জনপ্রিয় পোস্ট

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

কব্জির টিউমারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা



কর্জির টিউমারের হোমিওপ্যাথিক চিতিৎসা।

 টিউমার বা গ্যাংলিয়ন  বলতে কি বুঝি ?

হাতের কব্জির উপর শক্ত ডিবির মত ফুলে উঠাকে অনেকেই টিউমার বললেও মেডিকেলের ভাষায় এটি মুলত গ্যংলিয়ন৷ এটি সাধারনত অস্থিসন্ধি অথবা টেনডনে আঘাতের ফলে কিংবা মচকে যাওয়ার ফলে হয়ে থাকে।আঘাত কিংবা ভারী কাজের ফলে অস্থিসন্ধির ভিতরের তরল বা সাইনুভিয়াল ফ্লুইড যখন জয়েন্টের বাইরে চলে আসে তখন এমনটি হয়ে থাকে৷ শরীরের যেকোন জয়েন্টে হতে পারে তবে হাতের কব্জির জয়েন্টের উপরেই বেশী হতে দেখা যায় ৷ 


গ্যাংলিয়ন কাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে ?

যে সকল মহিলা  গৃহস্থালীর ভারী কাজ করেন ও মশলা বাটার কাজ করেন তাদের বেশি হয়৷ পুরুষদের মধ্যে মটর সাইকেল ড্রাইভিং কারিদের ডান হাতে বেশি হতে দেখা যায়৷তবে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বেশী হয়ে থাকে৷
গ্যাংলিয়নের চিকিৎসাঃ-
আধুনিক এলোপ্যথিক চিকিৎসায় সিরিন্জ ঢুকিয়ে কিংবা অপারেশন করে অপসারন করলেও পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিরাপদ ও আদর্শ আরোগ্য।

গ্যাংলিয়ন রোগীর জন্য করনীয়ঃ 

চিকিৎসা চলাকালে আক্রান্ত হাত দিয়ে ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে৷

বোরিক রেপার্টরিতে কব্জির টিউমারের ঔষধ সমুহঃ
Ganglion -- Benz. ac., Kali m., RutaSil.

কব্জির টিউমারের সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ
হোমিওপ্যথিক চিকিৎসায় আঘাতের ইতিহাস থাকলে Ruta,Conium M খুব ভালো আরোগ্যকারী ঔষধ৷
এছাড়া লক্ষণভেদে Constitutional medicine হিসেবে Silicea ও Cal Carb,Arnica Mont,Calcarea phos ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে৷খুব শক্ত হলে বায়োকেমিক Cal Flour প্রয়োজন হয়। টিউমারের রোগীকে উপরোক্ত কথা ঔষধগুলো লক্ষণ সাদৃশ্যে প্রয়োগে আরোগ্য লাভ করে।তবে ঔষধের শক্তি ও মাত্রা নির্নয়ে অভিজ্ঞ ও রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া উচিত৷
উপসংহারঃ
কব্জিতে টিউমার হলে কখনোই সিরিঞ্জের মাধ্যমে খুঁচিয়ে ভিতরের বস্তু বাহির করতে চেষ্টা করা কোন মতেই ঠিক নয়। অপারেশন করেও কোন উপকার হয় না। স্বাস্থ্যহীন দূর্বল মহিলাদের কব্জির হাড় উঁচু হয়ে থাকে, তাই টিউমারের মত দেখায়। তাদের জন্য উপযুক্ত খাদ্য পুষ্টির উপর গুরুত্ব আরোপ করা জরুরি। কোন শারীরিক সমস্যার কারণে শরীর ভেঙ্গে গেলে সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান দিতে হবে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রয়োজন হয়। একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পারেন কব্জির টিউমারের চিকিৎসা করতে।তাই আমার এই লেখাটি পড়ে একাকী চিকিৎসা করতে চেষ্টা করবেন না।একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন সুস্থ থাকুন।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইলঃ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

দাদের হেমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

HOMEOPATHIC TREATMENT FOR  RINGWORM


দাদ কি ?

দাদ একটি সংক্রামক চর্মরোগ। ইংরেজি: Dermatophytosis তবে "Ringworm" ও "Tinea" নামেও পরিচিত। তবে এর কারণ কোন "worm" বা ক্রিমি নয়। এর কারণ ত্বকের উপরের দিকে (superficially) ছত্রাক সংক্রমণ।

ছত্রাক ঘটিত দাদ

সাধারণত ঘামে ভেজা শরীর, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন শরীর, দীর্ঘ সময় ভেজা থাকে এমন শরীর, ত্বকে ক্ষত আছে এমন শরীর এই ছত্রাক গুলোর স্পোর (বা, হাইফা) দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই ছত্রাকগুলোর সুপ্তিকাল ৩ থেকে ৫ দিন।

তিনরকম

§ ট্রাইকোফাইটন- (Trichophyton গণ)

§ এপিডার্মফাইটন (Epidermophyton গণ)

§ মাইক্রোস্পোরাম (Microsporum গণ)

সংক্রমন স্থান

· শরীরের যেকোন অঙ্গের চামড়ায় হতে পারে।

· টিনিয়া ক্রুরিস =কুঁচকির (groin) দাদ

· টিনিয়া ক্যাপাইটিস=মাথার দাদ

· টিনিয়া কর্পোরিস= শরীরে(trunk) বা হাত পায়ে দাদ

· টিনিয়া পেডিস (অ্যাথলেট'স ফুট)= পায়ের পাতায় দাদ

· টিনিয়া আঙ্গুয়াম= নখে দাদ

· মাথায় চিরুণী দ্বারা ও পায়ে পুরোন মোজা দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।

উপসর্গ

§ প্রথমে আক্রান্ত স্থানে ছোট লাল গোটা হয় এবং সামান্য চুলকায়।

§ পরে আক্রান্ত স্থানে বাদামী বর্ণের আইশ হয় এবং স্থানটি বৃত্তাকারে বড় হতে থাকে।

§ ক্রমে সুনির্দিষ্ট কিনারা সহ বৃত্তের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং মাঝখানে ত্বক স্বাভাবিক হয়ে আসে।

§ চুলকানি বৃদ্ধি পায়।

§ চুলকানোর পর আক্রান্ত স্থানে জবালা হয় এবং আঠালো রস বের হয়।

§ মাথায় হলে স্থানে স্থানে চুল উঠে যায়, নখে হলে দ্রুত নখের রঙ বদলায় এবং শুকিয়ে খণ্ড খণ্ড ভেঙ্গে যেতে পারে।

বিস্তার

এটি সংক্রামক রোগ। অতি সহজেই রোগী থেকে সুস্থ দেহে বিস্তার লাভ করতে পারে। রোগীর চিরুনি, তোয়ালে, বিছানা ইত্যাদি ব্যবহার করলে এ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে। তবে রোগাক্রান্ত পোষা বিড়ালের মাধ্যমে এটি বেশী ছড়ায়।

দাদের হেমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লক্ষণ বিবেচনায় নিচের ঔষধ সমুহ হতে সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব হলে দাদেরমত কঠিন রোগও আরোগ্র হয়।

দাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত সদৃশ ঔষধ নির্বাচন

Ø ব্যারাইটা কার্ব

গন্ডমালা ধাতুগ্র স্হ শিশুর মাথায় দাদ হলে এবং মাথার চুল ঝড়ে পরলে ব্যাবাইটা কার্ব উপযোগী ।

Ø ক্যালকেরিয়া কার্ব

স্ক্রুফুলা ধাতুগ্র স্হ মোটা থলথলে যে কোন রোগীর মাথায় দাদ হলে, মোটা মামড়ী পড়লে, হলুদাভ পুজ জন্মিলে তবে এই ঔষধটি উপযোগী।

Ø নেট্রাম কার্ব

হাতে, পিঠে, নাক-মুখে, ঠোটে দাদ হলে ভীষণ চুলকানী, ঘর্ষনে ও ঠান্ডায় আরাম বোধ হলে উপযোগী ।

Ø নেট্রাম মিউর

কনুই, জানু, অন্ডকোষ ও উরুতে দাদ ভয়ানক চুলকানী, রসঝলে, লবন প্রীয় রোগীর জন্য অত্যন্ত কার্য্করী।

Ø সিপিয়া

কনুই, জানু, হাত-পা, গ্রীবা, কানের পাশে, কোমড়ে দাদ, অত্যন্ত চুলকানী জ্বালা আইশ উঠে, গর্ভাবস্হায়, ঋতুকালে, শিশু লালন কালে বৃদ্ধি হলে সিপিয়া উপযোগী।

Ø টেলুরিয়াম

সর্ব-শরীরে দাদ হলে, একটি বৃত্তকে ছেদ করে আরেকটি বৃত্ত তৈরী হলে এভাবে সমস্ত শরীর ছড়িয়ে পড়লে এটি অত্যন্ত কার্য্করী।

Ø গ্রাফাইটিস

মোটা দেহ মোটা মল মোটা রস ঝরে এরুপ রোগীর দাদে গ্রাফাইটিস উপযোগী। দাদ কানের পশ্চাতে শুরু হইয়া গলা পর্যন্ত ছড়াইয়া পরে। দাদ হতে প্রচুর চটচটে রস ঝরে। মধুর মত রস ঝরে। অত্যধিক চুলকায়, জ্বলে। দাদ কান মাথা, হাত পায়ে ছড়াইয়া পরে, চামড়া ফেটে যায়। ক্ষত স্হানে কোন বেদনা থাকে না। এইরুপ দাদে গ্রাফাইটিস উপযোগী।

Ø পেট্রোলিয়াম

মুখে, মাথায়, অন্ডকোষে হলুদাভ সবুজ মামড়ী যুক্ত দাদ ও গভীর ফাটলযুক্ত একজিমা প্রতি বছর শীতকালে আবির্ভাব হলে এবং গ্রীস্ম কালে অপনা আপনি সেরে গেলে পেট্রোলিয়াম উপযোগী।

Ø সিপিয়া

যে কোন স্থানে লাল জমির উপর ফুস্কুরী জন্মে। অত্যধিক চুলকায় এবং চুলকাইলে জ্বলে। প্রথমে শুষ্ক থাকে পরে দ্রুত ছড়াইয়া পড়ে এবং দুর্গন্ধ যুক্ত রস ঝড়ে। তাহা শুকাইয়া মামড়ী পড়ে পরে ফাটে ও ঝড়ে পড়ে। এই লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য সিপিয়া উপযোগী।

Ø মেজেরিয়াম

মাথা হতে সকল স্হানেই দাদ প্রকাশ পাইতে পারে এবং ক্ষতের উপর শুষ্ক চামড়ার ন্যায় মোটা মামড়ী পড়ে। এর নিচে পুজ জন্মে। মাথায় ভয়ানক চুলকানী চুল জড়িয়া যায়। চুলকাইলে চুলকানি আরো বাড়ে। শিশু চুলকাইয়া মাথার চামড়া রক্তাক্ত করে। তাপে চুলকানী বাড়ে। এই রোগীর জন্য মেজেরিয়াম প্রয়োজন।

Ø আর্সেনিক এলবম

মস্তক মুখমন্ডল, পায়ে, শুস্ক আইশযুক্ত উদ্ভেদ, হাজাকারক ও দুর্গন্ধ যুক্ত রসসহ অসহ্য চুলকানি ও জ্বালা। রাতে ঠান্ডায় বৃদ্ধি গরম তাপে আরাম। যে রোগীর ধাতুগত আর্সেনিকের মিল পাবেন তার দাদে অত্যন্ত কার্যকর।

বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে দাদের একক ঔষধ নির্বাচন

TINEA

FAVOSA (favus) (See Scalp - Head.) -- Agar., Ars. iod., Brom., Calc. c., Dulc., Graph., Hep., Jugl. r., Kali c., Lappa, Lyc., Med., Mez., Oleand., Phos., Sep., Sulphur. ac., Sul., Ustil., Vinca, Viola tr.

VERSICOLOR (chromophytosis) -- Bac., Chrysar., Mez., Nat. ars., Sep., Sul., Tellur.

TRICHOPHYTOSIS - ringworm (See Scalp - Head.) -- Ant. c., Ant. t., Ars., Bac., Calc. c., Calc. iod., Chrysar., Graph., Hep., Jugl. c., Jugl. r., Kali s., Lyc., Mez., Psor., Rhus t., Semperv. t., Sep., Sul., Tellur., Tub., Viola tr.

Intersecting rings [in] over great portion of body; fever; great Constitutional disturbances -- Tellur.

Isolated spots [in] on upper part of body -- Sep.

Ringworm (tinea capitis) (See Skin.) -- Ars., Bac., Bar. m., Calc. c., Chrys., Dulc., Graph., Kali s., Mez., Petrol., Psor., Sep., Sil., Sul., Tellur., Tub., Viola tr.

দাদ এর জন্য প্রয়োজনিয় বাইয়োকেমিক ঔষধের লক্ষণ ভিত্তিক আলোচনা

Ø ক্যালকেরিয়া সালফ

ত্বকের উপর আইস উঠে, চামড়া শুষ্ক থাকে, কোন চর্ম পীড়া বসে গিয়ে দাদের উৎপত্তি হলে চর্ম উত্তপ্ত খসখসে, জ্বালাপোড়া ভাব হলে, মাথার উপর দাদ হলে বেশী উপযোগী।মাত্রা ২০০ শক্তির চার বড়ি দিনে একবার শিশুদের অর্ধেক মাত্রা।

Ø নেট্রাম সালফ

যে সকল দাদ একবার শুষ্ক আবার রসাল হয়ে উঠে অর্থাৎ যখন রসাল থাকে তখন মৃতবঃ যখন রসাল হয় তখন সজীব।সজীব অবস্হায় চুলকানী থাকে।মাত্রা ২০০শক্তির ৪ বড়ি দিনে একবার শিুদের অর্ধেক।

Ø ক্যালকেরিয়া সালফ

যে দাদ কখনো সাড়ে না। মনে হয় একেবার সেড়ে গিয়াছে ক্তিু পুনরায় দেখা দেয় সেই সকল দাদের চিকিৎসায় ক্যালকেরিয়া সালফ উপযোগী। মাত্রা:২০০শক্তির চার বড়ি দিনে একবার শিশুদের অর্ধেক মাত্রা।

উসংহার

হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা। রোগের ধরন স্থান, রোগীর মানসিক অবস্থা বিবেচনায় সঠিক ঔষধ নির্বাচন করলে দ্রুত আরোগ্য হয়। কেহ একা একা ঔষধ কিনে খাবেন না এবং বাজার হতে কোন প্রকার মলম কিনে ব্যবহার করবেন না। এতে হিতে বিপরিত হতে পারে।

ইভা হোমিও হল

ডা. ইয়াকুব আলী সরকার

গভঃ রেজিঃ নং:২৩৮৭৬

বাইপাইল, সাভার, ঢাকা ।

মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৬৬

 

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বাইয়োকেমিক ঔষধের মেজিক



ডায়াবেটিস কি?
ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। এই রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়। সুস্থ লোকের রক্তে প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৫.৬ মিলি মোলের কম এবং খাবার দুই ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম থাকে। অভুক্ত অবস্থায় রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.১ মিলি মোলের বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোলের বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।
ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স কি ?
ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। কিন্তু যা সঠিকভাবে কাজ করে না অর্থাৎ শরীরে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা সঠিকভাবে কমাতে পারে না। কোনো ব্যক্তির শরীরে ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স হলে পরবর্তীতে তার ডায়াবেটিস দেখা দেয়, সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স হলে সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, তন্ত্রাচ্ছন্ন ভাব থাকে। মস্তিষ্কস্থূলতা দেখা দেয়, ওজন বাড়ে। শরীরে চর্বি জমে, রক্তচাপ বাড়ে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিসের কারণ, লক্ষণ ও জটিলতা :
কার্বোহাইড্রেটের বিপাকক্রিয়ার গোলযোগের কারনে ডায়াবেটিস হয় ।দেহে ইনসুলিনের অভাব ঘটে ।ইনসুলিনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায় ।গ্লুকোজের ওসমোটিক ক্রিয়ার ফলে পলি ইউরিয়া জন্মায় ।এর ফলে শরীরের শক্তি ও পুষ্টির অভাব হয় ।রোগীর শরীরে চুলকানী,ঘন ঘন প্রস্রাব হয় জ্বালাপোড়া করে,যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া ,মাংশপেশীর সংকোচন শক্তির ঘাটতি হয়,চামড়া শুস্ক,খসখসে হয়,হজমে গোলযোগ দেখা যায়,মেজাজ খিটখিটে হয়,লিভারের রোগ,দৃষ্টি শক্তির অভাব হয়,রক্তচাপ বাড়ে,যৌন দুর্বলতা তথা ধ্বজভংগ রোগ হয়,মাথার চুল পড়া,কিডনীরোগ হয় মোট কথা শরীরের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়।
সংক্ষেপে ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ
ক. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
খ. খুব বেশি পিপাসা লাগা
গ. বেশি ক্ষুধা পাওয়া
ঘ. যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
ঙ. ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা
চ. ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
ছ. খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া
জ. চোখে কম দেখা।
ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় উপায়
রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার ঐনঅ১প% পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে হয়। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোলের কম থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিলি মোল বা তার বেশি হলে এবং খাবার খাওয়ার অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোল বা তার বেশি হলে অথবা রক্তের ঐনঅ১প ৬.৫%-এর বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ ও তাদের পার্থক্যসমূহ
টাইপ-১, ২. টাইপ-২, ৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। ৪. অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণী।
টাইপ-১
এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতেই হয়। অন্যথায় রক্তের শর্করা অতি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে অম্লজাতীয় বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
টাইপ-২
এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ত্রিশ বছরের ওপরে হয়ে থাকে। আজকাল ত্রিশ বছরের নিচেও এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দেখা দিচ্ছে ও দিনে দিনে বেড়ে চলছে। এদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়। তবে, প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশন না দিলে টাইপ-১ রোগীর মতো এদের বিষক্রিয়া হয় না। অর্থাৎ এরা ইনসুলিন নির্ভরশীল নয়। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব।
এখন বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগটি মানবদেহে দ্রুত বাড়ছে। লাখো মানুষ শর্করার মাত্রার বাড়ার কারণে এ রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের যে কয়টি উপায় রয়েছে তা হলো:ব্যায়াম,খাদ্যনিয়ন্ত্রন,স্বাস্হবিধি পালন,সঠিকখাদ্য তালিকা,ধ্যান ইত্যাদি।
খাদ্য:নিচের খাদ্যগুলি আপনার খাদ্যতালিকায় রাখলে আপনার ডায়াবেটিস সহজেই নিয়ন্ত্রনে থাকবে।
নয়নতারা খুব পরিচিত একটি ফুল। এ ফুলগাছের সব অংশই তেতো। প্রতিদিন সকালে দু’টি পাতা খালি পেটে চিবিয়ে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে।তেতো করলা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
মেথি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বীজ। মেথি দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ।এটি হজমে খুব সহায়ক। মেথি গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিরাতে রাতে দুই টেবিল চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি আলাদা করে খালি পেটে এই পানি পান করুন। এতে ডায়াবেটিসহ বিভিন্ন রোগের উপকার পাবেন।তুলসি অ্যান্টি -অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং নিম পাতার রয়েছে ওষুধি বৈশিষ্ট্য। নিমপাতা ও তুলসি পাতা ডায়াবেটিস নিরাময়ে ভালো কাজে দেবে। পাঁচটি পুদিনা পাতা ও নিমপাতা পানিতে ধুয়ে খালি পেটে চিবিয়ে খেলে ভালো উপকার পাবেন।কালো জাম গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবচেয়ে ভালো ফল হিসেবে অন্যতম।ঢেঁড়স ফাইবারসমৃদ্ধ সবজি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস নিরাময় করতে রাতে এক গ্লাস পানির মধ্যে একটি ঢেঁড়স কেটে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে গ্লাস থেকে ঢেঁড়স তুলে খালি পেটে এই পানি পান করুন।মিষ্টি কুমড়া অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। ডায়াবেটিক রোগীরা এ সবজি খেলে তাদের ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাছাড়া মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। ফলে চোখের সমস্যা দূর করে ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
হাটা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে শর্করা প্রতিরোধ করতে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা। প্রথমে ধীরে ধীরে পরে জোরে হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে ক্যালোরি ও অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।করবে।
ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বাইয়োকেমিক ঔষধ নির্বাচনের গাইড লাইন :
*ক্যালকেরিয়া ফস:রোগী ঘনঘন প্রস্রাব,পরিমানে বেশী প্রস্রাব,হাড় ও পেশীতে বেদনা,সমস্ত শরীর ঠান্ডা ভাব থাকে ।উক্ত লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য প্রয়োগ করলে স্বাভাবিক জীবন সম্ভব।মাত্রা:6x,12x,শক্তির ঔষধ বড়দের চার বড়ি,ছোটদের দুই বড়ি দিনে খাওয়ার পরে চার বার গরম পানিতে খাইতে হবে।
* ফেরম ফস:-রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান কম,শেরীরের যে কোন অংশের রক্তক্ষরণ,বার বার প্রস্রাবের বেগ,মুত্রথলিতে বেদনা,শরীর দুর্বলতা লক্ষনগুলি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে এই ঔষধটি দিবেন রোগ লক্ষণ দুর হবে ।।মাত্রা:6x,12x,শক্তির ঔষধ বড়দের চার বড়ি,ছোটদের দুই বড়ি দিনে খাওয়ার পরে চার বার গরম পানিতে খাইতে হবে।
*কেলি ফস:-রোগী অত্যন্ত স্নায়ুবিক দুর্বল,কাজে কর্মে উৎসাহহীনতা,মনমরা ভাব,ক্লান্তি বোধ,অসারে মুত্রত্যাগ, পিঠে বেদনা,হাত পা অবস,পক্ষাঘাতগ্রস্হ যৌন দুর্বলতা লক্ষনগুলি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে এই ঔষধটি দিবেন রোগ লক্ষণ দুর হবে রোগী সুস্হ্যতা বোধ করবে।।মাত্রা:6x,12x,শক্তির ঔষধ বড়দের চার বড়ি,ছোটদের দুই বড়ি দিনে খাওয়ার পরে চার বার গরম পানিতে খাইতে হবে ।
*নেট্রাম ফস:-যে রোগীর প্রস্রাবে ল্যাকটিক এসিডের পরিমান বৃদ্ধি পায়,শর্করার পরিমান বৃদ্ধি পায়,টক উদগার উঠে,হাটু হাত পার গাউট বেদনা হয়,সেইসকল রোগীর সুগারের পরিমান কমাইতে জরুরী প্রয়োজন ও উপরে উল্লেখিত লক্ষনগুলি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে এই ঔষধটি দিবেন রোগ লক্ষণ দুর হবে রোগী সুস্হ্যতাবোধ করবে।।মাত্রা:6x,12x,শক্তির ঔষধ বড়দের চার বড়ি,ছোটদের দুই বড়ি দিনে খাওয়ার পরে চার বার গরম পানিতে খাইতে হবে।
*নেট্রামসালফ:-লিভারদোষযুক্ত,ঘনঘনমুত্রত্যাগ,কিডনীরোগী,প্যানক্রিয়াসের সমস্যাসহ,মুত্রে প্রচুর সুগার নি:স্বরণ , উল্লেখিত লক্ষনগুলি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে এই ঔষধটি দিবেন রোগ লক্ষণ দুর হবে রোগী সুস্হ্যতাবোধ করবে।।মাত্রা:6x,12x,শক্তির ঔষধ বড়দের চার বড়ি,ছোটদের দুই বড়ি দিনে খাওয়ার পরে চার বার গরম পানিতে খাইতে হবে।
*কেলি মিউর :-জিহ্বাহ সাদা কোষ্ঠবদ্ধ,উল্লেখিত লক্ষনগুলি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে এই ঔষধটি দিবেন রোগ লক্ষণ দুর হবে রোগী সুস্হ্যতাবোধ করবে।।মাত্রা:6x,12x,শক্তির ঔষধ বড়দের চার বড়ি,ছোটদের দুই বড়ি দিনে খাওয়ার পরে চার বার গরম পানিতে খাইতে হবে।
বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন সাত(৭) নংঃ সাধারনত: সকল ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রেই দেওয়া যায়।
অর্গানন অব মেডিসিন অনুসারে রোগীর সকল লক্ষণ সমষ্টি বিবেচনায় কি ঔষধ দেয়া প্রয়োজন সেই বিষয়টি দক্ষ ডাক্তারই জানেন।আমার লেখা নতুন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগনের উপযোগী করে।কেউ যদি লেখা পড়ে ডাক্তারী শুরু করেন তবে ভুল করবেন।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একটি জটিল ঔষধ নির্বাচন পদ্ধতি। আপনারা কখনও একা একা ঔষধ কিনে ডাক্তারী করবেন না।ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

ডা: ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইর,সাভার,ঢাকা।
গঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

নাকের পলিপাসের বাইয়োকেমিক চিকিৎসা



নাকের পলিপাসের বাইয়োকেমিক চিকিৎসা।

নাকের ভিতর স্লেষ্মাময় স্ফিতিকে পলিপাস বলে।

পলিপাস দুই প্রকার যথা 

১) বৃন্তহীন পলিপাস 

২)বৃন্ত যুক্ত পলিপাস।
কারণ: ঠাণ্ডায় বা সর্দি লাগিলে ইহারা প্রায়ই আকারে বৃদ্ধি পাইয়া শ্বাসগ্রহণে ব্যাঘাত জন্মায় এবং সর্দি আরোগ্য হইলে বৃন্তের সৃষ্টি হয়।কখনও ক্ষুদ্রায়তন হইয়া থাকে এবং কখনও বা বর্ধিত অবস্থায় থাকিয়া ক্রমাগত অসস্হির কারণ হইয়া থাকে।ধমনী ও কৌষিক তন্তু যুক্ত সবৃন্ত পলিপাস হইতে কখনও কখনও রক্ত স্রাব হইয়া থাক।


নাকের পলিপাসে ব্যবহৃত বাইয়োকেমিক ঔষথের পার্থক্য বিচার:

*ক্যালকেরিয়া ফস 
ক্যালকেরিয়া ফসের অভাবহেতু এইরোগ হলে এটিই একমাত্র ঔষধ ।পুরান সর্দিপ্রবন রোগী ঘ্রানহীণ ,বৃন্তযুক্ত পলিপাসের প্রধান ঔষধ ।ইহা বাহ্য ব্যবহারও হয় ।মাত্রা :৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে ।

*নেট্রাম মিউর 
লবন প্রীয় রোগীর সর্দি,হাছিসহ বৃন্তহীণ পলিপাস থাকলে এবং রোগী ঘ্রাণশক্তিহীন হলে এইঔষধ অত্যন্ত উপকারী।ইহা বাহ্য ব্যবহৃত হয়।মাত্রা:৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।

*সাইলেসিয়া 
শ্লেষ্মা ময় পলিপাসের রোগীর, সাইলেসিয়ার ধাতুগত মিল থাকিলে বৃন্তহীন পলিপাসে ব্যবহার করলে আরোগ্য হয়।মাত্রা :৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।

*কেলি সালফ 
বৃন্ত যুক্ত ও বৃন্তহীণ উভয় প্রকার পলিপাসের রোগীর শরীরের চামড়া শুষ্ক,কর্কশ ও অপরিস্কার থাকলে এবংরেগীর যে কোন স্রাব আঠাল,পিচ্ছিল,চটচটে হলুদ বর্নের হলে অত্যন্ত কার্যকরী ।মাত্রা:৩,৬,১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।

উপদেশঃ পলিপাসের রোগীর নাকের ভিতরে পানি দ্বারা পরিস্কার রাখা জরুরী।অনুই আংগুল দ্বারা নাকর ভিতবে পলিপাস ম্যাসেস করলে উপকার হয়।
বাইয়োকেমিক চিকিৎসা মতে সঠিক ঔষধ নির্বাচন করে সঠিক নিয়মে প্রয়োগ করিলে উক্ত রোগ আরোগ্য হয়।
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

হোমিওপ্য্যাথিক ঔষধের মাত্রা বা শক্তি



Homeopathic Medicine Power and Dose.

