এই ব্লগটি সন্ধান করুন

১০.৩.১৭

গ্যাষ্ট্রিক চিকিৎসায় বাইয়োকেমিক কম্বিনেষন ২৫ এর মেজিক।

বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন ২৫ এর উপাদান ও প্রয়োগ ক্ষেত্র।

অম্ল,উদরে বায়ু জমা এবং গড় হজমঃ- এই তিনটি রোগ লক্ষণ পরষ্পর সম্পৃক্ত।হাইড্রোক্লোরিক এসিড হজমে সাহায্য করে কিন্তু অধিক মাত্রায় নিঃসৃত হলে সমস্যার সৃষ্টি হয়।এবং এতে নানা রকম দুর্লক্ষণ দেখা দেয়।বদহজম,খাদ্যনালীর ক্ষত,পিত্ত বমি এবং পেপটিক আলসার ইত্যাদি  রোগের সৃষ্টি হয়।যে সমস্ত কারণে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের  নিঃসরণ মাত্রা বাড়িয়ে নানা প্রকার দুর্লক্ষণ সৃষ্টি করে তা হচ্ছে খাদ্য,পানীয়,উত্তেজক বা নেশা জাতীয় খাদ্য পানীয়,এছাড়া আছে বংশগত ইতিহাস,অতি পরিশ্রম,মনষিক উদ্বেগ ইত্যাদি।হাইড্রোক্লোরিকের অতি নিঃসরণ হজম ক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে নানা প্রকার রোগ সৃষ্টি করে থাকে।এই গ্যাষ্ট্রিক গোলযোগের ফলে মাথার যন্ত্রনার সৃষ্টি হয়।

উপাদানঃ-1.Natrum Phosphoricum, 2.Natrum Sulphuricum, 3.Silicea. এই ঔষধগুলো হতে সমপরিমাণ গ্রহণ করে একত্রে মিশ্রিত করে কম্বিনেষন ২৫ তৈরী করা হয়।

প্রয়োগ ক্ষেত্রঃ-পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ, অম্ল,উদরে বায়ু জমা,বদহজম,টক উদগার,পেট ভারিবোধ,পিত্তবমি,অম্ল ঢেকুর,মাথায় যন্ত্রণা এবং জন্ডিস।

সংশ্লিষ্ঠ ঔষধগুলোর পরিলক্ষিত গুণাগুন বা নির্বাচক লক্ষণ সমূহ:

1.Natrum Phosphoricum:পাকস্থলিতে মাত্রাতিরিক্ত এসিড নি:সৃত হয়ে পরিপাক ক্রিয়ার বিঘ্ন ঘটায়।টক ঢেকুর,টক বমি,উদরে বায়ু জমা,পেটে বেদনা এবং জন্ডিস লক্ষণ দেখা দেয়।পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ হেতু মাথায় যন্ত্রণা,মাথায় খামচানো ব্যথা।শিশুদের উদরাময় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে হয়।পায়খানায় দানা দানা পদার্থ ভাসতে থাকে এবং অম্ল গন্ধ বের হয়।জেলির মত সামান্য শ্লেষ্মা মলে থাকে। 

2.Natrum Sulphuricum: লিভারের ক্রিয়া বৈকল্য তৎসহ টক বমি,অম্ল,বদহজম,হৃদযন্ত্রের জ্বালাপোরা,পেটে বায়ু জমা ,এই বায়ু সঞ্চয়ের জন্য পেটে বেদনা,লিভার রোগ বিশেষ করে হেপাটাইটিস,পিত্তবমি,উদরে জ্বালাপোডা,তিক্ত স্বাদ,পিত্ত বাহ্য,জিহ্বা সবুজাভ এবং পাংশু, জিহ্বার উপর কাদার ন্যায় ময়লার আবরণ।জিহ্বা সাদা হলে পিত্ত নিঃসরণ কম।খাবার সময় মাথা ঘোরে,পেটে বায়ু জমে,পেটে বেদনা হয়।

3.Silicea:হজম ক্রিয়ার গোলযোগ হেতু খাদ্যবস্তু হতে সার অংশ যথাযথ ভাবে গ্রহণে অসামর্থতাা হয়।এই জন্য দেহের পুষ্টি সাধনে বিঘ্ন ঘটে।টক ঢেকুর খাওয়ার পর পর উদর গহ্বরে ব্যথা,পানীয় খাদ্য গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে বমি করে ফেলে দেয়।পেট স্ফীত এবং আকারে বড়,অন্ত্রে কেটে ফেলার মত ব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।পুরাতন অজীর্ণ রোগ,টক ঢেকুর এবং বুকে জ্বালাপোড়া,শিশু মায়ের দুধ খেতে চায় না,খেলেই বমি করে।ঠান্ডা খাবার খেতে চায়,গরম খাদ্য অপছন্দ।দুধ সহ্য হয় না,খেলেই যন্ত্রণা বাড়ে,সকালের দিকে বমি হয়।কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উদর শূল।সরলান্ত্রের দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষণ।


উপসংহারঃবাইয়োকেমিক কম্বিনেশন ২৫ চারটি বড়ি বড়দের আর ছোটদের দুইটি বড়ি দিনে তিনবার সেবন করিলে গ্যাষ্ট্রিক আরোগ্য হয় কোন প্রকার পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।বর্তমানে গ্যাষ্ট্রিকের চিকিৎসায় অন্যান্ন প্যাথিতে যত জটিলতা তৈরি করছে তাকে পাশকাটিয়ে এই বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন সহজ সরল উপায়ে অল্প খরচে মেজিম সমাধান একমাত্র বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন ২৫।বাইয়োকেমিক কম্বিনেশনে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদানের রয়েছে গ্যাষ্ট্রিক আরোগ্যের শক্তি এদের লক্ষণ ভেদে সঠিকটি সঠিক মাত্রায় প্রয়োগে এসিডিটি আরোগ্য হয় দ্রুত।


