এই ব্লগটি সন্ধান করুন

২৮.৯.১৭

ডাঃ জেমস টেইলর কেন্টের চিকিৎসা বিষয়ে অযৌক্তিক তর্কবিতর্ক।

ডাঃ জেমস টেইলর কেন্ট।

জেমস টায়লার কেণ্ট আমেরিকার একজন বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। তার জীবন কাল ১৮৪৯ - ১৯১৬ খ্রীষ্টাব্দ। হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের কাছে  জনপ্রিয়।কেন্ট রেপার্টরি সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নিকট সমাদৃত। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তার হাত ধরে। ডাঃ কেন্টের কিছু বিষয় নিয়ে কিছু হোমিওপ্যাথিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ওনার সম্পর্কে কিছু ভুল প্রভাব আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। যেমন কেণ্ট মানে উচ্চ শক্তির ব্যবহার। কেণ্ট মানে কোনও বাহ্য প্রয়োগ নয়। কেণ্ট মানে কোনও থেরাপিউটিকস অনুযায়ী ওষুধ নয়। কেণ্ট মানে প্যাথোলজি কে গুলি মারো। শুধু সিমটমস বা লক্ষণ ধরো ইত্যাদি।
আজ কেণ্টের -ই কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে ঐ ভ্রান্তি গুলোর অবসানে কিছু বলার চেষ্টা করছি :-
১ - উচ্চ শক্তির ব্যবহার :
কেণ্টের মেটেরিয়া মেডিকার Calcaria sulph অধ্যায়ে প্রথম অনুচ্ছেদে কেণ্ট বলছেন, "গ্রন্থকার (কেণ্ট) শুশলারের ১২ পোটেন্সি প্রায়শই ব্যবহার করেছেন। পরে ৩০ পোটেন্সি ও ২০০ পোটেন্সিও ব্যবহার করেছেন। এখন আরও উচ্চতর পোটেন্সি ব্যবহার করেন।"
দেখা যাচ্ছে উনি প্রথমে নিম্নতর শক্তির ব্যবহার করে হাত পাকিয়েছেন। পরে অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে উচ্চতর শক্তি ব্যবহার করেছেন।
এটাই বাস্তব সম্মত। একটা ওষুধ সম্বন্ধে জ্ঞান প্রথম প্রথম কম থাকাই যুক্তি সঙ্গত। চিকিৎসকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওষুধের কার্যাবলী বেশি বেশি করে হৃদয়ঙ্গম হবে, এটাই তো স্বাভাবিক। যখন ওষুধের ওপর আধিপত্য আসবে, উচ্চ হতে উচ্চতর শক্তির ওষুধ প্রয়োগ করে তথাকথিত 'ম্যাজিক' দেখাবে। প্রথম থেকেই ২০০, ১০০০, ১০০০০ শক্তির ওষুধ প্রয়োগ করে, বিরাট বিরাট হোঁচট খেয়ে নিজেকে খেলো হতে হবে না।
২ - থেরাপিউটিকস নৈব নৈব চ :
ডা কেণ্ট তাঁর মেটেরিয়া মেডিকার স্পঞ্জিয়া অধ্যায়ে ১৫ নং অনুচ্ছেদে বলেছেন "Laryngismus stridulus প্রায়ই মেয়েদের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।
Ign.,Gels.,Laurocer. এবং Spongia, Ignatia ও Gelsimium দশটার মধ্যে আটটা ভালো করে দেয়।"
এগুলো কী?
