হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala
শীতকালে চর্মরোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
রেপার্টরি নির্দেশনা, মেটেরিয়া মেডিকা ও গুরুত্বপূর্ণ ঔষধের নির্বাচন লক্ষণ
ভূমিকা
শীতকালে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়া একটি পরিচিত বিষয়। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিনের একজিমা, শুষ্ক ত্বক, চুলকানি, ফুসকুড়ি, ত্বক ফেটে যাওয়া কিংবা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শীতের সময় রোগের লক্ষণ আরও তীব্র হতে পারে।
শীতের শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হ্রাস, অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ ত্বকের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরিতে শীতকালে ত্বকের উদ্ভেদ বৃদ্ধি, চুলকানি, শুষ্কতা, ফাটল ও প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ঔষধের বর্ণনা রয়েছে। এসব ঔষধের মধ্যে কোনোটির ত্বকীয় লক্ষণ অত্যন্ত বিশেষ, আবার কোনোটির ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য ঔষধ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শীতকালে চর্মরোগের ক্ষেত্রে শুধু একটি সাধারণ লক্ষণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন না করে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
শীতকালে চর্মরোগ বৃদ্ধির রেপার্টরি নির্দেশনা
রেপার্টরি রুব্রিক:
SKIN – ERUPTIONS – WINTER – AGG.
অর্থাৎ শীতকালে ত্বকের উদ্ভেদ বৃদ্ধি পায়।
রেপার্টরি রুব্রিক বিশ্লেষণ করে
সুপার গ্রেড: ২টি
Mercurius Solubilis, Rhus Toxicodendron।
প্রথম গ্রেড: ২টি
Petroleum, Psorinum।
দ্বিতীয় গ্রেড: ৮টি।
তৃতীয় গ্রেড: ৭টি।
নিচে গ্রেড অনুযায়ী এবং পরবর্তী পর্যায়ে অবশিষ্ট ঔষধগুলোর নির্বাচন লক্ষণ আলোচনা করা হলো।
সুপার গ্রেডের ঔষধ
১. Mercurius Solubilis (মার্কিউরিয়াস সলিউবিলিস)
শীতকালে ত্বকের উদ্ভেদ বৃদ্ধির রেপার্টরি লক্ষণে সুপার গ্রেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ত্বকে প্রদাহযুক্ত উদ্ভেদ, চুলকানি, আর্দ্র ক্ষত এবং নিঃসরণ থাকার প্রবণতা দেখা যায়। ক্ষতস্থানে ঘাম, দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।
রোগীর রাতে উপসর্গ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ঘাম এবং গরম-ঠান্ডা উভয়ের প্রতিই সংবেদনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
আর্দ্র ক্ষত, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃসরণ, রাতের বৃদ্ধি এবং ঘামপ্রবণতা।
২. Rhus Toxicodendron (রাস টক্সিকোডেনড্রন)
রেপার্টরিতে সুপার গ্রেডের দ্বিতীয় ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি, ছোট ছোট পানিভরা দানা, তীব্র চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া থাকতে পারে। চুলকানির সঙ্গে অস্থিরতা দেখা যায়।
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় উপসর্গ বৃদ্ধি এবং উষ্ণতায় আরাম পাওয়ার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
পানিভরা ফুসকুড়ি, লালচে উদ্ভেদ, চুলকানি এবং উষ্ণতায় উপশম।
প্রথম গ্রেডের ঔষধ
৩. Petroleum (পেট্রোলিয়াম)
শীতকালে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া এবং রুক্ষ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, মোটা, রুক্ষ ও খসখসে। হাতের আঙুল, আঙুলের ডগা, হাতের তালু এবং পায়ের ত্বকে গভীর ফাটল দেখা দিতে পারে। ফাটল থেকে রক্তপাতও হতে পারে।
শীতকালে ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি, চুলকানি এবং একজিমার প্রবণতা এর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
শুষ্ক ত্বক, গভীর ফাটল, রক্তপাত এবং শীতকালে ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি।
৪. Psorinum (সোরিনাম)
দীর্ঘস্থায়ী ও পুনরাবৃত্ত চর্মরোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, রুক্ষ, মলিন ও অপরিচ্ছন্ন দেখায়। চুলকানি তীব্র হতে পারে। ক্ষত থেকে দুর্গন্ধযুক্ত নিঃসরণ এবং ত্বকে খোসা জমার প্রবণতা দেখা যায়।
