হোমিওপ্যাথি পাঠশালা হোমিওপ্যাথি পাঠশালা 

 মেটেরিয়া মেডিকা আয়ত্তের কৌশল-
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বোরাক্স (Borax veneta)

ভূমিকা

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা আয়ত্ত করার জন্য শুধু ঔষধের নাম ও লক্ষণ মুখস্থ করলেই হয় না। প্রতিটি ঔষধের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ, মানসিক অবস্থা, শারীরিক অনুভূতি, রোগের কারণ, হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়ম এবং কাছাকাছি লক্ষণযুক্ত অন্যান্য ঔষধের সঙ্গে পার্থক্য বুঝতে হয়। বোরাক্স এমন একটি ঔষধ, যার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণকে কেন্দ্র করে সহজে একটি স্বতন্ত্র ঔষধ-চিত্র তৈরি করা যায়।

বোরাক্সের রাসায়নিক পরিচয়

বোরাক্স একটি বোরনযুক্ত রাসায়নিক যৌগ। এর প্রচলিত রাসায়নিক নাম সোডিয়াম টেট্রাবোরেট। এটি সাদা গুঁড়ো বা বর্ণহীন স্ফটিকাকার পদার্থ হিসেবে পরিচিত এবং পানিতে দ্রবীভূত হয়।

বোরাক্সের প্রধান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ

১. নিম্নগতিতে ভীতি

ইংরেজি স্মরণসূত্র: Fear of downward motion.

শিশুকে কোলে থেকে বিছানায় নামানোর সময়, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময়, দোলানোর সময় অথবা নিচের দিকে নেওয়ার সময় আতঙ্কিত হওয়া বোরাক্সের বহুল আলোচিত বৈশিষ্ট্য। শিশু হাত তুলে আঁকড়ে ধরতে পারে, চমকে উঠতে পারে অথবা কান্না শুরু করতে পারে।

এখানে সাধারণ উচ্চতাভীতি নয়, বরং নিচের দিকে গতির সঙ্গে ভয়ের নির্দিষ্ট সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ।

২. আকস্মিক শব্দে অতিসংবেদনশীলতা

ইংরেজি স্মরণসূত্র: Sensitive to sudden noise; easily startled.

হঠাৎ জোরে শব্দ, কাশি, হাঁচি বা অন্য আকস্মিক আওয়াজে চমকে ওঠা ও ভীত হওয়ার প্রবণতা বোরাক্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মানসিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

নিম্নগতির ভীতির সঙ্গে শব্দভীতি একত্রে পাওয়া গেলে তা বোরাক্সের ঐতিহাসিক ঔষধ-চিত্রকে আরও সহজে মনে রাখতে সাহায্য করে।

৩. মুখের ঘা ও অ্যাফথাস স্টোমাটাইটিস

ইংরেজি স্মরণসূত্র: Aphthae; aphthous stomatitis.

জিহ্বা, গালের ভেতর, ঠোঁটের অভ্যন্তরীণ অংশ এবং মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে অ্যাফথাসজাতীয় ঘা বোরাক্সের পরিচিত লক্ষণ। প্রচলিত মেটেরিয়া মেডিকার বর্ণনায় মুখের ভেতরে গরম ও স্পর্শকাতর অনুভূতি এবং ঘায়ের কারণে শিশুর স্তন্যপানে কষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

মুখের ঘা হলেই বোরাক্স নির্বাচন করা যায় না। ঘায়ের ধরন, ব্যথা, অবস্থান, সংশ্লিষ্ট উপসর্গ এবং রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করতে হয়।

বোরাক্সের মানসিক ও স্নায়বিক লক্ষণ

বোরাক্সের লক্ষণ মনে রাখার সময় মানসিক লক্ষণ, শারীরিক লক্ষণ এবং বিশেষ অনুভূতিকে আলাদা করে সাজিয়ে নেওয়া সুবিধাজনক।

