| হোমিওপ্যাথি পাঠশালা |
জরায়ুর স্থানচ্যুতি বা Uterine Prolapse-এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
জরায়ুর স্থানচ্যুতি কী?
জরায়ু স্বাভাবিক অবস্থায় পেলভিসের ভেতরে বিভিন্ন পেশি, লিগামেন্ট ও সহায়ক টিস্যুর সাহায্যে অবস্থান করে। এসব পেশি ও লিগামেন্ট দুর্বল বা শিথিল হয়ে গেলে জরায়ু স্বাভাবিক অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে আসে। এই অবস্থাকে জরায়ুর স্থানচ্যুতি বা Uterine Prolapse বলা হয়।
অনেক সময় জরায়ুর সঙ্গে যোনিপথের সামনের বা পেছনের দেয়ালও নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। সামনের দেয়াল ও মূত্রথলি নিচে নেমে এলে Cystocele এবং পেছনের দেয়াল ও মলাশয়ের অংশ নেমে এলে Rectocele বলা হয়।
জরায়ুর স্থানচ্যুতি কেন হয়?
জরায়ুর স্থানচ্যুতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো:
১. একাধিকবার সন্তান প্রসব
২. প্রসবের সময় পেলভিক ফ্লোর বা Perineum-এর ক্ষতি
৩. বড় ওজনের সন্তান প্রসব
৪. প্রসবের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের অভাব
৫. দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ
৬. দীর্ঘস্থায়ী কাশি
৭. অতিরিক্ত ওজন
৮. দীর্ঘদিন ভারী জিনিস উত্তোলন
৯. বয়স বৃদ্ধি ও মেনোপজ-পরবর্তী টিস্যুর দুর্বলতা
১০. পেলভিক ফ্লোরের পেশি ও লিগামেন্টের দুর্বলতা
১১. প্রসবজনিত আঘাত বা পূর্ববর্তী পেলভিক অস্ত্রোপচার
শুধু অতিরিক্ত সহবাসকে জরায়ুর স্থানচ্যুতির সরাসরি কারণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। রোগীর সম্পূর্ণ শারীরিক অবস্থা ও ঝুঁকির কারণ বিবেচনা করতে হবে।
জরায়ুর স্থানচ্যুতির মাত্রা
জরায়ুর প্রোল্যাপ্স বিভিন্ন মাত্রায় হতে পারে। প্রচলিতভাবে নিচের দিকে নেমে আসার মাত্রা অনুযায়ী একে কয়েকটি পর্যায়ে বর্ণনা করা হয়।
প্রথম ডিগ্রি
জরায়ুর গ্রীবা বা Cervix স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নিচে নেমে যোনিপথের ভেতরে অবস্থান করে।
দ্বিতীয় ডিগ্রি
জরায়ুর গ্রীবা আরও নিচে নেমে যোনিপথের মুখের কাছাকাছি চলে আসে।
তৃতীয় ডিগ্রি
জরায়ুর গ্রীবা যোনিপথের মুখের বাইরে চলে আসে।
চতুর্থ ডিগ্রি বা Procidentia
সম্পূর্ণ জরায়ু যোনিপথের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
বর্তমানে প্রোল্যাপ্সের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনে নির্দিষ্ট Pelvic Organ Prolapse মাপনী ব্যবহার করা হয়।
জরায়ুর স্থানচ্যুতির প্রধান লক্ষণ
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী বলতে পারেন:
যোনিপথে কিছু নিচের দিকে নামছে বলে মনে হয়।
মনে হয় কোনো কিছু যোনিপথের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে।
দাঁড়ালে বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
শুয়ে থাকলে বা বিশ্রামে উপসর্গ কমে যায়।
কাশি, হাঁচি বা ভারী জিনিস তুললে নিচের দিকে চাপ বৃদ্ধি পায়।
মলত্যাগের সময় চাপ দিলে সমস্যা বেশি অনুভূত হয়।
কোমর ও তলপেটে ভারী ভাব বা ব্যথা থাকে।
