এই ব্লগটি সন্ধান করুন

২৩.১.২০

এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা আরোগ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

রক্ত স্বল্পতার হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার।

রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়া কি?
রক্তাল্পতা এমন একটি শর্ত যা আপনার দেহের টিস্যুগুলিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন বহন করার জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর লোহিত
রক্তকণিকার অভাব। রক্তাল্পতার রোগী ক্লান্ত এবং দুর্বল বোধ করতে পারেন। রক্তস্বল্পতার বিভিন্ন ফর্ম রয়েছে যার প্রত্যেকটির নিজস্ব কারণ রয়েছে। রক্তাল্পতা অস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং এটি হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। 
এনিমিয়া ( ANAEMIA ) বলতে কি বুঝি ?
দেহমধ্যে রক্তের পরিমাণের স্বল্পতা অথবা রক্তমধ্যে রক্তকণিকাসমূহ বা তাহার অন্য কোন উপাদানের স্বল্পতাকে এনিমিয়া বলা হয়। রক্ত সৃজনের ব্যাঘাত, ব্যায়াধিক্য অথবা আকস্মিক বা ক্রমবর্ধনশীল রক্তক্ষয় ইহার কারণ। ইহা স্থানীয় বা লোকাল দেহাংশ সীমাবদ্ধ এবং ব্যাপক বা জেনারাল সর্বদেহে বিস্তৃত হইতে পারে।আমাদের শরীরে রক্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লোহিত রক্তকণিকা, আর লোহিত রক্ত কনিকার প্রাণ হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করা। আবার আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। কোনো কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বা পরিমাণ কমে গেলে সেই অবস্থাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বলা হয়।

পরীক্ষা নিরীক্ষা(Investigation)
রক্তের Hb% নির্ণয়ের মাধ্যমে রোগীর রক্ত স্বল্পতা নিশ্চিত করা হয়।
Hemoglobin Concentration (Hb) 
Reference Range
The reference ranges for hemoglobin (Hb) concentrations in adults are as follows [1] :
·      Male: 14-18 g/dL or 8.7-11.2 mmol/L (SI units)
·      Female: 12-16 g/dL or 7.4-9.9 mmol/L (SI units)
·      Pregnant female: >11 g/dL
·      Elderly: Slight decrease in values
এনিমিয়ার শ্রেণী বিভাগ
ব্যাপক বা জেনারেল এনিমিয়াকে প্রাইমারী বা মূলরোগরূপে প্রকাশিত (এসেনসিয়াল) ও সেকেন্ডারি বা লক্ষণরূপে প্রকাশিত (সিস্টেম্যাটিক) এই দুই শ্রেণীতে বিভাগ করা যাইতে পারে। অ্যান্টি-এনিমিক হরমোনের অভাববশতঃ রক্তসৃজনের ব্যাঘাত ঘটিবার ফলে স্বল্পকালস্থায়ী, অপুষ্ট ও বিকৃত লোহিত রক্ত-কণিকা সমূহ রক্তপ্রবাহমধ্যে প্রবিষ্ট হইবার ফলে যে রক্তহীনতা প্রকাশ পায় তাহাকে প্রাইমারী এনিমিয়া বলা হয়। সহসা অতিরিক্ত বা দীর্ঘকাল মন্দ মন্দ রক্তস্রাব অথবা অন্যবিধ রোগের ফল স্বরূপ যে রক্তহীনতা উপস্থিত হয় তাহাকে সেকেন্ডারি এনিমিয়া বলা হয়।
প্রাইমারী এনিমিয়াকে পার্ণিসাস এনিমিয়া ও ক্লোরোসিস এই দুই শ্রেণীতে বিভাগ করা হয়। সেকেন্ডারি এনিমিয়াও অ্যাকিউট ও ক্রনিক হইতে পারে। পাকস্থলী প্রভৃতি বিভিন্ন স্থান হইতে সহসা প্রচুর রক্তস্রাবের ফলে অ্যাকিউট সেকেন্ডারি এনিমিয়া হইতে পারে। ক্ষতযুক্ত এন্ডোকার্ডাইটিস প্রভৃতি জীবাণু সংক্রমক রোগসমূহ, সীসক প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্যসমূহের বিষক্রিয়া অথবা অর্শ প্রভৃতি হইতে দীর্ঘকাল মন্দ মন্দ রক্তস্রাবের ফলে ক্রনিক সেকেন্ডারি এনিমিয়া হয়। আমরা আরও এক ধরনের এনিমিয়া রোগী পাব। পার্ণিসাস এনিমিয়া বা এডিসোনিয়ান এনিমিয়া। তাঁর পর পাব ক্লোরোসিস ইহা যুবতী স্ত্রীলোকগণের একটি বিশিষ্ট শ্রেণীর রক্তহীনতা রোগ। ইহাতে গাত্রবর্ণ সবুজ আভাজুক্ত হয় বলিয়া ইহাকে গ্রীন সিকনেসও বলে।

এনিমিয়ার কারণ ( Aetiology )

·       পরিপাক ক্রিয়ার অভাব
·       অল্পাহার, অনাহার, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব
·       রসরক্তাদির ক্ষয়, প্রচুর রক্তস্রাব; দীর্ঘকাল স্থায়ী পুঁজ স্রাব; পুরাতন উদরাময়
·      সামান্য পরিশ্রম করতে পারে না, বুক ধড়ফড় করে, মূর্ছাভাব, হাত পা ঠাণ্ডা
·       ক্ষুধাহীনতা ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
·      পায়ে শোথ
·       কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ, শারীরিক উত্তাপ কম, ক্ষতাদি শুকোতে চায় না, আঙ্গুলের অগ্রভাগ টিপলে রক্তহীনতার ভাব প্রকাশ।
·       রেড ব্লাড সেল অত্যধিক মাত্রায় ধ্বংস হলে অ্যানিমিয়া হতে পারে। একে হিমোলেটিক অ্যানিমিয়া বলে। সাধারণত ইনফেকশন থেকে হিমোলেটিক অ্যানমিয়া হয়। এছাড়া যেসব কারণে অ্যানিমিয়া হতে পারে।
·       কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে
·       বেশি পরিমাণে রক্তক্ষরণ হলে। সেটা ইনটেসটিনাল ব্লিডিংয়ের জন্যও হতে পারে আবার হেভি মেনস্ট্রুয়াল ব্লিডিংয়ের জন্যও হতে পারে।
·       পর্যাপ্ত পরিমাণে রেড ব্লাড সেল তৈরি না হওয়ার জন্য।
·       ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে।
·       কিছু কিছু টক্সিক কেমিক্যালের সংস্পর্শে এলে।
·       শরীরে আয়রনের মাত্রা কমে গেলে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিহার্য । শিশুদের অ্যানিমিয়ার মূল কারণ কিন্তু এটিই ।
·       জন্মগত কারণে ।
·      পুষ্টির অভাবে বা ভিটামিনের অভাব হলে ।
Physical Examination 
 রক্তহীনতা, ফ্যাকাসে ভাব, টেকিকার্ডিয়া, নাড়ীর গতি মন্থর, সিষ্টোলিক মারমার, শোথভাব।
Pathological Investigation
·      Blood Examination
·      Bone marrow Test
·      Percentage of Haemoglobin is 14`6 gm per 100 cc of Blood .
এছাড়াও পরীক্ষা করলে দেখা যায় রোগীর রক্তে Iron এর অভাব Vitamin12 অভাব। রক্ত ক্ষরণের কারণ অর্শ, হুক ওয়ার্ম, পেপটিক আলসার।
জটিলতা ( Complications )
·      Iron Deficiency anaemia
·      Aplastic Anaemia or Anaemia Gravis
·      Haemolytic Anaemia
·      Pernicious Anaemia
·      Leukaemia
·      Chrinic Myeloid Leukaemia
·      Chrinic Lymphatic ইত্যাদি ।

রক্তহীনতার চিকিৎসা
সেকেন্ডারী অ্যানিমিয়া রোগীর শোণিতপাত নিবারণের ব্যবস্থা সর্বপ্রথম কর্তব্য। তৎসহ পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর আবহাওয়ায় স্থান পরিবর্তন দ্বারা শীঘ্রই রোগীর লোহিত রক্ত কণিকার স্বাভাবিক অবস্থা উপনীত হইতে পারে। উপবাস বা অনাহারজনিত রক্তহীনতায় উপরোক্ত ব্যবস্থা শুভ ফল প্রদান করে। রাসায়নিক পদার্থাদির বিষক্রিয়াজনিত রক্তহীনতায় রক্ত হইতে উক্ত বিষক্রিয়া প্রভাব দূর করা এবং বিশেষ প্রতিষেধক ব্যবস্থা অবলম্বন করা অবশ্য কর্তব্য। অন্যান্য নানাপ্রকার ব্যাধিসংশ্লিষ্ট রক্তহীনতায় মূলরোগের চিকিৎসা বিধেয়। ক্লোরোসিস রোগীর শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, যথেষ্ট সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, প্রচুর সূর্যকিরণ উপভোগ, স্বাস্থ্যকর বায়ুপূর্ণস্থানে অবস্থান উষ্ণ জলে স্নান, খাদ্যাদি দ্বারা কোষ্ঠপরিষ্কার রাখিবার ব্যবস্থা, প্রভুতি দ্বারা বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। পথ্য হিসাবে টাটকা শাকসব্জি, খরগোস, মুরগী, প্রভৃতির মাংস, ডিম, দুগ্ধ প্রভৃতি উপকারী। পথ্যাদি নির্বাচনে রোগীর পরিপাকশক্তির উপর বিশেষ লক্ষ্য রাখিতে হইবে। লৌহ মিশ্রিত জলযুক্ত প্রস্রবণ সমীপে বাস ও সেই জলপানে বিশেষ উপকার হয় ঔষধরূপে লৌহ ব্যবহার করিবার প্রথা প্রচলন আছে, কিন্তু তাহা সমর্থনযোগ্য নহে।
পার্ণিসাস অ্যানিমিয়া রোগীর সর্ববিধ ব্যবস্থা পূর্ববৎ। পশুর যকৃৎ ও অস্থিমজ্জার ক্কাথ সেবনে বিশেষ উপকার হয়। মরণাপন্ন রোগীর শিরামধ্যে রক্ত ইঞ্জেকসান করিবার প্রথাও প্রচলিত আছে।

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে রক্ত স্বল্পতার একক ঔষধ নির্বাচন কৌশলঃ
ANEMIA, hæmorrhage, after
++ hæmorrhage, after : Calc.carb-v.Chin.Ferr.lach.nat-m.nux-v.ph-ac.phos.sulph.
++ ANALGESIA (See Irritability) : Bell., chel., cic.Cocc., con., hell., hyos.ign., kali-br., laur., Lyc., merc., mosch., Olnd.Op.Ph-ac., phos., pic-ac., plb.puls., rhus-t.sec., Stram.sulph.
++ inner parts : Ars., bell., bov., hyos., Op.Plat., spig.++ parts affected : Anac., asaf., cocc.con., lyc.olnd.Plat., puls., rhus-t.
বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে রক্ত স্বল্পতার সদৃশ ঔষধ নির্বাচন
ANEMIA
Chlorosis -- Acet. ac., Alet., Alum., Arg. n.Arg. oxy., Arn., Ars., Aur. ars., Bism., Calc. ars., Calc. c., Calc. lact., Calc. p., Calop., Carbo v., Chin. ars., Chin. s., Cic., Cinch., Con., Crat., Crot., Cupr. ars., Cupr. m.Cycl., Ferr. ac., Ferr. ars., Ferr. carb., Ferr. et. chin., Ferr. p., Ferr. iod.Ferr. m., Ferr. mur., Ferr. oxy., Ferr. red., Gossyp., Graph.Helon., Hydr., Iod., Irid., Kali bich., Kali c., Kali p., Lecith., Lyc.Mang. ac., Merc. s., Nat. c., Nat. m.Nit. ac., Nux v., Petrol., Phos., Phyt., Picr. ac., Plat., Plumb. ac.Puls., Rubia., Sacchar. of., Sec.Sep., Sil., Strych. et ferr. cit.Sul., Thyr., Vanad., Zinc. ars., Zinc. mur.
Cardiac disease [from] -- Ars., Crat., Stroph.
Grief [from] -- Nat. m., Phos. ac.
Malaria [from] -- Alston., Ars.Nat. m., Ostrya, Robin.
Menstrual derangements [from] -- Arg. oxy., Ars., Calc. c., Calc. p., Crat., Cycl.Ferr.Graph.Kali c., Mang. ac., Nat. m.Puls., Sep.
Nutritional disturbances [from] -- Alet., Alum., Calc. p., Ferr., Helon., Nux. v.
Suboxidation [from] -- Picr. ac.
Syphilis [from] -- Calop.
Vital drains, exhausting disease [from] -- Acet. ac., Alston., Calc. p., Chin. s., Cinch.Ferr., Helon., Kali c., Nat. m.Phos ac., Phos.
Hćmorrhagic chlorosis -- Arg. oxy.Ars., Calc. c., Crot., Ign., Nat. br.
Pernicious anemia -- Ars.Phos., Picr. ac., Thyr.
Type
Erythistic; worse in winter -- Ferr. m.

রক্তহীনতার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত সদৃশ ঔষধের লক্ষণ ভিত্তিক আলোচনা

v অ্যালুমিনা
ইহা ক্লোরোসিসের একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ। শীতার্ততা ও সর্দিপ্রবণতা এবং মলদ্বারের দুর্বলতাবশতঃ কোষ্ঠবদ্ধতা; ফিকা বর্ণের অতি স্বল্প ঋতুস্রাব ও স্বচ্ছ পীতাভ শ্লেষ্মাময় অত্যধিক প্রদরস্রাব; অত্যধিক দুর্বলতা; প্রাতে নিদ্রাভঙ্গে বিমর্ষভাব; খড়িমাটি, পোড়ামাটি, স্লেট, পেন্সিল প্রভুতি খাইবার প্রবল ইচ্ছা।
v আর্জেন্টাম মেট
ইহা এবং আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম প্রায় সমলক্ষণে ক্লোরোসিস রোগে উপযোগী। রোগিণী শীর্ণা, বিবর্ণা ও অতিশয় দুর্বল। প্রায়ই মাথা ঘোরে ও হস্তপদাদি কম্পিত হয় ; শ্বাসকষ্ট, প্যালপিটেসান; মুক্ত বায়ুর আকাঙ্ক্ষা; আবদ্ধ ও উষ্ণগৃহ সহ্য হয় না ; কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ হয়; প্রায়ই বিবমিষা ও বমন হয়; দুর্গন্ধযুক্ত প্রচুর প্রদর-স্রাব।
v আর্সেনিক এলবাম
ইহা লোহিত রক্ত-কণিকা ধ্বংসকারী পদার্থ; ম্যালেরিয়া ও বিষদুষ্টিজনিত ( টক্সিক ) অ্যানিমিয়া ও পার্ণিসাস অ্যানিমিয়ার ইহা অন্যতম ঔষধ। সর্বাঙ্গীণ শীর্ণতা,অতিশয় অবসাদ ও দুর্বলতা; প্রবল পিপাসা  পুনঃ পুনঃ অল্প পরিমাণে জলপান; সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও হৃৎকম্পন; মুখমণ্ডল ও হস্তপদাদির শোথ ; সর্বাঙ্গীণ শোথ ( এনাসার্কা)
v ক্যাল্কেরিয়া কার্ব
ইহার বিষক্রিয়ার লোহিত রক্ত-কণিকা ও হিমোগ্লোবিন এবং লিউকোসাইটস হ্রাস পায়; তজ্জন্য ইহা রক্তহীনতা, বিশেষতঃ বালিকাগণের ক্লোরোসিস রোগে ফলপ্রদ। সোরা, গণ্ডমালা বা যক্ষ্মা ধাতুগ্রস্ত রোগিণীদিগের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। রোগিণী সদাই বিমর্ষ ও আশঙ্কিত। অপরের কষ্টভোগের বা অন্যবিধ মন্দ সংবাদ শুনিলে বা উত্তেজনাবশতঃ মস্তকে রক্ত প্রবাবিত হয় ও মাথা ঘোরে ;পদদ্বয় সর্বদাই শীতল থাকে ; রাত্রে শুষ্ক কাশি, শরীরাংশ ঘর্ম, দক্ষিণ কণ্ঠাস্থির নিন্মস্থানে বেদনা; ঘন ঘন প্রচুর পরিমাণে ঋতুস্রাব। ক্যাল্কেরিয়া আর্স, আর্সেনিক ও ক্যাল্কেরিয়া এতদুভয়ের লক্ষণমিশ্রণে ইহা অ্যানিমিয়া ও ক্লোরোসিস রোগের একটি মুল্যবান ঔষধ। রোগিণী স্থূলাঙ্গী ও শীতকাতর; সামান্য মনোবিকারেই অত্যধিক প্যালপিটেসান হয়। হিমোগ্লোবিন ও লোহিত রক্ত-কণিকা হ্রাস পায়।
v ক্যাল্কেরিয়া ফস
ক্যাল্কেরিয়া কার্বের লক্ষণাবলীসহ ফসফরাসের ন্যায় শীর্ণা ও কৃশাঙ্গীদিগের অ্যানিমিয়া বা ক্লোরোসিস রোগে উপকারী।
v চায়না
অতিরিক্ত রক্তস্রাব, রেতঃপাত, অধিক দিন স্তন্যদান, দীর্ঘস্থায়ী পুঁজ সঞ্চয়, প্রভৃতি বশতঃ অ্যানিমিয়া।কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ করে; প্রায়ই মূর্ছা হয়, অগ্নিমান্দ্য, উদরাধ্নান ; মধ্য রাত্রের পর ও আহারের পর উদরাময়, ফল বা দুধ সহ্য হয় না।
v ম্যাঙ্গানাম
ইহাও ক্লোরোসিস, এমন কি পার্ণিসাস অ্যানিমিয়ায় বিশেষ উপকারী। ইহাতে রক্তস্রাবের কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না, পরন্তু স্বল্প ঋতু বর্তমান থাকে। রোগিণী অত্যধিক দুর্বলতা বোধ করে এবং সর্বক্ষণই শুইয়া থাকিতে চায় ; মাথা ব্যথা ;রোগিণী বিমর্ষা, খিটখিটে ও নীরবে রোদনপরায়ণা।
v চিনিনাম আর্স
দীর্ঘস্থায়ী পুঁজসঞ্চার ও রক্তস্রাববশতঃ ক্রমবর্ধমান অ্যানিমিয়া; পার্ণিসাস অ্যানিমিয়া
v ফেরাম মেট
রোগিণীর মুখমণ্ডল, মুখগহ্বর, তালু, ওষ্ঠ ও সর্বস্থানের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী অত্যধিক নিরক্ত এবং সাদা দেখায়, কিন্তু ক্রোধ, বিরক্তি, প্রভৃতি মানসিক উত্তেজনাই মুখমণ্ডল উজ্জল লালবর্ণ ধারণ করে। দপদপানি শিরঃপীড়া, সর্বাঙ্গের দপদপানি ও প্যালপিটেসান ; গ্রীবাস্থ জুগুলার শিরার উপর হীমিক মার্মার শুনা যায়; সর্বক্ষণ শীতবোধসহ সন্ধ্যায় প্রলেপক বা হেকটিক জ্বরবোধ; অগ্নিমান্দ্য। আহার করিবামাত্র বিবমিষা ও বমন ; ফিকা বর্ণের প্রচুর ঋতুস্রাব; অত্যধিক দুর্বলতা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে চলিয়া বেড়াইলে উপশম বোধ করে, কিন্তু শীঘ্রই অবসন্ন হইয়া পড়ে। ইহা ক্লোরোসিস রোগে অ্যাল্বুমিনার ও রক্তক্ষয়জনিত অ্যানিমিয়া রোগে চায়নার অনুপূরক।
v গ্র্যাফাইটিস
মোটাদেহ ও সর্বক্ষণ শীতকাতর ব্যক্তিগণের রক্তহীনতা;
কোষ্ঠবদ্ধতা;  গাত্র-ত্বক কর্কশ ও নানাস্থানে ফাটিয়া যায় ; চর্মরোগপ্রবণতা ; রক্ত সুস্পষ্টভাবে জলবৎ দেখায় ও শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় ; বিলম্বিত অতি স্বল্প জলবৎ বর্ণহীন ঋতু এবং প্রচুর প্রদরস্রাব; অতিশয় বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা; লক্ষণ সাদৃশ্য থাকায় ইহা ফেরামের কার্যানুপূরণ করে।
v নেট্রাম মিউর
দীর্ঘকাল ম্যালেরিয়া ভোগ বা কুইনাইনের অপব্যবহারবশতঃ অ্যানিমিয়া; শীর্ণ, বিশুষ্ক মুখমণ্ডল ও সর্বাঙ্গীণ শীর্ণতা; অনিয়মিত ঋতু; ২/৩ মাস অন্তর জলবৎ বর্ণহীন স্বল্প ঋতুস্রাব, প্রদরস্রাবের ন্যায় ঋতুস্রাব।অঙ্গুলি কাটিয়া গেলে জলবৎ বর্ণহীন রক্তপাত হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা; কোষ্ঠকাঠিন্য বশতঃ মলদ্বার বিদীর্ণ হইয়া রক্তপাত হয়। পক্ষসঞ্চালনের ন্যায় প্যালপিটেসান তজ্জন্য সর্বশরীর কম্পিত হয়, সর্বশরীরে দপদপানি অনুভব, প্রবল শিরঃপীড়ায় মস্তক ফাটিয়া যাইবে বলিয়া মনে হয়। তিক্ত, লবণাক্ত ও অম্ল দ্রব্যাদি খাইবার ইচ্ছা। বিমর্ষ ও খিটখিটে মেজাজ, হঠাৎ কোন শব্দ হইলে প্যালপিটেসান বৃদ্ধি পায়, সান্তনাদানে কষ্ট হয়।
v নেট্রাম আর্স
আর্সেনিক ও নেট্রাম মিউরের পরিবর্তে অনেক সময় উপকার দর্শায়।
v ক্যালি-কার্ব
অ্যানিমিয়াসহ শীতার্ততা; শিরোঘূর্ণন, কর্ণনাদ, হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতা, সার্বাঙ্গীন ঘর্ম ও কটি-বেদনা। ইহা প্রায়ই নেট্রাম মিউরের পর উত্তম ফলপ্রদ।
v ফসফরাস
অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও শুক্রাদিক্ষয়জনিত অ্যানিমিয়া। অতিশয় দীর্ঘ ও কৃশ দেহ, শীর্ণ বক্ষযুক্ত যক্ষ্মা রোগপ্রবণ ধাতু। সহজেই সর্দি হয়। শীঘ্র শীঘ্র অধিক পরিমাণে উজ্জল লাল ঋতুস্রাব। বিকল্প(ভিকোরিয়াস) ঋতু; দীর্ঘস্থায়ী উদরাময়, অত্যধিক পিপাসা শীতল জল, শরবৎ পানের ইচ্ছা, প্রায়ই বুক ধড়ফড় করে ও মাথা ঘোরে। রক্তহীনতাসহ ন্যাবা।
v ফেরাম ফস
ফেরাম ও ফসফরাসের মিলিত লক্ষণে বিশেষ উপযোগী।
v হাইড্রাসটিস
ক্যান্সার প্রভৃতি রোগসহ রক্তহীনতা; প্রায়ই মূর্ছা হয়।অত্যধিক শীর্ণতা ও অবসন্নতা, গাত্র ত্বকের হলুদাভ সাদা বর্ণ।
v পালসেটিলা
কুইনাইন বা লৌহযুক্ত ঔষধের অপব্যবহারজনিত রক্তহীনতা; ক্লোরোসিস, সদাই শীতার্ততা সত্ত্বেও গৃহের উষ্ণতা সহ্য করিতে পারে না, মুক্তবায়ুতে উপশম বোধ, স্থূলাঙ্গী ও রক্তহীন পাণ্ডুবর্ণযুক্ত রমণীর বিলম্বিত, স্বল্প, গাঢ় ও বিশেষ ক্লেশপ্রদ ঋতুস্রাব। বিমর্ষা ও ক্রন্দনশীলা-সহানুভূতিপ্রিয়া। বুকের মধ্যে যন্ত্রণাবোধসহ শ্বাসকষ্ট প্যালপিটেসান, এক বা উভয় পার্শ্বের কণ্ঠাস্থির নিন্মে বেদনা, সর্বাঙ্গে জ্বালাবোধ, পিপাসাহীনতা, অগ্নিমান্দ্য, উদরাময়।
v সাইক্লেমেনঃ
ইহা সর্বাংশেই পালসেটিলার সমতুল্য, কিন্তু ইহাতে যথেষ্ট পিপাসা থাকে এবং রোগিণী মুক্তবায়ু সহ্য করিতে পারে না। উপবিষ্ট অবস্থা হইতে দণ্ডায়মান হইলেই মাথা ঘোরে – এই লক্ষণ উভয় ঔষধেই সমভাবে বর্তমান।
v হেলোনিয়াস
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা বিলাসহেতু ভগ্নস্বাস্থ্য রমণীগণের দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাবজনিত অ্যানিমিয়া বা ক্লোরোসিস। বিষাদ ও নিদ্রাহীনতা; রোগিণী সদাই শ্রান্ত ও দুর্বল সর্বক্ষণই কটিবেদনা। কোন কাজে ব্যাপৃত থাকিলে সুস্থবোধ করে।
v এসিড পিক্রিম
পার্ণিসাস অ্যানিমিয়াসহ অত্যধিক দুর্বলতা ও অবসন্নতা, মেরুদণ্ড বাহিয়া জ্বালাবোধ উত্তেজনায় বৃদ্ধি।
v সিপিয়া
ইহা সর্বলক্ষণেই পালসের তুল্য, কিন্তু মানসিক ক্ষেত্রে পৃথক। ইহাতে রোগিণী বড়ই খিটখিটে ও উগ্রমেজাজযুক্ত, সাংসারিক কাজে বিরক্তি ও অনিচ্ছা।

