হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homoeopathy Pathshala
ক্যালকেরিয়া কার্ব Calcarea Carbonica
সমনাম-
ক্যালকেরিয়া অস্টিয়াম (Calcarea Ostrearum), ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (Calcium Carbonate), কার্বোনেট অব লাইম (Carbonate of Lime)।
মায়াজম
সোরিক, সাইকোটিক ও টিউবারকুলার প্রবণতার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত বলে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বর্ণিত।
পার্শ্ব
ডানপাশ।
ওপরের ডানপাশ থেকে নিচের বামপাশে।
বামপাশ থেকে ডানপাশে।
কাতরতা
শীতকাতর।
উপযোগিতা
Calcarea Carbonica-র একটি পরিচিত constitutional picture হলো শ্লেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু, দেহে স্থূলতা ও শিথিলতার প্রবণতা এবং সহজে ঠান্ডা লাগা।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা তুলনামূলক বড়, পেট স্ফীত বা মোটা, হাত-পা অপেক্ষাকৃত সরু এবং অতিরিক্ত ঘামের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। ঘুমের সময় মাথায় প্রচুর ঘাম হয়ে বালিশ ভিজে যাওয়া Calcarea Carbonica-র একটি বহুল পরিচিত keynote।
শিশুদের দাঁত ওঠার সময় অস্থিরতা, ঘাম, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা এবং শারীরিক বিকাশের ধীরতার সঙ্গে এই ঔষধের ছবি মিলতে পারে।
ক্রিয়াস্থল
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে Calcarea Carbonica-র প্রধান ক্রিয়াস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়
পরিপোষণ ও শোষণ প্রক্রিয়া
গ্রন্থি
অস্থি
রক্ত
ত্বক
দাঁত
জিহ্বা
মস্তিষ্ক
হৃদপিণ্ড
ফুসফুস
বক্ষদেশ
পরিপাকতন্ত্র
শিশুদের শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়
চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য
Calcarea Carbonica রোগীর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো পা ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা থাকার প্রবণতা। হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে একে কখনো এমনভাবে বর্ণনা করা হয় যেন রোগী ভেজা মোজা পরে আছে।
এটি Sulphur-এর সঙ্গে তুলনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। Sulphur-এ সাধারণত পায়ের তালু গরম ও ঘামাক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি বর্ণিত হয়।
Calcarea Carbonica-তে শরীরের পরিপোষণ, বৃদ্ধি, শোষণ ও নিঃসরণ-সংক্রান্ত ক্রিয়াগুলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিস্তৃত constitutional picture পাওয়া যায়।
ফিজিওলজিক্যাল কার্যপ্রবাহ
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-র বর্ণনা অনুযায়ী Calcarea Carbonica শরীরের পরিপোষণ ও বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তারকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
এর সঙ্গে শোষণ ও নিঃসরণ-প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, গ্রন্থি ও অস্থির সমস্যা এবং দেহের সামগ্রিক constitution-এর পরিবর্তনের সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে।
এ কারণে Calcarea Carbonica-কে অনেক ক্ষেত্রে constitutional remedy হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মানসিক বৈশিষ্ট্য
Calcarea Carbonica রোগীর মধ্যে একগুঁয়েমি, ভয়, ভীরুতা, অস্থিরতা, উত্তেজনাপ্রবণতা, ক্রোধ, মানসিক চাপ ও অলসতার মতো লক্ষণ পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষত মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়ে আচরণ একটি পরিচিত keynote।
