এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১৫.৬.১৮

ফসফরাসের পরিচিতি ও প্রয়োগ লক্ষণ

PHOSPHORUS

ফসফরাস-
 ব্যক্তি লক্ষণ ভিত্তিক, গভীর, দীর্ঘক্রিয় ও পলিক্রেস্ট ঔষধ। অ্যান্টি সোরিক, অ্যান্টি সিফিলিটিক, এন্টি সাইকোটিক, এন্টি টিউবারকুলার।

উৎস- খনিজ।

কাতরতা- শীত কাতর।

জিহ্বা- কাল বর্ণ।

আক্রান্ত দিক-

ডান দিক থেকে বাম দিকে।শরীরের উপরের অংশ ডান দিক। শরীরের নিচের অংশ বামদিক আক্রান্ত হয়।
আকৃতি-

পাতলা গঠন, বেশ লম্বা, দ্রুত বর্ধনশীল, বয়সের তুলনায় লম্বা, একহারা চেহারা, হাঁটলে যেন বাতাসে দোলে, গায়ের রং ফ্যাকাশে, ফর্সা। সামনের দিকে কুজো, সুন্দর পটল চেরা চক্ষু, নরম, সুন্দর, রেশমি কালো চুল। এক কথায় রাজকীয় চেহারা,চেহারা দেখে বেশ বুদ্ধিমান মনে হয়।
মানসিক লক্ষণ

খোলামেলা মনের মানুষ, মনের মধ্যে কোন কথা লুকিয়ে রাখে না। ফসফরাসের অন্যতম অনুভূতি, সে আপন জনের কাছ থেকে যথেষ্ট ভালোবাসা, মূল্যায়ন, মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই এর অভাব পূরণের জন্য সে বাড়ির বাইরে অনেক বন্ধু বা সম্পর্ক তৈরি করে, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। সে মনে করে অন্যের প্রতি ভালোবাসা সহানুভূতি ও স্নেহের বিনিময় অন্যের মনোযোগ পাবে। তার মনে হয়,আরো সঙ্গী চাই, ভালোবাসা চায়, সে কারণে অন্যের প্রতি খুব খেয়াল রাখে, নিজের কাজ বাদ দিয়ে অন্যকে সহযোগিতা করে, এরা সহজে বন্ধুত্ব করতে পারে, এদের যেমন ব্যাপক সহানুভূতিশীলতা আছে তেমনি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া প্রবণতাও আছে।এরা খুব একাকীত্ব বোধ করে, এ কারণে রাগ দুঃখ ভয়ে এরা সহজে আক্রান্ত বা উত্তেজিত হয়।
ফসফরাসের রোগীরা খুব চঞ্চল ও প্রাণোচ্ছল প্রকৃতির। সম্পর্ক তৈরি, মানুষের কাছাকাছি আসা, নিজস্ব অবস্থান সৃষ্টি করার জন্য যা করা দরকার সে তার আচরণ দিয়ে তা করে। যেহেতু তার মধ্যে ধারণা কাজ করে যে কেউ তাকে সত্যিকারের মনেপ্রাণে ভালোবাসে না, তাই কারো সাথে গভীর, আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। অধিকাংশ সম্পর্কই অগভীর বা উপরে উপরে গড়ে ওঠে। এরা অতিশয় ভীতু, বিদ্যুৎ চমকানোর সময় বা রাতে একা থাকতে পারে না। অতিশয় ফুর্তিবাজ ও চটপটে। বাচালতায় ল্যাকেসিসের মতো এক বিষয় থেকে অন্য বিষয় বার-বার পরিবর্তন করে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলে না,বরং সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অর্থবহ কথাবার্তা বলে। ফসফরাসের রোগীরা চেম্বারে এসে নেট্রাম মিউয়ের রোগীর মতো পিছনে হেলান দিয়ে বসে,দূরত্ব বজায় রাখে না্, রিজার্ভ হয়ে বসে না থেকে বরং খুব কাছাকাছি বসে, বা টেবিলে হাতে ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে বসতে পারে। মুখে মিষ্টি হাঁসি নিয়ে, খুব সহজেই আপনার সাথে কথা বলা শুরু করে, সহজে মিশে যেতে পারে, ক্ষণিকের মধ্যেই আপন করে নিতে পারে, ভাবখানা এমন যেন বহু দিনের পরিচিত।
এরা সব বিষয় কারণ খুঁজে, তীক্ষ্ণ মেধার কারণে এদেরকে এক কথা দুই বার বলা লাগে না। উত্তেজনা আনে এমন নাটক, সিনেমা, ভুতের গল্প, রোমাঞ্চকর কাহিনী বা দৃশ্য দেখতে বা শুনতে ভালোবাসে। এরা স্নেহ পরায়ণ, শিল্পী মনা, গায়কি স্বভাবের, সৃষ্টিশীল।  এর শিশুরা খুব খোলামেলা, চঞ্চল ও ভীরু। এরা খুব বাচাল হয়, অবিরত প্রশ্ন করে, জানার আগ্রহ প্রচুর। শিশুরা মাকে প্রশ্ন করেই চলে, একবার এ কথা, একবার সে কথা জিজ্ঞাসা করে।এর শিশুরা যে কোনো আত্মীয় বাড়ি,অচেনা পরিবেশ, স্কুলে সহজেই যে কারো সাথে সম্পর্ক করতে পারে। সমবয়সীদের বন্ধু, বড়দের মামা, খালা, চাচা, ফূফ, দাদা, নানা ইত্যাদি বানিয়ে ফেলতে পারে। ফসফরাসের কাছে সবাই যেন তার ভালো বন্ধু। কোথাও একদণ্ড স্থির থাকতে পারে না, একদম স্থির ভাবে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা তার কাছে অসম্ভব। একবার উঠে, একবার বসে,এদিক চাই, ও দিক চায়।