এগুলো হচ্ছে ওষুধের স্থানিক প্রবণতা অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন। এগুলো অচ্ছুৎ নয়। আমাদের শিক্ষাগত ত্রুটির জন্য এসব নজর এড়িয়ে যায়। এগুলো থেরাপিউটিকস এর আভাস মাত্র।
৩ - প্যাথোলজি কে গুলি মারো :
"স্পঞ্জিয়া -র মানসিক লক্ষণ বলেই দেয় যে এটা হার্টের ওষুধ"। - Spongia অধ্যায়ে প্রথম লাইন।
Aurum met এর শেষ থেকে চতুর্থ অনুচ্ছেদে বলছেন "লিভার কে শক্ত করার ক্ষমতা, বৃদ্ধি করার ক্ষমতা এবং প্রদাহ উৎপন্ন করা, হৃদরোগে লিভারের কাঠিন্য, লিভার এবং হার্টের আয়তনে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হওয়া আরও উল্লেখ যোগ্য বিষয়।
পেটে রক্ত চলাচলে রক্তবহা শিরার সহিত হার্টের ঘনিষ্ঠতার কথা বিবেচনা করলে দেখা যাবে - হার্টের এবং লিভারের রোগ হতাশা ও নৈরাশ্যের সঙ্গে যুক্ত। অপর দিকে লক্ষ্য করলে সম্ভবত এই চিন্তাই মাথায় আসবে যে, যক্ষ্মা বা ক্ষয়রোগে তো কেহই হতাশাগ্রস্ত হয় না!
এই রোগীরা মনে করে তারা ভালো হয়ে যাবে। ফুসফুস হয়তো গুটিতে ( tubercle) ভর্তি হয়ে আছে তবু সে মনে করে গলা থেকে কিছু বেরিয়ে গেলে ভালো হয়ে যাবে। আরও লক্ষ্য করবে, ফুসফুসের সহিত 'বোধশক্তি' এবং হার্টের সঙ্গে 'ইচ্ছাশক্তি ' বিশেষ ভাবে সম্পর্কযুক্ত। হার্টের সামান্য কষ্ট হতাশা বা আশাহত করে এবং ফুসফুসের রোগী বেশ আশান্বিতই থাকে।
Carduus Marianus অধ্যায়ে প্রথম লাইনে কেণ্ট বলছেন, "লিভারের গুরুত্ব পূর্ণ ওষুধ গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, এভাবে বলার জন্য হোমিওপ্যাথিক গ্রন্থকার কে যদি দোষ না দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই একথা বলা যায়।"
এগুলো কি প্যাথোলজি নির্দেশ করে না - নিশ্চয়ই করে।
৪ - বাহ্য প্রয়োগ :
Calendula অধ্যায়ে অষ্টম ও নবম বাক্যে বলেছেন "মেরিগোল্ড, Calendula, এইসব বহিঃক্ষত এত সুন্দর সারায় এরকম অন্য কিছুতে হয় না। কেউ বলবে এটাও হোমিওপ্যাথি সম্মত নয়। আসলে ওরা সেই ধরনের লোক যারা মুখে বাঘ সিংহ মারে, ইঁদুর দেখলে লাফিয়ে উঠে।"
মোদ্দা কথা হল কেণ্ট, বোরিক, হিউজেস, ক্লার্ক, ফ্যারিংটন, বার্ণেট - সকলেই একই পথের পথিক। আমরা, বাঙালিরা গভীর অধ্যয়নে অপারগ। ফলে অন্ধের হস্তি দর্শনের মত একটা খণ্ড চিত্র আমাদের মনে আসে। পূর্ণ অধরা থেকে যায়।
(সংকলিত)
#####  ডাঃ বেণী মাধব।
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল আশুলিয়া, সাভার ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