v সিকেলি কর
ক্রমবর্ধমান রক্তহীনতা, শীর্ণদেহ এবং পাণ্ডুবর্ণ, রক্তহীন, ন্যাবার ন্যায় বর্ণযুক্ত গাত্র-ত্বক, সমগ্র শরীর শীতল, কিন্তু উষ্ণতা সহ্য হয় না।
v সালফার
ইহা অন্যান্য ঔষধাবলীর ক্রিয়াশক্তির উদ্দীপনা বৃদ্ধি করিবার জন্য পায়ই প্রয়োজন হয়। ক্ষণে ক্ষণে উত্তাপের ঝলক অনুভব, মস্তক শীর্ষ উত্তপ্ত, পদতলদ্বয়ে জ্বালা, মধ্যরাত্রে শ্বাসকষ্ট বোধ সহ নিদ্রাভঙ্গ হয় এবং মুক্ত বায়ুর আশায় দরজা জানালা খুলিয়া দিতে বলে; পূর্বাহ্ণে পাকস্থলী মধ্যে দুর্বলতা ও নিমগ্নতা বোধ এবং তজ্জন্য শারীরিক অবসন্নতা কিছু খাইলেই উপশম বোধ।

কেস হিস্ট্রি উপস্হান
আমার প্রিয় বন্ধু মোঃ জোবায়ের আল-মাহবুব ডাক নাম ইয়ামিন। গ্রাম পোস্ট ভাওড়া ,থানা মির্জাপুর, টাংগাইল। একসাথে দীর্ঘ দিন কাজ করেছি। পল্লী বিদ্যুৎ চাকরি হওয়ার পর যোগাযোগ কমেছে। দীর্ঘ দিন পর আমার বাসার এসেছিল সাক্ষাৎ করতে। তার আইরন ডিফিসেন্সি জনিত রক্ত স্বল্পতা। লাল টুকটুকে সুন্দর চেহারার মানুষটি কালো ঝামার মতো হয়ে গেছে। কেউ দেখলে চিনতে পারবে না। তার সকল সমস্যার বর্ণনা শুনে নিশ্চিত হলাম তার পূর্ব পুরুষগত কিউবারকুলোসিস মায়াজমের প্রভাব রয়েছে। সামান্য কারণে চোখ মুখ লাল হয়ে যায়, ‌‌‌‌‌রাগ কিম্বা লজ্জায় মুখে লাল আভা ফুটে ওঠে। অত্যন্ত দূর্বলতা, সামান্য কারণে বুক ধড়ফড় করে উঠে। হাঁটা চলা, সিঁড়ি বেয়ে উঠা তার জন্য কষ্টকর। আমি তাকে ফেরত মেট প্রয়োগ করে ছিলাম। তাতেই সে দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছিল। তিন মাস পর তার রোগের লক্ষণ দুর হয়ে স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে এসেছিল। আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মিরাকল দেখে সেও খুব খুশি।


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
আশুলিয়া।সাাভার,ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

২০.১.২০

সর্বনিম্ন কয়টি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সম্পর্কে জানতে হবে?

ডাঃ রবিন বর্মন (এম ডি)

ডাঃ রবিন বর্মন স্যারের উপস্হানায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের জন্য জরুরি কতগুলো হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সম্পর্কে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জন্য জানা জরুরী ?
কোন মেথড আদর্শ আরোগ্যের উপায়?
এই বিষয়ে ডাঃ রবিন বর্মন স্যারের ভাষ্যমতে বিস্তারিত জানুন।

★ কেবলমাত্র  মানসিক লক্ষণ বিচার করে সবসময় সব রোগ সারানো যাবে না ,

★ ১২/১৩ টি ঔষধ দিয়েও সব  রোগ সারবে না। তাই যদি হতো তাহলে হ্যানিম্যান, হেরিং, কেন্ট,  এত সব ঔষধের পিছনে দৌড়াতো না । এমন সব ভাঁড়ামো থিওরি মানতে যাবে না । এইসব নোংরামো দেখলে দূরে সরে আসবে । সেই সব আবাল লোকদের ছায়া মাড়াবে না।  মনে রাখতে হবে ---- হোমিওপ্যাথিকে কফিনে ঢুকিয়ে ঢাকনা দিয়ে আটকানোর জন্য এরা এক একটি বড় বড় পেরেক।

★ হ্যানিম্যানের সময় পাল্টে গেছে তাই এখন যুগের সাথে একসাথে অনেক ঔষধ দিতে হবে, এইসব অর্বাচীনদের কথা মূল্যহীন । ডেভিডশনের এ্যালোপ্যাথিক প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন বইয়েও লেখা ---
" Polypharmacy must be avoided, one reason, being the counter action of medicines ".

★ মায়াজম মানি না,  ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস অনুযায়ী চিকিৎসা করবো অথচ কলেজে পড়াবো --++এইসব নাটকবাজ বা কৃত্রিম হোমিওপ্যাথদের থেকে দূরে থাকতে হবে ।
হ্যানিম্যানের মায়াজম থিওরি কে বহু বিদগ্ধ  মানুষ সমর্থন করেছেন।

★মায়াজম মানে বড্ড বেশী কচকচানি বা বড্ড বেশী ফ্যানানো, বা বড্ড বেশী নাটক করা নয় ।  হ্যানিমান লিখেছেন সাড়ে তিন পৃষ্ঠা, কিছু কিছু  থিওরিট্যাকাল চ্যালারা গ্যাজাচছে হাজার পৃষ্ঠা।

 সাধারণভাবে রোগগুলিকে তিন গ্রুপে ফেলা  হবে , এবং ঔষধ গুলিকেও তদ্রুপ তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে।  যে গ্রুপের রোগ ---    সেই গ্রুপের ঔষধ নির্বাচন করার চেষ্টা করতে হবে ।

ব্যাংকক যাওয়ার রুট যেমন আলাদা,  চীনে যাওয়ার রুট যেমন আলাদা ,  পাকিস্তান যাওয়ার রুট যেমন আলাদা --- মায়াজম মানে তেমনি আমি একজন রোগীর ঔষধ সিলেকশনে কোন রুটে যাবো সেইটাই বিচার্য।

 সংক্ষেপে তিনটি শব্দ আমি বলে দিয়েছি সোরা মানে ইরিটেশন ,  সিফিলিস মানে ডেস্ট্রাকশন ,  আর সাইকোসিস মানে প্রলিফারেশন  এবং ইনকরডিনেশন।

 ★গুছিয়ে কেস টেকিং করতে হবে।  গুছিয়ে ঠান্ডা মাথায় কেস টেকিং করার কোন বিকল্প ব্যাপার নেই ।  কেস টেকিং গুছিয়ে না হলে  বা সম্পূর্ণভাবে না করতে পারলে ঔষধ সিলেকশন ভুল হবে।

 ★মেটিরিয়া মেডিকা,  রেপার্টরী,  এবং প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন বারবার পড়তে হবে, এবং  বুঝতে হবে  কোন লেখা কোথায় কিভাবে প্রযোজ্য হবে। প্রতিটি লেখা ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে,  অর্থাৎ ইন্টারপ্রিটেশন করতে হবে। বোকার  মতন পড়ে গেলে হবে না ।

★কম্পিউটার রেপার্টরাইজেসনের  মাধ্যমে সিমিলিমাম ঔষধ সিলেকশন   হয় না।  ঔষধের যোগফল  সবথেকে বেশি হলেই সেই ঔষধ  সিলেকশন করতে হবে  তা হতে পারে না ।  তা যদি হতো  একজন ব্যবসায়ী হোটেল ব্যবসার মতন কিছু কম্পিউটার কিনে লোক লাগিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসালয় চালাতে পারতো।  রেপার্টোরাইজেসন দিকনির্দেশনার মতন  কয়েকটি ঔষধ সামনে দেখাতে পারে।  কিন্তু একজন চিকিৎসকের  বুদ্ধি,  অনুধাবন ক্ষমতা,   বিচার-বিবেচনা,  পর্যবেক্ষণ ,  ইত্যাদির উপরে  নির্ভর করে ঔষধ  সিলেকশন।

 ★ কোন রোগের জন্য কোন স্পেসিফিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হতে পারে না।  একই রোগে পরপর দুইজনের ঔষধ  ভ্যারি করতে পারে, অর্থাৎ আলাদা হতে পারে। রোগের নাম ধরে ঔষধ ভাবলে সিলেকশনে কিন্তু মস্ত ভুল হবে।

★ প্রতিটি সেমিনার, ওয়ার্কশপ,  আলোচনা, ইত্যাদি থেকে কিছু না কিছু শেখা যায়।  তাই মাঝে মাঝে যে দেখি অনেকে  গা-জোয়ারি ভাষায় পোস্ট দেন,
 কোন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, থেকে কিছু শেখা যায় না --তা ভুল,  মিথ্যা, অবিবেচকের মতন কথা । এসব কথায় তাদের নিজেদের অজ্ঞতা, জ্ঞাণের দৈন্যতা, ও  অপারদর্শিতা  প্রকট হয়ে উঠে ।
" মনে রাখতে হবে ---- A mouse can help a lion'

ডাঃ রবিন বর্মন(এম ডি)।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক,গবেষক ও লেখক।
পশ্চিম বঙ্গ,ভারত।

এসিড ফস হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত সদৃশ ঔষধ।



Acid phosphoricum homeopathic remedy.

