জনপ্রিয় পোস্ট

রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮

ক্যানসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সফলতার কৌষল।

Successful techniques for cancer homeopathic treatment


ক্যান্সার বা কর্কটরোগ কি ও এর লক্ষণ সমুহঃ
অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।এর কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
কারণঃ ঠিক কি কারণে ক্যান্সার হয় সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।তবে সাধারণ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।সাধারণত বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে, কারণ এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এক হিসেবে দেখা যায় যত মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তাদের শতকরা ৭০ ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের ওপর।খাবার এবং জীবণ যাপনের ধারার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে গবেষকরা। যেমন,ধুমপান বা মদ্যপানের সাথে ফুসফুস মুখ ও কন্ঠনালী এবং যকৃত বা লিভারের
 ক্যান্সারের যোগাযোগ রয়েছে।তেমনই ভাবে পানসুপারি,জর্দা,মাংশ,অতিরিক্তলবন চিনি,ইত্যাদি খাবারের সাথেও ক্যান্সারের যোগসূত্র রয়েছে।যারা সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করে তাদের মধ্যেও ক্যান্সারের প্রবণতাটা বেশি।ক্যান্সারের সাথে জিনগত সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।এই কারণে পরিবারের কারো যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকে তাহলে অন্যদেরও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়। রাসায়নিক পদার্থের সাথে ক্যান্সারের অনেক বড় একটা সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, মেসোথেলিওমিয়া-তে (এক ধরনের দূর্লভ ক্যান্সার, এতে ফুসফুসের চারপাশ এবং পেটের দিকের কোষগুলো আক্রান্ত হয়) আক্রান্তদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এসবেস্টস ধাতুর সংস্পর্শে আসার কারণে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।সাধারণত জাহাজ তৈরির শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদের এই ধাতুর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে। এই কারণেই অনেক দেশে এই ধাতুর ব্যবহার নিষিদ্ধ।একইভাবে রঙের কারখানা, রাবার বা গ্যাসের কাজে যারা নিয়োজিত তারা এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে মুত্রথলিব ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে অনেক দেশে এসব রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিবেশগত কারণের অন্যতম একটা হচ্ছে সূর্য।রোদে বেশিক্ষণ থাকার কারণে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।তেজস্ক্রিয়তার কারণেও বিভিন্ন ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লক্ষণসমুহঃএকেক ক্যান্সারের জন্য একেক ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে।তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ হচ্ছে:


  1. *খুব ক্লান্ত বোধ করা।
  2. *ক্ষুধা কমে যাওয়া।
  3. *শরীরের যে কোনজায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া।
  4. *দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা।
  5. *মলত্যাগে পরিবর্তন আসা  ডাইরিয়া,কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া।
  6. *জ্বর রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া।
  7. *অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা।
  8. *অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া।
  9. *ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া।


ক্যানসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত:

অ্যান্টি-ক্যানসার ওষুধসমুহ(anti-cancerous remedies) ঃ
* ক -গ্রুপের-আর্জেন্টাম নাইট,আর্সেনিক এল্বা,আর্স আয়োড,অ্যাসাফোটিডা,অরাম মেট,অরাম মিউর নেট,বিসমাথ,ব্রোমিয়াম,ক্যাল্কেরিয়া আর্স,কার্বলিক এসিড,কার্বন সালফ,কার্ব ভেজ,কার্ব এনি,চেলিডোনিয়াম,হোয়াংনান,হাইড্রাসটিস,আয়োডিয়াম,ক্রিয়োজোট,ল্যাকেসিস,ল্যাপিস,লাইকোপোডিয়াম,ম্যাগমিউর,ফসফরাস,ফািইটোলক্কা,রেডিয়াম,স্কিরিনাম,সেম্পারভিয়াম,সিকেলি,সাইলেসিয়া,সিফিলিনাম,ট্যারেন্টুলা,থুজা,ভিস্কাম এল্বা,এক্স-রে ইত্যাদি।

*খ -গ্রুপের -অ্যাকোনাইটরেডিক্স,অ্যালুমেনা,অ্যাপিস,অ্যামব্রাগ্রেসিয়া,অ্যানথ্রাসিনাম,অ্যান্টিম ক্লোরাইড,আর্জেন্টাম মেট,অ্যাসটারিয়াস,অরাম আর্স,অরাম মিউর,ক্যাল্কেরিয়া সালফার, চায়না, সিস্টাস,ক্লেমেটিস,ক্রোটেলাস,ফুলিগোলিগ,গেলিয়াম,জেরানিয়াম,গ্রাফাইটিস,হ্যামামেলিস,ইগ্নেশিয়া,আইরিস ভার্স,কেলি আর্স,কেলি বাইক্রম,কেলি কার্ব,কেলি সাইন,কেল আয়োড,কেলি ফস,কেলি সালফ,মর্ফিয়া, মিউরেক্স,মার্ক আয়োডফ্লে,নেট্রামকার্ব,ক্রোকোডাইলনে ট্রামমিউর,প্লাম্বাম, আয়োড,সোরিনাম,রেডিয়াম, রবিনিয়া,রুটা,স্ক্রুফুলেরিয়া,সিপিয়া,স্টাফিসেগ্রিয়া,সালফার,জিঙ্কাম ইত্যাদি।
ক্যানসারজাত অসুস্হতায় সদৃশ ঔষধ নির্বাচন গাইড ঃ

*চামড়ার ক্ষত বা ঘা -অ্যামব্রাগ্রেসিয়া,অ্যানথ্রাসিনাম,আর্সেনিক এল্বা,আর্স আয়োড,আর্স সালফ ফ্লেবম,অ্যাস্টেরিয়াস,অরাম সালফ,বিউফো,ক্যাল্কেরিয়া সালফ,কার্বলিক এসিড,কার্ব এনি,কার্বোভেজ,কার্বন
সালফ,কোনিয়াম,ক্রোটন,ফেরাম,গ্রালিয়াম,গ্রাফাইটিস,হিপার,ল্যাকেসিস,লাইকোপোডিয়াম,লাইসিন,মার্কুরিয়াস,মিলিফোলিয়াম,নাইট্রিক এসিড,পেট্রোলিয়াম,ফসফরিক এসিড,ফসফরাস,ফাইটোলক্কা,রাসট্ক্স,সিপিয়া,সাইলিসিয়া,স্টাফিসেগ্রিয়া,সালফার,থুজা ইত্যাদি।

*অন্ডকোষের ক্যান্সার –আর্নিকা,কার্বো এনি,ক্লিমেটিস,ফুলিগো-লিগ্রি,ল্যাকেসিস,সাইলিসিয়া থুজা ইত্যাদি।

*অন্ডকোষের থলিতে (উপত্বকজাত)ক্যানসারঃকার্বো এনি,ফসফরিক এসিড ইত্যাদি।

*অন্ত্রে ক্যানসারঃলোবেলিয়া ইরিনাস ইত্যাদি।

*অন্ত্রের নিম্নে ক্যানসার –লাইকোপোডিয়াম,রুটা,টেরেক্সাকাম,নাইট্রিকঅ্যাসিড,ফসফরাস,
সাইলিসিয়া,সালফার থুজা ইত্যাদি।

*পুরুষাঙ্গে ক্যানসার –আর্সেনিক,বেলেডোনা,কার্বনিয়ামসালফ,ব্রোমিয়াম,ফসফরাস,সাইলেসিয়া থুজা ইত্যাদি।

*ফুসফুসে ক্যানসার –আর্সেনিক এল্বা,আর্স আয়োড,ব্রোমিয়াম,কার্বো ভেজ,ক্রোটন,কেলি আয়োড,সিকেলি,থেরিডিয়ন ইত্যাদি।

*মুখে ক্যানসার –ক্রিয়োজোট,মার্ক কর,নাইট্রিক অ্যাসিড ইত্যাদি।

*স্তনে ক্যানসার –অ্যালুমিনা,এপিস,আর্জ.নাইট,আর্নিকা,অরাম,আর্স,নেট্রামকোকোডাইল,ওলিয়াম অ্যানি,মার্কুরিয়াস,কোনিয়াম,হিপার,গ্রফাইটিস,ম্যাগফস,কেলিফস,সাইলেসিয়া,টেরেন্টুলা ইত্যাদি।

* ক্যানসারের রক্তস্রাব,ব্যাথা ও জ্বালা নিবারনে-আর্সেনিক,সিন্নামোনাস,জেরেনিয়াম,হোয়াংনান ইত্যাদি।

* আঘাতের ফলে আহত স্হানে ক্যানসার-বেলিস পে,কোনিয়াম।

* উন্মুক্ত ক্যানসার-এপিস,কার্বলিক অ্যাসিড,ইচিনেশিয়া।

* উপত্বকজাত যেকোনও অর্বুদ-আর্জেন্টাম নাইট,আর্সেনিক এল্বা,আর্স আয়োড, বেলেডোনা,বিউফো,ক্লামেটিস,কোনিয়াম,হাইড্রাসটিস,কেলিসালফ,ল্যাকেসিস,লাইকোপোডিয়াম,ফসফরাস,ফাইটোলক্কা,র‌্যানান স্যাক,সিপিয়া,সাইলেসিয়া খুজা ইত্যাদি।

*কঠিন যেকোনও অর্বুদ-(একটি আসল প্রকৃতির,শক্ত গ্রন্হিময় অর্বুদ বা ক্যানসারে পরিণত হয়)-অ্যালুমেনা,অ্যানার্কাডিয়াম,আর্জেন্টাম মেট,আর্নিকা,কার্ব এনি,কার্বভেজ, কোনিয়াম,গ্রাফাইটিস,হাইড্রসটিস,ল্যাপিস,ফসফরাস,ফাইটোলক্কা,সিপিয়া,সাইলিসিয়া,সালফার ইত্যাদি।

*কালোবর্ণের অর্বুদ-আর্জেন্টাম নাইট,কার্ডুয়াস,ল্যাকেসিস,ফসফরিক এসিড ইত্যাদি।

*কিডনিরোগে ঃ(পরোক্ষভাবে স্হানিক ধংস সৃষ্টি করে বা ধীরে ধীরে যক্ষারোগে আক্রমণ হয়ে চামরার বিনাশ সাধনকারী অবস্হা)-আর্সেনিক এল্বা,আর্স আয়োড,ব্যারাইটাকার্ব, কার্বলিক এসিড,কার্বোনিয়াম সালফ,গ্রাফাইটিস,হাইড্রাসটিস,কেলি বাইক্রম,ক্রিয়োজোট, লাইকোপোডিয়াম,নেট্রাম মিউর,রাস টক্স,সা্ইলেসিয়া থুজা ইত্যাদি।

*কিডনি গোলাকার ভাবেঃ ঃ-সিপিয়া।

*মস্তিষ্কে অর্বুদ-অ্যাসেটিক এসিড,আর্সেনিক এল্বা,আর্স আয়োড,ক্যাল্কেরিয়া কার্ব,কার্বলিক এসিড,কার্ব এনি,কস্টিকাম,কেলি আয়োড,ফসফরাস,সাইলেসিয়া,সালফার,থুজা ইত্যাদি।

*সারকামা(এক মাংসল উপবৃদ্বি বা সংযোগ কলার ক্যানসার)-আর্সেনিক এল্বা, ব্যারাইটা কার্ব,কার্ব এনি,ল্যাকেসিস,ফসফরাস,সাইলেসিয়া,থুজা ইত্যাদি।

*সারকোমা,হাড়ের ক্যানসার-ক্যালকেরিয়া ফ্লোর,হেক্লা লাভা,সিফিলিনাম ইত্যাদি।।

*নাসিকার সারকোমা ঃ আর্সেনিক এলবম,আর্স আয়োড ইত্যাদি।

*আন্ত্রিক প্রদেশে ক্যানসার ঃঅ্যাপিস,আর্সেনিক,বেলেডোনা,কার্বোভেজ, গ্রফাইটিস, হিপার,হাইড্রাসটিস,ল্যাকেসিস ইত্যাদি।

*চোখের কনীকায় ক্যানসার –হাইড্রাস্টিস,ল্যাকেসিস,ফাইটোলক্কা,থুজা ইত্যাদি।

*জরায়ু ক্যানসার-অ্যালুমিনা,অ্যানাকার্ডিয়াম,অ্যাপিস,আর্জেন্টামমেট,আর্সেনিক এল্বা,অরাম মেট,ব্রোমিয়াম,ক্যান্হারিস,ল্যাকেসিস,কেলিবাইক্রম,লাইকোপোডিয়াম,নেট্রাম মিউর, সাইলিসিয়া ইত্যাদি।

*গলায় ক্যানসার –কার্বো এনি,ল্যাকেসিস,লিডাম,ট্যারেন্টুলা ইত্যাদি।

*ঠোটে ধুমপায়ীদের ক্যানসার –কোনিয়াম ।

*ক্যানসারের যন্রনা কমাতে - অ্যাকোনাইট রেডিক্স,এসিড ফস,এপিস,আর্সেনিক এলবম,ব্রাইয়োনিয়া,সাইট্রিকএসিড,কোনিয়াম, হিপার,গ্রফাইটিস,ম্যাগফস,কেলিফস,সাইলেসিয়া,টেরেন্টুলা ইত্যাদি।

* ক্যানসারের রক্তস্রাব,ব্যাথা ও জ্বালা নিবারনে ঃআর্সেনিক, সিন্নামোনাস,জেরেনিয়াম,হোয়াংনান ইত্যাদি।

* আঘাতের ফলে আহত স্হানে ক্যানসার-বেলিস পে,কোনিয়াম।

* উন্মুক্ত ক্যানসার-এপিস,কার্বলিক অ্যাসিড,ইচিনেশিয়া।

* উপত্বকজাত যেকোনও অর্বুদঃ আর্জেন্টাম নাইট,আর্সেনিক এল্বা, আর্স আয়োড, বেলেডোনা,বিউফো,ক্লিমেটিস, কোনিয়াম,হাইড্রাসটিস, কেলিসালফ,ল্যাকেসিস,লাইকোপোডিয়াম,ফসফরাস,ফাইটোলক্কা,র‌্যানান স্যাক,সিপিয়া,সাইলেসিয়া খুজা ইত্যাদি।

*কঠিন যেকোনও অর্বুদ-(একটি আসল প্রকৃতির,শক্ত গ্রন্হিময় অর্বুদ বা ক্যানসারে পরিণত হয়)-অ্যালুমেনা,অ্যানার্কাডিয়াম,আর্জেন্টাম মেট,আর্নিকা,কার্ব এনি,কার্ব ভেজ,কোনিয়াম, গ্রাফাইটিস,হাইড্রসটিস, ল্যাপিস,ফসফরাস,ফাইটোলক্কা,সিপিয়া,সাইলিসিয়া,সালফার ইত্যাদি।

*কালোবর্ণের অর্বুদ-আর্জেন্টাম নাইট,কার্ডুয়াস,ল্যাকেসিস,ফসফরিক এসিড ইত্যাদি।

বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে ক্যান্সারের একক ঔষধ নির্বাচন কৌশলঃ

CANCER -- Acet. ac., Ananth., Ant. chlor., Apis, Ars., Ars. br., Ars. iod., Aster., Aur. ars., Aur. m. n., Bapt., Bism., Brom., Calc. c., Calc. iod., Calc. ox., Calend., Carb. ac., Carbo an., Carbon s., Carcinos., Choline, Cic., Cinnam., Cistus.Condur.Con., Cupr. ac., Eosin., Euphorb., Form. ac., Formica, Fullgo, Galium ap., Guaco, Graph., Ham., Hoang n.Hydr.Iod., Kali ars., Kali cy., Kali iod., Kreos., Lach., Lapis alb., Lyc., Maland., Med., Phos., Phyt., Radium, Rumex ac., Sang., Semperv. t., Scirrhin., Sedum rep., Sep., Sil., Symphyt., Sul., Taxus, Thuya.



