Salivation বা মুখ দিয়ে লালা স্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

অতিরিক্ত লালা কেন হয়, কখন স্বাভাবিক, সম্ভাব্য কারণ, লক্ষণ এবং লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন
Salivation, Hypersalivation বা Sialorrhea বলতে মুখে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লালা থাকা বা লালা যথাযথভাবে গিলে ফেলতে না পারার কারণে মুখ দিয়ে লালা বেরিয়ে আসাকে বোঝায়।
শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও বিকাশের পর্যায় অনুযায়ী কিছু সময় লালা ঝরা স্বাভাবিক হতে পারে। বিশেষ করে দাঁত ওঠার সময় এবং ছোট বয়সে মুখ ও জিহ্বার পেশির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় লালা মুখ দিয়ে বের হতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও যদি নিয়মিতভাবে মুখ দিয়ে লালা পড়ে, বিশেষ করে ঘুমের সময় বালিশ ও কাপড় ভিজে যায়, তাহলে এর সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
অতএব, মুখ দিয়ে লালা ঝরা একটি উপসর্গ; সব ক্ষেত্রে এটি নিজে একটি স্বতন্ত্র রোগ নয়।

মুখ দিয়ে লালা স্রাবের সম্ভাব্য কারণ
লালা ঝরার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। রোগীর বয়স, সময়, লালার প্রকৃতি এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য লক্ষণ অনুসারে কারণ অনুসন্ধান করা গুরুত্বপূর্ণ।
১. মুখ ও দাঁতের সমস্যা
দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে থাকা, দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ, মুখের সংক্রমণ, দাঁতের ব্যথা বা মুখের অপরিচ্ছন্নতার কারণে মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে।
দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস, অপরিষ্কার হাত মুখে দেওয়া কিংবা বিভিন্ন জিনিস মুখে কামড়ানোর অভ্যাসও মুখের স্বাস্থ্য খারাপ করতে পারে।
২. Mouth ulcer বা মুখের ঘা
মুখে ঘা, জিহ্বার প্রদাহ, মাড়ির প্রদাহ বা মুখের ভেতরের ক্ষত থাকলে ব্যথা ও অস্বস্তির কারণে লালা বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. গলা ও টনসিলের সমস্যা
গলা বা টনসিলের প্রদাহ, ব্যথা অথবা গিলতে অসুবিধা থাকলে লালা স্বাভাবিকভাবে গিলে ফেলা কঠিন হতে পারে। ফলে মুখ দিয়ে লালা বেরিয়ে আসতে পারে।
৪. নাক বন্ধ থাকা ও মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া
সর্দি, অ্যালার্জি, নাকের পলিপ, Adenoid বা অন্য কারণে নাক বন্ধ থাকলে অনেকেই ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে মুখ খোলা থাকার কারণে লালা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
৫. বদহজম ও অম্লতা
বমি বমি ভাব, Hyperacidity, GERD, টক ঢেঁকুর বা পাকস্থলীর অস্বস্তির সঙ্গে অতিরিক্ত লালা দেখা যেতে পারে।
৬. গর্ভাবস্থা
কিছু গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে nausea বা morning sickness-এর সঙ্গে অতিরিক্ত লালা হতে পারে।
৭. কিছু ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লালা উৎপাদন বৃদ্ধি অথবা swallowing-এর পরিবর্তনের কারণে drooling হতে পারে। তাই রোগী কী কী ওষুধ সেবন করছেন তা জানা প্রয়োজন।
৮. ঘুমের সময়
কিছু মানুষের ঘুমের মধ্যে মুখ খোলা থাকে। বিশেষ করে পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমালে লালা মুখ দিয়ে বাইরে চলে আসতে পারে।
৯. স্নায়বিক কারণ
কিছু neurological condition-এ মুখ, জিহ্বা ও swallowing-এর পেশির নিয়ন্ত্রণ কমে গেলে লালা মুখ দিয়ে বের হতে পারে। Stroke, Parkinson’s disease, Cerebral palsy, Multiple sclerosis ইত্যাদির ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা যেতে পারে।

