জনপ্রিয় পোস্ট

বুধবার, মার্চ ১৩, ২০১৯

গ্যাংরিনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


পচনশীল ক্ষতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা:

গ্যাংরিন একটি কঠিন রোগ।এই রোগটিকে ক্যান্সার বলে রোগীর অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে চিকিৎসা না করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আরোগ্য হয়।আমার লেখা পরে নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না।একটি কথা সরণ রাখিবেন হোমিওপ্যাথিক মতের চিকিৎসায় প্র্যাকটিস – অব – মেডিসিন মতে চিকিৎসা কখনও ফলদায়ক হইতে পারে না।কারণ রোগের বিবিধ লক্ষণ, রোগীর পীড়ার সাধারণ লক্ষণ, বিশেষ লক্ষণ, ধাতুজ লক্ষণ, মানসিক লক্ষণ , বিশেষত্ব প্রভৃতির সহিত ঔষধের লক্ষণ-সমষ্টির সাদৃশ্য মিলাইয়া ঔষধ নির্বাচন করিলে তবে তরিৎবেগে ও সমূলে রোগ আরোগ্য হয়।লক্ষণ বিবেচনায় সঠিক ঔষধ নির্বাচন করে পরিমিত মাত্রায় সেবনে এই ক্ষত আরোগ্য হয়।নেক্রোসিস বা গ্যাংগ্রিন কি ?ব্যাপক হারে টিসুর ধ্বংস বা মৃত্যু এবং সেই সঙ্গে যদি স্যাপ্রোফাইটিক বীজাণু জনিত পচন হয়, যার ফলে এ থেকে যা ফল দাঁড়ায়,তাকেই বলা হয় নেক্রোসিস বা গ্যাংগ্রিন ( Gangrene )।এটি অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা।এটি বেশী পরিমাণে অগ্রসর হলে প্রচলিত চিকিৎসার কোন ঔষধের ক্রিয়াতে কাজ হয় না।তখন অবিলম্বে সার্জন দ্বারা ঐ পচনশীল অংশ কেটে বাদ দিতে হবে, তা না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হবে।অনেক সময় ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষত থেকে অতি ধীরে পচন শুরু হয় এবং তা অবশেষে গ্যাংগ্রিনে পরিণত হয়।গ্যাংগ্রিন দুই ধরনের হয় ঃভেজা গ্যাংগ্রিন বা Wet Gangreneশুকনো গ্যাংগ্রিন বা Dry Gangreneপচনশীল বীজাণুরা যদি গ্যাস উৎপাদক হয় (যেমন ক্লসট্রিডিয়াস ওয়েলসাই)তা হলে ঐ নেক্রোটিক টিসুতে প্রচুর গ্যাস সৃষ্টি হয়।এই ধরনের গ্যাস সৃষ্টিকারী পচনশীল নেক্রোসিসকে বলা হয় গ্যাস গ্যাংগ্রিন(Gas Gangrene)।শুকনো গ্যাংগ্রিন – শরীরের কোনও অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হবার ফলে তাদের স্পর্শে আসা সব টিসুতে শুকনো পচনশীল গ্যাংগ্রিন শুরু হয়।মৃত টিসুগুলি থেকে জল বাস্প হয়ে যায়।ঐগুলি সব শুকিয়ে ওঠে।রং ধীরে ধীরে কৃষ্ণবর্ণ হয়।টিসু সংকুচিত হয়।কিন্তু ধীরে ধীরে গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে পরে।অণুবীক্ষণ যন্ত্রে মৃত কোষগুলি ঘন সন্নিবিষ্ট এবং সংকুচিত দেখা যায়।ভেজা গ্যাংরিংঃযদি দেহের ভেতরের কোনও অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়,তা হলে ঐ রক্তহীন তিসুগুলি বিপন্ন হয়।এই নষ্ট টিসুর মধ্যে পচনশীল(Saprophytic)বীজাণু প্রবেশ করে।তার ফলে এনজাইমের প্রক্রিয়ার ফলে ঐ নষ্ট অংশ হয়ে যায় নরম এবং দুর্গন্ধযুক্ত।রক্তের লোহিতকণিকা(R.B.C)এবং লোহিতকণিকা দেহে বিশ্লিষ্ট অংশের মিশ্রণের সংস্পর্শে আসায় টিসু গুলির রং নষ্ট হয়।প্রথমে হয় লাল – তারপর বেগুনি – তারপর সবুজাভ এবং শেষে কালো রং হয়।পচনশীল ক্ষতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা –গ্যাংরিনের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার সহিত ঔষধ নির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

বহু ঔষধের মধ্যে নিন্মে কয়েকটির লক্ষণাবলীর সংক্ষিপ্তসার প্রদত্ত হইল।
আর্সেনিক এলবম – গ্যাংগ্রিনের ক্ষতমধ্যে অগ্নিদাহবৎ জ্বালা – উত্তাপ প্রয়োগে উপশম।ক্ষতের প্রান্ত উচ্চ ও চতুরপার্শ্বে চকচকে লালিমা, তলদেশ কৃষ্ণবর্ণ ; ক্ষত হইতে প্রচুর পরিমাণে পচা দুর্গন্ধযুক্ত,হ্যাজাকর, রক্তময়, জলবৎ তরল পুঁজ নির্গমন।

সিকেলি কর - গ্যাংগ্রিনের ক্ষতমধ্যে অগ্নিদাহবৎ জ্বালা – উত্তাপে বৃদ্ধি, ঠাণ্ডায় উপশম।

এসাফিটিডা – ক্ষতের প্রান্ত উচ্চ ও কঠিন, স্পর্শ সহ্য হয় না, সহজেই রক্তস্রাব হয় এবং মধ্যে মধ্যে তীক্ষ্ণ বেদনা বোধ হয় ; ক্ষত হইতে প্রচুর পরিমাণে সবুজাভ, তরল, দুর্গন্ধযুক্ত, রক্তময় পুঁজ নির্গত হয় ; ক্ষত অস্থি আক্রমণ করিলে এবং তাহার চতুষ্পার্শ্বে সামান্য স্পর্শও সহ্য না হইলে ইহা বিশেষ উপযোগী।

কার্বো ভেজ – ভেরিকোজ ও ক্যালাস, আলসার ; ক্ষত হইতে রক্তস্রাব হয় ;পচা দুর্গন্ধযুক্ত, হ্যাজাকর, তরল,স্বল্প আস্রাব ; ক্ষতমধ্যে অত্যন্ত জ্বালা ও তাহার চতুষ্পার্শ্বে নিলাভ।

এসিড ফ্লোর – ভেরিকোজ আলসার ; ক্ষতের পার্শ্বে স্বল্পস্থানে জ্বালা ও ক্ষতমধ্যে আত্যন্ত বেদনা – উত্তাপে বৃদ্ধি। ঠাণ্ডায় উপশম।

গ্রাফাইটিস– দুর্গন্ধযুক্ত, গাড় পুজস্রাব,ক্ষতমধ্যে চুলকানি অথবা হুলবিঁধনবৎ বেদনা এবং মাংসবৃদ্ধি(প্রাউড ফ্লেস ) ক্ষতের পার্শ্বে চর্ম বিদীর্ণ হয়।

হিপার সাল্ফ– ক্ষতের ধারগুলি খাঁজকাটা দেখায় এবং তাহার চতুষ্পার্শ্বে ফুস্কুরি জন্মে ; দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নিঃসৃত হয় এবং মৃদ স্পর্শও সহ্য হয় না।

ক্যালি বাইক্রোম – ক্ষত ক্রমশ গভীর হইয়া পড়ে এবং তাহার তলদেশ আঠাল দড়িদড়াবৎ পুঁজ সংলগ্ন থাকে।

ল্যাকেসিস – ইরিটেবল আলসার ; ভেরিকোজ আলসার – সচরাচর পায়ের কব্জিতে হয়;ক্ষতের তলদেশ কৃষ্ণবর্ণ, সামান্য পুঁজ নিঃসৃত হয়, কিন্তু সহজেই রক্তপাত হয় এবং ক্ষত স্পর্শ করিলে জ্বালা বোধ হয়;ক্ষতে স্পর্শ সহ্য হয় না, তাহা হইতে দুর্গন্ধযুক্ত হ্যাজাকর আস্রাব নিঃসৃত হয় এবং চতুষ্পার্শ্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুস্কুরি জন্মে;পচা ক্ষত,গ্যাংগ্রিন।

লাইকোপোডিয়াম – নিন্মপদের ক্ষত ; রাত্রিকালে ক্ষতমধ্যে ছিঁড়িয়া ফেলিবার ন্যায় যন্ত্রণা হয়,অত্যন্ত চুলকায়; ক্ষতের ধার লাল ও কঠিন হয় এবং উলটাইয়া যায়।স্পর্শ করিলে জ্বালা করে;উত্তাপে যন্ত্রণার বৃদ্ধি,ঠাণ্ডায় উপশম।

মার্কসল – ক্ষত অগভীরভাবে বিস্তৃত হয় এবং তাহার তলদেশে চর্বির ন্যায় পদার্থ জমিয়া থাকে ও উচুনিচু এবং অসমান দেখায় ;ক্ষত হইতে সহজেই রক্তপাত হয়;অত্যধিক বেদনা মৃদু স্পর্শও সহ্য হয় না ;নীলাভ বা ঈষৎ কৃষ্ণবর্ণ ক্ষত ; রাত্রিকালে ,শয্যার উত্তাপে এবং উত্তাপ ও ঠাণ্ডা প্রয়োগে যন্ত্রণার বৃদ্ধি।

মেজেরিয়াম – ক্ষতের চতুর্দিক আড়ষ্ট, সহজেই রক্তস্রাব হয়, পুঁজ জমিয়া মামড়ী পড়ে ও তাহার নীচে প্রচুর পুঁজ জমিয়া থাকে এবং চতুষ্পার্শ্বে জ্বালাময় ফুস্কুরি জন্মে ; ল্কতমধ্যে খচখচানি বেদনা – রাত্রিকালে বৃদ্ধি।

