যে কোনো জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গের দংশনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
দংশন বা কামড় বলতে কী বোঝায়?
মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল, মশা, ডাঁশ, ছারপোকা, বিচ্ছু ইত্যাদি কীটপতঙ্গের দংশন এবং কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, শিয়াল, বেজি বা অন্যান্য জীবজন্তুর কামড়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলা কিংবা ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
কিছু দংশন বা কামড় সাধারণত স্থানীয় উপসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, বিষক্রিয়া, গুরুতর সংক্রমণ কিংবা জলাতঙ্কের মতো জীবনহানিকর জটিলতা হতে পারে। তাই দংশনের ধরন, স্থান, সংখ্যা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
জরুরি সতর্কতা
মৌমাছি বা বোলতার দংশনের পর যদি ঠোঁট, মুখ, জিহ্বা বা গলা ফুলে যায়, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হয়, সারা শরীরে চাকা ওঠে, মাথা ঘোরে, দুর্বল হয়ে পড়ে বা অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম হয়, তাহলে এটি তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বা অ্যানাফাইল্যাক্সিস হতে পারে। এ অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। অ্যানাফাইল্যাক্সিসে দ্রুত অ্যাড্রেনালিনসহ জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
মুখ, জিহ্বা বা গলার ভেতরে দংশন হলেও দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে, কারণ ফুলে গিয়ে শ্বাসনালির সমস্যা হতে পারে।
মৌমাছি, বোলতা ও ভিমরুলের দংশনে প্রাথমিক ব্যবস্থা
মৌমাছির হুল দেখা গেলে নিরাপদভাবে যত দ্রুত সম্ভব তা সরিয়ে ফেলতে হবে। হুল সরানোর পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত সরানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যথা ও ফোলা থাকলে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখা এবং ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। একাধিকবার দংশন, মুখ বা গলার ভেতরে দংশন অথবা দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও Repertory-তে কীটপতঙ্গ বা জীবজন্তুর দংশনের পর বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে কয়েকটি ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলো নির্বাচন করতে দংশনের ধরন, ব্যথার প্রকৃতি, ফোলা, জ্বালা, আক্রান্ত স্থানের অবস্থা এবং সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।
ক্যাম্ফর
দংশনের পর অত্যন্ত তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ঠান্ডা অনুভূতি বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ থাকলে Materia Medica-র বিবেচনায় আসে।
একোনাইট
দংশনের পর আকস্মিক প্রদাহ, অস্থিরতা, উত্তেজনা এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে একোনাইট বিবেচনা করা হয়।
এপিস মেল
মৌমাছি বা অন্যান্য দংশনের পর দ্রুত ফোলা, জ্বালা, স্পর্শে সংবেদনশীলতা এবং দংশনের মতো তীব্র ব্যথার সঙ্গে ফোলা প্রধান লক্ষণ হলে এপিস মেল Materia Medica-র একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
বিশেষ করে ফোলা যদি দ্রুত বাড়ে এবং আক্রান্ত স্থান স্পর্শে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়, তাহলে লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে এপিস মেল বিবেচনা করা হয়।
লেডাম পাল
দংশন বা প্রাণীর কামড়ের পর স্থানীয় ব্যথা, ক্ষতস্থানে আড়ষ্টতা, ঠান্ডা অনুভূতি এবং পরবর্তী স্থানীয় প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে লেডাম পাল পরিচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।
মৌমাছি, বোলতা, মশা এবং বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের পর লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিললে এটি Repertory ও Materia Medica-র ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।
অ্যানথ্রাসিনাম
বোলতা বা মৌমাছির দংশনের পর অত্যন্ত তীব্র জ্বালা ও ব্যথা, যার কারণে রোগী অস্থির হয়ে পড়ে, এমন ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে অ্যানথ্রাসিনামের উল্লেখ রয়েছে।
হাইপেরিকাম
হাত, পা, আঙুল বা স্নায়ুসমৃদ্ধ অংশে আঘাত বা কামড়ের পর তীব্র স্নায়বিক ব্যথা হলে হাইপেরিকাম বিবেচনা করা হয়।
কোনো প্রাণীর কামড়ের পর স্নায়ুসমৃদ্ধ স্থানে অত্যন্ত তীব্র ব্যথা, স্পর্শে অসহ্যতা বা ক্ষতস্থানের ব্যথা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য থাকলে লক্ষণভিত্তিকভাবে এটি নির্বাচন করা যেতে পারে।
এচিনেশিয়া
কামড় বা ক্ষতের পর স্থানীয় সংক্রমণ, পচনশীল ক্ষত বা বিষক্রিয়ার মতো উপসর্গের সঙ্গে সামগ্রিক অসুস্থতা দেখা দিলে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে এচিনেশিয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে প্রাণীর কামড়ের ক্ষতে সংক্রমণ প্রতিরোধ বা জলাতঙ্ক প্রতিরোধের জন্য এচিনেশিয়াকে আধুনিক জরুরি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
ন্যাট্রাম মিউর
মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল বা অন্যান্য কীটপতঙ্গের দংশনের পর নির্দিষ্ট লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে ন্যাট্রাম মিউর বিবেচনা করা হয়।
মুখ, জিহ্বা বা গলার ভেতরে দংশন
মুখ, জিহ্বা, তালু বা গলার ভেতরে মৌমাছি বা বোলতার দংশন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় ফোলা দ্রুত বেড়ে শ্বাসনালি সংকুচিত হতে পারে।
এ কারণে এ ধরনের দংশনে শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক লক্ষণসমষ্টির বিচারে এপিস মেল, লেডাম পাল, মার্কিউরিয়াস ইত্যাদি Materia Medica-তে বিবেচিত হতে পারে; তবে শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা অগ্রাধিকার পাবে।
মশা, ডাঁশ, মাছি ও ছারপোকার দংশন
মশা, ডাঁশ, মাছি ও ছারপোকার দংশনে সাধারণত চুলকানি, ছোট ফোলা, লালচে ভাব ও জ্বালা দেখা যায়।
লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে লেডাম পাল, এপিস মেল, পাইরেথ্রাম ইত্যাদি হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বিবেচিত হতে পারে।
স্থানীয়ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত চুলকানো থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
বিছুটি গাছের সংস্পর্শে জ্বালা
বিছুটি গাছের সংস্পর্শে ত্বকে জ্বালা, চুলকানি ও ছোট ছোট ফুসকুড়ি হতে পারে। আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করাই ভালো।
উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী বা ব্যাপক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিং মাছের কাঁটা ফুটলে
শিং মাছের কাঁটা ফুটলে আক্রান্ত স্থানে তীব্র ব্যথা, জ্বালা ও ফোলা হতে পারে। কাঁটা যদি দৃশ্যমান থাকে এবং নিরাপদে বের করা সম্ভব হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা অপসারণ করতে হবে।
তীব্র বা বাড়তে থাকা ব্যথা, ফোলা, অসাড়তা, ক্ষত থেকে পুঁজ, জ্বর বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হোমিওপ্যাথিক লক্ষণসমষ্টির বিচারে হাইপেরিকাম, লেডাম পাল, এপিস মেল প্রভৃতি ঔষধ বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিচ্ছু বা কাঁকড়া-বিছার দংশন
বিচ্ছুর দংশনে অত্যন্ত তীব্র জ্বালা, ব্যথা, অসাড়তা বা ব্যথা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার অনুভূতি হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গুরুতর উপসর্গযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, অচেতনতা বা দ্রুত অবনতির লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
হোমিওপ্যাথিক লক্ষণসমষ্টির বিচারে লেডাম পাল, হাইপেরিকাম, এপিস মেল ইত্যাদি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইঁদুর ও বিড়ালের কামড়
ইঁদুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে। তাই ক্ষতটি দ্রুত পরিষ্কার করে চিকিৎসকের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রাণীর কামড়ের ক্ষত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী টিটেনাস প্রতিরোধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা দিতে হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে লেডাম পাল, হাইপেরিকাম, এচিনেশিয়া ইত্যাদি বিবেচিত হলেও এগুলো জরুরি ক্ষত পরিচর্যা বা সংক্রমণ প্রতিরোধের বিকল্প নয়।
কুকুর, বিড়াল, শিয়াল বা বেজির কামড়
কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।
কামড়ের ক্ষত সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে। সম্ভাব্য জলাতঙ্কের সংস্পর্শে প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাবিস টিকা এবং গুরুতর সংস্পর্শে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন বা সমজাতীয় প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
ক্ষত পোড়ানো, অ্যাসিড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক লাগানো, ক্ষত কেটে দেওয়া বা চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়। WHO এসব পদ্ধতি পরিহার করতে বলেছে।
কামড়ানো প্রাণীটি পরিচিত ও নিরাপদভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বা প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করা উচিত নয়।
ক্ষিপ্ত প্রাণীর কামড় ও জলাতঙ্ক
জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। উপসর্গ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী; কিন্তু সংস্পর্শের পর যথাযথ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সময়মতো গ্রহণ করলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা যায়।
তাই কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা সন্দেহজনক কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
হোমিওপ্যাথিক গ্রন্থে বেলাডোনা, ক্যান্থারিস, ল্যাকেসিস, লাইসিনাম ইত্যাদির উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু জলাতঙ্কের প্রতিরোধে এসব ঔষধকে র্যাবিস টিকা বা প্রয়োজনীয় ইমিউনোগ্লোবুলিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
সাপের দংশন
সাপের দংশন একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। বিষধর সাপের দংশনে বিষক্রিয়া দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস, স্নায়ুতন্ত্র, রক্তক্ষরণ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে।