যোনিপথে গুটি বা মাংসল অংশ অনুভূত হতে পারে।
মূত্রত্যাগে অসুবিধা হতে পারে।
বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে।
কাশি বা হাসির সময় প্রস্রাব ঝরে যেতে পারে।
মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগে অসুবিধা হতে পারে।
গুরুতর অবস্থায় জরায়ু যোনিপথের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
রোগ নির্ণয়
জরায়ুর স্থানচ্যুতি নির্ণয়ের জন্য রোগীর ইতিহাস, প্রসবের ইতিহাস, মূত্র ও মলত্যাগের সমস্যা এবং পেলভিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু লক্ষণ দেখে প্রোল্যাপ্সের মাত্রা নির্ণয় করা উচিত নয়। যোনিপথের বাইরে কোনো অংশ বেরিয়ে এলে বা মূত্রত্যাগে গুরুতর সমস্যা থাকলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সরাসরি পরীক্ষা করা জরুরি।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঔষধ নির্বাচনের দুটি ধাপ
জরায়ুর স্থানচ্যুতির ক্ষেত্রে রোগের নাম দেখে সরাসরি ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।
ঔষধ নির্বাচনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো:
প্রথম ধাপ: মেটেরিয়া মেডিকা অনুযায়ী লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন
দ্বিতীয় ধাপ: রেপার্টরি দ্বারা Rubric নির্বাচন ও Repertorization
এরপর Repertory-তে পাওয়া সম্ভাব্য ঔষধকে আবার Materia Medica দিয়ে যাচাই করতে হবে।
অর্থাৎ:
Case Taking → Characteristic Symptoms → Materia Medica → Repertory → Repertorization → Materia Medica Verification
প্রথম ধাপ: মেটেরিয়া মেডিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ নির্বাচন
১. সেপিয়া (Sepia)
জরায়ু নিচের দিকে টেনে নামছে বা সবকিছু বেরিয়ে আসবে এমন অনুভূতি। পেলভিসে ভারী ভাব। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালে বা পরিশ্রমে সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। শুয়ে থাকলে আরাম হতে পারে।
মূল ভাব: জরায়ু ও পেলভিক অঙ্গ নিচের দিকে টেনে নামছে।
২. লিলিয়াম টাইগ্রিনাম (Lilium tigrinum)
তীব্র bearing-down sensation। মনে হয় পেলভিসের সব অঙ্গ নিচের দিকে বেরিয়ে আসবে। রোগী বারবার যৌনাঙ্গের বাইরের অংশ চেপে ধরে রাখতে চান। চলাফেরায় সমস্যা বৃদ্ধি এবং বিশ্রামে উপশমের চিত্র থাকতে পারে।
মূল ভাব: তীব্র নিচের দিকে চাপ ও সবকিছু বেরিয়ে আসার অনুভূতি।
৩. মিউরেক্স (Murex)
জরায়ু নিচের দিকে টেনে নামার তীব্র অনুভূতি। পেলভিক অঞ্চলে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। যৌনাঙ্গে অস্বাভাবিক অনুভূতি ও bearing-down sensation-এর বিশেষ সমন্বয় থাকলে Murex বিবেচনা করা হয়।
৪. হেলোনিয়াস (Helonias)
ত্রিকাস্থি ও পেলভিক অঞ্চলে দুর্বলতা, ভারী ভাব, টান ধরার অনুভূতি এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি। দীর্ঘদিনের শারীরিক পরিশ্রম বা দুর্বলতার সঙ্গে জরায়ুর স্থানচ্যুতির লক্ষণ থাকতে পারে।
মূল ভাব: pelvic weakness + uterine prolapse + marked fatigue.