এসিড - ফস

উৎস : খনিজ।
মায়াজম : সোরা (+) সিফিলিস (++) সাইকোসিস (+)
কাতরতা : শীতকাতর (++) গরমকাতর (+)
ধরণ : পলিক্রেস্ট, একিউট, ক্রণিক ও ব্যক্তিলক্ষণ কেন্দ্রিক ঔষধ।
আক্রান্ত দিক : শরীরের উপর অংশ বাম, নিচের অংশ ডান দিক আক্রান্ত হয়।

ওষুধের নামের মধ্যেই ওষুধের মূল লক্ষণসমূহ অন্তর্নিহিত যথা :
Acid - Phos
A : Absent minded : অমনোযোগী।
C : Company Aversion to : সঙ্গী অপছন্দ।
I : Indolence : অলস।
D : Despair : হতাশা।
P : Passionate : কামুক।
H : Homesickness : গৃহকাতরতা।
0 : Obstinate : একগুঁয়ে।
S : Slowness : ধীরগতি।

মূল থিম : এসিড-ফসের মূল থিম হচ্ছে উদ্দাম ও সংগ্রামের পর অবসন্নতা।

আকৃতি : মুখ মন্ডলে কালাে রেখা, বিবর্ণ,  চোখ বসে যাওয়া, কাঁচের মতো চকচকে চেহারা।
এর রােগীদের ছোটবেলা হতে স্বাস্থ্য সবল এবং দ্রুত বর্ধিত হয় কিন্তু যৌবনে এসে শরীরের মূল পদার্থ ক্ষয়, শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম বা মনােকষ্টের কারণে স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়।

মানসিক লক্ষণ : চুপ চাপ একাকী বসে বা শুয়ে থাকতে চায়। উৎসাহহীন ও উদাস হয়ে বসে চিন্তা করে। নিরাশ, নিদ্রাহীন।
উঠবার শক্তি হলেও উঠতে মন চায়না। মন বিষন্ন হয়ে থাকে। পড়াশুনা, ব্যবসা, কাজ কর্ম করতে পারেনা। জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা, উদাসীনতা, সঙ্গী অপছন্দ, চুপচাপ থাকতে ইচ্ছা করে। অলস হয়ে যায়। কোন কিছুতে মনযােগ দিতে পারেনা,
প্রশ্নকারীর দিকে তাকিয়ে থাকে, কি বলবে বুঝতে পারেনা। কথা বার্তা বলতে বিরক্ত হয়। পড়তে বসলে অন্যমনস্ক হয়ে যায়।

একা থাকতে চায়, কথা বলতে অনীহার কারনে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়। তাকে প্রশ্নের জবাব দিতে বাধা দিলে রাগ হয়। দুর্বলতার কারণে একটু বিরক্ত করলে রাগ হয়। ইহার রােগীরা অর্ন্তমুখী।

মাথা নত করে লজ্জিততাবে নীচের দিকে তাকিয়ে থাকে। এরা সাধারণত শান্তশিষ্ট, ভদ্র। এদের অনুভূতি হচ্ছে কেউ তাকে ভালবাসেনা, গন্য করেনা। ফলে সে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, যাতে প্রতিদানে অন্যরা তাকে ভালবাসে। কিন্তু যখন অন্যের ভালবাসা পেতে ব্যর্থ হয় তখন সে ঝগড়াটে হয়, বুদ্ধি কমে যায়। অবসাদ বা অবসন্নতা দেখা দেয়।

রোগ লক্ষণ : জ্বর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হয়, বেশী মাত্রায় আক্রান্ত হলে, দুর্বলতা, পেট ফাঁপা, দাঁতে ময়লা, অচেতন হয়ে পড়ে
থাকে, সম্পুর্ন তন্দ্রাচ্ছন্নভাব বা উদাস ভাব।
ইহার রােগীর দিনের চেয়ে রাতে প্রসাব বেশী হয়। প্রসাব দুধের মতো সাদা, ঘন ঘন প্রসাব হয়। জননেন্দ্রীয় এত দূর্বল হয় যে, মলত্যাগের সময় বীর্য বের হয়।

প্রায় পাতলা পায়খানা হয় কিন্তু পায়খানার জন্য শরীর দূর্বল হয় না বরং পায়খানা বন্ধ হলে দূর্বল হয়, এমন কি যক্ষা পর্যন্ত হয় উদরাময় হলে অসুখ উপশম হয়।

সকালে, সন্ধ্যায়, রাতে, পানীয় পানের পর, আহারের পর, ঠান্ডা খাবার খেলে, ঘুমের পর, ডানপাশে শুলে মলবেগ খুব বৃদ্ধি পায়। এর উদরাময় জলের মতো পাতলা ও প্রচুর পরিমাণে হয় তবে তাতে কোন গন্ধ থাকে না।

মলত্যাগে অনেক কষ্টের উপশম হয়, মনে শান্তি আসে। মল ত্যাগকালে প্রচুর বায়ু নিঃসরন হয়।

এসিড দিয়ে তৈরী যত ঔষধ আছে, তার প্রায় সব এসিডের রােগীরাই দুর্বলতার শিকার হয়। বিশেষত কোমর হতে নিচদিক বেশি।
দ্রুত বর্ধনশীল ছেলে মেয়েদের জন্য দারুণ ওষুধ। যে সমস্ত মানুষ ছোট বেলা হতে স্বাস্থ্য সবল এবং দ্রুত বর্ধিত হয়ে যৌবনে পা দিতে না দিতেই অতিরিক্ত হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ, ঋতুস্রাব, সহবাস, অতিরিক্ত শুক্রস্রাব, গােপন প্রেমে ব্যর্থতা, কঠিন রােগভোগ, দীর্ঘদিন শারীরিক, মানসিক পরিশ্রমের ফলে মন ও শরীর দৃর্বল হয়, স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, চুপচাপ একাকী বসে বা শুয়ে থাকতে চায়।
ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গোপন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে নানান অসুখে আক্রান্ত হয়। সামান্য ঘুমালে সুস্থ্যবােধ করে।
একবার বিশ্রাম নিলে আর উঠবার শক্তি হয়না, উঠার শক্তি হলেও উঠতে মন চায়না। শােক, দূঃখের কারণে কপালের দুই পাশের চুল উঠে যায়। লিখতে গেলে ঘুম পায়, উত্তর দিতে দিতে নিদ্রালুভাবে আছন্ন হয়ে পড়ে। তাদের জন্য এসিড-ফস দারুণ উপকারী।

যে কোন কষ্ট থেকে অসুস্থ হতে পারে।
ডায়রিয়ায় মল যত বেশী হয়, প্রসাবও ততো বেশী হয়। জরায়ু হতে শব্দ করে বায়ু বের হয়। মলের সংগে আস্ত খাবার বের হয়। ঠিকমত হজম হয়না।

এসিড-ফস সাধারনত পিপাসাহীন। জ্বরে ঘর্মের সাথে পিপাসা, উদারাময়ে পিপাসা, ডায়াবেটিসে পিপাসা। জিহ্বার মধ্যে লাল হয়ে থাকে। নাক হতে কালাে রক্তস্রাব হয়। গান শুনলে দাঁত ব্যথা বাড়ে। কমলা খেলে উদরাময় হয়।

পড়ালেখা করার কারনে মাথা ব্যথা হয়। অতিরিক্ত বীর্যক্ষয় কিম্বা রক্ত ক্ষরণের কারনে শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল রোগীদের কোমর ব্যথায় দ্রত ফল দেয়। সহবাসের সময় বা পরে কোমর ব্যথা।
কাশি : কথা বললে, শুইলে, বাতাশ লাগলে, সন্ধ্যায় ও রাতে বাড়ে। তাই বুক ঢেকে রাখে। এরা ঠান্ডা পছন্দ না করলেও মাথা ও পেটে ঠান্ডা ভালাে বাসে।

