প্রসবকালের বিভিন্ন সমস্যা ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
স্বাভাবিক প্রসব বলতে কী বুঝি?
স্বাভাবিক প্রসব বা Vaginal Birth হলো এমন একটি প্রসবপ্রক্রিয়া, যেখানে অস্ত্রোপচার ছাড়াই যোনিপথের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হয়।
গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর কোনো বিশেষ জটিলতা না থাকলে স্বাভাবিক প্রসব অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ ও স্বাভাবিক পদ্ধতি। তবে মা বা শিশুর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন হলে সিজারিয়ান অপারেশন বা অন্য প্রসূতিবিদ্যাগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে। তাই প্রসবের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মা ও শিশুর নিরাপত্তা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় প্রসবকালীন বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। তবে কোনো জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধকে জরুরি প্রসূতি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রসব শুরু হওয়ার লক্ষণ
প্রসব শুরু হওয়ার আগে বা প্রসবের শুরুতে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
১। নিয়মিত জরায়ুর সংকোচন ও প্রসববেদনা
২। পিঠ বা কোমরে ব্যথা
৩। যোনিপথে আঠালো বা রক্তমিশ্রিত স্রাব বের হওয়া
৪। জরায়ুর মুখ ধীরে ধীরে নরম ও প্রসারিত হওয়া
৫। পানির থলি ফেটে অ্যামনিওটিক তরল বের হওয়া
৬। শিশুর মাথা নিচের দিকে চাপ দেওয়ার কারণে বারবার প্রস্রাব বা পায়খানার বেগ অনুভূত হওয়া
প্রকৃত প্রসববেদনায় জরায়ু সংকুচিত ও শক্ত হয় এবং কিছু সময় পর আবার শিথিল হয়। সময়ের সঙ্গে সাধারণত ব্যথা নিয়মিত ও শক্তিশালী হতে থাকে।
প্রসববেদনা কী?
গর্ভাবস্থার শেষ দিকে বিভিন্ন কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত প্রসববেদনার সঙ্গে জরায়ুর নিয়মিত সংকোচন থাকে।
ব্যথার সময় পেটে হাত দিলে জরায়ু শক্ত অনুভূত হতে পারে এবং ব্যথা কমে গেলে জরায়ু আবার নরম হয়ে আসে।
প্রকৃত প্রসববেদনার সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো
ব্যথা আসে এবং চলে যায়
ক্রমে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে পারে
দুই ব্যথার মধ্যবর্তী বিরতি কমে আসতে পারে
কোমর বা পিঠ থেকে ব্যথা শুরু হয়ে সামনের দিকে আসতে পারে
নিচের দিকে চাপ বা প্রস্রাব-পায়খানার বেগ অনুভূত হতে পারে
তবে প্রত্যেক নারীর প্রসবের অভিজ্ঞতা একরকম নয়।
প্রসবের তিনটি প্রধান পর্যায়
প্রথম পর্যায়
নিয়মিত প্রসববেদনা শুরু হওয়ার পর জরায়ুর মুখ ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়ে সম্পূর্ণ খোলা পর্যন্ত সময়কে প্রথম পর্যায় বলা হয়।
এই পর্যায়ে জরায়ুর সংকোচন ক্রমশ শক্তিশালী ও নিয়মিত হতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়
জরায়ুর মুখ সম্পূর্ণ প্রসারিত হওয়ার পর শিশুর জন্ম হওয়া পর্যন্ত সময়কে দ্বিতীয় পর্যায় বলা হয়।
এই সময়ে প্রসববেদনার সঙ্গে নিচের দিকে চাপ দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় এবং শিশুর জন্ম হয়।
তৃতীয় পর্যায়
শিশু জন্মের পর গর্ভফুল বা Placenta বের হওয়া পর্যন্ত সময়কে তৃতীয় পর্যায় বলা হয়।
গর্ভফুল সম্পূর্ণ বের হয়েছে কি না এবং প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছে কি না তা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রসবকালীন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু রোগের নাম দেখে ঔষধ নির্বাচন করা হয় না। রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ, প্রসববেদনার ধরন, ব্যথার অবস্থান, ব্যথার গতি, জরায়ুর সংকোচন, মানসিক অবস্থা এবং অন্যান্য সহায়ক লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।
কলোফাইলাম
প্রসববেদনা দুর্বল, অনিয়মিত বা অকার্যকর ধরনের হলে এবং ব্যথা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবর্তিত হলে Caulophyllum-এর কথা হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে পাওয়া যায়।
বিশেষ লক্ষণ
প্রসববেদনা ক্ষীণ
ব্যথা অনিয়মিত
ব্যথা অকার্যকর মনে হওয়া
ব্যথার স্থান পরিবর্তন করা
জরায়ুর সংকোচন দুর্বল বা অসংগতিপূর্ণ হওয়া
সিমিসিফুগা
Cimicifuga-র ক্ষেত্রে প্রসববেদনার সঙ্গে কোমর, পেলভিস ও জরায়ু অঞ্চলে ব্যথা বা অস্বস্তির বিশেষ লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।
