হার্নিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হার্নিয়া কী?
হার্নিয়া হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন পেটের ভেতরের অন্ত্র, চর্বি বা অন্য কোনো টিস্যু পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাইরে দিকে বেরিয়ে আসে। কুঁচকি, নাভি, অণ্ডথলি এবং পূর্বের অস্ত্রোপচারের স্থানে হার্নিয়া বেশি দেখা যায়। কাশি, হাঁচি, মলত্যাগের সময় চাপ বা দাঁড়িয়ে থাকলে ফোলা বেশি স্পষ্ট হতে পারে এবং শুয়ে থাকলে কমে যেতে পারে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ভারী জিনিস উত্তোলন এবং পেটের ভেতরের চাপ বারবার বৃদ্ধি পাওয়া হার্নিয়ার সমস্যা সৃষ্টি বা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় হার্নিয়ার নামের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণসমষ্টি, হার্নিয়ার স্থান, পাশ, ব্যথার প্রকৃতি, মলত্যাগ, পেট ফাঁপা, কাশি, উদ্দীপক ও উপশমকারী কারণ এবং সামগ্রিক সাংবিধানিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
হার্নিয়ার প্রধান লক্ষণ
কুঁচকি, নাভি বা অণ্ডথলিতে ফোলা বা গুটি
দাঁড়ালে, কাশলে বা জোর করলে ফোলা বৃদ্ধি
শুয়ে থাকলে ফোলা কমে যাওয়া
আক্রান্ত স্থানে টান, ভারীভাব বা অস্বস্তি
পরিশ্রম বা ভারী জিনিস তুললে ব্যথা বৃদ্ধি
কখনো ফোলা ভেতরে চলে যাওয়া
কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ
পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা
হার্নিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ
১. Nux vomica — নাক্স ভোমিকা
কোষ্ঠকাঠিন্যপ্রবণ রোগীর হার্নিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
মলত্যাগের বারবার বেগ হয় কিন্তু মল সম্পূর্ণ বের হয় না।
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সঙ্গে হার্নিয়া।
অনিয়মিত জীবনযাপন বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের সঙ্গে সমস্যা বৃদ্ধি।
বাম পাশের হার্নিয়ার ক্ষেত্রেও রেপার্টরিতে Nux vomica উল্লেখযোগ্য।
মূল ভাব: কোষ্ঠকাঠিন্য, অসম্পূর্ণ মলত্যাগ ও চাপ দেওয়ার প্রবণতার সঙ্গে হার্নিয়া।
২. Lycopodium — লাইকোপোডিয়াম
ডান পাশের হার্নিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ডান পাশের হার্নিয়া।
পেটে প্রচুর গ্যাস ও পেট ফাঁপা।
অল্প খাবারেই পেট ভরা মনে হয়।
পেটে গড়গড় শব্দ ও গ্যাসের অস্বস্তি।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে Lycopodium-এর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি।
মূল ভাব: ডান পাশ + গ্যাসে পেট ফাঁপা।
৩. Calcarea carbonica — ক্যালকেরিয়া কার্বোনিকা
বিশেষ করে শিশুদের হার্নিয়া ও নাভির হার্নিয়ার ক্ষেত্রে রেপার্টরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন লক্ষণ:
শিশুর নাভির হার্নিয়া।
মাথায় অতিরিক্ত ঘাম।
ঠান্ডা-সংবেদনশীলতা।
Calcarea carbonica-এর সাংবিধানিক লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে হার্নিয়া।
মূল ভাব: শিশু + নাভির হার্নিয়া + ক্যালকেরিয়ার সাংবিধানিক চিত্র।
৪. Silicea — সিলিসিয়া
শিশুদের হার্নিয়া এবং Silicea-এর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি থাকলে বিবেচ্য।
নির্বাচন লক্ষণ:
ঠান্ডা-সংবেদনশীলতা।
দুর্বলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রবণতা।
শিশুদের হার্নিয়ার সঙ্গে Silicea-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ।
মূল ভাব: শিশু + দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতা + Silicea-এর সাংবিধানিক চিত্র।
৫. Plumbum metallicum — প্লাম্বাম মেটালিকাম
তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে হার্নিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন লক্ষণ:
শক্ত ও গুটলানো মল।
মলত্যাগে প্রচণ্ড কষ্ট।