মূল কথা

 খুব পিপাসা, লবণ, মাছ, চকলেট, মিষ্টি, আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় খাবার খুব ইচ্ছা। শান্ত বা মেজাজি স্বভাব, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, অল্পে ঠান্ডা লাগে, অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও উদরাময়ের প্রবনতা যেন তার অকাল মৃত্যুর কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বাম পাশে চেপে শুয়ে ঘুমাতে পারে না। ডান পাশে শয়নে আরাম বোধ করে।

বাচালতা ও চঞ্চলতা

ফসফরাসের শিশু এক মুহুর্তও এক জায়গায় স্হির থাকতে পারে না। সে বজ্রপাতের ভয়ে কাতর থাকে। অস্হির ও অন্যমনস্ক।
উন্মাদ অবস্হা

ফসফরসের রোগী উন্মাদ অবস্হায় কামোন্মাদ হয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। শীতল পানি পানে ও শীতল পানীয়, সুনিদ্রা,অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, হাত ধোয়াইয়া দেওয়া তার কাছে আরামদায়ক। গায়ে হাত বুলাইয়া দিলে সে আরাম পায়।
শুন্যতা বোধ

ফসফরাসের রোগী তার বুকের মধ্যে, পেটের মধ্যে, মাথার মধ্যে অত্যন্ত শুন্যতা বোধ করে সাথে দুর্বলতা অনুভব করে। এ অবস্হায় ফসফরাস উচ্চ শক্তি ব্যবহার নিষেধ। ফসফরাসের রোগীর ক্ষুধা ও পিপাসা উভই প্রবল। ক্ষুধার সময় খাইতে না পারিলে তাহার দুর্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং তাহার সকল রোগ যন্ত্রনাও বৃদ্ধি পায়। কিছু খাইলে আরাম। কলেরা ও উদরাময়ে এই লক্ষণটি স্মরণে রাখা জরুরি। ফসফরাসের রোগী গরম সহ্য করতে পারে না ও যত ঠান্ডা খাবার খায় ততই আরাম বোধ করে।পেটে খাদ্য প্রবেশের কিছুক্ষণ পরে পেটে খাদ্য গরম হওয়া মাত্র বমি হয়। যদি কোন রোগী বলে আমার গরম খাদ্য সহ্য হয় না তখনই ফসফরাসের কথা স্মরণ করিবেন। গার্ভবস্হায় ফসফরাসের রোগীনী পানির কাছে যাইতে পারে না পানি পান করিতে চায় না এমনকি পানিতে হাত মুখ ধুইতে পারে না।
জ্বালা

ফসফরাসের রোগীর পায়ে জ্বালা, মাথায় জ্বালা, পেটে জ্বালা, ভিতরে বাহিরে সর্বত্র জ্বালা কিন্তু এত জ্বালা সত্ব্যেও সে মাথা, পেট ও মুখমন্ডর ছাড়া সর্বশরীর ঢেকে রাখে। মাথার যন্ত্রনায় মাথায় কাপড় রাখিতে পারে না। গরমও পছন্দ করে না। অবশ্য হাতের তালু ও পায়ের তালু ঠান্ডা পানিতে ধুইতে চায়। মেরুদন্ডে জ্বালা অনুভব করে।
ফসফরাস প্রয়োগ ক্ষেত্র

হিপ জয়েন্ট প্রদাহ,সন্ধি প্রদাহ, এপেন্ডিসাইড, মেদ পূর্ণ হৃদপিন্ড, কিডনি ও লিভার জনিত শোধ, হাত পা মুখ বিশেষ করে চোখের নিচের পাতা ফুলিয়া উঠে। শ্বাসকষ্ট ও রক্তহীনতা দেখা দেয়।
উদরাময় ও কলেরা

 মলদ্বার প্রায় খোলা থাকে। অসারে মলত্যাগ করে। মলের সাথে সাগুদানার মত পদার্থ ভাসিতে থাকে।
মূত্র

মূত্রে শর্করা বিদ্যমান ও ডায়াবেটিস।
হিক্কা

ভুক্ত দ্রব্য টক হইয়া উঠিয়া যায়।
নাক

নাকে পলিপাস,পলিপাস হতে রক্ত স্রাব হয়।
কান

বধিরতা,মানুষের কণ্ঠ স্বর ছাড়া অন্য শব্দ শুনিতে পায়।
চোখ

দৃষ্টির নানাবিধ গোলযোগ।নেত্রনালী শুকাইয়া যাওয়ার ফলে দৃষ্টিহীন।
জ্বর

সান্নিপাতি বা সবিরাম জ্বরে সঙ্গাহীন অবস্হায় শুন্যের দিকে কি যেন ধরিতে চায়।
সন্যাস বা এ্যাপিলেপ্সি

মুখের বাম দিকে বাকিয়া যায়। মৃগীর আক্ষেপ কালে জ্ঞান থাকে।
বাত বেদনা

অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বাতের বেদনা উত্তাপে উপসম হয়।
পক্ষাঘাত

পক্ষাঘাত গ্রস্হ অঙ্গের আক্ষেপ, হাত বুলাইয়া দিলে আরাম পায়।
নিউমোনিয়া

নাকের পাতাগুলো নড়িতে খাকে। ফসফরাসের রোগীর গঠনের সাথে ঘড়ঘড় শব্দ করে, শ্বাস কষ্টের সাথে যক্ষা থাকে।
কোষ্ঠবদ্ধতা

শক্তমল অনেকটা কুকুরের মলের মত,সরু ও লম্বা হয়ে নির্গত হয়।
কাশি

ক্রুপ কাশির সহিত স্বর ভঙ্গ, দ্রুত দুর্বলতার সহিত শীতল ঘর্ম। বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় করে। চোয়াল ঝুলিয়া পরে।
স্ত্রী যন্ত্র

স্তন ও স্ত্রী জনন অঙ্গে ইরিসিপেলাস, ক্যান্সার, মাসিক অতিরিক্ত হয়। অতিরিক্ত গর্ভধারন জনিত জরায়ু প্রদাহ, জরায়ুর স্হান চ্যুতি বা শিথিলতা, মূল কথা হলো ফসফরাসের রোগীর আকৃতি ও প্রকৃতি মিলিয়া গেলে যে কোন রোগ লক্ষণে প্রয়োগ যোগ্য।
পুং জনন ইন্দ্রিয়

সঙ্গমেচ্ছা ও লিঙ্চ্ছাস প্রবলরতি শক্তি বৃদ্ধিতে ফসফরাস ফলপ্রদ কিন্ত অপপ্রয়োগে ক্ষতিকারক।

সতর্কতা

কষ্টিকামের পরে বা পূর্বে ফসফরাস ব্যবহার নিষিদ্ধ।
প্রতিষেধক-
 নাক্স ভুমিকা।

আমার ফ্রী মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন এবং আমার সকর লেখা আপডেট নিন নিয়মিত।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার

ইভা হোমিও হল

বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮G

 

 

১২.৬.১৮

প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ,আপনার ঘরে রাখতে পারেন।

Homeopathic impotent medicine your can keep at Home


যে কোন আকস্মিক দূর্ঘটানয় আঘাত প্রাপ্ত হওয়া বা যে কোন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।সঠিক স্হানে সঠিক ঔষধটি প্রয়োগ করতে পরলে সমুহ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
নিচে কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের নাম ও প্রয়োগ ক্ষেত্র দেয়া হলো।আপনি আপনার ঘরে উল্লেখিত ঔষধগুলো সংরক্ষন করুন।প্রয়োজনে অনেক ইপকারে আসবে।

*একোনাইট নেপিলাস(Aconite)
যেকোন রোগই হউক না কেন,যদি সেটি হঠাৎ শুরু হয় এবং শুরু থেকেই মারাত্মকরূপে দেখা দেয় অথবা দুয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করে,তবে একোনাইট হলো শ্রেষ্ট সদৃশ ঔষধ।যদি রোগের উৎপাত এত বেশী হয় যে,তাতে রোগী মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে।এক ফোটা বা ৫টি বড়ি করে রোজ তিন বেলা বা আরো ঘন ঘন খেলে রোগের প্রকপ কমে যাবে এবং পরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।এর ফলে আপনি রোগের প্রথম অবস্হায়ই আরোগ লাভ করবেন অথবা রোগের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাবেন।সাধারণত ৩০ বা ২০০ শক্তি স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার আপনার ঘরে রাখুন।

*ক্যালেনডুলা অফ(Calendula Officinalis)
এই ঔষধটি আপনার ঘরে থাকা গুবই জরুরি।যে আঘাতের ক্ষততে তুলা দিয়ে লাগিয়ে দিবেন সেই ক্ষত হতে রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে।ক্ষততে পুজ হতে বাধা দিবে কোন প্রকার জটির রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করবে।ক্যালেন্ডুলা মাদার আপনা ঘরে থাকলে বিপদে আপদে ভালো কাজে আসবে।

*নাক্স ভুমিকা(Nux Vomica)
নক্স ভুমিকা গ্যাস্ট্রিক,ক্ষুধা,বিষণ্নতা এবং মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে।যারা অধিকাংশ সময়ে পেটের অসুখে,বদহজমে ভোগে,বদমেজাজী,ঝগড়াটে, বেশীর ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটান,কথার বিরোধীতা সহ্য করতে পারে না এবং অল্প শীতেই কাতর হয়ে পড়ে,এটি তাদের (জ্বর,কাশি,ডায়েরিয়া,আমাশয়-রক্ত আমাশয়, পেটব্যথা,মাথাব্যথা,বুকেব্যথা-শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি) ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।অধিকাংশ রোগ রাতের বেলা বেড়ে যায়।পান,সিগারেট,মদ-গাজা,ফেনসিডিল,হিরোইন দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের যে ক্ষতি হয়,নাক্স ভমিকা তাকে পুষিয়ে দিতে পারে।পাশাপাশি এটি মদ,ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে ব্যবহার করতে পারেন।নাক্স ভুমিকা আপনার সংরক্ষনে থাকলে এবং পেটের পীড়ায় প্রথমে নাক্স ভুমিকা কয়েক মােো খেয়ে নিন সাথে সাথে আরোগ্য হবে।যদি আরোপগ্য নাও হৗ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে নাক্স ভুমিকা খেলে চিকিৎসকের চিকিৎসার অর্ধেক আপনিই সমাধান করতে পারবেন।

আর্ণিকা মন্ট(Arnica)
আমরা সবাই জানি যে, আঘাতের ব্যথার জন্য আনির্কা একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ।কিন্তু আনির্কা যে একটি শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক বা জীবাণু বিনাশী ঔষধ তা আমরা অনেকেই জানি না।মারাত্মক ইনফেকশনেও লক্ষণ থাকলে চোখ বুজে আনির্কা দিতে পারেন। সাধারণত যেকোন ধরনের আঘাত, থেতলানো,মচকানো,মোচড়ানো,ঘুষি, লাঠির আঘাত বা উপর থেকে পড়ার কারণে কোন ইনফেকশান বা ক্ষত হলে;এমনকি গ্যাংগ্রিন হলেও আনির্কা হবে তার শ্রেষ্ঠ সদৃশ ঔষধ।আনির্কার প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো আক্রান্ত স্থানে এমন তীব্র ব্যথা থাকে যে,কাউকে তার দিকে আসতে দেখলেই সে ভয় পেয়ে যায়,কারণ ধাক্কা লাগলে ব্যথার চোটে তার প্রাণ বেরিয়ে যাবে।আপনার বাড়িতে বাচ্চা ছেলে মেয়েরা প্রায়ই নানা প্রকার আঘাত প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাদের জন্য Arnica ঘরে রাখুন,এটি বেদনা হ্রাস,দুর্ঘটনা,আঘাতের এবং শক জন্য সবচেয়ে সাধারণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।আর্ণিকাকে সকল প্রকার অঘাতের কারণে বেদনা আরোগ্যে কার্যকর।বাত বেদনা,মাংশ পেশির বেদনায়ও ব্যাহার্য।

*ক্যান্থারিস(Cantharis)

ক্যান্থারিস মলম আপনার রান্না ঘরে রাখুন।ক্যান্থারিস মাদারও রাখতে পারেন।যে কোন সময় আগুনের তাপে ঝলসে গেলে দ্রুত মলম অথবা মাদার টিঙ্কচার পানির সাথে মিশিয়ে দগ্ধ স্হানে লাগিয়ে দিন,দেখবেন ঝলসে যাওয়া স্হার জ্বালাপোড়া ভাব কমে গেছে।কোন প্রকার ফোস্কাও পরে নাই।যদি শক্তিকৃত ক্যান্থারিস রাখেন তবে ঘনঘন কয়েক মাত্রা সেবন করতে দিন দ্রুত আরাম পাবেন।

*ম্যাগনেসিয়া ফস(Magnesia phosphoric)
ম্যাগনেসিয়া ফস মহিলাদের জন্য আবশ্যকীয় ঔষধ।এটি মহিলাদের মাসিকের সময় বেদনাসহ,যে কোন রোগীর ক্লান্তি, মাথাব্যাথা,নার্ভ ব্যথা,অনিদ্রা এবং মানসিক প্রশান্তি দিতে সাহায্য করতে পারে।ম্যাগনেসিয়া ফস সাধারণত  নিম্ন শক্তি বেদনা আরোগ্যে ঘনঘন প্রয়োগ করতে হয়।

*রাসটক্স(Rhus tox)
Rhus tox পেশীর বাত,পিঠে বেদনা,আর্থথ্রিটিস,সাইটিকা এবং ফ্লু সম্পর্কিত শরীরের ব্যথাগুলির জন্যও উপকারী।
 বর্ষাকালে সর্দি জ্বর,উদরাময় সহ অনেক রোগের সদৃশ ঔষধ।বৃষ্টিতে ভিজে রোগাক্রান্ত হলে এবং রোগীর মাঝে অস্হিরতা দেখা দিলে রাসটক্স কয়েক মাত্রা সেবনেই রোগীর উপশম হবে।রাস টক্সের প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো প্রচণ্ড অস্থিরতা, রোগী এতই অস্থিরতায় ভোগেন যে এক পজিশনে বেশীক্ষণ স্থির থাকতে পারে না,রোগীর শীতভাব এমন বেশী যে তার মনে হয় কেউ যেন বালতি দিয়ে তার গায়ে ঠান্ডা পানি ঢালতেছে, নড়াচড়া করলে (অথবা শরীর টিপে দিলে) তার ভালো লাগে অর্থাৎ রোগের কষ্ট কমে যায়, স্বপ্ন দেখে যেন খুব পরিশ্রমের কাজ করতেছে।বর্ষাকাল,ভ্যাপসা আবহাওয়া বা ভিজা বাতাসের সময়কার যে-কোন জ্বরে (বা অন্যান্য রোগে) রাস টক্স এক নাম্বার ঔষধ।রাস টক্স খাওয়ার সময় ঠান্ডা পানিতে গোসল বা ঠান্ডা পানিতে গামছা ভিজিয়ে শরীর মোছা যাবে না।বরং এজন্য কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।কেননা ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রাস টক্সের একশান নষ্ট হয়ে যায়।কোন বস্তু উঠাতে গিয়ে কোমড় বেদনায় আক্রান্ত হন বা যাকে টাস উঠা বলে তার জন্য রাসটক্স প্রয়োগ করে সহজেই আরোগ্য লাভ করতে পারেন।

*বেলেডোনা(Belladonna )
যে-কোন রোগে যদি সারা শরীরে বা আক্রান্ত স্থানে উত্তাপ বেশী থাকে,যদি আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায়, শরীর জ্বালা পোড়া করতে থাকে,তবে বেলেডোনা হলো তার শ্রেষ্ট ঔষধ। যে-কোন রোগের সাথে যদি রোগী প্রলাপ বকতে থাকে (অর্থাৎ এলোমেলো কথা বলতে থাকে),তবে বুঝতে হবে যে রোগীর ব্রেনে ইনফেকশান হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে বেলেডোনা হলো তার সেরা ঔষধ।মাথা বেদনাসহ জ্বরে বেলেডোনাই প্রয়োজনিয় প্রাথমিক চিকিৎসা।

*প্লান্টেগো মেজোরা Plantago Major : দাঁত, কান এবং মুখের ব্যথায় প্লানটাগো মেজর এমন চমৎকার কাজ করে যে, তাকে এক কথায় যাদু বলাই যুক্তিসঙ্গত।যাদের সব সময় কান চুলকানোর অভ্যাস আছে তাদের জন্য পরামর্শ হলো কটন বাট প্লান্টেগো মাদার দিয়ে ভিজিয়ে কান পরিস্কার করবেন।কান চুলকানোর জন্য শুস্ক কটন বাট ব্যবহার করলে অনেক জটিল জটিল রোগ হতে পারে,তাই কানে কটন বাট দিবেন না।যদি দিতেই হয় প্লান্টেগো লাগিয়ে ব্যবহার করুন।

উপসংহারঃ
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মতে চিকিৎসা করতে হলে তাকে অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় কিন্তু আমার উপরোক্ত ঔষধগুলোর ব্যবহারে তেমন কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই।প্রয়োজনের চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে ডোজ নিষেধ।এছাড়াও সঠিকভাবে এই ওষুধ সংরক্ষণ করুন।আদর্শভাবে,হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি সূর্যালোক বা চরম তাপ বা ঠান্ডা সরাসরি এক্সপোজার ছাড়াই একটি শীতল স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।আমার উপস্হাপনা শুধুমাত্র সাধারণ লোকের প্রাথমিক চিকিৎসায় উৎসাহিত করার জন্য।কেহ প্রাথমিক চিকিৎসায় আরোগ্য না হলে অবশ্যই একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাহায্য নিন।

আমার ফ্রী মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন এবং আমার সকর লেখা আপডেট নিন নিয়মিত।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