এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১১.১০.২০

রোগীর আদর্শ আরোগ্যের পূর্ব শর্ত

 







(২য় পর্ব)

সম্মানিত সকল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস্, চিকিৎসা ক্ষেত্রে যা মনে রাখলে আপনাদের চিকিৎসা জীবনে উপকার হবে।

(১) ক্যান্সার রোগের অগ্ৰসর অবস্থায় (In advance stages of Cancer ) ভুলেও কার্সিনোসিন প্রয়োগ করবেন না।

যদি করেন তবে যে রোগীর আরো কিছুদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল,সে রোগী অতি অল্প সময়ের মধ্যে মারা যাবে।

একই কথা আর্সেনিক,ল্যাকেসিস এবং লাইকোপোডিয়াম এর বেলায়ও খাটে।

এ তিনটি ঔষধ ক্যানসারের অগ্ৰসর অবস্থায় ব্যাবহারের আগে কয়েকবার চিন্তা করবেন।

(২) গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে, পায়ে কাঁটা ফুটলে, অনেকেই হরহামেশা সাইলিসিয়া ব্যাবহার করেন।

সাইলিসিয়া কিন্তু মিসরির ছূরি,দুই দিকে কাটে, মানে আসতেও কাটে যাইতেও কাটে।

যদি ফুসফুস বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ভিতর কোন বহির্বস্তূ (Foreign bodies) থাকে তাহলে সাইলিসিয়া সেটাকেও বের করার চেষ্টা করবে।

পরিনামে রোগী মারাত্মক অসুস্থ বা মারাও যেতে পারে।

খুবই সাবধান,টিউবারকুলার ধাতুর (Tubercular diathesis ) রোগীকে যে কোন কারণে সাইলিসিয়া দেবার পূর্বে কয়েকবার চিন্তা করবেন।

একই কথা সালফার,হিপার সালফার,ল্যাকেসিস,কেলি কার্ব,লাইকোপোডিয়াম এর বেলায়ও খাটে।

এসকল ক্ষেত্রে এ্যনাগেলিস অধিকতর নিরাপদ।

(৩) সাবধান থ্যালাসেমিয়া মাইনর,থ্যালাসেমিয়া মেজর,লিউকোমিয়া রোগীদের রক্ত হীনতার জন্য চায়না Q, লেসিথিন Q ইত্যাদি প্রয়োগ করবেন না।

(৪) দাঁতে ব্যাথা,পোকা ধরা দাঁতের কষ্ট কমানোর জন্য কখনোই ক্রিয়োজোট Q বাহ্যিক প্রয়োগ করবেন না।

একান্ত প্রয়োজনে প্লান্টেগো Q বাহ্যিক প্রয়োগ করবেন।

প্লান্টেগো Q অনেক বেশি নিরাপদ।

(৫)ক্যালক্যারিয়া কার্ব খালি পেটে প্রয়োগের চেয়ে ভরা পেটে প্রয়োগে অধিক কার্যকরী।

(৬) সব সময় ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে মনে রাখবেন ঔষধের বৃদ্ধি কাল এড়িয়ে চলুন।

যেমন ঘুমের পূর্বে ল্যাকেসিস প্রয়োগ করবেন না,বিকেল ৩ টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত লাইকোপোডিয়াম প্রয়োগ করবেন না।

দুপুর ১২ টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আর্সেনিক ব্যাবহার করবেন না।

এন্টি সিফিলিটিক ঔষধ সন্ধার পরে এবং এন্টি সাইকোটিক ঔষধ দিনে ব্যাবহার করবেন না।

(৭) যে ঔষধের সঙ্গে যে সকল খাদ্যের বিরোধ আছে রোগীকে তা পরিহার করার পরামর্শ দেবেন।

যেমন আর্সেনিক এবং ব্রোমিয়াম রোগীর দুধ পান নিষেধ,এপিস মেল এর রোগীর মধু এবং লবন নিষেধ,ল্যাকেসিস এর টক খাওয়া নিষেধ,থুজা,লাইকোপোডিয়াম এর কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন নিষেধ।

(৮) ঔষধ যথাসম্ভব সুক্ষ মাত্রায় প্রয়োগ করবেন, গভীর ক্রিয়াশীল এবং উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে রোগের অবস্থা এবং রোগীর জীবনী শক্তির প্রতি অবশ্যই তীক্ষ্ণ নজর রাখবেন।

(৯) হোমিওপ্যাথিতে আপনার যতোই জ্ঞান, অভিজ্ঞতা থাকুক না কেন, আপনাকে প্রতিদিন কিছু না কিছু পড়তেই হবে।

যদি মনে করেন আপনি অনেক জেনে গেছেন, আপনার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি,আর না পড়লেও চলবে, তাহলে মনে করবেন এই আপনার ধ্বংস শুরু হয়ে গেলো।

(১০) কখনো রোগীর রোগ আরোগ্য করে ফেলবেন, এতো দিন লাগবে,এ ধরনের নিশ্চয়তা কখনোই দেবেন না।

পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা অন্য কোন ঝামেলায় থাকলে ঐদিন রোগী দেখবেন না, কমপক্ষে ক্রনিক রোগী চিকিৎসা করবেন না।

(১১) ঔষধের ক্রিয়াকাল সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকতে হবে,ঘনঘন, অপ্রয়োজনে,ক্রিয়াকাল শেষ হবার পূর্বে নতুন করে ঔষধ প্রয়োগ করবেন না।

যে সকল সম্মানিত চিকিৎসক গন সেন্টিসিমাল ঔষধ ব্যাবহার করেন, উনাদের উদ্দেশ্য বলছি,ঔষধ প্রয়োগের পর উন্নতি বা বৃদ্ধি দেখা মাত্রই ঔষধ বন্ধ করে দিন।

ঔষধ প্রয়োগের পর উন্নতি না হলে ঘাবড়াবেন না,বা দ্রূত ঔষধ পরিবর্তন করবেন না।

ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে বারবার চিন্তা করবেন, কিন্তু প্রয়োগ হয়ে গেলে সহজে ঔষধ পাল্টাবেন না।

(১২) শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন লজ্জা নেই, যেকোনো জটিল রোগী চিকিৎসায় প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

(১৩) ভুলেও জীবনে একবারের জন্য হলেও,কোন মহিলা রোগীকে এমনকি সন্তান প্রসবের প্রয়োজনে হলেও সিকেলি কর Q প্রয়োগ করবেন না, আপনাদের স্রষ্টার দোহাই করবেন না।

প্রয়োজনে কলোফাইলাম Q ব্যাবহার করুন।

(১৪) রোগীর একান্ত প্রয়োজনে কখনো কখনো বায়োকেমিক ঔষধ ব্যাবহার করতে হয়।

কিন্তু সাবধান বাজারে প্রচলিত বায়োপ্লাজেন নামক প্যাটেন্ট বায়োকেমিক ঔষধ কোন ভাবেই ব্যাবহার করবেন না।

যদি করেন তবে আপনি জেনে বা না জেনে আপনার রোগীর চরম ক্ষতি করছেন।

কারন বায়োপ্লাজেন নামক প্যাটেন্ট ফাইলে সব অতি নিম্ম শক্তির বায়োকেমিক ঔষধ।

প্রায় সবগুলোই 3X শক্তির,যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

(১৫) একজন চিকিৎসক, একজন শিক্ষক এর সবচেয়ে বড় অপরাধ তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা।

তাই প্রচুর পড়াশোনা করুন, যথাসম্ভব জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করুন।

(১৬) রোগী যদি আরোগ্য সীমার বাইরে না চলে যায়, তবে রোগীকে পূর্নাঙ্গ আরোগ্যের চেষ্টা করুন, অবশ্যই আংশিক আরোগ্য বা রোগ চাপা দেবেন না।

(১৭) রোগীকে ভালো করে বুঝিয়ে বলবেন,হোমিও ঔষধ প্রয়োগের পর পুরনো রোগ প্রকাশ পাওয়া অত্যন্ত শুভ লক্ষণ, রোগী যেন তা পুনঃ চাপা না দেয়।

(১৮) প্রচুর প্যাথলজিক্যাল জ্ঞান অর্জন করুন,প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট পড়ার,বুঝার,কোন রোগে কি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করতে হয়,তা ভালো করে শিখুন।

কিন্তু অবশ্যই প্যাথলজি বা প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ধরে চিকিৎসা করবেন না।

(১৯)দুঃখজনক কিন্তু একদম বাস্তব ও সত্যি।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক সমাজের বিরাট একটি অংশ শুধুমাত্র মেটেরিয়া মেডিকা নির্ভর, বিশেষ করে গ্ৰামান্চলের অনেক চিকিৎসক বৃন্দ।

অথচ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান শুধুমাত্র মেটেরিয়া মেডিকা নির্ভর নয়।

একজন ভালো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হতে হলে মেটেরিয়া মেডিকার জ্ঞান সহ অর্গাননের জ্ঞান,প্র্যাকটিস অফ মেডিসিনের জ্ঞান, হোমিওপ্যাথি ফিলোসফির জ্ঞান, এনাটমি, ফিজিওলজির জ্ঞান সহ সব ধরনের জ্ঞানের প্রয়োজন।

অথচ আমরা এসকল বিষয়ে বেশ দুর্বল।

ডাঃ মহিব্বুর রহমান।

১-১০-২০২০।

সম্মানিত সকল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গনের জন্য কিছু টিপস্।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রোগী আরোগ্যের জন্য বা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ভালো ফল পেতে হলে অনেক গুলো শর্ত পূরণ করতে হয়।

তার মধ্যে কয়েকটি নিম্মে আলোচনা করা হলো।

(১) চিকিৎসক ভালো হতে হবে, চিকিৎসকের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল জ্ঞান যথাসম্ভব অর্জন ভালো ভাবে করতে হবে।

রোগ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

আরোগ্য সীমা,অনারোগ্য সীমার প্রার্থক্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।

(২) প্যাথলজিক্যাল জ্ঞান থাকতে হবে।

(৩) রোগীর নিকট হতে গোপনীয় তথ্য আদায়ের দক্ষতা থাকতে হবে।

(৪) ঔষধের মানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

আপনি যতো ভালো চিকিৎসকই হোন না কেনো,যতো ভালো কেসটেকিংই করেন না কেনো,যদি ঔষধের মান ঠিক না থাকে, তাহলে সব গুড়ে বালি।

হোমিওপ্যাথি ঔষধের মান নির্নয় করা খুব কঠিন, বিশেষ করে ডাইলিউশন ঔষধের।

তাই ভালো, বিশ্বস্থ,নির্ভর যোগ্য কোম্পানির ঔষধ সংগ্ৰহ করার চেষ্টা করবেন।

(৫) সেন্টিসিমাল পদ্ধতিতে পানির প্রয়োজন কম হয়, কিন্তু ফিফটি মিলিসিমাল পদ্ধতিতে ঔষধ পানির সাথে না মিশিয়ে ঔষধ প্রয়োগের কোন উপায় নেই।

তাই অবশ্যই আপনার ব্যাবহ্নত পানি ভালো হতে হবে।

সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি হলো বৃষ্টির পানি।

বৃষ্টি ভালো ভাবে শুরু হবার দশ মিনিট পেরিয়ে গেলে তার পরের পানি সংগ্রহ করলে আর অসুবিধে হবে না।

পরিস্কার পাত্রে ঠিকমতো সংরক্ষণ করতে পারলে এই পানি এক বৎসরেও নষ্ট হবে না।

আপনি নিশ্চিন্তে এই পানি হোমিওপ্যাথি ঔষধের সঙ্গে ব্যাবহার করতে পারেন।

আপানাদের পানের জন্য বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজনে পিউরইট পানির ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন,বা অন্য কোন ফিল্টার।

তবে অবশ্যই অবশ্যই হোমিওপ্যাথি ঔষধের সঙ্গে পিওরইট ফিল্টার এর পানি ব্যাবহার করা যাবে না।

এমনকি আমি বাজারে বিক্রিত বিভিন্ন ধরনের বোতলজাত পানি ও ব্যাবহারের পক্ষপাতী নই।

যদি আপনারা সাধারণ পানির ফিল্টার ব্যবহার করতে চান, তবে থাইল্যান্ডের তৈরি একধরনের ফিল্টার কিনতে পাওয়া যায়, সেটি ব্যাবহার করতে পারেন। 

এই ফিল্টারের ফিল্টারকৃত পানি আমি নিজেও ব্যাবহার করি,এটি হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্যাবহারের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ।

( ৬) আমাদের বেশিরভাগ ঔষধই গাছগাছালি হতে তৈরি।

তাই যদি একান্তই কোন ঔষধের মাদার টিঙ্কচার ব্যাবহার করতে হয়,ঐ মাদার টিঙ্কচার এর হার্বস কোন দেশে উৎপাদিত হয়, সে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করবেন।

যেমন Calotropis,Hydrocotyle,Carica papaya,Atista indica,Azadireta indica/Neem ইত্যাদি আমাদের দেশীয় ঔষধ।

বেশি মুল্যে এসকল ঔষধ বিদেশি কেনার প্রয়োজন নেই।

দেশীয় ভালো কোম্পানির ঔষধ হলেই চলবে।

(৭) রেক্টিফাইড স্পিরিট : এটা ব্যতীত হোমিওপ্যাথি অচল।

ঔষধ ডাইলিউশন,মাদার টিঙ্কচার তৈরি, প্লাসিবো হিসেবে ব্যাবহার,পচন নিবারণের জন্য পানির সাথে দেয়া সহ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এটা ছাড়া চলতেই পারেন না।

কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো বিশুদ্ধ রেক্টিফাইড স্পিরিট পাওয়া বেশ কঠিন।

কারন ভেজাল,এর সাথে পানি মিশিয়ে দেয়া হয়, অনেক সময় সাধারণ দুষিত পানিও  মিশিয়ে দেয়া হয়।

কখনো কখনো কমদামি মেথিলেটেড স্পিরিট ও মিশিয়ে দেয়া হয়,যা অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ, এবং মানব দেহের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত মেথিলেটেড স্পিরিট পানে অনেক মানুষ মারাও গিয়েছে।

তাই চেষ্টা করুন ভালো মানের/বিশুদ্ধ রেক্টিফাইড স্পিরিট সংগ্ৰহ করার জন্য।

( আমাদের এক ভাই হোমিওপ্যাথি  চিকিৎসক এ বিষয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছিলেন ফেসবুকে, আমার এই গ্ৰুপে আমি তা রিপোষ্ট করেছি, আপনারা সু্যোগ পেলে ওটাও পড়ে নেবেন।)

এছাড়াও রেক্টিফাইড স্পিরিট চেম্বারে রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আমি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক প্রধানকে অনুরোধ করছি এ ব্যাপারে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

(৮) এ্যলোপ্যাথি ঔষধের মতো হোমিওপ্যাথি ঔষধের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।

কারন হোমিওপ্যাথি ঔষধের প্রিজারভেটিভ হিসেবে এলকোহল ব্যাবহার করা হয়।

তারপরও যদি ডাইলিউশন এর স্বাভাবিক পানির মতো রং পাল্টে ঘোলা বা হলুদ হয়ে যায়,তবে তা ব্যাবহার করবেন না, ফেলে দিয়ে নতুন ঔষধ সংগ্ৰহ করুন।

জার্মান বা পাকিস্তানের তৈরি ডাইলিউশন ঔষধের ছিপি ফেটে গিয়ে ঔষধ উবে গিয়ে কমে গেলে সে ঔষধ ব্যাবহার করবেন না।

কারন এখানে ঔষধের এবং এলকোহল এর পরিমাপ এখন আর সঠিক নেই।

(৯)অনেকে প্রয়োজনে বায়োকেমিক ট্যাবলেট ব্যাবহার করেন।

বায়োকেমিক ট্যাবলেট এরও নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই, তবুও তা ডাইলিউশন বা মাদার টিঙ্কচার এর মতো অনেক দিন টিকে না।

তাই যদি বায়োকেমিক ট্যাবলেট কালো অথবা হলুদ রং ধারণ করে, তবে তা ফেলে দিয়ে নতুন বায়োকেমিক সংগ্ৰহ করুন।

(১০) আমাদের অনেক সিনিয়র চিকিৎসক চেম্বারে সহকারী রাখেন এই উদ্বেশ্যে যে, চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন করে দেবেন আর সহকারী ঔষধ প্রস্তুত  করে রোগীকে দেবেন।

কিন্তু এখানে সমস্যা হলো,যদি সহকারী ভুল করে তবে সর্বনাশ।

আপনি প্রেসক্রিপশন করেছেন হাইপেরিকাম, সহকারী ঔষধ দিলো হাইড্রাসটিস, আপনি দিলেন নাক্স ভোম, সহকারী দিলো নাক্স মস্চেটা তবে সব শেষ।

তাই সহকারীকে ভালো ভাবে না শিখিয়ে ঔষধ প্রস্তুত করতে দেবেন না।

প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উঠে চেক করবেন, সহকারী কোন ভুল করছে কি না ?

ঔষধ দেবার পূর্বে কমপক্ষে তিনবার চেক করবেন।

প্রথমবার আলমারি হতে ঔষধ হাতে নিতে, দ্বিতীয় বার ঔষধ দেবার সময় এবং তৃতীয় বার ঔষধ আলমারিতে রাখার সময়।

(১০) শিশিতে বা কাঁচের বোতলে আমাদের হোমিওপ্যাথি ঔষধ সংরক্ষন এর জন্য আগে শুধুমাত্র কাঠের কর্ক ব্যাবহার করা হতো।

আগে ভালো মানের কাঠের কর্ক পাওয়া যেতো,যেগুলো ছিল হাতি মার্কা বা Elephant Brand, এগুলো ছিলো খুবই উন্নত মানের।

Elephant Brand আমদানি বন্ধ হবার পর আমদানি শুরু হলো Bottle Brand, কিন্তু সেটাও কিছু দিন পর আমদানি বন্ধ হয়ে নতুন করে আসলো XXXX Brand,এখন আর পূর্বোল্লিখিত একটি ব্রান্ড এর ও কাঠের কর্ক পাওয়া যায় না।

এখন বাজারে যেটি পাওয়া যায়,সেটির কোন ব্রান্ড নাম নেই,যথেষ্ট নিম্ম মানের।

যে সকল সম্মানিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গন তরল ডাইলিউশন বড়িতে ভিজিয়ে রেখে ব্যাবহার করেন উনারাই সঠিক, কিন্তু যদি কাঠের কর্ক ভালো না হয় তবে ঔষধ নষ্ট হয় যেতে পারে, পিঁপড়া ঢুকে ঔষধ খেয়ে ফেলতে পারে,তাই সাবধান থাকবেন।

(১১) ঔষধ বড়িতে ভিজিয়ে রাখলে অনেক সময় বড়ি গলে পানি হয়ে যায়,এতে কোন অসুবিধে নেই, ঔষধের মান নষ্ট হয় না।

তবে যদি রং নষ্ট হয়ে যায়, দুর্গন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আর ব্যাবহার করা যাবে না, ফেলে দিতে হবে।

বর্তমানে ভালো মানের পিল পাওয়া যায় না, আমার চিকিৎসা জীবনের একদম প্রথম দিকে অর্থাৎ প্রায় ১৯৮০ সালের দিকে আমেরিকার B&T কোম্পানির পিল পাওয়া যেতো, সেগুলোর দাম ছিল অনেক বেশি, কিন্তু বড়ির মান ছিল খুবই ভালো।

(১২) যে সকল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গন নিউ পোটেন্সির ঔষধে প্লাষ্টিকের কর্ক ব্যাবহার করেন, আপনারা সাবধান থাকবেন যেন প্লাষ্টিক কর্কের ভিতরে অবশ্যই ফুড গ্ৰেড ওয়াসার থাকে।

হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্যাবহারে অবশ্যই কাঁচের বোতল এবং কাঠের কর্ক ব্যাবহার করা উচিত।

যদি একান্তই না পাওয়া যায় তবে কোনভাবেই ফুড গ্ৰেড প্লাষ্টিক ছাড়া অন্য কোন প্লাষ্টিক ব্যাবহার করা যাবে না।

সকল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, হোমিওপ্যাথির শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যারা এই পোস্ট পড়বেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা এই পোষ্ট টুকলিফাই করবেন না।

মানে নিজের নামে চালিয়ে দেবেন না।

দয়া করে নীচু মানসিকতার পরিচয় দেবেন না, দয়া করে হোমিওপ্যাথি কে ছোট করবেন না।


ডাঃ মহিব্বুর রহমান।

৮-১০- ২০২০।