সাপের দংশনের পর রোগীকে শান্ত রাখতে হবে, যতটা সম্ভব নড়াচড়া বন্ধ রাখতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গ স্থির রাখা গুরুত্বপূর্ণ। WHO অনুযায়ী বিষধর সাপের বিষক্রিয়ার কার্যকর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয়।
সাপের কামড়ে শক্ত করে দড়ি বা রশি দিয়ে টুর্নিকেট বাঁধা, ক্ষত কাটা, বিষ চুষে বের করা, ক্ষত পোড়ানো, রাসায়নিক বা ভেষজ পদার্থ লাগানো উচিত নয়। এসব পদ্ধতি ক্ষতিকর হতে পারে এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি ঘটাতে পারে।
সাপটি ধরতে বা মারতে গিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। নিরাপদ দূরত্ব থেকে সম্ভব হলে ছবি তুলে চিকিৎসককে দেখানো যেতে পারে।
সাপের দংশনে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রসঙ্গে
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে বেলাডোনা, জেলসেমিয়াম, আর্সেনিকামসহ বিভিন্ন ঔষধের উল্লেখ রয়েছে। তবে সাপের বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে এগুলোকে অ্যান্টিভেনম বা হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সাপের দংশনে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পেতে দেরি না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বোরিক রেপার্টরিতে দংশনের ঔষধ নির্বাচন
Boger Repertory-র বিভিন্ন Bite ও Sting-সংক্রান্ত Rubric-এ কয়েকটি ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে:
Bites, insects, snakes, dogs:
Aceticum acidum, Ammonium carbonicum, Ammonium causticum, Anthracinum, Apis, Arnica, Arsenicum, Belladonna, Caladium, Camphora, Cedron, Crotalus, Echinacea, Grindelia, Guaco, Gymnema, Hypericum, Kali permanganicum, Lachesis, Ledum, Moschus, Pyrethrum, Sarracenia, Sisyrinchium, Spigelia, Strychnos প্রভৃতি।
তবে Repertory-তে কোনো ঔষধের উপস্থিতি মানেই প্রত্যেক দংশনের ক্ষেত্রে সেটি প্রযোজ্য নয়। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, দংশনের ধরন, আক্রান্ত স্থান এবং জরুরি ঝুঁকি বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।
কখন দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাবেন?
নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি:
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
গিলতে কষ্ট বা গলা বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি
সারা শরীরে চাকা বা অ্যালার্জিক ফুসকুড়ি
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
একাধিকবার মৌমাছি বা বোলতার দংশন
সাপের দংশন
কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি বা সন্দেহজনক প্রাণীর কামড়
গভীর ক্ষত বা অতিরিক্ত রক্তপাত
ক্ষতস্থানে দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা, পুঁজ বা তীব্র ব্যথা
জ্বর বা শরীরের সামগ্রিক অবনতি
অ্যানাফাইল্যাক্সিসের ক্ষেত্রে শ্বাসনালি ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দ্রুত দেখা দিতে পারে এবং তা জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন অবস্থা।
পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা
দংশন বা কামড়ের স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।
অতিরিক্ত চুলকানো বা ঘষাঘষি করা যাবে না।
মৌমাছির হুল দেখা গেলে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
স্থানীয় ব্যথা ও ফোলা হলে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
প্রাণীর কামড়ের ক্ষত সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট পরিষ্কার করতে হবে।
কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর ক্ষত পোড়ানো, অ্যাসিড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ, ক্ষত কাটা বা বিষ চুষে বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
সাপের দংশনের ক্ষেত্রে রোগীকে স্থির রেখে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং টুর্নিকেট, ক্ষত কাটা বা বিষ চোষার মতো প্রচলিত পদ্ধতি পরিহার করতে হবে।
উপসংহার
জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গের দংশনের চিকিৎসায় দংশনের ধরন এবং রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে এপিস মেল, লেডাম পাল, হাইপেরিকাম, অ্যানথ্রাসিনাম, একোনাইট, ক্যাম্ফর, এচিনেশিয়া, ন্যাট্রাম মিউরসহ বিভিন্ন ঔষধ Materia Medica ও Repertory-র আলোকে বিবেচনা করা হয়।
তবে সাপের দংশন, সন্দেহজনক প্রাণীর কামড়, জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ এবং তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার মতো জরুরি অবস্থায় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পেতে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়। হোমিওপ্যাথিক ঔষধকে এসব জরুরি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
দংশন বা কামড়ের ক্ষেত্রে রোগীর সঠিক লক্ষণসমষ্টি ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য নিবন্ধিত ও যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
