সমনাম-
ক্যাল্কেরিয়া অস্টিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, কার্বোনেট অফ লাইম।
মায়াজম-
সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।
পার্শ
ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, বামপাশ হতে ডানপাশ।
কাতরতা
শীতকাতর।
উপযোগিতা
শেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু। এর রোগীর গঠন সাধারণতঃ মোটাসোটা অথবা অতিশয় মেদ প্রবণ, থলথলে, নাদুসনুদুস। হাত-পা সরু, শরীরের আয়তন অপেক্ষা মাথাটা বড়, পেটটা আরো মোটা, প্রচুর ঘাম, ঘুমালে মাথার ঘামে বালিশ ভিজে।
ক্রিয়াস্থল
পরিপোষণ ক্রিয়া, শোয়ণ ক্রিয়া, ক্ষরণ ক্রিয়া, গ্ল্যান্ডসমূহ, সার্জিক্যাল মেসেন্টেরিক, অস্হিসমূহ, রক্ত, ডান ফুসফুস, হৃদপিন্ড, চর্ম, জিহ্বা, দাঁত, মস্তিষ্ক, বক্ষদেশ, হার্ট, শিশুরা।
চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য
ক্যাল্কেরিয়া রোগীর পদযুগল শীতল, আঠালো ঘামে আবৃত “যেন আর্দ্র মোজা পরিহিত”; সালফারের রোগী চরিত্রগতভাবে পদযুগল গরম ও ঘামাক্ত।
ফিজিওলজিক্যাল কাজ- ক্যাল্কেরিয়া কার্ব শরীরে পোষণ এবং বর্ধন সম্বন্ধীয় যন্ত্রের ওপরেই প্রধান কাজ করে এবং এর প্রয়োগে নিঃসরণ এবং শোষণ ক্রিয়া উত্তমরূপে এবং শীঘ্র শীঘ্র সম্পাদন হয়, সে কারণে শরীরের প্রকৃতি অর্থাৎ ধাতু পরিবর্তনে এর যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে বলেই একে এ বিষয়ের একটি প্রধান ওষুধ বলা হয়ে থাকে।
সারসংক্ষেপ
শ্লেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু। দেহের স্থূলতা ও শিথিলতা। পা দুটি ঠান্ডা ও চটচটে এবং নিমগ্ন অনুভূতি। পরিপাক নালির অম্লত্ব। মাথার ঘামে
বালিশ ভিজে যায় ও অল্পেই ঠান্ডা লাগে। প্রাতে, সন্ধ্যায়, রাতে, ঠান্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায়, মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে বাড়ে। পোশাক ছাড়লে, ঘর্ষণে, কোষ্ঠবদ্ধ থাকলে ও সকালের নাস্তার পর উপশম। একগুঁয়ে, অস্থিরতা, উত্তেজনাপ্রবণতা, ক্রোধ, মনস্তাপ, ভীরুতা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস, কাঁদে, বিস্তৃতিপরায়ণ, ভয় ও অলসভাব। ডিম খাওয়া প্রবল ইচ্ছে কিন্তু দুধ অসহ্য। রাগে/ক্রোধে থুথু ফেলতে থাকে। মাথায় রক্তসঞ্চয় ও বরফশীতল অনুভূতি পর্যায়ক্রমে আসে।
অনুভূতি
১) বাহুর ওপরে যেনো ইঁদুর হাঁটছে।
২) ব্যথা যেনো বাইরের অঙ্গ মচকে গেছে।
সহচর লক্ষণঃ
১) মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়েমি।
২) রাগে/ক্রোধে থুথু ফেলতে থাকে।
৩) মাথায় রক্তসঞ্চয় ও বরফশীতল অনুভূতি পর্যায়ক্রমে আসে।
৪) ঘুমের সময় মাথায় ঘাম হয় ও অস্হির লাগে।
বৃদ্ধিঃ
