য পরিচিত কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি পর্যবেক্ষণ করতে,
৩. রোগী যদি ইতিমধ্যে কোনও লিভারের রোগ থাকে তবে এই রোগটি পর্যবেক্ষণ করতে এবং একটি নির্দিষ্ট চিকিত্সা কতটা ভাল কাজ করছে,
৪. ডাক্তার যদি দেখেন রোগীর মাঝে লিভার ডিজঅর্ডারের লক্ষণগুলি রয়েছে।
৫. রোগী যদি উচ্চতর ট্রাইগ্লিসারাইডস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বা রক্তস্বল্পতার মতো কিছু নির্দিষ্ট শর্ত থাকে
৬. রোগী যদি পিত্তথলি রোগের ইতিহাস থাকে।
কিডনি ফাঙ্কশান টেস্ট কেন করা হয়?
রোগীর কিডনিতে সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে এমন লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
উচ্চ রক্তচাপ
প্রস্রাবে রক্ত
প্রস্রাব করার জন্য ঘন ঘন urges
প্রস্রাব শুরু করা অসুবিধা
বেদনাদায়ক প্রস্রাব
শরীরে তরল তৈরির কারণে হাত ও পা ফোলা।
একক লক্ষণ বলতে মারাত্মক কিছু বোঝাতে পারে না। যাইহোক,একই সঙ্গে সংঘটিত হওয়ার সময়,এই লক্ষণগুলি পরামর্শ দেয় যে রোগীর কিডনিগুলি সঠিকভাবে কাজ করছে না।কিডনি ফাংশন পরীক্ষা কারণ নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।
সাধারণ কয়েকটি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব
*রক্তের CBC একটি পরীক্ষা যা সবচেয়ে বেশী করা হয়। শরীরে বিভিন্ন ইনফেকশন হলে, ব্লাড ক্যান্সার হলে অথবা বিবিধ রোগ হলে এই পরীক্ষার রেজাল্ট থেকে
শহজেই অনুমান করা যায় বা নির্ণয় করা যায়।
*রক্তের RBS দেখে সুগার বেশী আছে কিনা তা জানা যায়। যদি সুগার বেশী থাকে তবে FBS অথবা 2HABF পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস রোগ নির্নয় করা যায়।
*রক্তের Creatinine পরীক্ষা করে কিডনির ভাল মন্দ বুঝা যায়।
*রক্তের SGPT পরীক্ষা করে লিভারের ভাল মন্দ বুঝা যায়।
*রক্তের Bilirubin টেস্ট করে জন্ডিস এর মাত্রা বুঝা জায়।
#রক্তের Lipid Profile টেস্ট করে বিভিন্ন প্রকার তৈল জাতীয় পদার্থের পরিমান জানা যায় এবং হার্ট এটাক অথবা স্ট্রোক এর ঝুকি আছে কিনা তা জানা যায়।
*প্রশ্রাবের R/E টেস্ট করে কিডনি ও প্রশ্রাবের থলির খবর নেয়া যায়।
*পায়খানার R/E টেস্ট করে পরিপাক তন্ত্রের ইনফেকশন ও অন্যান্য খবর জানা যায়।
রক্তের CBC একটি পরীক্ষা যা সবচেয়ে বেশী করা হয়। শরীরে বিভিন্ন ইনফেকশন হলে, ব্লাড ক্যান্সার হলে অথবা বিবিধ রোগ হলে এই পরীক্ষার রেজাল্ট থেকে সহজেই অনুমান করা যায় বা নির্ণয় করা যায়।
রক্তের RBS দেখে সুগার বেশী আছে কিনা তা জানা যায়। যদি সুগার বেশী থাকে তবে FBS অথবা 2HABF পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় করা যায়।
রক্তের Creatinine পরীক্ষা করে কিডনির ভাল মন্দ বুঝা যায়।
রক্তের SGPT পরীক্ষা করে লিভারের ভাল মন্দ বুঝা যায়।
রক্তের Bilirubin টেস্ট করে জন্ডিস এর মাত্রা বুঝা যায়।
রক্তের Lipid Profile টেস্ট করে বিভিন্ন প্রকার তৈল জাতীয় পদার্থের পরিমাণ জানা যায় এবং হার্ট এ্যাটাক অথবা স্ট্রোক 
এর ঝুঁকি আছে কিনা তা জানা যায়।
প্রশ্রাবের R/E টেস্ট করে কিডনি ও প্রশ্রাবের থলির খবর নেয়া যায়।
পায়খানার R/E টেস্ট করে পরিপাক তন্ত্রের ইনফেকশন ও অন্যান্য খবর জানা যায়।
উপসংহারঃ
ডাক্তারগন সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে নানা ধরণের মেডিকেল টেস্ট করাতে পরামর্শ দেন।তারা সংক্ষেপে সেই সব টেস্টের নাম লিখে থাকেন।আমরা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগন এইসব টেস্ট করিতে না দিলেও রোগীর ইতিহাস জানতে যদি কোন টেস্ট রিপোর্ট দেখে কিছু বুঝতে না পারি, সেই লজ্জা কোথায় রাখব।তাই আসুন আমরা নিজেরা ইচ্ছে করে সেইসব টেস্টের নাম ও পরিচয় আমরা জেনে নেই।
মেডিককের টেস্টের সংক্ষিপ্ত নাম মেডিকেল টেস্টের পূর্ণ নাম জানবো।
AST : :aspartate aminotransferase @(sgot)
ALT : :alanie aminotransferase@ (sgpt)
ALP : : alkaline phosphatase
ALT : alanine aminotransferase
AF : : atrial fibrillation
AIDS : acquired immunodeficiency syndrome.
AKA : alcoholic ketoacidosis
ALL : acute lymphoblastic leukaemia
AMI : acute myocardial infarction
ARF : acute renal failure
BT : : bleeding time
CBC: :complete blood count
CXR: : X-ray chest (PA view)
CABG: coronary artery bypass graft
CCF: congestive cardiac failure
CF: cystic fibrosis
CHD: coronary heart disease
CNS: central nervous system
COPD: chronic obstructive pulmonary disease
CPAP: continuous positive airways pressure
CRF: chronic renal failure
CSF: cerebrospinal fluid
CT: computer mography
CCK: :cholecystokinin
CVA: cerebrovascular accident (stroke)
CVD: cardiovascular disease
CT : : clotting time
CCK: :cholecystokinin
CAH: congenital adrenal hyperplasia
Ca : : calcium
CP: :complete picture of blood
DKA: diabetic ketoacidosis
DU: duodenal ulcer
DVT: deep vein thrombosis
ECG: electrocardiography/ or cardiogram
EEG: electroencephalogram
ESR: erythrocyte sedimentation rate
ESRD: end-stage renal disease
FPG: fasting plasma glucose
GGT: :gamma glutamyl transpeptidase
GGT: : gamma glutamile transpeptidase
GTT: : glucose tolerance test
GIT: gastrointestinal tract
GU: gastric ulcer
GvHD: graft versus host disease
HTN : : high/ blood pressure,@hyper tension
HAV: hepatitis A virus
HBV: hepatitis B virus
Hcg: human chorionic gonadotrophin @ PT : :pregnancy test (by urine)
HAV : : hepatitis A virus
HBV @ HBs Ag hepatitise B antigen
HCV hepatitis: C virus
HIV: human immunodeficiency virus
HNA: heparin neutralising activity
IHD: ischaemic heart disease
Ig: immunoglobulin
INR: : international normalized ratio/rate
IM: intramuscular
ICH: intracranial haemorrhage
IDA: iron deficiency anaemia
IDDM: insulin dependent (type 1) diabetes mellitus
IFG: impaired fasting glucose
IGT : impaired glucose tolerance
ITU: intensive therapy unit
IV: intravenous
IVU: intravenous urogram
KUB: kidney, ureter, bladder (x-ray)/ U-S
LBBB: left bundle branch block
LCM: left costal margin
LFTs: liver function tests
LDH: : lactae dehydrogenase
LFT : liver function test
LIF: left iliac fossa
LUQ: left upper quadrant
LVF: left ventricular failure
LVH: left ventricular hypertrophy
LBBB: left bundle branch block
LCM: left costal margin
LFTs: liver function tests
LFT : liver function test
LDH: : lactae dehydrogenase
LIF: left iliac fossa
LUQ: left upper quadrant
LVF: left ventricular failure
LVH: left ventricular hypertrophy
MC&S: microscopy, culture & sensitivity
MCH: mean cell haemoglobin
MI: myocardial infarction
Min: minutes
MPD: myeloproliferative disease
MRI : magnetic resonance imaging
MS : multiple sclerosis or mass spectroscopy
Na: : sodium
NaCl: sodium chloride
OA : osteo arthritis
OCP: oral contraceptive pill
PACWP; pulmonary artery capillary wedge pressure
PB: peripheral blood
PBC : primary biliary cirrhosis
PCI: percutaneous coronary intervention
PCL: plasma cell leukaemia
PE: pulmonary embolism
PR: per rectum
PT: : prothrombing time
PV : : per vagina
PV: plasma volume
PAD: peripheral arterial disease
PaO2: partial pressure of O2 in arterial blood
PV : : per vagina
PV: plasma volume
RAS: renal angiotensin system or renal artery stenosis
RBBB: right bundle branch block
RBCs: red blood cells
RCC: red blood cell count
Rh: Rhesus (monkey)
RA : : rheumatoid arthritis
RA : : rheumatoid arthritis
RIF: right iliac fossa
RUQ: right upper quadrant
SGOT : : serum glutamic oxaloacetic transaminase
SGPT : : serum glutamic pyruvic transaminase
SXR: skull x-ray
SC: subcutaneous
SDH: subdural haemorrhage
SOB: shortness of breath
SM: smooth muscle
SVC : superior vena cava
SVCO: superior vena caval obstruction
SXR: skull x-ray
T°: temperature
t1/2: half-life
T4: thyroxine
TA: temporal arteritis
TB: tuberculosis
TFT: thyroid function test
TIAs: transient ischaemic attacks
TPO: thyroid peroxidase
TRAB: thyrotropin receptor antibodies
TSH : thyroid-stimulating hormone
TT: thrombin time
TLC : : total leukocytes count
u/U: units
UC: ulcerative colitis
U&E: urea and electrolytes
UCE: : urea creatinine & electrolytes
URTI: upper respiratory tract infection
UTI: urinary tract infection
USS: ultrasound scan
VIII: C factor VIII clotting activity
VIP: vasoactive intestinal peptide
Vit K: vitamin K
VSD: ventricular septal defect
WBC: :white blood cell

