হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala 

সাদাস্রাব বা লিউকোরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব কী?

লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব বলতে নারীদের যোনিপথ দিয়ে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব নিঃসরণকে বোঝানো হয়। তবে যোনিপথের সব স্রাবই রোগের লক্ষণ নয়। স্বাভাবিক অবস্থায়ও যোনিপথে অল্প পরিমাণ স্বচ্ছ বা সাদাটে স্রাব তৈরি হতে পারে। এর পরিমাণ মাসিক চক্র, ডিম্বস্ফোটন, গর্ভাবস্থা, যৌন উত্তেজনা এবং হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে কমবেশি হতে পারে।

স্বাভাবিক স্রাবে সাধারণত তীব্র দুর্গন্ধ, রক্ত, অতিরিক্ত চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকে না। শুকিয়ে গেলে অন্তর্বাসে হালকা সাদা বা হলদে দাগ পড়তে পারে, যা অনেক সময় স্বাভাবিক।

তবে স্রাবের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে, দুর্গন্ধ হলে, হলুদ বা সবুজ হয়ে গেলে, রক্ত মিশলে অথবা এর সঙ্গে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা কিংবা যৌনমিলনে ব্যথা থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

কখন সাদাস্রাব স্বাভাবিক হতে পারে?

নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাভাবিক কারণে যোনিপথের স্রাব বাড়তে পারে। যেমন:

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে।

মাসিকের কয়েক দিন আগে।

ডিম্বস্ফোটনের সময়।

যৌন উত্তেজনার সময়।

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে।

প্রসবের পর কিছু সময় পর্যন্ত।

এ ছাড়া মানসিক চাপ ও হরমোনের ওঠানামার কারণেও স্রাবের পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে।

অস্বাভাবিক সাদাস্রাবের সম্ভাব্য কারণ

অস্বাভাবিক সাদাস্রাবের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন:

যোনিপথের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ।

ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ।

পরজীবীজনিত সংক্রমণ।

যৌনবাহিত সংক্রমণ।

জরায়ুমুখ বা প্রজনন অঙ্গের প্রদাহ।

তলপেটের প্রদাহজনিত সমস্যা।

ডায়াবেটিস।

দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর কিছু ধরনের সংক্রমণ।

অপর্যাপ্ত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা।

কিছু হরমোনজনিত পরিবর্তন।

জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন রোগ।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গে উপসর্গের পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে।

তবে সাদাস্রাবের জন্য শুধু একটি কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস, উপসর্গ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা উচিত।

সাদাস্রাবের সঙ্গে যে লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে

সাদাস্রাবের ধরন রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেমন:

পাতলা বা পানির মতো স্রাব।

ঘন বা আঠালো স্রাব।

দুধের মতো সাদা স্রাব।

হলুদ বা সবুজাভ স্রাব।

দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।

যোনিপথে চুলকানি।

জ্বালাপোড়া।

যোনিমুখে ক্ষত বা জ্বালা।

তলপেটে ব্যথা বা ভারী ভাব।

মাসিকের অনিয়ম।

যৌনমিলনে অস্বস্তি বা ব্যথা।

স্রাবের সঙ্গে রক্ত মেশা।

এসব লক্ষণের কোনটি আছে, কখন বাড়ে বা কমে এবং কোন পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হয়, তা চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সাদাস্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “সাদা স্রাব আছে” এই একটি লক্ষণের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি, স্রাবের প্রকৃতি, রং, গন্ধ, পরিমাণ, কখন হয়, কী কারণে বাড়ে বা কমে, মাসিকের সঙ্গে সম্পর্ক, মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

নিচে লিউকোরিয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো।

Pulsatilla

সাদাস্রাবের সঙ্গে রোগী সাধারণত তৃষ্ণাহীন, আবেগপ্রবণ এবং সহজে কেঁদে ফেলেন। ঠান্ডা বাতাস ও খোলা জায়গায় স্বস্তি এবং গরম, বদ্ধ ঘরে অস্বস্তি থাকতে পারে। স্রাবের ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাসিকের পরিবর্তন থাকলে Pulsatilla বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: কোমল, আবেগপ্রবণ, তৃষ্ণাহীন রোগী; খোলা বাতাসে ভালো।

Sepia

Sepia-এর ক্ষেত্রে সাদাস্রাবের সঙ্গে তলপেটে ভারী বা নিচের দিকে টানার অনুভূতি, জরায়ু নেমে আসার অনুভূতি, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, যৌন অনীহা, ক্লান্তি এবং পারিবারিক বিষয় থেকে মানসিক উদাসীনতার মতো লক্ষণ থাকতে পারে।

মূল ভাব: পেলভিক ভারী ভাব, নিচের দিকে টান, মাসিক ও হরমোনজনিত বিভিন্ন উপসর্গের সমষ্টি।