Antrum [of] -- Aur., Symphyt.
Bone [of] -- Aur. iod., Phos., Symphyt.
Bowel, lower [of] -- Ruta.
Breast [of] (See Female Sexual System.) -- Ars. iod., Bar. iod., Brom., Bufo, Carbo an., Carcinos., Condur., Con., Form. ac., Graph., Hydr., Phyt., Plumb. iod., Nat. cacodyl., Scirrhin.
Cæcum [of] -- Ornithog.
Glandular structures [of] -- Hoang nan.
Omentum [of] -- Lob. erin.
Stomach [of] (See Stomach.) -- Acet. ac., Ars., Bism., Cadm. s., Condur., Form. ac., Hydr., Kreos., Ornithog., Phos., Sec.
Uterus [of] (See Female Sexual System.) -- Aur. m. n., Carbo an., Carcinos., Fuligo, Hydr., Iod., Lapis alb., Nat. cacodyl., Nit. ac., Sec.
To relieve pains -- Alveloz., Apis, Anthrac., Ars., Aster., Bry., Calc. ac., Calc. c., Calc. ox., Carcinos., Ced., Cinnam., Condur., Con., Echin., Euphorb.Hydr., Mag. p., Morph., Op., Ova t., Phos. ac., Sil.

উপসংহার ঃক্যান্সারের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মানসিক চিকিৎসার ব্যাপারে জোর দেয়া প্রয়োজন।ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীরা বেশ মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যান,অনেকে মানসিক ভাবে ভেঙ্গেও পরেন।এই কারণে অনেক সময়ে তাদের অবস্থা বেশি গুরুতর না হলেও অনেকে দ্রুত মারা যান।ফলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়া চিকিৎসকের কাজ।উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন সংগঠনও আছে।এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্তদের একটি গ্রুপ গঠন করেছেন।যেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করতে পারেন।এর পাশাপাশি যোগ,মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমেও রোগীদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার শিক্ষা দেয়া হয়।এর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তির জন্য কেউ যদি ধর্মীয় বা সামাজিক কোন কাজে নিয়োজিত হতে চান সে ব্যাপারেও তাদেরকে উৎসাহ দেয়া হয়।

খাদ্য অব্যাস ঃন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টার সিঙ্গাপুর (N.C.C.S) ও Sing Health দলের সদস্য বিশেষজ্ঞরা, ক্যান্সার হবার আগে, সময়ে ও পরে কি খাবার খাওয়া উচিত তার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রয়োজনীয় খাদ্য নিম্নরূপঃশাকসবজিঃভিটামিন এবং ফাইবারের জন্য টমেটো,গাজর,ডাল, কুমড়া এবং শালগম. টমেটো,পার্সলে পাতা (প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ভালো)ব্রকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি মত ক্রুসীফেরাস সবজি উদ্ভিদ।রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে জন্য করলা,ক্যালসিয়াম ও লৌহ জন্য সবুজ শাক সবজি,ফল,ভিটামিন সি এর জন্য কমলালেবু ইত্যাদি।ভিটামিন এবং ফাইবারের জন্য-কলা, কিউই,পীচ,আম,নাশপাতি এবং স্ট্রবেরি।শক্তি বৃদ্ধির জন্য-পেয়ারা, ডুমুর,আলুবোখারা এবং কিশমিশ,প্রোটিন, চর্বিহীন মাংস,মাছ,হাঁস-মুরগি,ডিম,ডেইরিপণ্য,বাদাম,শুকনো মটরশুটি এবং ছোলা,মাছ এবং সয়া সস খাবার(প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ভালো) শর্করা রাইস, নুডলস,সমগ্র শস্য রুটি এবং পাস্তা ভুট্টা,আলু, মটরশুটি এবং দুগ্ধজাত খাবার,মধু-ব্যাকটেরিয়া বিরোধী এবং ফাংগাস বিরোধী বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ক্যান্সার রোগীর যেসব খাবার ত্যাগ করতে হবেঃ ডুবা তেলে ভাজা,গ্রীল বা ভাজা মুরগী,লবণ,মিষ্টি বা তৈলাক্ত খাবার,লাল মাংস,আচার,জ্যাম, জেলি, অ্যালকোহল,ধূমপাম,তামাকজাত দ্রব্য ইত্যাদি।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।
আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গঃ রেজি নং ২৩৮৭৬।

সোমবার, জুলাই ৩০, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি ও মাত্রা তত্ত্ব

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাত্রা ও শক্তি নির্বাচন।



মহাত্মা হ্যানিম্যান বলিয়াছেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সাফল্যের জন্য নির্ভুল ঔষধ নির্বাচনই যথেষ্ট নহে,পরন্তু কিরুপ ক্ষেত্রে কত শক্তির কি পরিমান বা মাত্রা প্রয়োগ করা উচিত সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা উচিত।
 আমরা সকোলেই জানি হোমিওপ্যাথিতে রোগ বলিতে কোন স্হুল বস্তু বুঝায় না এবং তাহা আমাদের  সুস্হ্য দেহকেও আক্রমণ করে না।সোরা যাহাকে আমি যৌন চেতনার বিকৃত পরিণতি বলিয়া মনে করি,তাহারই অধিকারে আমাদের জৈব প্রকৃতির স্বাভাবিক গতি বা রীতিনীতি বিশৃঙ্খলা হইয়া পড়িলে দেহ ও মনে যে অস্বাভাবিক অনুভুতি ও অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়,ব্যাধি তাহার নামান্তর মাএ।ইহা কোন স্হূল ব্যাপারে নহে,কাজেই প্রতিকার কল্পে আমরা যে উপায় অবলম্বন করিব তাহা স্হূল হইলে চলিবে না।এইজন্য রোগশক্তির সমকক্ষ করিয়া তুলিবার জন্য ঔষধকেও সুক্ষ্ম অথচ শক্তিশালী অবস্হায় লইয়া যাওয়া উচিত।
উহাকে dynamization বা তীক্ষ্ণ করা বুঝায়।
dilution ভুল এইজন্য যে তাহার অর্থ তরল করা।
 অনেকের ধারণা এই যে,ঔষধ সুনির্বাচিত হইলে শক্তি নির্ণয়ের জন্য মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন নাই,যে কোন শক্তিতেই তাহা কাজ করিবে।এ ধারণা যথার্থ নয়।কারণ,ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায়,মানসিক পীড়াপ্রধান রোগীকে
 কোন সুনির্বাচিত ঔষধের নিম্ন শক্তি দিয়ে কোন ফল পাওয়া যায় নাই।সেখানে হয়তো সেই ঔষধের উচ্চতর শক্তি প্রয়োগ করিয়াই বিশেষ ফল পাওয়া গিয়াছে।তা ছাড়া রাসায়নিক ও খনিজ পদার্থ হইতে প্রস্তুত অনেক ঔষধ যেমন-- সালফার,ক্যালকেরিয়া কার্ব্ব, নেট্রাম-মি, সাইলিসিয়া,ফেরাম, জিংঙ্কাম প্রভৃতি খুব নিম্ন শক্তিতে বিশেষ কার্যকরী হয় না।উচ্চ শক্তিতে তাহাদের কার্যকারীতাই অধিকতর পরিস্ফুট। আবার আরেক দিকে এমন কতকগুলি অবস্হা আছে যেখানে উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ,ছুঁরিকা বিদ্ধ করিয়া হত্যা করিবার নামান্তর বলে বর্ণিত হইয়াছে।
যেমন-- যক্ষ্ণা রোগে উচ্চশক্তির সালফার,সাইলেসিয়া প্রভৃতি।সেখানে এই সকল ঔষধ উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করিলে রোগীকে মৃত্যুর পথে আরও অগ্রসর করিয়া দেওয়া হয় মাএ। তাহা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও শক্তির তারতম্য যে রোগের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এ বিষয়ে প্রত্যেক চিকিৎসক মাত্রই প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতা আছে।যেমন-- সালফার,ক্যালকেরিয়া কার্ব্ব, নেট্রাম-মি, সাইলিসিয়া, ফেরাম, জিঙ্কাম প্রভৃতি খুব নিম্ন শক্তিতেবিশেষ কার্যকরী হয় না।উচ্চ শক্তিতে তাহাদের কার্যকারীতাই অধিকতর পরিস্ফুট। আবার আরেক দিকে এমন কতকগুলি অবস্হা আছে যেখানে উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ ছুঁরিকা বিদ্ধ করিয়া হত্যা করিবার নামান্তর বলে বর্ণিত হইয়াছে।যেমন-- যক্ষ্ণা রোগে উচ্চশক্তির সালফার,সাইলেসিয়া প্রভৃতি।সেখানে এই সকলঔষধ উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করিলে রোগীকে মৃত্যুর পথে আরও অগ্রসর করিয়া দেওয়া হয় মাএ। তাহা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও শক্তির তারতম্য যে রোগের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এ বিষয়ে প্রত্যেক চিকিৎসক মাত্রই প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতা আছে।শক্তির ঔষধের উপর তেমন নির্ভরতা দেখা যায় না।আবার যাঁহারা উচ্চ শক্তিতে আহরণ করিয়া আছেন, তাঁহারা উহার কার্য্যকারিতায় এরুপ আকৃষ্ট যে,নিম্ন শক্তিতে নামিতেই চান না।এই উভয় তন্ত্রের চিকিৎসক তাঁহাদের গোঁড়ামি পরিত্যাগ করিয়া বৈজ্ঞানিক মন লইয়া ঔষধের শক্তি সন্মন্ধে যদি গবেষণা করেন তাহা হইলে তাঁহাদের পুর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার ফল সকল হোমিওপাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীগণের সহায়ক হইতে।তদপেক্ষা কম মাএায় মুখ হইতে লালা স্রাব, ঘর্ম্ম,বৃক্কের (Kidney) প্রদাহ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকটিত করে,আবার তদপেক্ষা আরও স্বল্প মাএায় ( অর্থাৎ হোমিওপাথিক উচ্চতর শক্তিতে) সুক্ষ্ম লক্ষণ সমুহ ( মানসিক লক্ষণ)প্রকাশ করায়।
( ক) লক্ষণ সমুহ মুখ্যতঃ স্হুুল দেহেই নিবন্ধ থাকিলে( Gross pathological states)( নিম্ন শক্তি ৩x হতে ৩০ শক্তি।)
( খ) যান্ত্রিক ক্রিয়ার গোলযোগ মুখ্য হইলে (Functional disorders) মধ্যম শক্তি (৩০ হইতে ২০০) এবং
(গ) সূক্ষ্ম মানসিক লক্ষণের প্রাধান্যে উচ্চতর শক্তি(২০০ হইতে উর্দ্ধ) প্রযোগ করা যাইতে পারে।
(ঘ) ব্যবহারিক ক্ষেএে আরও একটি নিয়ম প্রণিধান যোগ্য যথা-- প্রাণ সংরক্ষণে " যে যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা যত কম ( Less vital) ঔষধের শক্তি তাহাতে তত উচ্চ প্রয়োগ করা যাইতে পারে।অপর পক্ষে যে শারীর যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা যত বেশী তাহার জন্য তত নিম্ন শক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হয়।দৃষ্টান্ত স্বরুপ বলা যাইতে পারে যে, -- কোনো রোগীর বৃক্ক যন্ত্রের গুরুতর পীড়ার লক্ষণ প্রকাশ পাইলে সেখানে নিম্ন শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করাই সমীচিন। সেই রুপ কোন যক্ষ্ণা রোগীর ফুসফুস ভীষণ ভাবে আক্রান্ত হইলে সেখানেও উচ্চ শক্তি ব্যবহার করা বিধি সঙ্গত নহে।হৃদরোগ সন্মন্ধেও মনে হয় এ কথা খাটে ।এ সন্মন্ধে ডাঃ কেন্ট বিশেষ ভাবে সতর্ক করিয়া গিয়াছেন।অপর পক্ষে, চর্ম্ম রোগে উচ্চতর শক্তির ঔষধ দিতে কোন বাধা নাই,বরং সুচিন্তিত ও বিচারসহ বলিয়াই মনে হয়।তিনি বলেন,-- কোনও রোগীর পীড়া- প্রবণতার ক্রম বা পরিমান ( Degree of susceptibility) ব্যক্ত হয় তাহার লক্ষণ সমষ্টির ভিতর দিয়া।রোগের লক্ষণ সমষ্টি প্রকাশ পায় যত বেশী,নির্বাচিত ঔষধের সহিত তাহার সাদৃশ্যও মিলে তত বেশী।আবার ঔষধের সহিত লক্ষণ সমষ্টির সাদৃশ্য যত বেশী অনুভুত হয়, সেই ঔষধ যে তত বেশী গভীর প্রতিক্রিয়া আনয়ন করিতে সমর্থ হইবে তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।সেই জন্য লক্ষণ সমষ্টির ব্যঞ্জনা যত অধিক স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ পাইবে সুনির্বাচিত ঔষধের তত অল্প পরিমান ( অর্থাৎ উচ্চ শক্তি) ব্যবহার করাই সঙ্গত। অবশ্য গুরুতর যান্ত্রিক পীড়ায় যেখানে রোগীর জীবনী শক্তি অতি ক্ষীণ এবং ঔষধের প্রতিক্রিয়া সহ্য করিতে অসমর্থ সেখানে এ নিয়ম খাটে না -- এই স্হলে ঔষধের নিম্ন শক্তি ব্যবহার করাই নিরাপদ ।
মুতরাং ঔষধ সুনির্বাচিত হওয়া সত্বেও তাহার শক্তি নির্বাচন যে রোগ উপসমের পক্ষে একটি অপরিহার্য্ বিষয় তাহা স্বীকার করিতেই হইবে।সাধারনতঃ যাঁহারা নিম্ন শক্তির ঔষধই বেশী ব্যবহার করেন তাঁহাদের উচ্চ ও নিম্ন শক্তির স্ব স্ব ক্ষেএ আছে।সেই ক্ষেত্রে একটি বিশিষ্ট শক্তিই অন্যটি অপেক্ষা সমধিক উপযোগী।কোন বিশেষ ক্ষেত্রে কোন শক্তি প্রয়োগ করা বিধেয়,সে সন্মন্ধে ধরাবাঁধা একটা নিয়ম বাঁধিয়া দেওয়া চলে না।একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপরই তাহা প্রধানতঃ নির্ভর করে।
সুস্থ দেহে ঔষধের প্রুভিং বা পরীক্ষা নিরীক্ষার দ্বারা হোমিওপাথিক ঔষধের লক্ষণ -সমষ্টি নির্ণীত হয়।ঔষধের লক্ষণ সমষ্টির সহিত শক্তি নির্বাচন সন্মন্ধেও একটা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া য়ায়।
ডাঃ মহাত্মা হ্যানিম্যানের ষষ্ঠ সংস্করণ অনুযায়ী পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধ সেবন রোগীর আদর্শ আরোগ্যের চাবিকাঠি। দ্রুত ও বিনা কষ্টে আরোগ্য লাভের জন্য পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধ নির্বাচন জরুরি।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ডি এইচ এম এস ঢাকা
এম এস এস রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
ইভা হোমিও হল
গঃরেজি নং ২৩৮৭৬

মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১২, ২০১৮

কার্বাঙ্কলের(Carbuncle) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

Homeopathic medicine for carbuncle

কার্বাঙ্কল বা বিষ ফোড়া কি ?
তীব্র বেদনাসহ ফোলা বা ত্বকে একাধিক ফোঁড়া,যাহা সাধারণত স্টাফালোকোক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত একটি সাংঘাতিক ধরনের ফোড়া।ফোড়ার অনেকগুলি ছোট ছোট মুখ থাকে।কার্বাঙ্কলে পুজ জন্মিবার পূর্বে অত্যন্ত বেদনা ও জ্বালা থাকে।সেই জ্বালা রাতেই বেশী হয়।কার্বাঙ্কল সাধারনতঃ কোমর,ঘাড়ে,পিঠে ও কনুইতে বেশী দেখা দেয়।কার্বাঙ্কলে পুজ না হইলে বিপদের আশঙ্কা বেশি।বৃদ্ধ মানুষের ও ডায়াবেটিস রোগী কার্বাঙ্কল মারাত্মক হয়।
এনথ্র্যাসিনাম(Anthracinum)কার্বাঙ্কল অর্থাৎ বিষ ফোড়ায় ছোট ছোট ছিদ্র হইতে রস ঝরে।ভয়ানক স্পর্শ কাতরতা বেদনা ও জ্বালা।সেই বেদনা ও জ্বালায় রোগী ছট ফট করে।জ্বালা যন্ত্রণা ঠান্ডা জলে উপশম।আক্রান্ত স্হান স্পন্জের মত ছোট ছোট ছিদ্রপুর্ণ; রং  কালচে তার সাথে জলের মত পাতলা পুজ বা রস নির্গত হয়,পূজে ভয়ানক দুর্গন্ধ, স্পর্শকাতর বেদনা,জ্বর থাকে।
আর্সেনিক এলবাম(Arsenic album)রোগী অত্যন্ত অবসাদ, অর্ন্তদাহ, অস্হিরতা,মৃত্যৃ ভয়,পুনঃ পুনঃ অল্প পরিমাণে জল পান করে।কার্বাঙ্কলের জ্বালা যন্ত্রণা ঠান্ডায় বৃদ্ধি।রাত ১২টা থেকে ২টায় বৃদ্ধি।উত্তাপে উপশম হলে উপযোগী।
কার্বভেজ(Carbo veg)দুষ্ট ব্রন,কালো রংয়ের ক্ষত হইতে দুর্গন্ধ পুজ বা রস ঝরে।অত্যন্ত জ্বালা,সেই জ্বালা যন্ত্রণা রাতে বৃদ্ধি,ঠান্ডায় উপশম,রোগী নিয়মিত পাখার বাতাস চায়।ইহাই কার্বোভেজের প্রধান পরিচয়।
ল্যাকেসিস(Lachesis) কার্বাঙ্কলের স্হানটি বেগুনী রংয়ের,তাহাতে সহজে পুজ হতে চায় না যদিও অল্প হয় তাহা রক্ত যুক্ত।অত্যন্ত জ্বালা,সে জ্বালা যন্ত্রণা নিদ্রার উপক্রম কিংবা নিদ্রা ভঙ্গ হইলেই বৃদ্ধি পায়।
নাইট্রিক এসিড(Nitric Acid)রোগীর তিব্র বেদনা,বেদনার সাথে রাত্রিতে প্রচুর ঘর্ম, ও  বেদনায় বৃদ্ধি  পেয়ে থাকে।কার্বাঙ্কলের বেদনা রাত্রিতে বৃদ্ধিসহ ক্ষতের প্রকৃতি এসিড নাইট্রিকের নির্বাচন লক্ষণের সাথে সদৃশ হলে উপযোগী।
মাইরিস্টিকা(Myristica)
মাইরিস্টিকা কার্বাঙ্কালের অপারেশনের কাজ করে।রোগের প্রথম অবস্হায ঘনঘন কয়েকমাত্রা প্রয়োগেই বেদনা উপশম হয়।পুজ থাকলে ফেটে যায় আর পুজ না থাকলে সমূলেই আরোগ্য হয়।
পাইরোজিনাম(Pyrogenium) কার্বাঙ্কলে যখন সেপটিক আকার ধারন করে তখন পাইরোজিনাম শ্রেষ্ঠ ঔষধ।রোগী সেপটিক জ্বর,বমি ডাইরিয়াসহ অত্যন্ত বেদনা জ্বালা ও হিংস্রতা প্রকাশ পায়।প্রচন্ড মাথা বেদনার সাথে রোগীর শরীরে বিষক্রিয়ায় ছটফট করিতে থাকলে উপযোগী।
রাসটক্স(Rhus Tox)কার্বাঙ্কলের প্রথম অবস্হায় যখন চারপাশে তিব্র বেদনাও চুলকানি, মুখমন্ডল ফ্যাকাশে,বেদনায় অস্হিরতা,ছটফটানি দেখা দেয়,এর রং কালচে ও লালচে ভাব থাকে বেদনা নড়াচড়ায় আরাম পায় তখন রাসটক্স প্রয়োজন হয়।
সিকেরি কর(Secale cor) কার্বাঙ্কলে যখন গরম তাপ সহ্য হয় না অন্তরে জ্বালায় ছটফট করে,ভেতরে গরম দেহের বাইরে ঠান্ডা থাকে তখন সিকেলি কর উপযোগী।
সাইলেসিয়া(Silicea)কার্বঙ্কল যখন আলসারেটিভ রুপ নেয়,আস্তে আস্তে ক্ষত জটির আকার ধারন করে,ক্ষতে গরম স্যাকের অভিলাস করে।ঘাড়ে,বাহুতে কার্বঙ্কলে সাইলেসিয়ার নির্বাচক লক্ষণ নিয়ে উপস্হিত হয় তখন সাইলেসিয়া প্রয়োজন।
মার্ক আইয়োড(Merc iod)মার্ক আইওড ফোড়া এবং carbuncles inflammatory পর্যায়ে জন্য একটি চমৎকার ঔষধ; কোন পুজ হয় না যখন ব্যাথার তীব্রতা এবং ব্যথার সঙ্গে তীব্র লাল জ্বলজ্বলে রং হয়; গঠিত পুজ যখন সবুজ,পাতলা এবং পানির মত হয় তখন উপযোগী।
স্ট্যাফাইলোকক্সিনাম(Staphylococcinum)এই ঔষধটি carbuncle এবং furuncles জন্য একটি চমৎকার ঔষধ।
ট্যারেন্টুলা(Tarantula) প্রচন্ড জ্বর,আক্রান্ত স্হানের রং নীলাভ, হুল ফুটানো বেদনা, জ্বালা যন্ত্রণা,গাত্রদাহ,ছটফটানি,জল পিপাসা কার্বাঙ্কলে অনেকগুলি মুখ হইয়া তাহা হইতে রসের মত নির্গত হইতে থাকে।ভয়ানক বেদনা ও জ্বালা, কাপ দিয়ে জ্বর আসে,পরে উচ্চ রঙের মত দেখায়।পুয হইলেও অতি অর্প তৎসহ রক্ত,ক্ষতে স্পর্শকাতরতা,জ্বালা।
এব্রোমা আগষ্টাAmbra Griseaবহুমুত্র রোগীদের কার্বঙ্কলে সহজে পুজ না হইলেও অত্যন্ত বেদনা থাকিলে ইহাতে উপকার হয়।বহুমুত্র,শর্করাযুক্ত প্রস্রাব, প্রস্রাবের পরিমান খুব বেশী।মুত্র বেগ ধারণে অক্ষমতা,দুর্বলতা, মাথাঘোরা, অনিদ্রা, শীর্ণতা, কোষ্ঠবদ্ধ, বহুমুত্রজনিত ফোড়া ইত্যাদিতে ইহা ব্যবহার করিবেন।
উপরোক্ত সদৃশ ঔষধ ছাড়াও কার্বাঙ্কলের সদৃশ চিকিৎসায় বেলেডোনা (Belladonna),বিউফো রানা(Bufo)চায়না(China),কার্বলিকএসিড (Carbolic acid),হিপার সাল্ফ(Hepar Sulph),হায়োসিয়ামাস (Hyoscyamus), ক্রিয়োজোট(Kreosote),এসিড মিউর (Muriatic acid) ইত্যাদির প্রয়োজন হতে পারে।
কার্বাঙ্কলের সদৃশ ঔষধ নির্বাচন-কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যেঃ
carbuncle : Agar., ant-t., anthr.apis.arn.Ars.Bell.bufo-r.,caps., carb-an., coloc., crot-c.crot-h.echi.hep.hyos.lach.mur-ac., nit-ac., phyt.pic-ac., rhus-t.sec.Sil.sulph.tarent-c.





++ burning : Anthr.apis.ars.coloc., crot-c.crot-h., hep., Tarent-c.
++ purple, with small vesicles around : Crot-c.Lach.
++ stinging : Apis., carb-an., nit-ac.
কার্বাঙ্কলের বাইওকেমিক চিকিৎসা:-
ফেরম ফস:-আক্রান্ত স্হান লাল,চিরিক মারা,দপ দপানি ব্যথায় ইহা উপকারী।
ক্যালি মিউর:-কোষ্ঠ বদ্ধ জিহ্বায় শ্বেত বর্ণের প্রলেপযুক্ত রোগীদের পীড়ার দ্বিতীয়াবস্হায় ফেরাম ফসের সহিত পর্যায়ক্রমে সেবন করিতে
 হয়।
ম্যাগনেশিয়া ফস:-আক্রান্ত স্হানে বেদনা,গরম তাপে বা সেকে উপশম হইলে ইহা অব্যর্থ।
সাইলেসিয়া:-কার্বাঙ্কলে পুজ সঞ্চয় হইতে থাকিলে ইহা উপকারী।
উপসংহারঃ
বৃদ্ধ বয়সে  অথবা ডায়াবেটিস রোগীর কার্বাঙ্কল হলে জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া উচিত।জ্বালা যন্ত্রনা নিবারনের জন্য পুইশাকের পাতা,টমেটো,আতা গাছের পাতার প্রলেপ উপকারি।তাই বলে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে এই সকল ব্যবহার করে বসে থাকলে ভুল করবেন।কারাবঙ্কল দেখা দেয়া মাত্র একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নিবেন। সামান্য অবহেলা আপনার জন্য অনেক অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে।সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বিনা কষ্টে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন।অনেকেই ফোড়া হওয়া মাত্র এ্যালোপ্যাথিক ঔষধ খেয়ে দাবিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেণ এর দ্বারা ঔ রোগীর অপুরনিয় ক্ষতি হয়।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অস্ত্রপচার ছাড়া দ্রুত আরোগ্য লাভের একটি সহজ সরল উপায়।তাই বিষফোড়া হলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ছাড়া বিকল্প কোন চিন্তা করা ঠিক হবে না।
আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্ক ঃ
Download Our App from Play Store

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল,সাভার,ঢাকা।
গভঃ: রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মেবাইল:০১৭১৬৬৫১৪৮৮

মঙ্গলবার, জুলাই ১০, ২০১৮

মস্তিস্কের অবসাদ বা ব্রেনফ্যাগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Do you suffer from brain fag? Solution by Homeopathy.

