বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

যক্ষ্মা জীবাণুর নোসোড ঔষধ প্রস্তুত প্রসঙ্গ।

হোমিওপ্যাথি মেটেরিয়া মেডিকায় উল্লেখিত যক্ষা রোগের জীবাণু হতে প্রস্তুত কিছু ঔষধের প্রস্তত প্রণালি, প্রস্তুত কারক/আবিস্কারক ও কি ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
(১) ব্যাসিলিনাম বার্নেট,যদিও এ ঔষধটি কে ব্যাসিলিনাম বার্নেট বলা হয়,মানে ডাঃ বার্নেট তৈরি করেছিলেন বলে বলা হয়।
আসলে কিন্তু তা নয়।
এটি প্রথম হোমিওপ্যাথি ফার্মাকোপিয়া অনূযায়ী শক্তিকৃত এবং প্রুভিং করেন ডাঃ সোয়ান।
তবে এর অন্যতম প্রুভার এবং ব্যাবহারকারি ছিলেন ডাঃ বার্নেট।
ডাঃ বার্নেট এর মাধ্যমেই এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটে।
তাই অনেকেই এটাকে ডাঃ বার্নেট এর আবিস্কার মনে করে এর সঙ্গে বার্নেট যুক্ত করে,ব্যাসিলিনাম বার্নেট নামে ডেকে থাকেন।
ব্যাসিলিনাম তৈরি পদ্ধতি : ফুসফুসে যক্ষাক্রান্ত রোগীর সেই রোগাক্রান্ত ফুসফুস ম্যাসেরেট করে তৈরি করা হয়,মানে পানির সাথে মিশিয়ে তৈরি করা হয়।
যে মানব ফুসফুস এর মধ্যে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে টিউবারকল ব্যাসিলি যেটা যক্ষার জীবাণু, সেটা পাওয়া যাবে, শুধুমাত্র সে ফুসফুস হতেই এ ঔষধটি তৈরি করা হবে, অন্য ফুসফুস হতে নয়।
ডাঃ বার্নেট নিজে যে ঔষধটি আবিষ্কার করেন,সেটি হলো ব্যাসিলিনাম টেষ্টিনাম,যেটি (২) যক্ষাক্রান্ত অন্ডকোশ হতে প্রস্তুত করেন,তার নাম হলো ব্যাসিলিনাম টেষ্টিনাম।
এটি আংশিক প্রুভিংকৃত, এবং তেমন ব্যাবহার হয় না।
(৩) শুধু টিউবারকুলিনাম : এটিও তৈরি করেছিলেন ডাঃ সোয়ান।
এটি যক্ষা রোগীর ফুসফুস এর পুজ হতে তৈরি করা হয়।
(৪) টিউবারকুলিনাম বোভিনাম : এটি তৈরি করেছিলেন মহামতি ডাঃ কেন্ট।
ডাঃ কেন্ট যক্ষাগ্ৰস্থ গরুর গ্ল্যান্ড হতে এটি তৈরি করেছিলেন।
তিনি এটি ব্যাপকভাবে ব্যাবহার করতেন।
(৫) টিউবার কুলিনাম কচ : ফ্রান্সের ডাঃ কচ সর্ব প্রথম যক্ষা রোগের জীবাণু আবিস্কার করেন বা শনাক্ত করেন।
বিশুদ্ধ যক্ষার জীবাণু হতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।
(৬) এভেরি : যক্ষা রোগের জীবাণু পাখির শরীরে প্রবেশ করিয়ে, অথবা যক্ষাক্রান্ত পাখি হতে এ ঔষধটি প্রস্তত করা হয়েছে,কে করেছেন জানতে পারি নি, এবং এর ব্যবহার নেই বললেই চলে।
কমবেশি উপরোল্লেখিত ঔষধ সবগুলোই লক্ষনানুযায়ী কার্যকরি।
তবে ব্যাসিলিনাম এবং বোভিনাম বেশি ব্যবহৃত হয়।
লেখক :
ডাঃ মহিব্বুর রহমান।
সংকলিত।
ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন