মুখের ঘা বা আলসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
মুখের ভেতরে জিহ্বা, ঠোঁটের ভেতরের অংশ, গালের ভেতর, মাড়ি বা তালুর আশপাশে ছোট ক্ষত, সাদা বা হলুদাভ ঘা এবং তার চারপাশে লালচে প্রদাহ দেখা দিলে তাকে সাধারণভাবে মুখের ঘা বা Mouth Ulcer বলা হয়। এর মধ্যে Aphthous ulcer বা Aphthous stomatitis একটি পরিচিত ও বারবার ফিরে আসা সমস্যা। সাধারণ ছোট অ্যাফথাস আলসার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৭–১৪ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।
তবে প্রতিটি মুখের ঘাকে একই ধরনের আলসার ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দাঁতের ধার, কামড়ে যাওয়া, ব্রেস বা ডেনচার, অতিরিক্ত গরম খাবার, মানসিক চাপ, কিছু খাদ্য, পুষ্টির ঘাটতি, কিছু ঔষধ এবং বিভিন্ন সংক্রমণ বা অন্যান্য রোগের সঙ্গেও মুখের ঘা সম্পর্কিত হতে পারে।
মুখের ঘার সাধারণ লক্ষণ
১. মুখের ভেতরে গোল বা ডিম্বাকৃতির ক্ষত
২. ক্ষতের মাঝখানে সাদা, ধূসর বা হলুদাভ আবরণ
৩. চারপাশে লালচে প্রদাহ
৪. জ্বালা ও ব্যথা
৫. ঝাল, টক বা গরম খাবারে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
৬. কথা বলা ও খাবার খেতে কষ্ট
৭. একসঙ্গে একাধিক ঘা হওয়া
৮. কিছু ক্ষেত্রে বারবার একই ধরনের ঘা হওয়া
৯. বড় বা গভীর আলসারে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা এবং কখনও দাগ সৃষ্টি হওয়া।
মুখের ঘার সম্ভাব্য কারণ
মুখের আলসারের কারণ নির্ণয় করতে রোগীর পূর্ণ Case Taking অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে জানতে হবে:
দাঁত বা গালের ভেতর কামড়ে যাওয়া, ধারালো দাঁত, ভাঙা ফিলিং, ডেনচার বা ব্রেসের ঘর্ষণ, অতিরিক্ত গরম খাবার, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, খাদ্যাভ্যাস, মাসিকের সঙ্গে সম্পর্ক, পূর্বের ইতিহাস, বারবার হওয়ার প্রবণতা এবং বর্তমানে ব্যবহৃত ঔষধ।
কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন B12 ইত্যাদির ঘাটতির সঙ্গে পুনঃপুন মুখের আলসারের সম্পর্ক থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন।
মুখের আলসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “মুখে ঘা হয়েছে” এই সাধারণ লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন না করে ঘার প্রকৃতি, স্থান, ব্যথা, জ্বালা, স্রাব, মুখের গন্ধ, রক্তপাত, তৃষ্ণা, খাদ্যের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ঠান্ডা-গরমে পরিবর্তন এবং রোগীর সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা উচিত।
নিচের ঔষধগুলো মুখের আলসারের বিভিন্ন লক্ষণচিত্রে Materia Medica-তে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচিত হয়।
১. Borax
মুখের ভেতরে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক আলসার। সামান্য স্পর্শেও ব্যথা। মুখের ঘা বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মুখের মিউকাস মেমব্রেন অত্যন্ত সংবেদনশীল। শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় মুখের ব্যথায় অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
২. Mercurius solubilis
মুখে প্রচুর লালা, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস, জিহ্বা স্ফীত ও ময়লাযুক্ত আবরণ, মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং সহজে রক্তপাতের প্রবণতা। মুখের আলসার অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও প্রদাহযুক্ত।
৩. Mercurius corrosivus
তীব্র জ্বালা ও ব্যথাযুক্ত আলসার। মুখের মিউকাস মেমব্রেনে ক্ষয় ও প্রদাহ প্রবল। লালা পড়তে পারে এবং মুখ অত্যন্ত সংবেদনশীল।
৪. Nitric acid
গভীর, ধারালো বা কাঁটার মতো ব্যথাযুক্ত আলসার। সামান্য স্পর্শে প্রচণ্ড ব্যথা। জিহ্বা, ঠোঁট বা মুখের বিভিন্ন স্থানে আলসার হতে পারে। সহজে রক্তপাতের প্রবণতা থাকতে পারে।