আজ আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে পুরাতন ধ্যানধারনা নিয়ে চিকিৎসা পেশায় টিকে থাকা যাবে না।চিকিৎসা বিজ্ঞানের সকল পরীক্ষা সমুহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকতেই হবে।আমরা যদি প্রতিটি রোগী ফলোআপ পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করে দিতে পারি যে রোগীর আশু আরোগ্যে দিকে আছে,তা হলে রোগীর সাহস বাড়বে এবং আপনিও চিকিৎসা করে তৃপ্তি পাবেন।আপনাদের মধ্যে অনেক বন্ধু রয়েছেন আমার এই যক্তি পছন্দ করবেন না কিম্বা বলবেন অর্গাননে নেই।তাদের সুবিধার্থে বলি,অর্গাননে স্পষ্ট বলা আছে রোগী ও রোগ সম্পর্কে জ্ঞান একজন চিকিৎসকের গুন।রোগ আরোগ্যে হোমিওপ্যাথিক আদর্শ বজায় রেখে রোগ লক্ষণের উপর বেশি প্রাধান্য দিন কিন্তু মেডিক্যাল টেষ্টকে অবজ্ঞা করবেন না।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল সাভার,ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।

জানুয়ারি ১৭, ২০১৭

ধুমপান কেন ত্যাগ করবেন, কিভাবে ত্যাগ করবেন ?

ধুমপানকে না বলুন,ধুমপান বিষপান।

ধুমপান বিষপানঃ-
নেশা জাতীয় যে কোন দ্রব্য আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এমনকি ধর্মীয়,শারীরিক,মানসিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের জন্যে ও ক্ষতিকর।
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালি সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে ধূমপানের। অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কিন্তু নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়া হয় না।

বিশেষজ্ঞগণ ধূমপানের আসক্তি থেকে নিজেকে রক্ষার ১৩টি উপায় বলে দিয়েছেন। এসব অনুসরণ করলে অবশ্যই ধূমপান ছাড়া সম্ভব। এ ১৩টি উপায় হচ্ছে –

১)প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কেন ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য জরুরি। অর্থাৎ কি কারণে ধূমপান ছাড়তে চান। যেমন ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে।

২) কোন ধরনের থেরাপি বা বিকল্প মেডিকেশন ছাড়া ধূমপান ছাড়া ঠিক নয়। কারণ সিগারেটের নিকোটিনের ওপর ব্রেইন অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ছেড়ে দিলেই নানা উপসর্গ শুরু হয়। তাই সিগারেটের বিকল্প থেরাপির কথা চিন্তা করতে হবে।

