হোমিওপ্যাথি পাঠশালা Homeopathy Pathshala
লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
রেপার্টরি নির্দেশনা, মেটেরিয়া মেডিকা, গুরুত্বপূর্ণ ঔষধের নির্বাচন লক্ষণ, তুলনামূলক আলোচনা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ
ভূমিকা
লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ (Low Blood Pressure বা Hypotension) বলতে সাধারণত রক্তচাপ ৯০/৬০ মিমি পারদ (mmHg)-এর নিচে নেমে যাওয়াকে বোঝায়। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই মাত্রার রক্তচাপ সমান সমস্যা সৃষ্টি করে না। অনেক সুস্থ মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কম থাকে এবং কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।
কিন্তু রক্তচাপ কমে যাওয়ার সঙ্গে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঠান্ডা ঘাম, বুক ধড়ফড় কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নিম্ন রক্তচাপ নিজে কোনো স্বতন্ত্র রোগ না হয়ে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরিতে নিম্ন রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ঔষধের নাম ও লক্ষণচিত্র পাওয়া যায়। রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণসমষ্টি, শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং সহগামী উপসর্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব ঔষধের পরিচিতি অধ্যয়ন করা হয়।
নিম্ন রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ
১. মাথা ঘোরা ও মাথা হালকা অনুভব করা।
২. হঠাৎ দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা।
৩. শরীর দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়া।
৪. হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
৫. ঠান্ডা ঘাম হওয়া।
৬. চোখে ঝাপসা দেখা।
৭. বুক ধড়ফড় করা।
৮. বমি বমি ভাব।
৯. মনোযোগ কমে যাওয়া।
১০. অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা।
নিম্ন রক্তচাপের উল্লেখযোগ্য কারণ
১. শরীরে পানিশূন্যতা।
২. অতিরিক্ত ঘাম, বমি ও ডায়রিয়া।
৩. অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
৪. রক্তস্বল্পতা।
৫. দীর্ঘদিনের অপুষ্টি।
৬. হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া।
৭. থাইরয়েড ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা।
৮. ডায়াবেটিসজনিত স্নায়বিক জটিলতা।
৯. গর্ভাবস্থা।
১০. কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
১১. দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
১২. গুরুতর সংক্রমণ ও শারীরিক শক।
হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরিতে নিম্ন রক্তচাপের নির্দেশনা
রুব্রিক: GENERALS – HYPOTENSION (Low Blood Pressure)
রেপার্টর অনুযায়ী এই রুব্রিকে মোট ৮৩টি ঔষধ রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় গ্রেডে ১০টি ও তৃতীয় গ্রেড ৭৩ টি ঔষধ রয়েছে।