প্রধান মানসিক বৈশিষ্ট্য

১. নিচের দিকে গতিতে আতঙ্ক।
২. আকস্মিক শব্দে চমকে ওঠা।
৩. সামান্য উদ্দীপনায় ভীত বা অস্থির হওয়ার প্রবণতা।
৪. ঘুমের মধ্যে চমকে ওঠা বা ভীত হয়ে পরিচর্যাকারীকে আঁকড়ে ধরার বর্ণনা।

শিশুর আচরণসংক্রান্ত লক্ষণ

১. কোলে থেকে নামানোর সময় কান্না বা আতঙ্ক।
২. মুখে ঘা থাকলে স্তন্যপানে কষ্ট।
৩. মূত্রত্যাগের আগে কান্না বা চিৎকারের বর্ণনা।
৪. মলত্যাগের আগে অস্বস্তি বা কান্নার মতো লক্ষণ।

শারীরিক ও স্থানীয় লক্ষণ

১. মুখে ও জিহ্বায় অ্যাফথাসজাতীয় ঘা।
২. মুখের ভেতরে গরম ও স্পর্শকাতর অনুভূতি।
৩. চুলে বারবার জট বেঁধে যাওয়ার বর্ণনা।
৪. নারীদের সাদা স্রাবের সঙ্গে গরম তরল প্রবাহের অনুভূতি।
৫. মূত্রত্যাগের আগে শিশুর কান্না।
৬. নাকের ডগায় লালচে ভাব, চোখের পাপড়ির অস্বাভাবিক অবস্থান এবং ত্বকের ক্ষত সহজে না শুকানোর মতো কিছু বর্ণনা।

এসব লক্ষণের প্রতিটি মূল মেটেরিয়া মেডিকা থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত। কোনো একটি স্থানীয় লক্ষণ একা ঔষধ নির্বাচনের যথেষ্ট ভিত্তি নয়।

নারীদের লক্ষণচিত্র

শ্বেতপ্রদর বা সাদা স্রাব

প্রচলিত মেটেরিয়া মেডিকায় বোরাক্সের স্রাবকে অনেক সময় বেশি পরিমাণে, সাদা বা ডিমের সাদার মতো এবং গরম তরল প্রবাহের অনুভূতিসহ বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু বর্ণনায় দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময়ে স্রাবের উল্লেখ রয়েছে।

ঋতুস্রাব

ঐতিহাসিক লক্ষণবর্ণনায় ঋতুস্রাব নির্ধারিত সময়ের আগে হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত এবং পেটের মুচড়ানো ব্যথার উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রসব ও স্তন্যদান

প্রসববেদনার সময় বারবার ঢেকুর ওঠা এবং শিশুকে এক স্তনে দুধ পান করানোর সময় বিপরীত স্তনে অস্বস্তি বা ব্যথার বর্ণনাও রয়েছে।

বন্ধ্যাত্বের প্রসঙ্গ

কিছু হোমিওপ্যাথিক লেখক বোরাক্সকে নারীদের বন্ধ্যাত্বের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্ণয়, প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধি বা গর্ভধারণ নিশ্চিত করার ঔষধ হিসেবে এসব বর্ণনাকে নিশ্চিত চিকিৎসাগত ফল বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বন্ধ্যাত্বের মূল্যায়নে উভয় সঙ্গীর পরীক্ষা এবং কারণভিত্তিক চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।

বোরাক্সের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য লক্ষণ

চুলে জট বেঁধে যাওয়া

পুরোনো মেটেরিয়া মেডিকার বর্ণনায় চুলের ডগায় জট পাকানো, বারবার জট তৈরি হওয়া এবং চিরুনি দিয়ে সহজে আলাদা করা না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বৈশিষ্ট্যকে কখনো Plica polonica-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

তবে স্বাভাবিকভাবে কোঁকড়ানো চুল এবং অস্বাভাবিকভাবে জট বেঁধে যাওয়া এক বিষয় নয়। চুলের স্বাভাবিক গঠন বংশগতি ও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই শুধু কোঁকড়ানো চুলের ভিত্তিতে বোরাক্স নির্বাচন করা যুক্তিসংগত নয়।