প্রাতে, বেলা ২টায়, সন্ধ্যায়, রাতে, ঠান্ডা আর্দ্র আবহাওয়ায়, ঠান্ডা লাগলে, গরম বাতাসে, গোসলে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, ওপরে ওঠতে গেলে, চোখের পরিশ্রমে, পিউবার্টি, কাপড়ের চাপে, দুধে, মদ জাতীয় উত্তেজক পদার্থে, জাগলে, পূর্ণিমাতে, দাঁড়ালে, দন্তোদ্গমনকালে, আহারের পর, মানসিক পরিশ্রমে, শারীরিক পরিশ্রমে, হস্তমৈথুনে, সায়াহ্ন, মধ্যারাতের পর, গোলমালে অত্যানুভূতি, একাদশীতে, আঁট করে কাপড় পড়লে, ভারী জিনিস তুললে, পা ঝুলিয়ে রাখলে, আলোতে, ওপর দিকে তাকালে বা ওঠলে, মাথা ঘোরালে, উপবাসে, দেহের ডান দিকে অধিক রোগাক্রমণ, শয়নে, মুক্ত বাতাসে, ঠান্ডা পানিতে, পূর্ণিমায়, সঙ্গমের পর, ঘাম চাপা পড়লে, ঋতুস্রাবের আগে, ঘুমের আগে ও পরে, হাঁটলে।
হ্রাস
হাত পা জড়ো করলে, কাপড় জামা আলগা করে দিলে, চিৎ হয়ে শুলে, চুলকালে, চুল কাটলে, ঘর্ষণে, কোষ্ঠবদ্ধ থাকলে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, সকালের নাস্তার পর, অন্ধকারে, ব্যথাযুক্ত পাশে শয়নে, উত্তাপে, মানসিক পরিশ্রমে।
রোগের কারণ
মদ, ঠান্ডা, আর্দ্র, পাক খাওয়া, অতিরিক্ত রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ভারোত্তোলন, মেরুদণ্ডের নিম্নাংশে আঘাত, মচকানো, মানসিক পরিশ্রান্ত হওয়ার পর, ঘাম অবরুদ্ধে, মাসিকের অবরুদ্ধে, ইরেপশন অবরুদ্ধে, ক্লান্তি, দন্তোদ্গমনকালে, ঠান্ডা পানিতে গোসলে। মস্তিষ্কে পানি সঞ্চয়, হজমের ক্ষেতে অম্লপিত্ত। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠায় শ্বাসকষ্ট, ভয়, উদ্ভেদ বসে যাওয়া, শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয়।
ইচ্ছা
মদ, ডিম, মিষ্টি, লবণাক্ত খাদ্যে প্রবল ইচ্ছা, অপাচ্য যেমন- কয়লা, মাটি, চক, পেন্সিলের শীষ প্রভৃতি অখাদ্য খেতে চায়, চুম্বক শক্তি দ্বারা আকর্ষিত হওয়া।
অনিচ্ছা
মাংস, দুধ, গরম খাদ্য, চর্বিযুক্ত খাদ্য।
অসহ্য
দুধ, পোশাক পরিধান।
শত্রুভাবাপন্ন
অ্যাসিড-নাই, ব্যারা-কা, সালফ, কেলি-বাই।
ক্রিয়ানাশক
অ্যাসি-নাই, ব্রায়ো, ক্যাম্ফ, চায়না, ইপি, নাইট্রি-স্পিরি-ডাল, নাক্স-ভ, ফস, সিপি, সালফ।
সতর্কীকরণ
বয়স্কদের ক্ষেতে ক্যাল্কেরিয়া কখনো ঘন ঘন মাত্রায় ব্যবহার করবেন না।
-ডা. বোরিক।
প্রয়োগ
√ সালফ ও অ্যাসি নাই- এর আগে ক্যাল্ক দেয়া যাবে না।
- ডা. হ্যানিম্যান।
√ যখন দুধের নিঃসরণ বেশি হয় এবং শিশু তা পছন্দ করে না বা সহ্য করতে পারে না, তখন ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব দুধের মান ও পরিমাণ সশোধন করে দেয়।
- ডা. জি.আর।
সংকলিত
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
ইভা হোমিও হল
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
মোবাইল নাম্বার 01716651488

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Welcome to you our website