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
গোঃ রেজি নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা। 

৬.৩.১৭

শিশু রোগসমুহের বায়োকেমিক চিকিৎসা

Childcare Biochemistry treatment.
আধুনিক চিকিৎসা জগতে বায়োকেমিক চিকিৎসা পদ্ধতি এক নতুন যুগের সৃষ্টি করেছে।এই চিকিৎসা বিজ্ঞান সন্মত,দ্রুত ও স্হায়ী ফলপ্রদ।বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা হু ,একে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে গ্রহন করেছে।অল্প কিছুদিন আগে জার্মানির এক সুনাম ধন্য হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার, ডাঃ সুসলার ১৮৭৩ সালে লিপজিক হোমিওপ্যাথিক গেজেটে “টিসু  ঔষধ”দ্বারা রোগ আরোগ্য হতে পারে বলে প্রকাশ করেন।মানব দেহে ধাতব লবন যে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এই তত্ত্বটি আমাদের গুরু হোমিওপ্যাথির জনক ডাঃ হ্যানিমান প্রচার করেছিলেন।সেই হিসেবে অনেকেই বাইয়োকেমিক চিকিৎসার জনকও বলে থাকেন।কিন্তু ডাঃ সুসলারের হতেই এই চিকিৎসার প্রচার ও প্রসারে পূর্ণতা পেয়েছে এটাই সত্য।বায়োস গ্রীক শব্দ যার অর্থ জীবন এবং কেমিষ্ট্রি অর্থ রসায়ন।অতএব এর পূর্ন অর্থ দ্বারায় ”জৈব রসায়ন”।বায়োকেমিক চিকিৎসা মতে কেবলমাত্র বারটি ঔষধ দ্বারা সকল রোগ আরোগ্য করা হয়।এইজন্য বাইয়োকেমিক চিকিৎসা সহজ সরল।যে কয়টি উপাদান দ্বারা আমাদের দেহ গঠিত সেই কয়েকটি উপাদান দ্বারা সকল রোগের চিকিৎসা করা হয়।এই ঔষধে কোনপ্রকার বিষাক্ত দ্রব্য মিশানো হয় না তাই এই ঔষধ প্রয়োগে কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয় না।ফলে শিশুরোগের চিকিৎসায় সুনির্বাচিত ঔষধ দিতে ব্যার্থ হলেও কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই।অতি সামা্ন্য মাত্রায় ও অল্প সময়ে আরোগ্যের কারণে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচুর জনপ্রীয়তা নিয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মুলমন্ত্র হচ্ছে সদৃশ বিধান আর বাইয়োকেমিক চিকিৎসার মুলমন্ত্র হচ্ছে সল্টের অভাব পুরন করা।ডাঃ সুসলারের টিসু মতবাদ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আজ আমারা বিভিন্ন শিশুরোগের চিকিৎসায় বাইয়োকেমিক ঔষধ নির্বাচন বিষয়ে জানব।

সদ্যজাত শিশুঃ-সর্দি,কাশি,হাচি,জ্বর লক্ষণ প্রভূতি ফেরাম ফস পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ।
মেরাস মাসঃ-নেট্রাম সালফ,নেট্রাম মিউর,প্রাধান ঔষধ।

নাড়ি পাকাঃ-সাইলেসিয়া প্রধান ঔষধ।ক্যালকেরিয়া সালফ,এবং সাইলেসিয়া সেবন ও বাহ্য প্রয়োগ।

চোখ উঠাঃ-ফেরাম ফস,নেট্রাম সালফ পর্যায়ক্রমে সেব্য।

দুধ ভোলাঃ-নেট্রাম ফস,ক্যালকেরিয়া ফস পর্যায়ক্রমে প্রযোজ্য।

শিশুর কাদাঃ-ক্যালকেরিয়া ফস,ও ম্যাগ ফস সেব্য।

দাত উঠাঃ-দাত উঠতে বিলম্ব হলে ক্যালকেরিয়া ফস।

দাতে পোকাঃ-সাইলিসিয়া এবং ক্যালকেরিয়া ফস।

হুপিং কাশিঃ-ক্যালকেরিয়া ফ্লোর,ফেরাম ফস,নেট্রাম সালফ,নেট্রাম ফস,।

পেটে ব্যাথাঃ-ম্যাগ ফস এবং ক্যালকেরিয়া ফস পর্যায়ক্রমে সেব্য।

কোষ্ঠ বদ্ধতাঃ-নেট্রাম মিউর,সাইলিসিয়া সকাল বিকাল সেব্য।

শিশুর কৃমিরোগঃ-ক্যালকেরিয়া ফস ও নেট্রাম ফস।

শিশুর শীর্ণতাঃ-ক্যালকেরিয়া ফস,নেট্রাম মিউর,সাইলিসিয়া।

উপরোক্ত শিশুরোগের নির্বাচিত ঔষধ সঠিক মাত্রা ও শক্তিতে প্রয়োগ করা হলে কোন পার্শপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা নেই।বাইয়োকেমিক চিকিৎসা মতে চিকিৎসা শুরু করার আগে আবশ্যই বারটি টিসু সল্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।প্রতিটি ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা প্রতিটি ডাক্তারের অবশ্য কর্তব্য।বারটি ঔষধের প্রয়োগ লক্ষণ জেনে প্রয়োগ করিলে যে কোন রোগ আরোগ্যে সফলতা সম্ভব।কোন কোন ঔষধ শরীরের কোন কোন অভাব পুরন করিতে সক্ষম তা জেনেই বাইয়োকেমিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
গোঃ রেজি নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।