৫. অ্যালো (Aloe)
যোনিপথ দিয়ে কিছু বেরিয়ে আসছে এমন অনুভূতি। দাঁড়ালে বা মাসিকের সময় সমস্যা বৃদ্ধি। জরায়ুতে ভারী ভাব এবং কোমরে প্রসববেদনার মতো ব্যথা থাকতে পারে।
৬. আর্জেন্টাম মেটালিকাম (Argentum metallicum)
জরায়ু ও ডিম্বাশয় অঞ্চলে নিচের দিকে চাপ বা টান। জরায়ুর সমস্যা ও অন্যান্য অস্থিসন্ধি বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যথার বিশেষ সমন্বয় থাকলে বিবেচনা করা হয়।
৭. অরাম মেটালিকাম (Aurum metallicum)
জরায়ুর বৃদ্ধি বা স্থানচ্যুতির সঙ্গে Aurum-এর স্বতন্ত্র মানসিক ও শারীরিক লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়। তীব্র আত্মদোষারোপ বা গভীর হতাশার মতো মানসিক লক্ষণ থাকলে তা গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করতে হবে।
৮. অরাম মিউরিয়াটিকাম ন্যাট্রোনেটাম (Aurum muriaticum natronatum)
জরায়ুর গ্রীবার কঠিনতা, দীর্ঘস্থায়ী জরায়ু-সংক্রান্ত সমস্যা, জরায়ুর বৃদ্ধি বা স্থানচ্যুতির সঙ্গে স্বতন্ত্র Aurum mur nat লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
৯. ক্যালকেরিয়া কার্বোনিকা (Calcarea carbonica)
শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে সমস্যা, স্থূলতা এবং প্রসব-পরবর্তী দুর্বলতার সঙ্গে জরায়ুর স্থানচ্যুতি থাকলে Calcarea carbonica-এর লক্ষণসমষ্টি যাচাই করা যায়।
১০. ক্যালকেরিয়া সিলিকেটা (Calcarea silicata)
দীর্ঘস্থায়ী ও ধীরে বিকশিত টিস্যু দুর্বলতার সঙ্গে পেলভিক ভারী ভাব, জরায়ুর স্থানচ্যুতি এবং স্বতন্ত্র Calcarea silicata লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
১১. এরিজেরন (Erigeron)
জরায়ু থেকে রক্তস্রাবের সঙ্গে মূত্রথলি বা মলাশয়ে জ্বালা এবং জরায়ুর স্থানচ্যুতির লক্ষণ থাকলে Erigeron-এর মেটেরিয়া মেডিকা দেখা যেতে পারে।
১২. ফ্র্যাক্সিনাস আমেরিকানা (Fraxinus americana)
জরায়ুর বৃদ্ধি, স্থানচ্যুতি, প্রসব-পরবর্তী জরায়ুর স্বাভাবিক আকারে ফিরে না আসা এবং জরায়ুর অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে বিশেষ লক্ষণসমষ্টি থাকলে Fraxinus americana বিবেচনা করা হয়।
১৩. ফেরাম আয়োডাটাম (Ferrum iodatum)
জরায়ুর পশ্চাৎ-বক্রতা বা Retroversion-এর সঙ্গে তলপেট থেকে যোনিপথ দিয়ে কিছু বেরিয়ে আসার অনুভূতি এবং স্বতন্ত্র Ferrum iodatum লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
১৪. ফেরাম ব্রোমাটাম (Ferrum bromatum)
প্রসবের পর জরায়ুর প্রোল্যাপ্স, সাদা স্রাব এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালার মতো স্বতন্ত্র লক্ষণ থাকলে মেটেরিয়া মেডিকা অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
১৫. ল্যাপ্পা আরক্টিয়াম (Lappa arctium)
জরায়ুতে ক্ষতবৎ বা থেঁতলে যাওয়ার অনুভূতি, জরায়ুর স্থানচ্যুতি এবং যোনি ও পেলভিক টিস্যুর শিথিলতা। দাঁড়ালে, হাঁটলে বা আকস্মিক ঝাঁকুনিতে উপসর্গ বৃদ্ধি পেতে পারে।
১৬. মেলিলোটাস? / মেল কুম সেল (Mel cum sal)
জরায়ুর স্থানচ্যুতি ও পুরোনো প্রদাহের সঙ্গে জরায়ুর সামান্য বৃদ্ধি এবং Cervix-এর প্রদাহ থাকলে বিবেচনা করা হয়। তলপেটের এক পাশ থেকে অন্য পাশে আড়াআড়ি টান বা ব্যথা বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
১৭. প্যালেডিয়াম (Palladium)
বিশেষ করে ডানদিকের ডিম্বাশয় অঞ্চলের ব্যথা, জরায়ুর পশ্চাৎদিকে স্থানচ্যুতি বা Retroversion এবং কোমর বা পিঠের ব্যথার সঙ্গে স্বতন্ত্র Palladium লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
১৮. পডোফাইলাম (Podophyllum)
বিশেষত প্রসবের পর জরায়ুর স্থানচ্যুতি, পেলভিক চাপ এবং মলাশয়ের সমস্যা বা অর্শের সঙ্গে Podophyllum-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
১৯. রাস টক্সিকোডেনড্রন (Rhus toxicodendron)
অতিরিক্ত চাপ, কোঁথানি বা ভারী বস্তু উত্তোলনের পর জরায়ুর প্রোল্যাপ্সের উপসর্গ শুরু হলে এবং Rhus tox-এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকলে ঔষধটির মেটেরিয়া মেডিকা যাচাই করা হয়।