রাগ বা ক্রোধের সময় থুথু ফেলার প্রবণতাও Materia Medica-তে একটি বিশেষ লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভয় ও অনিরাপত্তার অনুভূতি থাকতে পারে। মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে রোগীর বিভিন্ন অভিযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষ অনুভূতি
১. বাহুর ওপর দিয়ে যেন ইঁদুর হাঁটছে—এমন অনুভূতি।
২. কোনো অঙ্গ যেন মচকে গেছে—এমন ব্যথার অনুভূতি।
সহচর লক্ষণ
১. মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়েমি।
২. রাগ বা ক্রোধের সময় থুথু ফেলার প্রবণতা।
৩. মাথায় রক্তসঞ্চয়ের অনুভূতি এবং পর্যায়ক্রমে বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূতি।
৪. ঘুমের সময় মাথায় অতিরিক্ত ঘাম এবং অস্থিরতা।
৫. মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যাওয়া।
৬. অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা।
৭. সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা।
৮. পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা ও অম্লপিত্তের প্রবণতা।
বৃদ্ধি
Calcarea Carbonica-র লক্ষণগুলো নিম্নলিখিত অবস্থায় বৃদ্ধি পাওয়ার কথা Materia Medica-তে বর্ণিত হয়েছে
প্রাতে
বেলা ২টার দিকে
সন্ধ্যায়
রাতে
মধ্যরাতের পর
ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায়
আবহাওয়ার পরিবর্তনে
ঠান্ডা লাগলে
গরম বাতাসে
গোসলের পর
ঠান্ডা পানিতে
ওপরে উঠলে
সিঁড়ি ভাঙলে
চোখের অতিরিক্ত ব্যবহারে
বয়ঃসন্ধিকালে
আঁটসাঁট পোশাকের চাপে
দুধে
মদ্যজাত উত্তেজক পদার্থে
জেগে উঠলে
পূর্ণিমায়
দাঁড়িয়ে থাকলে
দাঁত ওঠার সময়
আহারের পর
মানসিক পরিশ্রমে
শারীরিক পরিশ্রমে
হস্তমৈথুনের পর
সঙ্গমের পর
ঘাম বন্ধ হয়ে গেলে
ঋতুস্রাবের আগে
ঘুমের আগে ও পরে
হাঁটার সময়
ভারী জিনিস তুললে
পা ঝুলিয়ে রাখলে
আলোর সংস্পর্শে
ওপরে তাকালে
মাথা ঘোরালে
উপবাসে
হ্রাস
নিম্নলিখিত অবস্থায় কিছু লক্ষণ উপশম পাওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে
হাত-পা শরীরের কাছে জড়ো করলে
কাপড় আলগা করলে
চিৎ হয়ে শুলে
চুলকালে
চুল কাটলে
ঘর্ষণে
শুষ্ক আবহাওয়ায়
সকালের নাস্তার পর
অন্ধকারে
ব্যথাযুক্ত পাশে শুলে
উষ্ণতায়
রোগের কারণ ও উদ্দীপক
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে Calcarea Carbonica-র সঙ্গে নিম্নলিখিত কারণ বা উদ্দীপকের সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে
ঠান্ডা লাগা
ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়া
ঠান্ডা পানিতে গোসল
অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম
অতিরিক্ত ভার উত্তোলন
মেরুদণ্ডের নিম্নাংশে আঘাত
মচকানো
মানসিক পরিশ্রান্তি
ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া
মাসিকের স্বাভাবিক নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হওয়া
ত্বকের নিঃসরণ বা eruption চাপা পড়া
দন্তোদ্গমের সময়
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
খাদ্যের প্রতি ইচ্ছা
Calcarea Carbonica-তে নিম্নলিখিত খাদ্যের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা বর্ণিত হয়েছে
ডিম
মিষ্টি
লবণাক্ত খাদ্য
মদ্যজাত পানীয়
এ ছাড়া অখাদ্য বা অস্বাভাবিক বস্তু যেমন মাটি, চক, কয়লা, পেন্সিলের শীষ ইত্যাদি খাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। এ ধরনের লক্ষণকে Pica বলা হয়।
খাদ্যের প্রতি অনিচ্ছা
মাংস
দুধ
গরম খাদ্য
চর্বিযুক্ত খাদ্য
বিশেষভাবে দুধ সহ্য না করা বা দুধের প্রতি অনিচ্ছা একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশেষ খাদ্যসংক্রান্ত লক্ষণ
Calcarea Carbonica-র ক্ষেত্রে ডিমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং দুধের প্রতি অনিচ্ছা বা অসহিষ্ণুতা—এই বিপরীতধর্মী খাদ্য-পছন্দটি রোগীর সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রধান শারীরিক Keynote
