প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি কী?
প্রস্টেট হলো পুরুষের মূত্রথলির নিচে অবস্থিত একটি গ্রন্থি, যা মূত্রনালির একটি অংশকে ঘিরে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক পুরুষের প্রস্টেটের আকার বৃদ্ধি পেতে পারে। ক্যানসার ছাড়া বয়সজনিত এই বৃদ্ধিকে বলা হয় Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বা সৌম্য প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি।
প্রস্টেট বড় হলে মূত্রনালির ওপর চাপ পড়তে পারে। ফলে প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব শেষ হওয়ার পরও কয়েক ফোঁটা পড়া এবং মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
প্রস্টেটের বৃদ্ধি আর Prostatitis বা প্রস্টেটের প্রদাহ এক বিষয় নয়। প্রস্টেটের বৃদ্ধি সাধারণত বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর প্রস্টাটাইটিস হলো প্রস্টেটের প্রদাহ বা প্রদাহজনিত সমস্যা।
প্রস্টেট বৃদ্ধির প্রধান লক্ষণ
প্রস্টেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে—
১. প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া।
২. প্রস্রাবের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়া।
৩. প্রস্রাবের ধারা সরু বা দুর্বল হওয়া।
৪. থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া।
৫. অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব হওয়া।
৬. রাতে একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য উঠতে হওয়া।
৭. হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের বেগ আসা।
৮. প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি পুরো খালি হয়নি এমন অনুভূতি।
৯. প্রস্রাবের শেষে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়া।
১০. কখনো প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা।
১১. দীর্ঘদিনের ক্ষেত্রে মূত্র আটকে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “প্রস্টেট বড় হয়েছে” এই একটি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন করা হয় না। রোগীর বয়স, প্রস্রাবের ধরন, প্রস্রাব শুরু হতে কত সময় লাগে, ধারা কেমন, মূত্রত্যাগের পর কী অনুভূতি হয়, পেরিনিয়ামের অনুভূতি, যৌন ইতিহাস, মানসিক লক্ষণ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধের সামগ্রিক লক্ষণচিত্র বিবেচনা করা হয়।
নিচে প্রস্টেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে আলোচিত কয়েকটি ঔষধের নির্বাচনী লক্ষণ দেওয়া হলো।
১. Conium maculatum — কোনিয়াম ম্যাকুলেটাম
বয়স্ক পুরুষের দীর্ঘদিনের প্রস্টেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ হিসেবে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বিবেচিত হয়।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- বয়স্ক পুরুষ।
- প্রস্টেট দীর্ঘদিন ধরে বড় হওয়ার প্রবণতা।
- প্রস্রাব থেমে থেমে হয়।
- প্রস্রাব শুরু হতে দেরি হয়।
- অল্প অল্প করে প্রস্রাব হয়।
- মূত্রত্যাগে বাধা বা দুর্বল ধারা।
- দীর্ঘদিনের প্রস্টেট সমস্যার সঙ্গে যৌন দুর্বলতার লক্ষণ থাকতে পারে।
মূল ভাব:
বয়স্ক পুরুষ + দীর্ঘস্থায়ী প্রস্টেট বৃদ্ধি + থেমে থেমে প্রস্রাব।

২. Sabal serrulata — সাবাল সেরুলাটা
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি ও মূত্রনালির উপসর্গের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বহুল আলোচিত ঔষধ।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- প্রস্টেট বৃদ্ধি।
- বারবার প্রস্রাবের বেগ।
- রাতে বারবার প্রস্রাব।
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল।
- প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট।
- মূত্রত্যাগের পরও মূত্রথলি পূর্ণ মনে হওয়া।
- প্রস্টেটের অঞ্চলে চাপ বা অস্বস্তি।
মূল ভাব:
প্রস্টেট বৃদ্ধি + দুর্বল প্রস্রাবের ধারা + ঘন ঘন প্রস্রাব।

৩. Chimaphila umbellata — কিমাফিলা আম্বেলাটা
প্রস্টেট বৃদ্ধির সঙ্গে মূত্রত্যাগে বিশেষ ধরনের কষ্ট থাকলে এটি বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- প্রস্রাব করতে প্রচণ্ড চাপ দিতে হয়।
- বসে প্রস্রাব করতে অসুবিধা।
- দাঁড়িয়ে বা বিশেষ ভঙ্গিতে প্রস্রাব তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
- মূত্রথলিতে চাপ বা ভারী অনুভূতি।
- প্রস্টেট অঞ্চলে অস্বস্তি।
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল।
মূল ভাব:
প্রস্টেট বৃদ্ধি + প্রবল কুঙ্হন করে প্রস্রাব + বিশেষ ভঙ্গিতে প্রস্রাবের পরিবর্তন।

৪. Baryta carbonica — ব্যারাইটা কার্বোনিকা
বয়স্ক ব্যক্তির প্রস্টেট বৃদ্ধি ও মূত্রত্যাগের দুর্বলতার সঙ্গে সামগ্রিক বার্ধক্যজনিত লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- বয়স্ক পুরুষ।
- প্রস্টেট বৃদ্ধি।
- প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট।
- দুর্বল মূত্রধারা।
- ঘন ঘন প্রস্রাব।
- শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার সামগ্রিক চিত্র।
মূল ভাব:
বয়স্ক ব্যক্তি + প্রস্টেট বৃদ্ধি + সামগ্রিক দুর্বলতা।
৫. Lycopodium clavatum — লাইকোপোডিয়াম
প্রস্টেট সমস্যার সঙ্গে মূত্রত্যাগের বিভিন্ন কার্যগত অসুবিধা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- প্রস্রাব শুরু হতে দেরি।
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল।
- প্রস্রাবের সময় ও পরে পেরিনিয়ামে চাপ বা অস্বস্তি।
- প্রস্রাবের পরও বেগ থেকে যায়।
- মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি।
- হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সহায়ক লক্ষণ থাকতে পারে।
মূল ভাব:
প্রস্টেটের সমস্যা + প্রস্রাবের পরও বেগ + পেরিনিয়ামে চাপ।
৬. Digitalis purpurea — ডিজিটালিস
মূত্রত্যাগের প্রবল বেগ থাকলেও খুব অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাবের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কুঙ্হনের প্রয়োজন হলে লক্ষণভেদে বিবেচনা করা হয়।
মূল লক্ষণ:
- বারবার প্রস্রাবের বেগ।
- অল্প অল্প প্রস্রাব।
- প্রস্রাব শুরু বা সম্পূর্ণ করতে অসুবিধা।
- মূত্রথলিতে চাপ ও অস্বস্তি।
৭. Causticum — কস্টিকাম
মূত্রথলি ও মূত্রনালির কার্যগত দুর্বলতার সঙ্গে প্রস্টেটের সমস্যা থাকলে লক্ষণভেদে বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল।
- কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব হওয়ার পর ব্যথা।
- প্রস্রাবের বেগ থাকলেও স্বাভাবিকভাবে বের হতে চায় না।
- পেরিনিয়ামে টান বা ব্যথা।
- মূত্রথলির কার্যক্ষমতার দুর্বলতার লক্ষণ।
৮. Ferrum picricum — ফেরাম পিক্রিকাম
বিশেষত বয়স্ক পুরুষের প্রস্টেট বৃদ্ধির সঙ্গে বারবার প্রস্রাবের বেগ এবং পেরিনিয়াম বা রেক্টামে চাপের অনুভূতি থাকলে Materia Medica-তে এটি উল্লেখযোগ্য।
মূল ভাব:
বয়স্ক পুরুষ + প্রস্টেট বৃদ্ধি + ঘন ঘন প্রস্রাব + পেলভিক চাপ।
৯. Thuja occidentalis — থুজা অক্সিডেন্টালিস
প্রস্টেট ও মূত্রনালির সমস্যার সঙ্গে পুরোনো যৌনাঙ্গ বা গনোরিয়াজনিত ইতিহাসের কথা হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- প্রস্টেট অঞ্চলে অস্বস্তি।
- মূত্রনালিতে অস্বাভাবিক অনুভূতি।
- পেরিনিয়াম ও রেক্টামের দিকে খোঁচা বা চাপের অনুভূতি।
- পুরোনো যৌনরোগের ইতিহাসসহ উপযুক্ত সামগ্রিক লক্ষণ।
১০. Pulsatilla — পালসেটিলা
প্রস্টেট ও মূত্রনালির প্রদাহজনিত উপসর্গের সঙ্গে বিশেষ ধরনের ব্যক্তিগত লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচনী লক্ষণ:
- বারবার প্রস্রাবের বেগ।
- প্রস্রাবের সময় খচখচানি বা অস্বস্তি।
- পেলভিক ও উরু অঞ্চলে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।
- মূত্রথলিতে অস্বস্তি।
- ব্যক্তির সামগ্রিক Pulsatilla-চিত্র উপস্থিত থাকা।
১১. Iodum — আয়োডাম
প্রস্টেট অত্যন্ত শক্ত বা দৃঢ় অনুভূত হওয়ার সঙ্গে অন্যান্য উপযুক্ত লক্ষণ থাকলে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে এটি বিবেচিত হয়।