২০. স্ট্যানাম (Stannum)
নিচের দিকে ঠেলা বা bearing-down pain, জরায়ু বেরিয়ে আসার অনুভূতি, পাকস্থলীতে দুর্বলতা ও প্রচণ্ড অবসন্নতার সঙ্গে স্বতন্ত্র Stannum লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
২১. ট্রিলিয়াম পেন্ডুলাম (Trillium pendulum)
জরায়ু থেকে অতিরিক্ত রক্তস্রাবের সঙ্গে কোমর ও পিঠ ভেঙে যাওয়ার মতো অনুভূতি। শক্ত করে বেঁধে রাখলে উপশম এবং সামান্য নড়াচড়ায় উজ্জ্বল রক্তস্রাব বেড়ে যাওয়ার চিত্র থাকলে Trillium pendulum গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২২. প্যালাডিয়াম, পডোফাইলাম ও ফ্র্যাক্সিনাস
এই ঔষধগুলো শুধুমাত্র “জরায়ু নেমে গেছে” এই সাধারণ লক্ষণের ভিত্তিতে নির্বাচন করা উচিত নয়। প্রত্যেকটির নিজস্ব characteristic symptoms, concomitant symptoms এবং modalities মিলিয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: Kent Repertory দ্বারা ঔষধ নির্বাচন
রোগীর কেস অনুযায়ী উপযুক্ত Rubric নির্বাচন করতে হবে। জরায়ুর প্রোল্যাপ্সের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ Rubric হলো:
Female Genitalia → Prolapse → Uterus
এর সঙ্গে রোগীর বিশেষ লক্ষণ অনুযায়ী আরও নির্দিষ্ট Rubric যোগ করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ Rubric ও নির্বাচনী লক্ষণ
Prolapse, uterus
জরায়ুর স্থানচ্যুতির প্রধান Rubric।
Prolapse, uterus, bearing down
জরায়ু নিচের দিকে টেনে নামার অনুভূতি।
Prolapse, uterus, standing, agg.
দাঁড়ালে সমস্যা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, lying down, amel.
শুয়ে থাকলে উপশম।
Prolapse, uterus, walking, agg.
হাঁটলে সমস্যা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, confinement, after
প্রসবের পর প্রোল্যাপ্সের উপসর্গ।
Prolapse, uterus, menses, during
মাসিকের সময় সমস্যা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, stool, during
মলত্যাগের সময় প্রোল্যাপ্সের সমস্যা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, urination, during
প্রস্রাবের সময় সমস্যা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, lifting, from
ভারী জিনিস উত্তোলনের পর সমস্যা শুরু বা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, straining, from
কোঁথানি বা অতিরিক্ত চাপের পর প্রোল্যাপ্সের সমস্যা।
Prolapse, uterus, crossing legs, amel.
পা ক্রস করলে bearing-down sensation কমে।
Prolapse, uterus, reaching up, from
হাত উপরে তোলার বা reaching করার পর সমস্যা বৃদ্ধি।
Prolapse, uterus, morning
সকালে সমস্যা বেশি।
Prolapse, uterus, afternoon
বিকেলে সমস্যা বৃদ্ধি।
এই Rubric-গুলোর সঠিক নাম ও grade ব্যবহৃত Repertory-এর সংস্করণ অনুযায়ী যাচাই করা উচিত। একই Rubric-এর অবস্থান Kent, Boger বা অন্যান্য Repertory-তে ভিন্ন হতে পারে।
Repertory-তে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ঔষধসমূহ
প্রধান Rubric Prolapse, uterus-এ বিভিন্ন Materia Medica-র বহু ঔষধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রোগীর বিশেষ লক্ষণ অনুযায়ী বিশেষভাবে যাচাই করা যেতে পারে:
Aesculus, Aloe, Argentum metallicum, Aurum, Belladonna, Bryonia, Calcarea carbonica, Causticum, Conium, Ferrum, Fraxinus americana, Graphites, Helonias, Lachesis, Lilium tigrinum, Lycopodium, Murex, Natrum muriaticum, Palladium, Podophyllum, Pulsatilla, Rhus toxicodendron, Sepia, Silicea, Stannum, Sulphur, Trillium pendulum প্রভৃতি।
তবে Repertory-তে কোনো ঔষধের নাম বেশি উপরে আসলেই সেটিকে চূড়ান্ত ঔষধ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। রোগীর characteristic symptoms-এর সঙ্গে Materia Medica-র মিল থাকা জরুরি।
মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরি একসঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করবেন?
