এই ব্লগটি সন্ধান করুন

৭.৪.১৮

চুলকানির স্হায়ী আরোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়।

Prurigo + pruritus  – Treatment, Causes, Symptoms and Pictures
চুলকানি কি ?
ইহা চর্মের দীর্ঘকাল স্হায়ী ক্রনিক রোগ।পরিচ্ছন্নতার অভাব,অপরিষ্কার বস্ত্রাদি পরিধান,অধিক গুরুপাক ও অপুষ্টিকর খাদ্য ভক্ষণ,প্রভৃতি কারণে উদ্ভেদ সহ বা উদ্ভেদ বিহীন অবস্থায় প্রকাশ পায়।স্ত্রীপূরুষ,নির্বিশেষে সকলের সর্ব বয়সেই ইহা দেখা যায়,অতিশয় ছোট শিশুদের প্রায়ই হয় না।ইহার উদ্ভেদ যু্ক্ত শ্রেণীকে প্রুরিগো এবং উদ্ভেদ বিহীন শ্রেণীকে প্রুরিটাস বলা হয়।

প্রুরিগো-চর্মের উপর সচরাচর প্রথমত হস্ত,পদ এবং পৃষ্ঠদেশে স্বাভাবিক চর্মের বর্ণ বিশিষ্ট বা ঈষৎ রক্তাভ দুই একটি করিয়া অতি ক্ষুদ্র উদ্ভেদ প্রকাশ পাইয়া ভয়ানক চুলকায় এবং চুলকাইলে সামান্য রক্তপাত হইয়া শুকাইয়া শুষ্ক ক্ষুদ্র মামড়ী পড়ে কিন্তু চুলকানির নিবৃত্তি হয় না।ক্রমশ উদ্ভেদ গুলির সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়া অঙ্গাদি ছাইয়া ফেলে কখন কখন মলদ্বার,লিঙ্গ,অন্ডকোষ,ষোনি-কপাট,প্রভৃতি আক্রমণ করে এবং দুর্বিসহ চুলকানির যাতনায় রোগী অস্থির হইয়া উঠে,বসন্ত,গ্রীষ্মকালে ইহা অন্তর্হিত হয় বা হ্রাস পায় এবং বর্ষা ও শীত সমাগমে পুনরায় আক্রমণ করে।

প্রুরিটাস- এই জাতীয় রোগে চর্মের উপর কোন উদ্ভেদ বা প্রদাহ থাকে না।প্রায় বিনা কারণেই সর্বশরীরে নিদারুণ চুলকানির প্রকোপ জীবন দুর্বিসহ হইয়া উঠে।বহুমুত্র,ব্রাইটস্ ডিজিজ,পিত্তাধিক্য,যকৃতের সিরোসিস,প্রভৃতি রোগ সহ এবং কখন কখন গর্ভবতী রমনীর এইরুপ চুলকানি হইতে দেখা যায়।চর্মের সজীবতা ও মেদ নষ্ট হইলে তাহা শুষ্ক ও কর্কশ হইয়া চুলকানি প্রকাশ পায়।বার্ধক্যবশত এবং অত্যন্ত ঠান্ডা বা গরম জলে স্নান করিবার ফলেও এইরুপ হইতে পারে।
চুলকানির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি প্রধান ঔষধের লক্ষণাবলীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদত্ত হইলো।

নিম্নে বর্ণনায় শুধুমাত্র পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য দেয়া হয়েছে।প্রতিটি ঔষধের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঔষধের মানসিক,দৈহিক লক্ষণসহ সকল নির্বাচক লক্ষণ বিবেচ্য।লেখার সারসংক্ষেপ দেয়া হয়েছেমাত্র।

এলুমিনাঃ-চর্ম শুষ্ক ও কর্কশ,সর্বশরীরে অসহনীয় চুলকানি,চর্ম ফাটিয়া রক্তপাত হইয়া বেদনা হয়,কিন্তু চুলকানি হ্রাস পায় না এর সাথে এলুমিনার নির্বাচক লক্ষণ বিদ্যমান থাকলে উপযোগী।।

এমন কার্ব-সর্বশরীর চুলকায় ও তৎপরে জ্বালাময় ফুষ্কুরি বাহির হয়,চুলকানী বশতঃ নিদ্রা হয় না,চুলকাইলে আরাম বোধ হয় সে রোগীর জন্য এমন কার্ব উপযোগী।

