হোমিওপ্যাথি পাঠশালা- Homeopathy Pathshala

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Allergic Rhinitis treatment on Homoeopathy 

ভূমিকা

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (Allergic Rhinitis) নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লির একটি অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ। পরিবেশের নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা, নাক ও তালুতে চুলকানি এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে সমস্যাটি নির্দিষ্ট ঋতুতে দেখা যায়, আবার অনেকের ক্ষেত্রে সারা বছর ধরে চলতে থাকে। দীর্ঘদিনের অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ঘুম, কর্মক্ষমতা, পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, রোগের কারণ, লক্ষণের প্রকৃতি, Modalities এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ বিশ্লেষণ করে ঔষধ নির্বাচনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

রোগের প্রকারভেদ

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস প্রধানত তিনভাবে দেখা যায়।

Intermittent Allergic Rhinitis

মাঝেমধ্যে অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে হাঁচি, সর্দি ও নাকের চুলকানি বৃদ্ধি পায়।

Persistent Allergic Rhinitis

দীর্ঘ সময় ধরে নাক বন্ধ, হাঁচি, চুলকানি ও নাসিকাস্রাবের সমস্যা চলতে থাকে।

Seasonal Allergic Rhinitis

নির্দিষ্ট ঋতুতে, বিশেষ করে ফুলের পরাগরেণু ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সময় সমস্যা বৃদ্ধি পায়। একে সাধারণভাবে Hay Fever বলা হয়।

রোগের কারণ ও উদ্দীপক

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উল্লেখযোগ্য কারণ ও উদ্দীপক হলো ধুলাবালি, ফুলের পরাগরেণু, ছত্রাকের স্পোর, পশুপাখির ত্বকের ক্ষুদ্র কণা, ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, তীব্র সুগন্ধি, পারফিউম, ঠান্ডা বাতাস এবং আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন।

পারিবারিক অ্যালার্জির ইতিহাস এবং অ্যাজমা বা একজিমার মতো অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গ

1. বারবার হাঁচি, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর।

2\. নাক দিয়ে পাতলা পানির মতো স্রাব।

3. নাকের ভেতরে চুলকানি।

4. নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।

5. চোখ দিয়ে পানি পড়া।

6. চোখ লাল হওয়া ও চুলকানি।

7\. তালু ও গলায় চুলকানি।

8. গলার পেছনে শ্লেষ্মা নামা।

9. বারবার গলা পরিষ্কার করার প্রবণতা।

10. ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া।

11. মাথায় ভারী অনুভূতি।

12. রাতে নাক বন্ধ থাকার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত।

13. দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি।

রোগ নির্ণয় ও ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসককে জানতে হবে কখন হাঁচি ও সর্দি বেশি হয়, সকালে নাকি রাতে সমস্যা বৃদ্ধি পায়, ঠান্ডা বাতাসে নাকি গরম ঘরে অস্বস্তি বাড়ে, নাকের স্রাব ক্ষয়কারী নাকি মৃদু, চোখের পানি কেমন, নাক ও তালুতে কোথায় চুলকানি বেশি এবং নির্দিষ্ট ঋতু বা পরিবেশে সমস্যা বৃদ্ধি পায় কি না।

প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালার্জি পরীক্ষা, নাকের পরীক্ষা এবং অ্যাজমা নির্ণয়ের জন্য শ্বাসতন্ত্রের পরীক্ষা করা যেতে পারে।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন

Allium Cepa

Allium Cepa-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রচুর পরিমাণে পানির মতো নাসিকাস্রাব, যা ঝাঁঝালো ও ক্ষয়কারী। নাকের চারপাশ এবং উপরের ঠোঁটের ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে।

নির্বাচন লক্ষণ

নাক দিয়ে কলের পানির মতো স্রাব পড়ে। নাক ও উপরের ঠোঁট ছিলে যায়। চোখ দিয়ে পানি পড়লেও তা তুলনামূলকভাবে মৃদু। বিকেল ও সন্ধ্যায় হাঁচি এবং সর্দি বৃদ্ধি পায়। গরম ঘরে সমস্যা বাড়ে এবং খোলা ঠান্ডা বাতাসে আরাম অনুভূত হয়।