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য।
ডান পাশের হার্নিয়ার সঙ্গে এই লক্ষণসমষ্টি।
মূল ভাব: শক্ত গুটলানো মল + তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য।
৬. Opium — ওপিয়াম
অত্যন্ত জেদি কোষ্ঠকাঠিন্যের বিশেষ চিত্রে বিবেচ্য।
নির্বাচন লক্ষণ:
দুই-তিন দিনেও মলত্যাগের বেগ না হওয়া।
অত্যন্ত তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য।
কালো, ছোট ছোট গোল বলের মতো মল।
Opium-এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণের সঙ্গে হার্নিয়া।
মূল ভাব: মলত্যাগের বেগের অনুপস্থিতি + কালো গোল মল।
৭. Belladonna — বেলাডোনা
আকস্মিক ও তীব্র স্থানীয় লক্ষণের ক্ষেত্রে রেপার্টরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন লক্ষণ:
হার্নিয়ার স্থানে দপদপে ব্যথা।
আক্রান্ত স্থান লাল ও উত্তপ্ত।
স্পর্শে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।
হঠাৎ তীব্রভাবে লক্ষণ প্রকাশ।
মূল ভাব: আকস্মিকতা + লালভাব + উত্তাপ + দপদপে ব্যথা।
৮. Aconitum napellus — একোনাইট
আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া তীব্র অবস্থায় রেপার্টরিতে বিবেচ্য।
নির্বাচন লক্ষণ:
হঠাৎ শুরু।
তীব্র ব্যথা।
অস্থিরতা ও ভয়ের সঙ্গে Aconitum-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ।
মূল ভাব: আকস্মিকতা ও তীব্রতার সঙ্গে একোনাইটের সামগ্রিক চিত্র।
৯. Calcarea fluorica — ক্যালকেরিয়া ফ্লোরিকা
বায়োকেমিক পদ্ধতিতে হার্নিয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে বিবেচিত ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
দুর্বল সংযোজক টিস্যুর ধারণা।
দীর্ঘস্থায়ী বা পুরোনো হার্নিয়া।
শক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী গঠনগত সমস্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষণ।
মূল ভাব: দীর্ঘস্থায়ী গঠনগত দুর্বলতা।
১০. Ferrum phosphoricum — ফেরাম ফসফোরিকাম
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রদাহজনিত লক্ষণের সঙ্গে বিবেচ্য।
নির্বাচন লক্ষণ:
আক্রান্ত স্থানে লালভাব।
হালকা উত্তাপ।
চিরিক বা ছুঁচ ফোটার মতো ব্যথা।
Ferrum phosphoricum-এর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি।
মূল ভাব: প্রাথমিক তীব্রতা + লালভাব + চিরিক ব্যথা।
১১. Aesculus hippocastanum — এসকুলাস
হার্নিয়ার সঙ্গে পেটের নিচের অংশে ভারীভাব, টান বা অস্বস্তির বিশেষ চিত্র থাকলে কেস অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
১২. Alumina — অ্যালুমিনা
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে অত্যধিক কষ্ট এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক বেগের দুর্বলতার সঙ্গে হার্নিয়া থাকলে বিবেচ্য।
১৩. Coccus cacti — কক্কাস ক্যাক্টি
নাভির হার্নিয়ার রেপার্টরি অধ্যয়নে উল্লেখযোগ্য। হার্নিয়ার সঙ্গে Coccus-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণসমষ্টি থাকলে বিবেচনা করা হয়।
১৪. Conium maculatum — কোনিয়াম
দীর্ঘস্থায়ী ও ধীরে বিকশিত গঠনগত সমস্যার সঙ্গে হার্নিয়ার লক্ষণ থাকলে সামগ্রিক কেস অনুযায়ী বিবেচ্য।
১৫. Magnesia carbonica — ম্যাগনেশিয়া কার্বোনিকা
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে উল্লেখিত ঔষধ। পেটের লক্ষণ, ব্যথার প্রকৃতি ও সামগ্রিক Magnesia carbonica-এর চিত্রের সঙ্গে মিল থাকলে নির্বাচন করা হয়।
১৬. Magnesia muriatica — ম্যাগনেশিয়া মিউরিয়াটিকা
জন্মগত অণ্ডথলির হার্নিয়ার ক্ষেত্রে রেপার্টরিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৭. Nitric acid — নাইট্রিক অ্যাসিড
শিশুদের হার্নিয়ার রেপার্টরিতে উল্লেখিত। Nitric acid-এর স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে হার্নিয়া থাকলে বিবেচনা করা হয়।