প্রথমে Case Taking
রোগীর কাছ থেকে জানতে হবে:
প্রোল্যাপ্স কখন শুরু হয়েছে?
প্রসবের পর শুরু হয়েছে কি না?
দাঁড়ালে বাড়ে কি?
হাঁটলে বাড়ে কি?
শুয়ে থাকলে কমে কি?
মলত্যাগে চাপ দিলে বাড়ে কি?
কাশি বা হাঁচিতে বাড়ে কি?
ভারী জিনিস তুললে বাড়ে কি?
মাসিকের আগে, সময় বা পরে কী পরিবর্তন হয়?
মূত্রত্যাগে কী সমস্যা হচ্ছে?
কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কি?
যোনিপথে স্রাব আছে কি?
ব্যথার স্থান ও প্রকৃতি কী?
কোন অবস্থায় উপশম বা বৃদ্ধি হয়?
রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য কী?
এরপর Materia Medica
রোগীর সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণগুলো নিয়ে সম্ভাব্য ঔষধের Materia Medica মিলিয়ে দেখতে হবে।
এরপর Repertory
প্রধান characteristic symptoms-এর উপযুক্ত Rubric নির্বাচন করে Repertorization করতে হবে।
শেষে পুনরায় Materia Medica
Repertory-তে পাওয়া সম্ভাব্য ঔষধগুলোর মধ্যে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঔষধটি Materia Medica দিয়ে পুনরায় যাচাই করতে হবে।
এভাবে শুধু রোগের নাম নয়, রোগীর Totality of Symptoms-এর ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করা যায়।
সহায়ক করণীয়
জরায়ুর প্রোল্যাপ্সে রোগীর দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে।
ভারী জিনিস উত্তোলন এড়িয়ে চলতে হবে।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ও অতিরিক্ত পরিশ্রম কমাতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকলে তার কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা দরকার।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত।
পেলভিক ফ্লোরের ব্যায়াম প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে করা যেতে পারে।
প্রসবের পর মায়ের পুষ্টি, বিশ্রাম ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফেরার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রোল্যাপ্স বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Pessary ব্যবহার করা যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা
যোনিপথের বাইরে জরায়ু বা কোনো টিস্যু বেরিয়ে এলে অবহেলা করা উচিত নয়।
প্রচুর রক্তস্রাব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
তীব্র ব্যথা, জ্বর, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা বেরিয়ে আসা টিস্যুতে ক্ষত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গুরুতর প্রোল্যাপ্সে শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় স্ত্রীরোগ চিকিৎসা বিলম্বিত করা উচিত নয়।
উপসংহার
জরায়ুর স্থানচ্যুতি বা Uterine Prolapse একটি পেলভিক সাপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা। প্রসবজনিত আঘাত, একাধিক সন্তান প্রসব, বয়সজনিত টিস্যু দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, কাশি ও অতিরিক্ত শারীরিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে ঔষধ নির্বাচন করতে হলে প্রথমে রোগীর Characteristic Symptoms সংগ্রহ করে Materia Medica অনুযায়ী সম্ভাব্য ঔষধ নির্বাচন এবং পরে Kent বা Boger Repertory-র সাহায্যে Rubric নির্বাচন ও Repertorization করা যেতে পারে। Repertory-র ফলাফল আবার Materia Medica দিয়ে যাচাই করাই হবে চূড়ান্ত নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
তবে জরায়ুর প্রোল্যাপ্সের ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা ও প্রোল্যাপ্সের মাত্রা নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর অবস্থায় Pessary, পেলভিক ফ্লোর চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের মতো প্রচলিত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাই রোগীর অবস্থা অনুযায়ী যোগ্য ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
লেখক
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে। মোবাইল নাম্বার - 01716651488