বিশেষ পরিচয় হলো নাকের স্রাব ক্ষয়কারী, কিন্তু চোখের পানি মৃদু।

Euphrasia

Euphrasia-এর প্রধান পরিচয় চোখের তীব্র প্রদাহজনিত লক্ষণ। চোখ লাল হয়, জ্বালা করে, পানি পড়ে এবং আলোর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।

নির্বাচন লক্ষণ

চোখ দিয়ে প্রচুর ঝাঁঝালো ও ক্ষয়কারী পানি পড়ে। চোখের পাতা লাল ও প্রদাহযুক্ত থাকে। চোখে জ্বালা, চুলকানি ও আলোকভীতি দেখা যায়। নাক দিয়ে পানি পড়লেও তা তুলনামূলকভাবে মৃদু। দিনের বেলায় কাশি বৃদ্ধি এবং রাতে বিছানায় শুলে কাশি কমার বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে।

বিশেষ পরিচয় হলো চোখের পানি ক্ষয়কারী, কিন্তু নাকের পানি মৃদু।

Sabadilla

Sabadilla বিশেষভাবে পরিচিত পুনঃপুন হাঁচি, নাকের চুলকানি এবং Hay Fever-এর লক্ষণের জন্য।

নির্বাচন লক্ষণ

একবার হাঁচি শুরু হলে পরপর অনেকগুলো হাঁচি হয়। নাকের ভেতরে চুলকানি ও শিরশির ভাব থাকে। ঠান্ডা বাতাসে সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তীব্র সুগন্ধি, পারফিউম ও বিভিন্ন গন্ধে হাঁচি শুরু হতে পারে। রোগী শীতকাতর থাকে এবং গরম পানীয়তে আরাম অনুভব করে। গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতির কারণে বারবার ঢোক গিলতে হয়।

বিশেষ পরিচয় হলো একটানা হাঁচির দমক, শীতকাতরতা ও গন্ধের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা।

Arum Triphyllum

Arum Triphyllum-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য নাক ও মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে তীব্র জ্বালা এবং রোগীর বারবার নাক ও ঠোঁট খোঁটার প্রবণতা।

নির্বাচন লক্ষণ

নাক দিয়ে ঝাঁঝালো ও ক্ষয়কারী স্রাব পড়ে। নাকের ভেতরে তীব্র জ্বালাপোড়া থাকে। রোগী বারবার নাক খোঁটে। ঠোঁটের চামড়া তুলে ফেলে এবং ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয়। মুখে ঘা, জিহ্বায় ফাটল, মুখে দুর্গন্ধ এবং তীব্র স্বরভঙ্গ থাকতে পারে।

বিশেষ পরিচয় হলো নাক খোঁটা, ঠোঁটের চামড়া তুলে রক্ত বের করা এবং স্বরভঙ্গ।

Arundo

Arundo-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য নাকের ছিদ্রের ভেতরে এবং তালুতে বিরক্তিকর চুলকানি।

নির্বাচন লক্ষণ

নাকের ছিদ্রের ভেতরে তীব্র চুলকানি থাকে। তালুতে চুলকানি ও অস্বস্তি দেখা যায়। নাকের গোড়ায় বা দুই চোখের মধ্যবর্তী স্থানে ব্যথা হতে পারে। সর্দির সঙ্গে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং নাকের ভেতরে শ্লেষ্মার দলা জমার প্রবণতা বর্ণিত হয়েছে।

বিশেষ পরিচয় হলো নাক ও তালুর চুলকানির সঙ্গে নাকের গোড়ায় ব্যথা।

Wyethia

Wyethia-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তালু ও গলার গভীরে অসহ্য চুলকানি।

নির্বাচন লক্ষণ

তালুতে তীব্র চুলকানি হয়। গলার গভীরে শুষ্কতা ও চুলকানি অনুভূত হয়। চুলকানি কানের ভেতর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগী চুলকানি কমানোর জন্য জিহ্বা দিয়ে তালুতে বারবার ঘষে। গলা পরিষ্কার করার জন্য অবিরাম গলা খাঁকারি দেয়।

বিশেষ পরিচয় হলো তালুতে জিহ্বা দিয়ে ঘষার প্রবণতা এবং বারবার গলা পরিষ্কার করা।

Sinapis Nigra

Sinapis Nigra-এর অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নাক দিয়ে পানি পড়া এবং নাক বন্ধ হওয়ার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন।