৫. Kali chloricum
মুখে গভীর ও বেদনাদায়ক আলসার, মাড়ির প্রদাহ এবং দুর্গন্ধযুক্ত মুখে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুখের মিউকাস মেমব্রেনের আলসারেটিভ অবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
৬. Boric acid
মুখে জ্বালাযুক্ত আলসার, মুখের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ এবং দুর্গন্ধের সঙ্গে আলসার দেখা দিলে বিবেচ্য।
৭. Hydrastis canadensis
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে আলসার, আঠালো ও ঘন স্রাব, মুখের দুর্গন্ধ এবং জিহ্বায় আবরণ। দুর্বলতা ও দীর্ঘস্থায়ী মিউকাস সমস্যার সঙ্গে মুখের আলসারে গুরুত্বপূর্ণ।
৮. Kali bichromicum
গভীর, পরিষ্কার প্রান্তযুক্ত আলসার। ঘা দেখতে গোলাকার বা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে পারে। ঘন, আঠালো স্রাবের প্রবণতার সঙ্গে মুখের আলসারে বিবেচ্য।
৯. Arsenicum album
মুখে জ্বালা, পোড়া পোড়া অনুভূতি এবং অস্থিরতা। মুখের আলসারে জ্বালার সঙ্গে দুর্বলতা ও উদ্বেগের বৈশিষ্ট্য থাকলে বিবেচনা করা হয়। উষ্ণতা থেকে আরাম পাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।
১০. Sulphur
বারবার মুখে ঘা হওয়ার প্রবণতা, জ্বালা, অস্বস্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী ত্বক বা মিউকাস মেমব্রেনের সমস্যার সঙ্গে আলসার থাকলে বিবেচ্য। রোগীর সামগ্রিক constitutional picture গুরুত্বপূর্ণ।
১১. Natrum muriaticum
বারবার মুখের আলসার, বিশেষ করে জিহ্বা ও ঠোঁটের ভেতরের অংশে। মানসিক চাপ বা আবেগজনিত সমস্যার সঙ্গে পুনঃপুন আলসার দেখা দিতে পারে। শুষ্কতা ও নির্দিষ্ট খাদ্য-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য থাকলে ঔষধটি বিবেচ্য।
১২. Natrum phosphoricum
অ্যাসিডিটি বা হজমের গোলমালের সঙ্গে মুখের আলসারের সম্পর্ক থাকলে বিবেচনা করা হয়। টকভাব, অম্লতা এবং খাদ্য-সম্পর্কিত উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকতে পারে।
১৩. Natrum sulphuricum
হজমের গোলমাল ও অন্যান্য constitutional লক্ষণের সঙ্গে মুখে পুনঃপুন আলসারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য।
১৪. Acidum nitricum
গভীর, অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কাঁটার মতো বা বিদ্ধ করার মতো ব্যথা। আলসারে সামান্য স্পর্শেও তীব্র ব্যথা এবং রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ।
১৫. Acidum muriaticum
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে অত্যন্ত বেদনাদায়ক আলসার, দুর্বলতা এবং মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির ক্ষয়জনিত অবস্থায় বিবেচ্য।
১৬. Acidum sulphuricum
মুখে জ্বালা ও আলসার, বিশেষ করে দুর্বলতা ও অন্যান্য constitutional বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে। মুখের মিউকাস মেমব্রেনে অত্যন্ত সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।
১৭. Acidum phosphoricum
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক বা শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে মুখের আলসার দেখা দিলে বিবেচনা করা হয়। রোগীর সামগ্রিক দুর্বলতা ও মানসিক অবসাদ গুরুত্বপূর্ণ।
১৮. Mercurius iodatus flavus
মুখ ও গলার মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ এবং আলসারেটিভ পরিবর্তনের সঙ্গে বিবেচ্য। জিহ্বা ও গলার লক্ষণ একসঙ্গে থাকলে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণচিত্র মূল্যায়ন করতে হয়।
১৯. Mercurius iodatus ruber
গলা ও মুখের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ ও আলসারের সঙ্গে ব্যবহারের কথা Materia Medica-তে পাওয়া যায়। গলার লক্ষণ বিশেষভাবে মূল্যায়নযোগ্য।
২০. Phosphorus
