পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা এবং লিঙ্গ দিয়ে সাদা, হলুদ বা সবুজাভ স্রাব বের হওয়া সাধারণ লক্ষণ। নারীদের অনেকের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে অস্বাভাবিক যোনিস্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা এবং কখনও মাসিকের মাঝখানে বা যৌনমিলনের পর রক্তপাত হতে পারে।
প্রধান লক্ষণ
গনোরিয়ার লক্ষণ ব্যক্তি ও আক্রান্ত স্থানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে
১. প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা তীব্র ব্যথা
২. বারবার প্রস্রাবের বেগ
৩. অল্প অল্প বা ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
৪. লিঙ্গের মূত্রনালি দিয়ে সাদা, হলুদ বা সবুজাভ স্রাব
৫. মূত্রনালিতে চুলকানি, সুড়সুড় বা অস্বস্তি
৬. লিঙ্গের মূত্রনালির মুখে ব্যথা বা প্রদাহ
৭. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা
৮. কখনও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত
নারীদের ক্ষেত্রে
১. অস্বাভাবিক যোনিস্রাব
২. প্রস্রাবের সময় জ্বালা
৩. তলপেটে ব্যথা
৪. যৌনমিলনের সময় ব্যথা
৫. মাসিকের মাঝখানে বা যৌনমিলনের পর রক্তপাত
অনেক নারীর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না। ফলে শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর করে রোগ শনাক্ত করা নিরাপদ নয়।
গলা ও মলদ্বারে গনোরিয়া
গনোরিয়া শুধু জননেন্দ্রিয়ের রোগ নয়। সংক্রমিত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে গলা বা মলদ্বারেও সংক্রমণ হতে পারে।
গলার সংক্রমণে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। কখনও গলা ব্যথা, লালভাব বা অস্বস্তি হতে পারে।
মলদ্বারে সংক্রমণে স্রাব, চুলকানি, ব্যথা, রক্তপাত অথবা মলত্যাগের সময় ব্যথা হতে পারে।
রোগ নির্ণয়
গনোরিয়ার লক্ষণ অন্য কিছু মূত্রনালি বা যৌনবাহিত সংক্রমণের সঙ্গেও মিলতে পারে। তাই শুধু স্রাব, জ্বালা বা প্রস্রাবের সমস্যার ভিত্তিতে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।
বর্তমানে NAAT বা molecular test গনোরিয়া শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা মূত্রনালি, জরায়ুমুখ, গলা বা মলদ্বার থেকে নেওয়া হতে পারে। চিকিৎসা ব্যর্থ হলে জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক-সংবেদনশীলতা পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
গনোরিয়ার সম্ভাব্য জটিলতা
চিকিৎসা না করলে গনোরিয়া গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে
পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ বা PID
বন্ধ্যাত্ব
জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঝুঁকি বৃদ্ধি
দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা
পুরুষদের ক্ষেত্রে
অণ্ডথলিতে ব্যথা ও ফোলা
এপিডিডাইমিস বা অণ্ডকোষের আশপাশের অংশে প্রদাহ
মূত্রনালিতে সংকোচন
বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি
বিরল ক্ষেত্রে জীবাণু রক্তে ছড়িয়ে গিয়ে ত্বক, সন্ধি, হৃদপিণ্ড বা মস্তিষ্কের আবরণে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। গর্ভবতী মায়ের সংক্রমণ নবজাতকের চোখে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা চিকিৎসা না হলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে।
গনোরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের লক্ষণভিত্তিক আলোচনা
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও Repertory-তে গনোরিয়া বা মূত্রনালির প্রদাহজনিত বিভিন্ন অবস্থার জন্য বহু ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়। নিচের আলোচনা সেই ঐতিহ্যগত লক্ষণভিত্তিক Materia Medica অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলো।
তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা প্রয়োজন: গনোরিয়া একটি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ এবং এটি নিশ্চিত বা সন্দেহ হলে আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও প্রমাণভিত্তিক অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা বিলম্ব করা উচিত নয়। বর্তমানে গনোরিয়ার জীবাণুর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যা।