নির্বাচন লক্ষণ

কখনো নাক দিয়ে পানি পড়ে, আবার কিছু সময় পর নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাকের ভেতরে শুষ্ক, গরম ও জ্বালাপোড়ার অনুভূতি থাকে। নাকের ডগা লাল ও গরম হতে পারে। একপাশের নাক ও চোখে লক্ষণ প্রাধান্য পেতে পারে। রাতে হাঁচি বৃদ্ধি এবং নাকের স্রাব গলার পেছন দিয়ে নামার প্রবণতা থাকতে পারে।

বিশেষ পরিচয় হলো পর্যায়ক্রমিক কোরাইজা, নাকের শুষ্কতা ও গরম অনুভূতি।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

Arsenicum Album

পাতলা, ঝাঁঝালো ও ক্ষয়কারী নাসিকাস্রাব, নাকের ভেতরে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন হাঁচি, শীতকাতরতা, অস্থিরতা ও উদ্বেগ এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।

Nux Vomica

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একটানা হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা বাতাসে সংবেদনশীলতা ও বিরক্তিপ্রবণতা এর বিশেষ লক্ষণ।

Natrum Muriaticum

পাতলা পানির মতো নাসিকাস্রাব, ঘন ঘন হাঁচি, নাকের ভেতরে শুষ্কতা, ঠোঁট শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে সর্দি বৃদ্ধি এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।

Pulsatilla

নাক বন্ধ থাকার প্রবণতা, ঘন হলুদ বা হলুদাভ-সবুজ স্রাব, গরম ঘরে সমস্যা বৃদ্ধি এবং খোলা বাতাসে আরাম এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

Kali Bichromicum

ঘন, আঠালো ও সুতো টানার মতো শ্লেষ্মা, নাক ও সাইনাসে চাপবোধ, নাকের পেছনে শ্লেষ্মা জমা এবং সাইনাস অঞ্চলে ব্যথা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

Hydrastis Canadensis

ঘন ও আঠালো নাসিকাস্রাব, নাকের পেছনে শ্লেষ্মা জমা, Post-nasal Drip এবং বারবার গলা পরিষ্কার করার প্রবণতা এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।

Kali Iodatum

প্রচুর পানির মতো নাসিকাস্রাব, নাকের ভেতরে জ্বালা এবং সাইনাস অঞ্চলে ব্যথা এর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

Mercurius Solubilis

নাক দিয়ে স্রাব ও নাক বন্ধ হওয়া, মুখে দুর্গন্ধ, অতিরিক্ত লালা, জিহ্বায় আবরণ এবং রাতের দিকে অস্বস্তি বৃদ্ধি এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

Phosphorus

নাক ও শ্বাসনালির অতিসংবেদনশীলতা, ঠান্ডা বাতাসে কাশি, স্বরযন্ত্রে অস্বস্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন লক্ষণ এর বিশেষ নির্দেশক।

Sulphur

নাকের ভেতরে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া, বারবার হাঁচি, ত্বকে চুলকানির সহাবস্থান এবং গরমে অস্বস্তি এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

Psorinum

দীর্ঘস্থায়ী ও পুনঃপুন অ্যালার্জির ইতিহাস, শীতকাতরতা, ঠান্ডা বাতাসে সমস্যা বৃদ্ধি এবং ত্বকের চুলকানির সহাবস্থান এর বিশেষ লক্ষণ।

Dulcamara

ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সমস্যা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর সর্দি এবং নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

Calcarea Carbonica

পুনঃপুন সর্দি, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সংবেদনশীলতা, মাথায় ঘাম এবং শারীরিক পরিশ্রমে ক্লান্তি এর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

Differential Diagnosis বা তুলনামূলক ঔষধ নির্বাচন

Allium Cepa ও Euphrasia

Allium Cepa-তে নাকের স্রাব ক্ষয়কারী, চোখের পানি মৃদু। Euphrasia-তে চোখের পানি ক্ষয়কারী, নাকের স্রাব মৃদু।

Sabadilla ও Nux Vomica

Sabadilla-তে একটানা হাঁচির দমক, তীব্র গন্ধে বৃদ্ধি ও শীতকাতরতা। Nux Vomica-তে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হাঁচি এবং নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

Arundo ও Wyethia

Arundo-তে নাকের ছিদ্রের ভেতরে ও তালুতে চুলকানি। Wyethia-তে তালু ও গলার গভীরে অসহ্য চুলকানি এবং জিহ্বা দিয়ে তালু ঘষার প্রবণতা।