মুখে আলসার, মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখের শুষ্কতা বা জ্বালার সঙ্গে এবং সহজে রক্তপাতের প্রবণতা থাকলে বিবেচ্য। রোগীর সাধারণ constitutional লক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২১. Lachesis
মুখ ও গলার মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ, গাঢ় বর্ণের বা সহজে রক্তপাতকারী ক্ষত এবং নির্দিষ্ট constitutional বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আলসারে বিবেচনা করা হয়।
২২. Hepar sulphuris calcareum
অত্যন্ত সংবেদনশীল, স্পর্শে ব্যথাযুক্ত এবং প্রদাহজনিত মুখের আলসারে গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডায় সমস্যা বৃদ্ধি এবং উষ্ণতা থেকে আরামের বৈশিষ্ট্য থাকলে বিশেষভাবে বিবেচ্য।
২৩. Silicea
বারবার মুখে আলসার হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী মিউকাস মেমব্রেনের সমস্যা এবং রোগীর বিশেষ constitutional বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মুখের ঘায়ে বিবেচনা করা হয়।
২৪. Calcarea fluorica
দীর্ঘস্থায়ী বা শক্ত প্রান্তযুক্ত ক্ষত এবং দাঁত বা মুখের গঠনগত সমস্যার সঙ্গে মুখের আলসারে differential হিসেবে বিবেচ্য।
২৫. Calcarea carbonica
পুনঃপুন মুখের ঘা, দুর্বলতা এবং রোগীর নির্দিষ্ট constitutional লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা যায়।
২৬. Graphites
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বা আলসার এবং ত্বকের অন্যান্য constitutional সমস্যার সঙ্গে বিবেচ্য।
২৭. Alumina
মুখের শুষ্কতা, মিউকাস মেমব্রেনের সংবেদনশীলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যসহ constitutional picture থাকলে বিবেচনা করা হয়।
২৮. Carbo vegetabilis
দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস, মুখের দুর্বলতা, মাড়ির সমস্যা এবং মুখের মিউকাস মেমব্রেনে আলসারের সঙ্গে বিশেষ constitutional লক্ষণ থাকলে বিবেচ্য।
২৯. Kreosotum
মুখে দুর্গন্ধ, মাড়ির সমস্যা, রক্তপাত এবং ক্ষয়প্রবণতার সঙ্গে মুখের আলসারের ক্ষেত্রে differential medicine হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৩০. Sepia
বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে hormonal পরিবর্তন বা মাসিকের সঙ্গে মুখের আলসারের পুনরাবৃত্তি সম্পর্কিত হলে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচনা করা যায়।
৩১. Pulsatilla
হজমের গোলমাল, খাদ্য-অসহিষ্ণুতা এবং বিশেষ constitutional বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মুখের আলসার হলে বিবেচ্য। রোগীর তৃষ্ণা ও খাদ্যসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩২. Nux vomica
অতিরিক্ত মসলা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিভোজন, হজমের গোলমাল এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে মুখের ঘা হলে বিবেচনা করা হয়।
৩৩. Sulphuricum acidum
মুখে জ্বালা ও ক্ষত, দুর্বলতা এবং নির্দিষ্ট constitutional লক্ষণের সঙ্গে আলসারে differential হিসেবে বিবেচ্য।
৩৪. Cistus canadensis
মুখ ও গলার মিউকাস মেমব্রেনে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, শুষ্কতা ও আলসারেটিভ অবস্থায় Materia Medica-তে উল্লেখযোগ্য।
৩৫. Cinnabaris
মুখ ও গলার মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহ এবং আলসারের সঙ্গে নির্দিষ্ট constitutional লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
৩৬. Mezereum
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে আলসার এবং তীব্র ব্যথা, বিশেষত মুখের অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিল থাকলে differential হিসেবে বিবেচ্য।
৩৭. Ranunculus sceleratus
