| হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala |
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
Uterine Abnormal Bleeding Treatment in Homeopathy
জরুরি সতর্কতা
জরায়ু থেকে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ কখনো কখনো জরুরি চিকিৎসার বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে খুব দ্রুত ও প্রচুর রক্তক্ষরণ, বারবার বড় বড় রক্তের চাপ বের হওয়া, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় বা তীব্র তলপেটের ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গর্ভাবস্থায়, গর্ভপাতের পর বা প্রসবের পর রক্তক্ষরণ হলেও অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন করা উচিত। জ্বরের সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত যোনি স্রাব থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকে শুধু মাসিকের স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করে ঘরোয়া উপায় বা কোনো একটি ঔষধের ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। রক্তক্ষরণের কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনে রক্তস্বল্পতা ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা করা জরুরি।
ভূমিকা
মাসিক বা ঋতুস্রাব নারীদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। সাধারণত একটি মাসিকের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় প্রায় ২৮ দিন হলেও ব্যক্তিভেদে এই সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
তবে মাসিকের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, দীর্ঘদিন রক্তপাত অথবা মাসিকের বাইরে জরায়ু থেকে রক্তপাত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
জরায়ু থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Abnormal Uterine Bleeding (AUB) বলা হয়। অতিরিক্ত বা অনিয়মিত মাসিক, মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত, সঙ্গমের পর রক্তপাত অথবা গর্ভাবস্থা ও প্রসব-পরবর্তী অস্বাভাবিক রক্তপাত বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
এর পেছনে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা পলিপ, অ্যাডেনোমায়োসিস, এন্ডোমেট্রিওসিস, সংক্রমণ, গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা এবং অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।
তাই শুধু রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা না করে প্রথমে এর কারণ নির্ণয় করা জরুরি। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ, রক্তক্ষরণের প্রকৃতি, সময়, পরিমাণ, ব্যথার ধরন এবং সহগামী লক্ষণ বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।
জরায়ুর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের লক্ষণ
অস্বাভাবিক জরায়ুর রক্তক্ষরণে দেখা যেতে পারে:
মাসিক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দিন স্থায়ী হওয়া।
অল্প সময়ের মধ্যে বারবার প্যাড বা কাপড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়া।
বড় বড় রক্তের চাপ বা জমাট রক্ত বের হওয়া।
মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত হওয়া।
সঙ্গমের পর রক্তপাত হওয়া।
গর্ভাবস্থায় রক্তপাত হওয়া।
প্রসব বা গর্ভপাতের পর অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া।
তীব্র তলপেট বা কোমরব্যথা।
অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখা।
দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণের ফলে রক্তস্বল্পতা হওয়া।
সম্ভাব্য কারণ
জরায়ুর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন:
জরায়ুর ফাইব্রয়েড।
জরায়ুর পলিপ।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
অ্যাডেনোমায়োসিস।
এন্ডোমেট্রিওসিস।
জরায়ু বা জননাঙ্গের সংক্রমণ।
গর্ভপাত বা গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা।
প্রসবের পর জরায়ুর স্বাভাবিক সংকোচন ব্যাহত হওয়া।
রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার মতো অন্যান্য শারীরিক কারণ।
