শিশুর বিছানায় প্রস্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
Bed-wetting / Nocturnal Enuresis — কারণ, লক্ষণ, ঔষধ নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ
শিশুর ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিছানায় প্রস্রাব করাকে সাধারণভাবে Bed-wetting বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় Nocturnal Enuresis বলা হয়।
ছোট শিশুদের মধ্যে এটি বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। অনেক শিশু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসে। তবে বয়স বাড়ার পরও যদি নিয়মিত বিছানায় প্রস্রাব হতে থাকে, অথবা দীর্ঘদিন শুকনো থাকার পর হঠাৎ আবার শুরু হয়, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশু ইচ্ছা করে বিছানায় প্রস্রাব করে না। তাই তাকে বকাঝকা, শাস্তি দেওয়া, অন্যের সামনে অপমান করা বা লজ্জা দেওয়া উচিত নয়।
বিছানায় প্রস্রাবের কারণে শিশুর মানসিক সমস্যা
দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগলে শিশু অনেক সময়—
- আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে
- বন্ধুদের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করতে পারে
- স্কুল বা আত্মীয়ের বাড়িতে রাত কাটাতে ভয় পেতে পারে
- নিজেকে অন্যদের তুলনায় ছোট মনে করতে পারে
- উদ্বিগ্ন বা লজ্জাবোধ করতে পারে
- পরিবারে অতিরিক্ত বকাঝকা হলে মানসিকভাবে আরও চাপে পড়তে পারে
তাই চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুর প্রতি পরিবারের সহানুভূতি, ধৈর্য ও ইতিবাচক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর বিছানায় প্রস্রাবের সম্ভাব্য কারণ
বিছানায় প্রস্রাবের একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন—
1. মূত্রথলি ও প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক বিকাশে কিছুটা দেরি
2. পারিবারিক বা বংশগত প্রবণতা
3. গভীর ঘুম
4. রাতে বেশি পরিমাণ প্রস্রাব তৈরি হওয়া
5. মূত্রথলির ধারণক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা
6. কোষ্ঠকাঠিন্য
7. মূত্রনালির সংক্রমণ
8. অতিরিক্ত তরল গ্রহণ
9. ডায়াবেটিসের মতো কিছু শারীরিক সমস্যা
10. মানসিক চাপ, ভয় বা পারিবারিক পরিবর্তন
11. ঘুমের সমস্যা বা ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা
12. দীর্ঘদিনের অভ্যাসগত সমস্যা
শুধু কৃমি বা স্নায়ুবিক দুর্বলতাকে সব শিশুর বিছানায় প্রস্রাবের কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শিশুর অন্যান্য লক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বিবেচনা করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা উচিত।
Primary ও Secondary Bed-wetting
Primary Nocturnal Enuresis
যে শিশু কখনো দীর্ঘ সময় রাতে শুকনো থাকতে পারেনি এবং ছোটবেলা থেকেই ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব করে আসছে, তাকে Primary Enuresis-এর আওতায় বিবেচনা করা হয়।
Secondary Nocturnal Enuresis
কোনো শিশু অন্তত কয়েক মাস বা তার বেশি সময় রাতে শুকনো থাকার পর আবার বিছানায় প্রস্রাব শুরু করলে তাকে Secondary Enuresis বলা হয়।
এক্ষেত্রে নতুন কোনো শারীরিক সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মূত্রনালির সংক্রমণ, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণ তৈরি হয়েছে কি না তা খুঁজে দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় একই রোগের জন্য প্রত্যেক শিশুকে একই ঔষধ দেওয়ার পরিবর্তে রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও Totality of Symptoms বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করার নীতি অনুসরণ করা হয়।
বিছানায় প্রস্রাবের ক্ষেত্রে প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে যেসব ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়, তার মধ্যে নিম্নলিখিতগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
১. Cina — সিনা
কৃমির উপসর্গের সঙ্গে বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে ঐতিহ্যগতভাবে Cina বিবেচনা করা হয়।
বিশেষ লক্ষণ—
- শিশু অত্যন্ত অস্থির বা খিটখিটে
- ঘুমের মধ্যে অস্থিরতা
- কৃমির সন্দেহ বা সংশ্লিষ্ট উপসর্গ
- ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব
- প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সমস্যা
শুধু কৃমির সন্দেহের কারণে Cina নির্বাচন না করে শিশুর সম্পূর্ণ লক্ষণ বিবেচনা করা উচিত।
২. Causticum — কস্টিকাম
Bed-wetting-এর ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত একটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।
বিশেষভাবে বিবেচ্য—
- ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব
- প্রথম ঘুমেই বিছানায় প্রস্রাব করার প্রবণতা
- bladder control দুর্বল
- কাশি, হাঁচি বা চাপের সঙ্গে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা
- দীর্ঘস্থায়ী urinary weakness-এর সঙ্গে অন্যান্য characteristic symptoms
৩. Kreosotum — ক্রিয়োজোটাম
যে শিশু স্বপ্নের মধ্যে মনে করে সে যথাস্থানে প্রস্রাব করছে, কিন্তু ঘুম ভাঙার পর দেখে বিছানায় প্রস্রাব হয়ে গেছে—এই ধরনের characteristic picture থাকলে Kreosotum ঐতিহ্যগতভাবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষ লক্ষণ—
- গভীর ঘুম
- ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব
- প্রস্রাবের তীব্র বেগ
- প্রস্রাবের গন্ধে অস্বাভাবিকতা
- স্বপ্নের সঙ্গে urinary symptoms-এর সম্পর্ক
৪. Benzoicum Acidum — Acid Benzoic
প্রস্রাবে অত্যন্ত তীব্র ও অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ থাকলে এই ঔষধটি Materia Medica-তে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিবেচ্য লক্ষণ—
- অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
- urinary symptoms-এর সঙ্গে bed-wetting
- প্রস্রাবের গন্ধ রোগীর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বিশেষভাবে লক্ষণীয়
শুধু প্রস্রাব দুর্গন্ধযুক্ত হলেই ঔষধটি নির্বাচন করা উচিত নয়; সম্পূর্ণ symptom picture মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৫. Sepia — সিপিয়া
বিশেষ করে মেয়েশিশু বা কিশোরীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট constitutional symptoms-এর সঙ্গে urinary complaints থাকলে Sepia বিবেচনা করা হয়।
বিবেচ্য হতে পারে—
- ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব
- প্রস্রাবের গন্ধে অস্বাভাবিকতা
- urinary weakness
- অন্যান্য characteristic constitutional symptoms
৬. Verbascum — ভার্বাসকাম / Mullein
অভ্যাসগতভাবে বিছানায় প্রস্রাব করার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত হোমিওপ্যাথিক ব্যবহারে Verbascum-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে “অভ্যাসের কারণে হচ্ছে”—এই একটি ধারণার ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন না করে শিশুর সম্পূর্ণ symptom picture বিবেচনা করা উচিত।
৭. Blumea Odorata — ব্লুমিয়া অডোরাটা
কিছু পুরনো হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে bed-wetting-এর ক্ষেত্রে Blumea Odorata-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রচলিত ঔষধে প্রত্যাশিত ফল না পেলে অভিজ্ঞ চিকিৎসক Materia Medica ও রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী এটি বিবেচনা করতে পারেন।
৮. Apocynum — এপোসাইনাম
Urinary symptoms-এর নির্দিষ্ট picture-এর সঙ্গে bed-wetting থাকলে Apocynum কিছু হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বিবেচিত হয়।
ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিশুর অন্যান্য শারীরিক লক্ষণও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
৯. Rhus Toxicodendron — রাস টক্স
ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাবের ক্ষেত্রে Rhus tox-এর উল্লেখ হোমিওপ্যাথিক সাহিত্যে পাওয়া যায়। বিশেষ করে রোগীর অন্যান্য characteristic symptoms-এর সঙ্গে urinary complaint-এর সামঞ্জস্য থাকলে এটি বিবেচনা করা হয়।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ
রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী Equisetum, Belladonna, Lycopodium, Pulsatilla, Sulphur, Phosphorus প্রভৃতি ঔষধও Materia Medica ও Repertory-তে বিবেচ্য হতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
“Bed-wetting = একটি নির্দিষ্ট ঔষধ”—এই সরল সূত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।
একই রোগে একেক শিশুর জন্য একেকটি ঔষধ প্রযোজ্য হতে পারে।
Repertory-ভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন
Bed-wetting-এর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক Rubric নির্বাচন করে Repertory analysis করা যেতে পারে। যেমন—
- Bladder — Involuntary urination
- Urine — Involuntary — during sleep
- Urine — Involuntary — night
- Urination — during sleep
- Sleep — deep
- Urine — offensive
- Urine — frequent
- Bladder — weakness
- Mind — anxiety / fear
- Stool — constipation
এরপর Repertory result-কে Materia Medica-র সঙ্গে মিলিয়ে Totality of Symptoms অনুযায়ী সবচেয়ে উপযুক্ত ঔষধ নির্বাচন করা হয়।
Case-taking-এ যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন
শিশুর বিছানায় প্রস্রাবের ক্ষেত্রে চিকিৎসককে জানতে হবে—
- শিশুর বয়স
- কতদিন ধরে সমস্যা
- জন্মের পর থেকেই সমস্যা ছিল কি না
- আগে দীর্ঘ সময় রাতে শুকনো ছিল কি না
- সপ্তাহে কত রাত বিছানায় প্রস্রাব হয়
- সাধারণত রাতের কোন সময়ে হয়
- প্রথম ঘুমেই হয় কি না
- শিশুর ঘুম গভীর না হালকা
- দিনে প্রস্রাবের frequency
- প্রস্রাবের তীব্র বেগ আছে কি না