২৭.৯.১৭

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বিদ্যাসাগর।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, মানুষের ফ্রি চিকিৎসা দিতেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে সমর্থন করতেন। বাংলাভাষী এপার বাংলা ওপার বাংলার মেহনতি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তার প্রতি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সমাজ ঋণী। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
হোমিওপ্যাথি ও বিদ্যাসাগর
১৮৬৬ সাল।বিখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক বেরিনী সাহেব তখন কলকাতায়।বেরিনী সাহেবের সাথে তখন যথেষ্ট সখ্যতা বউবাজারের বাঙালি ডাক্তার রাজেন্দ্রনাথ দত্তের।রাজেন ডাক্তার বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মাথাব্যথা কমিয়েছিলেন হোমিওপ্যাথির দ্বারা । ফলে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ওপর একটা আস্থা তৈরি হয়।একদিন অসুস্থ দ্বারকানাথ মিত্রকে দেখে একই গাড়িতে ফিরছেন ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার ও বিদ্যাসাগর। মহেনবাবু তখন শহর কলকাতার নামকরা অ্যালোপ্যাথি ডাক্তার।
 তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা জানতেন। হোমিওপ্যাথি আর অ্যালোপ্যাথি কোনটা শ্রেষ্ঠ? এনিয়ে শুরু হল দুজনের আলোচনা।দেখতে দেখতে আলোচনা তর্কের আকার নিল। অবশেষে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যুক্তি মেনে নিলেন মহেনবাবু, শুরু করলেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। কিছুদিনের মধ্যেই ইংরেজ ডাক্তার বেরিনী সাহেবকে অনেক পেছনে ফেলে দিলেন ডাক্তার মহেন্দ্রলাল।অল্পদিনেই মহেনবাবুর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রচার ও প্রসার এত বৃদ্ধি পেল যে বেরিনী সাহেবকে চলে যেতে হল কলকাতা ছেড়ে।
বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ছোটো মেয়ের কঠিন রোগ সেরেছিল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ফলে। বিদ্যাসাগর মহাশয় ঠিক করেন তিনি নিজে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিখবেন।সুকিয়া স্ট্রিটের ডাক্তার চন্দ্রমোহন বোসের কাছ থেকে তিনি হোমিওপ্যাথি শিক্ষা নিতে থাকেন।শব ব্যবচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শেখার জন্য বিদ্যাসাগর মহাশয় কিছু নরকঙ্কাল সংগ্রহ করেন।হোমিওপ্যাথি বিষয়ে একাধিক বই কেনেন।বানিয়ে ফেলেন আস্ত একখানা লাইব্রেরি।বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বই এর খুব যত্ন ছিল।প্রতিটি বই যত্ন করে বাঁধিয়ে রাখতেন। একবার বিদ্যাসাগর মহাশয়ের লাইব্রেরিতে এক ধনী বন্ধু এসেছেন। তিনি বললেন -" আপনি কি পাগল ! এসব পুস্তক বাঁধিয়ে রাখার কি প্রয়োজন ছিল? " বিদ্যাসাগর উত্তরে বললেন -"একগাছি দড়ি দিয়েও তো আপনি আপনার ঘড়িটি বেঁধে রাখতে পারতেন, এত টাকা দামের সোনার চেন দিয়ে বেঁধে রাখবার কি প্রয়োজন।আপনি তো আরও বড় পাগল।"
বিদ্যাসাগর শেষজীবনের অনেকখানি সময় কাটিয়েছিলেন আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম কারমাঁটারে। বিদ্যাসাগর মহাশয় সেখানেও গরীব মানুষদের চিকিৎসা করতেন বিনে পয়সায়।রাতবিরেতে ছুটে যেতেন তাঁর হোমিওপ্যাথির ব্যাগ হাতে।বিদ্যাসাগর তাদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন 'ডাক্তার বিদ্যাসাগর'।
(সংকলিত)
তথ্যসূত্র- কলকাতা টিভি
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল আশুলিয়া সাভার ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

