![]() |
আমাশয়ের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ |
১. এমিবিক আমাশয় : এমিবিক ঘটিত ডিসেন্ট্রি বড় ছেলে-মেয়েদের হয়ে থাকে কিন্তু ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এর প্রবণতা অত্যন্ত কম৷
• ডানদিকের তলপেটে সাধারণত ব্যথা হয়৷
আর্সেনিক এলবম:-রক্ত বা সবুজ বর্ণের শ্লেমা,দুর্গন্ধ থাকে না।দারুন দুর্বলতা,অস্হিরতা,ঘন ঘন অল্প জলপান মাত্রেই বমি।অত্যান্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন স্বভাব,রোগী শয্যায় শুইয়া মল-মুত্র ত্যাগ করিতে চাহে না।ব্যাসিলারি ডিসিন্টারি,কিন্তু পিপাসা,দুর্বলতা ও অস্হিরতা বর্তমান থাকা চাই।
অ্যাকোনাইট নেপিলাস:-শীতকালে শুস্ক ঠান্ডা বাতাস লাগিয়া,বর্ষাকালে বর্ষার জলে ভিজিয়া বা ঘর্ম হঠাৎ বাধাপ্রাপ্ত হইয়া ভীষণ ভাবে রোগ আক্রমন,রোগ অতি অকস্মৎ প্রকাশ পায় এবং এত ভীষণভাবে প্রকাশ পায় রোগী একেবারে অস্হির হইয়া পড়ে,প্রবল পিপাসা ও জ্বর দেখাদেয়।মল সবুজ বর্ণ অথবা আম-রক্ত,ঘন ঘন মলত্যাগ,মলত্যাগ কালে অবিরত কুন্থন।
ব্যাপটিসিয়া:-মল,মুত্র,ঘর্ম,দারুন দুর্গন্ধ যুক্ত,সর্বদাই তন্দ্রাচ্ছন্ন অথচ অস্হির,জিহ্বার মধ্যেভাগ লেপাবৃত,ধার উজ্জল লালবর্ণ।মল শুধু রক্ত,মলত্যাগের পরেও কুন্থন থাকিতে পারে,দারুন দুর্বলতা,তৃষ্ণাহীন।শরৎকারিন আমাশয় বিশেশত বৃদ্ধদের।দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি;অঙ্গ-প্রতঙ্গে ব্যথা,অস্হিরতা।
বেলেডোনা:-অকস্মৎ অতি ভীষণভাবে রোগআক্রমণ,পেটের মধ্যে দারুন ব্যাথা,রোগী সর্টবদাই চুপ করিয়া পরিয়া থাকিতে চায় এবং আবৃত থাকিতে ভালবাসে।মল আমরক্ত মিশ্রিত বা সবুজবর্ণ,মলত্যাগকালে কুন্থন,কুন্থনকালে চোখ মুখ রক্তবর্ণ হইয়া উঠে।ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জ্বরও দেখা দেয়;এবং যদিও তাহারা চুপ করিয়া পরিয়া থাকিতে চাহে বটে কিন্তু পারে েনা ,ক্ষণে ক্ষণে চমকাইয়া উঠিতে থাকে।
ক্যান্থারিস:-রাত্রে বৃদ্ধি,মলদ্বারে দারুন জ্বালা,মল সবুজ বা রক্ত মিশ্রিত।মলত্যাগের পর অবিরত কুন্থন,ঘন ঘন প্রস্রাবের ইচ্ছা,জ্বালাযুক্ত প্রস্রাব,প্রস্রাব কমিয়া যাওয়া বা একেবারে বন্ধ হইয়া যাওয়া।পিপাসা নাই বা জলপান কালে মুত্রাধারে বেদনাবোধ।