নাইট্রিক এসিড – ক্ষত ক্রমশ গভীর হইয়া পড়ে এবং তন্মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মাংসবৃদ্ধি হয় ; মৃদুতম স্পর্শে কণ্টকবিঁধনবৎ বেদনা ও জ্বালাবোধসহ ক্ষত হইতে রক্তস্রাব হয় ; রক্তমিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত তরল পুঁজ ; রাত্রিকালে ও ঠাণ্ডায় যন্ত্রণার বৃদ্ধি।

সাইলিসিয়া – ক্ষতমধ্যে গ্রানুলেসানের আধিক্যবশতঃ ক্ষত আরোগ্য হইতে চায় না এবং ক্রমাগত পুঁজ নিঃসরণ হইতে থাকে। ক্ষতে গ্রানুলেসান আরম্ভ হইবার পর ইহা আরোগ্য ত্বরাম্বিত করে।

সালফার – ক্ষতের প্রান্ত উচ্চ ও স্ফীত এবং ফুস্কুরি পরিবেষ্টিত ; ক্ষতমধ্যে হুলবিধনবৎ যন্ত্রণা হয়, সহজেই রক্ত পড়ে এবং ঘন অথবা তরল দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নিঃসৃত হয়। কেহ কেহ পুরাতন ক্ষতের চিকিৎসা-কালে সর্বাগ্রে সালফার প্রয়োগ করিয়া তৎপর অন্য নির্বাচিত ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়া থাকেন।

ক্রোটেলাস – ব্রণ, স্ফোটক, কারবাঙ্কল কিম্বা অন্য কোনও প্রকার ক্ষত যখন পচে কিম্বা ক্ষতের চারিধার শক্ত এবং কালচে রঙ বা নীলবর্ণ ধারণ করে, গ্যাংগ্রিনে পরিণত হয়, রোগী ক্রমশঃ নিস্তেজ ও দুর্বল হইয়া পড়ে,তখন ক্রোটেলাস উপকারী।

ইচিনেসিয়া – ইহা একটি রক্ত দোষমুক্তকারী ঔষধ।ব্যক্তির নিজের শরীরের সংক্রামক বিষ থেকে সংক্রমণ জনিত কারনে তরুণ রোগ সমূহ।রক্তবিষাক্ততার লক্ষণসমূহ সাধারণত রক্তের পচনশীল বা সেপটিক অবস্থা।সান্নিপাতিক জ্বর বা টাইফয়েড রোগে উদরাময়।গনোরিয়া।ফোঁড়া সমূহ।ইরিসিপেলাস দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষত সমূহ।গ্যাংগ্রিন। শয্যাক্ষত,কারবাঙ্কল,বিষাক্ত জন্তুর কিম্বা পতঙ্গ দংশন প্রভৃতিতে ইহা বিশেষ উপকারী।ইহার সমস্ত আস্রাব যেমন – মল,মুত্র,প্রসবান্তিক স্রাব, নিঃশ্বাস প্রভৃতি সমস্তই দুর্গন্ধযুক্ত।

ট্যারেনটুলা কিউবেন্সিস – রক্ত বিষাক্ত হইয়া কতকগুলি পীড়ায় ইহা ব্যবহার হয় যেমন – ডিপথেরিয়া, নানাপ্রকার ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ, সাংঘাতিক প্রকারের স্ফোটক, বিসর্প প্রভৃতি অত্যন্ত লালবর্ণ হয়, জ্বালাকরে হুলফোটানর মত বেদনা হয় ও পাকে এবং বাগী, কারবঙ্কল, গ্যাংগ্রিন, বুকের ক্যান্সার বৃদ্ধদিগের ক্ষত ইত্যাদির ইহা মহৌষধ।

প্লম্বম মেট – অণ্ডকোষের গ্যাংগ্রিন আরোগ্য করিতে – প্লম্বমের ক্ষমতাই অধিক।গ্যাংরিন সিকিৎসায় ব্যবহৃত উপরোক্ত ঔষধ ছাড়াও সদৃশ লক্ষণে আরো অনেক ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। একজন দক্ষ চিকিৎসকই তা নির্বাচন করিতে সক্ষম।কেহ আমার এ লেখা পড়ে চিকিৎসা করে রোগের জটিলতা সৃষ্টি করিবেন না।ডাক্তার না হয়ে একা একা চিকিৎসার না করে,জটিলতা উপলদ্ধি কররেন এই প্রত্যাশা করি।

গ্যাংরিনের একক সদৃশ ঔষধ নির্ণয়(কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে)
GANGRENE, from burns or gangrenous sores : Agar.alum., ant-c., Anthr., apis., Ars.asaf.calc., canth.carb-v.Caust., cycl., eupho., kreos.lach., mag-c., ph-ac., rhus-t.ruta., Sec.stram.



++ cold : Ant-t., Ars.asaf.bell., canth.caps., carb-v.con., crot-h., eupho.lach.merc., Plb., ran-b., Scil.Sec.sil.sul-ac., sulph., tarent-c.
++ hot : Acon., ars., bell., mur-ac., sabin.sec.
++ moist : Carb-v.Chin.hell.ph-ac., Scil.tarent.
++ senile : Carb-v.Sec.
++ spots : Crot-h., cycl., hyos.sec.
বোরিক রেপার্টরিঃ
GANGRENE -- Ail., Anthrac., Ant. c., Apis, Ars., Bothrops, Brass., Brom., Calend., Canth., Carb. ac., Carbo an., Carbo v., Chlorum, Chrom. oxy., Cinch., Crot., Cupr. ars., Echin.Euphorb., Ferr. p., Kali chlor., Kali p., Kreos., Lach.Polygon. pers., Ran. ac., Sal. ac., Sec.,Sul ac., Tar. c.


Senile -- Am. c., Ars., Cepa, Sec., Sul. ac.
Traumatic -- Arn., Lach., Sul. ac.


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।

বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০১৯

যৌন দুর্বলতা বা জীবনীশক্তির অভাবের বাইয়োকেমিক চিকিৎসার মেজিক

যৌন দুর্বলতার চিকিৎসায় বাইয়োপ্লাজম ২৭।

Luck of Vitality বা জীবনীশক্তির অভাব বা ভাইটালিটির অভাবের বা বিশৃংখলার নামই রোগ। আর এই রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যে উপাদান সমুহ কাজ করে সেই উপাদান দ্বারা বা স্বভাবের অভাব পুরন করা বাইয়োকেমিক চিকিৎসার মূলমন্ত্র।

বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন ২৭(সাতাইশ) ভাইটালিটির অভাব বা যৌন দুর্বলতা দুর করতে কার্যকর।মানবদেহের জীবনী শক্তি বিশেষ কতগুলো স্বাস্থবিধির উপর নির্ভর করে।শুধু প্রাণে বেঁচে থাকা নয়,সমাজ জীবণে প্রতিষ্ঠা লাভ করতেও সুস্বাস্হ্যের প্রয়োজন।সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে দেহের চাহিদা যথাযথ ভাবে পূরণ করা।খাদ্য পানীয়,পরিবেশ শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা। সুস্থ্যতা মানেই শারীরিক যন্ত্রগুলোর এবং টিশুগুলোর যথাযথ ক্রিয়া ক্ষমতা। জীবনের প্রকৃত সুখ শান্তি নির্ভর করে শরীর তন্ত্রের যথার্ত ক্রিয়া কলাপের উপর। জীবনীশক্তি অর্জন করতে হলে মানষিক এবং শারীরিক পূর্ণ বিকাশ চাই। আনুপাতিক হারে দেহে এসিড, ক্যালসিয়াম , ফসফেট তথা সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ভারসাম্যতা। এই ভারসাম্যতা রক্ষায় কম্বিনেষন ২৭ বেশ গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রয়েছে।

মম্বিনেশন ২৭ (বাইয়োকেমিক বাইয়োপ্লাজম ২৭) এর উপাদান সমুহের বিস্তারিত আলোচনা। ঃ
উপাদান ঃ
1*ক্যালকেরিয়া ফস।
2*ক্যালি ফস।
3*নেট্রাম মিউর।

বাইয়োপ্লাজমে ব্যবহৃত উপদান সমুহ একক ভাবেও মানব দেহের ভাইটালিটি রক্ষায় সমান ভাবে কার্যকর। নিম্নে বাইয়োপ্লাজম সাতাইশে ব্যবহৃত উপাদান বা বাইয়োকেমিক ঔষধ সমুহের প্রয়োগ লক্ষণ বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

1*ক্যালকেরিয়া ফস
অস্থি এবং তরুনাস্থির শক্তি বৃদ্ধির জন্য,জরায়ু সংক্রান্ত তথা পেশি এবং টিশু সবলের জন্য,স্বল্পমূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য এবং দুর্বলতার জন্য ইহা প্রয়োজন। অস্থি,তরুণাস্থি,জরায়ু, মূত্রকৃচ্ছতা এবং দুর্বলতা ইত্যাদির যে কোন ক্রিয়াগত বৈকল্যে ইহার প্রয়োজন। উপরোক্ত জীবনীশক্তির অভাব পুরনে ক্যালকেরিয়া ্ফস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ঔষধ।

2*ক্যালি ফস
স্নায়ু বৈকল্য হেতু উদ্ভুত নানা প্রকার রোগ লক্ষণ, সঙ্গম শক্তির দুর্বলতা, বিছানায় প্রস্রাব,সঙ্গম ক্রিয়ার পর অত্যাধিক দুর্বলতা। স্ত্রীরোগে আক্রান্ত নারীদের সঙ্গম প্রবৃতির লোপ। মাসিক ঋতু স্রাবের অনিয়মতা, কখনো বেশি আবার কখনও কম। কখনো সময়ের আগে আবার সময়ের পরে।দুর্বলতা, স্নায়বিক দুর্বলতা, কম্পণ ইত্যাদি লক্ষণে প্রযোজ্য। স্নায়ুতন্ত্রের অভাব পুরন করে মানুষের যৌণ ক্ষমতা রক্ষায় জরুরী প্রয়োজন।