তাই রোগীর বয়স, মাসিকের ইতিহাস, গর্ভধারণের সম্ভাবনা এবং অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করে প্রয়োজনে রক্তের পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষা করা দরকার।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিতে একই রোগের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ঔষধ প্রযোজ্য নয়। রক্তক্ষরণের প্রকৃতি ও রোগীর সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিল রেখে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।
সিকেলি কর (Secale cornutum)
প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ। রক্ত কালচে এবং জমাট রক্তের সঙ্গে বের হতে পারে। রক্তক্ষরণের সঙ্গে প্রসববেদনার মতো ব্যথা ও খিঁচুনির প্রবণতা থাকতে পারে। রোগী সাধারণত শীর্ণকায় ও গরমকাতর।
রক্তক্ষরণ নড়াচড়ায় বৃদ্ধি পেতে পারে। গর্ভপাতের বিশেষ কিছু অবস্থাতেও এর লক্ষণীয়তা রয়েছে।
মূল ভাব: কালচে রক্ত, দীর্ঘস্থায়ী প্রবল রক্তক্ষরণ, শীর্ণকায় ও গরমকাতর রোগী।
ভিনকা মাইনর (Vinca minor)
মাসিক বন্ধ হওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের বিশেষ লক্ষণসমষ্টিতে বিবেচিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েডের সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের বর্ণনাও পাওয়া যায়।
মূল ভাব: মাসিকের অনিয়ম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সঙ্গে বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য।
ইউস্টিলেগো (Ustilago)
অবিরত বা বারবার জরায়ু থেকে রক্তক্ষরণ। কখনো রক্তপাত তুলনামূলক ব্যথাহীন হলেও পরিমাণ বেশি হতে পারে। ডিম্বাশয় ও জরায়ুর মুখ অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ার লক্ষণ থাকতে পারে।
ফাইব্রয়েডের সঙ্গে রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বর্ণিত হয়েছে।
মূল ভাব: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের স্পর্শকাতরতা।
সিনামোনাম (Cinnamomum)
সামান্য কারণেই রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার প্রবণতা। গর্ভাবস্থায় বা অন্য সময়ে সহজে রক্তপাত হওয়ার লক্ষণ থাকলে বিবেচনা করা হয়।
মূল ভাব: সামান্য কারণেই রক্তপাত।
এলাটেরিয়াম (Elaterium)
প্রবল রক্তক্ষরণের সঙ্গে প্রসববেদনার মতো ব্যথা। রক্ত কালচে ও জমাট হতে পারে। দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও মূর্ছার প্রবণতা থাকতে পারে।
মূল ভাব: প্রবল রক্তক্ষরণ, প্রসববেদনার মতো ব্যথা, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা।
থ্লাসপি বার্সা প্যাস্টোরিস (Thlaspi bursa pastoris)
প্রসব বা গর্ভপাতের পর দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ এবং মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতের ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়। রক্ত কালচে, জমাট ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে।
ফাইব্রয়েড, জরায়ুমুখের বিভিন্ন সমস্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণের সঙ্গে এর ব্যবহার বর্ণিত হয়েছে।
মূল ভাব: দীর্ঘস্থায়ী ও প্রচুর রক্তক্ষরণ, কালচে জমাট রক্ত।
ট্রিলিয়াম (Trillium)
প্রচুর রক্তক্ষরণ ধীরে ধীরে চলতে থাকে। মাসে একাধিকবার মাসিক হতে পারে অথবা দীর্ঘদিন রক্তপাত চলতে পারে। রক্ত সাধারণত উজ্জ্বল লাল এবং সামান্য নড়াচড়ায় রক্তপাত বেড়ে যেতে পারে।
রক্তক্ষরণের সঙ্গে মূর্ছা, বুক ধড়ফড়, কানে শব্দ এবং চোখে অন্ধকার দেখার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।
মূল ভাব: উজ্জ্বল লাল রক্ত, সামান্য নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, দুর্বলতা ও মূর্ছা।
হেলোনিয়াস (Helonias)
জরায়ুতে ভারী ও টানটান অনুভূতি। নড়াচড়ার সময় জরায়ুতে ব্যথা। রক্তক্ষরণ দীর্ঘস্থায়ী ও প্রচুর হতে পারে এবং রক্তের সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত জমাট অংশ থাকতে পারে।
ঋতুকালে স্তন অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ ও প্রস্রাবে জ্বালাও থাকতে পারে।
মূল ভাব: জরায়ুতে ভারবোধ, দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ ও স্তনের স্পর্শকাতরতা।
ইরিজেরন (Erigeron)
প্রবল রক্তক্ষরণের সঙ্গে মলত্যাগ ও প্রস্রাবের সময় কষ্ট। মলদ্বার ও মূত্রনালিতে জ্বালা থাকতে পারে। নড়াচড়ায় রক্তক্ষরণ বৃদ্ধি পায়।