১৮. Oxalicum acidum — অক্সালিকাম অ্যাসিড
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ ধরনের ব্যথা ও Oxalic acid-এর সামগ্রিক লক্ষণ থাকলে বিবেচ্য।
১৯. Petroleum — পেট্রোলিয়াম
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে উল্লিখিত। পেটের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও Petroleum-এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ একত্রে থাকলে বিবেচনা করা হয়।
২০. Phosphorus — ফসফরাস
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও Phosphorus-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণসমষ্টি মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
২১. Picrotoxin — পিক্রোটক্সিন
HERNIA রুব্রিকে উল্লিখিত ঔষধ। একক কোনো লক্ষণের ভিত্তিতে নয়, সম্পূর্ণ কেসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
২২. Sulphur — সালফার
বিশেষত শিশুদের হার্নিয়ার রেপার্টরি অধ্যয়নে গুরুত্বপূর্ণ। হার্নিয়ার সঙ্গে Sulphur-এর সাংবিধানিক লক্ষণসমষ্টি থাকলে বিবেচ্য।
২৩. Sulphuricum acidum — সালফিউরিকাম অ্যাসিড
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে অন্তর্ভুক্ত। রোগীর স্বাতন্ত্র্যসূচক সাধারণ ও স্থানীয় লক্ষণ Sulphuricum acidum-এর সঙ্গে মিললে নির্বাচন করা হয়।
২৪. Terebinthina — টেরেবিন্থিনা
হার্নিয়ার সঙ্গে পেট ও মূত্রতন্ত্রের বিশেষ লক্ষণ থাকলে Materia Medica অনুযায়ী বিবেচনা করা যায়।
২৫. Veratrum album — ভেরাট্রাম অ্যালবাম
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে উল্লেখিত। রোগীর সামগ্রিক তীব্র লক্ষণ ও Veratrum album-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চিত্রের সঙ্গে মিল থাকলে বিবেচ্য।
২৬. Zincum metallicum — জিঙ্কাম মেটালিকাম
হার্নিয়ার রেপার্টরিতে অন্তর্ভুক্ত। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও স্নায়বিক লক্ষণ Zincum-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বিবেচনা করা হয়।
২৭. Millefolium — মিলিফোলিয়াম
Incarcerated hernia-এর রেপার্টরিতে উল্লেখিত। তবে হার্নিয়া আটকে যাওয়ার সন্দেহ হলে এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
২৮. Lobelia inflata — লোবেলিয়া ইনফ্লাটা
Incarcerated hernia-এর রেপার্টরিতে উল্লিখিত। রোগীর অন্যান্য স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণের সঙ্গে রুব্রিক মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
২৯. Ammonium carbonicum — অ্যামোনিয়াম কার্বোনিকাম
HERNIA রুব্রিকে উল্লেখিত একটি ঔষধ। রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি Ammonium carbonicum-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে রেপার্টরি ও Materia Medica অনুযায়ী বিবেচ্য।
৩০. Aurum — অরাম
HERNIA রুব্রিকে উল্লিখিত। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য Aurum-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করা হয়।
রেপার্টরি স্টাডি
হার্নিয়ার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত রুব্রিকগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
HERNIA
Aesculus, Alumina, Ammonium carbonicum, Aurum, Calcarea carbonica, Calcarea phosphorica, Coccus, Conium, Iris foetida, Lycopodium, Magnesia carbonica, Nux vomica, Oxalic acid, Petroleum, Phosphorus, Picrotoxin, Silicea, Sulphuricum acidum, Veratrum album, Zincum।
INCARCERATED
Lobelia inflata, Millefolium, Nux vomica, Opium, Plumbum।
CHILDREN
Calcarea carbonica, Lycopodium, Nitric acid, Nux vomica, Silicea, Sulphur।
SCROTAL, CONGENITAL
Magnesia muriatica।
STRANGULATED