Salivation-এর সঙ্গে যে লক্ষণগুলো খুঁজে দেখা উচিত
শুধু লালা ঝরছে কি না—এটি যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকের জন্য নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ:
- লালা পাতলা না ঘন?
- লালা আঠালো বা সুতো টানার মতো কি?
- লালা দুর্গন্ধযুক্ত কি?
- লালা টক, নোনতা, মিষ্টি বা ধাতব স্বাদের কি?
- সকালে বেশি হয় কি?
- সন্ধ্যায় বা রাতে বেশি হয় কি?
- ঘুমের সময় লালা ঝরে কি?
- ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে লালা জমে থাকে কি?
- খাওয়ার পর বাড়ে কি?
- বমি বমি ভাবের সঙ্গে হয় কি?
- মুখে ঘা আছে কি?
- মাড়ি ফুলে আছে কি?
- দাঁতে ব্যথা আছে কি?
- গলা বা টনসিলের সমস্যা আছে কি?
- নাক বন্ধ থাকে কি?
- গিলতে কষ্ট হয় কি?
- খাবার খাওয়ার সময় কাশি বা choking হয় কি?
- কথা বলার সময় লালা বাড়ে কি?
- কোনো নির্দিষ্ট খাবারে সমস্যা বাড়ে কি?
- গর্ভাবস্থা আছে কি?
- নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন কি?
- নতুন কোনো স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিয়েছে কি?

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূলনীতি অনুযায়ী শুধু রোগের নাম বা একটি সাধারণ লক্ষণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বা Totality of Symptoms বিবেচনা করা হয়।
Salivation-এর ক্ষেত্রে নিচের ঔষধগুলো বিভিন্ন Materia Medica indication ও repertory rubric অনুযায়ী বিবেচনায় আসতে পারে।
১. Mercurius Solubilis
Salivation-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ Materia Medica remedy।
প্রধান লক্ষণ:
- প্রচুর লালা
- রাতে লালা বৃদ্ধি
- মুখে দুর্গন্ধ
- মাড়ির সমস্যা
- জিহ্বায় আবরণ
- মুখ ও গলার প্রদাহ
- মুখে ধাতব বা অস্বাভাবিক স্বাদ
- মুখে অতিরিক্ত আর্দ্রতা
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: Profuse, offensive salivation-এর সঙ্গে oral ও throat symptoms থাকলে Mercurius-এর ছবি বিশেষভাবে বিবেচ্য।

২. Ipecacuanha
বমি বমি ভাবের সঙ্গে অতিরিক্ত লালা—এই সংযোগটি গুরুত্বপূর্ণ।
- Persistent nausea
- প্রচুর লালা
- বমি বমি ভাব
- পেটের অস্বস্তি
- বমির প্রবণতা
Keynote: Nausea with profuse salivation.

৩. Natrum Phosphoricum
অম্লতা ও টকভাবের সঙ্গে Salivation থাকলে বিবেচনা করা হয়।
- Hyperacidity
- টক ঢেঁকুর
- মুখে টক স্বাদ
- খাবারের পর অস্বস্তি
- GERD-এর প্রবণতার সঙ্গে লালা বৃদ্ধি

৪. Nux Vomica
বদহজম, অম্লতা ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে Salivation থাকলে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচ্য।
- Indigestion
- Acidity
- Nausea
- খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম
- অতিরিক্ত বা ভারী খাবারের পর সমস্যা
- কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা

৫. Antimonium Crudum
মুখ ও জিহ্বার বিশেষ লক্ষণের সঙ্গে Salivation থাকলে বিবেচনা করা যায়।
- জিহ্বায় মোটা সাদা আবরণ
- বদহজম
- অতিভোজনের পর সমস্যা
- মুখের অস্বস্তি
- শিশুদের digestive disturbance-এর সঙ্গে oral symptoms