কফ পুঁজের মতো দুর্গন্ধযুক্ত ও লবণের স্বাদযুক্ত। পেট ফাঁপে, শব্দ করে পেট ডাকে। সহবাসকালে হটাৎ করে লিঙ্গ শিথিল হয়ে যায়।
জ্বরের মধ্যে নাক খুঁটতে দেখলে এসিড-ফসের কথা মনে করবেন।

পছন্দ : দুধ, রসালাে ফল, ঠান্ডা পানীয়, ভাল খাদ্য, ঝাল, দুধ, বিশেষ করে ঠান্ডা দুধ, গরম খাদ্য, খােলা বাতাস পছন্দ।

অপছন্দ : রুটি, কফি, খােলা বাতাস।

অপথ্য : টক, গরম খাবার, কফি।

রোগের কারণ : ফল, টকফল, কমলা, লুচি, সুখ, দুঃখ, তরল পদার্থের ক্ষয়।
পরিপুরক : চায়না, ফসফরাস।
শত্রু : কষ্টিকাম, নাক্স-ভুমিকা।

বৃদ্ধি : অতিরিক্ত বীৰ্যক্ষরণ, অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ, শােক, দুঃখ, ব্যর্থ প্রেম', বামপাশে শুলে, গরমদুধ পানে। গরম, গরম বাতাস, ঘরের গরমে বৃদ্ধি।

উপশম : অল্প নিদ্রায়, চাপনে, সঞ্চালনে, গরমে। চুপচাপ থাকলে, নির্জনে থাকলে, সান্ত্বনায়, যৌন সংযমে ও স্লান করলে ভালো থাকে।

ডা. মােহাঃ আশরাফুল হক
প্রভাষক
সাভার হােমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, সাভার, ঢাকা।
পরিচালক
হোমিওপ্যাথি ডায়নামিক কনসেপশন, সাভার, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১৮৫২০৩০৬