১. মাথায় অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে ঘুমের সময়।
২. মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়।
৩. পা ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা।
৪. সহজে ঠান্ডা লাগা।
৫. মোটা, থলথলে ও মেদপ্রবণ দেহগঠন।
৬. পেট তুলনামূলক বড় ও স্ফীত।
৭. হাত-পা তুলনামূলক সরু।
৮. শিশুদের দাঁত ওঠার সময় ঘাম ও অস্থিরতা।
৯. শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে অভিযোগ বৃদ্ধি।
১০. ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সমস্যা বৃদ্ধি।
১১. সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট।
১২. পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা।
১৩. অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতা।
১৪. ডিমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
১৫. দুধের প্রতি অনিচ্ছা বা অসহিষ্ণুতা।
মাথা
মাথায় অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে ঘুমের সময়, Calcarea Carbonica-র অত্যন্ত পরিচিত লক্ষণ।
মাথায় রক্তসঞ্চয়ের অনুভূতি এবং কখনো বিপরীতভাবে বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূতি পর্যায়ক্রমে দেখা দিতে পারে।
চোখের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাথার বিভিন্ন অভিযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
দাঁত ও শিশু
দাঁত ওঠার সময় Calcarea Carbonica-র লক্ষণগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।
এ সময় ঘাম, অস্থিরতা, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা, হজমের গোলমাল এবং শিশুর সামগ্রিক শারীরিক গঠনের সঙ্গে মিল পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু মোটা ও নাদুসনুদুস হলেও হাত-পা তুলনামূলক সরু এবং মাথায় প্রচুর ঘাম হলে Calcarea Carbonica-র constitutional picture-এর কথা মনে রাখা হয়।
পরিপাকতন্ত্র
পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা, অম্লপিত্ত এবং খাদ্য হজমের বিভিন্ন অসুবিধার সঙ্গে Calcarea Carbonica-র সম্পর্ক Materia Medica-তে বর্ণিত হয়েছে।
দুধ সহ্য না করা এবং অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতাও বিশেষভাবে বিবেচ্য।
শ্বাসতন্ত্র
সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট এবং ঠান্ডা-আর্দ্র আবহাওয়ায় শ্বাসতন্ত্রের অভিযোগ বৃদ্ধি—এই লক্ষণগুলো রোগীর সামগ্রিক ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
ত্বক ও ঘাম
Calcarea Carbonica-তে ঘামের প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে মাথায় প্রচুর ঘাম এবং ঘুমের সময় বালিশ ভিজে যাওয়া একটি পরিচিত keynote।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘাম ও ঠান্ডা লাগার প্রবণতা একসঙ্গে থাকতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তুলনা
Calcarea Carbonica ও Sulphur
Calcarea Carbonica-তে পা সাধারণত ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা থাকে।
Sulphur-এ পা গরম ও ঘামাক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি পরিচিত।
Calcarea Carbonica ও Phosphorus
উভয় ঔষধেই দুর্বলতা ও বিভিন্ন constitutional লক্ষণ থাকতে পারে। তবে রোগীর সামগ্রিক গঠন, তৃষ্ণা, মানসিক বৈশিষ্ট্য, খাদ্য-ইচ্ছা এবং modality দেখে পার্থক্য করতে হয়।
Calcarea Carbonica ও Lycopodium
Calcarea Carbonica-তে মোটা, শিথিল, ঠান্ডাকাতর constitution এবং মাথার ঘাম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