৬. Mercurius Corrosivus
মুখ ও গলার তীব্র প্রদাহের সঙ্গে প্রচুর লালা থাকলে Materia Medica picture অনুযায়ী বিবেচ্য।
- প্রচুর Salivation
- মুখ ও গলায় তীব্র জ্বালা
- গিলতে ব্যথা
- মুখের মিউকাস মেমব্রেনে প্রদাহ

৭. Mercurius Iodatus Ruber
বিশেষ করে গলা ও টনসিলের লক্ষণের সঙ্গে Salivation থাকলে রোগীর সামগ্রিক symptom picture অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।

৮. Phosphorus
মুখ ও গলার জ্বালা, gastric symptoms এবং নির্দিষ্ট constitutional picture-এর সঙ্গে Salivation থাকলে বিবেচ্য।
- মুখ ও গলায় জ্বালা
- gastric disturbance
- অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
- দুর্বলতার প্রবণতা

৯. Pulsatilla
বিশেষ ধরনের digestive disturbance এবং pregnancy-related complaints-এর সঙ্গে Salivation থাকলে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ অনুযায়ী বিবেচনা করা যেতে পারে।

১০. Kreosotum
বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় nausea ও excessive salivation-এর Materia Medica picture-এর সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

১১. Silicea
দীর্ঘস্থায়ী মুখ, দাঁত, মাড়ি বা গলার সমস্যার সঙ্গে Salivation থাকলে constitutional symptoms অনুযায়ী বিবেচনা করা যায়।

১২. Borax
মুখের মিউকাস মেমব্রেন, মুখের ঘা এবং শিশুদের কিছু oral symptoms-এর সঙ্গে Salivation-এর ক্ষেত্রে লক্ষণসমষ্টি অনুযায়ী বিবেচ্য।

১৩. Hepar Sulphuris
মুখ ও গলার প্রদাহ, সংবেদনশীলতা, suppurative tendency এবং Salivation-এর নির্দিষ্ট symptom picture থাকলে বিবেচনা করা হয়।

১৪. Belladonna
হঠাৎ তীব্র প্রদাহ, গলা-মুখের congestion এবং আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া লক্ষণের সঙ্গে Salivation থাকলে রোগীর সম্পূর্ণ acute picture অনুযায়ী বিবেচ্য।

১৫. Lachesis
গলা-মুখের সমস্যা, swallowing-এর অস্বস্তি এবং নির্দিষ্ট constitutional picture-এর সঙ্গে Salivation থাকলে বিবেচনা করা হয়।

১৬. Hyoscyamus
বিশেষ ধরনের nervous বা behavioural symptoms-এর সঙ্গে Salivation থাকলে Materia Medica picture অনুযায়ী বিবেচনা করা যায়।

১৭. Stramonium
তীব্র nervous excitement, spasmodic বা behavioural symptoms-এর সঙ্গে Salivation থাকলে differential consideration-এ আসতে পারে।

১৮. Lyssinum
Salivation-এর সঙ্গে rabies-এর মতো বিশেষ symptom picture থাকলে এটি Materia Medica-তে উল্লেখযোগ্য। তবে বাস্তবে জলাতঙ্কের সন্দেহ হলে এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়—হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়।