দ্বিতীয় গ্রেডের ১০টি ঔষধ
১. Ammonium Carbonicum
২. Cacao
৩. Calcarea Carbonica
৪. Carbo Vegetabilis
৫. Dipthero-Tetano-Typho-Par...
৬. Natrum Muriaticum
৭. Phosphorus
৮. Rauwolfia Serpentina
৯. Sepia Officinalis
১০. Thyroidinum
নিম্ন রক্তচাপের গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধের নির্বাচন লক্ষণ
১. Carbo Vegetabilis
রোগীর প্রতিচ্ছবি
অত্যধিক শারীরিক অবসন্নতা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা ঘাম এবং রক্তসঞ্চালনজনিত অবনতির লক্ষণচিত্রে Carbo Veg-এর পরিচিতি রয়েছে।
নির্বাচন লক্ষণ
শরীর ও হাত-পা অত্যন্ত ঠান্ডা।
মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে বা নীলাভ।
ঠান্ডা ও আঠালো ঘাম।
প্রচণ্ড দুর্বলতা ও অবসন্নতা।
বাতাসের জন্য আকাঙ্ক্ষা।
পেট ফাঁপা ও ঢেকুর।
সামান্য পরিশ্রমেই শক্তি হারিয়ে ফেলা।
২. Veratrum Album
রোগীর প্রতিচ্ছবি
প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া, কপালে ঠান্ডা ঘাম এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণচিত্র এই ঔষধের প্রধান পরিচিতি।
নির্বাচন লক্ষণ
কপালে ঠান্ডা ঘাম।
মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে।
হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা।
প্রচণ্ড বমি ও পাতলা পায়খানা।
অত্যধিক শারীরিক দুর্বলতা।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা।
ঠান্ডা পানির প্রতি তৃষ্ণা।
শারীরিক শক্তির দ্রুত অবনতি।
৩. Gelsemium Sempervirens
রোগীর প্রতিচ্ছবি
ঝিমুনি, মাথা ভারী, পেশির দুর্বলতা এবং মানসিক ও শারীরিক অবসন্নতা Gelsemium-এর প্রধান পরিচিতি।
নির্বাচন লক্ষণ
মাথা ভারী ও ঝিমঝিম করা।
চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা।
শরীর কাঁপা ও দুর্বলতা।
মাথা ঘোরা।
মানসিক অবসন্নতা।
ভয় বা মানসিক উত্তেজনার পর দুর্বলতা।
শরীরে ভারী ভাব ও নিস্তেজতা।
৪. Ammonium Carbonicum
রোগীর প্রতিচ্ছবি
অত্যধিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্টের প্রবণতা, রক্তসঞ্চালনের দুর্বলতা এবং ঠান্ডা সহ্য করতে না পারার লক্ষণচিত্রে এই ঔষধের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট।
শারীরিক দুর্বলতা।
হাত-পা ঠান্ডা।
মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে বা নীলাভ।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা।
সকালে বিছানা থেকে উঠতে কষ্ট।
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সমস্যা বৃদ্ধি।
৫. Calcarea Carbonica
রোগীর প্রতিচ্ছবি
সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা অনুভব এবং দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণচিত্রে Calcarea Carb-এর বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি।
মাথায় অতিরিক্ত ঘাম।
পায়ের পাতা ঠান্ডা ও ভেজা।
শারীরিক দুর্বলতা।
ওজন বৃদ্ধি বা বিপাকীয় সমস্যার প্রবণতা।
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় অসুবিধা।
পরিশ্রমের পর দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা।
৬. Natrum Muriaticum
রোগীর প্রতিচ্ছবি
মানসিক আঘাত, দীর্ঘদিনের শোক, রক্তস্বল্পতার সঙ্গে দুর্বলতা এবং মাথাব্যথার বিশেষ লক্ষণচিত্রে Natrum Mur বিবেচিত হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
রক্তস্বল্পতার সঙ্গে দুর্বলতা।
মাথা ঘোরা।
রোদে মাথাব্যথা বৃদ্ধি।
ঠোঁট ও মুখ শুষ্ক।
লবণের প্রতি আকাঙ্ক্ষা।
মানসিক কষ্ট একাকী সহ্য করার প্রবণতা।
শারীরিক ও মানসিক অবসাদ।
৭. Phosphorus
রোগীর প্রতিচ্ছবি
শারীরিক দুর্বলতা, স্নায়বিক সংবেদনশীলতা, রক্তক্ষরণের প্রবণতা এবং সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ার লক্ষণচিত্রে Phosphorus-এর পরিচিতি রয়েছে।