৩) নিকোটিনের বিকল্প গাম, লজেন্স ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

৪) নিকোটিনের বিকল্প ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

৫) একা একা ধূমপান না ছেড়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য (যদি ধূমপায়ী থাকেন), বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের উত্সাহিত করে একসঙ্গে ধূমপান ত্যাগের ঘোষণা দিন।

৬) মানসিক চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হালকা ম্যাসাজ নিন।

৭) অ্যালকোহল পরিহার করুন।

৮) মনোযোগ অন্যদিকে নিতে ঘরের কাজ অথবা অন্য যে কোন কাজ করতে চেষ্টা করুন।

৯) ধূমপান ত্যাগের জন্য বার বার চেষ্টা করুন। একবার ছেড়ে দিলে দ্বিতীয় বার আর ধূমপান করবেন না।

১০) নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

১১) প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক-সবজি ও রঙিন ফলমূল খান।

.

১২) ধূমপান বন্ধ করে যে আর্থিক সাশ্রয় আপনার হবে তার একটা অংশ জনকল্যাণ অথবা হালকা বিনোদনে ব্যয় করুন।

১৩) আর ধূমপান ছাড়ুন বন্ধু-বান্ধব বা প্রেমিক-প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য নয়, বরং আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যই এটা করেছেন। এমন জোরালো অবস্থান নিন।
ইসলাম ধর্মে নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ নিষেধ ঃ
ধুমপান হারাম যে সব কারণে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো,

# এটি বিভিন্ন রোগের কারণ ও স্বাস্থের জন্য ক্ষতি কারক। নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হারাম। মহান আল্লাহ (সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন – “…নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না।” [সূরাহ আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫]
# এটি মৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ। আর আত্মহত্যা করা হারাম। মহান আল্লাহ (সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন – “আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না।” [সূরাহ আন-নিসা, আয়াত : ২৯]
# এর মাধ্যমে ধুমপায়ী নিজের যেমন ক্ষতি করে অন্যের ক্ষতি করে। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন যে – ”নিজের ক্ষতি স্বীকার করবেনা, অন্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবেনা।” (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং ৩২; হাদীসটির ইসনাদ সহীহ)
# অর্থ অপচয় হয়। মহান আল্লাহ (সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন – “অপচয়কারী শয়তানের ভাই।” [সূরাহ ইসরা, আয়াত : ২৭)

#মুসলিম-অমুসলিম সকলেই একমত যে নিকোটিন একটি ক্ষতিকারক বস্তু। আল্লাহ তায়ালা নাপাক জিনিস ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ (সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন – “…তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন যাবতীয় নাপাক ক্ষতিকারক বস্তুসমূহ।” [সূরাহ আল-আরাফ, আয়াত : ১৫৭]

#এটি একটি প্রকাশ্য পাপ। আর প্রকাশ্যে পাপাচার করার শাস্তি আরও বেশী।

# আল্লাহ নির্দেশের সরাসরি বিরোধিতা এটি। কেননা, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ও হালাল জিনিস ভক্ষণ করতে আদেশ করেছেন। মহান আল্লাহ (সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন – “হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর।” [সূরাহ আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৭২]

# তামাক নেশা দ্রব্যের অন্তর্ভূক্ত। কম হোক বা বেশী হোক সকল প্রকার নেশা দ্রব্য ইসলামে হারাম। [সূনানে ইবনে মাজাহ, ৩য় খন্ড, অধ্যায়ঃ ৩০, হাদীস নংঃ ৩৩৯২)

# ধূমপানের মধ্যে রয়েছে জাহান্নামী খাদ্যের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ (সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন – “এটা তাদের পুষ্টিও যোগাবেনা ক্ষুদাও নিবারন করবেনা।” [সূরাহ আল-গাশিয়াহ, আয়াত : ৭]
(সংকলিত)

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
(ডি.এইচ.এম.এস)।
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া থানার পাশে,
সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

জানুয়ারি ০৩, ২০১৭

শীতকালীন রোগবালাই চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি।

Homeopathic remedy selection for winter season.

গরমের তুলনায় শীত অনেকের কাছে আরামদায়ক হলেও প্রতিবছর এ সময়ে বেশ কিছু বাড়তি রোগব্যাধি দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই সময়টা বেশ জটিলতা তৈরি করে। গরম শেষ হলে শীত শুরু হওয়ার সময় আবহাওয়ার যে পরিবর্তন ঘটে, তাতে অনেকের শরীর চট করে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। আবার শীতের প্রকোপ বেড়ে গেলেও শীত সহ্য করতে না পেরে অনেকে অসুস্থ হয়।
যেসব রোগব্যাধি হতে পারে : শীতের এই সময়টায় ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাগুলোই বেশি দেখা যায়। যেমন কাশি, অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যাওয়া, সাময়িক জ্বর, কোল্ড অ্যালার্জি হয়ে থাকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের কাশি, কোল্ড অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঠিক সময়ে সনাক্ত করা না গেলে সেটা অনেক সময় নিউমোনিয়াতেও রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকায় অনেকে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা যায়।
ঠাণ্ডার কারণে অনেকের টনসিল বেড়ে গিয়ে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।
শীতকালে মশাবাহিত ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু রোগ সহ নানা ভাইরাস জ্বরের রোগের প্রকোপ দেখা যায়। এ সময় অনেক স্থানে মশার প্রকোপও বাড়ে। ডেঙ্গু বর্ষাকালীন রোগ হলেও এখন শীতকালেও এটির বিস্তার দেখা যায়। তাই মশার কামড়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কাঁপুনি দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা, বারবার জ্বর আসা, গিঁটে ব্যথা ইত্যাদির লক্ষণ দেখা গেলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হঠাৎ করে ঠাণ্ডার কারণে শিশুদের, অনেক সময় বড়দেরও পাতলা পায়খানা, ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যখন বেশি ঠাণ্ডা পড়ে, তখন বয়স্কদেরও পাতলা পায়খানা, ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি হয়ে থাকে।
শীতের সময় অনেকে পানি কম পান করেন। শুষ্ক আবহাওয়া এবং শরীরে পানির স্বল্পতা কোষ্ঠকাঠিন্য করতে পারে।
শীতের সময় শুষ্কতার কারণে শরীরের ত্বকও শুষ্ক হয়ে ওঠে। ফলে অনেক সময় চুলকানি বা ব্যথা অনুভব হতে পারে। অনেক সময় অ্যালার্জির কারণেও এটি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ধুলাবালিতে অ্যালার্জি হয়।
ক্রনিক রোগীদের ক্ষেত্রে : যাদের ডায়াবেটিক, রিউমেটিক বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, শীত তাদের জন্য বিশেষ সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ এই সময়ে তাদের জটিলতা আরো বেশি করে দেয়া যায়। অনেকের ক্ষেত্রে অনিদ্রার মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। এজন্য এই রোগীদের এই সময়ে নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। তাহলে সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসক তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ নির্ধারণ করে দিতে পারবেন।
করণীয় :  শীত শুরু থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল বা হাতমুখ ধোয়ার অভ্যাস শীতকালীন ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর থেকে মুক্ত রাখতে পারে।
শিশুরা অনেক সময় শরীরে গরম কাপড় রাখে না বা খুলে ফেলে। তাই তাদের দিকে সতর্ক নজর রাখা উচিত।
গরম খাবার খাওয়া, গরম পানি পান করা, গরম কাপড় পরিধান করা, গরম স্থানে বাস করা ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর, টনসিলসহ অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
শীতকালীন চুলকানি সামলাতে নিয়মিত গোসল করা ও লোশন বা অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল বা নারিকেল তেল বা গ্লিসারিন ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতে চামড়ার আর্দ্রতা স্বাভাবিক থাকবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শীতকালীন শাকসবজি এবং ভিটামিন সি রয়েছে এমন খাবার যেমন জলপাই, কমলা, লেবু, বরই ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এগুলো একপ্রকার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।
নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে।