কলোসিন্থ :-আহারের পরেই মলত্যাগের বেগ,বেগের সহিত পেটের মধ্য অসহ্য যন্ত্রণা;যন্ত্রনার চোটে রোগী বমি করিয়া ফেলে,পেট চাপিয়া ধরিলে উপশম;দাত উঠিবার সময়,ক্রদ্ধ হইবার পর;মলত্যাগকালে প্রচুর বায়ু নিঃসরণ;মল রক্তাক্ত ও সবুজ বর্ণ।মলত্যাগের পর কুন্থন কমিয়া যায়।
ক্যাপসিকাম :-রক্তামাশয়,মলত্যাগের পরেও কুন্থন,মলদারের জ্বালা,মুত্রকষ্ট,মুত্রের জন্যে ক্রমাগত বেগ।রোগী প্রত্যেকবার মলত্যাগের পর অতিশয় তৃষ্ণাবোধ করে অথচ জল পান করিলেই তাহার শীত করিতে থাকে,কোমরে ব্যথা;মুখ অত্যান্ত বিস্বাদ।যাহার অতিশয় লঙ্কার ঝার খাইতে ভালবাসেন তাহাদের ছেলেমেয়েরা প্রায়ই ক্যাপসিকামের রোগী হইয়া পড়ে।
মার্ক করঃআমাশয়ের তীব্র আমন করে।মলত্যাগের সময় ও পরেও কুন্হন,আমরক্ত মিশ্রিত মল,কখন শুধু রক্ত,প্রবল পিপাসা,বমিকষ্টকর প্রস্রাব,প্রস্রাব কমিয়া যায় অথবা বন্ধ হয়ে যায়।সবুজ বর্ণের মল কিম্বা রক্ত বা রক্ত মিশ্রিত শরৎকালীন আমাশয়ে মার্ক কর উপযোগী।
ইপিকাক ঃসবুজ বর্ণের আম বা রক্তমিশ্রিত আম,মলত্যাগের পরেও কুন্হন কমে না,ক্রমাগত বমনেচ্ছা,পিপাসাহীন ও জিহ্বা পরিস্কার রোগীর জন্য উপিকাক উপযোগী।
নাক্স ভুমিকা ঃআমাশয় ভোর বেলায় বৃদ্ধি,মদ,মাংম বা উগ্র খাদ্যগ্রহন ও রাত্রি জা্গরনরে জন্য আমাশয় হলে,কোমরে দারুর বেদনা,মলত্যাগের পর কখনও কুন্হন থাকে কখনও থাকে না।রোগী খাদ্য গন্ধ সহ্য হয় না।খাদ্যের নাম শুনেও বমি আসে।রোগী পিপাসা কম হলে নাক্স ভম উপযোগী।
আর্জেন্ট নাই ঃঅতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার পরে আমাশয়,শলত্যাগের সময় ক্রমাগত বায়ূ নিঃস্বরণ,অসারে প্রস্রাব,শ্বাসকষ্ট,মল সবুজ বর্ণ বা বাতাসে কিছু সময় থাকলে সবুজ বর্ণ ধারণ করে।
ম্যাগ কার্ব ঃযে সকল শিশু দুধ সহ্য করিতে পারে না,টকগন্ধযুক্ত মল,সর্ব শরীর টক গন্ধ করে।সবুজ বর্ণ মলে সাদা সাদা দানা ভাসে,মলত্যাগের পরে কুন্হন,রক্তের সাথে আম।
রাসটক্স ঃবর্ষাকালে বা বৃষ্টিতে ভিজিয়া,জলো বাতাসে আমাশয়,মলত্যাগের পরেই যন্ত্রনার উপশম,গায়ে বেদনা,ক্ররমাগ এপাস ওপাস করে।হাতপা নারিতে থাকিলে বর্ষাকালের আমাশয়ে রাসটক্স উপযোগী।
সালফার ঃকোন চর্মরোগ বাধা প্রাপ্ত হয়ে আমাশয়,যাহারা নোংরা ও নোংরা পরিবেশে বসবাস করে,সকালে বৃদ্ধি,মলত্যাগেও শান্তি পায় না,পিপাসা আছে,ঠোঁট রক্ত বর্ণের রোগীর জন্য সালফার উপযোগী।
পাইরোজেন ঃব্যাসিলারী ডিসেন্ট্রিতে ইহা উপযোগী।
