জনপ্রিয় পোস্ট

রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ঔষধের নাম ও তার শত্রুভাবাপন্ন ঔষধের তালিকা



ঔষধের নাম ও তার শত্রুভাবাপন্ন ঔষধের তালিকা


হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করার সময় রোগীর আগে কোন কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর পূর্বের চিকিৎসার ইতিহাস না জেনে নতুন ঔষধ নির্বাচন করলে অনেক সময় চিকিৎসায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জন্য রোগীর রোগীলিপি বা চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ একটি ঔষধের সঙ্গে অন্য একটি ঔষধের অনুকূল, প্রতিষেধক বা শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক থাকতে পারে।

অনেকে মনে করেন, হোমিওপ্যাথিক ঔষধে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া হতে পারে না। এই ধারণা সঠিক নয়। ভুল ঔষধ, অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বা পূর্বের ঔষধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঔষধ ব্যবহার করলে চিকিৎসার স্বাভাবিক ধারায় সমস্যা হতে পারে।

তাই একজন চিকিৎসকের উচিত রোগীর পূর্বের প্রেসক্রিপশন ও ঔষধের ইতিহাস ভালোভাবে দেখে পরবর্তী ঔষধ নির্বাচন করা।

নিচে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে প্রচলিত কিছু শত্রুভাবাপন্ন বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঔষধের সম্পর্ক সহজভাবে দেওয়া হলো।

ঔষধের নাম ও শত্রুভাবাপন্ন ঔষধ

১। Acidum Aceticum (এসিড এসেটিক):
Borax, Causticum, Nux vomica, Ranunculus bulbosus, Sarsaparilla।

২। Acidum Lacticum (এসিড ল্যাকটিক):
Coffea।

৩। Acidum Nitricum (এসিড নাইট্রিক):
Lachesis; পরে Calcarea carbonica।

৪। Allium cepa (এলিয়াম সেপা):
Allium sativum, Aloe socotrina, Squilla।

৫। Allium sativum (এলিয়াম স্যাটাইভা):
Aloe, Allium cepa, Squilla।

৬। Aloe socotrina (অ্যালো সকোট্রিনা):
Allium sativum।

৭। Ammonium carbonicum (অ্যামোনিয়াম কার্ব):
Lachesis।

৮। Apis mellifica (এপিস):
Rhus toxicodendron।

৯। Arum triphyllum (অরাম ট্রিফাইলাম):
Caladium।

১০। Asterias rubens (অ্যাস্টেরিয়াস রুবেন্স):
Coffea।

১১। Aurum muriaticum natronatum (অরাম মিউরিয়াটিকাম ন্যাট্রোনাটাম):
Coffea, Nux vomica।

১২। Baryta carbonica (ব্যারাইটা কার্ব):
Calcarea carbonica-এর পরে।

১৩। Belladonna (বেলাডোনা):
Acidum aceticum, Dulcamara।

১৪। Borax (বোরাক্স):
Acidum aceticum, Viburnum।

১৫। Bovista (বোভিস্টা):
Coffea।

১৬। Caladium (ক্যালাডিয়াম):
Arum triphyllum।

১৭। Calcarea carbonica (ক্যালকেরিয়া কার্ব):
Acidum nitricum, Baryta carbonica। Sulphur-এর পরে বিশেষ অবস্থায় বিবেচনা করা হয়।

১৮। Calendula (ক্যালেন্ডুলা):
Camphora।

১৯। Camphora (ক্যাম্ফর):
Kali nitricum-এর পরে না দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

২০। Cantharis (ক্যান্থারিস):
Coffea।

২১। Carbo animalis (কার্বো অ্যানিমেলিস):
Carbo vegetabilis।

২২। Carbo vegetabilis (কার্বো ভেজ):
Carbo animalis; Kreosotum-এর পরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ আছে।

২৩। Caulophyllum (কলোফাইলাম):
Coffea।

২৪। Causticum (কষ্টিকাম):
Acidum aceticum, Coffea, Phosphorus, Guaiacum, Nux vomica।

২৫। Chamomilla (ক্যামোমিলা):
Zincum।

২৬। China officinalis (চায়না):
Digitalis, Selenium।

২৭। Cistus canadensis (সিস্টাস):
Coffea।

২৮। Cocculus indicus (ককিউলাস):
Coffea।

২৯। Coffea cruda (কফিয়া):
Cantharis, Coccus cacti, Ignatia, Causticum।

৩০। Digitalis (ডিজিটেলিস):
Nitri spiritus dulcis।

৩১। Dulcamara (ডালকামারা):
Acidum aceticum, Belladonna, Lachesis।

৩২। Ferrum (ফেরাম):
Acidum aceticum।

৩৩। Ignatia amara (ইগ্নেশিয়া):
Coffea, Nux vomica, Tabacum।

৩৪। Kali bichromicum (কেলি বাইক্রম):
Calcarea carbonica-এর পরে না দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

৩৫। Kali nitricum (কেলি নাইট্রিকাম):
Camphora-এর পরে না দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

৩৬। Kreosotum (ক্রিয়োজোট):
Carbo vegetabilis-এর পরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ আছে।

৩৭। Lachesis mutus (ল্যাকেসিস):
Acidum aceticum, Acidum carbolicum, Acidum nitricum।