হোমিওপ্যাথি ঔষধের মাত্রা বা শক্তি ঃ
হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান।মনে রাখতে হবে যে,রোগের লক্ষণ গুলোই হলো রোগের প্রকৃত পরিচয় পাওয়ার একমাত্র রাস্তা।তাই রোগের শারিরীক লক্ষণ সমূহ,মানসিক লক্ষণ সমূহ এবং রোগীর ব্যক্তিগত লক্ষণ সমূহ বুঝতে না পারলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলি সংগ্রহ করতে না পারলে,সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব হয় না।সে ক্ষেত্রে হাজার বার ঔষধ পাল্টিয়ে এবং হাজার ডোজ ঔষধ খেয়েও সামান্য ছোটখাট রোগও সারানো যায় না।আবার মারাত্মক অসুখ-বিসুখ কিংবা অনেক বছরেরও পুরনো রোগ-ব্যাধিও মাত্র এক ডোজ ঔষধে নির্মূল হয়ে যায় যদি লক্ষণের সাথে পুরোপুরি মিলিয়ে ঔষধ দেওয়া যায়।রোগের নাম নয়,বরং রোগ এবং রোগীর সমস্ত লক্ষণ সমূহের উপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।কারণ হোমিওপ্যাথিতে রোগের নামে কোন ঔষধ নাই।একই রোগের জন্য সব রোগীকে একই ঔষধ দিলে কোন কাজ হবে না।যেমন ধরুন ডায়েরিয়ার কথা,ডায়েরিয়ার সাথে যদি পেটে ব্যথা থাকে তবে এক ঔষধ আর যদি পেটে ব্যথা না থাকে তবে অন্য ঔষধ।ডায়েরিয়ার ফলে যদি রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে তবে এক ঔষধ আর যদি দুর্বল না হয় তবে অন্য ঔষধ।ডায়েরিয়া শুরু হওয়ার কারণের ওপর ভিত্তি করেও ঔষধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং ব্যথা বা পায়খানার রঙ,গন্ধ, ধরণ বা পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেও ঔষধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আপনার রোগের লক্ষণ সমূহ যে-ঔষধের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পাওয়া যাবে, সেটি হবে আপনার উপযুক্ত ঔষধ।মনে করুন আপনার জ্বর হয়েছে,যদি দেখেন যে আপনার জ্বরের দুইটি লক্ষণ ব্রায়োনিয়া ঔষধটির সাথে মিলে যায় অন্য দিকে তিনটি লক্ষণ বেলেডোনা ঔষটির সাথে মিলে যায়,তাহলে বেলেডোনাই হবে আপনার উপযুক্ত ঔষধ।আবার শারীরিক লক্ষণের চাইতে মানসিক লক্ষণের গুরুত্ব বেশী।কাজেই যদি দেখেন যে,আপনার শারীরিক লক্ষণসমূহ রাস টক্স ঔষধটির সাথে মিলে যায় কিন্তু মানসিক লক্ষণ একোনাইট ঔষধটির সাথে মিলে যায়,তাহলে একোনাইট ঔষধটি-ই আপনার খাওয়া উচিত।হোমিওপ্যাথিতে একবারে একটির বেশী ঔষধ খাওয়া নিষিদ্ধ।মনে করুন,আপনার আমাশয় হয়েছে।তো আমাশয় হলে সাথে পেট ব্যথাও থাকে এবং কয়েকবার পায়খানা করলে শরীরে দুর্বলতাও এসে যায়।এক্ষেত্রে এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে তিনটি ঔষধ দিবে;একটি আমাশয়ের জন্য,একটি পেটব্যথার জন্য এবং স্যালাইন দিবে দুর্বলতার জন্য।কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে যদি ঠিকমতো লক্ষণ মিলিয়ে দিতে পারেন তবে একটি ঔষধেই আপনার আমাশয়,পেট ব্যথা এবং দুর্বলতা সেরে যাবে।এজন্য তিনটি ঔষধ লাগবে না।ভাষাজ্ঞানের অভাবে অবুঝ শিশুরা এবং পশুপাখিরা তাদের অনেক কষ্টদায়ক রোগ লক্ষণের কথা বলতে পারে না।রোগের যন্ত্রণায় বেঁহুশ ব্যক্তিও তাদের কষ্টের কথা বলতে পারে না।এইসব ক্ষেত্রে আমাদেরকে বুদ্ধি খাটিয়ে রোগীর লক্ষণসমূহ আন্দাজ করে নিতে হবে।প্রতিটি রোগের সাথে যতগুলো ঔষধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে,তার সবগুলো প্রথমে পড়ে নিন এবং তারপর যে ঔষধটি আপনার রোগ লক্ষণের সাথে সবচেয়ে বেশী মিলে যায়,সেটি খাওয়া শুরু করুন।
ঔষধ কেনার নিয়ম-কানুন ? 
জার্মানী,ফ্রান্স,যুক্তরাষ্ট্র,সুইজারল্যাণ্ড,পাকিস্তান,ভারত প্রভৃতি দেশে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ তৈরী হয়ে থাকে।বাংলাদেশেও প্রায় আটাত্তরটির মতো হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানী আছে।হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কেনার সময় দোকানদারকে বলবেন জার্মানীর অথবা আমেরিকান ঔষধ দেওয়ার জন্য। কেননা জার্মানীর এবং আমেরিকান ঔষধের কোয়ালিটির ওপর সবারই আস্থা আছে।হোমিওপ্যাথিক মূল ঔষধটি তৈরী করা হয় তরল আকারে।কিন্তু সেগুলো রোগীদের দেওয়া হয়ে থাকে পানিতে মিশিয়ে,(চিনির) বড়িতে মিশিয়ে,দুধের পাউডারে মিশিয়ে কিংবা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি মূল ঔষধটিও দেওয়া হয়।তবে সরাসরি মূল ঔষধটি কেনা বা খাওয়া উচিত নয়।কেননা এতে ঔষধ বেশী খাওয়া হয়ে যায়;ফলে তার সাইড-ইফেক্টও বেশী হতে পারে।তাছাড়া শিশির কর্ক টাইট করে লাগাতে ভুলে গেলে ঔষধ উড়ে যায় এবং মুখ খুলে বা শিশি ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে গেলে সেগুলো আর উঠানো যায় না।কাজেই ঔষধ চিনির বড়িতে কেনা এবং খাওয়াই বুদ্ধিমানের পরিচায়ক।এক ড্রাম, দুই ড্রাম, হাফ আউন্স,এক আউন্স ইত্যাদি পরিমাণে ঔষধ ক্রয় করবেন।ঔষধ কেনার সময় এই ভাবে বলতে হবে যে,ডাক্তার সাহেব!আমাকে অমুক ঔষধটি অমুক শক্তিতে (যেমন Nux vomica 30) বড়িতে এক ড্রাম দেন।(কারণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধের যারা ব্যবসা করেন তারা সবাই গভার্নমেন্ট রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা) 
হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মেয়াদ থাকে কত দিন? 
মূল হোমিও ঔষধ যা তরল আকারে তৈরী করা হয়ে থাকে,তার কোন এক্সপাইরি ডেট নাই অর্থাৎ এগুলো কখনও নষ্ট হয় না।কেননা মূল হোমিও ঔষধটি ইথাইল এলকোহল বা রেকটিফাইড স্পিরিটে তৈরী করা হয়ে থাকে।আর এলকোহল বা স্পিরিট যেহেতু কখনও নষ্ট হয় না,সেহেতু মূল হোমিও ঔষধও কখনো নষ্ট হয় না। এগুলো আপনি কেয়ামত পযর্ন্ত নিশ্চিনে- ব্যবহার করতে পারবেন।কিন্তু মূল ঔষধটি যখন আপনি চিনির বড়িতে,পাউডারে বা পানিতে মিশিয়ে কিনে আনবেন, সেটি আপনি অনন্তকাল ব্যবহার করতে পারবেন না।কেননা সেগুলো কয়েক বছর পরেই নষ্ট হয়ে যায়।যেমন আপনি একটি ঔষধ চিনির বড়িতে কিনে আনলেন এবং পাঁচ বছর পরে দেখলেন সাদা চিনির বড়িগুলি হলুদ বা লাল বা কালো হয়ে গেছে।সেক্ষেত্রে ঔষধগুলি ফেলে দেওয়া উচিত;কেননা এগুলো যে নষ্ট হয়ে গেছে,তাতে কোন সন্দেহ নেই।
কত শক্তির ঔষধ খাওয়া উচিত ?
 হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তিগুলো হলো ৩,৬,১২,৩০, ২০০,১০০০ (বা 1M),১০০০০ (বা 10M),৫০০০০ (বা 50M),১০০,০০০ (বা CM) ইত্যাদি। সবচেয়ে নিম্নশক্তি হলো মাদার টিংচার বা কিউ (Q) এবং ইহার শক্তিকে ধরা হয় শূণ্য (zero)।তাদের মধ্যে ৩,৬,১২,৩০ কে বলা হয় নিম্নশক্তি আর ২০০ শক্তিকে বলা হয় মধ্য শক্তি।পক্ষান্তরে ১০০০,১০০০০,৫০০০০ এবং ১০০০০০ কে ধরা হয় উচ্চ শক্তি হিসাবে।নতুন রোগ বা ইমারজেন্সী রোগের ক্ষেত্রে নিম্নশক্তি এবং মধ্যশক্তির ঔষধ সবচেয়ে ভালো কাজ করে।পক্ষান্তরে উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করতে হয় অনেক দিনের পুরনো রোগে অর্থাৎ ক্রনিক ডিজিজে।হোমিওপ্যাথির আবিষ্কারক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মতে,৩০ শক্তি হলো স্ট্যান্ডার্ড শক্তি।হ্যাঁ, ঔষধের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহের অনেকগুলো যদি রোগীর মধ্যে নিশ্চিত পাওয়া যায়, তবে এক হাজার (1M) বা দশ হাজার (10M) শক্তির ঔষধও খেতে পারেন।কিন্তু উচ্চ শক্তির ঔষধ অপ্রয়োজনে ঘনঘন খেলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ শক্তির ঔষধ খাওয়া উচিত নয়। কেননা সেক্ষেত্রে ঔষধের নির্বাচন ভুল হলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।একই শক্তির ঔষধ সাধারণ একবারের বেশী খাওয়া উচিত নয়।অনেক সময় দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বার খেলেও উপকার হয়।কিন্তু ইহার পর আর ঐ শক্তির ঔষধে তেমন কোন উপকার হয় না।হ্যানিম্যানের নির্দেশ হলো,প্রতিবার ঔষধের শক্তি বৃদ্ধি করে খেতে হবে।আপনার কাছে যদি একাধিক শক্তির ঔষধ না থাকে, তবে একমাত্রা (এক ফোটা বা ৪/৫ টি বড়ি) ঔষধকে আধা বোতল পানিতে মিশিয়ে প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে জোরে দশবার ঝাঁকি দিয়ে ঔষধের শক্তি বাড়িয়ে খান।(সাধারণত হাফ লিটার বা তার চাইতেও ছোট বোতল ব্যবহার করা উচিত।সাধারণত একই বোতলে একবারের বেশী ব্যবহার করা উচিত নয়।তবে অন্য কোন বোতল না থাকলে সেটিকে অবশ্যই সাবান দিয়ে এবং গরম পানি দিয়ে ভালো করে অনেকবার ধুয়ে নেওয়া উচিত। 
ঔষধ কি পরিমাণ খেতে হবে ? 
পূর্ণ বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে ঔষধ বড়িতে খেলে সর্বোচ্চ ৪/৫ (চার/পাঁচ) টি বড়ি করে খাবেন এবং তরল আকারে মূল ঔষধটি খেলে এক ফোটা করে খাওয়াই যথেষ্ট। তের বছর বয়স পযর্ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ঔষধ বড়িতে খেলে ২/৩ (দুই/তিন) টি বড়ি করে খাবেন এবং তরল আকারে মূল ঔষধটি খেলে আধা ফোটা করে খাবেন। পক্ষান্তরে দুয়েক দিন বা দুয়েক মাসের একেবারে ছোট নবজাতক শিশুকে ঔষধ বড়িতে খাওয়ালে ১/২ (এক/দুইটি) টি বড়ি করে খাওয়াবেন এবং তরল আকারে মূল ঔষধটি খাওয়ালে এক ফোটার চার ভাগের এক ভাগ খাওয়ানোই যথেষ্ট।(এক ফোটা ঔষধকে এক চামচ পানির সাথে ভালো করে মিশিয়ে তার অর্ধেকটি ফেলে দিয়ে বাকী অর্ধেকটি খেলেই আধা ফোটা ঔষধ খাওয়া হবে।তেমনিভাবে এক ফোটা ঔষধকে এক চামচ পানির সাথে ভালো করে মিশিয়ে তার চার ভাগের তিন ভাগ ফেলে দিয়ে বাকীটুকু খেলেই এক ফোটার চার ভাগের এক ভাগ ঔষধ খাওয়া হবে।)কখনও ভাববেন না যে, এতো কম করে ঔষধ খাওয়ালে রোগ সারবে কিনা ? মনে রাখবেন ঔষধ বেশী খাওয়ালে বরং রোগ বেড়ে যেতে পারে।এজন্য বিশেষত শিশুরা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হলে তাদেরকে নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশী ঔষধ খাওয়াবেন না,তাহলে তাদের রোগ বেড়ে গিয়ে জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হতে পারে।ঔষধ কিভাবে খেতে হবে ? ঔষধ খেতে হবে প্রধানত মুখ দিয়ে। যত ইমারজেন্সী সমস্যাই হোক না কেন,মুখে খেলেই চলবে।ঔষধের নির্বাচন যদি সঠিক হয়, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে সেটি মুখে খেলেও একেবারে হাই পাওয়ারের ইনজেকশানের চাইতেও অন্তত একশগুণ দ্রুত কাজ করবে।ইনজেকশান দেওয়া,পায়খানার রাস্তা দিয়ে ঔষধ ঢুকানো বা এই জাতীয় কোন শয়তানী সিষ্টেমের হোমিওপ্যাথিতে স্থান নেই।যদি রোগীর দাঁত কপাটি লেগে থাকে বা বমির জন্য ঔষধ গিলতে না পারে,তবে ঔষধ মুখে বা ঠোটের ফাঁকে রেখে দিলেই চলবে। আবার ঔষধকে একটি বোতলে নিয়ে একটু পানির সাথে মিশিয়ে জোরে কয়েকটা ঝাঁকি দিয়ে তার বাষ্প নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নিলেও কাজ হবে।আরেকটি পন্তুা আছে,তাহলো ঔষধকে একটু পানিতে মিশিয়ে পরিষ্কার চামড়ার ওপর মালিশ করা (যেখানে কোন চর্মরোগ নেই)।যে-সব শিশু বুকের দুধ খায়,তাদের যে-কোন রোগ-ব্যাধিতে তাদেরকে ঔষধ না খাইয়ে বরং তাদের মা-কে খাওয়ালেও কাজ হবে।শিশুরা বা মানসিক রোগীরা যদি ঔষধ খেতে অস্বীকার করে,তবে তাদেরকে না জানিয়ে দুধ,পানি,ভাত,চিড়া,মুড়ি,বিস্কিট,ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে ঔষধ খাওয়াতে পারেন।তাতেও কাজ হবে।
ঔষধ কতক্ষণ পরপর খেতে হবে ?
অধিকাংশ নতুন রোগ (acute disease) একমাত্রা হোমিও ঔষধেই সেরে যায়;যদি ঔষধের লক্ষণ আর রোগের লক্ষণ একশ ভাগ মিলিয়ে সঠিক শক্তিতে ঔষধ দেওয়া যায়।