নির্বাচন লক্ষণ
সামান্য পরিশ্রমে দুর্বলতা।
মাথা ঘোরা।
বুক ধড়ফড় করা।
শারীরিক ও মানসিক অবসন্নতা।
ঠান্ডা পানির প্রতি আকাঙ্ক্ষা।
রক্তক্ষরণের প্রবণতা।
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।
৮. Sepia Officinalis
রোগীর প্রতিচ্ছবি
বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা, হরমোনজনিত পরিবর্তন, দাঁড়িয়ে থাকলে দুর্বলতা এবং শারীরিক শক্তির অভাবের লক্ষণচিত্রে Sepia-এর বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
দীর্ঘদিনের শারীরিক দুর্বলতা।
দাঁড়িয়ে থাকলে অবসন্নতা।
কোমর ও পেলভিক অঞ্চলে দুর্বলতার অনুভূতি।
মানসিক বিরক্তি ও উদাসীনতা।
কাজের প্রতি অনীহা।
ঋতুস্রাবজনিত সমস্যার সঙ্গে দুর্বলতা।
প্রসব-পরবর্তী শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে উপসর্গ।
৯. Cacao
Cacao বা কোকো থেকে প্রস্তুত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মেটেরিয়া মেডিকা পরিচিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
মানসিক অবসাদ।
স্নায়বিক সংবেদনশীলতা।
শারীরিক দুর্বলতা।
মেজাজের পরিবর্তন।
ক্লান্তি ও অবসন্নতার সঙ্গে সহগামী লক্ষণ।
১০. Rauwolfia Serpentina
Rauwolfia Serpentina একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি উদ্ভিদ। এর উপাদান রেসারপিন রক্তচাপ কমাতে পারে এবং ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা
এটি নিম্ন রক্তচাপের ঔষধ নয়। রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে। তাই নিম্ন রক্তচাপের রোগীর ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
১১. Thyroidinum
রোগীর প্রতিচ্ছবি
থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ও বিপাকীয় পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণচিত্রে Thyroidinum-এর মেটেরিয়া মেডিকা পরিচিতি বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা।
শারীরিক শক্তির অভাব।
ওজন ও বিপাকীয় পরিবর্তন।
শরীরের তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতার পরিবর্তন।
থাইরয়েডজনিত সহগামী লক্ষণ।
১২. China Officinalis
রোগীর প্রতিচ্ছবি
শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল পদার্থ বেরিয়ে যাওয়ার পর দুর্বলতা ও অবসন্নতা China-এর গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি।
নির্বাচন লক্ষণ
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর দুর্বলতা।
দীর্ঘদিনের ডায়রিয়ার পর শক্তিহীনতা।
অতিরিক্ত ঘামের পর অবসন্নতা।
মাথা ঘোরা ও কানে শব্দ।
পেট ফাঁপা ও গ্যাস।
সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তি।
১৩. Phosphoric Acid
রোগীর প্রতিচ্ছবি
দীর্ঘদিনের মানসিক পরিশ্রম, শোক, দুশ্চিন্তা অথবা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার পর গভীর শারীরিক ও মানসিক অবসন্নতা।
নির্বাচন লক্ষণ
শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা।
অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি।
উদাসীনতা ও নিরুৎসাহ।
মাথা ভারী অনুভব।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর অবসন্নতা।
মানসিক কষ্টের পর শক্তিহীনতা।
১৪. Nux Vomica
রোগীর প্রতিচ্ছবি
অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণচিত্র।
নির্বাচন লক্ষণ
বদহজম ও পেট ফাঁপা।
কোষ্ঠকাঠিন্য।
অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম।
খিটখিটে মেজাজ।
সকালে দুর্বলতা ও অস্বস্তি।
উদ্দীপক খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা।
১৫. Silicea
রোগীর প্রতিচ্ছবি
দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, সহজে ঘেমে যাওয়া এবং শারীরিক সহনশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণচিত্র।
নির্বাচন লক্ষণ
শারীরিক দুর্বলতা।
হাত-পা ঠান্ডা।
সহজে ঘেমে যাওয়া।
অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি।
শারীরিক সহনশক্তি কম।
ঠান্ডা আবহাওয়ায় অসুবিধা।
১৬. Arnica Montana
রোগীর প্রতিচ্ছবি
আঘাত, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম অথবা রক্তক্ষরণের পর দুর্বলতা ও শরীরে থেঁতলে যাওয়ার অনুভূতির লক্ষণচিত্র।
নির্বাচন লক্ষণ
শরীর ব্যথা ও থেঁতলে যাওয়ার অনুভূতি।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর অবসন্নতা।
আঘাতের পর দুর্বলতা।
শরীরে স্পর্শ অসহ্য মনে হওয়া।
১৭. Glonoinum
রোগীর প্রতিচ্ছবি
মাথায় রক্তসঞ্চারের অনুভূতি, প্রচণ্ড স্পন্দন, গরমে বা রোদে অসুস্থতা এবং মাথা ঘোরার বিশেষ লক্ষণচিত্র।
নির্বাচন লক্ষণ
মাথায় প্রচণ্ড স্পন্দন।
মাথা গরম অনুভব।
রোদে বা গরমে উপসর্গ বৃদ্ধি।
মাথা ঘোরা।
মাথায় রক্তের চাপ অনুভব।
১৮. Lachesis
রোগীর প্রতিচ্ছবি
শরীরে গরমের অনুভূতি, ঘুম থেকে ওঠার পর উপসর্গ বৃদ্ধি এবং বামপাশের বিশেষ লক্ষণসমষ্টি।
নির্বাচন লক্ষণ
গরম সহ্য করতে না পারা।
ঘুম থেকে ওঠার পর অস্বস্তি।
গলায় বা কোমরে আঁটসাঁট পোশাক অসহ্য।
বামপাশের উপসর্গের প্রাধান্য।
মানসিক ও শারীরিক উত্তেজনা।
১৯. Lycopodium Clavatum
রোগীর প্রতিচ্ছবি
পেট ফাঁপা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে উপসর্গ বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য।
নির্বাচন লক্ষণ
পেটে প্রচুর গ্যাস।
অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া।
বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে উপসর্গ বৃদ্ধি।
আত্মবিশ্বাসের অভাব।
মানসিক দ্বিধা ও সিদ্ধান্তহীনতা।
২০. Psorinum
রোগীর প্রতিচ্ছবি
দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, ঠান্ডা অসহ্য হওয়া এবং উষ্ণতার আকাঙ্ক্ষার লক্ষণচিত্র।
নির্বাচন লক্ষণ
প্রচণ্ড শীতকাতরতা।
উষ্ণতার আকাঙ্ক্ষা।
দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক দুর্বলতা।
সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর অবসন্নতা।
২১. Rhus Toxicodendron
রোগীর প্রতিচ্ছবি
বিশ্রামের পর জড়তা, প্রথম নড়াচড়ায় ব্যথা ও অস্বস্তি এবং চলাফেরা শুরু করলে কিছুটা আরামের বৈশিষ্ট্য।
নির্বাচন লক্ষণ
বিশ্রামের পর জড়তা।
প্রথম নড়াচড়ায় কষ্ট।
চলাফেরা করলে কিছুটা আরাম।
শারীরিক ব্যথা ও অবসন্নতা।
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় উপসর্গ বৃদ্ধি।
২২. Staphysagria
রোগীর প্রতিচ্ছবি
মানসিক অপমান, দমন করা ক্ষোভ, দুঃখ ও মানসিক আঘাতের পর শারীরিক অবসন্নতার লক্ষণচিত্র।
নির্বাচন লক্ষণ
অপমানের পর মানসিক কষ্ট।
দমন করা রাগ ও ক্ষোভ।
মানসিক আঘাতের পর দুর্বলতা।
সংবেদনশীল স্বভাব।
নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে না পারা।
২৩. Lycopus Virginicus
হৃদস্পন্দন ও থাইরয়েড-সম্পর্কিত কিছু লক্ষণচিত্রে ঐতিহ্যগতভাবে আলোচিত।
নির্বাচন লক্ষণ
বুক ধড়ফড় করা।
হৃদস্পন্দনের অস্বস্তি।
থাইরয়েড-সম্পর্কিত সহগামী লক্ষণ।
শারীরিক দুর্বলতা।
২৪. Viscum Album
রক্তসঞ্চালন ও হৃদযন্ত্র-সম্পর্কিত লক্ষণচিত্রে ঐতিহ্যগতভাবে আলোচিত।
নির্বাচন লক্ষণ
হৃদযন্ত্রের অঞ্চলে অস্বস্তি।
বুক ধড়ফড়।
রক্তসঞ্চালনজনিত উপসর্গ।
শারীরিক দুর্বলতা।
২৫. Naja Tripudians
হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা, বুকের অস্বস্তি এবং স্নায়বিক লক্ষণসমষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত মেটেরিয়া মেডিকা বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়।