১. Aconitum napellus
গনোরিয়ার আকস্মিক ও তীব্র প্রদাহজনিত শুরুতে Materia Medica-তে Aconitum-এর কথা পাওয়া যায়।
প্রধান লক্ষণ
প্রচণ্ড জ্বালা ও ব্যথা
প্রস্রাবের সময় তীব্র কষ্ট
বারবার প্রস্রাবের বেগ
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি
জ্বর, তৃষ্ণা ও অস্থিরতা
হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র প্রদাহ
২. Cannabis sativa
মূত্রনালি ও জননেন্দ্রিয়ের তীব্র প্রদাহের লক্ষণ Cannabis sativa-র গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
প্রধান লক্ষণ
প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
হলুদ বা সবুজাভ স্রাব
মূত্রনালিতে ব্যথা
জননেন্দ্রিয়ের অতিরিক্ত উত্তেজনা
ব্যথাযুক্ত লিঙ্গোত্থান
৩. Cantharis
মূত্রনালির তীব্র জ্বালা ও বারবার প্রস্রাবের বেগ Cantharis-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে।
প্রধান লক্ষণ
আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো প্রস্রাবের জ্বালা
বারবার প্রস্রাবের বেগ
অতি অল্প পরিমাণ প্রস্রাব
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত
কখনও ব্যথাযুক্ত লিঙ্গোত্থান
৪. Mercurius solubilis
স্রাবের সঙ্গে মূত্রনালির প্রদাহ ও অসম্পূর্ণ প্রস্রাবের অনুভূতি থাকলে এই ঔষধের লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
প্রধান লক্ষণ
হলুদ বা সবুজাভ ঘন স্রাব
দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
মূত্রথলি ও মূত্রনালিতে জ্বালা
বারবার প্রস্রাবের বেগ
প্রস্রাব করার পরও মনে হয় কিছু প্রস্রাব রয়ে গেছে
৫. Salix nigra
জননেন্দ্রিয়ের অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং অনিচ্ছাকৃত লিঙ্গোত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণের ক্ষেত্রে Materia Medica-তে Salix nigra উল্লেখ করা হয়।
প্রধান লক্ষণ
অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা
স্বপ্নদোষ
ঘন ঘন লিঙ্গোত্থান
জননেন্দ্রিয়ের অতিসংবেদনশীলতা
হাঁটা, চলাফেরা বা ঘুমের সময়ও যৌন উত্তেজনা
৬. Copaiva
মূত্রনালিতে জ্বালা ও আঠালো স্রাবের সমন্বয় Copaiva-র উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
প্রধান লক্ষণ
প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
সাদা, আঠালো বা শ্লেষ্মার মতো স্রাব
ঘোলা প্রস্রাব
কখনও প্রস্রাবে রক্ত
৭. Pulsatilla
হলুদ ও ঘন স্রাবের সঙ্গে গনোরিয়ার লক্ষণ থাকলে Pulsatilla ঐতিহ্যগত Materia Medica-তে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে বিবেচিত।
প্রধান লক্ষণ
হলুদ ঘন স্রাব
পুঁজের মতো স্রাব
নতুন বা দীর্ঘস্থায়ী স্রাবজনিত অবস্থা
মূত্রনালির অস্বস্তি
৮. Thuja occidentalis
মূত্রনালিতে সুড়সুড়, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব এবং প্রস্রাবের পরও অসম্পূর্ণতার অনুভূতি Thuja-র গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
প্রধান লক্ষণ
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
প্রস্রাবে জ্বালা
হলুদ বা সবুজাভ স্রাব
মূত্রনালির ভিতরে কিটকিট বা কামড়ানোর মতো অনুভূতি
প্রস্রাব শেষ হওয়ার পরও আরও প্রস্রাব রয়ে গেছে মনে হওয়া
৯. Equisetum hyemale
মূত্রথলি ও মূত্রনালির তীব্র জ্বালা এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের ক্ষেত্রে Equisetum-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
প্রধান লক্ষণ
প্রস্রাবে তীব্র জ্বালা
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
অল্প পরিমাণ প্রস্রাব
প্রস্রাবের সঙ্গে শ্লেষ্মা
কখনও রক্ত
মূত্রনালিতে গিনগিনে ব্যথা
প্রস্রাব ধরে রাখতে অসুবিধা
১০. Terebinthina
প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা, রক্ত এবং দুর্গন্ধের সমন্বয় Terebinthina-র উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
প্রধান লক্ষণ
প্রস্রাব করতে কষ্ট
তীব্র জ্বালা
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব
প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ
কখনও শুধু রক্তের মতো প্রস্রাব
শুষ্ক ও চকচকে জিহ্বা
১১. Hydrastis canadensis
দীর্ঘস্থায়ী স্রাবের ক্ষেত্রে Hydrastis-এর লক্ষণ Materia Medica-তে উল্লেখযোগ্য।
প্রধান লক্ষণ