১৯.১.২০

মেদ ভুড়ি কমানোর (Obesity) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

মেদ ভুড়ি কমানোর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

Obesity(মেদ ভুড়ি বা স্থূলতা) বলতে কি বুঝি ?
স্থূলত্ব এমন একটি শব্দ যা দেহের অতিরিক্ত মেদকে বুঝায়।এটি কোনও ব্যক্তির ওজন এবং উচ্চতা বা তার শরীরের ভর সূচক বিএমআই (BMI ) দ্বারা নির্ধারিত হয়।ত্রিশ বছরের বেশি বয়সী BMI সূচক দ্বারা কোনও ব্যক্তিকে স্থূল হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।স্থূলতা আপনার শরীরকে ইনসুলিনের ক্রিয়া সম্পর্কে কম সংবেদনশীল করে তোলে।স্থূলত্ব এমন একটি অবস্থা যা ঘটে যখন কোনও ব্যক্তি অতিরিক্ত ওজন বা শরীরের চর্বি বহন করে যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
একজন চিকিৎসক সাধারণত পরামর্শ দেবেন যে,কোনও ব্যক্তির স্থূলত্ব রয়েছে যদি তাদের উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স থাকে।বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) এমন একটি পদ্ধতি, যা চিকিৎসার মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) এমন একটি হিসাব যা চিকিৎসার জন্য কোনও ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ এবং উচ্চতার জন্য উপযুক্ত ওজনে থাকেন কিনা তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করে। ব্যাক্তির উচ্চতা এবং ওজন একত্রিত করে।২৫ থেকে ২৯.৯৯ এর মধ্যে একটি বিএমআই নির্দেশ করে যে কোনও ব্যক্তি অতিরিক্ত ওজন বহন করছে।
এ ছাড়া ৩০ বা তার বেশি বয়সের একটি লোকের  স্থূলত্ব নির্ধারণের জন্য কোমর থেকে হিপ আকারের অনুপাত (ডাব্লু.এইচ.আর), কোমর থেকে উচ্চতা অনুপাত (ডব্লিউ.টি.এইচ.আর) এবং শরীরের উপর চর্বি পরিমাণ ও বন্টনও একজন ব্যক্তির ওজন কতটা স্বাস্থ্যকর এবং তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
অতিরিক্ত মেদ ভুড়ির ঝুকি সমুহ
যদি কোনও ব্যক্তির স্থূলত্ব এবং অতিরিক্ত ওজন থাকে তবে এটি বিপাক সিনড্রোম, বাত এবং কিছু ধরণের ক্যান্সার সহ বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিকাশের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।বিপাক ক্রিয়ার সাথে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ 2 ডায়াবেটিস এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের মতো বিষয়গুলির সাথে জড়িত।
স্থূলত্ব কেন হয় ?
) অনেক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা
যদি কোনও ব্যক্তির ডায়েটে মূলত ফলমূল, শাকসবজি এবং পুরো শস্য থাকে তবে স্থূলত্বের ঝুঁকি কম থাকে।
যখন কোনও ব্যক্তি শক্তি হিসাবে ব্যবহারের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করেন,তখন তাদের দেহ অতিরিক্ত ক্যালোরিগুলি ফ্যাট হিসাবে সঞ্চয় করবে।এটি অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলত্ব হতে পারে।
এছাড়াও, কিছু ধরণের খাবারের ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, বিশেষত যেগুলি ফ্যাট এবং শর্করার পরিমাণ বেশি।
ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ানোর প্রবণতাগুলির মধ্যে রয়েছে
দ্রুত খাবার, ভাজা খাবার, যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই,চর্বিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস
অনেক দুগ্ধজাত খাবার যোগ করা চিনির সাথে খাবার, যেমন বেকড পণ্য, তৈরি প্রাতঃরাশের সিরিয়াল এবং কুকিজ
লুকানো শর্করাযুক্ত খাবার, যেমন কেচাপ এবং আরও অনেক ক্যানড এবং প্যাকেজ জাত খাবার আইটেমম মিষ্টি রস, সোডাস এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়,উচ্চ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন রুটি এবং ব্যাগেলস,প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পণ্যগুলিতে মিষ্টির হিসাবে উচ্চ-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ থাকে, যেমন কেচাপের মতো সুস্বাদু আইটেম।
এই জাতীয় খাবারগুলির অত্যধিক পরিমাণে খাওয়া এবং খুব কম ব্যায়াম করার ফলে ওজন বেড়ে যায় এবং স্থূলত্ব হতে পারে।
যে ব্যক্তি মূলত ফল, শাকসব্জী, গোটা শস্য এবং জলযুক্ত একটি ডায়েট গ্রহণ করেন তার অতিরিক্ত ওজন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে যদি তারা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করেন, বা জেনেটিক কারণগুলি, উদাহরণস্বরূপ, তাদের ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রেখে তারা বিভিন্ন ধরণের খাবার উপভোগ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। টাটকা খাবার এবং পুরো শস্যগুলিতে ফাইবার থাকে যা একজন ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিপূর্ণ মনে করে এবং স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়তা করে।
খ) একটি উপবিষ্ট জীবনধারা বজায় রাখতে হবে
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ স্থূলত্ব প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
অনেক লোক তাদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদীর চেয়ে অনেক বেশি আস্ফালনমূলক জীবনযাপন করে।
মেডিটেশন অভ্যাসের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে:
ম্যানুয়াল শ্রম না করে অফিসে কাজ করা
বাইরে শারীরিক ক্রিয়াকলাপ না করে কম্পিউটারে গেমস খেলুন
হাঁটাচলা বা সাইকেল চালানোর পরিবর্তে গাড়িতে করে জায়গায় যাওয়া
কোনও ব্যক্তি যত কম ঘোরাফেরা করেন, কম পোড়া ক্যালোরি তারা পোড়ে।
এছাড়াও,শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কোনও ব্যক্তির হরমোনগুলি কীভাবে কাজ করে তা প্রভাবিত করে এবং শরীরে কি ভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে তার উপর হরমোনগুলির প্রভাব রয়েছে।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ইনসুলিনের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে এবং অস্থির ইনসুলিনের মাত্রা ওজন বাড়তে পারে।
যে গবেষকরা বিএমজে ওপেন স্পোর্ট এবং অনুশীলন মেডিসিনে ২০১৯সালে একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করেছেন তারা উল্লেখ করেছেন যে, কিছু গবেষণার নকশাগুলি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো শক্ত করে তোলে, "নিয়মিত [শারীরিক ক্রিয়াকলাপ] অন্তর্ভুক্ত একটি জীবনযাত্রা বজায় রাখার জন্য একটি মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা সহ স্বাস্থ্যের অনেকগুলি দিক উন্নতি করা। "
শারীরিক ক্রিয়াকলাপ জিম প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয় না। শারীরিক কাজ, হাঁটাচলা বা সাইকেল চালানো, সিঁড়ি বেয়ে উঠা এবং গৃহস্থালীর কাজগুলি সবই অবদান রাখে।
তবে ক্রিয়াকলাপের ধরণ এবং তীব্রতা সেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে উপকৃত করে এমন ডিগ্রিকে প্রভাবিত করতে পারে।
গ) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াঃ
গবেষণায় বলা হয়েছে যে নিখোঁজ ঘুম ওজন বাড়িয়ে ও স্থূলত্ব বাড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষকরা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ২৮,০০০ শিশু এবং ১৫,০০০ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন। ২০১২ সালে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ঘুমের বঞ্চনা প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই স্থূলত্বের ঝুঁকিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
পরিবর্তনগুলি ৫ বছর বয়সের শিশুদের প্রভাবিত করে।
দলটি পরামর্শ দিয়েছে যে ঘুমের বঞ্চনা স্থূলত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে কারণ এটি ক্ষুধা বাড়ায় এমন হরমোনজনিত পরিবর্তন হতে পারে।
যখন কোনও ব্যক্তি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমায় না, তখন তাদের দেহ ঘেরলিন তৈরি করে, হরমোন যা ক্ষুধা জাগায়। একই সময়ে, ঘুমের অভাবের ফলে লেপটিনের কম উত্পাদন হয়, ক্ষুধা দমন করে এমন হরমোন।
মেডিকেল নিউজ আজ নিউজলেটার
জানা থাকুন। আমাদের বিনামূল্যে দৈনিক নিউজলেটার পান
প্রতিদিন আমাদের সেরা গল্পগুলির গভীরতা, বিজ্ঞান-সমর্থিত শীর্ষস্থানগুলি প্রত্যাশা করুন। আলতো চাপুন এবং আপনার কৌতূহলকে সন্তুষ্ট রাখুন
ঘ) অন্তঃস্রাব বিঘ্নকারীদের ওজন বৃদ্ধি পায়ঃ
বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল ওয়ার্ল্ড জেতে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে
বিপাক সিনড্রোমের বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং উচ্চ রক্তচাপ। স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিপাক সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ইঁদুরগুলিকে ১৪ দিনের জন্য ১০ শতাংশ ফ্রুকটোজ দ্রবণ খাওয়ানোর পরে, বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছিলেন যে তাদের বিপাকটি পরিবর্তন হতে শুরু করেছে।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন ফ্রুটোজ এবং উচ্চ স্থূলত্ব এবং বিপাক সিনড্রোমের উচ্চ ব্যবহারের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। কর্তৃপক্ষগুলি পানীয়গুলি এবং অন্যান্য খাদ্য পণ্যগুলিকে মিষ্টি করতে উচ্চ ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ব্যবহার সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে যে ফ্রুটোজ গ্রহণের কারণে যখন স্থূলতা দেখা দেয় তখন টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
২০১৮ সালে, গবেষকরা তরুণ ইঁদুরের সাথে সম্পর্কিত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তারা, ফ্রুক্টোজ সিরাপ গ্রহণের পরে বিপাকীয় পরিবর্তন, জারণ চাপ এবং প্রদাহের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
গবেষকরা নোট করেন যে "ফ্রুক্টোজ গ্রহণের ফলে বাচ্চাদের মধ্যে বিপাকীয় ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী হতে পারে।"
তারা এই সমস্যাগুলি রোধ করতে তরুণদের ডায়েটে পরিবর্তন করার আহ্বান জানান।
উচ্চ ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ এড়ানো
তৈরি সসগুলিতে প্রায়শই উচ্চ-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ থাকে, যা বিজ্ঞানীরা স্থূলতার ঝুঁকির সাথে যুক্ত করেছেন।
উচ্চ-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপযুক্ত খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে:
সোডাস, এনার্জি ড্রিংকস এবং স্পোর্টস পানীয়,ক্যান্ডি এবং আইসক্রিম,কফি ক্রিমার
স্যালস ড্রেসিংস, কেচাপ এবং বারবিকিউ সস সহ সস এবং মশালাগুলি,মিষ্টিযুক্ত খাবার, যেমন দই, জুস এবং টিনজাত খাবার,রুটি এবং অন্যান্য রেডিমেড বেকড পণ্যঃপ্রাতঃরাশের সিরিয়াল, সিরিয়াল বার এবং "শক্তি" বা "পুষ্টি" বার
আপনার ভুট্টা সিরাপ এবং অন্যান্য সংযোজন গ্রহণ খাওয়া কমাতে:
আপনি কেনার আগে লেবেল চেক করুন
যেখানে সম্ভব সম্ভব অদ্বিতীয় বা কম প্রক্রিয়াজাত আইটেমগুলি বেছে নিন
বাড়িতে সালাদ ড্রেসিং তৈরি করুন এবং অন্যান্য পণ্য বেক করুন
কিছু খাবারে অন্যান্য সুইটেনার থাকে তবে এগুলি বিরূপ প্রভাবও ফেলতে পারে।
ঙ) ওষুধ ও ওজন বৃদ্ধির হার বাড়ায়ঃ
কিছু ওষুধও ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে।
২০১৫ সালে জার্নাল অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা এবং মেটা-বিশ্লেষণের ফলাফলগুলিতে দেখা গেছে যে কয়েকটি ওষুধের ফলে কয়েক মাস ধরে লোকেরা ওজন বাড়িয়ে তোলে।
অ্যান্টিকাল অ্যান্টিসাইকোটিকস, বিশেষত ওলানজাপাইন, কুইটিয়াপাইন এবং রিসপিরিডোন,অ্যান্টিকনভুল্যান্টস এবং মেজাজ স্টেবিলাইজার এবং বিশেষত গ্যাবাপেন্টিন,হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ, যেমন টলবুটামাইড,গ্লুকোকোর্টিকয়েডগুলি বাতজনিত আর্থ্রাইটিসের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়।কিছু antidepressants
তবে কিছু ওষুধ ওজন হ্রাস হতে পারে। যে কেউ নতুন ওষুধ শুরু করছেন এবং ওজন সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, তাদের ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞাসা করা উচিত যে ওষুধের ওজনে কোনও প্রভাব রয়েছে কিনা।
চ) স্থূলত্ব জিনগত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করেঃ
একজন ব্যক্তির যত বেশি ওজন হয়,ওজন হ্রাস করা তাদের পক্ষে তত বেশি কঠিন।
২০১৫ সালে নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত একটি মাউস অধ্যয়নের ফলাফলগুলি পরামর্শ দিয়েছে যে কোনও ব্যক্তি যত বেশি চর্বি বহন করেন, প্রোটিন বা জিনের কারণে, এসএলআর ১১ বলে পরিচিত শরীরের চর্বি কম হওয়ার সম্ভাবনা তত কম।দেখে মনে হয় যে কোনও ব্যক্তির যত বেশি চর্বি রয়েছে, তত বেশি তার শরীরের এসএলআর ১১ তৈরি হবে। প্রোটিন শরীরের চর্বি পোড়াতে সক্ষম করে বাধা দেয় এবং অতিরিক্ত ওজন বয়ে যাওয়া শক্ত করে তোলে।
ছ) স্থূলত্ব জিন
ফ্যাট-ভর এবং স্থূলতা সম্পর্কিত জিন (এফটিও) নামে একটি ত্রুটিযুক্ত জিন স্থূলতার কিছু ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ।
২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা এই জিন এবং এর মধ্যে একটি লিঙ্ককে নির্দেশ করে:
স্থূলতা,যে আচরণগুলি স্থূলত্বের দিকে পরিচালিত করেঃ
একটি উচ্চতর খাবার গ্রহণ
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের জন্য পছন্দ
পূর্ণ বোধ করার প্রতিবন্ধী ক্ষমতা, তৃপ্তি হিসাবে পরিচিত,হরমোন ঘেরলিন খাওয়ার আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘেরলিন অন্যান্য ক্রিয়াকলাপগুলির মধ্যেও গ্রোথ হরমোনগুলির মুক্তি এবং কীভাবে শরীরের চর্বি জমা করে তা প্রভাবিত করে।
এফটিও জিনের ক্রিয়াকলাপ কোনও ব্যক্তির স্থূলত্ব হওয়ার সম্ভাবনাগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে কারণ এটি কোনও ব্যক্তির ঘেরলিনের পরিমাণকে প্রভাবিত করে।
২০১৩ সালে প্লোস ওয়ান-এ প্রকাশিত খাওয়ার ব্যাধিজনিত আক্রান্ত ২৫০ জন লোককে জড়িত এক গবেষণায় গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছিলেন যে এফটিওর দিকগুলি দুরপাল খাওয়া এবং সংবেদনশীল খাওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও ভূমিকা নিতে পারে।

