হৃদরোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন ও জরুরি স্বাস্থ্যসচেতনতা
জরুরি সতর্কতা
হৃদরোগের কিছু উপসর্গ জীবনসংকটের পূর্বাভাস হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ বা নতুন ধরনের বুকে চাপ, চেপে ধরা বা তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া অথবা বুকের ব্যথা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে হবে। নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপসর্গের ধরন কিছুটা ভিন্নও হতে পারে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতে বসে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেয়ে অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে এবং রোগীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে। হার্ট অ্যাটাক একটি জরুরি চিকিৎসাগত অবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোগী অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুযায়ী সিপিআর শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর চিকিৎসকের পূর্বনির্ধারিত জরুরি ওষুধ থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে কখনোই হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো জরুরি হৃদরোগের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
হৃদরোগ কী?
হৃদরোগ বলতে হৃদপিণ্ড ও হৃদযন্ত্রের রক্তনালির বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এর মধ্যে করোনারি হৃদরোগ, হৃদপিণ্ডের ছন্দের সমস্যা, হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা, ভালভের রোগসহ বিভিন্ন অবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
করোনারি ধমনিতে সংকোচন বা রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে বুকব্যথা বা এনজাইনার মতো উপসর্গ হতে পারে এবং গুরুতর অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির মধ্যে তামাক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ রক্তশর্করা এবং অস্বাভাবিক রক্তের চর্বি অন্যতম।
হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
বুকে চাপ, ভারীভাব বা চেপে ধরা অনুভূতি
বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি
ব্যথা বাম বা উভয় হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া
শ্বাসকষ্ট
ঠান্ডা ঘাম
বমি বমি ভাব বা বমি
মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা
অস্বাভাবিক বুক ধড়ফড়
হঠাৎ অস্থিরতা বা তীব্র অস্বস্তি
এসব লক্ষণ একসঙ্গে অথবা আলাদাভাবে দেখা দিতে পারে। তাই নতুন বা অস্বাভাবিক বুকের উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়।
হোমিওপ্যাথিতে হৃদরোগের লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “হৃদরোগ” নামটির ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন করা হয় না। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, ব্যথার প্রকৃতি, ব্যথার স্থান ও বিস্তার, কোন অবস্থায় উপসর্গ বাড়ে বা কমে, মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য, সহগামী উপসর্গ এবং রোগীর সামগ্রিক রোগচিত্র বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।
রেপার্টরিতে হৃদযন্ত্র ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন উপসর্গের জন্য বহু ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।
Cardiac orifice – Contraction
Alum., Bar. m., Bry., Datura, Phos., Plumb. m. প্রভৃতি।
Cardialgia – Pain
Agar., Arg. n., Asaf., Bar. c., Bism., Can. ind., Carbo v., Caul., Cupr. m., Ferr. cy., Ferr. tart., Ign., Mag. m., Nat. m., Nit. ac., Nux v., Oniscus, Stront. c., Thea প্রভৃতি।
Cardiospasm – Spasmodic contraction with pain
Æth., Agar., Am. c., Arg. n., Ars., Bell., Calc. c., Caul., Con., Hyos., Ign., Nat. m., Nux v., Phos., Puls., Rhus t., Sep., Sil. প্রভৃতি।
রেপার্টরিতে কোনো ঔষধের উপস্থিতি মানেই সেই ঔষধ নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা করবে—এমন নয়। রেপার্টরি সম্ভাব্য ঔষধের ক্ষেত্র নির্ধারণে সহায়তা করে; চূড়ান্ত নির্বাচন রোগীর স্বতন্ত্র লক্ষণসমষ্টি ও মেটেরিয়া মেডিকার সঙ্গে মিলিয়ে করতে হয়।
হৃদরোগে আলোচিত কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
