হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala 

করোনা ভাইরাস বা COVID-19: লক্ষণসমষ্টি, রোগ নির্ণয়, সতর্কতা ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঔষধ নির্বাচন

ভূমিকা

করোনাভাইরাস একটি বৃহৎ ভাইরাসগোষ্ঠী। মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। COVID-19 হলো SARS-CoV-2 নামের একটি করোনাভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ।

COVID-19-এর লক্ষণ ব্যক্তি ও ভাইরাসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রোগটি হালকা থাকে এবং বাড়িতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত ভাইরাসের ক্ষেত্রে জ্বর, কাঁপুনি ও গলাব্যথা সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে। কাশি, ক্লান্তি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং স্বাদ বা গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়াও হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন COVID-19 হতে পারে?

নিচের এক বা একাধিক লক্ষণ থাকলে COVID-19-এর কথা বিবেচনা করা যায়:

জ্বর বা কাঁপুনি

গলাব্যথা বা গলা খুসখুস করা

শুকনা বা অন্যান্য ধরনের কাশি

নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা

মাথাব্যথা

শরীর ও পেশিতে ব্যথা

অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি

স্বাদ বা গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া বা চলে যাওয়া

বমি বমি ভাব বা বমি

ডায়রিয়া

শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

তবে শুধু লক্ষণ দেখে COVID-19 নিশ্চিত করা যায় না। একই ধরনের লক্ষণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও হতে পারে।

ভাইরাস কী?

ভাইরাস হলো অতি ক্ষুদ্র সংক্রামক জৈব সত্তা, যা নিজে নিজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। উপযুক্ত জীবন্ত কোষে প্রবেশ করার পর সেই কোষের জৈবিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে নিজের অনুলিপি তৈরি করে।

ভাইরাসের জিনগত উপাদান DNA অথবা RNA হতে পারে। এর চারদিকে প্রোটিনের আবরণ থাকে। কিছু ভাইরাসের বাইরে অতিরিক্ত আবরণ বা এনভেলপও থাকে।

মানুষ, প্রাণী, পাখি, উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন অণুজীবের রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন অসংখ্য ভাইরাস রয়েছে।

করোনাভাইরাস কী?

করোনাভাইরাস হলো এমন একদল RNA ভাইরাস, যেগুলো মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এদের পৃষ্ঠের স্পাইক প্রোটিনগুলো মুকুটের মতো দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্য থেকেই করোনাভাইরাস নামটি এসেছে।

মানুষের মধ্যে কিছু করোনাভাইরাস সাধারণ সর্দি-কাশির মতো অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। আবার SARS-CoV, MERS-CoV এবং SARS-CoV-2-এর মতো কিছু করোনাভাইরাস গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

SARS-CoV, MERS-CoV এবং SARS-CoV-2 এক নয়

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।

SARS-CoV হলো ২০০২–২০০৩ সালের SARS রোগের জন্য দায়ী করোনাভাইরাস।

MERS-CoV হলো Middle East Respiratory Syndrome-এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাস।

SARS-CoV-2 হলো COVID-19 রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস।

অতএব COVID-19-কে সরাসরি “SARS ভাইরাস” বলা সঠিক নয়। COVID-19-এর রোগজীবাণুর নাম SARS-CoV-2।

COVID-19 কীভাবে ছড়ায়?

SARS-CoV-2 মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া সংক্রামক কণার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বললে, কাশি দিলে, হাঁচি দিলে বা শ্বাস ছাড়লে এসব কণা বাতাসে ছড়াতে পারে। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং বদ্ধ বা অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলযুক্ত স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

রোগ নির্ণয়

COVID-19 নিশ্চিত করার জন্য ভাইরাস শনাক্তকারী পরীক্ষা করা হয়।

PCR বা অন্যান্য NAAT পরীক্ষা বর্তমানে COVID-19 শনাক্ত করার নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অ্যান্টিজেন পরীক্ষাও ব্যবহার করা হয়। উপসর্গ থাকা অবস্থায় একটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষা নেগেটিভ হলেও সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে বাদ যায় না; প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?

