হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala 

আইবিএসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও লক্ষণভিত্তিক ঔষধ নির্বাচন

আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম পরিপাকতন্ত্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী কার্যগত সমস্যা। এতে পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত গ্যাস, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পর্যায়ক্রমে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

আইবিএসের উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকতে পারে। কখনও উপসর্গ বেড়ে যায়, আবার কখনও কমে আসে। মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অনিয়ম এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

আইবিএস সাধারণত অন্ত্রের ক্যানসার সৃষ্টি করে না। তবে একই ধরনের উপসর্গ অন্যান্য রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইবিএসের সম্ভাব্য কারণ ও সম্পর্কিত বিষয়

আইবিএসের একক কোনো নিশ্চিত কারণ জানা যায়নি। তবে নিচের বিষয়গুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

১. অন্ত্রের পেশির সংকোচন ও প্রসারণের অস্বাভাবিকতা।

২. অন্ত্রের স্নায়ুর অতিসংবেদনশীলতা।

৩. মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানের পরিবর্তন।

৪. মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা।

৫. অন্ত্রের সংক্রমণের পর দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ।

৬. কিছু খাবার, ক্যাফেইন, অতিরিক্ত চর্বি অথবা নির্দিষ্ট শর্করাজাতীয় খাবারে সংবেদনশীলতা।

৭. পারিবারিক ইতিহাস ও অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টির পরিবর্তন।

আইবিএসের প্রধান লক্ষণ

১. বারবার পেটে ব্যথা অথবা মোচড়ানো অনুভূতি।

২. খাবারের পর পেট ফাঁপা ও গ্যাস জমা।

৩. পাতলা পায়খানা অথবা ঘন ঘন মলত্যাগ।

৪. শক্ত, শুকনো ও খণ্ডখণ্ড মল।

৫. ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে হওয়া।

৬. মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি।

৭. মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা দেখা যাওয়া।

৮. পেটে শব্দ হওয়া ও অস্বস্তি।

৯. মানসিক চাপের সময় পেটের সমস্যা বেড়ে যাওয়া।

১০. মলত্যাগের পর পেটব্যথা কমে যাওয়া অথবা ব্যথার ধরন পরিবর্তিত হওয়া।

আইবিএসের প্রকারভেদ

মলত্যাগের ধরন অনুযায়ী আইবিএসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

IBS-C: কোষ্ঠকাঠিন্যপ্রধান আইবিএস।

IBS-D: ডায়রিয়াপ্রধান আইবিএস।

IBS-M: ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে হওয়া।

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মলত্যাগের ধরন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ফেলা যায় না।

আইবিএস নির্ণয়

আইবিএস নির্ণয়ের সময় পেটব্যথা, মলত্যাগের ধরন, উপসর্গের সময়কাল এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ মূল্যায়ন করা হয়। রোগীর বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও সতর্কতামূলক লক্ষণ বিবেচনা করে প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, মলের পরীক্ষা, সিলিয়াক রোগের পরীক্ষা বা অন্যান্য অনুসন্ধান করা হতে পারে।

সব রোগীর সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। রোগীর উপসর্গ ও ঝুঁকির ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন

ঐতিহ্যগত হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে পেটব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে কিছু ঔষধের সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে। নিচে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে নির্বাচনী লক্ষণগুলো দেওয়া হলো।

১. Nux Vomica (নাক্স ভমিকা)

বারবার মলত্যাগের তাগিদ থাকলেও মলত্যাগ অসম্পূর্ণ মনে হওয়া। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি ও পেট মোচড়ানোর প্রবণতা। অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা মানসিক চাপের সঙ্গে হজমের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ঐতিহ্যগত বর্ণনা রয়েছে।

২. Podophyllum (পোডোফাইলাম)

প্রচুর পরিমাণে পাতলা পায়খানা, তীব্র মলত্যাগের তাগিদ, পেটের গড়গড় শব্দ এবং দুর্গন্ধযুক্ত মলের ঐতিহ্যগত বর্ণনা রয়েছে।