১. Cactus grandiflorus
হৃদপিণ্ডের চারপাশে শক্ত করে বাঁধা বা চেপে ধরা অনুভূতি Cactus-এর পরিচিত হোমিওপ্যাথিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিবেচ্য লক্ষণ—
বুক শক্ত করে বাঁধা বা চেপে ধরা অনুভূতি
হৃদপিণ্ডের অঞ্চলে চাপ বা ব্যথা
ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট
বুকের উপসর্গের সঙ্গে উপযুক্ত অন্যান্য characteristic symptom
রোগীর সামগ্রিক লক্ষণচিত্রের সঙ্গে মিল থাকলে Cactus repertorial consideration-এ আসতে পারে।
২. Digitalis
হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকায় Digitalis-এর সঙ্গে হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা, ধীর বা অনিয়মিত নাড়ি এবং সামান্য নড়াচড়ায় উপসর্গ বৃদ্ধির মতো লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে।
বিবেচ্য লক্ষণ—
হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার অনুভূতি
ধীর বা অনিয়মিত নাড়ি
সামান্য নড়াচড়ায় উপসর্গ বৃদ্ধি
বুক ধড়ফড়
শ্বাসকষ্ট
বাম দিকে শোয়ার অসুবিধা
তবে এসব উপসর্গ গুরুতর হৃদরোগেও দেখা যেতে পারে। তাই প্রথমে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও জরুরি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
৩. Spigelia
হৃদপিণ্ডের অঞ্চলে তীব্র বা সুচ ফোটার মতো ব্যথা এবং জোরে হৃদস্পন্দন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে নির্দিষ্ট অবস্থাগত পরিবর্তন থাকলে Spigelia বিবেচনায় আসতে পারে।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়—
হৃদপিণ্ডের অঞ্চলে সুচ ফোটার মতো ব্যথা
জোরে ও স্পষ্টভাবে হৃদস্পন্দন অনুভূত হওয়া
বাম দিকে শুলে উপসর্গ বৃদ্ধি
বুকের উপসর্গের সঙ্গে অন্যান্য characteristic symptom
৪. Convallaria
হৃদযন্ত্রের উপসর্গের সঙ্গে সামান্য পরিশ্রমেই বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ থাকলে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণচিত্র অনুযায়ী Convallaria বিবেচনা করা হয়।
বিবেচ্য লক্ষণ—
সামান্য পরিশ্রমে বুক ধড়ফড়
ব্যায়াম বা পরিশ্রমের সময় উপসর্গ বৃদ্ধি
হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার অনুভূতি
উপযুক্ত clinical picture
৫. Crataegus
Crataegus হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে হৃদযন্ত্র ও রক্তসঞ্চালন-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপসর্গের সঙ্গে আলোচিত একটি ঔষধ।
বিবেচ্য লক্ষণ—
বুক ধড়ফড়
হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার অনুভূতি
হৃদপিণ্ডের অঞ্চলে অস্বস্তি
পরিশ্রমের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক
Crataegus-কে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন “হৃদযন্ত্রের টনিক” হিসেবে ব্যবহার না করে রোগীর প্রকৃত রোগ নির্ণয় ও সম্পূর্ণ case picture বিবেচনা করা উচিত।
৬. Arjuna
Arjuna হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সাহিত্যে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গের জন্য আলোচিত একটি ঔষধ।
বিবেচ্য লক্ষণ—
বুক ধড়ফড়
হৃদপিণ্ডের অঞ্চলে ব্যথা বা অস্বস্তি
দুর্বলতা
হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক অনুভূতি
এক্ষেত্রেও হৃদযন্ত্রের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৭. Caladium
বিশেষ করে ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত বুক ধড়ফড় বা অন্যান্য উপসর্গের ক্ষেত্রে Caladium-এর উল্লেখ হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে পাওয়া যায়।
তবে ধূমপানের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে মূল স্বাস্থ্যব্যবস্থা হলো তামাক সম্পূর্ণ বর্জন করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা।
আরও যেসব ঔষধ লক্ষণভেদে বিবেচনায় আসতে পারে
রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ, রোগের ধরন এবং repertorial analysis অনুযায়ী নিম্নলিখিত ঔষধগুলোর কথা বিবেচনায় আসতে পারে—
Aconitum
Argentum nitricum
Arsenicum album
Aurum metallicum
Bryonia
Calcarea carbonica
Cactus grandiflorus
Crataegus
Digitalis
Gelsemium
Glonoinum
Kalmia
Lachesis
Lycopodium
Naja
Natrum muriaticum
Nux vomica
Phosphorus
Pulsatilla
Rhus toxicodendron
Sepia
Spigelia
Sulphur