কেলি বাইক্রম ঃবাতরোগ চাপা পরিয়া উদরাময় কিংবা আমাশয় হলে,ফেনাযুক্ত মল,রক্ত ও আমমিশ্রিত মল,মলত্যাগের পরেও কুন্হন থাকে,মলদ্বার বাহির হয়ে পরে,নাভিতে বেদনা,জিহ্বা শুষ্ক,রক্ত বর্ণ ও ফাটা ফাটা হলে কেলি বাইক্রম উপযোগী।
গাম্বোজিয়া ঃউদরাময় কিম্বা আমাশলে শিশু কুমাগত চোখ রগড়া্তেইতে থাকিলে এবং নাভিতে বেদনা ও কুন্হন থাকিলে গাম্বোজিয়া উপযোগী।
লেপট্যান্ডা ঃআমাশয়ে আলকাতরার মত মল,ভীষন বেদনা ও বমি থাকিলে লেপট্যান্ডা উপযোগী।
ট্রম্বিডিয়াম ঃআমাশয় কিম্বা উদরাময়ে বায়ু নিঃসরণ,পেটে বেদনা,মলত্যাগের পরেও কুন্হন থাকে,খাদ্য ও পানিয় গ্রহনের সাথে সাথে মলত্যাগের ইচ্ছা ও রোগী ক্রমাগত হাই তোলে ৈ মল অসারে গড়াইয়া পরে।
এমন মিউর ঃমাসিক কালীন উদরাময়,শিশুর আমাশয়,পরিবর্তনশীল মল,মরত্যাগের পরেও কুন্হন থাকিলে ্এমন মিউর উপযোগী।
ডলকামারা ঃশরঃকালীন উদরাময় ও আমাশয় পরিব্তনশীল মল,পেট বেদনা,মলত্যাগের পরেও কুন্হন।
কলিনসোনিয়া ঃঅর্শরোগীর আমাশয়,মলত্যাগের পুর্বে পেট বেদনা,মলত্যাগের সময় কুন্হন,মলদ্বারে কাটা ফোটানো বেদনা,যেন পেরেগ ঢুকানো হইতেছে।
রিসিনাস ঃশিশুদের আমাশয়,রক্ত আমাশয়,সবুজ মল,মলদ্বার হাজিয়া যায় তাদের জন্য উপযোগী।
উপরোক্ত ঔষধ ছাড়াও আমাশয়ের চিকিৎসায় অনেক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহৃত হয়।লক্ষণ বিবেচনায সঠিক ঔষধ নির্বাচন হলে অনেক পুরাতন ও জটিল আমাশয়ও আরোগ্য হয়।চিকিৎসার পাশাপাশি নিম্ন লিখিত নিয়ম মেনে চলা জরুরী।
রেপার্টরির সাহয্যে আমাশয়ের একক সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ
REPERTORYby Oscar E. BOERICKE, M.D.
Presented by Médi-T
আমাশয়ের রোগীর অবশ্যপালনীয় বিধিনিশেধ ঃ
*বাসী ও পচা খাবার খাওয়া যাবে না।
*সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছিন্ন থাকতে হবে।
*টয়লেটের পরিবেশ উন্নত করতে হবে বা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ব্যবস্থা করতে হবে।
*প্রতিবার খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
*টয়লেট থেকে ফিরে সাবান ব্যবহার করতে হবে।
*যারা পাবলিক যানবাহনে চলাফেরা করেন তারা অফিসে গিয়ে এবং অফিস থেকে বাসায় ফিয়ে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নেবেন।
*বাইরের খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভাল, কিন্তু বাইরের পানি অবশ্যই খাওয়া যাবে না।