- প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা আছে কি না
- প্রস্রাবের গন্ধ
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা আছে কি না
- কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কি না
- কৃমি-সংক্রান্ত কোনো উপসর্গ আছে কি না
- শিশুর ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ
- পারিবারিক ইতিহাস
- নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসের সমস্যা
- কোনো ওষুধ গ্রহণ করছে কি না
বায়োকেমিক চিকিৎসা সম্পর্কে
হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক চিকিৎসার প্রচলিত সাহিত্যে কিছু ক্ষেত্রে Natrum Phosphoricum, Calcarea Phosphorica এবং Kali Phosphoricum-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে এগুলোও শিশুর বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সংশ্লিষ্ট লক্ষণ এবং অন্যান্য clinical findings বিবেচনা করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।
ঔষধের মাত্রা ও potency সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা
শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অবস্থা, সংবেদনশীলতা, পূর্ববর্তী চিকিৎসা এবং রোগের প্রকৃতি বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট potency বা দিনে কতবার ঔষধ খেতে হবে—এমন একটি সাধারণ নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
তাই ৩০, ২০০ বা অন্য কোনো potency এবং পুনরাবৃত্তির মাত্রা রোগীভেদে চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সমস্যা হলে নিজের সিদ্ধান্তে বারবার ঔষধ পরিবর্তন বা পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়।
অভিভাবকদের করণীয়
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ।
১. শিশুকে বকাঝকা করবেন না
বিছানায় প্রস্রাব করার জন্য শিশুকে শাস্তি বা অপমান করলে সমস্যার সঙ্গে মানসিক চাপও বাড়তে পারে।
২. ঘুমানোর আগে toilet routine
ঘুমানোর আগে অবশ্যই প্রস্রাব করার অভ্যাস তৈরি করা ভালো।
৩. তরল গ্রহণের নিয়ম
সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত তরল গ্রহণ কমানো যেতে পারে; তবে শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিশূন্য রাখা যাবে না।
৪. কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটি যথাযথভাবে সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নিয়মিত ঘুম
শিশুর পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত মোবাইল, টেলিভিশন বা ভিডিও গেমের কারণে ঘুমের সময়সূচি নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
৭. ইতিবাচক উৎসাহ
শিশু শুকনো রাত কাটাতে পারলে তাকে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। তবে দুর্ঘটনা ঘটলে কোনোভাবেই অপমান করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা প্রয়োজন?
নিচের লক্ষণ থাকলে শিশুকে শুধু “বিছানায় প্রস্রাবের রোগী” হিসেবে না দেখে চিকিৎসকের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন—
- আগে দীর্ঘদিন শুকনো থাকার পর হঠাৎ আবার bed-wetting শুরু
- দিনে অতিরিক্ত প্রস্রাব
- প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা
- প্রস্রাবে রক্ত
- বারবার urinary infection
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা
- অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত দুর্বলতা
- গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য
- অতিরিক্ত নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো লক্ষণ
- পায়ে দুর্বলতা বা অনুভূতির সমস্যা
- শিশুর আচরণ বা মানসিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী urine test, blood glucose বা অন্যান্য পরীক্ষা চিকিৎসক বিবেচনা করতে পারেন।
উপসংহার
শিশুর বিছানায় প্রস্রাব একটি পরিচিত সমস্যা এবং অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স ও স্বাভাবিক বিকাশের সঙ্গে এটি কমে যায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা পুনরায় শুরু হওয়া bed-wetting-এর পেছনে শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক কিংবা জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Cina, Causticum, Kreosotum, Benzoicum Acidum, Sepia, Verbascum, Blumea Odorata, Apocynum, Rhus toxসহ বিভিন্ন ঔষধ রোগীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
চিকিৎসার মূলনীতি হওয়া উচিত—
রোগের নাম নয়, রোগীর লক্ষণ।
একটি লক্ষণ নয়, Totality of Symptoms।
Repertory analysis-এর সঙ্গে Materia Medica মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন।
এবং সর্বোপরি, শিশুকে ভয় বা লজ্জা না দিয়ে ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।
লেখক
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
মোবাইল- ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গভঃ রেজিঃ নং: ২৩৮৭৬