রক্ত উজ্জ্বল লাল এবং প্রসববেদনার মতো ব্যথার সঙ্গে হতে পারে।
মূল ভাব: উজ্জ্বল লাল রক্ত, মল-মূত্রের সময় কষ্ট ও নড়াচড়ায় বৃদ্ধি।
হ্যামামেলিস (Hamamelis)
আঘাতের পর জরায়ু বা ডিম্বাশয় থেকে কালচে রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। আক্রান্ত স্থানে অত্যন্ত ব্যথা এবং কোমর বা পাছা থেকে উরুর দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে।
মূল ভাব: আঘাতের পর কালচে রক্তক্ষরণ ও শিরাসংক্রান্ত ব্যথা।
চায়না (China)
প্রচুর রক্তক্ষরণের পর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়া। মাথা ঘোরা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, চোখে অন্ধকার দেখা ও মূর্ছার প্রবণতা থাকতে পারে।
মূল ভাব: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা।
ফসফরাস (Phosphorus)
লম্বা, পাতলা ও ছিপছিপে গঠনের রোগীর ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়। রক্তক্ষরণ প্রবল এবং সহজে বন্ধ হতে চায় না। শরীরের ভেতরে জ্বালাপোড়ার অনুভূতিও থাকতে পারে।
মূল ভাব: সহজে বন্ধ না হওয়া প্রবল রক্তক্ষরণ।
স্যাবাইনা (Sabina)
পাছা বা কোমর থেকে পিউবিক অঞ্চলের দিকে ব্যথা ছুটে আসে। রক্ত উজ্জ্বল লাল এবং বড় বড় জমাট অংশের সঙ্গে বের হতে পারে।
রক্তক্ষরণের সঙ্গে প্রস্রাবের কষ্ট থাকতে পারে।
মূল ভাব: কোমর বা পাছা থেকে পিউবিক অঞ্চলে ব্যথা, উজ্জ্বল লাল রক্ত ও বড় জমাট।
প্ল্যাটিনা (Platina)
প্রসববেদনার মতো ব্যথার সঙ্গে প্রবল রক্তক্ষরণ। রক্ত কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। যোনিপথে স্পর্শকাতরতা ও চুলকানিও থাকতে পারে।
মূল ভাব: প্রবল রক্তক্ষরণ, তীব্র স্পর্শকাতরতা ও কালচে দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত।
ইপিকাকুয়ানহা (Ipecacuanha)
প্রবল রক্তক্ষরণের সঙ্গে ক্রমাগত বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট বা মূর্ছার প্রবণতা। নাভি থেকে জরায়ুর দিকে সূচিবিদ্ধের মতো ব্যথা থাকতে পারে। রক্ত সাধারণত উজ্জ্বল লাল।
মূল ভাব: উজ্জ্বল লাল প্রবল রক্তক্ষরণ ও অবিরাম বমি বমি ভাব।
সিনা (Cina)
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমিজনিত সমস্যার সঙ্গে অস্বাভাবিক জননাঙ্গের রক্তক্ষরণের লক্ষণসমষ্টিতে বিবেচিত হয়।
সাইলিসিয়া (Silicea)
স্তন্যদানকালীন জরায়ু থেকে রক্তক্ষরণের বিশেষ লক্ষণসমষ্টিতে বিবেচিত হয়।
ক্রিয়োজোট (Kreosotum)
শুয়ে পড়লে রক্তক্ষরণ বৃদ্ধি পেতে পারে। রক্ত বা স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
মূল ভাব: শোয়ার পর বৃদ্ধি, দুর্গন্ধযুক্ত ও ক্ষতকারী স্রাব।
ম্যাগনেশিয়া কার্বোনিকা (Magnesia carbonica)
রাতে এবং শুয়ে থাকলে রক্তক্ষরণ বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ। রক্তের দাগ কাপড় থেকে সহজে পরিষ্কার না হওয়ার বিশেষ লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে।
ক্রোকাস স্যাটিভাস (Crocus sativus)
কালচে, আঠালো বা সুতো/দড়ির মতো টেনে বের হওয়া রক্তের বিশেষ লক্ষণ। রক্তের প্রকৃতি অস্বাভাবিক ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে ঔষধ নির্বাচন
প্রস্রাবের আগে বা পরে রক্তক্ষরণ
আর্নিকা, বেলাডোনা, ক্যামোমিলা, চায়না, ক্রোকাস, ফেরাম ফসফোরিকাম, ইপিকাকুয়ানহা, ফসফরাস, প্ল্যাটিনা, স্যাবাইনা, সিকেলি কর, সিনামোনাম ও ইরিজেরন।
সঙ্গমের পর রক্তক্ষরণ
আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, আর্নিকা, আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ক্রিয়োজোটাম, সিপিয়া প্রভৃতি লক্ষণসাদৃশ্য অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
গর্ভপাতের আশঙ্কায় রক্তক্ষরণ
অ্যাপিস মেলিফিকা, স্যাবাইনা, সিকেলি কর, থুজা, মার্কিউরিয়াস প্রভৃতি লক্ষণসাদৃশ্য অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ
গর্ভাবস্থায় যেকোনো রক্তপাতকে গুরুত্ব দিয়ে কারণ নির্ণয় করা জরুরি। সিপিয়াসহ অন্যান্য ঔষধ কেবল পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত।
প্রসবের পর প্লাসেন্টার অংশ জরায়ুতে থেকে যাওয়ার সঙ্গে রক্তক্ষরণ
বেলাডোনা, ক্যানথারিস, কার্বো ভেজিটাবিলিস, পালসেটিলা, স্যাবাইনা, সিকেলি কর, সিপিয়া প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।
তবে এ ধরনের অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি।