রোগী সাধারণত অত্যন্ত শীতকাতর হন। প্রচুর গরম পোশাক পরেও ঠান্ডা অনুভব করতে পারেন। দীর্ঘদিনের চর্মরোগ বারবার ফিরে আসার ইতিহাস থাকতে পারে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
অত্যধিক শীতকাতরতা, রুক্ষ ত্বক, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃসরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ।
অবশিষ্ট ১৫টি ঔষধের নির্বাচন লক্ষণ
৫. Aloe Socotrina (এলো সোকোট্রিনা)
ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভেদের সঙ্গে হজমতন্ত্রের বিশেষ লক্ষণ থাকলে বিবেচ্য। বিশেষ করে পেটের গোলযোগ, মলত্যাগের তাগিদ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসহ রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ মিলিয়ে নির্বাচন করতে হয়।
৬. Alumina (এলুমিনা)
অত্যন্ত শুষ্ক ত্বক, চুলকানি, খসখসে ভাব ও ত্বকে ফাটল দেখা দেওয়ার প্রবণতা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং শুষ্কতার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের বৈশিষ্ট্যও থাকতে পারে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
অতিরিক্ত শুষ্কতা, চুলকানি ও ফাটল।
৭. Arsenicum Album (আর্সেনিকাম অ্যালবাম)
ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, খসখসে ভাব ও চুলকানি থাকলে বিবেচ্য। চুলকানির সঙ্গে জ্বালাপোড়া থাকে এবং গরমে আরাম পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
রোগী সাধারণত শীতকাতর, অস্থির ও উদ্বিগ্ন প্রকৃতির হতে পারেন। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে উপসর্গ বৃদ্ধি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
জ্বালাপোড়া, গরমে উপশম, শীতকাতরতা ও অস্থিরতা।
৮. Calcarea Carbonica (ক্যালকেরিয়া কার্বোনিকা)
শীতকাতর, ঘামপ্রবণ ও সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এমন রোগীর দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগে বিবেচ্য। ত্বকে চুলকানি, উদ্ভেদ ও আর্দ্রতা থাকতে পারে।
মাথার ঘাম, শারীরিক গঠন, খাদ্যরুচি এবং মানসিক বৈশিষ্ট্য ঔষধ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
শীতকাতরতা, ঘামপ্রবণতা ও দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা।
৯. Dulcamara (ডালকামারা)
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার প্রভাবে চর্মরোগ বৃদ্ধি পেলে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ঠান্ডা-ভেজা পরিবেশে থাকার পর ত্বকে উদ্ভেদ, চুলকানি ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে রোগের লক্ষণের সম্পর্ক বিশেষভাবে বিবেচ্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় উপসর্গ বৃদ্ধি।
১০. Hepar Sulphuris (হিপার সালফার)
ত্বকে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, স্পর্শে ব্যথা, প্রদাহ, পুঁজযুক্ত উদ্ভেদ ও ফোঁড়ার প্রবণতা থাকলে বিবেচ্য।
সামান্য ঠান্ডাতেও রোগীর কষ্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। উষ্ণতায় আরাম এবং ক্ষতস্থানে স্পর্শকাতরতা এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
পুঁজযুক্ত ক্ষত, অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা ও শীতকাতরতা।
১১. Kali Bromatum (ক্যালি ব্রোমাটাম)
ব্রণজাতীয় উদ্ভেদ, মুখ, বুক ও পিঠে ফুসকুড়ি এবং ত্বকের বিভিন্ন ধরনের দানার ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
ব্রণজাতীয় উদ্ভেদ ও বিশেষ করে মুখ-বুক-পিঠে ফুসকুড়ি।
১২. Kali Carbonicum (ক্যালি কার্বোনিকাম)
শুষ্ক ত্বক, চুলকানি, ফাটল ও দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যার সঙ্গে শীতকাতরতা, দুর্বলতা এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকলে বিবেচ্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
শীতকাতরতা, শুষ্ক ত্বক ও ফাটল।