জেলসেমিয়াম
Gelsemium-এর ক্ষেত্রে দুর্বলতা, কাঁপুনি, ভয় বা উদ্বেগের সঙ্গে প্রসববেদনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়।
ব্যথা উপরের দিকে ছড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা প্রসবের সময় অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ থাকলে অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।
পালসেটিলা
Pulsatilla-র ক্ষেত্রে প্রসববেদনা অনিয়মিত হওয়া, কখনো থাকা আবার কখনো কমে যাওয়া বা থেমে যাওয়ার মতো লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।
শুধু অনিয়মিত ব্যথা হলেই Pulsatilla নির্বাচন করা উচিত নয়।
সিকেলি কর
Secale cornutum-এর ক্ষেত্রে প্রসববেদনা ও জরায়ুর সংকোচনের বিশেষ লক্ষণ এবং প্রসব-পরবর্তী রক্তপাতের কিছু লক্ষণসমষ্টির উল্লেখ হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে রয়েছে।
প্রসব বিলম্বিত হলেই এই ঔষধ ব্যবহার করা নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না।
বেলেডোনা
Belladonna-র ক্ষেত্রে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা, উত্তেজনা, গরমভাব এবং কিছু বিশেষ প্রসবকালীন লক্ষণসমষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায়।
তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, খিঁচুনি বা অন্য কোনো জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
কফিয়া
Coffea cruda-র ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যথা সংবেদনশীলতা, অস্থিরতা এবং ব্যথা সহ্য করতে না পারার মতো লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করা হয়।
নাক্স ভমিকা
প্রসববেদনার সঙ্গে মলত্যাগ বা প্রস্রাবের প্রবল বেগের মতো অনুভূতি থাকলে Nux vomica-র উল্লেখ হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরিতে পাওয়া যায়।
তবে শুধু একটি লক্ষণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করা উচিত নয়।
আর্নিকা
প্রসবের পর আঘাতজনিত ব্যথা, শরীরে প্রচণ্ড ভাঙাচোরা অনুভূতি এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট লক্ষণসমষ্টির ক্ষেত্রে Arnica montana বিবেচনা করা হয়।
প্রসবকালীন আরও কিছু উল্লেখযোগ্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
Aconitum
Belladonna
Caulophyllum
Chamomilla
Cimicifuga
Coffea
Gelsemium
Ignatia
Nux vomica
Pulsatilla
Secale cornutum
Viburnum opulus
Kali carbonicum
Lobelia inflata
China
Ipecacuanha
Phosphorus
Sabina
Sepia
Cantharis
তবে একই লক্ষণের জন্য একাধিক ঔষধের নাম পাওয়া গেলেও প্রত্যেক রোগীর জন্য একই ঔষধ প্রযোজ্য হবে না।
প্রসবকালের বিভিন্ন বিশেষ লক্ষণ ও ঔষধ
অসম্পূর্ণ বা অকার্যকর প্রসববেদনা
Caulophyllum, Cimicifuga, Gelsemium
অনিয়মিত প্রসববেদনা
Pulsatilla, Caulophyllum, Viburnum opulus
জরায়ুর মুখ শক্ত হওয়ার সঙ্গে প্রসববেদনা
Belladonna, Cimicifuga, Gelsemium, Caulophyllum
ব্যথা স্থান পরিবর্তন করে
Caulophyllum
কোমর থেকে নিচের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যায়
Kali carbonicum, Nux vomica প্রভৃতি
প্রসববেদনার সঙ্গে মলত্যাগ বা প্রস্রাবের বেগ
Nux vomica
প্রসববেদনার সঙ্গে অজ্ঞান বা মূর্ছার প্রবণতা
Cimicifuga, Nux vomica, Pulsatilla, Secale
অতিরিক্ত ব্যথাসংবেদনশীলতা
Aconitum, Belladonna, Chamomilla, Cimicifuga, Coffea, Gelsemium, Ignatia, Nux vomica, Pulsatilla
প্রসববেদনার সঙ্গে খিঁচুনি
Aconitum, Belladonna, Cimicifuga, Gelsemium, Hyoscyamus, Cuprum, Stramonium প্রভৃতি
প্রসবের আগে বা পরে রক্তপাতের লক্ষণসমষ্টি
Arnica, Belladonna, Chamomilla, China, Ipecacuanha, Phosphorus, Sabina, Secale প্রভৃতি
গর্ভফুল আটকে থাকার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরিতে
Arnica, Cantharis, Caulophyllum, Cimicifuga, China, Ignatia, Pulsatilla, Sabina, Secale, Viscum প্রভৃতি ঔষধের উল্লেখ রয়েছে।
তবে গর্ভফুল আটকে গেলে বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে দ্রুত প্রসূতি চিকিৎসা প্রয়োজন।
বোরিক রেপার্টরিতে প্রসবকালীন লক্ষণ
Boger Repertory-তে Parturition ও Labor অধ্যায়ের অধীনে প্রসবের বিভিন্ন লক্ষণের সঙ্গে বিভিন্ন ঔষধের উল্লেখ পাওয়া যায়।
Labor
Delayed
Premature
False labor pains