শীতকালীন অসুস্থতায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ব্যবহার
ডা. কেন্ট তাঁর হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরিতে ৬৭ টি ওষুধকে শীতকালীন ওষুধ হিসেবে স্থান দিয়েছেন।
ডা. রবিন মার্ফি তাঁর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রেপার্টরিতে ৮৩ টি ওষুধকে শীতকালীন ওষুধ বলেছেন।
সিনথেসিস রেপার্টরিতে শীতকালীন ওষুধ ‍হিসেবে স্থান পেয়েছে ৮৭ টি।
KENT REPERTORY > GENERALS - WINTER,in (67)
Acon. Agar. Alum. Am-c. Ammc. Arg-met. Ars. AUR. bar-c. Bell. bov. Bry. Calc-p. Calc. Camph. caps. carb-an. carb-v. Caust. cham. cic. cina Coc-c. cocc. colch. con. Dulc. ferr-ar. Ferr. FL-AC. Hell. Hep. hyos. ign. ip. Kali-bi. Kali-c. Kali-p. lyc. mag-c. Mang. Merc. Mez. Mosch. nat-act. nat-c. nat-m. Nux-m. NUX-V. Petr. ph-ac. Phos. Psor. puls. rhod. RHUS-T. ruta Sabad. sars. Sep. Sil. spig. spong. Stront-c. sulph. Verat. viol-t.
NURPHY REPERTORY > ENVIRONMENT - WINTER, agg. (83)
ACON. Aesc. Agar. Alum. AM-C. ammc. Arg-met. ARS. aur-ar. aur-s. AUR. Bar-c. Bell. borx. bov. BRY. Calc-p. calc-sil. Calc. CAMPH. Caps. carb-an. Carb-v. carbn-s. Caust. Cham. cic. cina cist. Coc-c. Cocc. colch. Con. DULC. ferr-ar. Ferr. FL-AC. graph. HELL. HEP. Hyos. Ign. Ip. Kali-bi. KALI-C. Kali-p. kali-sil. Kalm. LYC. mag-c. MANG. Merc. Mez. MOSCH. nat-act. nat-c. nat-m. NUX-M. NUX-V. PETR. ph-ac. Phos. prot. PSOR. PULS. Rhod. RHUS-T. ruta Sabad. sangin-n. sars. sec. Sep. Sil. spig. spong. stann. STRONT-C. Sulph. syph. VERAT. viol-t. visc.
SYNTHESIS REPERTORY > GENERALS - SEASONS - winter - agg. (87)
ACON. Aesc. Agar. Alum. AM-C. ammc. aral. Arg-met. ARN. ars-i. ARS. aur-ar. aur-s. AUR. Bar-c. Bell. borx. bov. Brucel. BRY. Calc-p. calc-sil. Calc. CAMPH. Caps. carb-an. Carb-v. carbn-s. Caust. Cham. cic. cina cist. Coc-c. cocc. colch. Con. DULC. ferr-ar. Ferr. FL-AC. graph. HELL. HEP. Hyos. Ign. Ip. Kali-bi. KALI-C. Kali-p. kali-sil. Kalm. LYC. mag-c. MANG. Merc. Mez. MOSCH. nat-ar. nat-c. nat-m. NUX-M. NUX-V. PETR. ph-ac. phel. Phos. prot. PSOR. PULS. Rhod. RHUS-T. ruta Sabad. sangin-n. sars. sec. Sep. Sil. spig. spong. stann. STRONT-C. Sulph. syph. VERAT. viol-t.
শীতকালে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে এমন ১২ টি ওষুধ :
1. Aconit Nap,
2. Arsenic Alb,
3. Aurum Met,
4. Bryonia Alb,
5. Dulcamara,
6. Fluoric Acid,
7. Hepar Sulph,
8. Kali Carb,
9. Petroleum,
10. Psorinum,
11. Rhus Tox,
12. Veratrum Alb.
ওষুধগুলোর মূলকথা (Keynotes) –
Aconit Nap : স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের আক্রমণ করে। প্রচন্ড শীত, প্রবাহিত বাতাস বা ভয়ের কারণে আক্রান্ত হয়। রোগাক্রমণ হঠাৎ ও ভীষণভাবে হয়। রোগের প্রচণ্ড আক্রমণে রোগী মুষড়ে পড়ে। মৃত্যুভয় ও অস্থিরতা রোগীকে কাবু করে ফেলে। জিভ শুকনা ও মোটা হয়, তার সাথে প্রচন্ড পিপাসা ও জ্বালা থাকে। সন্ধ্যায়, রাতে, বিছানা থেকে উঠলে, আক্রান্ত পাশে চেপে শুলে বৃদ্ধি এবং খোলা বাতাসে উপশম।
শীতকাতর২। সোরিক২। স্বল্পক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৬-২৪ ঘন্টা।
Arsenic Alb : দুর্বলতা, অস্থিরতা ও মৃত্যুভয়। খুঁতখুঁতে ও কৃপণ স্বভাবের। প্রবল পিপাসা। একটু পরপর একটু একটু করে পানি পান করে। পানি পানের পর বমি। জ্বালা ও দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধযুক্ত, ভুক্তদ্রব্যমিশ্রিত, পিচ্ছিল মল। প্রস্রাব ত্যাগের সময় জ্বালা। নিদ্রালুতাসহ নিদ্রাহীনতা, অতৃপ্তিকর নিদ্রা। দুর্ঘটনা, উৎকন্ঠা, কষ্টকর অবস্থা, মরা মানুষ ও ভয়ের স্বপ্ন দেখে। অনেক ঘাম হয়। ঠান্ডা ঘাম। ঘামে বৃদ্ধি। মধ্যদিবা মধ্যরাতে বৃদ্ধি। আক্রান্ত পাশে চেপে শুলে বৃদ্ধি। আক্রান্ত অঙ্গে পানি দিলে উপশম।
শীতকাতর৩। ‍টিউবারকুলার৩, সোরিক২, সাইকোটিক ২, সিফিলিটিক ২ । খুবই গভীরক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৬০-৯০ দিন।