মুখ ও জিহ্বায় জ্বালা, ক্ষত ও আলসারেটিভ পরিবর্তনের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
৩৮. Baptisia
মুখে দুর্গন্ধ, জিহ্বায় আবরণ, মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ এবং অসুস্থতার সামগ্রিক septic বা toxic picture-এর সঙ্গে মুখের আলসারে differential হিসেবে বিবেচ্য।
৩৯. Borax
বিশেষ করে শিশুদের মুখের আলসার, মুখের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা এবং সামান্য স্পর্শে ব্যথা হলে পুনরায় বিশেষভাবে বিবেচনা করা যায়।
৪০. Sulphurous acid
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে জ্বালা, ক্ষয় ও আলসারের সঙ্গে নির্দিষ্ট constitutional লক্ষণ থাকলে differential হিসেবে বিবেচ্য।
৪১. Kali muriaticum
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে সাদা আবরণ, প্রদাহ এবং আলসারেটিভ পরিবর্তনের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
৪২. Kali sulphuricum
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ ও আলসারের সঙ্গে এবং নির্দিষ্ট constitutional লক্ষণ থাকলে বিবেচ্য।
৪৩. Phytolacca decandra
মুখ, জিহ্বা ও গলার প্রদাহ, ব্যথা ও আলসারের সঙ্গে গলার লক্ষণ থাকলে differential medicine হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
৪৪. Rhus toxicodendron
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে ক্ষত বা আলসার এবং নির্দিষ্ট rheumatic বা constitutional লক্ষণের সঙ্গে বিবেচ্য।
৪৫. Thuja occidentalis
বারবার মুখের আলসার, মিউকাস মেমব্রেনের বিশেষ সংবেদনশীলতা এবং রোগীর সামগ্রিক constitutional লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচনা করা যায়।
৪৬. Mercurius cyanatus
গুরুতর ulcerative অবস্থায় মুখ ও গলার মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষত এবং systemic illness-এর সঙ্গে differential হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের গুরুতর অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।
৪৭. Kreosotum
মাড়ির রক্তপাত, দুর্গন্ধ, ক্ষয়প্রবণতা ও মুখের আলসার একসঙ্গে থাকলে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণচিত্রের ভিত্তিতে বিবেচ্য।
৪৮. Capsicum
মুখ ও গলায় জ্বালা, প্রদাহ এবং নির্দিষ্ট constitutional বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আলসারে বিবেচনা করা যায়।
৪৯. Cantharis
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে তীব্র জ্বালা ও প্রদাহের সঙ্গে ulcerative condition থাকলে differential হিসেবে বিবেচ্য।
৫০. Apis mellifica
মুখের মিউকাস মেমব্রেনে স্ফীতি, জ্বালা, স্পর্শকাতরতা ও oedematous ধরনের প্রদাহের সঙ্গে আলসারের লক্ষণ থাকলে বিবেচ্য।
ঔষধ নির্বাচনের মূলনীতি
একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জন্য মুখের আলসারে শুধু ঔষধের নাম জানা যথেষ্ট নয়। কোন রোগীর জন্য কোন ঔষধ প্রযোজ্য তা নির্ণয় করাই চিকিৎসার মূল বিষয়।
উদাহরণস্বরূপ:
গভীর আলসার + কাঁটার মতো ব্যথা + স্পর্শে ব্যথা → Nitric acid
অত্যন্ত সংবেদনশীল মুখ + শিশুর আলসার → Borax
লালা বেশি + দুর্গন্ধ + মাড়ি থেকে রক্তপাত → Mercurius
জ্বালা + অস্থিরতা + উষ্ণতা থেকে আরাম → Arsenicum album
গভীর ও নির্দিষ্ট সীমাযুক্ত আলসার + আঠালো স্রাব → Kali bichromicum
স্পর্শে অত্যন্ত ব্যথা + ঠান্ডায় বৃদ্ধি + উষ্ণতায় আরাম → Hepar sulph
বারবার আলসার + constitutional picture → Natrum muriaticum, Sulphur, Silicea, Phosphorus ইত্যাদি differential হিসেবে বিবেচনা
এগুলো কেবল লক্ষণভিত্তিক দিকনির্দেশনা; একই রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক ঔষধের কিছু লক্ষণ মিলতে পারে। তাই রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, Modalities, concomitants এবং constitutional picture বিচার করে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।