আর্জেন্ট মেট ও আর্জন্ট নাইট্রিকাম-সর্বশরীরে বিশেষত উরু বা বগলে সড়-সড় করে ও চুলকায়,চুলকাইলেও সড়-সড়ানি নিবৃত্ত হয় না সেই রোগীর জন্য উপযোগী।

ক্যালেডিয়াম সেগা-অন্ত:সত্ত্বাবস্থায় যোনি-কপাটে চুলকানি, স্থানকাল বিবেচনা জ্ঞান থাকেনা, যোনিদ্বার শুষ্ক হইয়া যোনি চুলকাইতে থাকে, অন্ডকোষে চুলকানি, উদ্ভেদ চুলকাইতে চুলকাইতে হস্থমৈথুন করিয়া ফেলে এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

কষ্টিকামঃ
সর্বশরীরে চুলকানি,নাকে,মুখে,বাহুতে, করতলে,পদপৃষ্ঠে,পৃষ্ঠদেশে দুর্বিসহ চুলকানি,নিদ্রা হয় না এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী ।

চেলিডোনিয়ামঃ-
সর্বশরীরে চুলকানি।ক্রোটন টিগ অতিব চুলকানি,ধীরে ধীরে চুলকাইলে উপশম হলে এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

ডেলিকসঃ
-কোনপ্রকার উদ্ভেদ থাকে না,কেবলই চুলকায়।আদৌ ঘুম হয় না,চুলকানিসহ কোষ্ঠবধ্যতা,ন্যাবা।চুলকানির নিবৃত্তি হয় না,রাত্রিকালে বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

ফ্যাগোপাইরামঃ-
অসহনীয় চূলকানি।গাত্র স্পর্শ করিলে শয়ন করলে বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

গ্রাফাইটিসঃ-
ঋতু স্রাবের পূর্বে যোনি চুলকায়,দিবারাত্র সর্বশরীর চূলকায়,চূলকাইবার পর গাত্রে চাকা চাকা দীর্ঘ দাগ হয় এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

হিপার সাল্ফঃ
সর্বশরীর,বিশেষত অঙ্গুলি-সন্ধি কুটকুট করে ও চুলকায় এবং চুলকাইবার পর শ্বেতবর্ণ ফুষ্কুরি জন্মে,চর্মে সামান্য আচড় লাগিলেই পূজ হয় এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী ।

ক্রিয়জোটঃ-
সন্ধ্যাকালে চুলকানি এইরুপ নিদারুন হইয়া উঠে যে তার জন্য রোগী অস্থির হইয়া উঠে এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী ।

লিডামঃ
হস্তপদে কব্জি ও পদপৃষ্ঠে অতি চূলকানি ,বিছানার গরমেও চুলকানি বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

লাইকোপোডিয়ামঃ
দিনেচুলকানি বৃদ্ধি,শরীর উত্যপ্ত হইলেই কুটকুট করে ও চুলকায় এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

মার্কসল ও ভাইভাসঃ-
দিনে কাজ করার সময় শরীর উত্যপ্ত হইলে প্রচুর চুলকানি উপস্থিত হইয়া  অস্থির করিয়া তুলে।রাত্রিকালে ও শয্যার উত্তাপে চুলকানির বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

মেজেরিয়ামঃ
শরীরের অংশবিশেষে প্রচন্ড চুলকানি ,রক্তপাত হইল্ওে চুলকানির নিবৃত্তি হয় না,সন্ধায় ও রাত্রি কালেও উত্যাপে বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

নেট্রাম মিউরঃ
দিনে চুলকানি বৃদ্ধি,অতিরিক্ত পরিশ্রম করিবার পর চুলকানি বৃদ্ধি, লবণ প্রিয় রোগীর জন্য ঊপযোগী।

নেট্রাম সালফঃ
পরিধেয় বস্ত্র ত্যাগ করিলেই অন্ডকোষ ,উরু প্রভৃতি স্থানে অতি চুলকানি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

পেট্রোলিয়ামঃ-অন্ডকোষ,উরু,পেরিনিয়াম,স্ত্রী-জননেন্দ্রিয় প্রভৃতি স্থানে অসহ্য চুলকানি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