ওজন হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবাক করা হোমিওপ্যাথিক ঔষধঃ
আপনার হজম এবং বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপগুলি উন্নত করে, হোমিওপ্যাথি ওজন হ্রাস করার জন্য অবাক করার মতো ফলাফল দেখায় এবং স্থূলত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করে। লক্ষণগুলির পাশাপাশি আপনার শারীরিক, মানসিক এবং মানসিক দিকগুলি বিবেচনা করে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকরা স্থূলত্ব, অতিরিক্ত ওজন এবং ওজন হ্রাসের জন্য ওষুধ লিখেছেন।
আরও পড়ুন: চুল পড়া এবং চুল পড়ার জন্য 6 সেরা হোমিওপ্যাথি ওষুধ
১)Calcarea carbonica:(ক্যালকেরিয়া কর্ব)
রোগীর দেহের স্হূলতা, শিথিলতা ও শ্লেষ্মা প্রবণতা,ভীরুতা ও ভ্রান্ত ধারণা মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়,ডিম খাইতে খুব পছন্দ করে,দুধ সহ্য হয় না। সহজেই ঠান্ডা লাগ। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে হাত দিয়ে টেনে বের করতে হয়।
উপরোক্ত লক্ষণ সমষ্টি কোন রোগীর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হলে, সেই স্হূল দেহের রোগীর মেদ কমানোর জন্য উপযুক্ত সদৃশ ঔষধ ক্যালকেরিয়া কর্ব।স্হূল দেহের অধিকারীদের জন্য এই ওষুধটি বেশ কার্যকর যার মধ্যভাগে ভারী ওজন রয়েছে। এটি মোটা ও পাত্রযুক্ত পেটযুক্ত মোটা বাচ্চাদের পক্ষেও ভাল।
কপালে মিষ্টি ঘাম, মাথা ঘুরানো,রাতে ভয়ঙ্কর নিঃশ্বাসের দুর্বলতা খাওয়ার পরে ক্ষুধার্ত হয়ে উঠে, খাদ্যের প্রতি ঝোঁক বেশি রোগীর জন্য ক্যালকেরিয়া কার্ব উপযোগী।
২.Lycopodium লাইকোপোডিয়াম
হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে যারা অতিরিক্ত ওজন অর্জন করেছেন তাদের পক্ষে এটি ভাল। এটি ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি গ্যাস্ট্রিক এবং লিভারের সমস্যার কারণে যাদের ওজনের সমস্যা রয়েছে তাদের দেওয়া হয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপাতে বাড়ে। উরু এবং নিতম্বের অঞ্চলে ফ্যাট জমে থাকা ওষুধটি উপযুক্ত। এ জাতীয় ধরণের লোকদের মিষ্টি এবং গরম পানীয়গুলির তীব্র অভ্যাস থাকে।
৩.Ammonium mur অ্যামোনিয়াম মুর
এই হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি তাদের দেওয়া হয় যাদের চর্বিযুক্ত শরীর, বড় পাছা এবং পাতলা পা রয়েছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকরা নিম্নলিখিত উপসর্গগুলির অধীনে ওষুধটি নির্ধারণ করা হয়। যথাঃ
হঠাৎ রাগশোকের প্রবণতা কিন্তু খুব কমই কাঁদে, অন্তরে অতিরিক্ত ব্যথা
৪.Ammonium carb অ্যামোনিয়াম কার্ব
নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির ক্ষেত্রে এই হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি দেওয়া হয়:
কার্ডিয়াকসমস্যা,নার্ভাসনেস,ব্যক্তিত্ব,অনুনাসিক জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নয়, হতাশা প্রকাশ করে।
৫.Natrum Mure ন্যাট্রাম মুর
ন্যাট্রাম মুর স্থূলত্ব এবং অতিরিক্ত ওজনের জন্য কার্যকর ওষুধ। এটি নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে দেওয়া হয় যথাঃ-
উরু এবং নিতম্বের অঞ্চলে আরও চর্বি জমে ও ওজন বৃদ্ধির সাথে  অসহিষ্ণুতা অনুভব করে,হতাশা এবং স্ট্রেসের কারণে স্থূলতা দেখা দেয়,রক্তাল্পতা রোগীদের জন্য ভাল
স্থূল লোকেরা যারা লবণের জন্য আগ্রহী
হতাশা গ্রস্থ, অল্পেই কাঁদতে শুরু করে তার জন্য উপযোগী।
৬)Anti Crud এন্টিম ক্রুডাম: 
হোমিওপ্যাথিক অনুশীলনকারীরা নিম্নলিখিত শারীরবৃত্তীয় পরিস্থিতিতে এই ওষুধটি বেশ কার্যকরী।যথাঃ-
মোটা বা অতিরিক্ত ওজন শিশু এবং অল্প বয়স্ক, যেব্যক্তি বেশি সংবেদনশীল
জিহ্বা ঘন সাদা প্রলেপযুক্ত,বর্ণহীন পেরেক
আরও সল্ট, নোনতা পণ্য এবং আচার জন্য বাসনা করে,ফোসকা যুক্ত চর্মরোগেরোগী,
অতিরিক্ত বিরক্তিযুক্ত মনের রোগীদের জন্য সেরা ওষুধ।পেটের সমস্যার কারণে যেসব শিশু ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তারা দুধ বমি করে তাদের জন্য উপযুক্ত।
৭)Phytolacca ফাইটোলাক্কা
 এই হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি তাদের পরামর্শ দেওয়া হয় যারা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় পড়ছেন। এটি নিম্নলিখিত শারীরবৃত্তীয় অবস্থার অধীনে দেওয়া হয়।
গলা শুকনো,গিলতে অসুবিধাসা,সাধারণ ব্যথা,সারা শরীর জুড়ে চুলকানির অনুভূতি
ফোস্কা,জিহ্বা ফ্যাকাশে, মুখে সাইটিকি  ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখে স্হূলকায় দেহের অধিকারীদের জন্য উপযুক্ত।
 ৮ )Graphitesগ্রাফাইটস
আপনি যদি আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস করতে চান তবে এই ওষুধটি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের পদক্ষেপ হবে। এই ওষুধটি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির মধ্যে নেওয়া উচিত। সর্বদা অবসাদ,ঋতূচক্রের অনিয়মিত, মনমরা,কর্মে অনিহা, পেটে অত্যন্ত বায়ু জমে,পেট ফুলে যায়, যৌনাঙ্গের চুলকানি ও ফুলে যাওয়া এবং আঠালো রস নিঃসরণ হয়। চর্মরোগ গ্রস্থ, শীতকালে চর্মরোগের বৃদ্ধি ও ফেটে যায় এই সকল রোগীর স্হূলকায়ত্ব আরোগ্যে জন্য উপযুক্ত।
৯.Nux Vom নাক্স ভুমিকা
এই ঔষধ টি সাধারণত দেওয়া হয় যাঁর আসল জীবনযাত্রার ত্রুটিযুক্ত,খাদ্যতালিকা রয়েছে। এই ওষুধটি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির মধ্যে নেওয়া উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা মশলা যুক্ত ভাজিপোড়া খাওয়ার ইচ্ছা করে এই ধরনের রোগীর জন্য নাক্স ভুমিকা উপযোগী।নাক্স ভুমিকার রোগীরা সামান্যতেই রেগে যায়।

১০.Fucus ফুকাস
Fucus: Fucus is a beneficial medicine for obesity and overweight people. It helps in improving of digestion and relieving of constipation.
Homeopathic medicine side effects for weight loss.

স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের লোকদের জন্য ফিউকাস একটি উপকারী ঔষধ। এটি হজমে উন্নতি করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

বোরিকরের্টরির সাহায্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা রোধের সদৃশ ঔষধ নির্বাচন
OBESITY (adiposis, corpulence) -- Am. br., Am. c., Ant. c., Ars., Cals. ars., Calc. c., Calop., Caps., Col., Fucus, Graph., Iodothyr., Kali br., Kali c., Lac d., Mang. ac., Phos., Phyt., Sabal, Thyr., Tussil. fr.

Children [in] -- Ant. c., Bar. c., Calc. c., Caps., Ferr. m., Kali bich., Sacchar. of

মেদ কমানোর উপায়
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা বা ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে হ্রাস হওয়া স্থূলত্ব প্রতিরোধ বা হ্রাস করার এক উপায়।কিছু ক্ষেত্রে, কোনও ব্যক্তির শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
ওজন কমানোর জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া নিরাপদ।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
DHMS(Dhaka)MSS.
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদ।
আশুলিয়া থানার পাশে সাভার ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
ইমেইল ঠিকানা evahomoeohall@gmail.com
yeakubtangail@gmail.com.