Aconit ও Arsenic এর তুলনা : অ্যাকোনাইটের অস্থিরতা প্রদাহের জন্য। আর রোগের কঠিন অবস্থায় দুর্বল হয়ে পড়লে আর্সেনিকের অস্থিরতা দেখা দেয়। অ্যাকোনাইটের অস্থিরতা প্রধানত দৈহিক। কিন্তু আর্সেনিকের অস্থিরতা দৈহিকের চেয়ে মানসিক বেশি। অ্যাকোনাইট মনে করে তার মৃত্যু আসন্ন, ফলে ওষুধ সেবনে অনীহা। আর্সেনিক মনে করে ওষুধ সেবন করেও কোনো ফল হবে না, তার মৃত্যু অনিবার্য। অ্যাকোনাইট বেশি পরিমাণে পানি পান করে। আর্সেনিক একটু পরপর অল্প অল্প করে পানি পান করে।
Dulcamara : শরৎ থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত বিভিন্ন অসুস্থতায় প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। ঠান্ডা লেগে প্রস্রাবের বেগ বা শ্লেষ্মার প্রকোপ। উত্তাপে উপশম, অস্থিরতায় উপশম। ঘাম বা চর্মরোগ চাপা দেয়ার কুফল। অসংলগ্ন কথা বলে। কথা বলার সময় শব্দ ভুলে যায়। মনে করে যেন তার পিছনে কেউ আছে। কটুভাষী। অসন্তুষ্ট। জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলে। একপাশে, সাধারণত বামপাশে আক্রমণ করে। ঠান্ডা পানাহার অসহ্য। শীতে, বর্ষার পানিতে বা ঠান্ডা পানিতে ভিজলে, ঠান্ডা বাতাসে, রাতে ও বিশ্রামে বৃদ্ধি। উত্তাপে ও নড়াচড়া করলে উপশম।
শীতকাতর৩, গরমকাতর২, উভয়কাতর২। ‍টিউবারকুলার২, সোরিক১, সাইকোটিক ১। মাঝারিক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ২১-৩০ দিন।
Aconit ও Dulcamara এর তুলনা : অ্যাকোনাইটে শুষ্ক ঠান্ডা বাতাসে রোগের উৎপত্তি। ডালকামারায় জলীয় ঠান্ডা বাতাসে উৎপত্তি।
Rhus Tox : বর্ষায়, শীতে, বিশ্রামে, প্রথম সঞ্চালনে বৃদ্ধি। অস্থিরতায়, উত্তাপে, ক্রম সঞ্চালনে উপশম। অঙ্গ প্রত্যঙ্গে কামড়ানি ও অস্থিরতা। ডানপাশে আক্রমণ। অসন্তুষ্ট, অস্থির, সন্দেহযুক্ত মন। জিহবা বাদামি, লাল, ডগা ও কিনারা লাল, শুষ্ক। পিপাসা বেশি। কম কম করে পানি পান করে। মাথার নিচে হাত রেখে চিৎ হয়ে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। উৎকন্ঠার, ঘুরে বেড়ানোর, কর্ম বিষয়ক স্বপ্ন দেখে। ঘুমের মধ্যে, সামান্য পরিশ্রমে, আক্রান্ত অঙ্গে ঘাম হয়। গোসলে ভয়। ঠান্ডা পানিতে গোসলে বৃদ্ধি। ক্ষুধার অভাব। ক্ষুধা থাকলেও খাবারে অনিহা। দুধ, মিষ্টি পছন্দ। মাংস, রুটি অপছন্দ। ঠান্ডা পানি, ঠান্ডা খাবার, তরল খাবার অসহ্য।
শীতকাতর৩। গরমকাতর১। সোরিক২, সাইকোটিক১, টিউবারকুলার১। স্বল্পক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ১-৭ দিন।
Dulcamara ও Rhus Tox এর তুলনা : গরম থেকে শীত ঋতু পরিবর্তনের সময় এবং বর্ষার পরে ডালকামারা, শীতকালে ও বর্ষাকালে রাস টক্স। ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে বসবাস অথবা হঠাৎ গরমের পর ঠান্ডা লেগে বাত এবং পরে পক্ষাঘাত হলে প্রথমে ডালকামারা এবং রোগ একটু পুরাতন হলে ও ছটফটানি বেশি থাকলে রাস টক্স। সবশেষে যখন রোগ পুরাতন আকার ধারণ করে তখন কস্টিকাম। হঠাৎ পক্ষাঘাত হলে এবং তার সাথে মৃত্যুভয়, ছটফটানি, প্রচন্ড পিপাসা থাকলে অ্যাকোনাইট কার্যকরী।
Aconit ও Rhus Tox এর তুলনা : অ্যাকোনাইটের অস্থিরতা হঠাৎ প্রবল রোগাক্রমণ বা প্রদাহের জন্য। রাস টক্সের অস্থিরতা শারীরিক।
Arsenic ও Rhus Tox এর তুলনা : আর্সেনিক ঘুমের শুরুতে ঘামে। রাস টক্স ঘুমের সময়ে ঘামে।
Bryonia Alb : নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, চুপ করে থাকলে আরাম। শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির শুষ্কতা। আক্রান্তস্থান বা বেদনাযুক্ত স্থান চেপে ধরলে উপশম। ক্রুদ্ধভাব এবং ক্রুদ্ধ হবার ফলে অসুস্থতা। ধনলিপ্সা, সন্দেহযুক্ত, হিংসুক, প্রতিবাদ অসহ্য। প্রলাপ বকে। বাড়ি যেতে চায়। ব্যবসায়র আলাপ করে। ‍জিহবা সাদা, বাদামি, শুষ্ক। প্রচন্ড পিপাসা। অনেকক্ষণ পরপর বেশি পরিমাণে পানি পান করে। মল কঠিন, বড়, ভুক্তদ্রব্যযুক্ত, দুর্গন্ধময়। প্রস্রাব করার সময় জ্বালা। প্রস্রাবের পর হাঁটলে ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব হয়। ঘাম বেশি। ঘামলে উপশম। চিৎ হয়ে শোয়। কর্মব্যস্ততার স্বপ্ন দেখে। গরম পানি, ঠান্ডা খাবার, মিষ্টি পছন্দ। মাংস, দুধ, চর্বি অপছন্দ। মাংস, রুটি, ‍শিম, মটর, বাঁধাকপি, ফল, বায়ু উৎপন্ন করে এমন খাবার অসহ্য। ঠান্ডা পানি পানে আরাম পায়। নড়াচড়ায় ও গরম জলখাবারে বৃদ্ধি। বিশ্রামে, স্থির হয়ে থাকলে ও ঠান্ডা পানাহারে উপশম।
শীতকাতর২, গরমকাতর২, উভয়কাতর২। ‍টিউবারকুলার২, সোরিক১, সাইকোটিক ১। মাঝারিক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৭-২১ দিন।