নির্বাচন লক্ষণ
হৃদযন্ত্রের অঞ্চলে ব্যথা।
বুকের চাপ ও অস্বস্তি।
বুক ধড়ফড়।
হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত মানসিক উদ্বেগ।
২৬. Cactus Grandiflorus
হৃদযন্ত্রের অঞ্চলে সংকোচন ও চাপ অনুভবের বিশেষ লক্ষণচিত্রে পরিচিত।
নির্বাচন লক্ষণ
বুকের ওপর শক্তভাবে চাপ দেওয়ার অনুভূতি।
হৃদযন্ত্রের অঞ্চলে সংকোচন।
বুক ধড়ফড়।
বুকের অস্বস্তির সঙ্গে দুর্বলতা।
২৭. Veratrum Viride
হৃদস্পন্দন ও রক্তসঞ্চালনের পরিবর্তনসংক্রান্ত লক্ষণচিত্রে ঐতিহ্যগতভাবে আলোচিত।
নির্বাচন লক্ষণ
মাথা ঘোরা।
বমি বমি ভাব।
হৃদস্পন্দনের অস্বস্তি।
শারীরিক অবসন্নতা।
এটি স্ব-চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য নয়।
২৮. Reserpinum
রেসারপিন একটি ফার্মাকোলজিক্যাল উপাদান, যা ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে।
২৯. Sparteinum Sulfuricum
হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ও হৃদস্পন্দনসংক্রান্ত ঐতিহাসিক ফার্মাকোলজিক্যাল পরিচিতি রয়েছে।
৩০. Histaminum
অ্যালার্জিজনিত লক্ষণচিত্রে ঐতিহ্যগতভাবে আলোচিত একটি ঔষধ।
নির্বাচন লক্ষণ
অ্যালার্জিজনিত উপসর্গ।
চুলকানি ও ত্বকের প্রতিক্রিয়া।
অ্যালার্জির সঙ্গে অন্যান্য সহগামী উপসর্গ।
অ্যালার্জির গুরুতর প্রতিক্রিয়ায় রক্তচাপ কমে গেলে তা অ্যানাফাইল্যাক্সিস হতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
রেপার্টরিতে আরও উল্লেখিত ঔষধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
Diphtherinum
Haloperidolum
Influeninum
Levomepromazinum
Loxosceles Laeta
Lacticum Acidum
Natrum Fluoratum
Oscillococcinum
Ribonucleicum Acidum
Radium Bromide
Serum Anti Colibacillum
Sulfanilamidum
Thioproperazinum
Toxoplasma Gondii
Tuberculinum Denys
Theridion Curassavicum
Thymol
Vaccin Attunu Bil
Voacanga Africana
Variolinum
Vipera
মেটেরিয়া মেডিকা আয়ত্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক আলোচনা
Carbo Veg বনাম Veratrum Album
Carbo Veg-এ প্রচণ্ড অবসন্নতা, শরীর ঠান্ডা, ঠান্ডা ঘাম এবং বাতাসের আকাঙ্ক্ষা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
Veratrum Album-এ বমি, ডায়রিয়া, কপালে ঠান্ডা ঘাম, হাত-পা ঠান্ডা এবং তীব্র দুর্বলতার লক্ষণচিত্র বিশেষভাবে বিবেচ্য।
Gelsemium বনাম Phosphoric Acid
Gelsemium-এ মাথা ভারী, চোখের পাতা ভারী, ঝিমুনি ও পেশির দুর্বলতা বেশি লক্ষণীয়।
Phosphoric Acid-এ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক অবসাদ, শোকের পর দুর্বলতা এবং উদাসীনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Calcarea Carb বনাম Silicea
Calcarea Carb-এ অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা অনুভব, সহজে ক্লান্তি এবং শারীরিক স্থূলতার প্রবণতা বিবেচ্য।
Silicea-তে ঠান্ডা অসহ্য হওয়া, সহজে ঘেমে যাওয়া, শারীরিক সহনশক্তি কম এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বিবেচ্য।
Natrum Mur বনাম Sepia
Natrum Mur-এ মানসিক আঘাত, শোক, একাকী কষ্ট সহ্য করা এবং রক্তস্বল্পতাসহ দুর্বলতার লক্ষণ বিবেচ্য।
Sepia-তে বিশেষ করে মহিলাদের হরমোনজনিত পরিবর্তন, শারীরিক অবসাদ, দাঁড়িয়ে থাকলে দুর্বলতা এবং মানসিক বিরক্তির লক্ষণ বিবেচ্য।
নিম্ন রক্তচাপের রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক নিচের পরীক্ষাগুলো করতে পারেন।
১. শোয়া ও দাঁড়ানো অবস্থায় রক্তচাপ পরিমাপ।
২. CBC ও হিমোগ্লোবিন।
৩. রক্তের গ্লুকোজ।
৪. ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা।