Repertory-ভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন
মুখের আলসারে Repertory ব্যবহার করার সময় রোগীর প্রকৃত লক্ষণ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট rubric নির্বাচন করতে হবে। যেমন:
Mouth – Ulcers
Mouth – Ulcers – painful
Mouth – Ulcers – burning
Mouth – Ulcers – bleeding
Mouth – Ulcers – tongue
Mouth – Ulcers – lips – inside
Mouth – Ulcers – gums
Mouth – Ulcers – recurrent
Mouth – Ulcers – deep
Mouth – Ulcers – touch – sensitive
Mouth – Ulcers – eating – aggravates
Mouth – Ulcers – children
তবে repertory-এর rubric-এর সঠিক শব্দ ও grade ব্যবহারের আগে ব্যবহৃত repertory-এর নির্দিষ্ট সংস্করণ যাচাই করা উচিত। Repertory কেবল সম্ভাব্য ঔষধের তালিকা তৈরি করে; চূড়ান্ত নির্বাচন Materia Medica দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
মুখের ঘায়ে খাদ্য ও দৈনন্দিন যত্ন
মুখের আলসারের সময়:
১. অতিরিক্ত ঝাল ও মসলা পরিহারযোগ্য।
২. অতিরিক্ত টক ও খুব লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
৩. খুব গরম খাবার ও পানীয় পরিহার করা উচিত।
৪. শক্ত ও খসখসে খাবার কম খাওয়া ভালো।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
৬. নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার রাখতে হবে।
৭. ধারালো দাঁত, ভাঙা ফিলিং, ডেনচার বা ব্রেসের ঘর্ষণ থাকলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাধারণ অ্যাফথাস আলসার সাধারণত নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তাই চিকিৎসার লক্ষ্য হওয়া উচিত কারণ শনাক্ত করা, ব্যথা ও অস্বস্তি কমানো এবং পুনরাবৃত্তির কারণ থাকলে তা চিহ্নিত করা।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
মুখের কোনো ঘা ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসক বা দন্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে। বিশেষ করে ঘা অস্বাভাবিক বড় হলে, বারবার রক্তপাত হলে, শক্ত বা অস্বাভাবিক গঠন হলে, দ্রুত বাড়লে বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘস্থায়ী মুখের ক্ষত কখনও কখনও গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
মুখের ঘার সঙ্গে যদি জ্বর, ত্বকে ঘা বা র্যাশ, যৌনাঙ্গে আলসার, চোখে প্রদাহ, জয়েন্টে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা বা রক্তপাত থাকে, তাহলে underlying systemic disease-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করে চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি।
বিশেষ সতর্কতা: মুখের আলসারকে সবসময় সাধারণ Aphthous ulcer ধরে নিজে নিজে চিকিৎসা করা উচিত নয়। রোগীর বয়স, আলসারের স্থায়িত্ব, অবস্থান, প্রকৃতি, পুনরাবৃত্তি এবং অন্যান্য উপসর্গ বিচার করে প্রয়োজনে দন্ত চিকিৎসক, মুখ ও চোয়াল বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
মুখের ঘা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় একটি নির্দিষ্ট “মুখের ঘার ঔষধ” না খুঁজে রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ। Materia Medica এবং Repertory—উভয় পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার করলে রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী differential medicine নির্বাচন আরও সুসংগঠিত করা যায়।
নিজে নিজে ঔষধ নির্বাচন বা দীর্ঘদিন সেবন না করে নিবন্ধিত ও যোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
DHMS, সরকারি নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে।
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