Lycopodium-এ সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের গ্যাস, পেট ফাঁপা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও নির্দিষ্ট খাদ্য-ইচ্ছার সমন্বয় বেশি গুরুত্ব পায়।
সম্পর্ক ও Antidotal Considerations
প্রচলিত Materia Medica-তে Calcarea Carbonica-র সঙ্গে বিভিন্ন ঔষধের complementary, inimical বা antidotal সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক সূত্রে বিশেষভাবে Acidum Nitricum, Bryonia, Camphora, China, Ipecacuanha, Nux Vomica, Phosphorus, Sepia, Sulphur প্রভৃতি ঔষধের সঙ্গে বিভিন্ন সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পর্ককে যান্ত্রিক নিয়ম হিসেবে প্রয়োগ না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি ও পূর্ববর্তী ঔষধ-ইতিহাস বিবেচনা করা উচিত।
ডা. বোরিকের সতর্কতা
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে Calcarea Carbonica ঘন ঘন প্রয়োগ না করার বিষয়ে Dr. Boricke-এর সতর্কতা Materia Medica-র ঐতিহাসিক আলোচনায় পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক প্রয়োগ-সংক্রান্ত মন্তব্য
Calcarea Carbonica-র পূর্বে বা পরে কোন ঔষধ ব্যবহার করা যাবে—এ বিষয়ে পুরনো হোমিওপ্যাথিক গ্রন্থগুলোতে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। Hahnemann, Boenninghausen, Kent, Hering এবং অন্যান্য লেখকের বর্ণনায় ঔষধের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।
তাই “একটি নির্দিষ্ট ক্রমেই সব রোগীর ক্ষেত্রে ঔষধ দিতে হবে”—এমন যান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ না করে রোগীর বর্তমান totality of symptoms, পূর্ববর্তী ঔষধের প্রতিক্রিয়া এবং constitutional picture বিবেচনা করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপ
Calcarea Carbonica-র মূল ছবিকে সংক্ষেপে এভাবে মনে রাখা যায়
শীতকাতর রোগী
মোটা বা মেদপ্রবণ দেহগঠন
থলথলে বা শিথিল শরীর
মাথা তুলনামূলক বড়
পেট বড় বা স্ফীত
হাত-পা তুলনামূলক সরু
মাথায় প্রচুর ঘাম
ঘুমের সময় মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়
পা ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা
সহজে ঠান্ডা লাগে
ডিমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা
দুধের প্রতি অনিচ্ছা বা অসহিষ্ণুতা
মিষ্টি ও লবণাক্ত খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা
অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতা
শিশুদের একগুঁয়েমি
দন্তোদ্গমের সময় বিভিন্ন সমস্যা
শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি
ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বৃদ্ধি
সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট
পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা
গ্রন্থি ও অস্থির বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে constitutional সম্পর্ক
চিকিৎসা-শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কথা
Calcarea Carbonica-কে শুধু “মাথায় ঘাম হয়” বা “মোটা রোগী” দেখেই নির্বাচন করা উচিত নয়। একটি সঠিক prescription-এর জন্য রোগীর মানসিক লক্ষণ, সাধারণ শারীরিক লক্ষণ, thermal state, খাদ্যের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ঘাম, sleep, modalities, concomitants এবং রোগের সম্পূর্ণ symptom totality বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একটি keynote কখনোই সম্পূর্ণ prescription-এর বিকল্প নয়।
এই লেখাটি হোমিওপ্যাথিক Materia Medica অধ্যয়ন ও চিকিৎসা-শিক্ষার উদ্দেশ্যে। রোগী নিজের লক্ষণ দেখে নিজে থেকে ঔষধ নির্বাচন বা সেবন না করে যোগ্য ও নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।
লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
এ আর টাওয়ার, রুম নং ৯
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
ক্যালকেরিয়া অস্টিয়াম (Calcarea Ostrearum), ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (Calcium Carbonate), কার্বোনেট অব লাইম (Carbonate of Lime)।
মায়াজম
সোরিক, সাইকোটিক ও টিউবারকুলার প্রবণতার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত বলে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বর্ণিত।
পার্শ্ব
ডানপাশ।
ওপরের ডানপাশ থেকে নিচের বামপাশে।
বামপাশ থেকে ডানপাশে।
কাতরতা
শীতকাতর।
উপযোগিতা
Calcarea Carbonica-র একটি পরিচিত constitutional picture হলো শ্লেষ্মা ও রসপ্রধান ধাতু, দেহে স্থূলতা ও শিথিলতার প্রবণতা এবং সহজে ঠান্ডা লাগা।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা তুলনামূলক বড়, পেট স্ফীত বা মোটা, হাত-পা অপেক্ষাকৃত সরু এবং অতিরিক্ত ঘামের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। ঘুমের সময় মাথায় প্রচুর ঘাম হয়ে বালিশ ভিজে যাওয়া Calcarea Carbonica-র একটি বহুল পরিচিত keynote।
শিশুদের দাঁত ওঠার সময় অস্থিরতা, ঘাম, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা এবং শারীরিক বিকাশের ধীরতার সঙ্গে এই ঔষধের ছবি মিলতে পারে।
ক্রিয়াস্থল
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে Calcarea Carbonica-র প্রধান ক্রিয়াস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়
পরিপোষণ ও শোষণ প্রক্রিয়া
গ্রন্থি
অস্থি
রক্ত
ত্বক
দাঁত
জিহ্বা
মস্তিষ্ক
হৃদপিণ্ড
ফুসফুস
বক্ষদেশ
পরিপাকতন্ত্র
শিশুদের শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়
চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য
Calcarea Carbonica রোগীর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো পা ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা থাকার প্রবণতা। হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে একে কখনো এমনভাবে বর্ণনা করা হয় যেন রোগী ভেজা মোজা পরে আছে।
এটি Sulphur-এর সঙ্গে তুলনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। Sulphur-এ সাধারণত পায়ের তালু গরম ও ঘামাক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি বর্ণিত হয়।
Calcarea Carbonica-তে শরীরের পরিপোষণ, বৃদ্ধি, শোষণ ও নিঃসরণ-সংক্রান্ত ক্রিয়াগুলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিস্তৃত constitutional picture পাওয়া যায়।
ফিজিওলজিক্যাল কার্যপ্রবাহ
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-র বর্ণনা অনুযায়ী Calcarea Carbonica শরীরের পরিপোষণ ও বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তারকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
এর সঙ্গে শোষণ ও নিঃসরণ-প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, গ্রন্থি ও অস্থির সমস্যা এবং দেহের সামগ্রিক constitution-এর পরিবর্তনের সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে।
এ কারণে Calcarea Carbonica-কে অনেক ক্ষেত্রে constitutional remedy হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মানসিক বৈশিষ্ট্য
Calcarea Carbonica রোগীর মধ্যে একগুঁয়েমি, ভয়, ভীরুতা, অস্থিরতা, উত্তেজনাপ্রবণতা, ক্রোধ, মানসিক চাপ ও অলসতার মতো লক্ষণ পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষত মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়ে আচরণ একটি পরিচিত keynote।