পুরনো বা দীর্ঘস্থায়ী স্রাব
হলুদ ও ঘন স্রাব
পুঁজের মতো স্রাব
মূত্রনালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি
১২. Cannabis indica
প্রস্রাবের আগে ও পরে জ্বালা এবং জননেন্দ্রিয়ের অতিরিক্ত উত্তেজনার সঙ্গে Cannabis indica বিবেচনা করা হয়।
প্রধান লক্ষণ
প্রস্রাবের আগে জ্বালা
প্রস্রাবের পরেও জ্বালা
অল্প পরিমাণ প্রস্রাব
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব
বারবার জননেন্দ্রিয়ের উত্তেজনা
১৩. Sarsaparilla
প্রস্রাবের শেষ মুহূর্তে তীব্র ব্যথা ও জ্বালা Sarsaparilla-র বিশেষ লক্ষণ হিসেবে Materia Medica-তে পরিচিত।
প্রধান লক্ষণ
ঘন ঘন প্রস্রাব
অল্প পরিমাণ প্রস্রাব
প্রস্রাবের শুরুতে তুলনামূলক কম অস্বস্তি
প্রস্রাবের শেষ মুহূর্তে তীব্র জ্বালা
প্রস্রাব শেষ হওয়ার সময় শূলের মতো ব্যথা
প্রস্রাবের পরও জ্বালা অব্যাহত থাকা
Boric Repertory অনুযায়ী Gonorrhoea
Boger-এর Repertory-তে Gonorrhoea বা specific urethritis-এর অধীনে বিভিন্ন ঔষধ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
Aconitum
Apis
Argentum nitricum
Cantharis
Cannabis sativa
Copaiva
Cubeba
Echinacea
Equisetum
Gelsemium
Hydrastis
Kali bichromicum
Mercurius
Nitric acid
Petroselinum
Pulsatilla
Sarsaparilla
Sepia
Sulphur
Terebinthina
Thuja
Acute inflammatory stage
তীব্র প্রদাহের পর্যায়ে Repertory-তে বিশেষভাবে পাওয়া যায়:
Aconitum
Argentum nitricum
Cannabis sativa
Cantharis
Capsicum
Gelsemium
Petroselinum
Chordee
গনোরিয়ার সঙ্গে বেদনাদায়ক লিঙ্গোত্থান বা chordee-এর ক্ষেত্রে Repertory-তে বিভিন্ন ঔষধের উল্লেখ আছে। যেমন:
Aconitum
Anacardium
Argentum nitricum
Belladonna
Cannabis indica
Cannabis sativa
Cantharis
Copaiva
Gelsemium
Mercurius
Salix nigra
Terebinthina
Thuja
Chronic বা subacute stage
দীর্ঘস্থায়ী বা উপতীব্র অবস্থায় Repertory-তে উল্লেখযোগ্য ঔষধ:
Argentum nitricum
Cannabis sativa
Copaiva
Cubeba
Hydrastis
Kali sulphuricum
Mercurius
Natrum sulphuricum
Pulsatilla
Sabal
Sepia
Silicea
Sulphur
Thuja
Gleet বা দীর্ঘস্থায়ী মূত্রনালির স্রাব
দীর্ঘস্থায়ী স্রাবের ক্ষেত্রে Repertory-তে পাওয়া যায়:
Argentum nitricum
Cannabis sativa
Cantharis
Copaiva
Cubeba
Hydrastis
Kali bichromicum
Kali sulphuricum
Mercurius
Natrum muriaticum
Natrum sulphuricum
Nitric acid
Pulsatilla
Sabal
Sepia
Silicea
Thuja
Orchitis ও Epididymitis
গনোরিয়ার পর অণ্ডকোষ বা epididymis আক্রান্ত হলে Repertory-তে উল্লেখিত কিছু ঔষধ:
Clematis
Gelsemium
Hamamelis
Pulsatilla
Rhododendron
Spongia
তবে অণ্ডকোষে হঠাৎ তীব্র ব্যথা বা ফোলা হলে জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন। এটি শুধু গনোরিয়া নয়, অন্য জরুরি রোগেরও লক্ষণ হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচনের মূলনীতি
গনোরিয়ার মতো রোগে শুধু রোগের নাম দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা-পদ্ধতির একটি মৌলিক নীতি।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়:
রোগের শুরু ও গতি
স্রাবের রং
স্রাবের ঘনত্ব
স্রাবের গন্ধ
প্রস্রাবের সময় জ্বালার ধরন
প্রস্রাবের আগে, চলাকালীন বা পরে ব্যথা
প্রস্রাবের পরও অসম্পূর্ণতার অনুভূতি
রক্তের উপস্থিতি
জননেন্দ্রিয়ের উত্তেজনা
লিঙ্গোত্থানের প্রকৃতি
অণ্ডকোষের ব্যথা বা ফোলা
জ্বর ও সাধারণ শারীরিক লক্ষণ
মানসিক ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য
অতীতের যৌনবাহিত সংক্রমণের ইতিহাস
একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সতর্কতা
গনোরিয়ার ক্ষেত্রে শুধু স্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই জীবাণু সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে—এমন ধারণা নিরাপদ নয়। উপসর্গ কমে গেলেও সংক্রমণ থাকতে পারে এবং অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে।
WHO-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী গনোরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসাযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য হলেও antimicrobial resistance দ্রুত বাড়ছে। তাই নিজের ইচ্ছায় পুরনো অ্যান্টিবায়োটিক, অসম্পূর্ণ কোর্স বা এলোমেলো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