ডাঃ ইয়াকুব সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গো: রেজি নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

বুধবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

নাকের পলিপাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


নাকের পলিপাসের কারণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ



পলিপাস কি ?
নাকের ভিতর স্লেষ্মাময় স্ফিতিকে পলিপাস বলে।
প্রকারভেদ-
পলিপাস দুই প্রকার যথা ১) বৃন্তহীন পলিপাস ২)বৃন্ত যুক্ত পলিপাস।
কারণ-
ঠাণ্ডায় বা সর্দি লাগিলে ইহারা প্রায়ই আকারে বৃদ্ধি পাইয়া শ্বাসগ্রহণে ব্যাঘাত জন্মায় এবং সর্দি আরোগ্য হইলেবৃন্তের সৃষ্টিহয় কখনও ক্ষুদ্রায়তন হইয়া থাকে এবং কখনও বা বর্ধিত অবস্থায় থাকিয়া ক্রমাগত অসস্হিরকারণ হইয়া থাকে।ধমনী ও কৌষিক তন্তু যুক্ত সবৃন্ত পলিপাস হইতে কখনও কখনও রক্ত স্রাব হইয়া থাক।

পলিপাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধসমুহের পার্থক্য বিচারঃ

স্যাঙ্গুনেরিয়া নাইট
এই ঔষধটিকে পলিপাসের পেটেন্ট ঔষধ বলা চলে। এই ঔষধটি ব্যবহার করলে পলিপাস প্রায়ই সেরে যায়।

এলুমিনা
বাম নাসিকার মধ্যে পলিপাস এবং তৎসহ স্নায়বিক শিরঃপীড়া (neuralgic headache) এবং মুখমণ্ডল ও সমগ্র দেহ চর্মের কর্কশতা, কোষ্ঠবদ্ধতা, ক্রমাগত কয়েকদিন আদৌ মলবেগ হয় না ও পরে প্রস্তরের ন্যায় কঠিন মলত্যাগ কালে কিয়ৎ পরিমাণ রক্তপাত হয় এবং মলদ্বারে দপদপ করিতে থাকে, প্রায়শই সর্দি হেতু টনসিলের বিবৃদ্ধি ও কাঠিন্য থাকিলে এলুমিনা উপযোগী।