প্লাটিনাঃ
সর্বশরীরে এমনকি যোনি,জরায়ু,প্রভৃতি স্থানে বিবেক লোপকারী চূলকানি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী ।

সোরিনামঃ
দারুন চূলকানি,রাত্রিকালে শয্যার উত্তাপে বৃদ্ধি হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়।নিদ্রা হয় না,আচড়াইয়া রক্তপাত করিলে উপশম এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

রিউমেক্সঃ 
পরিধেয় বস্ত্র ত্যাগ করিলেই চুলকানি বৃদ্ধি ঠান্ডা ও ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি উত্তাপে উপশম এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী।

সালফারঃ
সর্বপ্রকার চর্মরোগের শ্রেষ্ঠ ঔষধ।পুরাতন চুলকানি রোগ,চুলকাইতে আরাম বোধ হয় ও শরীর রোমাঞ্চিত হয়,কিন্তু পরে লজ্জা হয়,সন্ধা কালে ও শয্যার উত্যাপে বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ঊপযোগী ।

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে চুলকানির একক সদৃশ ঔষধ নির্বাচনঃ

ITCHING, scratching, unchanged by



++ unchanged by : Acon., agar., agn., alum.am-c., am-m., ambr., ant-c., ant-t., arg-m.arn., asaf., aur., bar-c., bell., bism-ox., bor., bov.calad.camph., carb-an., carb-v., caust., cham., chel., cina., clem., cocc., coff., colch., coloc., croc., cupr., dig., eupho., euphr., hell.hyos., iod., ip.laur., mag-m.med.mur-ac., nat-c., nux-v., op., plat.prun-s., Puls.ran-s.rheum., rhus-t., ruta., samb., sec., seneg., sil., spig.Spong., stann., stram., sul-ac., tarax., teucr., valer.
++ sleep, during : Am-c., ars., bar-c.carb-v., caust., con., dulc., mag-m., phos.sars., sulph., zinc.
++ on going to sleep : Osm.
++ smarting : Alum., am-m., ambr., arg-m.arg-n., aur., berb., bry., calc., cann-s., colch., dros., graph.hep., kali-c., led., lyc., mag-c., mang., merc., mez., mur-ac., nat-c., nux-v., olnd., par., petr., Plat., puls., rhus-t.ruta., sabin., sars., Scil., sep.sil., staph., sulph.valer., verat., zinc.
++ spots : Agn., am-m., arn., aster., berb.con.dros., eupho., fl-ac.graph.iod.jug-c., kali-c.lach.led.lyc.merc., mez., nat-m.nit-ac.op., par., sep., sil.spong., sul-ac.Sulph.zinc.
++ liver spots : Caust.
++ perspire, which : Tell.
++ spring, in the : Fl-ac., lach.
++ month of march : Fl-ac.
++ stinging : Acon., agar.agn., alum., am-c., anac., ant-c., Apis., arg-m., arn.ars-i., ars., asaf., asar., aur., bar-c.bell., bov., Bry., calad., calc., camph., cann-s., canth., caps., carb-an., carb-s., carb-v., caust.cham., chel., chin., Chlol., clem., coc-c., cocc.coff., colch., con.cop.crot-h., cycl.dig., dros.dulc., eupho., euphr., Graph., guai., hell., hep., hyos., ign., iod., kali-ar., kali-c.kali-n., kali-p., kali-s., kreos., lach., laur., led., lyc., mag-c., mag-m., mang., meny., merc.mez., mosch., mur-ac.nat-c., nat-m.nat-p., nit-ac., nux-v., olnd., op., par., petr., ph-ac., phos., plat., plb., Puls., ran-b., ran-s., rheum., rhod., Rhus-t., ruta., sabad.sabin., samb., sars., Scil., sel., sep.sil.spig.Spong.stann.staph.stram., stront., sul-ac., sulph.tarax., tell., teucr., thu.til.Urt-u., verat., Viol-t., zinc.
++ suppressed eruptions, after : Ars.
++ tearing : Bell.bry., lyc.sil., staph.sulph., zinc.
++ tickling : Acon., agar., alum., am-m., ambr.arg-m.bry., bufo-r., calc., canth., caps., chel., chin., cocc., colch.dig., dros., eupho., euphr., ign., mang., merc.mur-ac., phos., plat.prun-s., puls.ran-b., rhus-t.ruta., sabad.Scil., sec., sel., sep.Sil.spig.spong., staph., sulph.tarax., teucr.
++ scratching, after : Agar., ambr., caps., chin., cocc., merc., Sabad.sil.spig., teucr.
++ undressing agg. : Am-m., anac., ars., asim., cact., cocc.dros.gamb., hyper., kali-ar., kali-br., mag-c., mez., mur-ac., nat-s.nux-v., olnd.pall., ph-ac., rhod., Rumx., sil., stann., staph.tub.
++ violent : Agar., dros., dulc., ip., lach., mez., op.
++ voluptuous : Ambr., anac., arg-m., meny., merc.mur-ac., plat., puls., sabad., sep., sil.spig., spong., Sulph.
++ vomits, not relieved until he : Ip.
++ walking in open air : Cinnb., sulph.
++ wandering : Agar.bar-c.berb., canth.caust., cham., con.graph., jug-c., kali-c., mag-m., mang., merc.mez., olnd., puls.rat., rhus-v., spong., staph., zinc.
++ warm, on becoming : Æth.alum.arg-n., bov., clem., cob., cocc., com., dol.gels., ign., kali-ar.led.lyc.Merc., mez., mur-ac., nat-a.Psor.puls.Sulph.Urt-u.
++ in bed, on becoming : Æth.alum.anac.ant-c.apis.arg-n., bar-c., bov.cadm., calad., calc-s., calc.carb-an., carb-s.carb-v.card-m., caust., cinnb., clem.cob., cocc.coloc., cupr-ar., cycl.gels.graph.kali-ar.kali-bi.kali-br., kali-c., kali-chl., kali-s.led.lyc.lyss., mag-c., merc.mez.mur-ac., nat-m.nat-p.nux-v., ph-ac., phos.Psor.puls.rhus-t.sars., sep.spong., Sulph., thu., til.urt-u.zinc.
++ wool agg. : Hep.phos., psor., puls., sulph.