Backache during labor
Shifting pains
Spasmodic, irregular, intermittent and ineffectual pains
Pain from back to rectum with urging to stool or urination
Pain from loins down legs
Upward extending pains
Hypersensitivity to pain
Syncope with labor
Retained placenta
Rigid os
এসব Rubric ব্যবহারের সময় রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে Rubric-এর যথার্থ মিল থাকা প্রয়োজন।
প্রসবকালে জরুরি সতর্কতা
প্রসবের সময় কিছু লক্ষণকে সাধারণ প্রসববেদনা ধরে ঘরে বসে অপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে
অতিরিক্ত যোনিপথের রক্তপাত
তীব্র বা অস্বাভাবিক পেটব্যথা
খিঁচুনি
তীব্র মাথাব্যথা
চোখে ঝাপসা দেখা
শ্বাসকষ্ট
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া
পানির থলি ফেটে যাওয়া এবং পানির রং অস্বাভাবিক বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া
৩৭ সপ্তাহের আগে প্রসববেদনা শুরু হওয়া
দীর্ঘ সময় প্রসববেদনা চললেও প্রসবের অগ্রগতি না হওয়া
শিশুর কোনো অঙ্গ বা মাথা অস্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে আসার আশঙ্কা
গর্ভফুল বের না হওয়া
প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত
এসব পরিস্থিতিতে কোনো হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করে অপেক্ষা না করে দ্রুত দক্ষ প্রসূতি চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
কখন সিজারিয়ান প্রয়োজন হতে পারে?
সব প্রসব স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হবে এমন নয়। মা বা শিশুর নিরাপত্তার জন্য কখনো সিজারিয়ান অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।
তাই সিজারিয়ান এড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রসবের জটিলতা গোপন করা, চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে দেরি করা বা শুধুমাত্র কোনো একটি ঔষধের ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়।
মা ও শিশুর জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিজারিয়ান বা অন্যান্য প্রসূতি চিকিৎসা গ্রহণ করাই নিরাপদ ব্যবস্থা।
প্রসবকালীন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সতর্কতা
প্রসবকালীন সময়ে মা ও শিশুর অবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রসবের সময় ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রোগীর পূর্ণ ইতিহাস, গর্ভকাল, পূর্ববর্তী প্রসবের ইতিহাস, বর্তমান প্রসববেদনার ধরন এবং মা ও শিশুর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রসবের জটিলতা দেখা দিলে প্রথম দায়িত্ব হলো মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত উপযুক্ত প্রসূতি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে জরুরি প্রসূতি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
উপসংহার
প্রসব একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও প্রত্যেক প্রসবের পরিস্থিতি আলাদা। প্রসববেদনার প্রকৃতি, জরায়ুর সংকোচন, জরায়ুর মুখের প্রসারণ, শিশুর অবস্থান, শিশুর হৃদস্পন্দন, মায়ের রক্তচাপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও Repertory-তে প্রসবকালীন বিভিন্ন লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে বহু ঔষধের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে। তবে এসব তথ্যকে স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বিশেষ করে প্রসববেদনা দীর্ঘায়িত হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, খিঁচুনি, তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, পানির অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা প্রসবের অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ হলে দ্রুত দক্ষ প্রসূতি চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
নিজে নিজে প্রসবকালীন ঔষধ নির্বাচন বা প্রয়োগ করবেন না। দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময়ে প্রশিক্ষিত প্রসূতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহযোগিতা গ্রহণ করাই মা ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল,
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড,
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে,
বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