Tabacum
Veratrum album
এটি কোনো “এক রোগে এক ওষুধের” তালিকা নয়। একই ধরনের হৃদরোগের উপসর্গ থাকলেও বিভিন্ন রোগীর জন্য ভিন্ন ঔষধের indication থাকতে পারে।
Repertory-ভিত্তিক case-taking
হৃদরোগের ক্ষেত্রে শুধু “বুকে ব্যথা” লিখে case-taking শেষ করলে লক্ষণসমষ্টি অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।
ব্যথার প্রকৃতি
চাপধরা
চেপে ধরা
সুচ ফোটার মতো
জ্বালাপোড়া
টান ধরা
ছিঁড়ে যাওয়ার মতো
ব্যথার স্থান ও বিস্তার
বুকের মাঝখান
বাম বুক
ডান বুক
বাম হাত
কাঁধ
পিঠ
ঘাড়
চোয়াল
Aggravation বা যে অবস্থায় উপসর্গ বাড়ে
হাঁটলে
সিঁড়ি উঠলে
সামান্য পরিশ্রমে
মানসিক উত্তেজনায়
ঠান্ডায়
গরমে
শুয়ে
বাম দিকে শুয়ে
খাবারের পরে
Amelioration বা যে অবস্থায় উপসর্গ কমে
বিশ্রামে
বসে
জানালা খুললে
ঠান্ডা বাতাসে
বিশেষ কোনো অবস্থানে
চাপ দিলে বা চাপ না দিলে
Concomitant symptoms
শ্বাসকষ্ট
ঘাম
মাথা ঘোরা
বমি বমি ভাব
অস্থিরতা
দুর্বলতা
বুক ধড়ফড়
অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা
এসব characteristic symptom repertory এবং materia medica-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণচিত্র অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
হৃদরোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন
হৃদরোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন—
রক্তচাপ পরীক্ষা
ইসিজি
ইকোকার্ডিওগ্রাম
রক্তের শর্করা
রক্তের লিপিড প্রোফাইল
প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা
প্রয়োজন অনুযায়ী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের ক্ষেত্রে শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে রোগের প্রকৃত কারণ ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা সম্পর্কে যথাযথ মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদরোগ প্রতিরোধে জীবনযাপনের গুরুত্ব
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামাক বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিহার করুন।
অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কমান।
শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
রক্তের কোলেস্টেরল ও অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করুন।
শরীরের ওজন স্বাস্থ্যকর সীমায় রাখার চেষ্টা করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দিন।
হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি হলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, তামাক বর্জন, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং উচ্চ রক্তচাপসহ পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সতর্কতা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন একটি পৃথক clinical skill। তবে হার্ট অ্যাটাক, গুরুতর হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, acute heart failure বা অন্য কোনো cardiac emergency-এর ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা বিলম্ব করা উচিত নয়।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধকে জরুরি হৃদরোগের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের ক্ষেত্রে রোগীর রোগ নির্ণয়, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্তচাপ, রক্তের পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় cardiac evaluation-এর তথ্য বিবেচনা করে দায়িত্বশীল চিকিৎসা পরিকল্পনা করা উচিত।
কোনো চলমান হৃদরোগের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
উপসংহার
হৃদরোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। বুকের ব্যথা বা বুক ধড়ফড়কে সবসময় সাধারণ সমস্যা মনে করা উচিত নয়। বিশেষ করে হঠাৎ বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, repertory এবং materia medica-এর সমন্বিত বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রোগীর নিরাপত্তা, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সর্বাগ্রে।
নিজে নিজে হৃদরোগের চিকিৎসা করবেন না। দক্ষ ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
লেখক
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
গভঃ রেজিঃ নং: ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