মুখে মাকড়সার জালের অনুভূতি

মুখে বা ত্বকে যেন মাকড়সার জাল লেগে আছে, এমন অনুভূতির উল্লেখ বোরাক্সের প্রচলিত লক্ষণবর্ণনায় পাওয়া যায়। এটি একটি বিশেষ অনুভূতির বর্ণনা, দৃশ্যমান কোনো জাল থাকার কথা নয়।

চোখের লক্ষণ

চোখের পাপড়ি ভেতরের দিকে বেঁকে যাওয়া এবং চোখের পাতায় প্রদাহের কথা পুরোনো মেটেরিয়া মেডিকায় রয়েছে। পাপড়ি চোখের দিকে ঘুরে গেলে ব্যথা, চোখে ঘষা লাগা বা কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন জরুরি।

স্বরভঙ্গ

কিছু ঐতিহাসিক হোমিওপ্যাথিক লেখায় স্বরভঙ্গের প্রসঙ্গে বোরাক্সের উল্লেখ রয়েছে। তবে গান বা বক্তৃতার আগে বোরাক্স খেলে স্বরভঙ্গ প্রতিরোধ হয়, এমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিশ্চিত চিকিৎসাগত ফল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। স্বরভঙ্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার হলে তার কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

শিশুদের মুখের ঘায়ে বোরাক্সের লক্ষণচিত্র

শিশুদের মুখের ঘা বোরাক্সের সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক ব্যবহারগুলোর একটি। তবে মুখে ঘা হলেই বোরাক্স নির্বাচন করার ধারণা যথেষ্ট নয়।

প্রচলিত লক্ষণবর্ণনা অনুযায়ী যেসব বৈশিষ্ট্য খেয়াল করা হয়:

১. জিহ্বা, গালের ভেতর বা মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে অ্যাফথাসজাতীয় ঘা।
২. মুখের ভেতরে অতিরিক্ত গরম বা জ্বালাযুক্ত অনুভূতি।
৩. ঘায়ের ব্যথায় স্তন্যপান বা খাবার গ্রহণে অসুবিধা।
৪. মুখের ঘার সঙ্গে পাতলা পায়খানা থাকার বর্ণনা।
৫. শিশুকে নিচের দিকে নামালে ভয় পাওয়া এবং সামান্য শব্দে চমকে ওঠার বৈশিষ্ট্য।

এই লক্ষণসমষ্টি বোরাক্সের ঐতিহাসিক মেটেরিয়া মেডিকা-চিত্রকে চিনতে সাহায্য করে। তবে শিশুর মুখে সাদা আস্তরণ বা ঘা হলে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, ভাইরাসজনিত রোগ, পানিশূন্যতা এবং পুষ্টিগত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করতে হয়। শিশু দুধ পান করতে না পারলে, প্রস্রাব কমে গেলে, জ্বর বা অবসন্নতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কাঁচা বোরাক্স বা সোহাগার খৈ শিশুর মুখে লাগানো উচিত নয়।

বোরাক্স ও স্যানিকিউলার তুলনামূলক আলোচনা

বোরাক্স ও স্যানিকিউলা (Sanicula) তুলনা করতে গেলে শুধু নিম্নগতিতে ভীতির লক্ষণটি মনে রাখলে হবে না। উভয় ঔষধের ঐতিহাসিক লক্ষণবর্ণনায় এ বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। তাই অন্যান্য লক্ষণও যাচাই করা প্রয়োজন।

বোরাক্স

নিম্নগতিতে ভীতি, আকস্মিক শব্দে চমকে ওঠা এবং মুখের অ্যাফথাস ঘা এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

স্যানিকিউলা

নিম্নগতিতে ভীতির তুলনীয় লক্ষণ রয়েছে। তবে এর নিজস্ব সামগ্রিক লক্ষণচিত্র, স্রাবের বৈশিষ্ট্য, ঘাম এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ আলাদাভাবে বিচার করতে হয়।

তুলনামূলকভাবে মনে রাখার বিষয় হলো, নিম্নগতিতে ভীতি দুই ঔষধের পার্থক্য নির্ধারণের জন্য একা যথেষ্ট নয়। রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ বিবেচনা করতে হবে।