রাগ বা ক্রোধের সময় থুথু ফেলার প্রবণতাও Materia Medica-তে একটি বিশেষ লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভয় ও অনিরাপত্তার অনুভূতি থাকতে পারে। মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে রোগীর বিভিন্ন অভিযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষ অনুভূতি
১. বাহুর ওপর দিয়ে যেন ইঁদুর হাঁটছে—এমন অনুভূতি।
২. কোনো অঙ্গ যেন মচকে গেছে—এমন ব্যথার অনুভূতি।
সহচর লক্ষণ
১. মোটা হওয়ার প্রবণতাযুক্ত শিশুদের একগুঁয়েমি।
২. রাগ বা ক্রোধের সময় থুথু ফেলার প্রবণতা।
৩. মাথায় রক্তসঞ্চয়ের অনুভূতি এবং পর্যায়ক্রমে বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূতি।
৪. ঘুমের সময় মাথায় অতিরিক্ত ঘাম এবং অস্থিরতা।
৫. মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যাওয়া।
৬. অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা।
৭. সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা।
৮. পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা ও অম্লপিত্তের প্রবণতা।
বৃদ্ধি
Calcarea Carbonica-র লক্ষণগুলো নিম্নলিখিত অবস্থায় বৃদ্ধি পাওয়ার কথা Materia Medica-তে বর্ণিত হয়েছে
প্রাতে
বেলা ২টার দিকে
সন্ধ্যায়
রাতে
মধ্যরাতের পর
ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায়
আবহাওয়ার পরিবর্তনে
ঠান্ডা লাগলে
গরম বাতাসে
গোসলের পর
ঠান্ডা পানিতে
ওপরে উঠলে
সিঁড়ি ভাঙলে
চোখের অতিরিক্ত ব্যবহারে
বয়ঃসন্ধিকালে
আঁটসাঁট পোশাকের চাপে
দুধে
মদ্যজাত উত্তেজক পদার্থে
জেগে উঠলে
পূর্ণিমায়
দাঁড়িয়ে থাকলে
দাঁত ওঠার সময়
আহারের পর
মানসিক পরিশ্রমে
শারীরিক পরিশ্রমে
হস্তমৈথুনের পর
সঙ্গমের পর
ঘাম বন্ধ হয়ে গেলে
ঋতুস্রাবের আগে
ঘুমের আগে ও পরে
হাঁটার সময়
ভারী জিনিস তুললে
পা ঝুলিয়ে রাখলে
আলোর সংস্পর্শে
ওপরে তাকালে
মাথা ঘোরালে
উপবাসে
হ্রাস
নিম্নলিখিত অবস্থায় কিছু লক্ষণ উপশম পাওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে
হাত-পা শরীরের কাছে জড়ো করলে
কাপড় আলগা করলে
চিৎ হয়ে শুলে
চুলকালে
চুল কাটলে
ঘর্ষণে
শুষ্ক আবহাওয়ায়
সকালের নাস্তার পর
অন্ধকারে
ব্যথাযুক্ত পাশে শুলে
উষ্ণতায়
রোগের কারণ ও উদ্দীপক
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে Calcarea Carbonica-র সঙ্গে নিম্নলিখিত কারণ বা উদ্দীপকের সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে
ঠান্ডা লাগা
ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়া
ঠান্ডা পানিতে গোসল
অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম
অতিরিক্ত ভার উত্তোলন
মেরুদণ্ডের নিম্নাংশে আঘাত
মচকানো
মানসিক পরিশ্রান্তি
ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া
মাসিকের স্বাভাবিক নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হওয়া
ত্বকের নিঃসরণ বা eruption চাপা পড়া
দন্তোদ্গমের সময়
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
খাদ্যের প্রতি ইচ্ছা
Calcarea Carbonica-তে নিম্নলিখিত খাদ্যের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা বর্ণিত হয়েছে
ডিম
মিষ্টি
লবণাক্ত খাদ্য
মদ্যজাত পানীয়
এ ছাড়া অখাদ্য বা অস্বাভাবিক বস্তু যেমন মাটি, চক, কয়লা, পেন্সিলের শীষ ইত্যাদি খাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। এ ধরনের লক্ষণকে Pica বলা হয়।
খাদ্যের প্রতি অনিচ্ছা
মাংস
দুধ
গরম খাদ্য
চর্বিযুক্ত খাদ্য
বিশেষভাবে দুধ সহ্য না করা বা দুধের প্রতি অনিচ্ছা একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশেষ খাদ্যসংক্রান্ত লক্ষণ
Calcarea Carbonica-র ক্ষেত্রে ডিমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং দুধের প্রতি অনিচ্ছা বা অসহিষ্ণুতা—এই বিপরীতধর্মী খাদ্য-পছন্দটি রোগীর সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রধান শারীরিক Keynote
