হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala 

বাত, রিউমাটিজম ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

বাত বা রিউমাটিজম কী?

বাত বা রিউমাটিজম বলতে সাধারণভাবে অস্থিসন্ধি, পেশি, টেন্ডন, লিগামেন্ট ও আশপাশের নরম টিস্যুতে ব্যথা, প্রদাহ, শক্তভাব বা চলাচলে অসুবিধাজনিত বিভিন্ন সমস্যাকে বোঝানো হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিউমাটিজম কোনো একক রোগের নাম নয়; রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, গাউট, বার্সাইটিস, টেন্ডনের প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগের সঙ্গে এ ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের নামের পাশাপাশি রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ, ব্যথার প্রকৃতি, আক্রান্ত অঙ্গ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ব্যথা সরে যাওয়া, ঠান্ডা বা গরমে পরিবর্তন, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি বা উপশম, বিশ্রামে অবস্থা, ঘাম, তৃষ্ণা, মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য সহগামী লক্ষণ বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।

বাত বা রিউমাটিজমের প্রধান ধরন

বাতজাতীয় সমস্যাকে উপসর্গ ও আক্রান্ত টিস্যুর ভিত্তিতে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। প্রচলিতভাবে আলোচনার সুবিধার জন্য তিনটি প্রধান ধরন উল্লেখ করা যায়।

১. আর্টিকুলার বা সন্ধিবাত
২. গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড-সম্পর্কিত বাত
৩. মাসকুলার বা পেশিবাত

এছাড়াও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত অটোইমিউন রোগ, যা প্রধানত ছোট-বড় বিভিন্ন অস্থিসন্ধিকে আক্রান্ত করতে পারে।

বাত বা রিউমাটিজমের সম্ভাব্য কারণ

বাতজাতীয় ব্যথা ও প্রদাহের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন:

আঘাত বা অতিরিক্ত পরিশ্রম

অস্থিসন্ধির দীর্ঘদিনের ক্ষয়

অটোইমিউন রোগ, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি ও গাউট

ঠান্ডা, ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে উপসর্গ বৃদ্ধি

সংক্রমণ-পরবর্তী প্রদাহ

বংশগত প্রবণতা

শরীরের ওজন বৃদ্ধি

দীর্ঘদিনের ভুল ভঙ্গি বা অতিরিক্ত চাপ

কিছু বিপাকীয় ও হরমোনজনিত সমস্যা

তাই শুধু “বাত” বলে রোগের কারণ নির্ধারণ না করে প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাত বা রিউমাটিজমের সাধারণ লক্ষণ

বাতের ধরন অনুযায়ী লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত দেখা যায়:

অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

সন্ধি ফুলে যাওয়া

সন্ধি গরম বা লাল হয়ে যাওয়া

সন্ধিতে শক্তভাব

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জয়েন্ট শক্ত লাগা

নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি অথবা কিছু ক্ষেত্রে নড়াচড়ায় আরাম

এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ব্যথা পরিবর্তন

পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা

হাত-পায়ের ছোট সন্ধিতে ব্যথা

কবজি, হাঁটু, গোড়ালি, কনুই বা কাঁধে ব্যথা

দীর্ঘদিনের ক্ষেত্রে সন্ধির আকৃতি পরিবর্তন

গাউটের ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র ব্যথা ও ফোলা, বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুলের সন্ধিতে

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে উভয় পাশের একই ধরনের সন্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা ও শক্তভাব দেখা দিতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা

বাতের রোগীর ক্ষেত্রে রোগের ধরন ও কারণ অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন:

রক্তের সাধারণ পরীক্ষা

ESR ও CRP

Serum uric acid

Rheumatoid factor

Anti-CCP antibody

প্রয়োজনে ANA

অস্থিসন্ধির এক্স-রে

Ultrasonography

প্রয়োজনে MRI

কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা

কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয়ের জন্য সব পরীক্ষা সবার প্রয়োজন হয় না। রোগীর লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্বাচন করা উচিত।

বাতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

হোমিওপ্যাথিতে একই রোগের জন্য সবার একই ঔষধ প্রযোজ্য নয়। নিচে রিউমাটিক ও বাতজাতীয় উপসর্গে প্রচলিত কয়েকটি ঔষধের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেওয়া হলো।

Aconitum napellus

হঠাৎ ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শের পর তীব্র ব্যথা ও জ্বরের আকস্মিক শুরু হলে Aconitum-এর কথা বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

হঠাৎ রোগের শুরু

তীব্র ব্যথা

জ্বর ও অস্থিরতা

শুষ্ক ত্বক

প্রবল তৃষ্ণা

ঠান্ডা শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শের পর উপসর্গ শুরু

Apis mellifica

সন্ধি ফুলে যাওয়া, টানটান বা দংশনের মতো ব্যথা এবং স্পর্শে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে Apis-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

ফোলা ও টানটান অনুভূতি

দংশনের মতো ব্যথা

পিপাসা কম বা অনুপস্থিত

গরমে উপসর্গ বৃদ্ধি

ঠান্ডায় আরাম

সন্ধি স্পর্শে অতিসংবেদনশীল

Arnica montana

আঘাতের পর অথবা সন্ধি ও পেশিতে থেঁতলে যাওয়ার মতো ব্যথা ও স্পর্শকাতরতা থাকলে Arnica-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

থেঁতলে যাওয়ার মতো ব্যথা

সন্ধিতে ব্যথা ও ফোলা

সামান্য নড়াচড়ায় ব্যথা

স্পর্শ সহ্য না হওয়া

শরীরের বিছানা শক্ত মনে হওয়া

Arsenicum album

জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা, অস্থিরতা এবং উষ্ণতা বা গরম সেঁকে আরাম পাওয়ার প্রবণতা থাকলে Arsenicum album-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

জ্বালাময় ব্যথা

অস্থিরতা

উদ্বেগ

ঠান্ডা ও দুর্বলতার অনুভূতি

গরমে বা গরম সেঁকে আরাম

রাতে উপসর্গ বৃদ্ধি

Benzoicum acidum

গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড-সম্পর্কিত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রস্রাবের তীব্র ও বিশেষ ধরনের দুর্গন্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রধান লক্ষণ:

প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ

গাউটজাতীয় ব্যথা

সন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিডের জমাটের প্রবণতা

ব্যথার স্থান পরিবর্তন

Bryonia alba

Bryonia-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্থির থাকতে চাওয়া।

প্রধান লক্ষণ:

সামান্য নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি

বিশ্রামে আরাম

সন্ধি ফুলে যাওয়া

শুষ্কতা

প্রবল তৃষ্ণা

জিহ্বায় আবরণ

কোষ্ঠকাঠিন্য

ধীরে ধীরে ব্যথা বৃদ্ধি

Caulophyllum

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ু-সম্পর্কিত উপসর্গের সঙ্গে ছোট সন্ধি ও কবজিতে বাতজাতীয় ব্যথা থাকলে Caulophyllum-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

কবজি ও আঙুলের সন্ধিতে ব্যথা

ব্যথা স্থান পরিবর্তন করতে পারে

জরায়ু-সম্পর্কিত উপসর্গের সঙ্গে সন্ধিব্যথা

স্নায়বিক অস্থিরতা

Chamomilla

ব্যথার প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা এবং খিটখিটে মেজাজ Chamomilla-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

প্রধান লক্ষণ:

ব্যথা অত্যন্ত অসহ্য মনে হওয়া

অস্থিরতা

খিটখিটে মেজাজ

ব্যথা এক সন্ধি থেকে অন্য সন্ধিতে যেতে পারে

রাতে ব্যথা বৃদ্ধি

অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা

Colchicum autumnale

গাউট ও তীব্র সন্ধিব্যথার ক্ষেত্রে Colchicum একটি বহুল আলোচিত ঔষধ।

প্রধান লক্ষণ:

সন্ধি ফুলে যাওয়া

গাঢ় বা মলিন বর্ণের ফোলা

স্পর্শে অত্যন্ত কষ্ট

নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি

রাতে উপসর্গ বৃদ্ধি

ব্যথা স্থান পরিবর্তন করতে পারে

গন্ধের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা

Digitalis purpurea

হৃদযন্ত্রের উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রিউমাটিক অবস্থায় Digitalis-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

হৃদস্পন্দন দুর্বল বা অস্বাভাবিক অনুভূতি

সামান্য নড়াচড়ায় হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি

দুর্বলতা

ক্ষীণ ও দ্রুত নাড়ির অনুভূতি

হৃদযন্ত্রের উপসর্গের সঙ্গে সন্ধিব্যথা

Kalmia latifolia

ব্যথা উপর থেকে নিচের দিকে নামার প্রবণতা এবং হৃদযন্ত্রের উপসর্গের সঙ্গে বাতজাতীয় ব্যথা থাকলে Kalmia-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

ব্যথা উপর থেকে নিচের দিকে নামা

সন্ধিব্যথার সঙ্গে হৃদযন্ত্রের উপসর্গ

বাম পাশে শোয়ার সময় সমস্যা বৃদ্ধি হতে পারে

ব্যথা স্থান পরিবর্তনশীল

Lac caninum

এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে ব্যথা স্থানান্তরিত হওয়া এবং আক্রান্ত স্থান পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য থাকলে Lac caninum-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

স্থান পরিবর্তনশীল ব্যথা

এক সময় এক অঙ্গে, অন্য সময় অন্য অঙ্গে ব্যথা

তাপমাত্রা ও পরিবেশের প্রভাবে উপসর্গ পরিবর্তন

Pulsatilla

ভেজা বা বৃষ্টিতে ভেজার পর বাতজাতীয় সমস্যা বৃদ্ধি এবং ব্যথা স্থান পরিবর্তন করলে Pulsatilla-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

প্রধান লক্ষণ:

স্থান পরিবর্তনশীল ব্যথা

বৃষ্টিতে ভেজার পর সমস্যা

সন্ধি ফুলে যাওয়া

ব্যথার ধরন পরিবর্তনশীল

খোলা ও ঠান্ডা বাতাসে আরাম

তৃষ্ণা কম

নরম ও আবেগপ্রবণ স্বভাব

Rhus toxicodendron

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া বা ভেজা পরিবেশের পর বাতজাতীয় ব্যথা বৃদ্ধি এবং বিশ্রামের পর প্রথম নড়াচড়ায় বেশি ব্যথা হওয়া Rhus toxicodendron-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

প্রধান লক্ষণ:

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সমস্যা

বিশ্রামের পর প্রথম নড়াচড়ায় ব্যথা

কিছুক্ষণ নড়াচড়ার পর আরাম

গরমে আরাম

অস্থিরতা

পেশি ও সন্ধিতে ব্যথা

কোমর ও পিঠে বাতজাতীয় ব্যথা

Sulphur

দীর্ঘস্থায়ী বাতের ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করে Sulphur-এর প্রয়োজন হতে পারে।

প্রধান লক্ষণ:

রাতে ব্যথা বৃদ্ধি

গরমে উপসর্গ বৃদ্ধি

পায়ের পাতায় জ্বালাপোড়া

ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি

শরীরে অতিরিক্ত উষ্ণতার অনুভূতি

দীর্ঘস্থায়ী রোগে পুনরায় উপসর্গ দেখা দেওয়ার প্রবণতা

বোরিক রেপার্টরি অনুযায়ী বাতের গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিক

Oscar E. Boericke-এর Repertory-তে Locomotor System ও Rheumatism-এর অধীনে বাত, সন্ধিব্যথা, শক্তভাব, ফোলা, ব্যথার প্রকৃতি এবং বিভিন্ন অঙ্গের উপসর্গের জন্য বহু রুব্রিক রয়েছে।

রিউমাটিক ব্যথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কিছু রুব্রিক হলো:

Rheumatic pains

Wandering pains

Shifting pains

Stiffness of joints

Swelling of joints

Tenderness of joints

Burning pains

Drawing pains

Tearing pains

Stitching pains

Acute arthritis

Chronic arthritis

Gout

Synovitis

Rheumatic pain of knees

Rheumatic pain of wrists

Rheumatic pain of shoulders

Rheumatic pain of neck

Rheumatic pain of ankles

এই রুব্রিকগুলোর মাধ্যমে রোগীর নির্দিষ্ট লক্ষণ অনুযায়ী সম্ভাব্য ঔষধের তালিকা তৈরি করা যায়। তবে কেবল একটি রুব্রিক দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে রেপার্টরাইজেশন করা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

রিউমাটিজমে গুরুত্বপূর্ণ রেপার্টরি-ভিত্তিক ঔষধ

বোরিক রেপার্টরির Rheumatism, Arthritis, Gout, Synovitis, Joints, Knees, Wrists, Shoulders এবং অন্যান্য Locomotor System-এর রুব্রিকগুলোতে বিভিন্ন ঔষধের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গুরুত্বপূর্ণ ঔষধগুলোর মধ্যে রয়েছে:

Aconitum napellus

Apis mellifica

Arnica montana

Arsenicum album

Benzoicum acidum

Bryonia alba

Causticum

Colchicum autumnale

Guaiacum

Kali iodatum

Kalmia latifolia

Ledum palustre

Lycopodium

Mercurius

Pulsatilla

Rhus toxicodendron

Ruta graveolens

Sulphur

এছাড়াও রোগীর বিশেষ লক্ষণ অনুযায়ী আরও অনেক ঔষধ বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিভিন্ন উপসর্গে রেপার্টরি-ভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন

নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে

Bryonia

Apis

Arnica

Colchicum

বিশ্রামের পর প্রথম নড়াচড়ায় ব্যথা, পরে কিছুটা আরাম

Rhus toxicodendron

গরমে উপসর্গ বৃদ্ধি

Apis

Chamomilla

Ledum

Mercurius

Pulsatilla

গরমে বা গরম সেঁকে আরাম

Arsenicum album

Bryonia

Causticum

Rhus toxicodendron

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সমস্যা বৃদ্ধি

Rhus toxicodendron

Dulcamara

Colchicum

Calcarea phosphorica

ব্যথা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবর্তিত হয়

Pulsatilla

Lac caninum

Colchicum

Rhus toxicodendron

সন্ধি ফুলে যায়

Apis

Bryonia

Colchicum

Rhus toxicodendron

Ledum

গাউট ও ইউরিক অ্যাসিড-সম্পর্কিত উপসর্গ

Colchicum

Benzoicum acidum

Ledum palustre

Bryonia

Lycopodium

Uric acid

সন্ধিতে শক্তভাব

Bryonia

Rhus toxicodendron

Causticum

Colchicum

Guaiacum

Sulphur

বায়োকেমিক ঔষধের প্রসঙ্গ

হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক চিকিৎসা-পদ্ধতিতে কিছু টিস্যু সল্ট বাতজাতীয় উপসর্গে প্রচলিতভাবে ব্যবহৃত হয়। এগুলোও রোগীর লক্ষণ বিবেচনা করে নির্বাচন করা উচিত।

Kali muriaticum

সন্ধি বা আশপাশের টিস্যুতে ফোলা এবং সাদা আবরণযুক্ত জিহ্বার মতো লক্ষণ থাকলে Kali muriaticum-এর কথা বিবেচনা করা হয়।

Natrum phosphoricum

অম্লতা, অম্ল স্বাদ, অম্ল গন্ধযুক্ত ঘাম এবং বাতজাতীয় উপসর্গের সমন্বয় থাকলে Natrum phosphoricum-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Kali sulphuricum

স্থান পরিবর্তনশীল বাতজাতীয় ব্যথা, উষ্ণ পরিবেশে উপসর্গ বৃদ্ধি এবং ত্বকে শুষ্কতা বা খসখসে ভাব থাকলে Kali sulphuricum বিবেচনা করা হয়।