Arum Triphyllum ও Sulphur

Arum Triphyllum-এ ঠোঁটের চামড়া তুলে রক্ত বের করা ও নাক খোঁটার প্রবণতা। Sulphur-এ নাক ও ত্বকের চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া বেশি গুরুত্ব পায়।

Kali Bichromicum ও Hydrastis

Kali Bichromicum-এ ঘন, আঠালো ও সুতো টানার মতো শ্লেষ্মা। Hydrastis-এ ঘন শ্লেষ্মা ও নাকের পেছনে স্রাব জমে থাকার প্রবণতা।

Repertory নির্দেশনা

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে Kent ও Boger Repertory অনুসারে প্রাসঙ্গিক কয়েকটি Rubric হলো

NOSE – CORYZA – allergic

NOSE – CORYZA – fluent

NOSE – CORYZA – acrid

NOSE – CORYZA – bland

NOSE – SNEEZING – frequent

NOSE – SNEEZING – morning

NOSE – OBSTRUCTION

NOSE – ITCHING

EYE – LACHRYMATION – acrid

EYE – LACHRYMATION – bland

THROAT – ITCHING

THROAT – HAWKING

COUGH – DAY

COUGH – NIGHT

রেপার্টরি বিশ্লেষণের পর সংশ্লিষ্ট ঔষধের পূর্ণাঙ্গ Materia Medica যাচাই করতে হবে। বিশেষভাবে রোগের কারণ, Modalities, Concomitants এবং অস্বাভাবিক, বিরল ও বিশেষ লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

একক ঔষধ নির্বাচনের কৌশল

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগের নামের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর পূর্ণাঙ্গ লক্ষণসমষ্টি বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, রোগের কারণ, শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য, লক্ষণের বৃদ্ধি ও উপশমের অবস্থা, সহগামী লক্ষণ এবং Characteristic Symptoms বিবেচনা করতে হবে।

অর্গানন অব মেডিসিনের ১৫৩ নম্বর সূত্রের আলোকে অস্বাভাবিক, বিরল ও বিশেষ লক্ষণগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যপরামর্শ ও জীবনযাপন

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস নিয়ন্ত্রণে ধুলাবালি, ধোঁয়া ও পরিচিত অ্যালার্জেন থেকে দূরে থাকা জরুরি। বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। তীব্র সুগন্ধি ও রাসায়নিক গন্ধ পরিহার করতে হবে। বাইরে থেকে এসে মুখ ও হাত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান পরিহার করা উচিত।

খাদ্য তালিকা ও পথ্য

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তিগত খাদ্যসংবেদনশীলতা বিবেচনা করে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে।

গ্রহণযোগ্য খাদ্য হিসেবে তাজা শাকসবজি, মৌসুমি ফল, মাছ, ডিম, ডাল, পর্যাপ্ত পানি এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।

যেসব খাবারে ব্যক্তিগতভাবে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, সেগুলো পরিহার করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষ সতর্কতা

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সঙ্গে অ্যাজমা বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে। শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, শ্বাসের সঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দ অথবা ঠোঁট ও জিহ্বা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

নাসাল কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অ্যালার্জেন ইমিউনোথেরাপি অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের স্বীকৃত চিকিৎসাপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ করবেন। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ গ্রহণের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ বা বিলম্বিত করা উচিত নয়।

উপসংহার

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের প্রতিটি রোগীর লক্ষণ ও রোগী-প্রতিকৃতি এক নয়। কারও ক্ষেত্রে নাক দিয়ে প্রচুর ক্ষয়কারী স্রাব, কারও ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে পানি পড়া, কারও ক্ষেত্রে একটানা হাঁচি, আবার কারও ক্ষেত্রে তালু ও গলার অসহ্য চুলকানি প্রধান উপসর্গ।

একজন দক্ষ চিকিৎসকের দায়িত্ব হলো রোগীর পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল চিত্র বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা। রোগীর নিরাপত্তা, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাই চিকিৎসার প্রথম দায়িত্ব।

একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছাড়া নিজের চিকিৎসা নিজে করবেন না।

লেখক পরিচিতি
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার DHMS, Government Registered Homeopathic Doctor সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬ ইভা হোমিও হল, এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯, আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে। মোবাইল: 01716651488