COVID-19-এর অধিকাংশ রোগী গুরুতর অবস্থায় যান না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে:

তীব্র শ্বাসকষ্ট

বুকে স্থায়ী ব্যথা বা চাপ

অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি

জাগিয়ে রাখা বা জেগে থাকা কঠিন হওয়া

ঠোঁট, নখ বা ত্বক ফ্যাকাশে, ধূসর বা নীলচে হয়ে যাওয়া

এগুলো গুরুতর অসুস্থতার সতর্কসংকেত।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই কিছু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের গুরুতর COVID-19 হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই এ ধরনের ব্যক্তির COVID-19-এর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

COVID-19 হলে প্রাথমিক পরিচর্যা

হালকা অসুস্থতায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার এবং লক্ষণ পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে অসুস্থ অবস্থায় যতটা সম্ভব অন্যদের থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার, কাশি ও হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত।

যাদের গুরুতর রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে COVID-19-এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা শুরু করার সময় গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান চিকিৎসা নির্দেশনায় ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং তা সাধারণত উপসর্গ শুরুর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে শুরু করতে হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় লক্ষণসমষ্টির গুরুত্ব

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগের নামের পাশাপাশি রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, রোগের শুরু, কারণ, বৃদ্ধি-উপশম, তাপমাত্রার সহনশীলতা, পিপাসা, নিঃসরণ, মানসিক লক্ষণ এবং অন্যান্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়।

অতএব “COVID-19-এর একটি নির্দিষ্ট ওষুধ” নির্বাচন না করে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণসমষ্টি মূল্যায়ন করে ঔষধ নির্বাচন করা হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ COVID-19 প্রতিরোধ বা নিরাময়ের জন্য কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেনি। তাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করলেও পরীক্ষা, রোগের পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা বাদ দেওয়া উচিত নয়।

COVID-19-সদৃশ শ্বাসতন্ত্রের লক্ষণে হোমিওপ্যাথিক Materia Medica Study

নিচের ঔষধগুলো COVID-19-এর প্রমাণিত প্রতিষেধক বা নিরাময়কারী ওষুধ হিসেবে নয়; বরং জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, দুর্বলতা, শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-র লক্ষণভিত্তিক অধ্যয়নের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

১. Camphora

ঠাণ্ডা লাগার পর আকস্মিকভাবে অসুস্থতা শুরু হওয়া, শরীরের তাপ কমে যাওয়ার অনুভূতি, নাক বন্ধ ও শুষ্কতা, ঠাণ্ডা অনুভূতি এবং গলাব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে Camphora-এর Materia Medica লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: আকস্মিক ঠাণ্ডা, শরীরের তাপের অস্বাভাবিক অনুভূতি ও শুষ্কতা।

২. Arsenicum album

অত্যন্ত শীতকাতরতা, অস্থিরতা, মৃত্যুভয়, ঘন ঘন অল্প অল্প পানি পান, নাক ও গলায় জ্বালা এবং উষ্ণতায় আরাম—এসব বৈশিষ্ট্য Arsenicum album-এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

মূল ভাব: শীতকাতরতা, অস্থিরতা, জ্বালা, অল্প অল্প করে বারবার পানি পান।

Arsenicum album-কে COVID-19-এর প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই এটিকে প্রতিরোধক ওষুধ হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।

৩. Allium cepa

বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে প্রচুর পানির মতো স্রাব, নাকের স্রাবের কারণে নাক ও ওপরের ঠোঁটে জ্বালা বা ক্ষতভাব, চোখ দিয়ে প্রচুর পানি পড়া এবং খোলা বাতাসে আরাম—এসব লক্ষণ থাকলে Allium cepa বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: নাকের ক্ষতকারক স্রাব, চোখের অক্ষতকারক পানি এবং ঘন ঘন হাঁচি।

৪. Belladonna

হঠাৎ তীব্রভাবে জ্বর শুরু হওয়া, মুখ ও মাথা লাল ও উত্তপ্ত, চোখ লাল, মাথায় দপদপে ব্যথা, গলা শুষ্ক ও লাল, শুষ্ক কাশি এবং আকস্মিক তীব্রতার লক্ষণ থাকলে Belladonna-এর Materia Medica লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: আকস্মিকতা, তীব্রতা, উত্তাপ ও দপদপে ব্যথা।

৫. Bryonia alba

শুষ্ক কাশি, নড়াচড়ায় কাশি বা ব্যথা বৃদ্ধি, গভীর শ্বাসে অস্বস্তি, বুকের ব্যথা, অতিরিক্ত পিপাসা এবং চুপচাপ স্থির হয়ে থাকতে চাওয়া—এসব লক্ষণ Bryonia-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

মূল ভাব: শুষ্কতা, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, প্রচণ্ড পিপাসা এবং স্থির থাকতে চাওয়া।

৬. Nux vomica

ঠাণ্ডা বাতাসে অসুস্থতা বৃদ্ধি, অত্যন্ত শীতকাতরতা, নাক বন্ধ, বারবার হাঁচি, গলা ব্যথা এবং খিটখিটে মেজাজ—এসব লক্ষণ Nux vomica-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

মূল ভাব: শীতকাতরতা, অতিসংবেদনশীলতা, নাক বন্ধ এবং খিটখিটে স্বভাব।

৭. Mercurius solubilis

গলাব্যথা, মুখে দুর্গন্ধ, অতিরিক্ত লালা, জিহ্বায় দাঁতের ছাপ, নাকের স্রাবের পরিবর্তন, ঘাম হলেও উপশম না হওয়া এবং রাতের দিকে উপসর্গ বৃদ্ধি—এসব লক্ষণ থাকলে Mercurius solubilis বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: মুখের দুর্গন্ধ, লালা, ঘামেও উপশম না হওয়া এবং রাতের বৃদ্ধি।

৮. Gelsemium

অত্যন্ত দুর্বলতা, শরীর ভারী লাগা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, চোখ ভারী হয়ে আসা এবং তুলনামূলক কম পিপাসা—এসব লক্ষণ Gelsemium-এর পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

মূল ভাব: দুর্বলতা, ভারীভাব, কাঁপুনি ও কম পিপাসা।

৯. Rhus toxicodendron

ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া বা ভেজা অবস্থার পর অসুস্থতা শুরু হওয়া, শরীরব্যথা এবং অস্থিরতার সঙ্গে নড়াচড়ার প্রয়োজন অনুভূত হওয়া—এসব লক্ষণ থাকলে Rhus toxicodendron-এর লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: ঠাণ্ডা-স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের পর অসুস্থতা ও শরীরব্যথা।

১০. Dulcamara

ঠাণ্ডা লাগলে নাক বন্ধ হওয়া, গলা ও স্বরযন্ত্রের সমস্যা, ঠাণ্ডায় উপসর্গ বৃদ্ধি এবং উষ্ণতায় উপশম—এসব লক্ষণ Dulcamara-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

মূল ভাব: ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার প্রভাবে উপসর্গ বৃদ্ধি।

১১. Hepar sulphuris

ঠাণ্ডা বাতাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীলতা, নাক দিয়ে স্রাব, গলাব্যথা, কাশি, স্পর্শে অতিসংবেদনশীলতা এবং উষ্ণতায় আরাম—এসব লক্ষণ Hepar sulphuris-এর ক্ষেত্রে বিবেচ্য।

মূল ভাব: ঠাণ্ডা বাতাস অসহ্য, অতিসংবেদনশীলতা ও উষ্ণতায় আরাম।

১২. Phosphorus

নাক বন্ধ ও সর্দিস্রাব পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হওয়া, গলা ও বুকের সমস্যা, শুষ্ক কাশি, বুকের চাপবোধ, ঠাণ্ডা পানির প্রতি প্রবল পিপাসা এবং সহজে রক্তপাতের প্রবণতা—এসব লক্ষণ থাকলে Phosphorus বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: বুক ও স্বরযন্ত্রের উপসর্গ, পরিবর্তনশীল নাকের সমস্যা এবং ঠাণ্ডা পানির পিপাসা।