৫. কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা।
৬. থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট।
৭. ECG।
৮. প্রয়োজন অনুযায়ী ইকোকার্ডিওগ্রাম।
৯. রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণের সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা।
নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য পরামর্শ
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
২. দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না।
৩. একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার গ্রহণ করুন।
৪. হঠাৎ শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে দাঁড়াবেন না।
৫. দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা পরিহার করুন।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।
৭. অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করবেন না।
৮. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
৯. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ করবেন না।
১০. রক্তচাপ কমানোর ঔষধ গ্রহণ করলে চিকিৎসকের সঙ্গে পর্যালোচনা করুন।
খাদ্য ও পথ্য
গ্রহণযোগ্য খাবার
পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি।
মৌসুমি ফল।
শাকসবজি।
মাছ ও ডিম।
ডাল ও পুষ্টিকর খাবার।
পরিমিত ভাত ও রুটি।
প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।
পরিহারযোগ্য অভ্যাস
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা।
অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ।
চা-কফির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা।
বিশেষ নির্দেশনা
অতিরিক্ত বমি বা ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। হৃদরোগ বা কিডনি রোগে তরল ও লবণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন
নিম্ন রক্তচাপের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে।
১. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা জ্ঞান ফিরে না আসা।
২. বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট।
৩. প্রচণ্ড দুর্বলতা ও বিভ্রান্তি।
৪. শরীর ঠান্ডা ও আঠালো ঘামযুক্ত হয়ে যাওয়া।
৫. দ্রুত ও দুর্বল নাড়ি।
৬. অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
৭. গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে রক্তচাপ কমে যাওয়া।
এগুলো শক বা গুরুতর শারীরিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
নিম্ন রক্তচাপের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং কারণভিত্তিক চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
উপসংহার
লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রোগের কারণ, সহগামী উপসর্গ এবং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা অধ্যয়নে Carbo Vegetabilis, Veratrum Album, Gelsemium, Ammonium Carbonicum, Calcarea Carbonica, Natrum Muriaticum, Phosphorus, China, Phosphoric Acid, Sepia এবং অন্যান্য ঔষধের লক্ষণগত পার্থক্য জানা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রেপার্টরি ও মেটেরিয়া মেডিকার সমন্বিত অধ্যয়ন ঔষধের পরিচিতি ও লক্ষণ বিশ্লেষণের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছাড়া নিজের চিকিৎসা নিজে করবেন না।
লেখক পরিচিতি
ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
DHMS, Government Registered Homeopathic Doctor
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
ইভা হোমিও হল
এ আর টাওয়ার, রুম নাম্বার ৯
আশুলিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে
মোবাইল: 01716651488