গনোরিয়া নিশ্চিত হলে বা জোরালোভাবে সন্দেহ হলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। CDC-ও আক্রান্ত ব্যক্তির অন্য STI, যেমন chlamydia, syphilis ও HIV-এর পরীক্ষা বিবেচনার কথা বলে।
যৌনসঙ্গীর চিকিৎসা ও পুনঃসংক্রমণ প্রতিরোধ
গনোরিয়ায় শুধু একজনের চিকিৎসা করলেই যথেষ্ট নয়। বর্তমান বা সাম্প্রতিক যৌনসঙ্গীকেও পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার আওতায় আনতে হয়। চিকিৎসার পর পুনরায় সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো আক্রান্ত যৌনসঙ্গীর চিকিৎসা না হওয়া।
চিকিৎসা চলাকালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। CDC-এর নির্দেশনায় চিকিৎসা নেওয়ার পর অন্তত ৭ দিন এবং সব যৌনসঙ্গীর চিকিৎসা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
প্রতিরোধ
গনোরিয়া প্রতিরোধে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
১. নিরাপদ যৌন আচরণ অনুসরণ করা
২. প্রতিবার সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করা
৩. একাধিক যৌনসঙ্গী এড়িয়ে চলা
৪. যৌনসঙ্গীর গনোরিয়া বা অন্য STI-এর ইতিহাস থাকলে পরীক্ষা করা
৫. যৌনবাহিত সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
৬. আক্রান্ত হলে বর্তমান ও সাম্প্রতিক যৌনসঙ্গীকে জানানো
৭. চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে যৌন সম্পর্ক না করা
৮. প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য STI-এর পরীক্ষাও করা
নিয়মিত ও সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার গনোরিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
উপসংহার
গনোরিয়া একটি সংক্রামক যৌনবাহিত ব্যাকটেরিয়াল রোগ। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে তীব্র জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং মূত্রনালি দিয়ে সাদা, হলুদ বা সবুজাভ স্রাব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে রোগটি অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। ফলে লক্ষণ না থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সংস্পর্শের ইতিহাস থাকলে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও Repertory-তে গনোরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট মূত্রনালির লক্ষণের জন্য Aconitum, Cannabis sativa, Cantharis, Mercurius, Copaiva, Pulsatilla, Thuja, Equisetum, Terebinthina, Hydrastis, Cannabis indica ও Sarsaparilla-সহ বিভিন্ন ঔষধের লক্ষণভিত্তিক আলোচনা রয়েছে।
তবে গনোরিয়া নিশ্চিত বা সন্দেহ হলে রোগ নির্ণয় ও জীবাণু নির্মূলের জন্য আধুনিক পরীক্ষানির্ভর চিকিৎসা বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে বর্তমানে গনোরিয়ার জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ ক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
হোমিওপ্যাথি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে উপরোক্ত ঔষধগুলোকে Materia Medica ও Repertory-এর লক্ষণভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করে রোগীর পূর্ণাঙ্গ কেস গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসা-সিদ্ধান্তের বিষয়টি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল,
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ।
মোবাইল নাম্বার 01716651488
গনোরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।
এই রোগ নিয়ে পরামর্শ প্রয়োজন?
হোয়াটসঅ্যাপে পরামর্শগনোরিয়া বা প্রমেহ
গনোরিয়া কী?
গনোরিয়া বা প্রমেহ একটি যৌনবাহিত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ। এর জীবাণুর নাম Neisseria gonorrhoeae। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোনিপথ, পায়ুপথ বা মুখমৈথুনের মাধ্যমে যৌন সংস্পর্শে এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সংক্রমণ জননেন্দ্রিয় ছাড়াও মলদ্বার ও গলাতেও হতে পারে।
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল · বাইপাইল, সাভার, ঢাকা · ০১৭১৬-৬৫১৪৮৮