১. মাথায় অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে ঘুমের সময়।
২. মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়।
৩. পা ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা।
৪. সহজে ঠান্ডা লাগা।
৫. মোটা, থলথলে ও মেদপ্রবণ দেহগঠন।
৬. পেট তুলনামূলক বড় ও স্ফীত।
৭. হাত-পা তুলনামূলক সরু।
৮. শিশুদের দাঁত ওঠার সময় ঘাম ও অস্থিরতা।
৯. শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে অভিযোগ বৃদ্ধি।
১০. ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সমস্যা বৃদ্ধি।
১১. সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট।
১২. পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা।
১৩. অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতা।
১৪. ডিমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
১৫. দুধের প্রতি অনিচ্ছা বা অসহিষ্ণুতা।
মাথা
মাথায় অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে ঘুমের সময়, Calcarea Carbonica-র অত্যন্ত পরিচিত লক্ষণ।
মাথায় রক্তসঞ্চয়ের অনুভূতি এবং কখনো বিপরীতভাবে বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূতি পর্যায়ক্রমে দেখা দিতে পারে।
চোখের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাথার বিভিন্ন অভিযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
দাঁত ও শিশু
দাঁত ওঠার সময় Calcarea Carbonica-র লক্ষণগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।
এ সময় ঘাম, অস্থিরতা, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা, হজমের গোলমাল এবং শিশুর সামগ্রিক শারীরিক গঠনের সঙ্গে মিল পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু মোটা ও নাদুসনুদুস হলেও হাত-পা তুলনামূলক সরু এবং মাথায় প্রচুর ঘাম হলে Calcarea Carbonica-র constitutional picture-এর কথা মনে রাখা হয়।
পরিপাকতন্ত্র
পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা, অম্লপিত্ত এবং খাদ্য হজমের বিভিন্ন অসুবিধার সঙ্গে Calcarea Carbonica-র সম্পর্ক Materia Medica-তে বর্ণিত হয়েছে।
দুধ সহ্য না করা এবং অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতাও বিশেষভাবে বিবেচ্য।
শ্বাসতন্ত্র
সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট এবং ঠান্ডা-আর্দ্র আবহাওয়ায় শ্বাসতন্ত্রের অভিযোগ বৃদ্ধি—এই লক্ষণগুলো রোগীর সামগ্রিক ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
ত্বক ও ঘাম
Calcarea Carbonica-তে ঘামের প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে মাথায় প্রচুর ঘাম এবং ঘুমের সময় বালিশ ভিজে যাওয়া একটি পরিচিত keynote।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘাম ও ঠান্ডা লাগার প্রবণতা একসঙ্গে থাকতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তুলনা
Calcarea Carbonica ও Sulphur
Calcarea Carbonica-তে পা সাধারণত ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা থাকে।
Sulphur-এ পা গরম ও ঘামাক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি পরিচিত।
Calcarea Carbonica ও Phosphorus
উভয় ঔষধেই দুর্বলতা ও বিভিন্ন constitutional লক্ষণ থাকতে পারে। তবে রোগীর সামগ্রিক গঠন, তৃষ্ণা, মানসিক বৈশিষ্ট্য, খাদ্য-ইচ্ছা এবং modality দেখে পার্থক্য করতে হয়।
Calcarea Carbonica ও Lycopodium
Calcarea Carbonica-তে মোটা, শিথিল, ঠান্ডাকাতর constitution এবং মাথার ঘাম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
Lycopodium-এ সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের গ্যাস, পেট ফাঁপা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও নির্দিষ্ট খাদ্য-ইচ্ছার সমন্বয় বেশি গুরুত্ব পায়।