Bryonia-র সাথে Aconit ও Rhus Tox এর তুলনা : ব্রায়োনিয়া ধীরে আক্রমণ করে এবং ধীরে বৃদ্ধি পায়। অ্যাকোনাইট ও রাস টক্স দ্রুত আক্রমণ করে ও দ্রুত বেড়ে যায়। ব্রায়োনিয়ার একদম অস্থিরতা নেই, চুপচাপ শুয়ে থাকতে চায়। অ্যাকোনাইট ও রাস টক্স এর অস্থিরতা অনেক বেশি। স্থির থাকতে পারে না।
Hepar Sulph : শীতকাতরতা ও স্পর্শকাতরতা। প্রচন্ড রাগ, ক্ষিপ্রতা, হঠকারিতা। লোভী, কটুভাষী, প্রতিবাদ প্রবৃত্তিযুক্ত। কথা বলতে ভুল করে। বিড়বিড় করে। ঘুমের মধ্যে কাঁদে। পরিবারের লোকদের প্রতি, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির প্রতি বিরূপভাব। হত্যা বা আত্মহত্যা করতে চায়। আগুন লাগাতে চায়। জিহবা ফাটলযুক্ত। নিদ্রাহীনতা। আগুনের, উৎকন্ঠার, বিপদের স্বপ্ন দেখে। অনেক ঘাম হয়। বেশি ঘাম রোগীকে শান্তি দেয় না। রাতে ঘামে টক গন্ধ হয়। ঠান্ডা ঘাম। টক, ঝাল প্রভৃতি উগ্রখাবার খেতে ইচ্ছা। চর্বিতে অনিচ্ছা। কফি, ঠান্ডা খাবার অসহ্য। আক্রান্ত পাশে শুলে, আক্রান্ত অঙ্গ স্পর্শে, ঠান্ডা বাতাসে, অনাবৃত দেহে, ঠান্ডা পানাহারে বৃদ্ধি। গরম ঘরে, আচ্ছাদনে বিশেষ করে মাথা আচ্ছাদিত রাখলে উপশম।
শীতকাতর৩। গরমকাতর১। সোরিক৩, সিফিলিটিক৩, সাইকোটিক২, টিউবারকুলার২ । গভীরক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৪০-৫০ দিন।
Dulcamara, Rhus Tox, Hepar Sulph ও Bryonia এর তুলনা : ব্রায়োনিয়া ভিজা ও ঠান্ডা ফ্লোরে শোবার জন্য আক্রমণ করে। ডালকামারা, রাস টক্স ও হিপার ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে ফ্লোরে শুলেই আক্রমণ করে। ফ্লোর ঠান্ডা হওয়া শর্ত নয়।
Kali Carb : দেহের স্থূলতা ও শেষরাতে রোগলক্ষণের বৃদ্ধি। দুর্বলতা, শীতার্ততা। চোখের উপর পাতা ফোলা বা শোথ এবং ঘাম। কোমরে ব্যাথা। একপাশে আক্রমণ। খুঁতখুঁতে। বোকার মত ব্যবহার। সান্ত্বনায় বৃদ্ধি। ঘুমের মধ্যে চমকে এবং কান্না করে। চুরি করার ইচ্ছা। স্বামীর প্রতি, পরিবারের লোকদের প্রতি বিতৃষ্ণা। বড় আকারের কঠিন মল। নিষ্ফল মলবেগ ও কুন্থন। প্রস্রাবে দুর্গন্ধ ও শ্লেষ্মা। নিদ্রাহীনতা। বসে বসে ঘুমায়। উৎকন্ঠার, ভয়ের, প্রণয়ের স্বপ্ন দেখে। খাবরের সময় ও অল্প পরিশ্রমেই ঘাম হয়। ঘাম বেশি। গোসলে রোগের বৃদ্ধি। টক, মিষ্টি পছন্দ। মাংস, রুটি অপছন্দ। ঠান্ডা খাবার, মাংস, দুধ, শাক সবজি অসহ্য। শুয়ে থাকলে, মুক্ত বাতাসে, ঠান্ডা ও জলীয় বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে, ঘাম চাপা পড়লে বৃদ্ধি। শুষ্ক বায়ুতে, আক্রান্ত পাশে চেপে শুলে, চিৎ হয়ে শুলে, ঢিলেঢালা জামা পরলে উপশম।
শীতকাতর৩। গরমকাতর১। টিউবারকুলার৩, সোরিক১, সিফিলিটিক১, সাইকোটিক১। গভীরক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৪০-৫০ দিন।
Hepar Sulph ও Kali Carb এর তুলনা : হিপারের বৃদ্ধি সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত। কেলি কার্বের বৃদ্ধি শেষ রাতে। আগুন লাগাতে চাওয়া হিপারের একটি অসাধারণ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ, যা কেলি কার্বে নেই। ব্যাথায় হিপার প্রচন্ড স্পর্শকাতর, কেলি কার্ব নয়।
Petroleum : প্রতি শীতকালে আঙ্গুলগুলো ফেটে যায় ও পায়ে দুর্গন্ধ ঘাম দেখা দেয়। বামপাশে বেশিরভাগ আক্রমণ। শীর্ণ গঠন। গাড়ি বা নৌকায় চড়ে বেড়াতে পারে না। পরিচিত রাস্তা ভুলে যায়। কটুভাষী। অভিশাপ দেয়। ছিদ্রান্বেষী। প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না। অতৃপ্তিকর নিদ্রা। প্রণয়, উৎকন্ঠা, হত্যার এবং সে যেন বলাৎকার করছে এমন স্বপ্ন দেখে। এক অঙ্গে ঘাম এবং ঘামে বিরক্তিকর গন্ধ। গোসলে রোগের বৃদ্ধি। অনেক ক্ষুধা লাগে এবং সামান্য আহারে পরিতৃপ্তি অথবা সহজে নিবৃত্তি হয় না। মোটামুটি সব খেতে পছন্দ করে। মাংস ও চর্বি একদম পছন্দ করে না। বাঁধাকপি, শিম, মটর এবং বায়ু উৎপন্ন করে এমন খাবার সহ্য হয় না। শীতকালে, স্থলযান বা জলযানে, ঝড় বিদ্যুৎপূর্ণ আবহাওয়া, শয্যাতাপে, সঞ্চালনে বৃদ্ধি। পেট খালি হলে উদরসংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পায়। গ্রীষ্মকালে (চর্মরোগ), রাতে, সামনে নত হলে (উদরশূল) উপশম।
শীতকাতর২। সোরিক২, সাইকোটিক১, টিউবারকুলার১। গভীরক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৪০-৫০ দিন।
Petroleum ও Kali Carb এর তুলনা : পেট্রোলিয়াম কোনো কিছুর পরিচয়ে দ্বিধা-সংশয়ে বিশৃংখল হয়। কেলি কার্বের হয় না। পেট্রোলিয়ামের ঘাম হয় এক অঙ্গে।