১২. Arnica montana — আর্নিকা মন্টানা
আঘাত বা দীর্ঘসময় চাপের পর প্রস্টেট অঞ্চলে উপসর্গ শুরু হলে এবং আঘাতজনিত লক্ষণ স্পষ্ট থাকলে Arnica-এর লক্ষণচিত্র বিবেচনা করা হয়।
মূল ভাব:
আঘাতের ইতিহাস + স্থানীয় ব্যথা/অস্বস্তি + Arnica-র সামগ্রিক লক্ষণ।

১৩. Aconitum napellus — একোনাইট
ঠান্ডা লাগার পর হঠাৎ তীব্র উপসর্গ শুরু হলে এবং রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ Aconite-এর সঙ্গে মিলে গেলে এটি বিবেচনা করা হয়।

১৪. Belladonna — বেলাডোনা
হঠাৎ তীব্র প্রদাহজনিত লক্ষণ, উত্তাপ, স্পর্শকাতরতা ও তীব্র ব্যথার সঙ্গে Belladonna-র সামগ্রিক লক্ষণচিত্র থাকলে বিবেচনা করা হয়।
১৫. Cantharis — ক্যান্থারিস
প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা, ঘন ঘন বেগ এবং মূত্রনালির তীব্র উত্তেজনামূলক লক্ষণ থাকলে differential remedy হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৬. Staphysagria — স্ট্যাফিসেগ্রিয়া
মূত্রনালির সংবেদনশীলতা, পুরোনো যৌনাঙ্গের সমস্যা, আঘাত বা অপমানজনিত মানসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য লক্ষণ থাকলে এটি বিবেচনা করা হয়।
১৭. Hepar sulphuris — হিপার সালফ
প্রস্টেট বা আশপাশের অংশে suppuration বা পুঁজ হওয়ার প্রবণতার লক্ষণ থাকলে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে উল্লেখযোগ্য ঔষধ।
তবে পুঁজ, জ্বর বা তীব্র ব্যথা থাকলে এটিকে শুধু হোমিওপ্যাথিক ঔষধের বিষয় হিসেবে না দেখে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

১৮. Mercurius solubilis — মার্কিউরিয়াস সলিউবিলিস
প্রদাহ, পুঁজ, মূত্রনালির জ্বালা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য Mercurius-লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
১৯. Nitric acid — নাইট্রিক অ্যাসিড
মূত্রনালিতে তীব্র জ্বালা, খোঁচা বা কাঁটার মতো ব্যথা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ থাকলে differential remedy হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০. Silicea — সাইলেসিয়া
দীর্ঘস্থায়ী suppurative tendency বা পুঁজ হওয়ার প্রবণতার সঙ্গে উপযুক্ত সামগ্রিক Silicea-চিত্র থাকলে বিবেচনা করা হয়।