৩৮। Lycopodium (লাইকোপোডিয়াম):
ঔষধের ধারাবাহিকতা ও রোগীর প্রতিক্রিয়া দেখে ব্যবহার করতে হয়; Sulphur, Calcarea carbonica ও Coffea-এর সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা করা হয়।

৩৯। Mercurius solubilis (মার্ক সল):
Acidum aceticum-এর সঙ্গে সম্পর্ক এবং Silicea-র আগে বা পরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

৪০। Millefolium (মিলিফোলিয়াম):
Coffea।

৪১। Nux vomica (নাক্স ভমিকা):
Acidum aceticum, Ignatia, Zincum।

৪২। Phosphorus (ফসফরাস):
Causticum।

৪৩। Psorinum (সোরিনাম):
Sepia।

৪৪। Ranunculus bulbosus (র‍্যানান বাল্ব):
Acidum aceticum, Staphysagria, Sulphur, Viburnum।

৪৫। Rhus toxicodendron (রাস টক্স):
Apis-এর সঙ্গে বিরোধী সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়; Phosphorus-এর সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কথাও Kent-এ উল্লেখ আছে।

৪৬। Sarsaparilla (সার্সাপ্যারিলা):
Acidum aceticum।

৪৭। Selenium (সেলেনিয়াম):
China, Vanadium।

৪৮। Sepia (সিপিয়া):
Bryonia, Lachesis।

৪৯। Silicea (সাইলিসিয়া):
Mercurius-এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

৫০। Squilla (স্কুইলা):
Allium cepa।

৫১। Staphysagria (স্ট্যাফিসেগ্রিয়া):
Ranunculus bulbosus।

৫২। Stramonium (স্ট্রামোনিয়াম):
Coffea।

৫৩। Sulphur (সালফার):
Lycopodium-এর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। Kent-এর মতে Lycopodium-এর পরে Sulphur ভালোভাবে কাজ করতে পারে, কিন্তু Sulphur-এর পরে Lycopodium দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। Ranunculus bulbosus-এর সঙ্গেও সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়েছে।

৫৪। Vespa crabro (ভেসপা):
Argentum nitricum।

৫৫। Zincum metallicum (জিঙ্কাম):
Chamomilla, Nux vomica, Vinum।

কেন এই তালিকা জানা প্রয়োজন?

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় একটি ঔষধ দেওয়ার পর রোগীর অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করা প্রয়োজন। রোগী আগে কোন ঔষধ নিয়েছেন, কতদিন নিয়েছেন এবং তার পরে কী পরিবর্তন হয়েছে—এসব তথ্য পরবর্তী ঔষধ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই রোগীর প্রতিটি চিকিৎসার ইতিহাস লিখে রাখা ভালো।

মনে রাখবেন:

পূর্বের ঔষধ → রোগীর বর্তমান অবস্থা → নতুন লক্ষণ → বর্তমান Totality → পরবর্তী ঔষধ নির্বাচন

শুধু রোগের নাম দেখে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়। রোগীর বর্তমান লক্ষণ এবং পূর্বের ঔষধের প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।

Antidote, Complementary ও শত্রুভাবাপন্ন—এক নয়

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Antidote, Complementary এবং Inimical শব্দগুলো একই অর্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।

Antidote: কোনো ঔষধের প্রভাবকে অন্য ঔষধ দ্বারা প্রতিহত বা কমানোর সম্পর্ক।

Complementary: একটি ঔষধের পরে অন্য একটি ঔষধ ভালোভাবে কাজ করার সম্পর্ক।

Inimical বা শত্রুভাবাপন্ন: দুটি ঔষধের মধ্যে এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্ক, যার কারণে একটির পরে অন্যটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

তাই তালিকাটি মুখস্থ করার পাশাপাশি প্রতিটি ঔষধের Materia Medica এবং Remedy Relationship অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের প্রতি অনুরোধ

শুধু তালিকা দেখে রোগীকে কোনো ঔষধ দেওয়া বা আগের ঔষধের “শত্রু” মনে করে সঙ্গে সঙ্গে অন্য ঔষধ প্রয়োগ করা উচিত নয়।

প্রথমে রোগীর বর্তমান অবস্থা বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে পূর্বের prescription পর্যালোচনা করতে হবে। তারপর Repertory ও Materia Medica মিলিয়ে পরবর্তী ঔষধ নির্বাচন করা উচিত।

ভুল ঔষধ না দেওয়াই একজন চিকিৎসকের বড় দায়িত্ব।

রোগীর উপকার করা যেমন চিকিৎসকের দায়িত্ব, তেমনি অপ্রয়োজনীয় ঔষধ প্রয়োগ থেকে রোগীকে রক্ষা করাও চিকিৎসকের দায়িত্ব।

রোগীর পুরোনো চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষণ করুন।
ঔষধের পারস্পরিক সম্পর্ক জানুন।
Materia Medica অধ্যয়ন করুন।
তারপর সঠিকভাবে পরবর্তী ঔষধ নির্বাচন করুন।


লেখক
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে 
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড 
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার- ৯
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
গভঃ রেজিঃ নং: ২৩৮৭৬
মোবাইল নাম্বার 01716651488

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Welcome to you our website