Aconitum, Belladonna, Lycopodium, Nux vomica, Opium, Plumbum।
UMBILICAL
Calcarea carbonica, Coccus, Nux vomica, Plumbum metallicum।
রেপার্টরির রুব্রিক দেখে সরাসরি ঔষধ নির্ধারণ না করে রোগীর সম্পূর্ণ কেসের সঙ্গে রুব্রিক মিলিয়ে তারপর Materia Medica দ্বারা যাচাই করা উচিত।
কেসটেকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হার্নিয়ার রোগীর কেস নেওয়ার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে জানতে হবে:
হার্নিয়ার স্থান
ডান না বাম পাশ
নাভি, কুঁচকি না অণ্ডথলি
জন্মগত না অর্জিত
ফোলা কখন বাড়ে
কাশি বা হাঁচিতে কী পরিবর্তন হয়
দাঁড়ালে ও শুয়ে থাকলে কী হয়
ফোলা ভেতরে যায় কি না
ব্যথার প্রকৃতি
ব্যথা কখন বাড়ে ও কমে
কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলের ধরন
পেট ফাঁপা ও গ্যাস
দীর্ঘস্থায়ী কাশি
ভারী জিনিস তোলার ইতিহাস
রোগীর সামগ্রিক সাংবিধানিক লক্ষণ
ঔষধ নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
Nux vomica ও Lycopodium
Nux vomica-তে কোষ্ঠকাঠিন্য, বারবার মলত্যাগের বেগ ও অসম্পূর্ণ মলত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ। Lycopodium-এ ডান পাশ, পেট ফাঁপা ও গ্যাস বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
Plumbum ও Opium
Plumbum-এ শক্ত, গুটলানো মল ও মলত্যাগে প্রচণ্ড কষ্ট। Opium-এ মলত্যাগের বেগই অনুপস্থিত থাকতে পারে এবং কালো ছোট গোল মলের চিত্র দেখা যায়।
Calcarea carbonica ও Silicea
উভয়ই শিশুদের হার্নিয়ার রেপার্টরিতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু শিশুর হার্নিয়া দেখে ঔষধ নির্বাচন না করে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক লক্ষণসমষ্টি পৃথক করতে হবে।
Belladonna ও Aconitum
Belladonna-তে আকস্মিক তীব্রতা, লালভাব, উত্তাপ ও দপদপে ব্যথার চিত্র গুরুত্বপূর্ণ। Aconitum-এ আকস্মিকতা, তীব্র অস্থিরতা ও ভয়ের চিত্র বিশেষভাবে বিবেচ্য।
স্বাস্থ্যবিধি
কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে পর্যাপ্ত পানি, শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকলে তার কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা করুন।
ভারী জিনিস উত্তোলন ও পেটের ভেতরের চাপ অতিরিক্ত বাড়ায় এমন কাজ এড়িয়ে চলুন।
শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
নিয়মিত ও পরিমিত শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখুন।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
হার্নিয়ার গুটি হঠাৎ বড় হয়ে গেলে, শক্ত হয়ে গেলে বা আগের মতো ভেতরে না গেলে সতর্ক হতে হবে।
এর সঙ্গে তীব্র বা দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যথা, স্পর্শে অতিরিক্ত কোমলতা, লালভাব, জ্বর, পেট ফাঁপা, বমি, পায়খানা বা গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়া থাকলে অন্ত্র আটকে যাওয়া বা রক্তসরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
Strangulated hernia একটি জরুরি অবস্থা। এতে হার্নিয়ার ভেতরে আটকে থাকা টিস্যুর রক্তসরবরাহ বন্ধ হয়ে টিস্যু নষ্ট হতে পারে এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
হার্নিয়া একটি গঠনগত দুর্বলতার সমস্যা। হোমিওপ্যাথিতে উপসর্গভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হার্নিয়ার গঠনগত ত্রুটি সারিয়ে দেয়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত নয়।
তাই হার্নিয়ার রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে এবং আটকে যাওয়া বা শ্বাসরোধজনিত জটিলতায় জরুরি অস্ত্রোপচার দরকার হতে পারে।
নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না। একজন দক্ষ ও নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
লেখক পরিচিতি
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