Kent Repertory-তে SALIVATION
Kent Repertory-তে Mouth – Salivation rubric-এর অধীনে বহু remedy পাওয়া যায়। তাই একটি সাধারণ rubric-এ অনেক ঔষধ থাকলেও prescription করার সময় accompanying symptoms অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাসঙ্গিক কিছু clinical differentiation:
Salivation – Morning
Alumina, Aurum, Graphites, Iodum, Lycopodium, Magnesia, Mercurius ইত্যাদি।
Salivation – Afternoon
Alumina, Magnesia, Phosphorus প্রভৃতি।
Salivation – Evening
Bryonia, Lycopodium, Sulphur প্রভৃতি।
Salivation – Night
Argentum nitricum, Bar-c., Cantharis, Mercurius, Nux vomica, Pulsatilla, Ruta, Sulphur প্রভৃতি।
Salivation – During sleep
Bar-c., Carb-an., Kali-c., Lac-c., Mercurius, Pulsatilla, Rhus-t. প্রভৃতি।
Salivation – Lying down
Belladonna, Ipecacuanha, Ptelea, Rhus-t. প্রভৃতি।
Salivation – After eating
Nux vomica, Sulphur এবং অন্যান্য remedy—accompanying symptoms অনুযায়ী।
Salivation – Pregnancy
Acetic acid, Antimonium tartaricum, Helonias, Kali iodatum, Kreosotum, Lact-ac. প্রভৃতি।
Salivation – Nausea, with
Ipecacuanha-সহ বিভিন্ন remedy রোগীর সম্পূর্ণ symptom picture অনুযায়ী বিবেচ্য।
Salivation – During mental work
Mercurius ও Mercurius corrosivus প্রভৃতি remedy-এর rubric indication পাওয়া যায়।
Salivation – Mercury, from
Mercurius poisoning বা mercury exposure-এর ক্ষেত্রে repertory-তে বিভিন্ন remedy পাওয়া যায়। তবে বাস্তব বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম কর্তব্য হলো exposure বন্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা।

Saliva-এর প্রকৃতি দিয়েও ঔষধ নির্বাচন করা যায়
রোগীর লালার প্রকৃতি অনেক সময় prescription-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ characteristic symptom হতে পারে।

Acid বা Sour saliva
Agaricus, Calcarea, Ignatia, Kali bichromicum, Lycopodium, Mercurius, Natrum muriaticum, Phosphorus, Sulphur ইত্যাদি—লক্ষণসমষ্টি অনুযায়ী।
Offensive saliva
Arsenicum, Bryonia, Digitalis, Iodum, Lachesis, Mercurius, Nitric acid, Petroleum প্রভৃতি।
Frothy saliva
Aconitum, Apis, Bryonia, Cantharis, Chamomilla, Cuprum, Digitalis, Hyoscyamus, Ignatia, Pulsatilla, Stramonium, Sulphur ইত্যাদি।
Viscid বা আঠালো saliva
Belladonna, Bryonia, Calcarea, Kali bichromicum, Lachesis, Mercurius, Phosphorus, Pulsatilla, Stramonium প্রভৃতি।
Watery saliva
Asarum, Aurum, Calcarea, Camphora, Cyclamen, Drosera, Kreosotum, Natrum muriaticum, Phosphorus, Pulsatilla ইত্যাদি।
Thick saliva
Belladonna, Bismuth, Coccus, Nux moschata, Opium, Phytolacca, Rhus toxicodendron ইত্যাদি।
Ropy বা সুতো টানার মতো saliva
Ferrum, Iris, Kali bichromicum, Lachesis, Lyssinum, Phytolacca, Sanicula প্রভৃতি।
Saltish saliva
Antimonium crudum, Cyclamen, Digitalis, Kali bichromicum, Kali iodatum, Mercurius, Natrum muriaticum, Phosphorus, Sepia, Sulphur ইত্যাদি।
Sweet saliva
Alumina, Aurum, Chamomilla, Digitalis, Hyoscyamus, Phosphorus, Pulsatilla, Sepia প্রভৃতি।

শিশুদের Salivation
শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দাঁত ওঠার সময়, মুখের পেশির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বিকশিত না হওয়া এবং swallowing coordination-এর অপরিপক্বতার কারণে ছোট শিশুদের কিছুটা লালা ঝরা স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে শিশুর বয়স অনুযায়ী লালা ঝরা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে অথবা এর সঙ্গে—
- গিলতে কষ্ট
- খাবারের সময় কাশি
- বারবার choking
- কথা বলার সমস্যা
- মুখ ও জিহ্বার নড়াচড়ায় অস্বাভাবিকতা
- শ্বাসকষ্ট
- developmental সমস্যা
থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