৩. Sulphur (সালফার)

সকালে ঘুম থেকে উঠে মলত্যাগের তাগিদ, দীর্ঘস্থায়ী মলত্যাগের অনিয়ম এবং মলদ্বারে জ্বালা বা অস্বস্তির সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়ার প্রবণতা।

৪. Argentum Nitricum (আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম)

দুশ্চিন্তা, ভয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আগে পাতলা পায়খানা। পেটে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব। মিষ্টিজাতীয় খাবারের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক এবং উদ্বেগের সময় মলত্যাগের তাগিদ বৃদ্ধি।

৫. Asafoetida (এসাফোয়েটিডা)

পেটে গ্যাস জমা, চাপ ও অস্বস্তি। বারবার ঢেকুর উঠলেও আরাম না পাওয়া এবং পেটের ভেতরে গ্যাস চলাচলের অনুভূতি।

৬. Colocynthis (কলোসিন্থ)

তীব্র মোচড়ানো বা খিঁচুনির মতো পেটব্যথা। পেট চেপে ধরলে বা শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখলে আরাম পাওয়ার প্রবণতা।

৭. Lilium Tigrinum (লিলিয়াম টিগ্রিনাম)

পেটের নিচের দিকে চাপ বা ভারী অনুভূতি, মলদ্বারে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি এবং মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে পেটের উপসর্গের সম্পর্ক।

৮. Lycopodium Clavatum (লাইকোপোডিয়াম)

অল্প খাবারেই পেট ফেঁপে যাওয়া, অতিরিক্ত গ্যাস, খাবারের পর পেট ভারী ও অস্বস্তিকর হওয়া।

৯. Natrum Carbonicum (নেট্রাম কার্বোনিকাম)

দুধ পান করার পর পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানার বর্ণনা। খাবারের পর গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি এবং নির্দিষ্ট খাবারে হজমের সমস্যা বেড়ে যাওয়া।

১০. Pulsatilla (পালসেটিলা)

চর্বিযুক্ত খাবারের পর বদহজম, পেটের অস্বস্তি, গ্যাস ও পেট ফাঁপার প্রবণতা এবং মলত্যাগের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার বর্ণনা।

১১. Aloe Socotrina (এলো সকোট্রিনা)

হঠাৎ মলত্যাগের তীব্র তাগিদ, সকালে পাতলা পায়খানা, মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা এবং মলদ্বারে ভারী অনুভূতি।

১২. China Officinalis (চায়না অফিসিনালিস)

পেটে অতিরিক্ত গ্যাস, খাবারের পর পেট ফেঁপে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার পর দুর্বলতার ঐতিহ্যগত বর্ণনা।

১৩. Carbo Vegetabilis (কার্বো ভেজিটাবিলিস)

পেট অত্যধিক ফাঁপা, গ্যাস জমে চাপ ও অস্বস্তি, ঢেকুর এবং বদহজমের প্রবণতা।

১৪. Chamomilla (ক্যামোমিলা)

পেট মোচড়ানো ব্যথা, মানসিক উত্তেজনার সঙ্গে পেটের অস্বস্তি এবং ব্যথার সময় অস্থিরতার ঐতিহ্যগত বর্ণনা।

১৫. Dioscorea Villosa (ডায়োসকোরিয়া)

পেটে খিঁচুনির মতো ব্যথা, ব্যথা অন্যদিকে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যথার ধরন পরিবর্তিত হওয়া।

১৬. Magnesia Phosphorica (ম্যাগনেশিয়া ফসফোরিকা)

খিঁচুনির মতো পেটব্যথা, উষ্ণতা ও চাপ দিলে ব্যথা কমার প্রবণতা এবং পেটের পেশির সংকোচনজনিত অস্বস্তি।