প্রস্টেট বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণভিত্তিক Differential
প্রস্রাব শুরু হতে দেরি
Conium, Chimaphila, Lycopodium, Causticum, Baryta carb প্রভৃতি লক্ষণভেদে বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রস্রাবের ধারা খুব দুর্বল
Sabal serrulata, Conium, Chimaphila, Ferrum picricum, Lycopodium প্রভৃতি।
থেমে থেমে প্রস্রাব
Conium, Causticum, Lycopodium প্রভৃতি।
বারবার প্রস্রাব
Sabal, Pulsatilla, Digitalis, Lycopodium, Ferrum picricum প্রভৃতি।
রাতে বারবার প্রস্রাব
Sabal, Conium, Lycopodium, Baryta carb প্রভৃতি—তবে সম্পূর্ণ লক্ষণচিত্র বিবেচনা করতে হবে।
প্রস্রাবের পরও মনে হয় মূত্রথলি খালি হয়নি
Lycopodium, Sabal, Conium, Chimaphila প্রভৃতি।
প্রস্রাবের শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া
Conium, Digitalis, Causticum, Sabal প্রভৃতি লক্ষণভেদে বিবেচিত হতে পারে।
পেরিনিয়ামে চাপ বা ভারী অনুভূতি
Lycopodium, Ferrum picricum, Chimaphila, Sabal প্রভৃতি।
পুঁজ বা suppuration-এর লক্ষণ
Hepar sulph, Mercurius, Nitric acid, Silicea—তবে এখানে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি।