এপিস মেল
দক্ষিণ বা ডান নাসিকার মধ্যে পলিপাস স্ফীত হইয়া জলপূর্ণ থলীর ন্যায় দেখায় এবং উষ্ণতায় নাসা অবরোধ বৃদ্ধি পায়।সমগ্র নাসিকা লাল ও শোথবৎ স্ফীত দেখায়।


অরাম মেটিলিকাম 
পলিপাস সহ বাম নাসিকায় বেদনা ও উত্তেজনা বোধ, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী হইতে রক্তস্রাব, গলার মধ্যে জ্বালা ও সুড়সুড়ানি, অবসাদ ও দুর্বলতা, আহারের পর নিদ্রালুতা ও নিদ্রাকালে মুখমন্ডলের লালিমা যে রোগীর মধ্যে দেখা যাবে তার জন্য অরাম মেট ্পযোগী।



ক্যালকেরিয়া কার্ব
মোটা থলথলে চেহোরাসহ নিজস্ব বিশিষ্ট ও চরিত্রগত লক্ষণাদি (constitutional symptoms)যুক্ত রোগীদের নাসিকা মধ্যে পলিপাস ও তৎসহ ঘ্রাণশক্তি লোপ। ইহা পলিপাসের শ্রেষ্ঠ ঔষধগুলি মধ্যে অন্যতম।


ক্যালকেরিয়া আয়োড
ক্যাল্কেরিয়া কার্ব ও আয়োডিয়ামের যুক্ত ধাতুগত লক্ষণাদি যুক্ত রোগীদের,যাহারা সর্দি প্রবণ ও যাহাদের শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলি সহজেই আক্রান্ত হইয়া স্ফীত ও কঠিন হয়, বিশেষতঃ যাহাদের টনসিল বৃহদায়তন ও ছিদ্রময় হইয়া মৌমাছির চাকের ন্যায় দেখায় ( honeycombed with little crypts ) তাহাদের নাসিকার মধ্যে পলিপাসে ইহা বিশেষ উপযোগী।

ক্যালকেরিয়া ফস
ক্যাল্কেরিয়া ফস ধাতুগত লক্ষণাদিযুক্ত, নাসিকা মধ্যে অতি বৃহৎ সবৃন্ত পলিপাস, পুনঃ পুনঃ হাঁচি, নাক ঝাড়িলে রক্তস্রাব।

এলিয়াম সেপা
যাহাদের পুনঃ পুনঃ সর্দির আক্রমণ হয় তাহাদের পলিপাস। সর্দির আক্রমণ সময়ে পলিপাস বৃদ্ধি এবং তারজন্য নাসিকার অবরোধ জনিত অস্বস্তি,উষ্ণ গৃহমধ্যে বৃদ্ধি পায় ও উম্মুক্ত বায়ুতে হ্রাস হয়, পুনঃ পুনঃ প্রবল হাঁচিসহ নাসিকা ও চক্ষু হইতে জল নিঃসৃত হইতে থাকে, কখনও কখনও নাসিকা হইতে পলিপাস জনিত রক্তস্রাব, বাম নাসারন্ধে পলিপাস।

কার্বনিয়াম সালফ
নাসিকাগ্রভাগের লালিমা ও জ্বালা,নাসিকামধ্যে অস্বস্তিকর শুষ্কতা, চুলকানি ও অবরুদ্ধতা বোধ ; নাসিকামুলে বেদনা ও জ্বালা, প্রাতে ও সন্ধ্যায় এবং নাক ঝাড়িলে নাসিকা হইতে কালচে রক্তস্রাব, পুনঃ পুনঃ হাঁচি সহ প্রবহমান সর্দি ও শীতার্ততা ইত্যাদি লক্ষণসহ নাসিকা মধ্যে পলিপাস।

ফসফরাস
ইহা সন্ধিবাত ধাতুগ্রস্থ ব্যক্তিগনের নাসিকামধ্যে পলিপাস হইবার উপক্রম হইলে তাহা নিবারণ করিয়া থাকে।দীর্ঘকালস্থায়ী সন্ধিবাতযুক্ত সন্ধিগুলির আড়ষ্টতা, সন্ধিবাতজনিত বেদনা নড়াচড়ায় বৃদ্ধি ও চাপ প্রদানে উপশম, দক্ষিণ নাসারন্ধ মধ্যে পলিপাসজনিত অবরুদ্ধতা বোধ, ঠাণ্ডায় ও শিলাবৃষ্টির পূর্বে বৃদ্ধি, তাপ, চাপ ও ঘর্ষণে উপশম মাথায় চিরুনি দিয়া আঁচড়াইলে মস্তকের যন্ত্রণা হ্রাস।

গ্রাফাইটিস
সিকামধ্যে পলিপাস সহ নাসিকার দৃঢ় ও কোমলাস্থিসমূহ স্পর্শে বেদনা,শীতকালে পুনঃ পুনঃ সর্দির আক্রমণ, শীতল বায়ুতে সর্দির তীব্রতা বৃদ্ধি, নাসিকার পক্ষদ্বয়ে বিদারণ ও তৎসহ জ্বালা, নাসিকা হইতে রক্তযুক্ত শ্লেষ্মা নিঃসরণ, নাসিকার অবরোধ। গাত্রত্বকের অসুস্থতা নিবন্ধন নানা প্রকার চর্মপীড়া ও কোষ্ঠবদ্ধতা প্রবন ব্যক্তিগনের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

ক্যালি বাইক্রম
নাসিকা মধ্যে তরুণ বা দীর্ঘকাল স্থায়ী পলিপাস, নাসারন্ধের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর স্ফীতি সহ নাসিকা অবরোধ ও নাসিকা মধ্যে জ্বালা,রন্ধমধ্যে জ্বালাজনক শুষ্কতা সহ কপালের ছিদ্র মধ্য পর্যন্ত বিস্তৃত চাপপ্রদ বেদনা প্রাতঃকালে দক্ষিণ নাসিকা হইতে রক্ত অথবা রক্তযুক্ত শ্লেষ্মা স্রাব, সন্ধ্যায় প্রবহমান সর্দির প্রকোপ বৃদ্ধি, সর্দির আস্রাবে নাসিকা ও ওষ্ঠ হাজিয়া যায়।

ক্যালি নাইট্রিকাম
ডান সাইটের পলিপাস,দক্ষিণ নাসামধ্যে স্ফীতিসহ নাসিকা মধ্যে জ্বালা, স্পর্শে বেদনা,প্রবল সর্দিসহ নাসা অবরোধ ও ঘ্রাণশক্তি লোপ, নাসামধ্যে অতি বৃহৎ পলিপাস।

নাকে পলিপাসের সদৃশ ঔষধ নির্বাচন
বোরিক রেপার্টরি--

Polypi -- Cadm. s., Calc. c., Calc. iod., Calc. p., Caust., Cepa, Con., Formica, Kali bich., Kali n., Lemna m., Merc. i. r., Nit. ac., Phos., Psor., Sang.Sang. n., Staph., Teucr.Thuya, Wyeth.

কেন্ট রেপার্টরিঃ
++ POLYPUS : All-c.alumn., apis.arum-m., aur., bell., calc-i., calc-p.Calc.carb-s.con.form., graph.hecla., hep., hydr., kali-bi.kali-n.lem-m.lyc., merc-c., merc-i-r.merc., nit-ac., phos.psor.puls., Sang.sep.sil.staph., sulph.,Teucr.thu.

নাকের পলিপাসের বাইয়োকেমিক ঔষধ নির্বাচনের গাইডলাইন :

ক্যালকেরিয়া ফস
ক্যালকেরিয়া ফসের অভাবহেতু এইরোগ হলে এটিই একমাত্র ঔষধ। পুরান সর্দিপ্রবন রোগী ঘ্রানহীণ, বৃন্তযুক্ত পলিপাসের প্রধান ঔষধ।ইহা বাহ্য ব্যবহারও হয়।মাত্রাঃ ৩, ৬, ১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবেন।

নেট্রাম মিউর
লবন প্রীয় রোগীর সর্দি,হাছিসহ বৃন্তহীণ পলিপাস থাকলে এবং রোগী ঘ্রাণশক্তিহীন হলে এই ঔষধ অত্যন্ত উপকারী।ইহা বাহ্য ব্যবহৃত হয়। মাত্রা ৩, ৬, ১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিনবার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।

সাইলেসিয়া
শ্লেষ্মা ময় পলিপাসের রোগীর, সাইলেসিয়ার ধাতুগত মিলথাকিলে বৃন্তহীন পলিপাসে ব্যবহার করলে আরোগ্য হয়মাত্রা ৩, ৬, ১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।

কেলি সালফ
বৃন্ত যুক্ত ও বৃন্তহীণ উভয় প্রকার পলিপাসের রোগীর শরীরের চামড়া শুষ্ক,কর্কশ ও অপরিস্কার থাকলে এবং রোগীর যে কোন স্রাবআঠাল, পিচ্ছিল, চটচটে হলুদ বর্নের হলে অত্যন্ত কার্যকরী। 
মাত্রা- ৩, ৬, ১২x শক্তির বয়স্কদের চারটি ছোটদের দুই বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে গরম পানিতে খাবে।