১৭. Bryonia Alba (ব্রায়োনিয়া)

নড়াচড়ায় পেটব্যথা বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও শুষ্ক মলের ঐতিহ্যগত বর্ণনা।

১৮. Graphites (গ্রাফাইটিস)

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মলত্যাগে অসুবিধা এবং মলদ্বারে ফাটল বা অস্বস্তির ঐতিহ্যগত বর্ণনা।

১৯. Natrum Muriaticum (নেট্রাম মিউরিয়াটিকাম)

কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ও শক্ত মল এবং মানসিক চাপের সঙ্গে হজমের অস্বস্তি।

২০. Calcarea Carbonica (ক্যালকেরিয়া কার্বোনিকা)

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, বদহজম এবং খাবারের পর পেট ভারী হওয়ার বর্ণনা।

২১. China Arsenicosa (চায়না আর্সেনিকোসা)

পেটের অস্বস্তির সঙ্গে ডায়রিয়া ও দুর্বলতার ঐতিহ্যগত বর্ণনা। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।

২২. Arsenicum Album (আর্সেনিকাম অ্যালবাম)

পেটের অস্বস্তির সঙ্গে অস্থিরতা, ঘন ঘন অল্প পরিমাণে পাতলা পায়খানা এবং পেটের সমস্যার সঙ্গে জ্বালাপোড়া ও দুর্বলতার বর্ণনা।

২৩. Ipecacuanha (ইপিকাকুয়ানহা)

পেটের সমস্যার সঙ্গে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং বমির প্রবণতার ঐতিহ্যগত বর্ণনা।

২৪. Antimonium Crudum (অ্যান্টিমোনিয়াম ক্রুডাম)

অতিরিক্ত খাবারের পর বদহজম, জিহ্বায় সাদা আবরণ এবং খাবারের অনিয়মের সঙ্গে পেটের সমস্যার বর্ণনা।

২৫. Calcarea Phosphorica (ক্যালকেরিয়া ফসফোরিকা)

দীর্ঘস্থায়ী হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা ও মলত্যাগের অনিয়মের কিছু ঐতিহ্যগত বর্ণনা। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।

২৬. Sepia (সেপিয়া)

কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগে অসুবিধা, পেটের নিচের দিকে চাপ বা ভারী অনুভূতি এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণের সঙ্গে হজমের অস্বস্তি।

২৭. Mercurius Solubilis (মারকিউরিয়াস সলিউবিলিস)

বারবার মলত্যাগের তাগিদ, মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা এবং মলত্যাগের পরও তাগিদ থেকে যাওয়ার ঐতিহ্যগত বর্ণনা।

২৮. Natrum Sulphuricum (নেট্রাম সালফিউরিকাম)

পাতলা পায়খানার প্রবণতা, পেটের অস্বস্তির সঙ্গে মলত্যাগের পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট খাদ্য বা শারীরিক পরিস্থিতির সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক।

২৯. Phosphorus (ফসফরাস)

পেটের অস্বস্তির সঙ্গে পাতলা পায়খানা, খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণের সমন্বয়।

৩০. Ignatia Amara (ইগনেশিয়া অ্যামারা)

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা আবেগজনিত পরিস্থিতির পর পেটের অস্বস্তি দেখা দেওয়ার ঐতিহ্যগত বর্ণনা। মানসিক ও শারীরিক লক্ষণের সমন্বয় বিবেচনা করা হয়।

ঔষধ নির্বাচনের মূলনীতি

আইবিএসের ক্ষেত্রে শুধু রোগের নাম দেখে কোনো ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি মূল্যায়ন করা হয়। পেটব্যথার ধরন, মলত্যাগের প্রকৃতি, খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক, গ্যাস ও পেট ফাঁপার ধরন, মানসিক অবস্থা, উপসর্গের সময়, কোন কারণে বৃদ্ধি বা উপশম হয় এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