অন্যান্য ঔষধাবলী-এলো,অ্যালুমেন,অ্যাম্বা,আর্সেনিক,ক্যাল্ককার্ব,ক্যাম্ফার,কফিয়া,কোনা,ক্রোটেলাস,কিউপ্রাম,ফ্লুওরিকঅ্যাসিড,হাইড্রোকোট,হাইড্রাষ্টিস,নাইট্রিক অ্যাসিড,ফস্ফরাস,রাসটক্স ও ভেন,সিপীয়া,সাইলিসিয়া,ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া,টেলিউরি,আর্টিকা ইউরেন্স ইদ্যাদি রেমেডিজ লক্ষণভেদে প্রয়োজন হতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রোগ আরোগ্যের সহজ ও পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন কিন্ত ঔষধ নির্বাচন একটি কঠিন কাজ।সঠিক ঔষধ নির্বাচনে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার ছাড়া অন্যকারো পক্ষ্যে সম্ভব নয়।সুতরাং আমার লেখা পড়ে একা একা চিকিৎসা করবেন না।চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্য ও পথ্য নির্বাচন জরুরী।এলার্জিক মুক্ত খাবার আর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এই রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
বাইপইল,সাভার,ঢাকা।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ২৩৮৭৬
মোবাইলঃ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।

১.৪.১৮

নভেল করোনা ভাইরাস(COVID-19) মোকাবেলায় হোমিওপ্যাথি



নভেল করোনা ভাইরাস(COVID-19) মোকাবেলায় হোমিওপ্যাথি

জাতীয় পত্রিকায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় হোমিওপ্যাথদের নির্দেশনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড” কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। এটা হোমিওপ্যাথদের জন্য যেমন খুশির সংবাদ তেমন দায়বদ্ধতারও বটে। পূর্বের অনেক মহামারি রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার অবদান ছিল গর্ব করার মতো। সেখানে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার রোগি মৃত্যুহার ছিল তুলনামূলক কম। যার ফলে অনেক চিকিৎসক হোমিওপ্যাথিতে চলে আসে। হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল গুলোতে রোগি ভর্তি থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেছে। কালের পরিক্রমায় সে ইতিহাস এখন ফিকে হয়ে এসেছে। ক্রমান্বয়ে হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল গুলো বন্ধ করা হয়েছে। রোগ ভিত্তিক প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোন মহামারির আক্রমণ রোধে সাফল্য দেখাতে পারেনি। এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসায় ও রোগি ব্যবস্থাপনার দিকে। লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসায় মহামারি রোধে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বিকল্প নেই। কারণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাতে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই এর পূর্বশর্ত।

লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বর্তমান সময়ের মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট জটিলতা মোকাবেলায় কাজ করলেও রোগ নির্ণয়ের অভাবে নভেল করোনা ভাইরাস(COVID-19) সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশে জটিলতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা আছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থায়। কারণ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার অপর্যাপ্ততা ও হোমিওপ্যাথদের রোগ নির্ণয়ে জ্ঞানের স্বল্পতায় রোগি চিকিৎসার পরবর্তি তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন সম্ভব হবে না। যার ফলে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসে হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা প্রমানে জটিলতা দেখা দেয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া করোনা ভাইরাসের রোগি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়কার সৃষ্ট জটিলতা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত দক্ষতা সম্পন্ন হোমিওপ্যাথ আজও তৈরি হয়নি। অত্যন্ত জটিল অবস্থায় যখন রোগির জন্য ভেন্টিলেশানসহ সিসিইউ, আইসিইউ প্রয়োজন পড়বে সেক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসার সাহায্য ছাড়া একক ভাবে হোমিওপ্যাথ কোন ক্রমেই মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন না। এটা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের দুর্বলতা। এই দুর্বলতা একদিনে তৈরি হয়নি আবার একদিনে দক্ষতা অর্জন করাও সম্ভব নয়। ক্রমান্বয়ে অত্যন্ত সুচারুভাবে হোমিওপ্যাথি থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের টেকনিক্যাল জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করে হোমিওপ্যাথিকে দুর্বল করা হচ্ছে। কিছু ভাববাদি হোমিওপ্যাথও এর দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পারবেন না। মহামারি ছাড়াও যেকোন রোগের তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ ও জটিল রোগি ব্যবস্থাপনার জন্য রোগ নির্ণয় জরুরী হলেও কিছু উগ্রপন্থী হোমিওপ্যাথ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে মেডিক্যাল টেকনোলজির ব্যবহার কমিয়ে এনে হোমিওপ্যাথিকে হাসপাতাল কেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে চেম্বার কেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় পরিনত করেছে। যার দায়ভার এসে পড়েছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর। একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল।

আজকের এই ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের মহামারি রোধে প্রয়োজন ছিল পর্যাপ্ত মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনাসহ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল ও দক্ষ টেকনোলজিক্যাল জ্ঞান সম্পন্ন হোমিওপ্যাথ। বাংলাদেশের প্রায় বিশ কোটি মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চলছে অপর্যাপ্ত মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনায়। বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ গুলোতে আউটডোর চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও নেই ইনডোর চিকিৎসা ব্যবস্থা। শুধুমাত্র আউটডোর সেবা দিয়েই কি একটি চিকিৎসা ব্যবস্থার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? শুধুমাত্র লক্ষণসাদৃশ্যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচনের মাধ্যমেই চিকিৎসক হিসাবে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? হোমিওপ্যাথগণ কোন ক্রমেই এই দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারেননা। মানব কল্যাণের জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছেন মহত্মা হ্যানিম্যান। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষতা সম্পন্ন হোমিওপ্যাথের প্রয়োজন ছিলো। অথচ বর্তমান সময়ের এই ভয়াবহ দূর্যোগ মুহূর্তে শুধু দক্ষতা ও টেকনোলজি ব্যবহারের অপরাগতায় হোমিওপ্যাথিকে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। পূর্বের ন্যায় মহামারি প্রাদূর্ভাবে পরিসংখ্যানের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা দেখাতে পারলে হোমিওপ্যাথির দৈন্যদশা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো বলে মনে করছি।


লেখক-
ডাঃ মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন
BHMS, MS(Microbiology), MPH(Epidemiology),
DMU(Bimdur), PGD(Homeopathic medicine).