3*নেট্রাম মিউর
ধ্বজ ভঙ্গ,সঙ্গম ক্রিয়া কাল অতি সামান্য, অতি স্বল্প সময়ের মধ্যেই বীর্জপাত, স্ত্রীর বিরাগভাজন, নারীর ক্ষেত্রে সঙ্গম ক্ষেত্রে অনিহা, অস্বস্তি বোধ করে, প্রদর স্রাবের লক্ষণ থাকে, জনন অঙ্গের বেদনা, জরায়ু যেন ঠেলে নিচের দিকে আসতে চায়, বেদনা ও জরায়ু নিম্নমুখী। ঋতুস্রাবে অনিয়ম,সময়ের আগে বা পরে হয়, পরিমাণেও অনিয়ম। লবনপ্রীয় রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত বীর্য়পাত রোধে নেট্রাম মিউর কার্যকর।

উপসংহার
বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন সোতাইশ অথবা  পৃথক ভাবে ব্যবহৃত উহার উপাদানসমুহ নির্বাচিত হলে কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মানব দেহের ভাইটালিটি রক্ষা করতে অত্যন্ত  কার্যকর।
সেবন বিধি
 কম্বিনেশন বড়ি বড়দের চারটি ও ছোটদের দুইটি বড়ি দিনে তিনবার।আহারের পরে উসুম উসুম গরম পানিতে খেলে বেশী কার্যকর।

আমার ফ্রী মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন এবং আমার সকর লেখা আপডেট নিন নিয়মিত।
HomeoTips https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall

ডা: ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮ 

বুধবার, মার্চ ০৬, ২০১৯

ডেঙ্গু বা হাড়ভাঙ্গা জ্বরের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি সফল ঃ

ডেঙ্গু জ্বর কি ? লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ঃ

শরীরে হাড়ভাঙ্গা বেদনা নিয়ে এ জ্বর হয় এই কারনে এই জ্বরের নাম হয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। এই রোগটি সর্বপ্রথম স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে মহামারী আকারে দেখা দেয় তাই এ জ্বরকে ডান্ডি জ্বর বলেও ডাকা হয়।

ক্ষণ সমুহ:সহসা সামান্যশীত ও চোখমুখে লালিমাসহ প্রবল জ্বর হয়।জ্বর ১০২ হতে ১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত হতে পারে।সর্বশরীরে বিশেষত: চক্ষুগোলকের উপরিভাগে,চক্ষুগোলক, কোমড় বেদনা করে।রোগী নিদারুন যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পরে।জিহ্বা শুষ্ক,ময়লাবৃত ,বিবমিষা বমি ভাব কোষ্ঠবদ্ধতা উপস্হিত হয়।চোখ রক্তবর্ন ধারন করে।মুখে ফোলা ভাব দেখা দেয়। এইরুপ দুই তিন দিন চলে পরে চতুর্থ দিনে পুনরায় জ্বর রেড়ে যায়। এর সাথে হামের মত উদ্ভেদ দেখা যায়।২/৩ দিন পরে মিলিয়ে যায়।কিন্তু জ্বর শেষে অত্যন্ত দর্বলতা,অক্ষুধা,মানসিক অবসাদ দেখা দেয় ।ডেঙ্গু জ্বরে উত্তাপের তুলনায় নাড়ীর গতি কম থাকে।রক্তে স্বেত কনিকার অভাব দেখা দেয় ও এসিনোফিলের পরিমান বেড়ে যায়।অনেক সময় এই অসুখের সাথে ইন্ফুয়েঞ্জা ও বাত জ্বরের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সমস্যা হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ নির্বাচন গাইড ঃ

একেনাইট নেপিলাস:প্রবল জ্বর,অস্হিরতা,শিরপীড়া,প্রবল জল পিপাসা এক কথায় একোনাইটের চরিত্রগত লক্ষণ যখন দেখা দেয় তখনই এই ঔষধের প্রয়োজন হয়।

বেলেডোনা:প্রবল জ্বর,মাথা বেদনা,শির:পীড়া,ধমনী লাফানো,চোখমুখ লাল,অঘোর অচেতন ভাব ।আবৃত অংগে ঘর্ম দেখা দিলে বেলেডোনার প্রযোজন হয়।

ব্রাইয়োনিয়া এলবম:রোগীর মাথা বেদনা,সর্বশরীরে বেদনা,প্রবল পিপাসা,কোষ্ঠব্ধতা, নড়াচড়ায় রোগের বৃদ্ধি,চুপ করিয়া থাকার ইচ্ছা,কথা বলিতেও অনিচ্ছা ।এই লক্ষণসমুহ ব্রাইয়োনিয়া প্রয়োগের নির্দেশক লক্ষণ ।

ইউপটেরিয়াম পার্ফোরেটাম:এই ঔষধটি ডেঙ্গু জ্বরের অদ্বিতীয় ঔষধ।এই রোগের যে কোন অবস্হায় প্রয়োগ করিলে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়।ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ সমুহ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্য্করী।এক কথায় ডেঙ্গু জ্বরের পেটেন্ট ঔষধ বলিলেও ভুল হবে না।

রোগ আরোগ্য অবস্হায় কখনও কখনও লক্ষণ ভেদে ব্যাপটিসিয়া ও রাস টক্স ও প্রয়োজন হয়।এছাড়াও ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধগুলিও প্রয়োজন হতে পারে।ডেঙ্গু জ্বর আরোগ্য হওয়ার পরে রোগীর যখন দুর্বলতা,অক্ষুধা,মানসিক অবসাদ,নিদ্রাহীনতা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিবে তখন এসিড ফস,কার্বভেজ,নাক্স ভুমিকা ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহৃত হয়।

ডা: ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গঃরেজি নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

প্রসূতির নরমাল ডেলিভারির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


সহজ প্রসবের জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ


গর্ভাবস্থায় চিন্তা শুধু একটাই,নরমাল ডেলিভারি হবে তো, নাকি সিজার করাতে হবে।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে শুরু করে হসপিটাল ব্যবসায়ী সবাই আজ সিজার করাতে ব্যতিব্যস্ত এর পিছনে অর্থনীতিক কারনই মুল বিষয়৷আর তাই সিজারিয়ান ডেলিভারি আজকের দিনে একটি কালচারে পরিনত হয়েছে৷যদি আপনার বড়সড় কোন জটিলতা না থাকে তবে গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়মকানুন মেনে ও নিরাপদ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করে স্বাভাবিক ডেলিভারির চেষ্টা করতে পারেন৷

সঠিক খাদ্যাভ্যাসঃ- আপনি প্রেগন্যান্ট জানার পর থেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট মেনে চলুন। স্বাস্থ্যকর খাবার, টাটকা ফল ও শাক-সবজি প্রচুর পরিমাণে খান। সেই সঙ্গে আয়রন, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার ও মাল্টি ভিটামিন খান।

সক্রিয় জীবনযাপনঃ- অনেকে প্রেগন্যান্সির গোটা সময়টাই শুয়ে বসে কাটিয়ে দেন। এটা একেবারেই উচিত নয়। যদি চিকিৎসক আপনাকে কোন জটিলতার কারনে বেড রেস্টে থাকতে না বলেন, তাহলে সচল থাকুন। বাড়ির হালকা কাজকর্ম করুন। সকাল, সন্ধা হাঁটতে যান। এতে নরমাল ডেলিভারির চান্সও বাড়বে।

পর্যাপ্ত পানি পানঃ- পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত এতে রক্ত চলাচল ভাল হয়৷ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয় না। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন।

মানসিক চাপ মুক্ত থাকাঃ- নরমাল ডেলিভারির জন্য শরীর ও মন উভয়ই সুস্থ রাখা প্রয়োজন।স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বাড়লেই শরীর খারাপ হবে।নিজেকে সব সময় খুশি রাখুন।
যোগব্যায়াম করাঃ- নরমাল ডেলিভারির জন্য অত্যন্ত উপকারী যোগব্যায়াম।এতে শরীরের পেশি শিথিল থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনকি স্ট্রেস কমবে। ডেলিভারির যন্ত্রণা কম করতে তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম করুন।
নরমাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো জানা থাকলে প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।গর্ভযন্ত্রণার প্রথম ধাপকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক পর্যায়ঃসার্ভিক্স ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে শুরু করে। খুব বেশি যন্ত্রণা না হলেও পিরিয়ডের সময় যে রকম খিঁচ ধরে পেটের পেশীতে সে রকম যন্ত্রণা অনুভূত হয়। কোমরের নিচের দিকে, তলপেটে ৩০-৬০ সেকেন্ড এই ব্যথা স্থায়ী হয়। ৫-২০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা ফিরে ফিরে আসে। সকলের ক্ষেত্রে এই সময় এক থাকে না।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ঃএকে বলা হয়ে থাকে সক্রিয় গর্ভযন্ত্রণা। এই সময় সার্ভিক্স প্রায় ১.৬ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়। কোমরের দিক থেকে পেটের দিকে আসতে থাকে ব্যথা। ৩-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ব্যথা স্থায়ী হয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সময় গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন।

৩য় পর্যায় ঃতৃতীয় পর্যায়ে একে বলা হয়ে থাকে সক্রিয় গর্ভযন্ত্রণা। এই সময় সার্ভিক্স প্রায় ১.৬ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়। কোমরের দিক থেকে পেটের দিকে আসতে থাকে ব্যথা। ৩-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ব্যথা স্থায়ী হয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান,এই সময় গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন।তৃতীয় পর্যায়ে সার্ভিক্স ৩-৪ ইঞ্চি প্রসারিত হয়। যন্ত্রণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি পেতে থাকে, ঘাম হয়, কাঁপুনি দিতে থাকে।তৃতীয় পর্যায় খুব কম সময়ের হলেও সবচেয়ে কঠিন।১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

লক্ষণভেদে নিচের সঠিক ঔষধটি নির্বাচন করে প্রয়োগ করতে পারলে সিজারের প্রয়োজন হবে না।