একই রোগের দুইজন রোগীর উপসর্গ আলাদা হতে পারে। তাই একই রোগের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ঔষধ প্রযোজ্য—এমন ধারণা গ্রহণ করা উচিত নয়।

Boger Repertory-তে আইবিএসের প্রাসঙ্গিক বিষয়

রোগীর লক্ষণ বিশ্লেষণে Repertory ব্যবহার করতে হলে প্রথমে সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নির্ধারণ করতে হয়। আইবিএসের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়ভিত্তিক রুব্রিকগুলো অনুসন্ধানের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

Abdomen, Pain, Colic — পেটে মোচড়ানো ব্যথা।

Abdomen, Distension — পেট ফাঁপা।

Rectum, Urging to stool — মলত্যাগের তাগিদ।

Stool, Diarrhoea — পাতলা পায়খানা।

Stool, Constipation — কোষ্ঠকাঠিন্য।

Stool, Mucus — মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা।

Stomach, Flatulence — গ্যাসের অস্বস্তি।

Mind, Anxiety — উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণ।

Stomach, Nausea — বমি বমি ভাব।

Abdomen, Pain, Pressure amel. — চাপ দিলে ব্যথা কমার লক্ষণ।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন Repertory ও সংস্করণে রুব্রিকের সঠিক নাম, বিন্যাস এবং ঔষধের গ্রেড ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সংস্করণ দেখে রুব্রিক যাচাই করা প্রয়োজন।

Repertory-তে কোনো ঔষধের নাম থাকা মানেই সেটি আইবিএসের চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। Repertory ঐতিহ্যগত হোমিওপ্যাথিক লক্ষণ-সূচি; এটি কোনো ঔষধের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতার প্রমাণ নয়।

আইবিএস রোগীর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন

১. নিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ করুন।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৩. কোন খাবারে উপসর্গ বাড়ে তা লিখে রাখুন।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে প্রয়োজনে ধীরে ধীরে দ্রবণীয় আঁশ বাড়ান।

৫. অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চর্বিযুক্ত খাবার ও ঝাল খাবারে সমস্যা বাড়লে সেগুলো কমিয়ে দিন।

৬. দুধ, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল অথবা কিছু ফল খেলে সমস্যা বাড়ে কি না পর্যবেক্ষণ করুন।

৭. প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে স্বল্প সময়ের জন্য Low-FODMAP খাদ্যপদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

৮. নিয়মিত হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম করুন।

৯. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

১০. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে শিথিলায়ন অনুশীলন বা প্রয়োজন অনুযায়ী মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা গ্রহণ করুন।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে হবে

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে শুধু আইবিএস ভেবে বসে থাকা উচিত নয়।

পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া।

জ্বর বা রক্তস্বল্পতা।

রাতে ঘুম ভেঙে বারবার ডায়রিয়া হওয়া।

তীব্র বা ক্রমাগত পেটব্যথা।

পেটে অস্বাভাবিক গাঁট অনুভব করা।

পরিবারে অন্ত্রের ক্যানসার বা প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগের উল্লেখযোগ্য ইতিহাস থাকা।

এ ধরনের কোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপসংহার

আইবিএস একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অস্বস্তিকর অন্ত্রের সমস্যা। সঠিক রোগ নির্ণয়, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, নিয়মিত জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক রোগীর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

হোমিওপ্যাথিক Materia Medica ও Repertory-তে বিভিন্ন ঔষধের লক্ষণভিত্তিক বর্ণনা রয়েছে। তবে আইবিএসের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই হোমিওপ্যাথিক ঔষধকে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চলমান চিকিৎসা বন্ধ করাও উচিত নয়।

সতর্কতা

আইবিএসের মতো উপসর্গ অন্যান্য অন্ত্রের রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র উপসর্গ থাকলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে পায়খানায় রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, রক্তস্বল্পতা, রাতে ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

লেখক পরিচিতি
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার

সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল: 01716651488