ঘুমের সময় লালা ঝরা
ঘুমের মধ্যে লালা ঝরা অনেকেরই হয়। এর সঙ্গে নাক বন্ধ থাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, ঘুমের ভঙ্গি অথবা swallowing-এর পরিবর্তন জড়িত থাকতে পারে।
তাই শুধুমাত্র “ঘুমের সময় লালা পড়ে” এই একটি লক্ষণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন না করে দেখতে হবে—
কেন ঘুমের সময় মুখ খোলা থাকে?
নাক বন্ধ?
অ্যালার্জি?
Adenoid?
Nasal polyp?
Sleep-related breathing problem?
নাকি swallowing-এর সমস্যা?
কারণ নির্ণয়ের পর চিকিৎসা পরিকল্পনা করা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
মুখ দিয়ে হঠাৎ প্রচুর লালা পড়ার সঙ্গে যদি—
- গিলতে না পারা
- শ্বাসকষ্ট
- কথা জড়িয়ে যাওয়া
- মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
- শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া
- অচেতনতা বা বিভ্রান্তি
- তীব্র গলা ফুলে যাওয়া
- choking
- খিঁচুনি
থাকে, তাহলে এটি জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় শুধু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ করে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য exposure-এর পর অতিরিক্ত লালা, গিলতে ভয় বা গিলতে অসুবিধা দেখা দিলে এটি একটি medical emergency।

হোমিওপ্যাথিক prescription-এর মূলনীতি
Salivation-এর ক্ষেত্রে একটি কার্যকর clinical approach হতে পারে—
১. Cause → কেন লালা ঝরছে?
২. Character → লালার প্রকৃতি কী?
৩. Time → কখন বেশি?
৪. Modality → কীসে বাড়ে বা কমে?
৫. Concomitant → সঙ্গে আর কী লক্ষণ আছে?
৬. General symptoms → তৃষ্ণা, ক্ষুধা, ঘুম, তাপ-শীতের অনুভূতি ইত্যাদি।
৭. Mental symptoms → প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক লক্ষণ।
৮. Repertorization → characteristic rubrics নির্বাচন।
৯. Materia Medica confirmation → নির্বাচিত remedy-এর সামগ্রিক picture-এর সঙ্গে মিল যাচাই।
এভাবে Kent Repertory + Materia Medica + Clinical observation সমন্বয় করে individualised prescription করা যেতে পারে।-

গুরুত্বপূর্ণ কথা
মুখ দিয়ে লালা ঝরা একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও এর পেছনে কারণ একেকজনের একেক রকম। কারও ক্ষেত্রে দাঁত-মাড়ি বা মুখের প্রদাহ, কারও ক্ষেত্রে বদহজম ও অম্লতা, কারও ক্ষেত্রে নাক বন্ধ থাকা বা ঘুমের সময় মুখ খোলা, আবার কারও ক্ষেত্রে swallowing বা neurological সমস্যা এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
তাই শুধু Salivation rubric দেখে একটি ওষুধ নির্বাচন করা যথেষ্ট নয়।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসামতে সঠিক সদৃশ ঔষধ নির্বাচন একটি সূক্ষ্ম ও দক্ষতার কাজ। তাই এই লেখা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে; এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা স্ব-চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের বা শিশুর ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী, অস্বাভাবিক বা নতুনভাবে শুরু হওয়া লালা ঝরার সমস্যা থাকলে একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হোমিওপ্যাথি পাঠশালা
শিক্ষামূলক স্বাস্থ্য ও হোমিওপ্যাথিক জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা

লেখক 
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার

রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক 
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার রুম নাম্বার ৯
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা
গভঃ রেজিঃ নং: ২৩৮৭৬
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