পালসেটিলা:শান্ত স্বভাব কোমল মণ,অভিমানী,গরম কাতর ,খোলা বাতাস পছন্দনীয় স্ত্রীলোকদের অনিয়মিত প্রসব বেদনা। বেদনা কখনও কেম কখনও বেশী।আবার কখনও একেবারেই থাকে না।জরায়ুর মুখ আংশিক খুলিয়াছে।কিন্তু বেদনার জোর কম থাকায় প্রসবে বিলম্ব হলে ৩০/২০০শক্তির কয়েক মাত্রা ঘনঘন থাওয়ালে সহজেই প্রসব বেদনা বৃদ্ধি হযে নরমাল ডেলিভারি হয় কোন অপারেশনের প্রয়োজন হয় না।

সিমিসিফুগা:জরায়ুর মুখ শক্ত,কোমর ও তলপেট বেদনা,রোগিনী ভয়ে কাপতে থাকে।বেদনা য় মুর্ছার ভাব হয় ও প্রসবে বিলম্ব হলে ১,৩ এক্স শক্তির ঔষধ অ্ধাঘন্টা পরপর কয়েক মাত্রা প্রয়োগেই সহজে প্রসব হবে।
জেলসিমিয়ম:জরায়ুর মুখ অত্যন্ত শক্ত।অনেক্ষণ যাবৎ প্রসব বেদনা সত্বেও জরায়ুর মুখ না খুললে ।প্রসবে বিলম্ব হলে ১এক্স শক্তির ৪/৫ ফোটা অর্ধ ঘন্টা পর পর পানি েমিশিয়ে খাইতে দিলে সহজেই প্রসব হবে।

বেলেডোনা:রোগিনীর চোখ মুখ লাল,মাথা বেদনা প্রচন্ড প্রসব বেদনা এক বার হঠাৎ বাড়ে ও একবার কমে তার জন্য ৩এক্স শক্তির ্ঔষধ ১৫/২০ মিনিট পরপর কয়েক মাত্রা প্রয়োগেই সহজ প্রসব হয়।
কলোফাইলম:প্রসুতির স্হান পরিবর্তনশীল বেদনা, বেদনায় ক্লান্ত,বেদনা আশে ও চলিয়া যায়,জরায়ুর মুখ খুলিতে বিলম্ব হলে কলোফাইললম১এক্স শক্তির ৪/৫ ফোটাসামান্য জলসহ আধা ঘন্ট পরপর দিলে সহজেই প্রসব হয়।

কফিয়া ক্রুডা:ক্রুদ্ধ স্বভাবের রমনীর প্রসব বেদনার সাথে মাথা বেদনা,রোগিনী ছটফট করলে এবং চিৎকার করে তাকে ৩০/২০০শক্তির ঔষধ ৩০ মিনিট পর পর দিলে সহজ প্রসব হয়।
ইপিকাক:প্রসব বেদনা সাথে গা বমি বমি ভাব,বমি হলেও বমি ভাব কমে না তবে ইপিকাক ৩০/২০০শক্তির আধা ঘন্টা পর পর দিলে সহজ প্রসব হবে।

ক্যামোমিলা:অত্যন্ত বদ মেজাজ,ভষণ মেজাজী প্রসব বেদনা সকলকে গালাগালি করলে সেই প্রসুতির জন্র ৬,৩০শক্তির কয়েক মাত্রা আধা ঘন্টা পর পর দিলে সহজ প্রসব হবে।

ক্যালি কার্ব:কোমরে প্রচন্ড বেদনা ,বেদনায় রোগিনী কোমড় গেল কোমড় গেল বলে চিৎকার করিতে থাকে তবে ক্যালি কার্ব ২০০শক্তির ৩০ মিনিট পরপর দিলে এক ঘন্টার মধ্যেই প্রসব হয়। এর মেজিক আমি অনেক বার পেয়েছি।অপারেশনের প্রস্তুতি নেয়া রোগিনীকে দুই মাত্র প্রয়োগেই ইজি ডেলিভারি হয়েছে।

সহজ প্রসবের জন্য সদৃম একক ঔষধ নির্বাচন(বোরিক রেপার্টরি)ঃ
PARTURITION - LABOR





CONVULSIONS (eclampsia) -- Acon., Æth., Amyl, Atn., Bell., Canth., Cham., ChloralCic., Cim., Coff., Cupr. ars., Cupr. m., Gels., Glon., Hydroc. ac.Hyos., Ign., Ipec., Kali br., Merc. c., Merc. d., OEnanthe, Op., Piloc., Plat., Solan. n., Spiræa., Stram., Ver. v.Zinc. m.
PAIN
Backache violent, wants it pressed -- Caust., Kali c.Excessive -- Bell., Coff
False labor pains -- Bell., Cham., Caul.Cim., Gels., Nux v., Puls., Sec., Vib. op.
Hour glass contraction -- Bell., Sec.
Labor
Delayed -- Kali p., Pituitrin.
Premature -- Sab.
Needle-like prickings in cervix -- Caul.
Shifting
Across abdomen, doubling her up; pricking in mammæ; shivers during first stage -- Cim.
All over, exhaustion; fretful; shivering -- Caul.
From back to rectum, with urging to stool, or urination -- Nux v.
From loins down legs -- Aloe, Bufo, Carbo v., Caul., Cham., Nux v.Upwards -- Cham., Gels.
Spasmodic, irregular, intermittent, ineffectual, fleeting -- Arn., Artem., Bell., Bor., Caul., Caust., Cham., Chloral., Cim., Cinnam., Cinch., Coff., Gels., Kali c., Kali p., Nat. m., Nux v., Op., Pituitrin, Puls., Sacchar. of., Sec.Dyspnea from constriction of middle of chest arresting pains [with] -- Lob. infl.
Hypersensitiveness to pain [with] -- Acon., Bell., Caul., Caust., Cham.Cim., Cinch., Coff.Gels., Hyos., Ign., Nux v., Puls.
Relief from pressure in back [with] -- Caust., Kali c.Syncope [with] -- Cim., Nux v., Puls., Sec.

PLACENTA





Retained -- Arn., Canth., Caul., Cim., Cinch., Ergotin, Gossyp., Hydr.Ign.Puls.Sab.Sec., Viscum.

RIGID OS -- Acon., Bell.Caul., Cham., Cim., Gels., Lob. infl., Ver. v.


প্রসবকার্য সহজ করতে একজন ধাত্রির ভুমিকা অনেক গুরুত্বপুর্ন।ধাত্রি দ্বারা পরীক্ষা করে যদি জানতে পারেন যে জরায়ুর মুখ খোলা অথচ বেদনার অভাবে প্রসব হইতেছে না তখন সিকেলি কর ২০০ শক্তির ঔষধ ৩০ মিনিট পর পর কয়েক মাত্রা প্রয়োগে বেদনা বৃদ্ধি হয়ে সহজ প্রসব হবে।অপারেশনের হাত থেকে প্রসুতিকে রক্ষা করা যাবে।এ ঔষধের মেজিক আমি প্রমান করেছি।মনে রাখবেন জরায়ুর মুখ না খুললে সিকেলি কর দেয়ার ফলে অনেক জটিল হতে পারে তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হউন।সহজ প্রসবের জন্য বাইয়োকেমিক কম্বিনেশন ২৬ হোমিও ঔষধের পাশাপাশি প্রয়েগে ভাল ফল পাওয়া যায়।
গর্ভধারণের পর থেকেই দুঃশ্চিন্তা ও ভয় চলে আসে।দিন যতই এগিয়ে আসে যন্ত্রণা ভয়, অজানা আতঙ্ক ততই বাড়তে থাকে।এ কারণে অনেকে অপারেশন বা সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।নরমাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো জানা থাকলে প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।প্রসূতি হওয়ার পর হতেই আমার এ লেখা পরলে সিজারের প্রয়োজন হবে না।

ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

আই. বিএস বা অ পেটের পীড়ার হোমিও চিকিৎসা।


                    অস্বস্তিকর পেটের পীড়ার হোমিওপেথীক চিকিৎসা    

আইবিএস (অস্বস্তিকর পেটের পীড়া) কি ?

ইংরেজি পরিভাষায় পেটের পীড়া আইবিএস হচ্ছে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। ইংরেজিতে সিনড্রোম শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি রোগের বিভিন্ন উপসর্গ বা লক্ষণের সমষ্টি। তাই আইবিএসকে পেটের কয়েকটি উপসর্গ বা লক্ষণের সমন্বয়ে সংজ্ঞা হিসেবে ধরা হয়। এ রোগে পেট অধিকতর স্পর্শকাতর হয় বলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। পাশ্চাত্য দেশে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন মানুষ এ রোগে তার জীবদ্দশায় আক্রান্ত হয়ে

আইবিএস এর কারণ

আজ পর্যন্ত এ রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। অনেক কারণে এ রোগ হয় বলে চিকিৎসার অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত কেবল উপসর্গের চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে ভালো রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণের মধ্যে খাদ্যনালির অতি সংবেদনশীলতা, পরিপাকতন্ত্রের নাড়াচাড়ার অস্বাভাবিকতা বা অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠানো বার্তায় ত্রুটির কারণে আইবিএসের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এছাড়া স্নায়ুর চাপ এবং দুঃশ্চিন্তা, খাদ্যাভ্যাস, অন্ত্রের প্রদাহ এবং সংক্রমণ, হরমোন (নারীদের মাসিকচক্রের সঙ্গে), মাদক গ্রহণ, বংশগত কারণ, পেটের যে কোনো অপারেশন ও দীর্ঘকাল ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আইবিএসের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।

উপসর্গ

পেটব্যথা, পেটফাঁপা, পায়খানার সঙ্গে আম যাওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমন্বয় ইত্যাদি। কোনো রোগীকে আইবিএস হিসেবে শনাক্ত করতে হলে এ লক্ষণগুলোতে অন্তত দুটি লক্ষণ তিন মাস পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া অন্য যেসব লক্ষণ থাকতে পারে, সেগুলো হল- পেটে অত্যধিক গ্যাস, পেটে অত্যধিক শব্দ, বুক জ্বালা, বদহজম, পায়খানা সম্পূর্ণ না হওয়া, পেটে ব্যথা হলে টয়লেটে যাওয়ার খুব তাড়া, পেটব্যথা হলে পাতলা পায়খানা হওয়া, শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন কিংবা মিলনের সময় ব্যথা। যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে, শরীরের ওজন কমে যায় এবং হঠাৎ পায়খানার ঘনত্বের পরিমাণ কমে যায়, তবে এগুলো অন্য কোনো রোগের এমনকি কোলোরেকটাল ক্যানসারের উপসর্গও নির্দেশ করে। এ অবস্থায় অতিসত্তর কোনো গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