বোরাক্সের সঙ্গে অন্যান্য ঔষধের তুলনা

Borax: নিম্নগতিতে ভীতি, আকস্মিক শব্দে চমকে ওঠা এবং মুখে অ্যাফথাস ঘা।

Sanicula: নিম্নগতিতে ভীতির তুলনীয় বৈশিষ্ট্য ও নিজস্ব সামগ্রিক লক্ষণচিত্র।

Gelsemium: ভয় বা উত্তেজনার সঙ্গে কাঁপুনি, দুর্বলতা ও অবসন্নতার লক্ষণ।

Lycopodium: পেট ফাঁপা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বা প্রত্যাশাজনিত উদ্বেগসহ নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।

Calcarea carbonica: মাথায় ঘাম, শীতপ্রবণতা ও শারীরিক পরিশ্রমে ক্লান্তির বৈশিষ্ট্য।

Silicea: ঠান্ডা-সংবেদনশীলতা, ঘাম এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বা পুঁজ হওয়ার প্রবণতাসহ লক্ষণচিত্র।

Mercurius solubilis: মুখের প্রদাহ, অতিরিক্ত লালা ও মুখে দুর্গন্ধের মতো লক্ষণ।

Nitric acid: কাঁটার মতো বিঁধে যাওয়া ব্যথাযুক্ত ঘা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ।

Bryonia: শুষ্কতা, নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি এবং স্থির থাকতে চাওয়ার প্রবণতা।

এগুলো ঔষধের পার্থক্য মনে রাখার প্রাথমিক সূত্র। প্রতিটি ঔষধের পূর্ণাঙ্গ লক্ষণচিত্র মূল মেটেরিয়া মেডিকা থেকে যাচাই করা উচিত।

বোরাক্সের হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়ম

ঐতিহাসিক মেটেরিয়া মেডিকায় বোরাক্সের কয়েকটি হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়ম বর্ণিত হয়েছে।

উপসর্গ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বর্ণনা

১. নিম্নমুখী গতি বা নিচের দিকে নামা।
২. আকস্মিক বা সামান্য শব্দ।
৩. কিছু বর্ণনায় আর্দ্র ও ঠান্ডা আবহাওয়া।
৪. কিছু বর্ণনায় নির্দিষ্ট খাবারের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক।

উপশমের সঙ্গে সম্পর্কিত বর্ণনা

১. কিছু ব্যথায় চাপ প্রয়োগে উপশম।
২. নির্দিষ্ট সময় বা আবহাওয়ার সঙ্গে উপসর্গের পরিবর্তন।

এসব তথ্য ঐতিহাসিক মেটেরিয়া মেডিকার বর্ণনা। রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো সত্যিই উপস্থিত কি না, তা কেস টেকিংয়ের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

রেপার্টরি অনুশীলন: বোরাক্সকে কীভাবে খুঁজবেন

কেন্ট ও বোগারের রেপার্টরিতে বোরাক্স অধ্যয়নের সময় কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান করা যায়।

Mind: Fear, downward motion; Startled by noise; Sensitive to sudden noise.

Mouth: Aphthae; Ulcers of mouth; Tongue, aphthous eruptions.

Urinary system: Urination, crying before urination.

Female genitalia: Leucorrhoea, profuse discharge, sensation of heat.

চূড়ান্ত রুব্রিক নির্বাচন করার আগে সংশ্লিষ্ট রেপার্টরির সংস্করণে সঠিক শিরোনাম, উপশিরোনাম এবং বোরাক্সের গ্রেড যাচাই করতে হবে। এখানে দেওয়া ইংরেজি শব্দগুলো অনুসন্ধানের বিষয়; প্রতিটি ক্ষেত্রে হুবহু রুব্রিক-নাম বা নির্দিষ্ট গ্রেডের দাবি নয়।

মেটেরিয়া মেডিকা আয়ত্তের সহজ কৌশল

বোরাক্স মনে রাখার জন্য প্রথমে তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য আয়ত্ত করুন।