Psorinum : ধাতুগত বা বংশগত সোরাদোষে উপযুক্ত ওষুধের ব্যর্থতা। উদ্বেগ, আতঙ্ক, নিরাশা ও খুঁতখুঁতে। প্রবল ক্ষুধা। সামান্য আহারে পরিতৃপ্তি অথবা আহারের পর ক্ষুধার বৃদ্ধি। ঘাম, মল, মূত্র ও স্রাবে খুব দুর্গন্ধ। দুর্বলতা ও শীতার্ততা। জিহবা শুকনা। গঠন শীর্ণ। গোসলে ভয় কিন্তু গোসলে উপশম। টক, মিষ্টি পছন্দ। গরম খাবার অপছন্দ। টক, ফল,দুধ অসহ্য। সব ধরণের ঠান্ডায়, বিছানার গরমে, সন্ধ্যায়, খোলা বাতাসে, আলু খেলে, প্রসুতি দুধ পান করালে বৃদ্ধি। ঘরের মধ্যে, সকালে শুয়ে থাকলে, জোরে চাপলে, আহারের পর (মাথাব্যাথা) উপশম।
শীতকাতর৩। সোরিক৩, টিউবারকুলার৩, সিফিলিটিক১, সাইকোটিক১ । গভীরক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৩০-৪০ দিন।
Hepar Sulph ও Psorinum এর তুলনা : উভয়ে খুব শীতকাতর। হিপারের ঠান্ডা বাতাস একদম সহ্য হয় না। পাশের ঘরের দরজা জানালা খোলা থাকলেও তার ঠান্ডা লাগবে এমন মনে করে। সোরিনাম কিন্তু তা মনে করে না। তবে ঠান্ড সহ্য করতে পারে না। ঠান্ডা লাগার ভয়ে গরমের দিনেও গরম জামা পরে বের হয়। দুর্গন্ধ ঘামের জন্য সোরিনামের গায়েও দুর্গন্ধ থাকে। গোসলের পরেও দুর্গন্ধ দূর হয় না। হিপারের ঘামেও দুর্গন্ধ থাকে। কিন্তু গোসলের পর সে গন্ধ চলে যায়।
Aurum Met : জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা ও আত্মহত্যার ইচ্ছা। মানসিক ও শারীরিক ব্যস্তবাগীশ ভাব। কটুভাষী, লাজুক, সন্দেহযুক্ত, ছিদ্রান্বেষী। প্রতিবাদ সহ্য করে না, কিন্তু নিজে প্রতিবাদ করে। ভ্রমণশীল ব্যাথা। বড় আকারের দুর্গন্ধযুক্ত মল। সাদা বা হালকা হলদে দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব। ভয়ের, প্রনয়ের, উৎকন্ঠার ও সজীব স্বপ্ন দেখে। দুধ, কফি, রুটি পছন্দ। মাংস অপছন্দ। মিষ্টি অসহ্য। রাতে, ঠান্ডায়, ঠান্ডা বাতাসে, শীতকালে বৃদ্ধি। মুক্ত বাতাস, উষ্ণ বায়ু, গ্রীষ্মকালে উপশম।
শীতকাতর২। সিফিলিটিক ২ । গভীরক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ৫০-৬০ দিন।
Hepar Sulph ও Aurum Met এর তুলনা : হিপার প্রতিবাদ করে এবং অন্যে তার প্রতিবাদ করলে নিজে চুপ করে থাকে। অরাম প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না।
Fluoric Acid : প্রথম শ্রেণির গরমকাতর ওষুধ, কিন্তু শীতকালে রোগলক্ষণ বাড়ে যেসব ওষুধের তাদের মধ্যে একটি। স্রাব অত্যন্ত ক্ষতকর ও দুর্গন্ধযুক্ত। সঙ্গমেচ্ছা প্রবল। প্রস্রাব বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মাথাব্যাথা। পরিবারের লোকদের প্রতি, জীবনসঙ্গীর প্রতি, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির প্রতি, বিয়ের প্রতি বিরূপভাব। ঘুমের মধ্যে কান্না করে। নিজের মৃত্যুর স্বপ্ন দেখে এবং লাশ সরিয়ে ফেলতে নিজেই আদেশ দিতে দেখে। জিহবা ফাটলযুক্ত। উৎকন্ঠার সময় ঘাম। ঘামে বিরক্তিকর গন্ধ। গরমে, গরম ঘরে, টক খাবারে, সকালে, বিশ্রামে বৃদ্ধি। খোলা বাতাসে, গোসলে, দ্রুত সঞ্চালনে উপশম।
গরমকাতর৩। শীতকাতর৩। উভয়কাতর৩। সিফিলিটিক৩, সোরিক২, টিউবারকুলার২, সাইকোটিক১। ক্রিয়াকাল ২৫-৩০ দিন।
Arsenic ও Fluoric Acid : উভয়েই উৎকন্ঠার সময় ঘামে। ফ্লোরিক এসিড দিনের বেলায় উৎকন্ঠা হলে ঘামে। আর্সেনিক রাতে উৎকন্ঠা হলে ঘামে।
Veratrum Alb : প্রবল পিপাসা ও প্রচন্ড ক্ষুধা। কপালের উপর ঘাম ও হিমাঙ্গ অবস্থা। উন্মাদ, নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা, বাচালতা। অপরকে থুতু দিতে ও কামড়াতে চায়। জিহবা শুষ্ক, ফাটলযুক্ত। গন্ধহীন প্রচুর ভেদ প্রচুর বমি। কঠিন, বৃহৎ, শ্লেষ্মাযুক্ত বা পিচ্ছিল মল। নিষ্ফল মলবেগ ও কুন্থন। গভীর নিদ্রা হয়। প্রচুর ঘাম, ঠান্ডা ঘাম, ঘামে বৃদ্ধি। ঘামের সময় অত্যধিক পিপাসা। টক, লবণ, ফল, ঠান্ডা খাবার, ঠান্ডা পানি, বরফ খাবার ইচ্ছা। গরম খাবারে অনিচ্ছা। ফল, ঠান্ডা খাবার, গোল আলু অসহ্য। পরিশ্রমে, পানীয় পানে, ভয়ে, মলত্যাগের পূর্বে, চাপে, তামাক সেবনে বৃদ্ধি। গরমে, আচ্ছাদনে, হাঁটচলা করলে, শুয়ে থাকলে, মাংস আহারে, দুধ পানে উপশম।
উভয়কাতর ১। সোরিক ১। মাঝারিক্রিয় ওষুধ। ক্রিয়াকাল ২০-২৪ দিন।
Aconit ও Veratrum Alb র সাথে Bryonia ও Rhus Tox এর তুলনা : মলত্যাগের পর অ্যাকোনাইট ও ভিরেট্রামের ঘাম বেড়ে যায়, কিন্তু ব্রায়োনিয়া ও রাস টক্সের ঘাম কমে যায়। মলত্যাগ করার সময় ভিরেট্রামের অনেক ঘাম হয়, অ্যকোনাইটের হয় না।
ডা. শফিকুল ইসলাম
ডি.এইচ.এম.এস. (ঢাকা), এম.এম.সি. (ম্যাথ), বি.এস.সি. (অনার্স)
বা-ইমান হোমিও হল, ১৩৩ কাটাসুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত), হোমিওপ্যাথিক কল্যাণ সোসাইটি
dr.shafiqul.islam23446@gmail.com
Mobile No 01551816426.