Kali phosphoricum

স্নায়বিক দুর্বলতা, সন্ধিতে শক্তভাব এবং প্রথম নড়াচড়ায় ব্যথা হলেও কিছুক্ষণ চলাফেরার পর আরাম পাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে Kali phosphoricum-এর কথা বিবেচনা করা হয়।

বাতের রোগীর কেস নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

একজন বাতের রোগীর ক্ষেত্রে শুধু “কোথায় ব্যথা” তা জানাই যথেষ্ট নয়। সঠিক ঔষধ নির্বাচনের জন্য বিস্তারিত কেস নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

জানতে হবে:

ব্যথা কখন শুরু হয়েছে

কোন সন্ধি আক্রান্ত

একটি না একাধিক সন্ধি আক্রান্ত

ব্যথা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায় কি না

নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে না কমে

বিশ্রামে কী হয়

সকালে শক্তভাব কতক্ষণ থাকে

ঠান্ডা বা গরমে কী পরিবর্তন হয়

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কী হয়

স্পর্শে ব্যথা বাড়ে কি না

সন্ধি ফুলে বা লাল হয় কি না

জ্বর আছে কি না

প্রস্রাবের কোনো পরিবর্তন আছে কি না

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কেমন

পারিবারিক ইতিহাস আছে কি না

আগে কোনো আঘাত বা সংক্রমণ হয়েছিল কি না

অন্য কোনো রোগ বা নিয়মিত ওষুধ আছে কি না

এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগের প্রকৃতি বুঝে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা করা উচিত।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বিশেষ সতর্কতা

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ। এতে শুধু ব্যথা কমানোর দিকে না তাকিয়ে রোগের প্রকৃতি নির্ণয় ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা-পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যদি হাত ও পায়ের একাধিক ছোট সন্ধি দীর্ঘদিন ফুলে থাকে, সকালে দীর্ঘ সময় শক্তভাব থাকে, ক্রমাগত দুর্বলতা বা জ্বর থাকে, অথবা সন্ধির আকৃতি পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় রোগ নির্ণয় ও রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং চিকিৎসা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

হঠাৎ কোনো সন্ধি অত্যন্ত ফুলে, লাল ও গরম হয়ে গেলে

উচ্চ জ্বরের সঙ্গে সন্ধিব্যথা হলে

হাঁটা বা হাত-পা নাড়ানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেলে

বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে

হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা অনুভূত হলে

প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে

কিডনি-সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিলে

দ্রুত সন্ধির বিকৃতি তৈরি হলে

আঘাতের পর তীব্র ব্যথা ও ফোলা হলে

চোখে তীব্র ব্যথা, লালভাব বা দৃষ্টির সমস্যা হলে

এসব ক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া ব্যবস্থা বা নিজে নিজে ঔষধ গ্রহণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস

বাতের রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও সন্ধির উপযোগী নড়াচড়া করুন।

দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

অতিরিক্ত পরিশ্রম ও আক্রান্ত সন্ধিতে অপ্রয়োজনীয় চাপ এড়িয়ে চলুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যদি কিডনি বা অন্য কোনো রোগের কারণে পানি সীমিত করার নির্দেশ না থাকে।

গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে ব্যক্তিগত রোগাবস্থা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নিন।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং অতিরিক্ত লবণ কমিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।

ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করুন।

উপসংহার

বাত, রিউমাটিজম, গাউট ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এক ধরনের সমস্যা নয়। প্রতিটির কারণ, রোগের প্রকৃতি ও চিকিৎসা-পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। তাই শুধু রোগের নাম দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, শারীরিক অবস্থা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং অন্যান্য রোগের ইতিহাস বিবেচনা করা উচিত।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় Aconitum, Apis, Arnica, Arsenicum album, Benzoicum acidum, Bryonia, Colchicum, Kalmia, Pulsatilla, Rhus toxicodendron, Sulphurসহ বিভিন্ন ঔষধের লক্ষণগত ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে। তবে কোনো একটি ঔষধকে সব ধরনের বাত বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

নিজে নিজে ঔষধ নির্বাচন করে চিকিৎসা না করে নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তীব্র বা জটিল উপসর্গ থাকলে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক 

ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নং ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