রোগ নির্ণয়

এ রোগ সাধারণত উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়। রোগীর বয়স ও সুনির্দিষ্ট লক্ষণের ওপর নির্ভর করে এক বা একাধিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে লক্ষণের ওপর নির্ভর করে রোগ শনাক্ত করা যায়। বয়স ৪০ বছরের ওপরে হলে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আইবিএস রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক থাকবে। পরীক্ষাগুলো হল-

* রক্ত পরীক্ষা * মল পরীক্ষা * পেটের এক্স-রে

* বেরিয়াম এনেমা * প্রক্টোসিগময়ডোস্কপি/ কোলোনোস্কপি

আইবিএস ঝুঁকিপূর্ণ রোগ নয়, সংক্রামক রোগও নয়, এমনকি বংশগত রোগও নয়। এ রোগ অন্ত্রের ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো ক্যানসারের কারণ নয়, এ কথাগুলো রোগীর চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীকে ভালো করে বুঝতে হবে। প্রথমেই রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে নিতে হবে। তাহলেই এ রোগের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। রোগীর উপসর্গ কমে না বলে রোগী ঘন ঘন চিকিৎসক পরিবর্তন করেন। ঘন ঘন চিকিৎসক পরিবর্তন করলেই ভালো ফল লাভ করা যাবে না, এ কথা রোগীকে বুঝতে হবে। বিদেশী সমীক্ষায় দেখা গেছে, আইবিএস রোগীদের মধ্যে ১০ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে যান। অধিকাংশ রোগী সামান্য ব্যবস্থায়ই উপশম লাভ করেন। তাদের ২৫ শতাংশ রোগীর উপসর্গের কোনো পরিবর্তন হয় না। এমনকি তাদের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ হতে পারে। বর্তমানে আইবিএসের চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। ডায়রিয়াপ্রবণ আইবিএস (IBS-D), কোষ্ঠকাঠিন্যপ্রবণ আইবিএস (IBS-C) ও উভয় লক্ষণ থাকলে (IBS-M) সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। আইবিএস চিকিৎসায় কোনো একক ওষুধ সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী নয়।

প্রথমত, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। দুধ ও দুধজাতীয় খাবার রোগীর উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো পরিহার করতে হবে। খাবার খাওয়ার সময় লক্ষ্য করুন কোন খাবারগুলো আপনার উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়, সেগুলো পরিহার করুন।

মানসিক চাপ কমাতে হবে। এমনকি মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ব্যায়াম করতে পারেন অথবা মনকে আনন্দ আর প্রশান্তি দিতে পারে এমন কিছু করতে পারেন। মানসিক চাপ কমানোর দিকে খেয়াল করা যেতে পারে। আইবিএসসির ক্ষেত্রে ইসবগুলের ভুসি ও অন্য আঁশ এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

আইবিএস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যথিতে রোগের কারণ অনুসন্ধান করে আইবিএস এর লক্ষনভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করলে অধিকাংশ রোগীকেই সম্পুর্নরূপে আরোগ্য করা সম্ভব৷ এক্ষেত্রে অনেক ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে যার মধ্যে Sulphur, Nat Sulph, Merc Sol, Podophylum, China, Nux, Lycopodium, Arg nit ও Pulsatilla অন্যতম৷ এসব ঔষধ প্রয়োগে রোগীকে আরোগ্য ৷ তবে ঔষধের মাত্রা নির্নয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত৷
মনেন রাখতে হবে আইবিএস ঝুঁকিপূর্ণ, সংক্রামক বা বংশগত রোগ নয় ৷ চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীকে তা ভালো করে বুঝাতে হবে। প্রথমেই রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে নিতে হবে। তাহলেই এ রোগের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাবে।
রোগীদের যা মানতে হবে
* রোগীর উপসর্গ কমে না বলে রোগীরা ঘন ঘন চিকিৎসক পরিবর্তন করেন যা মোটেই ঠিক নয় এটি করলেই ভালো ফল লাভ করা যাবে না, এ কথাটি রোগীকেও বুঝতে হবে।
* খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।
* দুধ ও দুধজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
* লক্ষ করুন কোন খাবারগুলো আপনার উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়, সেগুলো পরিহার করুন৷
* মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
* ব্যায়াম করতে পারেন৷
ইসবগুলের ভুসি ও অন্যান্য আঁশ চাতীয় খাবার কার্যকরী ভূমিকা রাখে৷

আমার ফ্রী মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন এবং আমার সকর লেখা আপডেট নিন নিয়মিত।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডা. ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
গঃ রেজি নং ২৩৮৭৬।

 

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

একশিরা বা হাইড্রোসিলের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


পুরুষের হাইড্রোসিল বা একশিরা  কি ?
হাইড্রোসিলকে আবার একশিরাও বলা হয়ে থাকে। এটি হলো পুরুষের অণ্ডকোষের চারপাশে ঘিরে থাকা একটি পানিপূর্ণ থলি, যার কারণে অণ্ডথলি ফুলে যায়। এই পানিটা প্রকৃতপক্ষে জমে থাকে অণ্ডকোষের দুই আবরণের মাঝখানে। জন্মের সময় প্রতি ১০জন পুরুষশিশুর মধ্যে প্রায় একজনের হাইড্রোসিল থাকে, তবে বেশির ভাগ হাইড্রোসিল চিকিৎসা ছাড়াই প্রথম বছরের মধ্যে মিলিয়ে যায়। আর পুরুষদের সাধারণত ৪০ বছরের ওপরে অণ্ডথলিতে প্রদাহ বা আঘাতের কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে। হাইড্রোসিলে সাধারণত ব্যথা হয় না। সাধারণত হাইড্রোসিল ক্ষতিকর নয়। অনেক সময় চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে আপনার যদি অণ্ডকোষ ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। দেখতে হবে অন্য কোনো কারণে যেমন অণ্ডকোষের ক্যান্সার বা অন্য রোগে অণ্ডকোষ ফুলে গেছে কি না।
উপসর্গ
হাইড্রোসিলের প্রধান উপসর্গ হলো ব্যথাবিহীন ফোলা অণ্ডকোষ। পানিভর্তি বেলুনের মতো অনুভূত হয়। হাইড্রোসিল একটি বা দুটি অণ্ডকোষেই হতে পারে।
কারণ
ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভে থাকা অবস্থায় হাইড্রোসিল হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রায় ২৮ সপ্তাহে স্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শিশুর অণ্ডকোষ উদর গহ্বরে থেকে অণ্ডথলিতে নেমে আসে। প্রতিটি অণ্ডকোষের সাথে একটি স্যাক বা থলি (প্রোসেসাস ভ্যাজাইনালিস) থাকে। এর মধ্যে পানি জমে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই স্যাক বা থলি বন্ধ হয়ে যায় এবং পানি শোষিত হয়। তবে থলিবন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও যদি পানি থেকে যায় তাহলে সেই অবস্থাকে বলে ননকমিউনিকেটিং বা সংযোগবিহীন হাইড্রোসিল। কারণ এ ক্ষেত্রে থলি বন্ধ হয় কিন্তু পানি পেটেফিরে যেতে পারে না। সাধারণত এক বছরের মধ্যে পানি শোষিত হয়ে মিলিয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে থলি খোলা থাকে। এ অবস্থাকে বলে কমিউনিকেটিং বা সংযোগকারী হাইড্রোসিল। থলির আকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা অণ্ডথলিতে চাপ দিলে পেটে ফিরে যতে পারে। বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডথলির মধ্যে প্রদাহ বা আঘাতের ফলে হাইড্রোসিল হতে পারে। অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমিসে সংক্রমণ ঘটলে হাইড্রোসিল হতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো
বেশির ভাগ হাইড্রোসিল জন্মের সময় থাকে। একে বলে জন্মগত হাইড্রোসিল। অন্য অবস্থাগুলো সাধারণত ৪০ বছর বয়সে বা তার বেশি বয়সে আক্রমণ করে। হাইড্রোসিলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যথা অণ্ডথলিতে আঘাত, ইনফেকশন বা সংক্রমণ, রেডিয়েশন থেরাপি বা রশ্মির সাহায্যে চিকিৎসা।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
যদি আপনার অণ্ডথলি ফোলা দেখতে পান তা হলে অতি সত্বর চিকিৎসকের কাছে যান। অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার কারণ নির্ণয় করা খুবই জরুরি, বিশেষ করে এটা টিউমার কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। কখনো কখনো হাইড্রোসিলের সাথে ইনগুইনাল হার্নিয়া থাকে। এ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে হাইড্রোসিল সাধারণত নিজে নিজেই মিলিয়ে যায়। তবে যদি আপনার শিশুর হাইড্রোসিল এক বছরের পর মিলিয়ে না যায় কিংবা ওটা আরো বড় হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
রোগ নির্ণয়
সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা করে হাইড্রোসিল নির্ণয় করা হয়। অণ্ডথলি ফুলে গিয়ে বড় হয় এবং চাপ দিলে ব্যাথা লাগে না। সাধারণত চারপাশের পানির কারণে অণ্ডকোষে হাত দিয়ে অনুভব করা যায় না। পেটে কিংবা অণ্ডথলিতে চাপ দিলে কখনো পানিপূর্ণ থলি বড় বা ছোট হতে পারে, এ রকম হলে বুঝতে হবে ইনগুইনাল হার্নিয়া রয়েছে। যেহেতু হাইড্রোসিলের পানি সাধারণত স্বচ্ছ হয়, তাই আপনার চিকিৎসক অণ্ডথলিতে টর্চের আলো ফেলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। হাইড্রোসিলের ক্ষেত্রে আলোতে অণ্ডকোষের বাইরের রেখা দেখা যাবে, এতে বোঝা যাবে ওটার চার পাশে স্বচ্ছ পানি রয়েছে। যদি আপনার চিকিৎসক সন্দেহ করেন আপনার হাইড্রোসিলপ্রদাহের কারণে হয়েছে, তাহলে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। অণ্ডকোষের চারপাশে পানি থাকে বলে অণ্ডকোষ হাত দিয়ে অনুভব করা না-ও যেতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