Arsenicum album

দুর্গন্ধযুক্ত, জ্বালাপোড়াযুক্ত ও ক্ষয়কারী ধরনের স্রাবের সঙ্গে যোনিমুখে জ্বালা এবং অস্বস্তি থাকতে পারে। রোগী অস্থির ও দুর্বল বোধ করতে পারেন।

মূল ভাব: জ্বালা, দুর্গন্ধ, অস্থিরতা ও দুর্বলতার সমষ্টি।

Arsenicum iodatum

সাদা বা হলুদ স্রাবের সঙ্গে তীব্র জ্বালা এবং যেখানে স্রাব লাগে সেখানে চামড়া ক্ষত বা জ্বালাপোড়া হওয়ার প্রবণতা থাকলে Arsenicum iodatum-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Calcarea carbonica

মোটা বা স্থূল গঠন, সহজে ওজন বৃদ্ধি, পা ঠান্ডা থাকা, মাথায় অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা-সংবেদনশীলতা এবং টক গন্ধযুক্ত ঘাম বা অন্যান্য নিঃসরণসহ সাদাস্রাব থাকলে Calcarea carbonica-এর লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।

Iodium

প্রচুর খাওয়ার পরও রোগী ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছেন, ক্ষুধা অত্যন্ত বেশি, গরম সহ্য করতে পারেন না এবং অস্থিরভাবে চলাফেরা করার প্রবণতা রয়েছে—এমন সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে সাদাস্রাব থাকলে Iodium বিবেচনা করা যেতে পারে।

Sulphur

গরম বেশি লাগা, শরীরে চুলকানি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি অনাগ্রহ, পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণের সঙ্গে সাদাস্রাব থাকলে Sulphur-এর লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।

Mercurius solubilis

অতিরিক্ত ঘাম হলেও আরাম না পাওয়া, ঘামে দুর্গন্ধ, মুখ দিয়ে লালা পড়া, পায়খানা করার পরও অসম্পূর্ণতার অনুভূতি এবং রাতের দিকে উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে Mercurius solubilis বিবেচনা করা হয়।

China officinalis

অতিরিক্ত সাদাস্রাবের পর দুর্বলতা, মাথা ভারী লাগা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, পেটে গ্যাস, হজমের দুর্বলতা এবং অল্পতেই দুর্বল হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ থাকলে China-এর লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: অতিরিক্ত স্রাবের পর দুর্বলতা ও অবসন্নতা।

Alumina

ডিমের সাদা অংশের মতো স্রাব, বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতিতে স্রাবের পরিবর্তন এবং একই সঙ্গে শক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে Alumina-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Agnus castus

যৌন আকাঙ্ক্ষার উল্লেখযোগ্য হ্রাস, যৌন দুর্বলতা, অবসাদ এবং হলুদাভ স্রাবের সঙ্গে সামগ্রিক দুর্বলতার লক্ষণ থাকলে Agnus castus বিবেচনা করা যেতে পারে।

Borax

সাদাস্রাবের সঙ্গে যোনিপথে চুলকানি বা জ্বালা এবং বিশেষ ধরনের স্রাবের বৈশিষ্ট্য থাকলে Borax-এর লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।

Natrum muriaticum

সাদাস্রাবের সঙ্গে মানসিক চাপ, একাকিত্ব, সান্ত্বনা অপছন্দ, যৌন অনীহা, গরমে অস্বস্তি এবং মাসিকের বিভিন্ন পরিবর্তন থাকলে Natrum muriaticum-এর সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

Calcarea phosphorica

দুর্বল, রোগা বা অপুষ্ট গঠন, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং মাসিকের আগে সাদাস্রাব বৃদ্ধি পাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে Calcarea phosphorica বিবেচনা করা হয়।

Kali phosphoricum

শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা, অবসাদ, স্নায়বিক ক্লান্তি এবং এর সঙ্গে সাদাস্রাব থাকলে Kali phosphoricum-এর লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।

Kali muriaticum

সাদা বা ঘন সাদাস্রাবের সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য, জিহ্বায় সাদা আবরণ এবং অন্যান্য উপযুক্ত লক্ষণ থাকলে Kali muriaticum বিবেচনা করা হয়।

রেপার্টরি অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন

হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরিতে Leucorrhoea বা সাদাস্রাবের জন্য অনেক ঔষধ পাওয়া যায়। Kent ও অন্যান্য রেপার্টরিতে স্রাবের প্রকৃতি, রং, গন্ধ, পরিমাণ, সময় এবং অন্যান্য সহায়ক লক্ষণ অনুযায়ী পৃথক পৃথক রুব্রিক রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিক

Leucorrhoea, acrid, corroding, burning

Arsenicum, Alumina, Borax, Calcarea, Kreosotum, Mercurius, Nitric acid, Sepia, Sulphur প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়।

Leucorrhoea, albuminous, slimy, mucous

Alumina, Borax, Calcarea, Pulsatilla, Sepia, Natrum muriaticum প্রভৃতি ঔষধ বিবেচনা করা হয়।