মস্তিস্কের অবসাদ বা ব্রেণফ্যাগ কি ?
উকিল,জজ,ব্যারিস্টার,রাজনীতিবিদ ইত্যাদি বিষয়ি লোকের অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে মস্তিস্কের শুন্যতাবোধ,স্মৃতি ভ্রম ইত্যাদি স্নায়িবিক লক্ষণ সমষ্টিকে ব্রেণফ্যাগ বলে।
ব্রেইন ফাগ সিন্ড্রোম (বিএফএস)Brain fag syndrome (BFS) ১৯৬০ সালে আর এইচ প্রিন্স(RH Prince)দ্বারা প্রথম বর্ণনা করা হয়েছিল।এটি নাইজেরিয়াতে প্রথম আবিষ্কৃত হয়ে ছিল,হাইস্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অনিদ্রা সম্পর্কিত এবং মস্তিস্কের দুর্বলতা,মাথা এবং ঘাড়ের ব্যাথা,মনোযোগের অভাব এবং স্মরণ শক্তির অভাব এবং চোখের ব্যথার লক্ষণ সহ বর্ণনা করা হয়,যার কারণ মানসিক চাপ দ্বারা এই রোগ সৃষ্ট হয়।
অত্যধিক মানসিক শ্রম ও দুশ্চিন্তার কারণে মস্তিস্কের অবসাদ বা ব্রেণফ্যাগ হয়ে থাকে।অতিরিক্ত মাত্রায় সুরাপান,যৌণ অত্যাচার,কোন মর্ফিয়া জাতীয় ভেষজের অপব্যবহার ইহার উত্তেজক কারণ।
ব্রেণফ্যাগের লক্ষণসমুহঃ
ব্রেন ফ্যাগের রোগীর মানসিক অস্হিরতা,অনিদ্রা,কোন চিন্তা বা পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতার অক্ষমতা ইত্যাদি ব্রেণফ্যাগের রোগীর প্রধান লক্ষণ।
ব্রেণফ্যাগ হতে মুক্তির উপায়ঃ
বিশ্রাম,পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন,মুক্ত বাতাসে পরিমিত ব্যায়াম ও প্রচুর নিদ্রা যাপওয়া এই অবস্হায় চিকিৎসার একটি অংশ।সুনির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার দ্বারা মস্কিস্ক সবল ও সুস্হ্য হয়ে যায়।

ব্রেইন ফ্যাগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সর্বাধিক জনপ্রিয় হোলিস্টিক সিস্টেম গুলির মধ্যে একটি। হোলিস্টিক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বতন্ত্রীকরণ এবং সদৃশ উপসর্গ তত্বের উপর ভিত্তি করে।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর যন্ত্রণাদায়ক সমস্ত চিহ্ন এবং উপসর্গগুলি সরিয়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের অবস্থা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে।হোমিওপ্যাথির লক্ষ্য কেবলমাত্র মস্তিষ্কের ফ্যাগের চিকিৎসার জন্য নয় বরং এর অন্তর্নিহিত কারণ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা মোকাবেলার জন্য।যতক্ষণ থেরাপিউটিক ওষুধ নিয়ে উদ্বিগ্ন,তেমনি মস্তিষ্কের ফ্যাগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন প্রতিকার পাওয়া যায় যা অভিযোগের কারণ,সংবেদন এবং পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচন করা যেতে পারে।স্বতন্ত্র প্রতিকার নির্বাচন এবং চিকিৎসার জন্য,রোগীর একজন যোগ্যতা সম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্রেণফ্যাগের ঔষধসমুহঃ
ইথুজা,এনাকার্ডিয়াম,আর্জেন্ট নাইট্রিকাম,ক্যালকেরিয়া কার্ব, ক্যালকেরিয়া ফস,কোক্কুলাস ইন্ডিকা,জেলসিমিয়াম,কেলি ফস,নাক্স ভুমিকা,এসিড ফস,এসিড পিকরিম,সাইলেসিয়া,জিঙ্কাম,কেলি ব্রোম একোনাইট,এগারিকাস,এমন মিউর,আর্নিকা,চায়না,সিমিসিফুগা, হেলোনিয়াস,ইগ্নেসিয়া,লাইকোপোডিয়াম,নেট্রাম মিউর,ফসফরাস, সেলিনিয়াম, কোকা,সাইক্লামেন,গ্রাফাইটিস,ফাইজষ্টিগমা, প্লাম্বাম, পালসেটিলা,সিপিয়া,ষ্ট্যানাম,সালফার,জিঙ্কাম ফস,ভ্যালেরিয়ানা, প্রভৃতিসহ স্নায়বিক দুর্বলতার সদৃশ চিকিৎসার ঔষধসমুহ ব্রেণ ফ্যাগের চিকিৎসায় প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রেণফ্যাগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সদৃশ ঔষধসমুহের নির্বাচন লক্ষণঃ-
***নাক্স ভুমিকা
মস্তিষ্কের দুর্বলতার রোগীর শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, বেশি বেশি মানসিক পরিশ্রম,অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কুফল,বিলাসি জীবন যাপন এদের জন্য উপযুক্ত।স্মৃতিশক্তির অভাব,মানসিক পরিশ্রম করিলে মাথা ব্যথা,সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মাথা ঘুরিলে নাক্স ভুমিকা উপযোগী।নাক্স ভুমিকা প্রয়োগের পরে ফসফরাস ব্যবহার করতে হয়।
***হায়োসিয়মস:-
মস্তিস্ক ও স্নায়ুমন্ডলীর উপর ইহার ক্রিয়া মুখ্য এবং রক্ত সঞ্চালনকারী যন্ত্রের উপর ইহার ক্রিয়া গৌণ।কলহ প্রিয় এবং অধিক কথা 
 বলে, হিংসুক স্বভাব,রোগী সর্বদাই মনে একপ্রকার সন্দেহ-যেন কেহ বিষ প্রয়োগ করিবে,যে স্হানে থাকে মনে করে ইহা যেন তাহার গৃহ নহে, একেলা থাকিবার ভয়,বিষ খাওয়াইবার ভয়,বিক্রয়ে লোকসানের ভয়।পানাহার গ্রহন করিতে ভয়,কারণ কোনও বিষয়ের ষড়যন্ত্র হইতেছে সর্বদা এইরুপ সন্দেহ।হিংসা রাগ কিম্বা ভালবাসায় বঞ্চিত হইবার কুফলে কোনও পীড়ার উৎপত্তি,ব্যবসায়ের সম্বন্ধ লইয়া কিম্বা কোনও বিষয়ে উত্তেজিত হইয়া অনিদ্রা।নার্ভাস ব্যাক্তিগনের অনিদ্রা,সারা রাত্রি ছটফট করে,শ্বাসকষ্ট,ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ অবস্হা,হঠাৎ চমকে উঠে এই লক্ষণ বিশিষ্ট ব্রেণফ্যাগের রোগীর জন্য উপযোগী।
***এনাকার্ডিয়াম-
অতিরিক্ত অধ্যয়নজনিত স্নায়বিক-দৌর্বল;রোগী বিষাদপুর্ণ ও আত্মবিশ্বাস হীন, সহজেই রাগান্নিত হয় ও গালাগালি করে;সৃতিশক্তি হ্রাশ পায়,মস্তকে বেদনা বোধ হয়।যেন বাধিয়া রাখা হইছে অথবা কীলক প্রবিষ্ট হইয়াছে এরুপ মনেহয়।পাকাশয় সর্বদাই শুন্য মনে হয়;আহার করিবার সময় সর্বলক্ষণাধি দুর হয়,কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরে পুনরায় প্রকাশ পায়।মলভান্ডের দুর্বলবশতঃ কষ্ঠবদ্বতা,ভীতি ও সন্দেহ প্রবনতা- হাটিবার সময় মনেকরে যেনকেহ তাহাকে অনুসরন করিতেছে।
***আর্জেন্টাম নাইট্রিকামঃ
কটিবেদনা, উঠিয়া দারাইতে গেলে বৃদ্ধি,চলিয়া বেরাইলে উপশম,প্রায়ই মাথা ঘুড়ে ও চলিবার সময় দেহ টলিতে থাকে ও গৃহের নিকট দিয়া যাইবার সময় তাহার সহিত ধাক্কা লাগিবে বলিয়া ভয় করে;রোগী সর্ব কর্মেই তারাহুরা করে,অস্হির হৃৎস্পন্দন,মিষ্ট দ্রব্যে স্পৃহা,আহারের পর উচ্চ উদগার;মুক্তবায়ুর আকাঙ্খা,জরাজীর্ন আকৃতির ব্রেণফ্যাগের রোগীর জন্র উপযোগী।
***ক্যালকেরিয়া ফসঃ-
সর্বলক্ষণে ক্যালকেরিয়া কার্বের অণুরুপ।প্রাতে নিদ্রাভঙ্গ হইতে অত্যাদিক বিলম্ব হয়।কটিদেশে ভাঙ্গিয়া যাইবার ন্যায় বেদনা,আহারের পর মাথা ব্যথা,নিদ্রালুতা,অবসন্নতা এবং গলা ও বুক জলা,প্রবল হৃৎস্পন্দন।
***জেলসিমিয়ম:-
ইহা স্নায়বিক দুর্বলের মহৌষধ।অবসন্নতা ও নিদ্রালুতা - রোগি কোন বিষয়েই মনোনিবেশ করিতে পারে না,মস্তিস্কের দুর্বলতা ও শারীরিক ক্লান্তি-উত্তেজক দ্রব্য গ্রহনে সাময়িকভাবে উপশম বোধ হয়।চক্ষু পল্লব যেন টানিয়া তুলিতে পারে না;আনন্দ,দঃখ,ভয় বা কোন প্রকার মানসিক উত্তেজনা হইলেই উদড়াময় প্রকাশ পায়।
***হেলোনিয়াস:-
যে মস্তিস্কের দুর্বল রোগীর কটিদেশে অত্যদিক দুর্বলতা বোধ; অতিরিক্ত পরিশ্রম বশতঃ শারীরিক অবসন্নতা,জরায়ুর স্হানচ্যূতি,নড়াচড়া করিলে ও বিষয়ান্তরে মনোনিবেশ করিলে উপশম বোধ।
***লাইকোপোডিয়াম:-
অতিরিক্ত শ্রমজনিত এবং যকৃতের বিকার সহ যুক্ত স্নায়বিক দুর্বলতা ও ব্রেনফ্যাগের রোগীর স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়,কথা বলিবার সময় প্রায় ভুল করে।মানসিক অবসন্নতা,একাকি থাকতে চায়, কোষ্টবদ্বতা,প্রস্রাব লাল ও স্বল্প,অস্হির নিদ্রা অজির্ন ও উদরাধ্নান,বিকাল ৪ ঘটিকা হইতে রাত্রি ৮ ঘটিকা পর্যন্ত উপসর্গাদির বৃদ্ধি পায়।
***এসিড ফ:-
শোণিত বা বীর্যাদীর অত্যাদিক ক্ষয় বা দীর্গস্হায়ী দুঃখ,অতিরিক্ত মানসিক শ্রম,প্রভৃতি বশতঃ মস্তিস্কের স্নায়বিক-দুর্বল্যের বিশিষ্ট ঔষধ।মেরুদন্ড মধ্যে জ্বালা বোধ,পড়াশুনা করিতে আরাম্ব করিলেই মাথায় যন্ত্রণা উপস্হিত হয়।ইন্দ্রীয়ের শিথিলতা সহ প্রায়ই স্বপ্নদোষ সহ ও শুক্রতারল্য প্রকাশ পায়,সর্ব বিষয়েই নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতা প্রকাশ করে ও চুপচাপ থাকে-কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চায় না।
***ক্যালি-ব্রোম:-
স্নায়ু প্রধান,অস্হির ব্যক্তি-স্হির হইয়া এক দন্ডও বসিয়া থাকিতে পারে না,হাত ও হাতের আঙুল ক্রমাগত নাড়িতে থাকে, হাত দুইটি অনবরত নাড়ে।স্মরণ শক্তি হ্রাস,কোন কথা বলিতে বলিতে কি বলিতেছিল তা ভুলে যায়।বিষয় সম্পত্তি,মান মর্যাদা ব্যবসা ইত্যাদি নষ্ট হইবার কিম্বা দুঃখ নিবন্ধন অস্হিরতা ও অনিদ্রা; ভয়,রাগ অথবা অত্যাদিক আনন্দ বশতঃ এবং প্রসবকালীন,দন্তোদগমকালীন ও হুপিং-কাশি ইত্যাদিতে আক্ষেপ।অত্যান্ত অস্হিরতা,কিছুতেই একস্হানে থাকিতে পারে না।
বাতুলতা-এই পীড়ার সহিত রোগীর আদৌ নিদ্রা হয় না,স্বরে ভূত প্রেত দেখে,দাতে দাতে ঘষে,গো গো করে,মনে করে যেন তাহাকে কেহ বিষ খাওয়াইবে।মস্তিস্কের দুর্বলতা-সর্বদাই বিষন্ন ও মনমরা,স্মৃতিশক্তির লোপ অপরিমিত ইনিদ্রয় চালনা ও শুক্রক্ষয়জনিত এই পীড়া হইলে ক্যালি ব্রোম উপকারী।অতিশয় পরিশ্রম করিয়া কিম্বা নানা প্রকার বিষয়ে বহুদিন ধরিয়া ভাবনা চিন্তা করিয়া মস্তিস্কের দুর্বলতা অর্থাৎ-মাথাঘোরা, হাত-পা কাপা ইত্যাদি কেলি ব্রোম উপযোগী।
**ফসফরাস:-
ইহা মস্তিস্কের অবসাদের একটি প্রধান ঔষধ।মস্তিস্কের দুর্বলতা-বশতঃ রোগী আদৌ মস্তিস্ক চালনা করিতে পারে না,হাত,পা,চক্ষু এবং মেরুদন্ড জ্বালাবোধ করে।ঘর্ষণে ও মর্দনে উপশম বোধ,অসারে মলমুত্র ত্যাগ, আনন্দ বিষাদ প্রভূ তি উপস্হিত হইলেই প্রবল হৃৎস্পন্দন;সামান্য পরিশ্রম হইলেই কটিদেশে বেদনা হয়।আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তিত হইয়া ঝড়বৃষ্টি উপস্হিত হইলে অথবা সন্ধাকালে ও অন্ধকার মধ্যে রোগী উদ্বিগ্ন ও আশাঙ্কাযুক্ত হয় ও তাহার উপসর্গাদি বৃদ্ধি পায়।
**সাইলিসিয়াঃ-
মানসিক সর্বপ্রকার কাজেই ভয় পায়।কিন্তু কাজ আরাম্ভ করিলে তাহা উপযুক্তভাবে সম্পাদন করিতে পারে,প্রাতঃ কালে শয্যত্যাগ করিবার পর অবসন্নতা দুর হয়,হাত পা ভাড়ি ও অবশ বোধ হয়;ঝড় বাদলের দিনে ও নৈসর্গিক পরিবর্তন উপসর্গাদির বৃদ্ধি হয়; রোগী বড়ই শীতকাতর ও তাহার সর্বাঙ্গে প্রচুর ঘাম হয় ও কোষ্ঠবদ্বতা বর্তমান থাকে।
**জিঙ্কাম:-
স্নায়বিক দুর্বলসহ মাথাঘোরা;অত্যাদিক কটিবেদনা-উপবেশনকালে বৃদ্ধি;পদদ্বয় সন্চালন করে,মেরুদন্ড মধে জ্বালা,হাত পা দুর্বলবোধ হয় ,মধ্যাহেৃ অত্যাদিক ক্ষুধার উদ্রেক এবং তৎকালে পদদ্বয়ে অত্যাদিক দুর্বলতা বোধ হয়,মদ্যদি পানে উপসর্গাদির বৃদ্ধি।জিঙ্কাম ও পিকরিড এসিডের সংমিশ্রণে প্রস্তুত জিঙ্কাম পিকরিকাম এই রোগের একটি অতি মুল্যবান ঔষধ।
***পিক্রিক এসিডঃ
তিব্র মানসিক পরিশ্রমের পর শিরপীড়া জন্মে, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে অত্যন্ত বেদনাদায়ক যন্ত্রণায় ছটফট করে,স্পাইনাল কর্ডে বেদনা,প্রবল যৌন উত্তেজনা জাগলে সেই রোগীর পিক্রিক এসিড উপযোগী।

***মস্তিস্কের অবসাদ গ্রস্হ রোগীর ভবিষ্যতের উৎকণ্ঠায় উদরাময় দেখা দিলে সদৃশ ঔষধ আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, জেলসিমিয়াম, এসিড ফস ইত্যাদি।
***মস্তিস্কের অবসাদগ্রস্হ রোগী লোক সমাজে উপস্থিত হইতে ভয় পাইলে সদৃশ ঔষধঃ- কার্বোভেজ,জেলসিমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম, প্লাম্বাম,সাইলেসিয়া ইত্যাদি।
***মস্তিস্কের অবসাদগ্রস্হ রোগী কাহারো সহিত সাক্ষাৎ করিবার পূর্বে আশঙ্কা প্রকাশ করিলে সদৃশ ঔষধ আর্জেন্ট নাইট্রিকাম,জেলসিমিয়াম, মেডোরিনাম ইত্যাদি।

উপসংহারঃ
স্নায়বিক দুর্বলতা আর ব্রেণফ্যাগ লক্ষনের রোগীর সদৃশ ঔষধ নির্বাচন করে সঠিক মাত্রা ও শক্তিতে নিয়মিত সেবনের পাশাপাশি মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে।সুন্দর স্বাস্হ্যকর স্হানে ভ্রমণ,প্রফুল্ল চিত্ত্বে হাসিখুশি পরিবেশে বসবাস ও হালকা ব্যায়াম করা চিকিৎসারই একটি অংশ।

আমার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিষয়ক সকল লেখা একসাথে পড়ুন।এপসটি ডাউনলোড করুন,আপডেট নিন।আমার মোবাইল এপস লিঙ্কঃ


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,সাভার,ঢাডা।
মোবাইল নংঃ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
রেজি নং ২৩৮৭৬

বুধবার, জুলাই ০৪, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ইনসুলিনের পরিচিতি ও প্রয়োগ ক্ষেত্র

ইনসুলিন (Insulinum) নির্বচনের লক্ষণ সমষ্টি

ইনসুলিন কি ?
ইনসুলিন প্যাংক্রিয়াসের আইলেট অব ল্যাঙ্গার হ্যান্স নামক সেল হতে যে হরমোন ক্ষরিত হয় সেই ক্ষরিত হরমোন শক্তিকৃত করে প্রস্তুত করা হয়।ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয় বা ডায়াবেটিস ইনসুলিনের অভাব জনিত রোগ।
Insulinum প্রয়োগ লক্ষণ সমষ্টি:
১) ক্রনিক অন্ত্রের বা হজমের গোলযোগ যথা উদারাময় ও লিভার বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ থাকে বা হেপাটোমেগালি হওয়ার ইতিহাস আছে; যাদের বেশী উদারাময় হয় তাদের ইনসলিনের বেশী প্রয়োজন হয়।
২) যাদের এলার্জিক একজিমা সাথে লিভারের সমস্যা আছে তাদের জন্য ইনসুলিন প্রয়োজন।
৩) যে রোগীর গলা ও গ্র‌্যান্ড ফোলা থাকে।
৪) রোগীর খালিপেটে মাথা ঘুরে।
৫) মাথার চুল ইঠে যায়।
৬) কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মাথায় যন্ত্রনা করে।
৭) সন্ধ্যাবেলায় চোখে কম দেথে।
৮) গলার বেদনা তরল খাদ্য খেলে বাড়ে।
৯) সকালে স্ক্যাপুলা অস্হির মাঝে যন্ত্রনা বাড়ে।
১০) বসলে কোমরে বেদনা করে।
১১) হাটুর পিছন দিকে খিচে ধরে;বসা থেকে উঠতে বেদনা বাড়ে।
১২) পায়ের পাতায় জ্বালা করে।
১৩) সকাল ১১টায় শীতশীত করে।
১৪) মল ত্যাগের পরে দর্বল লাগে।
এই লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে উপস্হিত রয়েছে তার জন্য ইনসুলিন উপযোগী।এছাড়াও Blood sugar এর পরিমান স্বাভাবিক রাখতে ইনসুলিন প্রয়োজনীয় ঔষধ।প্রস্রাবের সুগার নিয়ন্ত্রনেও ইনসুলিন প্রয়োজন।
ডাঃ এলেন এর মতে ইনসুলিন ৩০ শক্তির ঔষধ দিনে তিন বার প্রয়োগে ডায়াবেটিস নিরাময়ে সহায়ক।
ক্লিনিক‍্যালি ইনসুলিন পরীক্ষায় ভারতের তিন সুনামধন্য হোমিওপ্যাথিক ডাঃ কে পি মজুমদার, ডাঃ মাটানি, ডাঃ সুকেন কর মহাশয়ের  মিলিত কালেকটেড সিমপটোমোটোলজী নীচে দেয়া হল।
* মাথা ঘোরা,  ক্ষুধার সময় বাড়ে।
* শরীরের এখানে ওখানে বাতের ব্যথা,  বিশেষ করে  জয়েন্ট গুলিতে এবং মাংসপেশীতে।
* পায়ের তলায় জ্বালা,
* অনেকদিন ধরে ক্রনিক ডা্ইরিয়ায় ভুগতে থাকে,
* আলসার, ঘা, বেডসোরস, যা মোটেই শুকাতে চায় না।বিশেষ করে কোন ইনফেকশনের  পর থেকে বা  ইনফেকসাস রোগের পর থেকে।
* লিভার বড়, বা  ডিসঅর্ডারড লিভার।( ক্রনিক হেপাটাইটিস বা এনলার্জমেন্ট অব দ্য লিভার)
* এ্যালার্জিক এ্যাজমা,
* প্রচুর চুল উঠতে থাকে।
*  সকাল ১১ টায় শীত করে,
* ঘুমঘুম ভাব,
* পায়খানার পরে  দূর্বলতা বোধ,
* সন্ধ্যার দিকে দৃষ্টিশক্তির ক্ষীনতা,
* মাথার যন্ত্রনা, বিশেষ করে  যখন কন্সটিপেশনে ভোগে,
* কোন ইনফেকসাস ডিজিজের পর থেকে রোগীর একটা না একটা প্রবলেম লেগেই থাকে।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল, সাভার, ঢাকা।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮। 

সোমবার, জুলাই ০২, ২০১৮

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আদর্শ আরোগ্যের পথ

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আদর্শ আরোগ্য বিধান। 
প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকে।নিয়মের বাইরে গিয়ে সেই কাজ করলে বিফল হওয়ার সম্ভারনাই বেশী।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগ আরোগ্যে কিছু ধারাবাহিক নিয়ম কানুন মেনে চিকিৎসা করতে হয়।একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ হ্যানিম্যানের প্রদর্শিত পথের বাইরে যেতে পারেন না।মেটেরিয়া মেডিকায় স্হান পাওয়া প্রতিটি ঔষধ চিত্র যেমন স্মরণে রাখা প্রয়োজন তেমনই অর্গানন অব মেডিসিনের প্রতিটি সূত্র মেনে রোগীলিপি তৈরী করা জরুরি।মাত্রা ও শক্তি নির্বাচনেও মনগড়া নিয়ম চলবে না।রোগের জ্ঞান,রোগী চিত্র,ঔষধের চিত্র,মাত্রা ও শক্তি,রোগীর খাদ্য ও পথ্য,বিধি নিষেধ কোন কিছুই অবহেলা করা যাবে না।রোগলিপি প্রনয়নের সময় তরুন রোগ,চিররোগ উভয় রোগের পার্থক্য জানা থাকা ও রোগীর রোগ যন্ত্রনার বিষয় সংগ্রহ করতে কি কি জানতে হবে সবই রোগ আরোগ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়।রোগের আদর্শ আরোগ্যের জন্য তাই রোগলিপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রোগীলিপি প্রনয়নের জন্য অর্গাননের প্রদর্শিত পথ আমাদের জন্য আদর্শ রোগ আরোগ্যের সিড়ি।
তরুন রোগ বা (Acute disease treatment): আঙ্গিক লক্ষণের চিকিৎসা করা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার নীতি বিরুদ্ধ।কিন্তু ৫টি পয়েন্ট দ্বারা আঙ্গিক লক্ষণকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করলে তা আর আঙ্গিক লক্ষণ থাকে না। এই নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো আঙ্গিক লক্ষণকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে।
১) কারণ (Causation.)
২) স্হান (Location.)
৩) অনুভূতি (Sensation.)
৪)হ্রাস বৃদ্ধি (Modalities.)
৫) আনুষাঙ্গিক (Concomitance.)
উপরোক্ত পাঁচটি পয়েন্টের ভিত্তিতে তরুণ রোগীর সদৃশ ঔষধটি নির্বাচন করতে সক্ষম হলে তরুণ রোগ আদর্শ আরোগ্য লাভ করবে।
চিররোগ (chronic disease) চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে দশটি পয়েন্ট অবশ্যই পালনীয়:-
১)কত দিন যাবত ভুগছেন (Time & Suffering.)
২) রোগের কারণ ও অতীতে কোনো রোগ চাপা পড়ে ছিল কিনা? (Causation & Suppression.)
৩) আক্রান্ত স্থান (Location.)
৪) অনুভূতি (Sensation.)
৫) চারিত্রিক লক্ষণ (Characters.)
৬) হ্রাস বৃদ্ধি (Modalities.)
৭) আনুষাঙ্গিক (Concomitance.)
৮) সর্বশেষ গৃহীত চিকিৎসার বিবরণ (Last treatment.)
৯)সার্বদৈহিক ও খাদ্যের ইচ্ছা অনিচ্ছা/বৃদ্ধি (Generalities & Vegetables Mind.)
১০) মানসিক লক্ষণ (Mind)

চিররোগের আদর্শ আরোগ্য লাভের জন্য উপরোক্ত বিশিষ্ট পয়েন্ট অবশ্যই অনুরণ করতে হবে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় মনগড়া কোন কাজ চলে না। অর্গাননের নির্দেশিকা অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জন্য উল্লেখ্য পয়েন্টের আলোকে সদৃশ ঔষধ নির্বাচন রোগ আরোগ্যের আদর্শ পথ।এর সামান্য ব্যত্যয় ঘটলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আদর্শ আরোগ্য লাভ অসম্ভব।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮
রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
বাইপাইল(আশুলিয়া থানার পাশে।)
সাভার,ঢাকা।

শুক্রবার, জুন ২৯, ২০১৮

সম্মোহন দ্বারা রোগ নিরাময়ের উপায়।

Mesmerism treatment.

 চুম্বক বা মেসমেরিজম বা সন্মোহনী রোগআরোগ্য কলা ।

Medical hypnosis 
হিপনোটাইজ বা সম্মোহন করে রুগিদের চিকিৎসা করার পদ্ধতিকে মেসমেরিজম বলে।মেসমার নামে একজন ডাক্তার এই পদ্ধতিতে রুগিদের চিকিৎসা করতেন বলেই, এই পদ্ধতির নাম মেসমেরিজম।চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে জৈবিক চুম্বক নাকে অভিহিত করা হয়।এই পদ্ধতিকে আরোগ্যদায়ী বস্তু হিসেবে ভিন্ন।শতাব্ধি ধরিয়া এই পদ্ধতিকে অবহেলিত ও অবজ্ঞাত।আরোগ্যদায়ী শক্তি ও ক্রিয়া বিভিন্ন মুখী।এই চিকিৎসাকে আরোগ্যাদায়ী হিসেবে মানা হলেও মানুষ মণে করতেন যে এই বিদ্যা মানব সমাজে সৃষ্টিকর্তারএক বিস্ময়কর অমুল্য দান।সন্মোহনী শক্তি দ্বারা একজন যাদুকর যেমন পুরো জমায়েতকে মন্ত্রমুগ্ধের মত সকর দর্শক কে আকৃষ্ট করে,ক্যানভাসারের কথা শুনতে চারদিক ঘিরে মনোযোগ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।এজন রাজনীতিবিদ সন্মোহনীর দ্বার তার মতবাদ বা ন্তিা চেতনঅ জনগনকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে।মনোমহনী শক্তির ব্যবহার ও পাযোগীক বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন নামে অবিহিত করে থাকে।

মহাত্মা হ্যানিমান এই সন্মোহনীর দ্বারা কিভাবে মানব স্বাস্হ্য রক্ষায় কাজে লাগে তা বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।সন্মোহনী দ্বারা প্রবল ইচ্ছা শক্তি সমপন্ন কোন হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যাক্তি স্পর্শ কিংবা দুর থেকে রোগীর ভিতরে নিজের সুক্ষ্ণজীবনীশক্তিকে সুক্ষ্ণ ভাবে সঞ্চারিত করিতে পারেন।রোগীদেহের যে সকর স্হানে জীবনী শক্তি ক্ষীণ অবস্হায় থাকে এবং অন্যান্ন অংশে অধিক মাত্রায় সঞ্চিত হইয়া ইহা স্নায়বিক বিশৃঙ্খলা ঘটায়।সেই সকল স্হানে ইহা সরাইয়া দিয়া হ্রাস করিয়া এবং সমতা রক্ষা করিয়া এবং সাধারণভাবে রোগীর প্রাণশক্তির ব্যাধিসমুহ দূরীভুত করে।সন্মোহনী শক্তি বলে বলে নিজের স্বাভাবিক সুস্হ্য অবস্হা প্রতিস্হাপন করেন।

যাদুকরদের ব্যাখ্যাঃ

বশীকরন-একটি তান্ত্রিক বা আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া যা দ্বারা একজন মানুষের স্বাভাবিক বিরুপ মণকে মন্ত্র, তন্ত্র, যন্ত্র, দোওয়া, তাবিজ, টোনা, টোটকা ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের প্রতি আকৃষ্ট বা আয়ত্বে আনা যায়। মনে রাখতে হবে- মানুষের মন কোন যন্ত্র চলিত ইঞ্জিন নয়, যে এর কোন একটি পার্টস পরিবর্তন করে দিলেন আর সাথে সাথে আপনার পিছু ধাওয়া করলো। তবে হ্যা এটিও সত্য যে বর্তমান হিপনোটাইজ, মেসমেরিজম, ত্রাটক ইত্যাদির দ্বারা সাময়ীক ভাবে একজন মানুষের সম্পূর্ণ জ্ঞান, বোধ, বুদ্ধি হরণ করে তাকে দিয়ে তাৎক্ষণিক কোন কার্য সম্পাদন করানো যায়। তবে সেটি বশীকরণ নয়। বশীকরণ করতে অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন সময় লাগবেই, কারন এটি তো অন্য কিছু নয়, মানুষ্য মন, যে মনের জন্যই আজ সে আঠারো হাজার মাখলুখের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার, এটিকে পরিবর্তন হতে কিছু সময় নেওয়াটাই স্বাভাবিক, না নেওয়াটা ভন্ডামী। তদবীরের প্রখরতার উপর নির্ভর করে ৭-১৮০ দিন কিংবা তার বেশি সময়ও লাগতে দেখা গেছে। একটি মানুষকে বশীকরণ করার তদবীর যদি আপনি একজন সৎ তান্ত্রিক দ্বারা করিয়ে থাকেন তবে আজ বা কাল বা একটি সময় সেই ব্যক্তি বশীকরণ হবেই হবে, এটি নিশ্চিত ধ্রব সত্য-কারন বিজ্ঞান বলে প্রতিটি কাজের একটি ফলাফল থাকতেই হবে, সেটা যেমন’ই হোক।

উপসংহারঃএই সন্মোহন শক্তি দ্বারা যে সকল কাজে সফলতা সম্ভব,তা আমরা সকলেই অবগত।কিন্তু আমাদের মহান গুরু মহাত্মা হ্যানিমান সন্মোহনীর যে প্রয়োগিক ব্যাখ্যা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন তা এক যুগান্তকারী ব্যাখ্যা।একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার তার সহজ সরল উপস্হাপনা দ্বারা রোগীকে প্রভাবিত করতে পারেন,রোগীকে আস্হাশীল করতে সক্ষম হলে রোগ চিকিৎসার অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে।রোগ আরোগ্যের জন্য সন্মোহন শক্তির ব্যবহার আরো বৃদ্ধি করতে পারলে হোমিওপ্যাথির সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল।
গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

বৃহস্পতিবার, জুন ২১, ২০১৮

প্রষ্টাইটিসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।:

প্রষ্টাইটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন গাইডলাইন

Prostatitis বা প্রস্টেট গ্রন্হির প্রদাহ কি ?

পুরুষদের প্রেষ্টেট গ্লান্ডের প্রদাহকে প্রষ্টাইটিস বলা হয়।পুরুষদের যৌবনে পদার্পণ থেকে যে কোন সময় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ব্যক্তি যাদের প্রষ্টেট বড় হওয়া জনিত সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশী অসুবিধার সৃষ্টি করে। ঠান্ডা লাগিয়া, আঘাতের কারণে তরুন প্রষ্টাইটিস হয়। প্র্মেহ দোষের কারণে,যক্ষাজনিত কারণেও প্রষ্টাইটিস হয়ে থাকে।
 রোগের ধরন অনুসারে প্রষ্টাইটিসকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
১)একিউট ব্যাকটেরিয়াল প্রষ্টাইটিস (তীব্র ব্যাকটেরিয়া জনিত প্রদাহ)।
২)ক্রনিক ব্যাকটেরিয়াল প্রষ্টাইটিস(দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাকটেরিয়া জণিত প্রদাহ)।
৩) নন ব্যাকটেরিয়াল প্রষ্টাইটিস (জীবানু বর্হিভূত প্রদাহ)।
৪)প্রষ্টটোডিনিয়া বা একিউট ব্যাকটেরিয়াল প্রষ্টাইটিস।
লক্ষণ সমুহ
এ রোগীর শরীরে ব্যাথা বা ম্যাজ ম্যাজ ভাব, খুব জ্বর আসা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা,শরীরে ও মূত্রথলি ব্যাথা, পায়ু পথ ও মেরুদন্ডের সর্বনিম্ন অংশের বেদনা, প্রস্রাবের শেষে দুই এক ফোঁটা রক্ত পড়া প্রভৃতি। বয়ষ্ক পুরুষ যাদের প্রষ্টেট গ্রন্হি বড় হওয়া জনিত সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ বেশী হয়।প্রষ্টেট গ্রন্হির বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্ন যন্ত্রাদি বৃদ্ধি পেয়ে রোগীর নড়াচড়া করা কষ্ট হয়।রোগী কোথ দিয়ে প্রস্রাব করার চেষ্টার ফলে মুত্রত্যাগে আরো সমস্যা হয়। অনেক সময় প্রষ্টেট গ্রন্হির পুঁজ উৎপত্তি হয়ে রোগ আরো জটিল করে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ সমুহের লক্ষণ ভিত্তিক আলোচনা

পালসেটিলা
প্রোষ্টেট গ্রন্হির প্রদাহের প্রথম অবস্হায় বিশেষ ফলপ্রদ। মুত্রথলির প্রদাহের কারণে খচখচানি বেদনাসহ বারবার মুত্রত্যাগের ইচ্ছা ও মুত্রত্যাগ। মত্রথলীতে খালধরা বেদনা,উরু প্রদেশে বেদনা এবং পেলভিক ও উরু প্রদেশে বেদনা বিস্তৃত হয়। মল ক্ষুদ্র ও চেপ্টা মানসিক লক্ষণের বিবেচনায় পালসেটিলার লক্ষণ সমষ্টি যে প্রষ্টাইটিস রোগীর মঝে পাওয়া যাবে তার জন্য পালসেটিলা অত্যন্ত কার্যকরী ঔষধ।

আর্নিকা মন্টেনা
আঘাত জনিত প্রষ্টাইটিস হলে আর্নিকা মন্টেনা প্রয়োজন।

একোনাইট নেপিলাস
ঠান্ডা লাগিয়া হঠাৎ প্রষ্টাইটিস হলে একানাইট প্রয়োজন।

বেলেডোনা
ঠান্ডালাগিয়া ও প্রদাহ জনিত কারনে প্রষ্টাইটিস হলে ও বেলেডোনা ্নির্দেশক লক্ষণ দেখা গেলে বেলেডোনা প্রয়োজনীয় ঔষধ।

থুজা
কুচিকিৎসার কারনে প্রমেহ পীড়াগ্রস্হ প্রষ্টাইটিস রোগীর চিকিৎসায় থুজা প্রয়োজনীয় ঔষধ। রেক্টাম হতে মুত্রথলীতে খোচা মারা বেদনা থাকলে থুজা প্রয়োজন।

ডিজিটেলিস
বার বার নিস্ফল মুত্র ত্যাগের ইচ্ছা অথবা সামান্য বিন্দু বিন্দু মুত্রত্যাগ। রোগী মুত্রত্যাগের সময় কোথ দিলে মুত্রথলির দপদপানি বেদনা। মুত্র ত্যাগের পরেই অসহ্য মুত্রবেগ। মুত্রবেগের কারনে রোগী অস্হির হয়। মুত্রবেগের সাথে মলবেগ বিদ্যমান। বৃদ্ধদের প্রষ্টাইটিস ও প্রষ্টেট বৃদ্ধি। প্রবল কুন্হনেও প্রস্রাব হয় না।
কোনিয়াম মেকুলেটাম
প্রষ্টেট গ্রন্হির পুরাতন বিবৃদ্ধি,বিশেষত বৃদ্ধদের। থামিয়া থামিয়া প্রস্রাব হয়। বৃদ্ধদের অসারে ফোটা ফোটা প্রস্রাব হলে কোনিয়াম মেকুলেটাম উপযোগী।

কষ্টিকাম
পেরিনিয়ামে দপদপানি বেদনা। কয়েক বিন্দু প্রস্রবের পরে মুত্রনালী ও মুত্রথলীর মধ্যে বেদনা বৃদ্ধি। রেক্টামের মধ্যে খিচুনি সহ প্রবল মুত্রবেগ।

আয়োডিয়াম
প্রষ্টেট গ্রন্হি অত্যন্ত কঠিন বোধ হইলে আয়োডিয়াম উপযোগী।

লাইকোপোডিয়াম
মুত্রত্যাগ কালে ও শেষে মলদ্বারের কাছে পেরিনিয়ামের মধ্যে চাপবোধসহ মুত্রথলীর রেক্টামের মধ্যে খচখচানি বেদনা।

ফেরাম পিক্রেটাম
বৃদ্ধদের প্রষ্টেট গ্রন্হির বৃদ্ধি; রেক্টামের মধ্যে ভারী চাপবোধসহ বারবার মুত্রত্যাগের ইচ্ছা। মুত্রত্যাগ কালে মুত্রখলী মুত্রনালী ও লিঙ্গের মধ্যে টাটানি বেদনা।

মলত্যাগের সময় প্রষ্টেট গ্রন্হি হতে রস নির্গমন হলে লক্ষণ ভেদে-
এগনাস্টাস ক্যাক্টাস, এনাকার্ডিয়াম, কোনিয়াম, হিপারসালফ, নেট্রামকার্ব, সিপীয়া, সাইলেসিয়া, স্টেফিসেগ্রিয়া, সালফার ও জিঙ্কাম প্রয়োজন হয়।

প্রস্রাবের পরেও মুত্রবেগ থাকলে-
ব্যারাইটা কার্ব, বোবিষ্টা, কষ্টিকাম, ক্যান্থারিস, কার্বো এনিমেলিস, কোপেভা,  ডিজিটেলিস, ল্যাকেসিস, মার্কসল, পালসেটিলা, সিলা, স্যাবাইনা, সিপীয়া, ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফার, জিঙ্কাম লক্ষণ ভেদে ব্যবহৃত হয়।

মুত্রত্যাগকালে মুত্রথলী ও মুত্রনালীতে জ্বালা থাকিলে-
ক্যামেমিলঅ, নাক্স ভুমিকা, পেট্রোলিয়াম, সালফার লক্ষণ ভেদে ব্যবহার হয়।

সুক্ষ্ণ ধারায় মুত্র নির্গমন
গ্রাফােইটিস, ওলিয়েন্ডার, এলিয়াম স্যাটাইভা, নাইট্রিক এসিড, সার্সাপেরিলা, স্পন্জিয়া,
ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফার, জিঙ্কাম লক্ষণ ভেদে ব্যবহৃত হয়।

প্রস্রবের পুর্বে অনেক ক্ষণ কোথ দিতে হয়-
এপিস মেল, কষ্টিকাম, হিপার সাল্ফ, সিকেলী কর লক্ষণ ভেদে ব্যবহৃত হয়।

অসারে বিন্দু বিন্দু মুত্রপাত-
আর্নিকা মন্টেনা, বেলেডোনা, ডিজিটেলিস, কোপেভা, এসিডমিউর, পেট্রোলিয়াম, পালসেটিলা লক্ষণ ভেদে ব্যবহৃত হয়।

পুজ উৎপত্তি হলে-
মার্কসল, সিপীয়া, হিপার সাল্ফ, নাইট্রিক এসিড লক্ষণ ভেদে ব্যবহৃত হয়।

পেরিনিয়াম ফিস্টুলা
হিপার সাল্ফ, মার্ক সল, নাইট্রিক এসিড, সাইলেসিয়া লক্ষণ ভেদে ব্যবহৃত হয়।

তরুন অবস্হায়-
সেবালসেরু মুল অরিষ্ট ঘনঘন সেবন করিতে লে ভাল ফল পাওয়া যায়। চিমাফিলাও এ ক্ষেত্রে ভাল ফলদায়ক।যদি বসিতে গেলে পেরিনিয়ামে একটি গোলক আছে এরুপ অনুভব হয় তবে ক্যানাবিস ইন্ডিকা  গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ

কেন্ট রেপার্টরির সাহায্যে একক ঔষধ নির্ণয়ঃ

PROSTATE GLAND p. 668
Information 
++ INFLAMMATION : Acon., æsc., agn., alum., Apis., arn., bell., bov., cact., cann-i., canth., caps.caust.Chim.con.cop.cub.cycl., dig.hep.hipp., kali-bi.lach., lil-t., lith., lyc.med., merc-d., merc.nux-v.pareir., petr.ph-ac.Puls., sabal., sec., sel.senec
++ suppressed gonorrhœa, from : Bell., c.cupr., dig.med.merc.Nit-ac.nux-v.petr.puls.sep.staph., sulph.Thu.

++ IRRITATION in : Cact., dig.gnaph.
++ JERKING in region of : Form.
++ ONANISM, complaints after : Tarent.
++ PAIN : Acon., all-c.alum.apis., asaf., bell.berb., bov., brom., cact., calc-p., caps.caust.chim.con.cop., cub.,cupr-ar., cycl.dig., gnaph., graph., laur., lyc.lyss., merc., ol-an., pareir., phos.podo., polyg-h., puls.rhus-t.sel., staph.sul-i., sulph., tarent., thu.
++ blowing nose, on : Alum.
++ cancer, in : Crot-h.
++ coition, after : All-c.alum., caps., psor.sel.
++ erection, during : Alum.
++ gonorrhœa, during : Caps.cub.
++ jarring agg. : Bell.
++ riding agg. : Staph.
++ sitting, while : Chim.cycl.dig., rhus-t.
++ standing : Cycl.
++ stool, urging to : Cycl.rhus-t.
++ after : Phos.
++ urination, during : Apis.cop., lyc., pareir.
++ at close of : Coca.
++ after : Lyc., Puls.
++ urinate, urging to : Cycl.rhus-t.
++ walking agg. : All-c., brom., cycl.staph.
++ amel. : Rhus-t.
++ aching : Thu.
++ bladder, and, deep in pelvis, morning and forenoon after coition : All-c.
++ sitting and walking, while : Cycl.
++ biting : Carb-an., con.
++ burning : All-c., ambr., cop., lyss., ph-ac.
++ constrictive : Canth., caust.puls., sulph.
++ dragging : Nat-a., sil.
++ drawing : Clem., cycl.kali-bi., mez.
++ sitting or walking : Cycl.
++ pressing : All-c., alum.apis., asaf., berb., brom., cact., caust.chim., con.cycl.laur., lyc.merc., ol-an., phos.puls.sel.sulph., thu.
++ coition, during : Alum.
++ erection, at beginning of : Alum.
++ nose, on blowing : Alum.
++ standing : Cycl.
++ urination, during : Lyc.
++ after : Lyc., Puls.
++ walking, while : All-c., brom., cycl.
++ pulsating : Caust., polyg-h.
++ region of : Bov.
++ straining to urinate, while : Dig.
--- shooting (See Stitching)
++ soreness : Alum., Chim.cycl.rhus-t.sul-ac.
++ sticking : Nit-ac.
++ stitching : Bov., calc-p., con.cycl.kali-bi., kali-c., kali-n., lyc., puls.
++ afternoon : Aur., kali-bi.
++ urination, during : Cact., caust., cop., cycl., kali-n., merc-d., pareir., sel.
++ walking agg. : Kali-bi.
++ extending to genitals : Bov.

++ QUIVERING, nervous : Form.
++ SUPPURATION : Hep., Sil.
++ SWELLING : Cann-s., chel., Chim.con.cop., cub., dig.dulc., hipp., iod.med., merc-d., puls.sel., senec., sep., staph., sul-ac., thu.
++ TENSION : Clem., lyc., thu.
++ TWITCHING : Form.

++ UNEASINESS : Ptel.

বোরিক রেপার্টরির সাহায্যে প্রস্টাইটিসের সদৃশ ঔষধ নির্বাচন
Inflammation (prostatitis)
Acute -- Acon., Æsc., Aloe, Apis, Bell., Bry., Canth., Chimaph., Colch., Cop., Cub., Dig., Ferr. p., Gels.Hep.Iod., Kali br., Kali iod., Merc. c., Merc. d.Nit. ac., Nitrum, Ol. sant., Pichi, Picr. ac., Puls., Sabad., Sabal, Salix n., Selen., Sil., Solid., Staph.Thuya, Tritic., Ver. v., Vesic.
Chronic (See Prostatitis.) -- Alum., Aur., Bar. c., Brachygl., Calad., Carbon. s., Caust., Clem., Con.Ferr. picr., Graph., Hep., Hydrocot., Iod., Lyc.Merc. c.Merc.Nit. ac., Nux v., Phyt., Puls., Sabad., SabalSelen.Sep., Sil., Solid., Staph., Sul., ThuyaTribul.Weakness (prostatorrhœa); discharge during stool, urination, straining -- Acet. ac., Æsc., Agn.Alum., Anac., Arg. n.Can. s., Caust., Chimaph., Con., Cub., Eryng., Hep., Junip., Kali bich., Lyc., Nit. ac., Nuph., Nux v., Petrol., Phos. ac., Phos., Puls., Sabal, Selen., Sil., Sul., Tereb., Thuya, Thymol, Turnera, Zinc. m.
প্রষ্টাইটিস একটি জটিল রোগ তাই অসুস্হ হওয়ার সাথে সাথে একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিন। এত রোগ জটিল হওয়ার আগেই আরোগ্য হবে সহজেই। অল্প খরচে অল্প সময়ে সহজ উপায়ে শান্তভাবে এই রোগ আরোগ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাই ভাল ফলদায়ক। প্রস্রাবের জটিলতা দেখা দেয়ার সাথে সাথে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবন্ থাকে না।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার।
ইভা হোমিও হল।
বাইপাইল মসজিদ রোড,
আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮।
গোঃরেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

বৃহস্পতিবার, জুন ১৪, ২০১৮

ফসফরাসের পরিচিতি ও প্রয়োগ লক্ষণ

PHOSPHORUS

ফসফরাস-
 ব্যক্তি লক্ষণ ভিত্তিক, গভীর, দীর্ঘক্রিয় ও পলিক্রেস্ট ঔষধ। অ্যান্টি সোরিক, অ্যান্টি সিফিলিটিক, এন্টি সাইকোটিক, এন্টি টিউবারকুলার।

উৎস- খনিজ।

কাতরতা- শীত কাতর।

জিহ্বা- কাল বর্ণ।

আক্রান্ত দিক-

ডান দিক থেকে বাম দিকে।শরীরের উপরের অংশ ডান দিক। শরীরের নিচের অংশ বামদিক আক্রান্ত হয়।
আকৃতি-

পাতলা গঠন, বেশ লম্বা, দ্রুত বর্ধনশীল, বয়সের তুলনায় লম্বা, একহারা চেহারা, হাঁটলে যেন বাতাসে দোলে, গায়ের রং ফ্যাকাশে, ফর্সা। সামনের দিকে কুজো, সুন্দর পটল চেরা চক্ষু, নরম, সুন্দর, রেশমি কালো চুল। এক কথায় রাজকীয় চেহারা,চেহারা দেখে বেশ বুদ্ধিমান মনে হয়।
মানসিক লক্ষণ

খোলামেলা মনের মানুষ, মনের মধ্যে কোন কথা লুকিয়ে রাখে না। ফসফরাসের অন্যতম অনুভূতি, সে আপন জনের কাছ থেকে যথেষ্ট ভালোবাসা, মূল্যায়ন, মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই এর অভাব পূরণের জন্য সে বাড়ির বাইরে অনেক বন্ধু বা সম্পর্ক তৈরি করে, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। সে মনে করে অন্যের প্রতি ভালোবাসা সহানুভূতি ও স্নেহের বিনিময় অন্যের মনোযোগ পাবে। তার মনে হয়,আরো সঙ্গী চাই, ভালোবাসা চায়, সে কারণে অন্যের প্রতি খুব খেয়াল রাখে, নিজের কাজ বাদ দিয়ে অন্যকে সহযোগিতা করে, এরা সহজে বন্ধুত্ব করতে পারে, এদের যেমন ব্যাপক সহানুভূতিশীলতা আছে তেমনি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া প্রবণতাও আছে।এরা খুব একাকীত্ব বোধ করে, এ কারণে রাগ দুঃখ ভয়ে এরা সহজে আক্রান্ত বা উত্তেজিত হয়।
ফসফরাসের রোগীরা খুব চঞ্চল ও প্রাণোচ্ছল প্রকৃতির। সম্পর্ক তৈরি, মানুষের কাছাকাছি আসা, নিজস্ব অবস্থান সৃষ্টি করার জন্য যা করা দরকার সে তার আচরণ দিয়ে তা করে। যেহেতু তার মধ্যে ধারণা কাজ করে যে কেউ তাকে সত্যিকারের মনেপ্রাণে ভালোবাসে না, তাই কারো সাথে গভীর, আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। অধিকাংশ সম্পর্কই অগভীর বা উপরে উপরে গড়ে ওঠে। এরা অতিশয় ভীতু, বিদ্যুৎ চমকানোর সময় বা রাতে একা থাকতে পারে না। অতিশয় ফুর্তিবাজ ও চটপটে। বাচালতায় ল্যাকেসিসের মতো এক বিষয় থেকে অন্য বিষয় বার-বার পরিবর্তন করে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলে না,বরং সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অর্থবহ কথাবার্তা বলে। ফসফরাসের রোগীরা চেম্বারে এসে নেট্রাম মিউয়ের রোগীর মতো পিছনে হেলান দিয়ে বসে,দূরত্ব বজায় রাখে না্, রিজার্ভ হয়ে বসে না থেকে বরং খুব কাছাকাছি বসে, বা টেবিলে হাতে ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে বসতে পারে। মুখে মিষ্টি হাঁসি নিয়ে, খুব সহজেই আপনার সাথে কথা বলা শুরু করে, সহজে মিশে যেতে পারে, ক্ষণিকের মধ্যেই আপন করে নিতে পারে, ভাবখানা এমন যেন বহু দিনের পরিচিত।
এরা সব বিষয় কারণ খুঁজে, তীক্ষ্ণ মেধার কারণে এদেরকে এক কথা দুই বার বলা লাগে না। উত্তেজনা আনে এমন নাটক, সিনেমা, ভুতের গল্প, রোমাঞ্চকর কাহিনী বা দৃশ্য দেখতে বা শুনতে ভালোবাসে। এরা স্নেহ পরায়ণ, শিল্পী মনা, গায়কি স্বভাবের, সৃষ্টিশীল।  এর শিশুরা খুব খোলামেলা, চঞ্চল ও ভীরু। এরা খুব বাচাল হয়, অবিরত প্রশ্ন করে, জানার আগ্রহ প্রচুর। শিশুরা মাকে প্রশ্ন করেই চলে, একবার এ কথা, একবার সে কথা জিজ্ঞাসা করে।এর শিশুরা যে কোনো আত্মীয় বাড়ি,অচেনা পরিবেশ, স্কুলে সহজেই যে কারো সাথে সম্পর্ক করতে পারে। সমবয়সীদের বন্ধু, বড়দের মামা, খালা, চাচা, ফূফ, দাদা, নানা ইত্যাদি বানিয়ে ফেলতে পারে। ফসফরাসের কাছে সবাই যেন তার ভালো বন্ধু। কোথাও একদণ্ড স্থির থাকতে পারে না, একদম স্থির ভাবে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা তার কাছে অসম্ভব। একবার উঠে, একবার বসে,এদিক চাই, ও দিক চায়।

মূল কথা

 খুব পিপাসা, লবণ, মাছ, চকলেট, মিষ্টি, আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় খাবার খুব ইচ্ছা। শান্ত বা মেজাজি স্বভাব, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, অল্পে ঠান্ডা লাগে, অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও উদরাময়ের প্রবনতা যেন তার অকাল মৃত্যুর কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বাম পাশে চেপে শুয়ে ঘুমাতে পারে না। ডান পাশে শয়নে আরাম বোধ করে।

বাচালতা ও চঞ্চলতা

ফসফরাসের শিশু এক মুহুর্তও এক জায়গায় স্হির থাকতে পারে না। সে বজ্রপাতের ভয়ে কাতর থাকে। অস্হির ও অন্যমনস্ক।
উন্মাদ অবস্হা

ফসফরসের রোগী উন্মাদ অবস্হায় কামোন্মাদ হয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। শীতল পানি পানে ও শীতল পানীয়, সুনিদ্রা,অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, হাত ধোয়াইয়া দেওয়া তার কাছে আরামদায়ক। গায়ে হাত বুলাইয়া দিলে সে আরাম পায়।
শুন্যতা বোধ

ফসফরাসের রোগী তার বুকের মধ্যে, পেটের মধ্যে, মাথার মধ্যে অত্যন্ত শুন্যতা বোধ করে সাথে দুর্বলতা অনুভব করে। এ অবস্হায় ফসফরাস উচ্চ শক্তি ব্যবহার নিষেধ। ফসফরাসের রোগীর ক্ষুধা ও পিপাসা উভই প্রবল। ক্ষুধার সময় খাইতে না পারিলে তাহার দুর্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং তাহার সকল রোগ যন্ত্রনাও বৃদ্ধি পায়। কিছু খাইলে আরাম। কলেরা ও উদরাময়ে এই লক্ষণটি স্মরণে রাখা জরুরি। ফসফরাসের রোগী গরম সহ্য করতে পারে না ও যত ঠান্ডা খাবার খায় ততই আরাম বোধ করে।পেটে খাদ্য প্রবেশের কিছুক্ষণ পরে পেটে খাদ্য গরম হওয়া মাত্র বমি হয়। যদি কোন রোগী বলে আমার গরম খাদ্য সহ্য হয় না তখনই ফসফরাসের কথা স্মরণ করিবেন। গার্ভবস্হায় ফসফরাসের রোগীনী পানির কাছে যাইতে পারে না পানি পান করিতে চায় না এমনকি পানিতে হাত মুখ ধুইতে পারে না।
জ্বালা

ফসফরাসের রোগীর পায়ে জ্বালা, মাথায় জ্বালা, পেটে জ্বালা, ভিতরে বাহিরে সর্বত্র জ্বালা কিন্তু এত জ্বালা সত্ব্যেও সে মাথা, পেট ও মুখমন্ডর ছাড়া সর্বশরীর ঢেকে রাখে। মাথার যন্ত্রনায় মাথায় কাপড় রাখিতে পারে না। গরমও পছন্দ করে না। অবশ্য হাতের তালু ও পায়ের তালু ঠান্ডা পানিতে ধুইতে চায়। মেরুদন্ডে জ্বালা অনুভব করে।
ফসফরাস প্রয়োগ ক্ষেত্র

হিপ জয়েন্ট প্রদাহ,সন্ধি প্রদাহ, এপেন্ডিসাইড, মেদ পূর্ণ হৃদপিন্ড, কিডনি ও লিভার জনিত শোধ, হাত পা মুখ বিশেষ করে চোখের নিচের পাতা ফুলিয়া উঠে। শ্বাসকষ্ট ও রক্তহীনতা দেখা দেয়।
উদরাময় ও কলেরা

 মলদ্বার প্রায় খোলা থাকে। অসারে মলত্যাগ করে। মলের সাথে সাগুদানার মত পদার্থ ভাসিতে থাকে।
মূত্র

মূত্রে শর্করা বিদ্যমান ও ডায়াবেটিস।
হিক্কা

ভুক্ত দ্রব্য টক হইয়া উঠিয়া যায়।
নাক

নাকে পলিপাস,পলিপাস হতে রক্ত স্রাব হয়।
কান

বধিরতা,মানুষের কণ্ঠ স্বর ছাড়া অন্য শব্দ শুনিতে পায়।
চোখ

দৃষ্টির নানাবিধ গোলযোগ।নেত্রনালী শুকাইয়া যাওয়ার ফলে দৃষ্টিহীন।
জ্বর

সান্নিপাতি বা সবিরাম জ্বরে সঙ্গাহীন অবস্হায় শুন্যের দিকে কি যেন ধরিতে চায়।
সন্যাস বা এ্যাপিলেপ্সি

মুখের বাম দিকে বাকিয়া যায়। মৃগীর আক্ষেপ কালে জ্ঞান থাকে।
বাত বেদনা

অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বাতের বেদনা উত্তাপে উপসম হয়।
পক্ষাঘাত

পক্ষাঘাত গ্রস্হ অঙ্গের আক্ষেপ, হাত বুলাইয়া দিলে আরাম পায়।
নিউমোনিয়া

নাকের পাতাগুলো নড়িতে খাকে। ফসফরাসের রোগীর গঠনের সাথে ঘড়ঘড় শব্দ করে, শ্বাস কষ্টের সাথে যক্ষা থাকে।
কোষ্ঠবদ্ধতা

শক্তমল অনেকটা কুকুরের মলের মত,সরু ও লম্বা হয়ে নির্গত হয়।
কাশি

ক্রুপ কাশির সহিত স্বর ভঙ্গ, দ্রুত দুর্বলতার সহিত শীতল ঘর্ম। বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় করে। চোয়াল ঝুলিয়া পরে।
স্ত্রী যন্ত্র

স্তন ও স্ত্রী জনন অঙ্গে ইরিসিপেলাস, ক্যান্সার, মাসিক অতিরিক্ত হয়। অতিরিক্ত গর্ভধারন জনিত জরায়ু প্রদাহ, জরায়ুর স্হান চ্যুতি বা শিথিলতা, মূল কথা হলো ফসফরাসের রোগীর আকৃতি ও প্রকৃতি মিলিয়া গেলে যে কোন রোগ লক্ষণে প্রয়োগ যোগ্য।
পুং জনন ইন্দ্রিয়

সঙ্গমেচ্ছা ও লিঙ্চ্ছাস প্রবলরতি শক্তি বৃদ্ধিতে ফসফরাস ফলপ্রদ কিন্ত অপপ্রয়োগে ক্ষতিকারক।

সতর্কতা

কষ্টিকামের পরে বা পূর্বে ফসফরাস ব্যবহার নিষিদ্ধ।
প্রতিষেধক-
 নাক্স ভুমিকা।

আমার ফ্রী মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন এবং আমার সকর লেখা আপডেট নিন নিয়মিত।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.aslamconsole.android.evahomeohall&fbclid=IwAR3mHp4BauqONW3oiO3eVCVTaCqrsPvcY5Z4qq3826ps_Avf6-wN-SixmEg


ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার

ইভা হোমিও হল

বাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

গভঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।

মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮G

 

 

সোমবার, জুন ১১, ২০১৮

প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ,আপনার ঘরে রাখতে পারেন।

Homeopathic impotent medicine your can keep at Home


যে কোন আকস্মিক দূর্ঘটানয় আঘাত প্রাপ্ত হওয়া বা যে কোন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।সঠিক স্হানে সঠিক ঔষধটি প্রয়োগ করতে পরলে সমুহ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
নিচে কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের নাম ও প্রয়োগ ক্ষেত্র দেয়া হলো।আপনি আপনার ঘরে উল্লেখিত ঔষধগুলো সংরক্ষন করুন।প্রয়োজনে অনেক ইপকারে আসবে।

*একোনাইট নেপিলাস(Aconite)
যেকোন রোগই হউক না কেন,যদি সেটি হঠাৎ শুরু হয় এবং শুরু থেকেই মারাত্মকরূপে দেখা দেয় অথবা দুয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করে,তবে একোনাইট হলো শ্রেষ্ট সদৃশ ঔষধ।যদি রোগের উৎপাত এত বেশী হয় যে,তাতে রোগী মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে।এক ফোটা বা ৫টি বড়ি করে রোজ তিন বেলা বা আরো ঘন ঘন খেলে রোগের প্রকপ কমে যাবে এবং পরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।এর ফলে আপনি রোগের প্রথম অবস্হায়ই আরোগ লাভ করবেন অথবা রোগের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাবেন।সাধারণত ৩০ বা ২০০ শক্তি স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার আপনার ঘরে রাখুন।

*ক্যালেনডুলা অফ(Calendula Officinalis)
এই ঔষধটি আপনার ঘরে থাকা গুবই জরুরি।যে আঘাতের ক্ষততে তুলা দিয়ে লাগিয়ে দিবেন সেই ক্ষত হতে রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে।ক্ষততে পুজ হতে বাধা দিবে কোন প্রকার জটির রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করবে।ক্যালেন্ডুলা মাদার আপনা ঘরে থাকলে বিপদে আপদে ভালো কাজে আসবে।

*নাক্স ভুমিকা(Nux Vomica)
নক্স ভুমিকা গ্যাস্ট্রিক,ক্ষুধা,বিষণ্নতা এবং মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে।যারা অধিকাংশ সময়ে পেটের অসুখে,বদহজমে ভোগে,বদমেজাজী,ঝগড়াটে, বেশীর ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটান,কথার বিরোধীতা সহ্য করতে পারে না এবং অল্প শীতেই কাতর হয়ে পড়ে,এটি তাদের (জ্বর,কাশি,ডায়েরিয়া,আমাশয়-রক্ত আমাশয়, পেটব্যথা,মাথাব্যথা,বুকেব্যথা-শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি) ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।অধিকাংশ রোগ রাতের বেলা বেড়ে যায়।পান,সিগারেট,মদ-গাজা,ফেনসিডিল,হিরোইন দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের যে ক্ষতি হয়,নাক্স ভমিকা তাকে পুষিয়ে দিতে পারে।পাশাপাশি এটি মদ,ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে ব্যবহার করতে পারেন।নাক্স ভুমিকা আপনার সংরক্ষনে থাকলে এবং পেটের পীড়ায় প্রথমে নাক্স ভুমিকা কয়েক মােো খেয়ে নিন সাথে সাথে আরোগ্য হবে।যদি আরোপগ্য নাও হৗ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে নাক্স ভুমিকা খেলে চিকিৎসকের চিকিৎসার অর্ধেক আপনিই সমাধান করতে পারবেন।

আর্ণিকা মন্ট(Arnica)
আমরা সবাই জানি যে, আঘাতের ব্যথার জন্য আনির্কা একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ।কিন্তু আনির্কা যে একটি শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক বা জীবাণু বিনাশী ঔষধ তা আমরা অনেকেই জানি না।মারাত্মক ইনফেকশনেও লক্ষণ থাকলে চোখ বুজে আনির্কা দিতে পারেন। সাধারণত যেকোন ধরনের আঘাত, থেতলানো,মচকানো,মোচড়ানো,ঘুষি, লাঠির আঘাত বা উপর থেকে পড়ার কারণে কোন ইনফেকশান বা ক্ষত হলে;এমনকি গ্যাংগ্রিন হলেও আনির্কা হবে তার শ্রেষ্ঠ সদৃশ ঔষধ।আনির্কার প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো আক্রান্ত স্থানে এমন তীব্র ব্যথা থাকে যে,কাউকে তার দিকে আসতে দেখলেই সে ভয় পেয়ে যায়,কারণ ধাক্কা লাগলে ব্যথার চোটে তার প্রাণ বেরিয়ে যাবে।আপনার বাড়িতে বাচ্চা ছেলে মেয়েরা প্রায়ই নানা প্রকার আঘাত প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাদের জন্য Arnica ঘরে রাখুন,এটি বেদনা হ্রাস,দুর্ঘটনা,আঘাতের এবং শক জন্য সবচেয়ে সাধারণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।আর্ণিকাকে সকল প্রকার অঘাতের কারণে বেদনা আরোগ্যে কার্যকর।বাত বেদনা,মাংশ পেশির বেদনায়ও ব্যাহার্য।

*ক্যান্থারিস(Cantharis)

ক্যান্থারিস মলম আপনার রান্না ঘরে রাখুন।ক্যান্থারিস মাদারও রাখতে পারেন।যে কোন সময় আগুনের তাপে ঝলসে গেলে দ্রুত মলম অথবা মাদার টিঙ্কচার পানির সাথে মিশিয়ে দগ্ধ স্হানে লাগিয়ে দিন,দেখবেন ঝলসে যাওয়া স্হার জ্বালাপোড়া ভাব কমে গেছে।কোন প্রকার ফোস্কাও পরে নাই।যদি শক্তিকৃত ক্যান্থারিস রাখেন তবে ঘনঘন কয়েক মাত্রা সেবন করতে দিন দ্রুত আরাম পাবেন।

*ম্যাগনেসিয়া ফস(Magnesia phosphoric)
ম্যাগনেসিয়া ফস মহিলাদের জন্য আবশ্যকীয় ঔষধ।এটি মহিলাদের মাসিকের সময় বেদনাসহ,যে কোন রোগীর ক্লান্তি, মাথাব্যাথা,নার্ভ ব্যথা,অনিদ্রা এবং মানসিক প্রশান্তি দিতে সাহায্য করতে পারে।ম্যাগনেসিয়া ফস সাধারণত  নিম্ন শক্তি বেদনা আরোগ্যে ঘনঘন প্রয়োগ করতে হয়।

*রাসটক্স(Rhus tox)
Rhus tox পেশীর বাত,পিঠে বেদনা,আর্থথ্রিটিস,সাইটিকা এবং ফ্লু সম্পর্কিত শরীরের ব্যথাগুলির জন্যও উপকারী।
 বর্ষাকালে সর্দি জ্বর,উদরাময় সহ অনেক রোগের সদৃশ ঔষধ।বৃষ্টিতে ভিজে রোগাক্রান্ত হলে এবং রোগীর মাঝে অস্হিরতা দেখা দিলে রাসটক্স কয়েক মাত্রা সেবনেই রোগীর উপশম হবে।রাস টক্সের প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো প্রচণ্ড অস্থিরতা, রোগী এতই অস্থিরতায় ভোগেন যে এক পজিশনে বেশীক্ষণ স্থির থাকতে পারে না,রোগীর শীতভাব এমন বেশী যে তার মনে হয় কেউ যেন বালতি দিয়ে তার গায়ে ঠান্ডা পানি ঢালতেছে, নড়াচড়া করলে (অথবা শরীর টিপে দিলে) তার ভালো লাগে অর্থাৎ রোগের কষ্ট কমে যায়, স্বপ্ন দেখে যেন খুব পরিশ্রমের কাজ করতেছে।বর্ষাকাল,ভ্যাপসা আবহাওয়া বা ভিজা বাতাসের সময়কার যে-কোন জ্বরে (বা অন্যান্য রোগে) রাস টক্স এক নাম্বার ঔষধ।রাস টক্স খাওয়ার সময় ঠান্ডা পানিতে গোসল বা ঠান্ডা পানিতে গামছা ভিজিয়ে শরীর মোছা যাবে না।বরং এজন্য কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।কেননা ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রাস টক্সের একশান নষ্ট হয়ে যায়।কোন বস্তু উঠাতে গিয়ে কোমড় বেদনায় আক্রান্ত হন বা যাকে টাস উঠা বলে তার জন্য রাসটক্স প্রয়োগ করে সহজেই আরোগ্য লাভ করতে পারেন।

*বেলেডোনা(Belladonna )
যে-কোন রোগে যদি সারা শরীরে বা আক্রান্ত স্থানে উত্তাপ বেশী থাকে,যদি আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায়, শরীর জ্বালা পোড়া করতে থাকে,তবে বেলেডোনা হলো তার শ্রেষ্ট ঔষধ। যে-কোন রোগের সাথে যদি রোগী প্রলাপ বকতে থাকে (অর্থাৎ এলোমেলো কথা বলতে থাকে),তবে বুঝতে হবে যে রোগীর ব্রেনে ইনফেকশান হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে বেলেডোনা হলো তার সেরা ঔষধ।মাথা বেদনাসহ জ্বরে বেলেডোনাই প্রয়োজনিয় প্রাথমিক চিকিৎসা।

*প্লান্টেগো মেজোরা Plantago Major : দাঁত, কান এবং মুখের ব্যথায় প্লানটাগো মেজর এমন চমৎকার কাজ করে যে, তাকে এক কথায় যাদু বলাই যুক্তিসঙ্গত।যাদের সব সময় কান চুলকানোর অভ্যাস আছে তাদের জন্য পরামর্শ হলো কটন বাট প্লান্টেগো মাদার দিয়ে ভিজিয়ে কান পরিস্কার করবেন।কান চুলকানোর জন্য শুস্ক কটন বাট ব্যবহার করলে অনেক জটিল জটিল রোগ হতে পারে,তাই কানে কটন বাট দিবেন না।যদি দিতেই হয় প্লান্টেগো লাগিয়ে ব্যবহার করুন।

উপসংহারঃ
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মতে চিকিৎসা করতে হলে তাকে অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় কিন্তু আমার উপরোক্ত ঔষধগুলোর ব্যবহারে তেমন কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই।প্রয়োজনের চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে ডোজ নিষেধ।এছাড়াও সঠিকভাবে এই ওষুধ সংরক্ষণ করুন।আদর্শভাবে,হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি সূর্যালোক বা চরম তাপ বা ঠান্ডা সরাসরি এক্সপোজার ছাড়াই একটি শীতল স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।আমার উপস্হাপনা শুধুমাত্র সাধারণ লোকের প্রাথমিক চিকিৎসায় উৎসাহিত করার জন্য।কেহ প্রাথমিক চিকিৎসায় আরোগ্য না হলে অবশ্যই একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাহায্য নিন।

আমার ফ্রী মোবাইল এপসটি ডাউনলোড করুন এবং আমার সকর লেখা আপডেট নিন নিয়মিত।

ডাঃ ইয়াকুব আলী সরকার
ইভা হোমিও হল
বাইপাইল,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।
গোঃ রেজিঃ নং ২৩৮৭৬।
মোবাইল নং ০১৭১৬৬৫১৪৮৮

Comments System

[blogger][disqus][facebook]

Disqus Shortname

theme-daddy