সম্ভাব্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে
·       আলট্রাসাউন্ড ইমেজিং
·       পেটের এক্স-রে

জটিলতা
হাইড্রোসিল সাধারণত বিপজ্জনক নয় এবং সাধারণত এটা প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তবে নিচের অবস্থাগুলোর সাথে এটা সম্পৃক্ত থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে
ইনফেকশন অথবা টিউমার
 
এগুলো শুক্রাণু উৎপাদনে বা শুক্রাণুর কাজে বাধা দিতে পারে।

ইনগুইনাল হার্নিয়া হার্নিয়া আটকে গেলে জীবন-মরণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া সচরাচর যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো চলাফেরায় অসুবিধা যৌন মিলনে সমস্যা হাইড্রোসিল বেশি বড় হলে অণ্ডকোষের রক্ত সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা।

একশিরার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের বিশিষ্ট লক্ষন ভিত্তিক আলোচনা
*    নাক্স ভম
বাম অন্তকোষ, কোষ্ঠবদ্ধতা, খিটখিটে স্বভাব, অত্যন্ত রাগী, ঝগড়াটে ও হিংসুক প্রকৃতির পুরূষের জন্য উপযোগী।
*    ব্রোমিয়াম
উভয় অন্ডকোষ আক্রান্ত ও বেদনাযুক্ত, নড়াচড়ায় বেদনা বাড়ে এই প্রকৃতির একশিড়ায় উপযোগী।
*    কোনিয়াম
আঘাত জনিত কারনে আক্রান্ত পুরূষের জন্য উপযোগী।
*    অরাম মেট
হতাশা গ্রস্হ, আত্মহত্যার ইচ্ছা, মেজাজ খিটখিটে স্বভাবের রোগীর। ডান অন্ডকোষ বেদনাহীন হলে খুবই কার্যকরী ঔষধ।

হাইড্রোসিলের জন্য নিম্ন লিখিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজন
এলিয়ামসেপা, এলোমিনা, এপিসমেল, অ্যাসারাম, অরাম, ক্যাল্কেরিয়াকার্ব, ক্যার্বোএনি, কার্বোভেজ, ককোলাস, কফিয়া, ডিজিটালিস, ম্যাগকার্ব, নাইট্রিকএসিড, অপিয়াম, রাসটক্স, সাইলিসিয়া, স্পাইজেলিয়া, এসিডসালফ, সালফার, ভেরেট্রাম, জিঙ্ক, ইস্কিউলাসহিপ, এমোনকার্ব, বার্বারিস, ক্যাল্কেরিয়াআর্স, ক্যাপসিকাম, ক্যামোমিলা, কলোসিন্থ, ল্যাকেসিস, ম্যাগমিউর, মিলিফোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম, ফসফরাস, সোরিনাম, সারসাপেরিলা, স্ট্যাফিস্যাগ্রিয়া, টেলুরিয়াম, থুজা।

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে একশিরার সদৃশ ঔষধ নির্বাচন

++ HYDROCELE : Abrot., Apis., arn., ars-i., ars., aur., calc-p., calc., carb-s., clem., con., dig., fl-ac., Graph., hell., hep., Iod., lyss., merl., nat-m., nux-v.,phos., psor., Puls., Rhod., sel., Sil., spong., sul-ac., sulph.
++ left side : Dig., Rhod.
++ boys, of : Abrot., ars., aur., calc-s., calc., graph., kali-chl., Puls., Rhod., Sil., sulph.
++ congenital : Rhod.
++ bruise, caused by a : Arn.
++ gonorrhœal orchitis, after : Phos.
++ herpetic eruptions, with : Graph.
++ suppressed eruption, after : Abrot., calc., hell.

বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে হাইড্রোসিলের সদৃশ ঔষধ নির্বাচন
Hypertrophy (See Inflammatory.) -- Bar. c., Berb. v., Cinnab., Con., Ham., Iod., Merc. i. r., Merc., Puls., Stigm.
Induration, hard (See Inflammation.) -- Acon., Agn., Arg. n., Arn., Aur., Bar. c., Bell., Brom., Calc. fl., Carbo v., Clem., Con., Cop., Iod., Kali c., Merc., Ox. ac., Phyt., Plumb., Rhod., Sil., Spong., Sul.
Inflammation
Epididymis (epididymitis) -- Acon., Apis, Arg. n., Bell., Can. s., Cinch., Clem., Gels., Ham., Merc., Phyt., Puls., Rhod., Sabal., Spong., Sul., Teucr. scor., Thuya.
Testes (orchitis)
Acute -- Acon., Ant. t., Arg. m., Arg. n., Bell., Brom., Cham., Chin. s., Cinch., Clem., Cub., Gels., Ham., Kali s., Merc., Nit. ac., Nux v., Phyt., Polyg., Puls., Rhod., Spong., Teucr. scor., Ver. v.
Chronic -- Agn., Aur., Bar. c., Calc. iod., Cinch., Clem., Con., Gels., Hep., Hyper., Iod., Kali iod., Lyc., Merc., Nit. ac., Phyt., Puls., Rhod., Rhus t., Spong., Sul
Metastatic -- Puls., Staph.
Syphilitic -- Aur., Kali iod., Merc. i. r.
PAINS -- Acon., Agn., Apis, Arg. m., Arg. n., Aur., Bell., Berb. v., Brom., Cahinca, Can. s., Caps., Cereus bon., Cham., Clem., Con., Eriod., Gins., Ham., Hydr., Ign., Iod., Kali c., Lycop., Lyc., Merc. i. r., Merc., Nit. ac., Nux v., Ox. ac., Oxytr., Papaya, Phos. ac., Picr. ac., Puls., Rhod., Salix n., Sep., Spong., Staph., Sul., Thuya.
Aching, dragging, relaxed -- Apis, Aur., Can. s., Clem., Con., Iod., Nit. ac., Nux v., Phos. ac., Puls., Spong., Staph., Sul., Thuya.Bruised, crushed, squeezed, contractive pain -- Acon., Arg. m., Arg. n., Aur., Cham., Carbo v.,Clem., Con., Gins., Ham., Kali c., Nit. ac., Ol. an., Ox. ac., Puls., Rhod., Sep., Spong., Staph.
Neuralgic (testalgia) -- Arg. n., Aur., Bell., Berb. v., Clem., Col., Con., Euphras., Ham., Ign., Mag. p., Merc., Nux v., Ol. an., Ox. ac., Oxytr., Puls., Spong., Ver. v., Zinc. m.
Sensitive, sore, tender -- Acon., Apis, Bell., Berb. v., Brom., Clem., Con., Cop., Ham., Indium, Merc. i. r., Phos. ac., Puls., Rhod., Sep., Spong., Staph.

একশিরার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমুহের পার্থক্য বিচার।
v  গনোরিয়া চাপা দেয়ারন ফলে একশিরা -এগনাস, কোনিয়াম, হ্যামামেলিস, কেলিসাল্ফ, মেডোরিনাম, মার্কসল, মেজেরিয়াম, এসিডনাই, পালসেটিলা, রডোডেন্ড্রন, স্পনজিয়া, ক্রিমেটিস, থুজা ইত্যাদি।
v  ডানপাশের অন্ডকোষ আক্রান্ত একশিরায় সদৃশ ঔষধ-আর্জেন্ট-নাই, পালসেটিলা, রডোডেন্ড্রন, ক্লিমেটিস ইত্যাদি।
v  বামপাশের অন্ডকোষের একশিরায় সদৃশ ঔষধ -পালসেটিলা, থুজা, রডোডেন্ড্রন ইত্যাদি।
v  শিরা বেদনা যুক্ত হলে-বার্বারিস, পালসেটিলা, রডোডেন্ড্রন, স্পঞ্জিয়া, সিফিলিনাম ইত্যাদি।
v  কোষ বেদনাযুক্ত হলে -আর্সেনিক, রাসটক্স ইত্যাদি।
v  বীচি শক্ত হয়ে ফুলিয়া উঠিলে -আর্জেন্টমেট, অরামমেট, ব্যারাইটাকার্ব, ক্যালকেরিয়াকার্ব, কার্বোএনিমেলিস, সিনাবেরিস, কোনিয়াম, গ্রাফাইটিস, আইয়োডিয়াম, কেলিআইয়োড, মেডোরিনাম, মার্কসল, এসিডনাই, নাক্সভম, পালসেটিলা, রডোডেন্ড্রন, সাইলেসিয়া , স্পঞ্জিয়া, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফার, থুজা ইত্যাদি।


হাইড্রোসিল বড় হয়ে অস্বস্তি ঘটালে অথবা বেঢপ আকৃতির কারণেও অপারেশনের কথা বলেন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকগন। কিন্তু প্রথম দিকে হাইড্রোসিল নির্মূলে অপারেশনের চেয়েও সফল এবং কার্যকর হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। তাই অযথা অপারেশনে না গিয়ে অভিজ্ঞ একজন হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিৎসা নিন।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Homeopathic treatment for irregular menses.

অনিয়মিত মাসিক ?