জানুয়ারি ০২, ২০১৭

ইউপটেরিয়াম পার্পোরেটামের পরিচয় ও প্রয়োগ ক্ষেত্র

ইউপটেরিয়াম পার্পোরেটাম(Eupaturium Pepe)



হারজোড়া গাছ হতে ঔষধটি প্রস্তুত।বৃদ্ধদের অসুখে এই ঔষধটি বেশী কার্যকরী।অমিতাচারের জন্য যাদের স্বাস্হ্য ভেঙ্গে গিয়াছে তাদের অসুখে;বারে বারে সবিরাম জ্বরে যাদের ধাতুগত বিকৃতি হয়ে স্বাস্হ্য ভেঙ্গে গিয়াছে তাদের জন্য উপযোগী। সারাদেহে থেতলে যাওয়ার মত বেদনা যেন ,হাড়গোড় ভেঙ্গে গিয়াছে।অনুরুপ লক্ষণ আর্ণিকা,বেলিস পেরেনিস ও পাইরোজেনেও আছে।হাড়ে বেদনা,পিঠ,মাথা,বুক,হাতপা,বিশেষ করে কব্জির জোড়া যেন ভেঙ্গে যাচ্ছে।এই বেদনা যত বেশী দেখা দিবে ততই ইউপটেরিয়াম স্মরণ করিবেন ।বেদনা ব্রাইয়োনিয়া ও মার্ক সলের সাথে তুলনা করা চলে।
সারা চোখে যেন ঘা হয়েছে এরুপ বেদনা।সর্দিসহ সব হাড়ে বেদনা যেন কামড়াচ্ছে।এপিডেমিক ইনফ্লুয়েঞ্জায় এই ঔষধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।এই অবস্হায় ল্যাক ক্যানের সাথে সদৃশ।বেদনা হঠাৎ আসে হঠাৎ চলে যায় এখানে বেলেডোনা,ম্যাগফসের সদৃশ।রোগী বা দিকে ঘুরে পড়ে যাবে ভয়ে বাদিকে মাথা ঘুরায় না। এখানে কলোসিন্থের সদৃশ।রোগী অনেক দিন কাশি ,সাথে হেকটিক জ্বর, বুকে ঘায়েরমত বেদনা, কাশিতে বুকে হাত দিতে হয়, কাশি রাতে বাড়ে।হামের পরে কাশি হলে কোন কারণে হাম চাপা পরে এই রোগ হলে ইউপটেরিয়াম উপযোগী।কাশিতে অনেকটা ব্রাইয়োনিয়া ও নেট্রাম কার্ব এর সদৃশ।রোগীর একদিন জ্বর সকাল এগারোটা ,পর দিন দুপুরে আসলে, শীতের অবস্হায় তিক্ত বমি হলে,পানিপানে জ্বর ও বমি দুইই বৃদ্ধি পাইলে রোগী জ্বরের সাথে হাড়ের বেদনাসহ উপরোক্ত লক্ষণ সমষ্টি থাকলে ইউপটেরিয়াম উপযোগী।এই ঔষধটি নেট্রাম মিউর ও সিপিয়ার সাথে সম্বন্ধ রয়েছে।জন্ডিসের লক্ষণে চেলিডোনিয়াম,পডোফাইলম,লাইকোপোডিয়ামের সদৃশ।বেদনায় ব্রাইয়োনিয়ার সাথে সদৃশ হলেও ঘর্ম দেখে পৃথক করা যাবে।ইউপটেরিয়ামের বেদনায় অস্হির হলেও ঘর্ম হয় না কিন্তু ব্রইয়োনিয়ায় ঘর্ম হয়।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গঃরেজিঃ নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