Leucorrhoea, offensive

Arsenicum, Carb. acid, Kreosotum, Mercurius, Nitric acid, Psorinum, Sepia, Sulphur প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।

Leucorrhoea, profuse

Alumina, Arsenicum, Calcarea, Graphites, Mercurius, Pulsatilla, Sepia, Silicea, Stannum প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়।

Leucorrhoea, thick

Arsenicum, Calcarea, Hydrastis, Kali bichromicum, Pulsatilla, Sepia প্রভৃতি ঔষধ বিবেচনা করা হয়।

Leucorrhoea, thin, watery

Arsenicum, Graphites, Kreosotum, Mercurius, Nitric acid, Pulsatilla, Sepia, Sulphur প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।

Leucorrhoea, greenish

Carbo vegetabilis, Mercurius, Natrum muriaticum, Natrum sulphuricum, Nitric acid, Pulsatilla, Sepia প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়।

Leucorrhoea, yellow

Arsenicum, Calcarea, Chamomilla, Hydrastis, Kreosotum, Pulsatilla, Sepia, Sulphur প্রভৃতি ঔষধ বিবেচনা করা হয়।

Leucorrhoea, before menses

Alumina, Borax, Bovista, Calcarea, Graphites, Kreosotum, Pulsatilla, Sepia, Silicea প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।

Leucorrhoea, after menses

Alumina, Arsenicum, Bovista, Calcarea, Calcarea phosphorica, Graphites, Kreosotum, Pulsatilla, Sepia, Silicea প্রভৃতি ঔষধ বিবেচনা করা হয়।

Leucorrhoea, during pregnancy

Cocculus, Kali carbonicum, Sepia প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়।

রেপার্টরির রুব্রিক থেকে শুধু একটি সাধারণ লক্ষণ দেখে ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে মিলিয়ে ওষুধ নির্বাচন করা উচিত।

সাদাস্রাবে রোগীর কেস নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

লিউকোরিয়ার রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসককে জানতে হবে:

স্রাবের রং কী?

স্রাব পাতলা, ঘন না আঠালো?

পরিমাণ কতটা?

দুর্গন্ধ আছে কি?

স্রাবের কারণে চুলকানি বা জ্বালা হয় কি?

স্রাবের সঙ্গে রক্ত আছে কি?

মাসিকের আগে, পরে না মাঝামাঝি সময়ে বেশি হয়?

গর্ভাবস্থা আছে কি?

তলপেটে ব্যথা বা ভারী ভাব আছে কি?

প্রস্রাবে জ্বালা আছে কি?

যৌনমিলনে ব্যথা হয় কি?

ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে কি?

সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়েছে কি?

আগে একই সমস্যা হয়েছিল কি?

এই তথ্যগুলো সঠিকভাবে সংগ্রহ করলে রোগের প্রকৃতি বোঝা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচর্যা

সাদাস্রাবের সমস্যায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ।

পরিষ্কার ও শুকনো অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।

অন্তর্বাস নিয়মিত পরিবর্তন করুন।

অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত সাবান, স্প্রে বা যোনিপথ পরিষ্কার করার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করাই ভালো।

যোনিপথের ভেতরে নিজে থেকে কোনো দ্রবণ, লবণ, বোরাক্স বা অন্য কোনো পদার্থ ব্যবহার করবেন না।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তার যথাযথ চিকিৎসা নিন।

অস্বাভাবিক স্রাবের সঙ্গে যৌনবাহিত সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?

সাদাস্রাবের সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন:

স্রাবের সঙ্গে রক্ত।

দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।

সবুজ বা পুঁজের মতো স্রাব।

তীব্র চুলকানি বা জ্বালাপোড়া।

তলপেটে তীব্র ব্যথা।

জ্বর।

প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা।

যৌনমিলনে ব্যথা।

গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক স্রাব বা রক্তপাত।

মেনোপজের পর নতুন করে স্রাব বা রক্তপাত।

বারবার একই সমস্যা হওয়া।

এসব ক্ষেত্রে সংক্রমণ, জরায়ুমুখের রোগ বা অন্যান্য স্ত্রীরোগজনিত সমস্যার সম্ভাবনা যাচাই করা জরুরি।

উপসংহার

সাদাস্রাব সবসময় রোগ নয়। অনেক সময় এটি নারীর শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ। তবে স্রাবের ধরন, গন্ধ, পরিমাণ বা রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে এবং এর সঙ্গে চুলকানি, জ্বালা, ব্যথা বা রক্তপাত থাকলে কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণসমষ্টি, স্রাবের বৈশিষ্ট্য, মাসিকের সঙ্গে সম্পর্ক, মানসিক ও শারীরিক লক্ষণ এবং রেপার্টরি বিশ্লেষণ করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।

নিজে নিজে শুধু সাদাস্রাবের একটি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ গ্রহণ না করে অভিজ্ঞ ও নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, জ্বর বা গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক স্রাব থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

লেখক
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬ ইভা হোমিও হল, বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