১৩. Pulsatilla

ঘন হলুদ সর্দি, পিপাসা কম বা অনুপস্থিত, রাতে নাক বন্ধ, খোলা বাতাসে আরাম, ঘরে উপসর্গ বৃদ্ধি এবং কোমল বা সান্ত্বনাপ্রার্থী স্বভাব—এসব লক্ষণ Pulsatilla-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

মূল ভাব: ঘন সর্দি, পিপাসাহীনতা এবং খোলা বাতাসে উপশম।

১৪. Sulphur

দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা সর্দি-কাশি, নাকের প্রদাহ, ঘন স্রাব, চুলকানি এবং পুরোনো উপসর্গের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে Sulphur-এর Materia Medica লক্ষণ বিবেচনা করা হয়।

মূল ভাব: দীর্ঘস্থায়িত্ব, পুনরাবৃত্তি ও নাকের প্রদাহ।

Repertory Study

COVID-19-এর মতো একটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে শুধু রোগের নাম ধরে একটি ওষুধ নির্ধারণ না করে রোগীর পৃথক লক্ষণগুলো repertory-তে খুঁজে দেখা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়:

Fever

Chill

Cough

Dry cough

Throat pain

Nose obstruction

Coryza

Loss of smell

Loss of taste

Weakness

Thirst

Anxiety

Restlessness

Breathing difficulty

Chest pain

Aggravation from cold air

Aggravation at night

Amelioration from warmth

তবে repertory-র rubric নির্বাচন করার সময় নির্দিষ্ট repertory-র ভাষা, সংস্করণ এবং rubric-এর প্রকৃত অর্থ যাচাই করা জরুরি। রোগের নামের সঙ্গে মিল থাকা মাত্র কোনো ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসচেতনতা

COVID-19 প্রতিরোধের জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার, গরম পানি, চা, ভাপ, লেবু, রসুন বা কোনো নির্দিষ্ট pH-এর খাবার ভাইরাসকে শরীরের ভেতরে ধ্বংস করে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

বিশেষ করে “করোনাভাইরাসের pH ৫.৫ থেকে ৮.৫, তাই তার চেয়ে বেশি pH-এর খাবার খেলে ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন ভেঙে যায়”—এই ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

একইভাবে, দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার গরম পানির ভাপ, গরম পানিতে গড়গড়া বা গরম চা পান করলেই কয়েক দিনের মধ্যে COVID-19 নেগেটিভ হয়ে যায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই।

গরম পানির ভাপ অতিরিক্ত গরম হলে ত্বক ও শ্বাসনালিতে পোড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পুষ্টি ও জীবনযাপন

পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।

ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, ডালসহ সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

শুধু COVID-19 সারানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণ করবেন না।

রোদে থাকা সাধারণ স্বাস্থ্য ও ভিটামিন ডি-এর জন্য উপকারী হতে পারে, কিন্তু রোদ পোহানোকে COVID-19-এর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

প্রতিরোধে করণীয়

অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

উপসর্গ থাকলে অন্যদের থেকে দূরে থাকুন।

প্রয়োজনে ভালোভাবে বসানো মাস্ক ব্যবহার করুন।

বদ্ধ ও অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলযুক্ত স্থানে সতর্ক থাকুন।

ঘরের জানালা-দরজা খুলে নিরাপদভাবে বায়ু চলাচল বাড়ান।

কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন।

নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখুন।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করুন।

শেষ কথা

COVID-19 একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এর লক্ষণ ব্যক্তি ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু কয়েকটি লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে COVID-19 বলা যায় না; প্রয়োজন হলে উপযুক্ত পরীক্ষা করা জরুরি।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণসমষ্টি, রোগের কারণ, বৃদ্ধি-উপশম এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। তবে কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে COVID-19-এর প্রমাণিত প্রতিষেধক বা নিরাময়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, রোগের পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে গুরুতর রোগের ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।

শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা চাপ, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, জাগতে না পারা কিংবা ঠোঁট বা ত্বক নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

নিজে নিজে কোনো ওষুধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বিবেচনা করে দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে, বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫১৪৮৮