Kent Repertory-তে প্রস্টেটের গুরুত্বপূর্ণ Rubric
প্রস্টেটের রোগীর ক্ষেত্রে শুধু “Prostate, enlargement” rubric নেওয়া যথেষ্ট নয়। রোগীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন rubric একত্রে ব্যবহার করা যায়।
PROSTATE GLAND — INFLAMMATION
Acon., Æsc., Agn., Alum., Apis., Arn., Bell., Bov., Cact., Cann-i., Canth., Chim., Con., Cop., Dig., Hep., Iod., Lyc., Merc., Nux-v., Puls., Sabal, Thu. প্রভৃতি।
PROSTATE GLAND — PAIN
Acon., Apis., Bell., Cact., Caust., Chim., Con., Dig., Lyc., Merc., Puls., Staph., Sulph., Thu. প্রভৃতি।
PROSTATE GLAND — SWELLING
Chim., Con., Dig., Iod., Merc., Puls., Sabal, Sep., Staph., Thu. প্রভৃতি।
PROSTATE GLAND — SUPPURATION
Hep., Sil.
PROSTATE GLAND — PAIN, URINATION, DURING
Apis, Cop., Lyc., Pareira এবং অন্যান্য rubric-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।
PROSTATE GLAND — PAIN, URINATION, AFTER
Lyc., Puls. প্রভৃতি।
PROSTATE GLAND — PAIN, SITTING
Chim., Cycl., Dig., Rhus-t. প্রভৃতি।
PROSTATE GLAND — PAIN, WALKING
All-c., Brom., Cycl., Staph. প্রভৃতি।
রেপার্টরিতে grade বেশি হলেই যে ঔষধটি অবশ্যই রোগীর জন্য সঠিক হবে—এমন নয়। রোগীর ব্যক্তিগত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণের সঙ্গে rubric-এর সামঞ্জস্যই গুরুত্বপূর্ণ।
Case Taking: প্রস্টেট বৃদ্ধির রোগীর ক্ষেত্রে কী কী জানতে হবে?
একজন রোগীর কাছ থেকে শুধু “প্রস্টেট বড়” তথ্য নিলে সঠিক individualization করা কঠিন। তাই কেস নেওয়ার সময় জানতে হবে—
১. রোগীর বয়স কত?
২. কতদিন ধরে প্রস্রাবের সমস্যা?
৩. প্রস্রাব শুরু করতে কত সময় লাগে?
৪. প্রস্রাবের ধারা সরু না দুর্বল?
৫. প্রস্রাব থেমে থেমে হয় কি না?
৬. প্রস্রাবের জন্য চাপ দিতে হয় কি না?
৭. দিনে কতবার প্রস্রাব হয়?
৮. রাতে কতবার ঘুম থেকে উঠতে হয়?
৯. প্রস্রাবের পরও বেগ থাকে কি না?
১০. প্রস্রাবের শেষে ফোঁটা পড়ে কি না?
১১. প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা আছে কি না?
১২. প্রস্রাবের রং বা গন্ধে পরিবর্তন আছে কি না?
১৩. প্রস্রাবে রক্ত আছে কি না?
১৪. পেরিনিয়াম, কোমর, তলপেট বা যৌনাঙ্গে ব্যথা আছে কি না?
১৫. জ্বর, কাঁপুনি বা শরীর ব্যথা আছে কি না?
১৬. আগে prostatitis বা urinary infection হয়েছিল কি না?
১৭. যৌনাঙ্গ বা মূত্রনালিতে পূর্বের কোনো রোগ বা চিকিৎসার ইতিহাস আছে কি না?
১৮. কোনো অপারেশন বা ক্যাথেটার ব্যবহার হয়েছিল কি না?
১৯. বর্তমানে কী কী ওষুধ সেবন করছেন?
২০. পূর্বে কোনো prostate examination বা পরীক্ষা করা হয়েছে কি না
প্রস্টেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
প্রস্টেটের উপসর্গ থাকলে শুধু লক্ষণ দেখে BPH নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। এর মধ্যে প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, PSA পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং মূত্রত্যাগের পর মূত্রথলিতে কতটা প্রস্রাব অবশিষ্ট থাকে তা পরীক্ষা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কারণ একই ধরনের প্রস্রাবের সমস্যা BPH ছাড়াও prostatitis, urinary infection, urethral stricture, bladder problem কিংবা prostate cancer-এর মতো অন্য কারণেও হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে ঘরে বসে শুধু কোনো হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে—
- একেবারেই প্রস্রাব না হওয়া।
- তীব্র তলপেটের ব্যথা বা মূত্রথলি ফুলে যাওয়ার অনুভূতি।
- প্রস্রাবে রক্ত দেখা।
- জ্বর ও কাঁপুনি।
- প্রস্রাবের সঙ্গে তীব্র ব্যথা।
- দ্রুত বাড়তে থাকা প্রস্রাবের সমস্যা।
- প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অসুস্থ বোধ করা।
সম্পূর্ণ প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া জরুরি অবস্থা হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
জীবনযাপন ও সাধারণ পরামর্শ
প্রস্টেট বৃদ্ধির রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
- দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখবেন না।
- রাতে অতিরিক্ত তরল পান এড়িয়ে চলার প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষত ঘুমানোর ঠিক আগে।
- অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের কারণে উপসর্গ বাড়ে কি না লক্ষ্য করুন।
- কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করুন।
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রস্রাবের সমস্যা বাড়াতে পারে এমন ওষুধ গ্রহণ করবেন না।
- নিয়মিত follow-up করুন এবং উপসর্গের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
প্রস্টেট বৃদ্ধি মানেই ক্যানসার নয়। BPH হলো ক্যানসারবিহীন প্রস্টেট বৃদ্ধি। তবে একই ধরনের কিছু প্রস্রাবের উপসর্গ অন্য রোগেও হতে পারে। তাই নতুন করে প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে সচেতনতা
হোমিওপ্যাথিতে রোগীর স্বতন্ত্র লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করার একটি নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। উপরের ঔষধগুলোর আলোচনা হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও Repertory-ভিত্তিক শিক্ষামূলক আলোচনা; এগুলোকে প্রস্টেট বৃদ্ধি নিরাময়ের বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট রোগের কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত। গুরুতর বা দ্রুত বাড়তে থাকা উপসর্গে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা মূল্যায়ন বিলম্বিত করা উচিত নয়।
উপসংহার
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি বিশেষ করে মধ্য ও বয়স্ক পুরুষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। শুধু “প্রস্টেট বড়” এই একটি লক্ষণের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণচিত্র, প্রস্রাবের ধরন, বয়স, রোগের সময়কাল, সহায়ক উপসর্গ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করা উচিত।
হোমিওপ্যাথিক শিক্ষার্থীদের জন্য Conium, Sabal serrulata, Chimaphila, Lycopodium, Baryta carb, Digitalis, Causticum, Ferrum picricum, Thuja, Pulsatilla, Iodum, Arnica, Aconite, Belladonna, Cantharis, Staphysagria, Hepar sulph, Mercurius, Nitric acid ও Silicea—এসব ঔষধের প্রস্টেট ও মূত্রসংক্রান্ত লক্ষণগুলো Materia Medica ও Repertory-এর আলোকে অধ্যয়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্টেটের রোগীকে দীর্ঘদিন শুধু লক্ষণ চাপা দিয়ে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও নিয়মিত চিকিৎসা-পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা উচিত।
লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ মোবাইল নাম্বার 01716651488