সম্পর্ক ও Antidotal Considerations
প্রচলিত Materia Medica-তে Calcarea Carbonica-র সঙ্গে বিভিন্ন ঔষধের complementary, inimical বা antidotal সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক সূত্রে বিশেষভাবে Acidum Nitricum, Bryonia, Camphora, China, Ipecacuanha, Nux Vomica, Phosphorus, Sepia, Sulphur প্রভৃতি ঔষধের সঙ্গে বিভিন্ন সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পর্ককে যান্ত্রিক নিয়ম হিসেবে প্রয়োগ না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি ও পূর্ববর্তী ঔষধ-ইতিহাস বিবেচনা করা উচিত।
ডা. বোরিকের সতর্কতা
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে Calcarea Carbonica ঘন ঘন প্রয়োগ না করার বিষয়ে Dr. Boricke-এর সতর্কতা Materia Medica-র ঐতিহাসিক আলোচনায় পাওয়া যায়।
ঐতিহাসিক প্রয়োগ-সংক্রান্ত মন্তব্য
Calcarea Carbonica-র পূর্বে বা পরে কোন ঔষধ ব্যবহার করা যাবে—এ বিষয়ে পুরনো হোমিওপ্যাথিক গ্রন্থগুলোতে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। Hahnemann, Boenninghausen, Kent, Hering এবং অন্যান্য লেখকের বর্ণনায় ঔষধের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।
তাই “একটি নির্দিষ্ট ক্রমেই সব রোগীর ক্ষেত্রে ঔষধ দিতে হবে”—এমন যান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ না করে রোগীর বর্তমান totality of symptoms, পূর্ববর্তী ঔষধের প্রতিক্রিয়া এবং constitutional picture বিবেচনা করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপ
Calcarea Carbonica-র মূল ছবিকে সংক্ষেপে এভাবে মনে রাখা যায়
শীতকাতর রোগী
মোটা বা মেদপ্রবণ দেহগঠন
থলথলে বা শিথিল শরীর
মাথা তুলনামূলক বড়
পেট বড় বা স্ফীত
হাত-পা তুলনামূলক সরু
মাথায় প্রচুর ঘাম
ঘুমের সময় মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়
পা ঠান্ডা ও আঠালো ঘামে ভেজা
সহজে ঠান্ডা লাগে
ডিমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা
দুধের প্রতি অনিচ্ছা বা অসহিষ্ণুতা
মিষ্টি ও লবণাক্ত খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা
অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতা
শিশুদের একগুঁয়েমি
দন্তোদ্গমের সময় বিভিন্ন সমস্যা
শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি
ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বৃদ্ধি
সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট
পরিপাকতন্ত্রে অম্লতা
গ্রন্থি ও অস্থির বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে constitutional সম্পর্ক
চিকিৎসা-শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কথা
Calcarea Carbonica-কে শুধু “মাথায় ঘাম হয়” বা “মোটা রোগী” দেখেই নির্বাচন করা উচিত নয়। একটি সঠিক prescription-এর জন্য রোগীর মানসিক লক্ষণ, সাধারণ শারীরিক লক্ষণ, thermal state, খাদ্যের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ঘাম, sleep, modalities, concomitants এবং রোগের সম্পূর্ণ symptom totality বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একটি keynote কখনোই সম্পূর্ণ prescription-এর বিকল্প নয়।
এই লেখাটি হোমিওপ্যাথিক Materia Medica অধ্যয়ন ও চিকিৎসা-শিক্ষার উদ্দেশ্যে। রোগী নিজের লক্ষণ দেখে নিজে থেকে ঔষধ নির্বাচন বা সেবন না করে যোগ্য ও নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।
লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
এ আর টাওয়ার, রুম নং ৯
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