বোরিক রেপার্টরি অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন
জরায়ুর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রুব্রিক নির্বাচন করা যায়।
Metrorrhagia, profuse:
Aconitum, Apis, Argentum nitricum, Arnica, Belladonna, Bryonia, Calcarea, Caulophyllum, Chamomilla, China, Cinnamomum, Crocus, Erigeron, Ferrum, Glonoinum, Hamamelis, Helonias, Hyoscyamus, Ipecacuanha, Kali carbonicum, Kreosotum, Lycopodium, Millefolium, Murex, Nitric acid, Nux vomica, Phosphorus, Pulsatilla, Sabina, Secale cornutum, Trillium, Viburnum।
Recurrent:
Argentum nitricum, Crocus, Kreosotum, Nux vomica, Phosphorus, Psorinum, Sulphur।
Retained placenta:
Belladonna, Cantharis, Carbo vegetabilis, Caulophyllum, Pulsatilla, Sabina, Secale cornutum, Sepia।
Stringy blood:
Argentum nitricum, Crocus, Lac caninum, Ustilago।
Sudden:
Arsenicum album, Belladonna, Cinnamomum, Ipecacuanha, Secale cornutum।
Thick blood:
Carbo vegetabilis, Nux moschata, Platina, Pulsatilla, Sulphur, Trillium।
Thin, fluid blood:
Apocynum, Bryonia, Carbo vegetabilis, China, Crotalus horridus, Elaps, Erigeron, Ferrum, Kreosotum, Lachesis, Laurus, Lycopodium, Phosphorus, Platina, Pulsatilla, Sabina, Secale cornutum, Sulphuric acid, Ustilago।
Mixed with clots:
China, Elaps, Ferrum, Kreosotum, Sabina, Secale cornutum।
Foul smelling:
Kreosotum, Secale cornutum।
Walking, ameliorates:
Sabina।
রেপার্টরি থেকে শুধু একটি রুব্রিক দেখে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়। রোগীর পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, কারণ, ব্যথার ধরন, রক্তের প্রকৃতি, সহগামী লক্ষণ, শারীরিক গঠন এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত। রেপার্টরির রুব্রিকের শব্দ ও গ্রেড সংস্করণভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
রোগী দেখার সময় যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
অতিরিক্ত জরায়ুর রক্তক্ষরণে রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া প্রয়োজন।
মাসিক কত দিন পরপর হয়।
কত দিন রক্তপাত থাকে।
রক্তের পরিমাণ কতটা।
রক্তের রং কেমন।
জমাট রক্ত বা বড় বড় চাপ আছে কি না।
রক্তক্ষরণের সঙ্গে ব্যথা আছে কি না।
ব্যথা কোথা থেকে কোথায় ছড়ায়।
নড়াচড়া, শোয়া বা অন্য কোনো কারণে রক্তক্ষরণ বাড়ে বা কমে কি না।
সঙ্গমের পর রক্তক্ষরণ হয় কি না।
গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা আছে কি না।
সম্প্রতি গর্ভপাত বা প্রসব হয়েছে কি না।
ফাইব্রয়েড, পলিপ বা অন্য কোনো জরায়ুর সমস্যা আছে কি না।
দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় আছে কি না।
প্রয়োজনে হিমোগ্লোবিন, গর্ভধারণ পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
রক্তস্বল্পতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ চলাকালে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা থাকলে একা বাইরে বের হওয়া বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়ানো ভালো।
আইস প্যাক, দারুচিনি চা বা পার্সলেকে অতিরিক্ত জরায়ুর রক্তক্ষরণের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এগুলোর ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নিতে দেরি করা নিরাপদ নয়।
উপসংহার
মহিলাদের জরায়ুর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু রক্তক্ষরণ দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, রক্তক্ষরণের ধরন, ব্যথা, সময়, সম্ভাব্য কারণ, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল বিবেচনা করা উচিত।
সঠিক রোগনির্ণয়, যথাযথ পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং লক্ষণসাদৃশ্য অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনাই নিরাপদ চিকিৎসার ভিত্তি।
নিজে নিজে চিকিৎসা না করে দক্ষ ও নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম, রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ, মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