প্রথম বৈশিষ্ট্য: নিম্নগতিতে ভীতি।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: আকস্মিক শব্দে চমকে ওঠা।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: মুখের অ্যাফথাস ঘা।

এরপর সহায়ক লক্ষণ হিসেবে চুলে জট, মুখে মাকড়সার জালের অনুভূতি, শিশুর মূত্রত্যাগের আগে কান্না এবং নারীদের স্রাবের বিশেষ অনুভূতি অধ্যয়ন করুন।

প্রতিদিন একটি ঔষধ নিয়ে পাঁচটি কাজ করতে পারেন:

১. ঔষধটির তিন থেকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ লিখুন।
২. লক্ষণগুলোকে মানসিক, শারীরিক ও হ্রাস-বৃদ্ধির বিভাগে সাজান।
৩. কাছাকাছি লক্ষণযুক্ত অন্তত দুটি ঔষধের সঙ্গে তুলনা করুন।
৪. মূল মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরি থেকে লক্ষণ যাচাই করুন।
৫. বই বন্ধ করে নিজের ভাষায় রোগী-চিত্রটি লিখুন এবং পরদিন স্মৃতি থেকে পুনরাবৃত্তি করুন।

প্রচলিত ধারণা যাচাই

কোঁকড়ানো চুল কোনো রোগের লক্ষণ নয়। চুলের স্বাভাবিক গঠন বংশগতি ও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই শুধু কোঁকড়ানো চুলের ভিত্তিতে বোরাক্স নির্বাচন করা উচিত নয়।

মুখের ঘা, সাদা স্রাব বা বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যায় ঔষধের লক্ষণচিত্র অধ্যয়ন করা যেতে পারে; তবে ঐতিহাসিক মেটেরিয়া মেডিকার বর্ণনা থেকে নির্দিষ্ট ঔষধে রোগ নিরাময় বা গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

বোরাক্সের নামে কাঁচা রাসায়নিক গুঁড়ো খাওয়া বা মুখে লাগানো বিপজ্জনক হতে পারে। কাঁচা বোরাক্স এবং যথাযথভাবে প্রস্তুত হোমিওপ্যাথিক পণ্যকে এক করে দেখা উচিত নয়। বোরাক্স গিলে ফেললে বা বিষক্রিয়ার আশঙ্কা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

উপসংহার

বোরাক্সের রোগী-চিত্র মনে রাখার সবচেয়ে কার্যকর সূত্র হলো নিম্নগতিতে ভীতি, আকস্মিক শব্দে অতিসংবেদনশীলতা এবং মুখের অ্যাফথাস ঘা। এর সঙ্গে চুলে জট, মূত্রত্যাগের আগে শিশুর কান্না এবং নারীদের স্রাবের বিশেষ অনুভূতির মতো ঐতিহাসিক লক্ষণগুলো অধ্যয়ন করা যায়।

মেটেরিয়া মেডিকা আয়ত্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল কয়েকটি লক্ষণ মুখস্থ করা নয়; বরং রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ, সামগ্রিক উপসর্গ এবং তুলনীয় ঔষধের পার্থক্য নির্ভুলভাবে বুঝতে শেখা।

অধ্যয়নের জন্য প্রাসঙ্গিক মূল গ্রন্থ

১. William Boericke — Pocket Manual of Homoeopathic Materia Medica
২. John Henry Clarke — A Dictionary of Practical Materia Medica
৩. Constantine Hering — The Guiding Symptoms of Our Materia Medica
৪. Henry C. Allen — Keynotes and Characteristics with Comparisons

অনলাইনে অধ্যয়নের জন্য

Boericke’s Materia Medica — Borax Veneta: https://www.homeoint.org/books/boericmm/b/borx.htm

Clarke’s Materia Medica — Borax: https://www.materiamedica.info/en/materia-medica/john-henry-clarke/borax

Hering’s Guiding Symptoms — Borax: https://www.homeoint.org/hering/b/bor-3.htm

Allen’s Keynotes — Borax: https://www.materiamedica.info/en/materia-medica/henry-c-allen/borax

লেখক পরিচিতি
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার

সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে।
মোবাইল নাম্বার 01716651488