উপদেশ 
পলিপাসের রোগীর নাকের ভিতরে পানি দ্বারা পরিস্কার রাখা জরুরী, অনুই আংগুল দ্বারা নাকের ভিতরে মালিশ করিলে উপকার হয়।
রোগীর ধাতুগত লক্ষণ, মানসিক লক্ষণ, রোগীর লক্ষণসমষ্টির সাদৃশ্যে সর্বাপেক্ষা অধীক সদৃশ ঔষধ নির্বাচন করতে সক্ষম হলেই দ্রুত রোগ নিরাময় সম্ভব। এ কাজটি অত্যন্ত কঠিন তাই নিজের ঔষধ নিজে নির্বাচন না করে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাহায্য নিন। 
ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী সরকার 
সভাপতি - বাংলাদেশ অনলাইন হোমিওপ্যাথিক ফোরাম।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজি নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের ডাইরি(প্রথম পর্ব)

A diary book of Homeopathic doctor


একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার আজীবন ছাত্র। লেখাপড়া ছাড়া একদিনও চলে না। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একটি মহাসমুদ্র। এই সমুদ্র পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট আর সাধনার প্রয়োজন। প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস জানতে জানতে আগের পড়া স্মৃতির আড়ালে চলে যায়। এই  হাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ লেখাপড়া প্রয়োজনের সময় পেতে বেগ পেতে হয়। আর এই কারণেই একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের হাতের কাছে নোট খাতা বা ডাইরি রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি লেখাপড়া করার সময় যখনই সময় পাই তখনই লেখার সারমর্ম ফেসবুকে শেয়ার করে থাকি। আমার ডাইরিতে লিখে রাখার চেষ্টা করি। আমাদের কাছে যে হোমিওপ্যাথিক বিষয়ক বইগুরো পাই তা থেকে নিজে যা জানতে পাই তা সবাইকে জানাতে চেষ্টা করি। মানব কল্যানে আমার সামান্য শ্রম কাজে লাগবে এই প্রত্যাশায় আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
ü 1*পা ফস্কাইয়া পড়িয়া, হোচট খাইয়া, ভাড়ী দ্রব্য উঠাইতে গিয়া, কোন আঘাত প্রাপ্ত হয়ে গর্ভস্রাবের আশঙ্কায় সদৃশ ঔষধ- আর্ণিকা।
ü 2*গোসলে সালফারের সার্বদৈহিক, রাসটক্সে চর্মরোগ ও বাত, নেট্রাম সাল্ফে হাঁপানি, ক্যালকেরিয়া কার্বে আমবাত ও বাতের বৃদ্ধি।
ü 3*অগ্নিদগ্ধ স্হানে ক্যান্থারিস মাদার এক আউন্স উষ্ণ গরম পানিতে ৪/৫ফোঁটা মিলিয়ে পরিস্কার কাপড়ের টুকরা ভিজিয়ে পট্টি দিলে দগ্ধ স্হানে জ্বালাপোড়া কমে যায় এবং ফোস্কা পড়ে না। দগ্ধ স্হানে ফোস্কা পড়ার পরে আসলে রোগীর জন্য ৬, ৩০, ২০০ শক্তি সেবন করতে দিলে ক্ষত হয় না। দগ্ধ স্হানে ক্ষত সারতে বিলম্ব হলে কষ্টিকাম সেবনে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।
ü 4*গাড়িতে চড়লে রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ কোকুলাস ইন্ডিকা, গাড়িতে উঠলে উপশম হলে সদৃশ ঔষধ এসিড নাইট্রিক।
ü 5*পানি দেখে বা পানির শব্দে রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ: লাইসিন, উজ্জ্বল আলোয় রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ ষ্ট্রামোনিয়াম।
ü 6*শিশুর গায়ে অম্লগন্ধ, বারবার ধৌত করা সত্ত্বেও দুর না হলে সদৃশ ঔষধ:
এসিড সাল্ফ, হিপার সাল্ফ, ম্যাগ কার্ব, রিউম ইত্যাদি।
ü 7*যে সকল রোগীর সকল রোগ বজ্রপাতের সময় ও পুর্বে বৃদ্ধি পায় তাদের সদৃশ ঔষধ: ফসফরাস, সোরিনাম ,মেডোরিনাম, সিপিয়া, রডোডেন্ড্রন।
ü 8*মাথা ব্যাথার সময় জোরে চেপে ধরলে আরামদায়ক সদৃশ ঔষধ পালসেটিলা, গরম কাপড়ে চেপে বাধিয়া রাখিলে আরামে সাইলেসিয়া।
ü 9*থুজা অক্সিডেন্টালের রোগী চিত্র- মনের মাঝে বদ্ধমূল ধারণা, অনিদ্রা, নিদ্রাকালে ঘর্ম, লবন প্রিয়, মৃত ব্যাক্তির স্বপ্ন, আঁচিল ইত্যাদি।
ü 10* রমনীর ঋতুস্রাব সময়ের পূর্বে ও অতিরিক্ত, গর্ভপাতের পর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, অমাবস্যায় একমাত্রা সালফার জরুরি। - ডাঃ লিলি।
ü 11* মৎস্য খাইতে বেশি প্রীয় রোগীর সদৃশ ঔষধ, ফসফরাস, নেট্রাম মিউর, নেট্রাম সাল্ফ, রিউম ইত্যাদি।
ü 12* নেট্রাম মিউরের রোগী সান্ত্বনায় রোগযন্তনা বৃদ্ধি পায়, পালসেটিলার রোগী সান্ত্বনা চায়, আর্জেন্টাম নাই রোগী উৎকন্ঠায় ব্যাকুল।
ü 13*ভিরেট্রাম এলবমের রোগী চিত্র- মল দুর্গন্ধ, ঘর্ম, বমন অতিরিক্ত, অদম্য পিপাসা, অম্ল খাদ্যের ইচ্ছা,উন্মাদন, অশ্লীল বাচালতা ইত্যাদি।
ü 14*মাথায় অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত হলে সদৃশ ঔষধ- ক্যালকেরিয়া কার্ব, স্যানিকুলা, সাইলেসিয়া, ম্যাগনেসিয়া মিউর ইত্যাদি।
ü 15*মাথা ব্যাথার সময় জোরে চেপে ধরলে আরাম দায়ক সদৃশ ঔষধ পালসেটিলা, গরম কাপড়ে চেপে বাধিয়া রাখিলে আরামে সাইলেসিয়া উপযোগী।
ü 16*শরীরের বিশেষ স্থানের মাংসপেশী নেচে নেচে উঠলে সদৃশ ঔষধ- এগারিকাস, ইগ্নেসিয়া, জিঙ্কাম, ক্রোকাস স্যাট ইত্যাদি।
ü 17*ওপিয়ামের রোগীচিত্র- অর্ধনির্মীলিত চক্ষু, নিদ্রালুতা, নাকডাকা, পক্ষাঘাতের মত দুর্বলতা ও অনুভুতিহীন, কোষ্ঠবদ্ধতা, গরমকাতর ইত্যাদি।
ü 18*শিশুর গায়ে অম্লগন্ধ, বারবার ধৌত করা সত্ত্বেও দুর না হলে সদৃশ ঔষধ- এসিড সাল্ফ, হিপার সাল্ফ, ম্যাগ কার্ব, রিউম ইত্যাদি।
ü 19*ঋতুস্রাবের আগে সময় ও পরে স্নায়বিক মাথাব্যথার সদৃশ ঔষধ- ল্যাকেসিস, লিলিয়ান, সিকেলি, ক্রোকাস স্যাট ইত্যাদি।
ü 20*এসিড ফ্লোর ও এসিড পিকরিক ছাড়া আর সকল এসিডের রোগীর স্বাধারন লক্ষণ হলো দুর্বলতা ও শীতকাতরতা।
ü 21*বাত রোগীর কেলি কার্ব প্রথম বৃদ্ধি ছাড়া ক্রিয়া শুরু করে না। রোগ বৃদ্ধি দেখে ঘাবড়ে ঔষধ পাল্টিয়ে ভুল করবেন না।
ü 22*শিশুর দাঁত উঠার সময়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে সদৃশ ঔষধ- ক্রিয়োজোট, ষ্ট্যাফিসাগ্রিয়া, ক্যালকেরিয়া ফ্লোর, ক্যালকেরিয়া ফস ইত্যাদি
ü 23*রোগীর ঢেকুরে পঁচা ডিমের গন্ধ বের হলে সদৃশ ঔষধ- আর্ণিকা মন্টেনা, গ্রাফাইটিস, এন্টিম টার্ট, সোরিনাম ইত্যাদি।
ü 24*প্রস্রাবে ঘোড়ার চোনার মতো ঝাঁঝালো গন্ধ থাকা রোগীর সদৃশ ঔষধ- এসিড নাইট্রিক, এসিড বেঞ্জোয়িক, মেডোরিনাম ইত্যাদি।
ü 25*বোরাক্সের রমনীর গাঢ় স্বেতপ্রদর, মাসিক কম, বাধক, সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা কম, ১/২টি সন্তান হয়, কোঁকড়ানো চুল ইত্যাদি।