 ১৪ বৎসর বয়সে বালিকাদের প্রথম ঋতুদর্শন হয়। নাতিশীতোষ্ণ দেশে ১২/১৩ বছর বয়সে এবং শীত প্রধান দেশে ১৫/১৬ বছর বয়সে ঋতু দর্শন হয়। যে সব বালিকারা অলস, বিলাসী, আমোদ প্রিয় ও কাম সম্বন্ধীয় পরিবেশে থাকে ও শহরে বসবাস করে তাদের অল্প বয়সে প্রথম ঋতু দর্শন হয়। যৌবনের প্রথম ঋতুস্রাব আরম্ভ হইয়া ৪০/৫০ বছর বয়সে ঋতু বন্ধ হয়ে যায়। আবার তার হেরফেরও হতে পারে।

সাধারণত ২৮ দিন পর পর জরায়ু থেকে নিয়মিত রক্তস্রাব হয়। জরায়ু থেকে রক্তস্রাব কালে যোনির অম্লশ্লৈষ্মিক স্রাবের সাথে মিলে গুন ও বর্ণের পরিবর্তন হয়ে যায়। ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত এই স্রাব চলতে থাকে এবং ২০০-২৫০ মিলি পর্যন্ত হতে পারে। এই নিয়মের ব্যাঘাত হলেই বুঝতে হবে যে জরায়ুতে কোন প্রকার রোগ হয়েছে। সময়ের কোন পরিবর্তন হলে তাকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বলে। ঋতু সময় মত না হলে বা বন্ধ হলে তাকে রজঃরোধ বলে।

লক্ষণ-
কারণ-
অনিয়মিত মাসিকের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ নির্বাচন গাইড
 
অনিয়মিত মাসিকের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় একক ঔষধ নির্বাচন

যে ঋতু নিয়মিত চলতে থাকে তা কিছুদিন বন্ধ থাকে আবার কিছুদিন চলতে থাকে। দীর্ঘদিন ঋতু বন্ধ থেকে হঠাৎ বেশি পরিমানে হয়, আবার কখনও কম হয়। কখনও সময়ের আগে আবার কখনও পরে হয়। এভাবে অনিয়মিত ঋতুস্রাব ব্যাথার সাথে হতে থাকে।

অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ও অসংযোমের কারণে এমনটা হয়ে থাকে আবার তা অবহেলা করলে বা চিকিৎসা না করলে রজঃরোধে পরিণত হয়।

Ø এমন কার্ব-

কাল চাপ চাপ রক্ত অত্যন্ত যন্ত্রনার সাথে নির্গত হয়। রক্তস্রাব আরম্ভ হওয়ার আগে ব্যাথা। ঋতুকালে পেট ও কোমরে ব্যাথা, রক্তের পরিমাণ কম। ঋতু ঠিক সময়ের পূর্বেই হয়ে থাকে। ঋতুর সাথে ভেদ-বমি হতে থাকলে এমন কার্ব উত্তম। ঋতুকালে শীতভাব, দাঁতে কন কনানি, পেট ব্যাথা, শরীরে মোড়ামুড়ি দেওয়ার ইচ্ছা। অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি, বিষন্নভাব, ঋতু কালে অর্শের ও শ্বেত প্রদরের বৃদ্ধি।

Ø এমন মিউর-

ঠিক সময়ের পূর্বে ঋতুস্রাব, তলপেটে কোমরেও কুচকির ধারে মচকানী ব্যাথা, টাটানি কোষ্ঠবদ্ধতা ও শ্বেতপ্রদর। রক্তস্রাব দিনে কম রাতে বৃদ্ধি।

Ø এলুমিনা-

প্রথম ঋতু দর্শনের সময় রক্ত সল্পতা ও ক্লোরোসিসে এটি ভাল কাজ করে। রক্তহীন, ফ্যাকাশে, দুর্বল, প্রচন্ড ক্লান্ত, চলতে ফিরতে শ্রান্ত বোধ, সে জন্য বসে পড়ে। অল্প পরিমানে ফ্যাকাসে রক্ত বিলম্বে নিঃসৃত হয়। দুই ঋতুর মধ্যবর্তি সময়ে রক্তস্রাব ও শ্বেতপ্রদর। খড়ি, নরম পাথর, দেওয়ালের প্লাষ্টারের গুড়া খাওয়ার ইচ্ছা ইত্যাদি লক্ষনে উপকারি।

Ø এন্টিম ক্রুড-

ঠান্ডা পানিতে স্নান করিলে ঋতু বন্ধ হইয়া যায় ও মনে হয় যেন যোনী দ্বার দিয়া নাড়ীভুড়ি বাহির হইয়া পড়িবে এবং প্রস্রাবে বেদনা। ডিম্বাকোষে স্পর্শকাতর বেদনা।

Ø একোনাইট-

মোটা স্ত্রীলোকদের মানসিক উত্তেজনা বশতঃ বা ভয় পাইয়া ঋতু বন্ধ হইলে ইহা উপকারী।

Ø এপিস মেল-

ঋতুবন্ধ হওয়ার সাথে মস্তিষ্কতে রক্ত সঞ্চয় এবং জরায়ু প্রদেশে প্রসব বেদনার মত ব্যাথা ও বেগ এবং তাতে যদি রক্তস্রাব না দেখা যায় তাহলে এটি উপকারি। বালিকাদের রজঃরোধ ও হিষ্টেরিয়া হইলে এপিস প্রয়োগ করতে হয়। ডান ডিম্বকোষে প্রদাহ,হুল ফোটানোর মত ব্যাথা থাকলে অধিকতর উপযোগী। রোগীনির পানি পিপাসা কম হলে আরো উপযোগী।

Ø আর্সেনিকাস আইয়োড-

হলদে রং, রক্ত মিশ্রিত শ্বেত প্রদর, যেখানে লাগে জ্বালা করে ও হাজিয়া যায়। মাসের মধ্যে কয়েকবার ঋতুস্রাব। বিদাহী রক্তস্রাব, জরায়ুর মুখে ক্ষত ইত্যাদি লক্ষণে উপযোগী। প্রচুর রক্তস্রাব সহ অর্শের ক্ষত থাকলে প্রয়োগ করতে হয়।

Ø ব্রাইয়োনিয়া-

ঘোর লাল রক্তস্রাব, পরিমানে অধিক, সামান্য নড়িলে চড়িলে বাড়ে, সেই সঙ্গে মাথা ব্যথা। ঋতুস্রাব হইলে ব্রাইয়োনিয়া বিশেষ উপযোগী।

Ø বেলেডোনা-

যন্ত্রনা ও উত্তেজনার সহিত গর্ভাশয়, ডিম্বাশয় ও বাহ্য জননেন্দ্রিয়ে টাটানি ও বেদনা। সামান্য নড়িলেই বেদনার অনুভূতি। ঋতুদর্শনের পরও ইউটেরাস অল্প অল্প প্রসারিত হয়। সাথে সাথে ব্যথা ও মনে হয় পেটের সব কিছু যোনিপথে বের হয়ে আসবে।

Ø ক্যালকেরিয়া ফস-

নীচের পেটে ব্যাথা, ইউট্রাসের প্রোলাপসাস বাহ্যেও প্রস্রাবের সময়ে বৃদ্ধি। সরের মত ঘন শ্বেৎপ্রদর স্রাব, যোনীতে জ্বালা, ইউট্রাসে ও মুত্র থলিতে ব্যাথা,বুকে আগুনের মত জ্বালা সহজে খসিয়া যাওয়া, সম্পূর্ণ শরীরে উত্তাপ। স্ত্রীলোক যক্ষাপ্রস্ত ও অধিক রক্তস্রাব হয়। ঋতু পরিবর্তন কালে হাত, পা ও কোমরে ব্যথা ও ইউট্রাসের ব্যাথা বৃদ্ধি পায়। এই লক্ষণে এটি উপযোগী।

Ø ক্যালকেরিয়া কার্ব-

মোটা বালিকা দেহে লাল রক্ত কণিকার অভাব ও শ্বেত কণিকার বৃদ্ধি, ঋতুর সময় পার হয়ে গেলেও ঋতুস্রাব হয় না। মাঝে মাঝে হৃদকম্প শ্বাসকৃচ্ছতা, মাথা ধরা এবং ঋতুস্রাব হলে সকল যন্ত্রনার উপশম, এইসব লক্ষণের সাথে মাথা ঘামলে, হাত ঠান্ডা হলে বিশেষ উপযোগী।

Ø ককুলাস ইন্ডিকা-

যে সকল স্ত্রীলোক দুর্বল, ঋতুস্রাব কাল রং এর, বাধকের সাথে কোমরে ব্যথা, ঋতুর পরে তড়কা। অত্যাধিক ঋতুস্রাব।সময় অতিক্রম করে অল্প অল্প ঋতুস্রাব এবং পরে বেদনা, ঘন ও ঘোলা স্রাব, ঋতু কালে কোমরে ব্যথা।

Ø কোনিয়াম-

ঋতুস্রাবের সময় অতিক্রম করে অল্প পরিমানে স্রাব হয়। স্তন শিথিল ও সঙ্কুচিত অথবা বড় বড় এবং বেদনাযুক্ত হলে কোনিয়াম উপযোগী।

Ø ক্রোকাস স্যাটাইভাস-

পেটে কোন গোলাকার বস্তু নড়াচড়া করিতেছে ঋতুকালে কাল বর্ণের চটচটে জমাট রক্তস্রাব রক্ত নির্গত হওয়ার পরে জমাট বাঁধে।

Ø সাইক্লামেন-

রোগীর ঘৃতপক্ক জিনিস সহ্য হয় না, রক্তশূন্য শরীর, ঋতুকালে অত্যন্ত বেদনা ও শীত শীত ভাব। ঠান্ডা হাওয়ায় উপসর্গে বৃদ্ধি ঘটে। পিপাসা বেশি মাঝে মাঝে জল পান করে।

Ø এরিক থাইটিস-

সঠিক সময়ের পূর্বে ও অধিক পরিমাণে ঋতুস্রাব হতে থাকলে এরিক থাইটিস উপকারী।

Ø জ্যাবোরান্ডি-

যে সব স্ত্রীলোকদের ঘাম হয় না হলেও খুব কম। চামড়া খসখসে জিহ্বা ও মুখ সব সময় শুষ্ক। ঋতুস্রাব খুব সামান্য বা একেবারে হয় না।