১৩. Manganum (ম্যাঙ্গানাম)
ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী উদ্ভেদ, চুলকানি ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে ত্বকের সমস্যার সঙ্গে ঔষধটির অন্যান্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের মিল থাকা জরুরি।
১৪. Mezereum (মেজেরিয়াম)
মাথার ত্বকে মোটা খোসা জমা, খোসার নিচে আঠালো নিঃসরণ এবং চুলকানিযুক্ত ক্ষত দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকে খোসা জমে তার নিচে আর্দ্রতা বা নিঃসরণ থাকা এবং ক্ষতস্থানে চুলকানি এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
মোটা খোসা, খোসার নিচে আঠালো নিঃসরণ ও চুলকানি।
১৫. Sabadilla (সাবাডিলা)
অ্যালার্জিজনিত সংবেদনশীলতা ও চুলকানির সঙ্গে অন্যান্য বিশেষ লক্ষণ থাকলে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা হয়। রোগীর নাক-চোখের অ্যালার্জি, হাঁচি এবং অন্যান্য সংবেদনশীলতার ইতিহাসও মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
১৬. Sepia Officinalis (সেপিয়া অফিসিনালিস)
ত্বকে বাদামি বা হলদে দাগ, চুলকানিযুক্ত উদ্ভেদ এবং দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যার সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক বিশেষ লক্ষণ থাকলে বিবেচ্য।
বিশেষ করে হরমোনজনিত পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম, ক্লান্তি ও মানসিক উদাসীনতার মতো বৈশিষ্ট্য রোগীর সামগ্রিক চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
১৭. Strontiana Carbonica (স্ট্রন্টিয়ানা কার্বোনিকা)
রেপার্টরিতে শীতকালে ত্বকের উদ্ভেদ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঔষধ। তবে এর নির্বাচন লক্ষণে নির্দিষ্ট রোগীচিত্র পাওয়ার জন্য মেটেরিয়া মেডিকার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এবং পূর্ণাঙ্গ রেপার্টরি বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
১৮. Sulphur (সালফার)
চর্মরোগের ক্ষেত্রে বহুল পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ:
ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ, খসখসে ও চুলকানিযুক্ত। শরীরের উষ্ণতা, বিছানার গরম এবং রাতের সময় চুলকানি বৃদ্ধি পেতে পারে। চুলকানোর পর জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
ত্বকে অপরিচ্ছন্ন ভাব, বারবার উদ্ভেদ হওয়া এবং পুরোনো চর্মরোগের ইতিহাস থাকতে পারে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
বিছানার গরমে চুলকানি বৃদ্ধি, চুলকানোর পর জ্বালাপোড়া এবং শুষ্ক-রুক্ষ ত্বক।
১৯. Tuberculinum (টিউবারকুলিনাম)
বারবার ফিরে আসা দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগের ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য, পারিবারিক ইতিহাস এবং রোগের পুনরাবৃত্তির ধরন বিবেচনা করে নির্বাচন করা হয়।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
পুনরাবৃত্ত রোগপ্রবণতা এবং রোগীর সামগ্রিক টিউবারকুলার বৈশিষ্ট্য।
ঔষধ নির্বাচনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক পার্থক্য
Mercurius Solubilis ও Rhus Toxicodendron
Mercurius Solubilis:
আর্দ্র ক্ষত, নিঃসরণ, ঘাম, দুর্গন্ধ এবং রাতের বৃদ্ধি।
Rhus Toxicodendron:
লালচে ফুসকুড়ি, পানিভরা দানা, চুলকানি এবং উষ্ণতায় আরাম।
Petroleum ও Psorinum
Petroleum:
শীতকালে ত্বক ফেটে যাওয়া, গভীর ফাটল, রক্তপাত ও রুক্ষ ত্বক।
Psorinum:
প্রচণ্ড শীতকাতরতা, অত্যন্ত শুষ্ক ত্বক, দুর্গন্ধযুক্ত নিঃসরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ।
Alumina ও Petroleum
Alumina:
অতিরিক্ত শুষ্কতা, চুলকানি ও ত্বকের আর্দ্রতার অভাব।
Petroleum:
গভীর ফাটল, রক্তপাত এবং শীতকালে ত্বকের ফাটল বৃদ্ধি।
Sulphur ও Psorinum
Sulphur:
বিছানার গরমে চুলকানি বৃদ্ধি এবং চুলকানোর পর জ্বালাপোড়া।
Psorinum:
অত্যন্ত শীতকাতরতা, রুক্ষ ত্বক এবং দুর্গন্ধযুক্ত নিঃসরণ।
Dulcamara ও Rhus Toxicodendron
Dulcamara:
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি।
Rhus Toxicodendron:
ঠান্ডা-ভেজা পরিবেশে সমস্যা বৃদ্ধি এবং উষ্ণতায় আরাম।
Hepar Sulphuris ও Mezereum
Hepar Sulphuris:
স্পর্শকাতরতা, ব্যথা, প্রদাহ ও পুঁজযুক্ত ক্ষত।
Mezereum:
মোটা খোসা, খোসার নিচে আঠালো নিঃসরণ ও চুলকানি।
একক ঔষধ নির্বাচন কৌশল
শীতকালে চর্মরোগের ক্ষেত্রে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাজ হলো রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত একক ঔষধ নির্বাচন করা।
এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে:
১. ত্বকের উদ্ভেদের প্রকৃতি ও অবস্থান।
২. চুলকানি কখন বৃদ্ধি পায় এবং কখন কমে।
৩. ত্বক শুষ্ক, আর্দ্র, রুক্ষ নাকি ফাটলযুক্ত।
৪. ক্ষত থেকে কী ধরনের নিঃসরণ হয়।
৫. গরম ও ঠান্ডায় রোগীর প্রতিক্রিয়া।
৬. রোগের শুরু, কারণ ও পুনরাবৃত্তির ইতিহাস।
৭. মানসিক লক্ষণ ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য।
৮. রেপার্টরির গ্রেড ও মেটেরিয়া মেডিকার সমন্বিত বিশ্লেষণ।
অর্গানন অব মেডিসিনের ১৫৩ নম্বর সূত্র অনুসারে রোগীর অদ্ভুত, বিরল ও বিশেষ লক্ষণগুলো ঔষধ নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
শীতকালে ত্বকের যত্ন ও স্বাস্থ্য পরামর্শ
১. অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল করা পরিহার করুন।
২. গোসলের পর উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৩. সুগন্ধি ও অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত সাবান পরিহার করুন।
৪. নরম ও আরামদায়ক সুতির পোশাক পরুন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৬. ত্বকে চুলকানি হলে নখ দিয়ে অতিরিক্ত আঁচড়াবেন না।
৭. ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
৮. যেসব প্রসাধনী বা রাসায়নিক পদার্থে ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
৯. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
১০. দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
খাদ্য তালিকা ও পথ্য
শীতকালে ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উপকারী খাদ্য:
মৌসুমি শাকসবজি, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, টমেটো, পেয়ারা, কমলা, পেঁপে, মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম ও পর্যাপ্ত পানি।
পরিহারযোগ্য:
যেসব খাবারে ব্যক্তিগতভাবে অ্যালার্জি বা ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, সেগুলো পরিহার করুন। অপ্রয়োজনীয় খাদ্যবিধিনিষেধ না করে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।
বিশেষ সতর্কতা
ত্বকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রদাহ, তীব্র ব্যথা, পুঁজ, জ্বর, ফোসকা, ত্বক উঠে যাওয়া অথবা চোখ ও মুখের আশপাশে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
উপসংহার
শীতকালে চর্মরোগের লক্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে রেপার্টরির SKIN – ERUPTIONS – WINTER – AGG. একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
এই রুব্রিকের অধীনে সুপার গ্রেডের Mercurius Solubilis ও Rhus Toxicodendron এবং প্রথম গ্রেডের Petroleum ও Psorinum বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি অবশিষ্ট ১৫টি ঔষধের নিজস্ব লক্ষণ ও রোগীচিত্র জানা থাকলে ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিশ্লেষণ আরও সহজ হয়।
মেটেরিয়া মেডিকা, রেপার্টরি ও রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যপূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সমন্বয়ে একক ঔষধ নির্বাচন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছাড়া নিজের চিকিৎসা নিজে করবেন না।
লেখক পরিচিতি
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
DHMS, Government Registered Homeopathic Doctor
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে।
মোবাইল: 01716651488