ü 26*চুল গুচ্ছ বদ্ধ কোঁকড়ানো রোগীর সদৃশ ঔষধ- বোরাক্স, লাইকোপোডিয়াম, এসিড ফ্লোর, সোরিনাম, টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
ü 27*নানা প্রকার টিকার কুফল যুক্ত রোগীর চিকিৎসা করার প্রারম্ভে এক মাত্রা উচ্চ শক্তির থুজা প্রয়োগে রোগীর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পরে সুনির্দিষ্ট ঔষধ সেবনে রোগ সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে। থুজা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে ব্যর্থ হলে সালফার অথবা সোরিনামের প্রয়োজন হয়। এই সকল ঔষধ বিফলে পাইরোজিনাম ২/১মাত্রা প্রয়োগের ফলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, রোগীর সদৃশ ঔষধটি দ্রুত কার্যকর হবে, রোগীর আদর্শ আরোগ্য লাভ করবে।
ü 28*ভীষণ স্বার্থপর রোগীর সদৃশ ঔষধ- সালফার, আর্সেনিক, লাইসিন, ল্যাকেসিস, পালসেটিলা, সিপিয়া, টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
ü 29*রোগী সামান্য প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না রেগে যায়,সদৃশ ঔষধ- ইগ্নেসিয়া, ফেরামমেট, এনাকার্ডিয়াম, কোকুলাস ইন্ডিকা ইত্যাদি
ü 30*ক্রুদ্ধ স্বভাবের রোগীর সদৃশ ঔষধ- নাক্স ভুমিকা, হিপার সাল্ফ, আর্সেনিক, সোরিনাম, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, এসিড নাইট্রিক ইত্যাদি।
ü 31*বংশগত মানসিক রোগীর সদৃশ ঔষধ:ল্যাকেসিস,ফসফরাস, সিফিলিনাম, ভিরেট্রাম এলবাম, আর্জেন্ট নাই, অরাম মেট এনাকার্ডিয়াম ইত্যাদি।
ü 32*ঠান্ডা লাগার প্রবনতা আরোগ্যে সদৃশ ঔষধ- ক্যাল-কার্ব, ক্যাল-ফস, কেলি-কার্ব, কেলিফস, লাইকো, মার্ক সল, হিপার সাল্ফ, ব্যারাইটা কার্ব ইত্যাদি।
ü 33*কেলি কার্বের রোগী চিত্র- মোটাদেহ, ক্রোধী, ঝগড়াটে, ভীত, শীতকাতর, খাদ্য গ্রহণের পর ও রাত ৩টা-৫টায় রোগ বৃদ্ধি।
ü 34*ধাতুগত গভীর কার্যকররী- সাইলেসিয়া, ফসফরাস, হিপার সাল্ফ, সালফার, কেলি কার্বের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুর আশংকা থাকে।
ü 35*ডাঃ বার্নেটের মতে টিকার কুফলে মৃগী, দৃষ্টিলোপ, নখবিকৃতি, হাঁপানি, ঋতুর গোলযোগ, টিউমার, ফোঁড়া, চর্মরোগ, মস্তিষ্কের বিকৃতি ইত্যাদি হয়।
ü 36*ঋতুস্রাব কালে রমনীর চোখমুখে আগুনের হলকা প্রবাহিত হলে সদৃশ ঔষধ- ফেরম মেট, স্যাংগুনেরিয়া নাইট, গ্লোনইন ইত্যাদি।
ü 37*স্পাইজেলিয়ার রোগী- সামান্য কারণে ক্রোধ, অসন্তুষ্টি, শব্দ, নড়াচড়া অসহ্য, সূচালো বস্তুতে ভয়, ক্রিমি গ্রস্থ,স্পর্শে শিউরে উঠে ইত্যাদি।
ü 38*অস্ত্রপাচার স্হানে সুচফোটানো বেদনা আরোগ্যে ষ্ট্যাফিসাগ্রিয়া একমাত্র ঔষধ। মর্ফিয়ার চেয়েও বেশি কার্যকর।
ü 39*সিপিয়ার রমনীকে কখনোই স্নেহময়ী জননী বা প্রেমময়ী স্ত্রী বলা যায় না। উভয়ের প্রতি উদাসীন। এই ঔষধটিকে রজকিনীর ঔষধ বলা হয়। কাপড় ধোয়ার সময় অসুস্থ হয়, সামান্য ঠান্ডা সহ্য হয় না। ভীষণ কোষ্ঠকাঠিন্য মলত্যাগ করতে কষ্ট মনে করে মলদ্বারে একটি বল দ্বারা অবরুদ্ধ রয়েছে। মূত্রে ঝাঁঝালো গন্ধ। জরায়ুর দূর্বলতা যোনিদ্বার দিয়ে নেমে আসে। পিঁড়িতে বসতে ভীত যেন সবকিছু যোনিদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসবে।
ü 40*সিকেলি করের স্হূলমাত্রা প্রয়োগে গর্ভধারণে বাধা দেয়, গর্ভস্রাব করায়, গর্ভফুল নিস্ক্রান্ত করতে এ্যালোপ‍্যাথিতে ব‍্যবহৃত হয়। সিকেলির এই অপপ্রয়োগে রমনীদের স্বাস্হ্যহানীর কারণ হয়।
ü 41*সিকেলির করের রোগিনী ক্রোধী, দুর্বল, ক্ষীনদেহ, রক্তস্রাব প্রবণতা,স্রাবের ক্ষতকারিত্ব ও দূর্গন্ধ, সর্বাঙ্গে সুড়সুড়ি বোধ ইত্যাদি।
ü 42*জিঙ্কাম মেট রোগীর বৈশিষ্ট্য- হাত পায়ের কম্প, উত্তেজনার পরে অবসাদ, উদ্ভেদ, স্রাব, দাত উঠতে বাধাগ্রস্ত হয়ে তড়কা, মেনিঞ্জাইটিস ইত্যাদি।
ü 43*ইগ্নেসিয়ার রোগীর সব কিছুতেই অসঙ্গতি যেমন অর্শরোগীর চলাফেরায় আরাম, পাকস্থলী খালি, খাইলে আরাম নাই, ধামলে কাশি বৃদ্ধি ইত্যাদি।
ü 44*পালসেটিলার রোগীই শুধু খোলা আবহাওয়ায় রোগ হ্রাসের লক্ষণ আছে। এরুপ লক্ষণ সিপিয়া,ফেরম মেট ও কেলি আইয়োডেও আছে।
ü 45*গাড়িতে চড়লে কানের শ্রবণ রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ কোকুলাস ইন্ডিকা, গাড়িতে উঠলে উপশম হলে সদৃশ ঔষধ এসিড নাইট্রিক।
ü 46*উদারাময়ের ঔষধ নির্বাচণ- দুষিত জল পানে উদরাময় হলে ক্যাম্ফর, জিন্জিবার উপযোগী সদৃশ ঔষধ।
ü *আইসক্রিম খেয়ে উদরাময় হলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আর্সেনিক, ব্রাইয়োনিয়।
ü *রসালো ফল খেয়ে উদরাময় হলে সদৃম ঔষধ- ভেরেট্রাম এলবম, চায়না।
ü *পেঁয়াজ খেয়ে উদরাময় হলে সদৃশ ঔষধ- থুজা।
ü *শামুক খেয়ে উদরাময় হলে ব্রোমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম।
ü *দুধ পানে উদরাময় হলে ক্যালকেরিয়া কার্ব, নেট্রাম কার্ব, নিকোলাস, সালফার।
ü 47*এলুমিনা- মেরুদন্ড মধ্যে তপ্ত লৌহশলকা প্রবিষ্ট হইবার ন্যায় বেদনা, পক্ষাগাত, অন্ধকারে বা চক্ষুমুদ্রিত করিয়া চলিতে পারেনা।
ü 48*ক্রোধের কারণে জন্ডিসে ক‍্যামোমিলা, বালকদের পেটের বেদনায় ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া, আন্ত্রিক লক্ষণে ব্রাইয়োনিয়া উপযোগী সদৃশ ঔষধ।
ü 49*চায়না বা সিঙ্কোনার রোগীচিত্র- বল, বীর্য, রক্তক্ষরণে ভঙ্গস্বাস্থ্য, কুইনের কুফল, শীতার্ত, রক্তস্রাব প্রবণ, অজীর্ণ, পেটফাপা, ডিসপেপসিয়া।
ü 50*আর্জেন্ট নাইট্রিকামের রোগী চিত্র- চিকন দুর্বল,উৎকণ্ঠা, উদ্বেগপূর্ণ ভবিষ্যতে অমঙ্গলের ভয়, গরমকাতর, গলা শ্লেষ্মাময়, গলা খেকড়ানী স্বভাব ইত্যাদি।
ü 51*নিম্ন শক্তিতে ব্যবহার এর পর  হাড় নরম, ভঙ্গুর হতে পারে- ক্যালকেরিয়া ফস, ক্যাল্ক ফ্লুওর, ক্যালরিয়া কার্ব, ক্যালকেরিয়া হাইপো ফস ইত্যাদি 

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন। এপসটি ডাউনলোড করুন, আপডেট নিন। আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক 


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজি নং ২৩৮৭৬।

মেবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

Comments System

[blogger][disqus][facebook]

Disqus Shortname

theme-daddy