২৫.৯.১৭

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি প্রয়োজন

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক একমত।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণ যে অবদান রাখছে তা এলোপ্যাথির তুলনায় কম নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে- উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কোন সুযোগ নাই। কোন দেশকে উন্নতি করতে হলে সে জাতিকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে হয়। আমাদের দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও হোমিওপ্যাথি কোন ইউনিভার্সিটি স্থাপিত হয় নাই।দেশের মানুষের উন্নত চিকিৎসা প্রদানের জন্য হোমিওপ্যাথি ইউনিভার্সিটি এখন সময়ের দাবী।
 উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ছাড়া কোন বিষয়ের উন্নয়ন সম্ভব নয়।আধুনিক বিশ্ব প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চমানের গবেষণার মাধ্যমে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।অথচ চিকিৎসা ক্ষেত্রের অন্যতম একটি শাখা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভাবে বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সমাজ জনগনের চাহিদা মতো সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশ্ব হোমিওপ্যাথিক প্রয়োগ কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা হোমিওপ্যাথির সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারছিনা। বিষয়ভিত্তিক গবেষণা ও টেকনিক্যাল দক্ষতা না থাকায় জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখতে ব্যর্থ হচ্ছি। সম্প্রতি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া দূর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়েছে ডেঙ্গুজ্বরকে কেন্দ্র করে। প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় ডেঙ্গুজ্বরে সু-নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা না থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০১৫ সালে সরকারিভাবে ডেঙ্গুজ্বরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গাইডলাইন তৈরি করেছে এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অবদান রাখছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভাবে এরকম কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় দূর্যোগ মোকাবেলা করার মতো হোমিওপ্যাথিক গাইডলাইন তৈরি করে সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা।
ভারতে ১৬৫টি কলেজ থেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা দেয়া হয় যা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত। এমনকি “জয়পুর হোমিওপ্যাথিক বিশ্ববিদ্যালয়” নামে একটি পূর্ণাঙ্গ হোমিওপ্যাথিক ব্শ্বিবিদ্যালয় চালু আছে। ৩০৭টি হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালে সিট সংখ্যা ১৩,৬৯৪টি। অনেক হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি CCU ও ICU সেবা প্রদানেরও ব্যবস্থা আছে। কেরালায় সকরারিভাবে গড়ে তোলা হয়েছে হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র। গুজরাট, রাজস্থান, কেরেলা, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন প্রদেশে গড়ে উঠেছে বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল। আফ্রিকার ঘানা ও কেনিয়ায় গড়ে উঠেছে হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক। অথচ, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষার অভাবে শুধুমাত্র চেম্বারকেন্দ্রিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা চলছে অত্যন্ত লাজুক অবস্থায়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলংকায়ও প্রতিষ্ঠা হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ হোমিওপ্যাথিক বিশ্ববিদ্যালয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বিশ্ববিদ্যালয়ে হোমিওপ্যাথিতে গ্র্যাজুয়েশন(Dtech) ও মাস্টারস’(Mtech) ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এতটাই উচ্চমানের যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক রেপার্টরির রুব্রিক সংযোজন হয়ে থাকে Mtech কোর্সের থিসিস থেকে।
ভারতের কল্যাণী ইউনিভার্সিটির Zoology Department এর Cytogenetics and Molecular Biology Laboratory ও আমেরিকার California University-র Department of Entomology and Institute for Integrative Genome Biology যৌথভাবে এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে কিভাবে Ultra-highly diluted plant extracts জেনেটিক লেভেলে P53(প্রোটিন৫৩) ক্যান্সার জিনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যা ELSEVIER জার্নালে ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে।
ন্যানো-ফার্মাকোলজির এই যুগে Dr. Nancy Malik ২০১৫ সালের ১৮ই জুন, এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাদারটিংচার থেকে ২০০পটেন্সিতে 1¬4000 picograms/mililitre এ 5¬100 nanometer size এর ন্যানো-পার্টিকেলস বিদ্যমান থাকে। যা তিনি উপস্থাপন করেছেন Supper Avogrado’s Limit হিসাবে।
জার্মানীর Philipps University-র Department of Chemistry and Scientific Centre for Materials Sciences এবং ব্রিটেনের DiagnOx Laboratory থেকে গবেষণা চলছে Solvent Polarity Indicators হিসাবে Solvatochromic Dyes ব্যবহার করে কিভাবে হোমিওপ্যাথিক পটেন্সি মেডিসিনের Linear Free Energy প্যারামিটার নির্ণয় করা যাবে।
বর্তমান যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা Gene নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন এবং Chronic disease-এ বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকতার জন্য দায়ী Gene sequence গুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন, অনেক ক্ষেত্রে সফলকাম হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। Chronic disease সম্বন্ধে বহু ব্যর্থতা সাফল্যের ১২বছরের গবেষণালব্ধ ডাঃ হ্যানিম্যানের Miasm তত্ত্ব: stigma transmitted generation to generation এবং রোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে dynamic agent দায়ী miasm-এর স্বরুপ উম্মোচন করেছেন। Luc Montagnier-র গবেষণা প্রতিবেদন DNA waves and water থেকে জানা যায় short sequences of DNA(e.g. a single gene) ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক সিগনাল(electro-magnetic signals) প্রেরণ করতে পারে যা কিছু exogenous retroviruses(HIV), hepatitis virus (HBV, HVC)-কে চিহ্নিত করতে পারে। এই DNA sequence রোগের ধরন মোতাবেক electro-magnetic signals(EMS) রোগির Uncommon, peculiar, stricking এবং Characteristic symptoms প্রকাশ করতে ভূমিকা রাখে।
বর্তমান বিশ্বে আরও অনেক উচ্চমান গবেষণা হচ্ছে যা ভবিষ্যৎ হোমিওপ্যাথির জন্য আশাব্যঞ্জক ফলাফল আশা করা যাচ্ছে। বিশ্ব হোমিওপ্যাথির উন্নয়ন ও গবেষণার ধারা আমাদের দেশে অব্যাহত রাখতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করা এখন সময়ের দাবী। তাই বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ হোমিওপ্যাথিক ইউনিভার্সিটি তৈরি করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টি করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। উচ্চতর গবেষণা ও দেশের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উন্নয়নের বিকল্প নেই। স্বল্প খরচে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে এই সরকার যত দ্রুত উপলব্ধি করবে ততই দ্রুত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার দ্বার উন্মোচন হবে। দেশের সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বন্ধুদের এলক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আসুন আমরা সবাই একসাথে মিলে এই মহতী উদ্যোগে শামিল হই।
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ডি.এইচ.এম.এস
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল সাভার ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।