Ø ম্যাগ্নেশিয়া কার্ব-

যথা সময়ে ঋতু প্রকাশ না হয়ে দেরিতে হয়, সামান্য পরিমাণে। আবার তার বিপরীত অর্থাৎ অধীক এবং দ্রুত ম্যাগ্নেশীয়ার প্রধান লক্ষণ। দিনের চেয়ে রাতে স্রাব বেশি হয়। স্রাবের রক্ত গাঢ় এবং কাল। প্রতিবার স্রাবের সময় গলার ভেতর ব্যাথা হয় স্রাব আরম্ভ হলে ব্যথা বন্ধ হয়।

Ø ম্যাগ্নেশিয়া মিউর-

ঋতুকালে অত্যন্ত ব্যথা পেটে spasm এর মত হয়। হিস্টিরিয়ার মত ফিট হয়। রক্তের রং কাল, চলতে গেলে কোমরে ও বসতে গেলে উরুতে ব্যথা লাগে। পেট জোরে না টিপলে প্রস্রাব হয় না। রোগী মনে করে মাথার ভিতর ফুটন্ত পানি আছে। রোগী চোর ডাকাত সপ্নে দেখে এবং নিদ্রাভঙ্গের কারণ অনুসন্ধান না করলে সন্দেহ দুর হয় না।

Ø নাক্স ভমিকা-

বাধক বেদনা ঋতু সময়ের আগে অল্প পরিমাণে স্রাব হয়, পেটে ব্যথা রক্ত প্রদরে ঋতু যথা সময়ে হয়ে কালচে রং এর রক্ত স্রাব বেশি পরিমাণে হয়। বেশি সময় থাকে কোমরে ও পিঠে ব্যথা করে।

Ø পালসেটিলা-

ক্রন্দনশীল, ধীর, নম্র, অভিমানী সহজেই দুঃখ পায় ও মনমড়া হয়ে থাকে। না কেদে রোগের কথা বলতে পারে না। এমন রোগীর অনিয়মিত ঋতুর জন্যে উপযোগী। ঋতু দেরিতে হয় এবং পরিমাণে অনেক কম হয়। কোমরে ব্যাথা, প্রস্রাবের বেগের মত বেগ। কপালের মাঝখানে ব্যাথা করে রক্তস্রাব এবং পরিবর্তনশীল স্রাবে উপকারী। স্রাব কখনও পানির মত, কখনও লাল, কখনও কাল।

Ø সিকেলি কর-

ইউট্রাসের রক্তের রং ঘোলাটে, অনবরত স্রাব একবারও থামে না। রক্ত ঘোলাটে ও দুর্গন্ধ যুক্ত মনে হয় অঙ্গ শিথিল হইয়া গিয়াছে। রক্ত স্রাবের জন্য রোগিনী অজ্ঞান হইয়া পড়ে সর্বাঙ্গ শীথিল হইয়া যায়। হাতে পায়ে খিল ধরা এইসব লক্ষণে ইহা উপযোগী।

বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে অনিয়মিত মাসিকের একক ঔষধ নির্বাচন

AMENORRHŚA -- Acon., Alet., Alnus, Apis, Apoc., Ars., Avena, Bell., Bry., Calc. c., Can. s., Caul., Caust., Cim., Con., Cycl., Dulc., Euphras., Ferr. ars., Ferr. m., Ferr. red., Gels., Glon., Graph., Hedeoma, Helleb., Helon., Jonosia, Kali c., Kali perm., Lil. t., Mang. ac., Merc. per., Nat. m., Nux v., Op., Ova t., Parth., Phos. ac., Pinus lamb., Plat., Plumb., Polyg., Puls., Sec., Senec., Sep., Spong., Sul., Tanac., Thyr., Ustil., Xanth.

Before the proper age -- Calc. c., Calc. p., Carbo v., Cinch., Cocc., Sab., Sil., Ver. a.

Delayed, first menses -- Calc. c., Calc. p., Ferr., Graph., Kali c., Kali per., Polyg., Puls., Senec., Sep., Turnera

Delayed, tardy flow -- Acon., Alet., Caust., Cim., Con., Cupr. m., Dulc., Euphras., Ferr. cit. strych., Gels., Glon., Gossyp., Graph., Helleb., Iod., Jonosia, Kali c., Kali m., Kali p., Kali s., Lac d., Mag. c., Nat. m., Nux m., Phos., Pulex, Puls., Radium, Sabad., Senec., Sep., Sul., Thasp., Val., Vib. op., Zinc.

Intermittent -- Coccus, Ferr. m., Kreos., Lac c., Mag. s., Meli., Murex, Nux v., Phos., Puls., Sabad., Sep., Sul., Xanth.

Irregular -- Ambra, Caul., Cim., Cocc., Cycl., Graph., Iod., Jonosia, Lil. t., Nux m., Nux v., Phos., Piscidia, Puls., Radium, Sec., Senec., Sep., Sul.

Protracted -- Acon., Calc. s., Caust., Con., Crot., Cupr. m., Ferr., Graph., Iod., Kreos., Lyc., Nat. m., Nux m., Nux v., Phos., Rhus t.

Scanty flow (See Dysmenorrhśa.) -- Alet., Alum., Apis, Berb. v., Bor., Canth., Caul., Caust., Cim., Cocc., Con., Cycl., Dulc., Euphras., Ferr. cit. strych., Gels., Graph., Ign., Kali c., Kali p., Kali s., Lach., Lamina, Lil. t., Mag. c., Mang. ac., Meli., Merc. per., Nat. m., Nux v., Ol. an., Phos., Plat., Puls., Sang., Senec., Sep., Sil., Sul., Val., Vib. op., Xanth.Suppressed -- Acon., Apis, Bell., Bry., Calc. c., Ceanoth., Cham., Chionanth., Cim., Con., Croc., Cupr., Cycl., Dulc., Ferr., Gels., Glon., Graph., Helon., Ign., Kali c., Kali m., Lach., Leonorus, Nat. m., Nux m., Op., Pod., Puls., Puls. nut., Senec., Sep., Sul., Tanac., Taxus, Tub., Ver. v., Zinc.

Anemic conditions [From] -- Ars. iod., Ars., Caust., Ferr. ars., Ferr. cit. strych., Ferr. red., Graph., Kali c., Kali perm., Kali p., Mag. ac., Nat. m., Ova t., Puls., Senec.Anger with indignation -- Cham., Col., Staph.

Cold water, exposure, chilling [From] -- Acon., Ant. c., Bell., Calc. c Cham., Cim., Con., Dulc., Graph., Lac c., Lac d., Phos., Puls., Rhus t., Sul., Ver. v., Xanth.

Disappointed love [From] -- Helleb.

Fright, vexation [From] -- Act. sp., Acon., Cim., Col., Lyc., Op., Ver. a.

Transient, localized, uterine congestion, followed by Chronic anćmic state [From] -- Sabal.

Emigrants [In] -- Bry., Plat.

Asthma [With] -- Spong.

Cerebral congestion [With] -- Acon., Apis, Bell., Bry., Calc. c., Cim., Gels., Glon., Lach., Psor., Sep., Sul., Ver. v.Congestion to chest [With] -- Acon., Calc. c., Sep.

Cramps to chest [With] -- Cupr. m.

Delirium, mania [With] -- Stram.

Dropsy [With] -- Apis, Apoc., Kali c.

Fainting spells, drowsiness [With] -- Kali c., Nux m., Op.

Gastralgia or spasms [With] -- Cocc.

Jaundice [With] -- Chionanth.

Neuralgic pains about head, face [With] -- Gels.Ophthalmia [With] -- Puls.

Ovaritis [With] -- Acon., Cim.

Pelvic pressure, ovarian tenderness [With] -- Ant. c., Bell.

Pelvic tenesmus [With] -- Pod.

Rheumatic pains [With] -- Bry., Cim., Rhus t.

Vicarious bleeding [With] -- Bry., Crot., Dig., Erig., Eupion, Ferr., Ham., Ipec., Kali c., Lach., Millef., Nat. s., Phos., Puls., Sabad., Sang., Senec., Sil., Sul., Trill., Ustil.

Irregular (See Amenorrhśa.) -- Am. c., Bell., Bry., Calc. c., Caul., Cim., Cocc., Cycl., Guaiac., Inula, Mag. s., Murex., Nat. m., Nux v., Physost., Puls., Sec., Senec., Sep.

Every two weeks, or so -- Bor., Bov., Calc. c., Calc. p., Croc., Ferr. p., Helon., Ign., Mag. s., Mez., Murex, Nit. ac., Nux v., Phos. ac., Phos., Phyt., Sab., Sec., Thlaspi., Trill., Ust.

Membranous -- Ars., Bell., Bor., Brom., Bry., Calc. acet., Calc. c., Cham., Collins., Con., Cycl., Guaiac., Heliott., Lac c., Mag. p., Merc., Rhus t., Sul., Uvul., Vib. op.Nonobstructive

Ovarian irritation [From] -- Apis, Bell., Ham., Xanth.

Uterine irritation [From] -- Cham., Coff., Nit. ac., Xanth.

Premature (See Irregular.) -- Am. c., Calc. c., Caust., Cocc., Con., Cycl., Ign., Kali c., Lamina, Lil. t., Mag. p., Nat. m., Nux v., Ol. an., Phos., Sab., Sep., Sinap. n., Sil., Sul., Xanth.Rheumatic -- Caul., Caust., Cim., Cocc., Guaiac., Rham. c.

Spasmodic

Spasmodic, Neuralgic -- Acon., Agar., Bell., Caul., Cham., Cim., Coff., Collins., Gels., Glon., Gnaph., Mag. m., Mag. p., Nux v., Puls., Sab., Santon., Sec., Senec., Sep., Ver. v., Vib. op., Xanth.Spasmodic, With uterine congestion -- Acon., Bell., Cim., Collins., Gels., Puls., Sab., Sep., Ver. v.

উপদেশ

স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলা উচিত। ঋতু দোষ দুর হয় সে দিকে খেয়াল করা উচিত। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন, শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন। স্বাস্হ্যকর পরিবেশে বসবাস ও মণপ্রফুল্ল রাখা উচিত।

 

Comments System

[blogger][disqus][facebook]

Disqus Shortname

theme-daddy